ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন: নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কতা দিল যুক্তরাজ্য

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই সতর্কবার্তায় নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ বা র‍্যালির সংখ্যা বাড়তে পারে, যার ফলে বড় ধরনের জনসমাগম, নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিকদের এই সময়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন এড়াতে বিকল্প পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী সতর্কতার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রিপোর্টের কারণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই তিন জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধ করেছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে এই ঝুঁকি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সরকারের পরামর্শ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করলে ভ্রমণ বিমা বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া, যেসব এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।




ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ৮ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ডেস্ক নিউজঃ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার পর সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এই অবকাশ মিলছে। একই মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও আরও চার দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

ইসলামী ফাউন্ডেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ছুটি নিলে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ পাওয়া যাবে।

এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এই দফায়ও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে।




১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ হয়ে থাকবে। 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই ছিল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যার মধ্যে শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম। প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে একটি ‘উৎসবমুখর’ আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সুস্থ ধারা তৈরি হবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গেই কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করেন এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও এই আঞ্চলিক সংহতির উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বের ৭৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত কৃষি পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস




সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার দেবী মা সরস্বতীর পবিত্র পূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণ এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট অতিক্রম করছে। এই সংকট উত্তরণে জ্ঞান, যুক্তিবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত জরুরি। মা সরস্বতী সেই আলোকিত চেতনার প্রতীক, যা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে সত্য ও বিবেকের পথ দেখায়।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষাকে মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত না হলে জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয় না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রশ্নে দলের প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সেই দর্শন থেকেই তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের নেতৃত্বেই ঢাকেশ্বরী মন্দির জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা লাভ করে; পুরোহিত ও শ্মশান ঠাকুরদের জন্য পৌরসভা কর্তৃক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়; হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে কালী পূজায় সরকারি ছুটি ঘোষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানি বিল মওকুফের মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশে পরিণত করেছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু এরশাদের সেই মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি দেশবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বলেন, মা সরস্বতীর আশীর্বাদে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র।




নির্বাচন ঘিরে টানা ৪ দিনের ছুটি

ডেস্ক নিউউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি থাকছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে।’

এছাড়া আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি থাকছে।

প্রেস সচিব বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়। আজকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ও ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে তিন দিন ছুটি পাবেন শ্রমিকেরা।




গ্রিনল্যান্ডের দাম ১ বিলিয়ন ডলার, ট্রাম্পের হয়ে ডেনমার্ককে পুতিনের খোঁচা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আর্কটিক অঞ্চলে ভূ-রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নজিরবিহীন মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডেনমার্কের কাছ থেকে এই দ্বীপটি কিনে নিতে চায় তবে তার মূল্য হতে পারে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই মূল্যায়নের স্বপক্ষে পুতিন ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আমেরিকার আলাস্কা ক্রয়ের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সে সময় আলাস্কা ৭.২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমান সময়ে স্বর্ণের মূল্যমান ও ভৌগোলিক আয়তন বিবেচনা করলে গ্রিনল্যান্ডের দাম ১ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হওয়া উচিত এবং আমেরিকার মতো দেশের জন্য এই অর্থ পরিশোধ করা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

তবে কেবল দাম নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হননি রুশ প্রেসিডেন্ট। গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্বকে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করেছেন। পুতিনের অভিযোগ, ডেনমার্ক সবসময় গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সাথে ঔপনিবেশিক আচরণ করেছে। এই শাসন ছিল অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর।

পুতিন দাবি করেন, ডেনমার্ক ঐতিহাসিকভাবে এই দ্বীপটিকে একটি উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ রাশিয়া এই পুরো বিবাদকে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে এবং এতে মস্কোর সরাসরি কোনো স্বার্থ নেই।




টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ীতে কৃষক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়া ও মাহমুদুল হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

মুক্তার হাসান, টাঙ্গাইল: বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক আপসহীন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার ও সাবেক মন্ত্রী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসানের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী বাজারে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

দোয়া মাহফিলে সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য রমজান আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শামিমুর রহমান খান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক এসএম কাউসার আহমেদ, সচিব সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য নজরুল ইসলাম, মনির হোসেন ও আব্দুল্লাহ আজিজ মণ্ডল।

 

মিলাদ মাহফিল শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য ভোট প্রার্থনা করা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধানের শেষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দরা।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীরব ভোটারই নির্ধারণ করবে লালমনিরহাট-০২ এর ভাগ্য

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই তুঙ্গে উঠছে।

তিস্তা পাড়ের মানুষের কাছে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় শূন্য হয়ে পড়া ভোট ব্যাংক দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দল।

এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলসহ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকে দলে টানার মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তার বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ফলে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচনী ফলাফল অতীতের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসনের পরিচিতি:

