১৬ বছর উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুট করা হয়েছে : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মঞ্চে উঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা। এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।




মায়ের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ থেকেই ভোট চাইবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নানা জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর সিলেটের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকেই মায়ের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছেন তিনি।

সেই পরিচিত ‘আলিয়া মাদরাসার মাঠ’, মঞ্চ সবই আগের মতোই আছে, শুধু নেই সাবেক চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো এটি তারেক রহমানের সিলেট সফর। সর্বশেষ ২০১৮ সালে দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট সফর করেছিলেন। হিসাব করলে দেখা যায়, মায়ের সফরের সাত বছরের ব্যবধান পর তারেক রহমান আবার সিলেট সফরে এসেছেন। এবার তিনি দলের গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসার মাঠ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। স্মরণাতীত কালের মধ্যে এটি বিএনপির সর্ববৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের সিলেট সফর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করবে। তারেক রহমানের সফর এবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুরে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি দুই অলির মাজার জিয়ারত করার পর রাতেই ছুটে যান শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে গিয়েও তিনি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান।

জানা গেছে, বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ এবং মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্য মেনেই সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকাল ১১টার দিকে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

জনসভায় সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আসা বিএনপি কর্মী আবুল হোসেন মিয়া বলেন, “এই মাঠেই খালেদা জিয়ার দুইটি সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছি। মাকে দুইবার দেখেছি। এইবার পুত্রকে দেখলাম। আজ আমাদের খুব খুশি লাগছে।”

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা দলটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভা করতেন।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা মহানগরের নেতৃবৃন্দদের।

গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। পৌঁছানোর পর তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এছাড়া তিনি হজরত শাহজালাল দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে যান।

সবশেষ ২০০৫ সালে সিলেটে এসেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২০ বছর পর সিলেটে ফিরে তিনি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছেন।




শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর শাহজালাল (র.) মাজার এলাকায় পৌঁছায়। এরপর তিনি দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ে মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। তারপর হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন।

তিনি সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করে হযরত শাহপরাস (র.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান শাহপরান মাজারে পৌঁছান।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার সাথে আছেন স্ত্রী জোবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বিমানবন্দরে তাকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান।




নির্বাচন কি আসলেই হবে- এই প্রশ্ন এখনো কেন উঠছে

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এখনো যে প্রশ্ন অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে, তা হলো- নির্বাচনটি আসলে হবে তো?

নির্বাচন কমিশন বা ইসির ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন হওয়ার কথা এবং বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষে বৃহস্পতিবার থেকেই অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থীদের পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা।

এর মধ্যেই আড্ডা-আলোচনা-কিংবা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ঘুরে ফিরেই অনেকে প্রশ্ন করছেন যে – ‘নির্বাচন আসলে হবে কি না।’ সংবাদকর্মীদের অনেককেই গত কয়েকদিন ধরে এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে পরিচিত- অপরিচিত অনেকের কাছ থেকেই।

বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে শুরু থেকেই যে ধরনের শৈথিল্য দেখা গেছে সেটি পুরোপুরি কাটেনি বলেই এ সংশয় জনমনে তৈরি হয়েছে।

আবার কেউ এটিকে পুরোপুরি ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের গুজব বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ বলছেন, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনী সহিংসতা হলে সেটিও নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বুধবার বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসররা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে কনফিউশন (সংশয়) ছড়াতে ব্যস্ত রয়েছে।’

এর আগে সোমবার তিনি বলেছিলেন, ‘নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।’

সংশয়ের কারণ কী

নির্বাচন কমিশন ১২ই ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে তফসিল ঘোষণা করেছিল গত ১১ই ডিসেম্বর। এরপর থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ধারবাহিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।

কিন্তু এরপরেও ‘নির্বাচন আসলেই হবে কি না’- এই প্রশ্ন যারা করছেন তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন যে ‘আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি’ থেকে তারা এমনটি অনুমান করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনের জন্য যে ধরনের তৎপরতা প্রত্যাশা করা হয় সেটি তাদের চোখে এখনো তৈরি হয়নি।

এমন প্রশ্ন কর্তাদের দুই-একজন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘সরকারের আনুকূল্য পাওয়া’ দলগুলো নির্বাচন ঠিক মতো হতে দেবে বলে তারা মনে করেন না।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের অগাস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের জন্য যে আলোচনা করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে, তাতে সক্রিয় ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম।

হাসনাত কাইয়ুমও বলছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংগঠনকে আনুকূল্য দিয়েছে তাদের হম্বিতম্বিও এমন ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও নির্বাচনের আগে এগুলো অস্বাভাবিক নয়। আমি আশা করি সরকার যথাসময়েই নির্বাচনটি আয়োজনে সফল হবে।’