লালমনিরহাট-০২ সংসদীয় আসনটি কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন। দীর্ঘদিন এ আসনটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী মজিবুর রহমান মাস্টারের দখলে ছিল।

২০১৪ সাল থেকে মহাজোট প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী রোকনুদ্দিন বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর একবার বিএনপি এই আসনে বিজয়ী হলেও এরপর আর জয় পায়নি।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এবারের নির্বাচনে লালমনিরহাট-০২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রোকনুজ্জামান বাবুলকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শরিক জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এবং নতুন রাজনৈতিক দল জনতার দলের চেয়ারম্যান, সাবেক সাতবারের এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের পুত্র ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামীম কামালকে।

তবে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় দলের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতার ঘোষণা দিয়েছে, যা বাবুলের বিজয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

জামায়াত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা:

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু এলাকায় সুপরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। বন্যা-খরা, বিয়ে, জানাজা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, এতিম ও অসহায় শিশুদের পড়ালেখার খরচ বহন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

দিনরাত গণসংযোগে ব্যস্ত এই প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে তার সমর্থকরা আশাবাদী।

জনতার দলের হিসাব:

সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মাস্টারের দ্বিতীয় পুত্র, নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতার দলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামাল রাজনীতিতে নতুন হলেও পিতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার ভোট, জাতীয় পার্টির ভোট এবং সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নিজের দিকে টানতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। সব সমীকরণ অনুকূলে এলে তিনি বিজয়ের পথে এগিয়ে থাকবেন বলে তার সমর্থকদের ধারণা।

অন্যান্য প্রার্থী এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমানও নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে লালমনিরহাট-০২ আসনে এবারের নির্বাচন যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চমকপ্রদ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।




খুলনায় খাদ্য বিভাগের বস্তা কেনায় অনিয়ম: নতুনের দামে কেনা পুরোনো বস্তা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা জেলায় চলমান খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্য বিভাগের বস্তা কেনাকে ঘিরে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি গুদামের জন্য নতুন বস্তা কেনার কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছে পুরোনো, ব্যবহৃত ও নিম্নমানের বস্তা। এসব পুরোনো বস্তা নতুন বস্তার দামে কেনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা খাদ্য বিভাগের জন্য নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং কার্যাদেশ পায় মেসার্স চন্দ্রদ্বীপ কনস্ট্রাকশন। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয় প্রায় তিন মাস আগে, বর্তমান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সময়ে। টেন্ডার কমিটির প্রধান ছিলেন ফুলতলার পিসিএফ জাকির হোসেন, যিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে খুলনার সহকারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করছিলেন। দরপত্র অনুযায়ী নতুন বস্তা মহেশ্বরপাশা খাদ্যগুদামে সরবরাহ করার কথা থাকলেও সেখান থেকেই বিভিন্ন গুদামে পুরোনো বস্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রূপসা উপজেলার আলাইপুর খাদ্যগুদামে ৫০ কেজির ৫০ হাজার এবং ৩০ কেজির ১০ হাজার বস্তা সরবরাহ করা হয়। তেরোখাদা খাদ্যগুদামে দেওয়া হয় ৫০ কেজির ৩০ হাজার ও ৩০ কেজির ১০ হাজার বস্তা। একইভাবে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা খাদ্যগুদামেও বিপুল সংখ্যক বস্তা পাঠানো হয়। এছাড়াও মংলা সাইলো ও মোংলা পোর্টে জাহাজ থেকে খাদ্যশস্য খালাসের সময় অনেক বস্তা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত দেওয়া এসব বস্তার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরোনো বস্তা ছিল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক বস্তার গায়ে আগের সরকারের স্লোগান ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ আলকাতরা দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বস্তাগুলোর গায়ে উৎপাদন সাল হিসেবে ২০২২ লেখা রয়েছে, যা নতুন বস্তা দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব তথ্য থেকেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে যে, এগুলো আসলে আগেই ব্যবহৃত বস্তা।

সূত্র বলছে, বাজারে বর্তমানে নতুন ৩০ কেজির বস্তার সরকারি দর প্রতি পিস প্রায় ৫০ টাকা, যেখানে পুরোনো বস্তার দাম ১৮ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। একইভাবে ৫০ কেজির নতুন বস্তার দাম যেখানে প্রায় ৯০ টাকা, সেখানে পুরোনো বস্তা পাওয়া যায় ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। এই দামের পার্থক্য দেখেই অভিযোগ উঠেছে, পুরোনো বস্তা কিনে নতুনের বিল দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি খালিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই লাখ নতুন বস্তা কেনার নামে বিশাল অঙ্কের দুর্নীতি হয়েছে। নতুন বস্তার আড়ালে পুরোনো ও নিম্নমানের বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে, যা খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বস্তা সহজেই ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, ফলে খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে মহেশ্বরপাশা খাদ্যগুদামের ম্যানেজার টিসিএফ মোশাররফ হোসেন জানান, একসাথে এত বিপুল সংখ্যক বস্তা পুরোপুরি খুলে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বস্তা দেখে গ্রহণ করা হয়। তেরোখাদা গুদামে পাঠানো ২০ হাজার বস্তার মধ্যে ৮ হাজার পুরোনো বস্তা ধরা পড়ার পর ভিডিও করে সরবরাহকারীকে জানানো হয় এবং পরে সেগুলো বদলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খুলনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তানভীর হোসেনও স্বীকার করেছেন যে তেরোখাদা গুদামে কিছু পুরোনো বস্তা পাওয়া গিয়েছিল। তবে সরবরাহকারীকে জানানো হলে শর্ত অনুযায়ী সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন বস্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বড় পরিসরে বস্তা কেনার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা মাঝে মাঝে হতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহকারী তা সমাধান করে থাকে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বস্তা বদল করলেই এই ঘটনার দায় শেষ হয়ে যায় না। পরিকল্পিতভাবে পুরোনো বস্তা নতুন হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে বিল পরিশোধ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। না হলে ভবিষ্যতেও খাদ্য বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




৭ বছরে কোটিপতি: রাজউকের ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালোর বিরুদ্ধে ঘুষ ও সম্পদ পাহাড়ের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, এখানে চাকরিতে ঢুকেই অল্প কয়েক বছরের মধ্যে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। ঘুষ, অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা রহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখে না। এমনই এক আলোচিত নাম রাজউকের ইমারত পরিদর্শক নির্মল মালো, যিনি মাত্র সাত বছরে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্মল মালোর বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভা এলাকায়। তার বাবা নিত্য মালো পেশায় একজন মাছ বিক্রেতা ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মল মালো একসময় বেকার ও ভবঘুরে জীবন যাপন করতেন। ২০১৮ সালে গোপালগঞ্জের এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সুপারিশে ছাত্রলীগের কোটায় রাজউকে ইমারত পরিদর্শক পদে তার নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াও ছিল নিয়মবহির্ভূত—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নির্মল মালো ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ভবন মালিকদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ঘুষ না দিলে ভবন ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে একাধিক ভবন মালিক জানিয়েছেন। আবার যেসব ভবনে নকশার ব্যত্যয় ঘটেছে, সেগুলো অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাজউকের জোনাল অফিস ৪/৩-এর আওতাধীন দক্ষিণ খান এলাকার আর্মি সোসাইটি রোড, চালাবন, নোয়াপাড়া, আমতলা, কালভার্ট, কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদ, আইনুছ বাগ ও কলেজ রোড এলাকায় একাধিক ভবনে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব ভবনের অনেকগুলোতে সাইনবোর্ড ছিল না, শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সেফটিনেটও ব্যবহার করা হয়নি। নকশা অনুযায়ী সেটব্যাক না রেখে চারপাশে ইচ্ছেমতো ডেভিয়েশন করা হলেও নির্মল মালো পরিদর্শনের সময় ভবন মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সবকিছু উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভবন মালিক জানান, তার ভবনের সব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও নির্মল মালো ভাঙার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সাত বছরে নির্মল মালো বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাবার পুরোনো টিনের ঘর ভেঙে পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করে তার বাবা নিত্য মালোকে উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়, যার ফলে পরিবারের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

কোটালীপাড়ার বাগান উত্তর পাড়া গ্রামে ১০ কাঠা জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। নিত্য মালোর স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে বাড়িটি নির্মল মালোরই। ঢাকার আফতাব নগরের ডি-ব্লকের ৫ নম্বর সড়কে লেকভিউ কটেজের সি-২ ফ্ল্যাট প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে নিজের নামে কেনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া কোটালীপাড়ায় ‘ক্যাফে জয়বাংলা’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, উত্তর পাড়ায় ২০ বিঘা জমির ওপর পোল্ট্রি ফার্ম, কান্দি ইউনিয়নের আমবাড়িতে ৪০ বিঘা জমিতে মাছের ঘের এবং উজিরপুরের সাতলায় ৩৫ বিঘা জমিতে মাছের ঘের রয়েছে নির্মল মালোর নামে ও বেনামে। কুড়িল বিশ্বরোডে একটি প্লট এবং ওয়ারী ও মগবাজারে একাধিক ফ্ল্যাট থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগই তার স্ত্রী উর্মি সাহা ও পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা হয়েছে—আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

রাজউকের কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মল মালো নিয়মিত অফিসে আসেন না। দামি বিদেশি সিগারেট খাওয়ায় তার মাসিক খরচই কয়েক দশ হাজার টাকা, যা তার সরকারি বেতনের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে তিনি রাজউকের মহাখালী জোন (৪/৩)-এ চলতি দায়িত্বে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে অনুসন্ধান চালানো হবে। তবে এত অভিযোগ ও সম্পদের পাহাড় থাকার পরও কীভাবে একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা এত অল্প সময়ে এত বিপুল অর্থের মালিক হলেন—এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।