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে এবং মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় নির্বাচনের সময় সহিংসতার আশঙ্কা আছে অনেকের মধ্যে।

যদিও আজ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমাদের সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দীন আহমদ বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুঁড়ির কারণেই অনেকের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

তিনি বলছিলেন, ইউনূস সাহেব ক্ষমতায় থাকতে চান এমন প্রচারও আছে। যদিও আমার তা মনে হয় না। তবে অগাস্ট অভ্যুত্থানে যাদের পতন হয়েছে তারাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা করতে পারে। গুজব ছড়াতে পারে। আবার নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কাও আছে কারণ প্রশাসন ও পুলিশকে এখনো ততটা সক্রিয় মনে হচ্ছে না। সব মিলিয়েই অনেক মানুষের মধ্যে সংশয়টি দেখা যাচ্ছে।’

যদিও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই ‘১২ই ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে’ সেই নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয়ের কথা বলা হয়নি। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র দাখিল-প্রত্যাহার পর্ব শেষে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার শুরুর চূড়ান্ত ধাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের করণীয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যেই বলেছেন, তার দল বিশ্বাস করে নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গেই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের ঢাকার বাইরের সভা সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে নিজ নিজ দল থেকে। ঘোষণা অনুযায়ী, তারেক রহমান সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন, আর শফিকুর রহমান শুরু করছেন উত্তরবঙ্গ সফর দিয়ে।

নির্বাচন নিয়ে এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও ‘নির্বাচনটি আসলে হবে কি না’ এই প্রশ্ন কমছে না। এর আগে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন, তাদের অনেকের পেছনের ইতিহাস আমরা জানি। তারা গত সাড়ে ১৫ বছরে কী পরিমাণ দালালি করেছেন, সেটা আমাদের অজানা নয়।’

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের একদিন আগেও হবে না, একদিন পরেও হবে না। নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।’

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নিজেও বলেছেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ১২ই ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, এর এক দিন আগে বা পরে নয়।’

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবর অনুযায়ী, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকদের কাছে উল্লেখ করেছিলেন।

তিনি তাদের বলেছিলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন ও ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বারবার আশ্বস্ত করার পরেও নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয়ের মূল কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই বলে মনে করেন হাসনাত কাইয়ুম।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে এমনিতে নির্বাচন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাই হয়ে গেছে, আবার অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন নানা ধরনের প্রোপাগান্ডাও দেখা যায়।

তিনি বলছিলেন, ‘তবে সরকারের আচরণের মধ্যে সমস্যা আছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের যে ধরনের উদ্যোগ থাকার কথা সেখানে শৈথিল্য আছে। আইনশৃঙ্খলার ঘাটতির পাশাপাশি মবের সিদ্ধান্ত যেভাবে সিদ্ধান্ত আকারে নেওয়া হয়, তাতে করে সন্দেহটাই জোরদার হয়। সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের অবস্থানের কারণে এসব সংশয় বাড়ে।’

অন্যদিকে মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন যে, নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি না হলে অনেক ভোটারই কেন্দ্রে যাবেন না এবং সে কারণেই সংশয় প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

তিনি বলেছেন, নির্বাচনে গুণ্ডামি মাস্তানির আশঙ্কা থাকলে মানুষ যাবে কেন। আর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা তো আছে এখনো। কারণ পুলিশ ও প্রশাসন এখনো যথাযথ সক্রিয় নয় বলেই লোকজন মনে করছে। তবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা ক।’

তবে বুধবার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ের বৈঠকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা কমিটি করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতি কেন্দ্রে কমপক্ষে ১৫ জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

সব মিলিয়ে ‘এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে’ বলে বুধবারের বৈঠকে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।




প্রধান উপদেষ্টার কাছে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পেশ

ডেস্ক নিউজঃ নবম জাতীয় বেতন কমিশন নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সকল পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সরকার গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর নবম বেতন কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

এ সময় কমিশনপ্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি (Terms of Reference) নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।

নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়।

কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

প্রতিবেদন দাখিলকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।

কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনপ্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে, শর্ত থাকে যে, সকল ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দু’জন সন্তান এই সুবিধা পাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে, তবে কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১,০০০ (এক হাজার) টাকা করা যেতে পারে।




নির্বাচনকে সামনে রেখে পরীক্ষা শুরু হলো, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি)  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কয়েকজন উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ প্রধান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সভার আলোচনা সম্পর্কে জানিয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে সভার বিভিন্ন তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবো, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এই বিশাল কাজটি শেষ করে তাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। নির্বাচনের দিন যেন কোনোকিছুর অভাব বোধ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনও গলদ না থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। এখন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, আমরা এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবো। সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করবো, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো রকম ঘাটতি না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনকে ঘিরে দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কভার করবেন এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে। আমাদেরই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা প্রত্যেকেই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন। আশা করি, তারা কেউই এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।

বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশ’ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দুজন প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।

ইসি সচিব জানান, আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। আখতার আহমেদ বলেন, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে। এটিকে ঘিরে যেন কোনও অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের দিন সব ভোটকেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছে। লুট করা অস্ত্রের মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি উদ্ধার করা হয়েছে, যা লুট করা অস্ত্রের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। তিনি আরও জানান, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট করা গোলাবারুদের পরিমাণ ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, যা ৫২ শতাংশ।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সামনের দিনগুলোতে কার্যকর করা গেলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র আনসার সদস্য ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। ফলে চাইলেই কেউ কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে পারবে না। কাউকে কেন্দ্রের ভেতর কোনও ধরনের বেআইনি কাজ করতে দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর তারা আরও সাত দিন মাঠে থাকবে।

স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, আজ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম নির্বাচনসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের যাবতীয় তথ্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। নাসিমুল গণি জানান, বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কানেক্ট হওয়া যাবে। এর মাধ্যমে সব ঘটনা রেকর্ড করা যাবে। এ সময় তিনি বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরার নানা সম্ভাবনার দিক আছে। এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল মাত্রায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠকে বসা হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।




নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগের তীর কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের এমডির বিরুদ্ধে : তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুল (সিটিএস) এবং মালিবাগ ও ওয়ারীতে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (সিটিআইএস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষক ও নারী কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত স্টাফদের একটি বড় অংশ নারী। তাঁদের দাবি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও চাকরি বহাল রাখার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁদের ধারণা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন :
প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মকর্তা দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তুলনায় অন্যান্য বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে স্কুলের একজন বিদেশি নাগরিক ভাইস প্রিন্সিপালের নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাঁর ভাষায়, “যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বাইরে অন্য কোন বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে— তা কর্তৃপক্ষই স্পষ্ট করতে পারে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভাইস প্রিন্সিপাল অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ :
একাধিক নারী শিক্ষক অভিযোগ করেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মানসিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নেই। তাঁদের মতে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে গেলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নীতিমালা বা অভিযোগ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া : সম্প্রতি একজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুল সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন বলে জানা গেছে। ওই পোস্ট ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পোস্টটি আর দৃশ্যমান নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপের প্রশাসকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা : এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা পর্ষদ, এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়াল এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইন কী বলে : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা–২০০৯ অনুসারে— প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণ কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক, ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিতে হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর, সে প্রশ্নও উঠেছে।

মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ :
মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে তা প্রশাসনিক ও নৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শেষ কথা : কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায় নয়— এটি রাষ্ট্র ঘোষিত মানবাধিকার অঙ্গীকারের অংশ। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করাই এখন সময়ের দাবি।




বৈশাখী ভাতা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে মূল বেতনের পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও পেনশনের হারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে এই হার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসবকেন্দ্রিক ব্যয় বিবেচনায় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এই প্রস্তাব দিয়েছে।

কমিশন সূত্র জানায়, গ্রেডভেদে বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে— ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা, ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া—

  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার পরিধি বাড়ানো

  • নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা
    সুপারিশ করা হয়েছে।

বেতন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমার পর তা বিভিন্ন কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর প্রায় এক দশক ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় ছিলেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মপ্রেরণা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




আড়াই গুণ বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বুধবার (২১ জানুয়ারি) শেষবারের মত বসেছে পে কমিশন। এদিন বিকেল ৫টায় সভা শেষে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। 

কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন।

চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করছে।

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যাঁরা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।

৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।

প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি থাকবে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।




মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটন তাদের বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে কোনো আক্রমণ করা হলে তারা হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে। 

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো নিছক হুমকি নয় বরং বাস্তব সত্য। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সর্বাত্মক সংঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া কাল্পনিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। আরাগচির মতে, এমন যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। এর আগের দিন নিউজ নেশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’।

ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো ধরনের আঘাত আসার সামান্যতম ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তারা কেবল আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবেন না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট রাখবেন না। এই পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং তারা ট্রাম্পকে হামলা না করার জন্য কূটনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছে।

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রণতরীটি এখন ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে।

যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই রণতরী মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতি তেহরানের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণভাবেও ইরান এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এখন সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা এই মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছেন এবং নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার বলে স্বীকার করেছেন।

এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বাইরের সামরিক হুমকির দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা