ঢাকায় আট বছর ধরে একই পদে গণপূর্তের প্রকৌশলী আশরাফুল, বদলির বদলে পেলেন পদোন্নতি—উঠছে প্রভাব ও দুর্নীতির প্রশ্ন
এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম গত আট বছর ধরে ঢাকায় একই পদে বহাল রয়েছেন—যা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী কোনো নির্বাহী প্রকৌশলীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থানকে ঘিরে শুধু বদলির প্রশ্নই নয়, বরং তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, আশরাফুল ইসলামের অধীনে কাজ করতে গেলে নিয়মের চেয়ে “ম্যানেজমেন্ট”ই বেশি কার্যকর। অনেক ক্ষেত্রে দরপত্র ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়, পরে প্রাক্কলন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া দেখানো হয়—যা তার ডিভিশনে প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০২১ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত উপদেষ্টা দপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করতে হবে। উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতার চক্র ভাঙা। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই সিদ্ধান্ত আশরাফুল ইসলামের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। বরং এত অভিযোগের পরও ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আলোচিত দুর্নীতির মামলায় প্রকৌশলী ড. আশরাফুল ইসলামের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও রহস্যজনক কারণে আশরাফুল ইসলাম বিভাগীয় ও দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পান। একই ঘটনায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিল্লুর রহমানকে পদাবনতি করা হলেও আশরাফুল ইসলাম বহালই থাকেন, যা বৈষম্যের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মেরামত ও সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন তার অধীনে থাকায় তিনি এক ধরনের ‘অদৃশ্য কর্তৃত্ব’ তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে করে অধিদপ্তরের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোহবানবাগ মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সিভিল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও একই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আশরাফুল ইসলামকে বহাল রাখা হয়। উত্তরবঙ্গীয় কোটা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়—এসব কারণে তিনি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
একজন জুনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই দপ্তরে টিকে থাকতে হলে নিয়মের চেয়ে অন্য কিছু মানতে হয়। আশরাফুল স্যার জানেন কাকে কীভাবে সামলাতে হয়। তাই সবাই তাকে ‘ম্যানেজার’ হিসেবেই চেনে।”
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—এত অভিযোগ, মামলা ও বিতর্কের পরও তার পদোন্নতি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একজন কর্মকর্তার প্রশ্ন নয়; বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবের প্রতিচ্ছবি। নিয়ম ভেঙে বছরের পর বছর একই জায়গায় থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন—এসব বিষয় সরকারি ব্যবস্থাপনার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।
আজ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী
ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারি। ১৯৩৬ সালে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে তিনি যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ দেশের (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) জনগণের ওপর আক্রমণ করার পর তিনি পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ তিনি চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে যখন মানুষের বাক্ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, তেমন এক সংকটকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিক জনতার এক বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার হাল ধরেন।
ক্ষমতায় এসেই তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শুরু করেছিলেন উত্পাদনের রাজনীতি, দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উত্পাদনে বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান করেন। এছাড়া গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন তার জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।
কর্মসূচি :আজ সকাল ১১টায় দিবসটি উপলক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কাকরাইলস্থ ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ-এর মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাসভায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে আজ দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটসমূহে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্নীতির অভিযোগে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামকে ঘিরে তোলপাড়
এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলামকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডিরই একজন নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয়ে থেকে আজহারুল ইসলাম এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির শুরু থেকেই তিনি রাজনৈতিক পরিচিতিকে পুঁজি করে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে আসছেন এবং সরকারি দায়িত্বের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
মো. আজহারুল ইসলাম ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেই সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে চাকরিজীবনে প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
নাটোর জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদনের সময় তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে টাকা আদায় করতেন। পাশাপাশি চলতি বিল ও চূড়ান্ত বিল ছাড় করাতে আরও দুই শতাংশ করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাদ দিয়ে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ ভাগাভাগি করার কথাও বলা হয়েছে।
নাটোরে এসব অনিয়ম নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা শুরু হলে তিনি কৌশলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সেখান থেকে বদলি হয়ে এলজিইডির সদর দপ্তরে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বাপার্ড) স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্পে প্রকৃত প্রয়োজন না থাকলেও একাধিকবার প্রাক্কলন সংশোধন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারাদেশজুড়ে একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি সুবিধাজনক ও লাভজনক পদে বহাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন।
বর্তমানে সিলেট এলজিইডি অফিসে কর্মরত অবস্থায়ও অনিয়মের অভিযোগ থেমে নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি বিলের চূড়ান্ত সুপারিশের সময় অধস্তন কর্মকর্তার মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাছ থেকে দুই শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে দুটি বড় ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ছয়তলা ভবন, ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় দুটি প্লটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, দুদক অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে এবং অবৈধ সম্পদের বৈধ উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পদায়নের জন্য কোনো তদবিরও করেননি। কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানেই তিনি সততার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে তার বক্তব্য।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত
ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দল রোববারর (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রবেশ করেছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দলের পক্ষ থেকে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে অন্য একটি গাড়িতে যমুনায় প্রবেশ করেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অন্যান্য সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
“আমাদের কয়েকজন সদসস্যের আপীল না মঞ্জুর হলেও নির্বাচন কমিশনের আপীল শুনানী বিভাগের উপর আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আরো আশা করি নির্বাচন কমিশন যেন শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে- এই কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আপীল সহায়তা কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ “আমাদের কয়েকজন সদসস্যের আপীল না মঞ্জুর হলেও নির্বাচন কমিশনের আপীল শুনানী বিভাগের উপর আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আরো আশা করি নির্বাচন কমিশন যেন শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে- এই কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আপীল সহায়তা কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া।
জনাব রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া আরো বলেন, জাতীয় পার্টি একটি নির্বাচনমুখী দল। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বহুদলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নাই। দেশ আজ খাদের কিনারে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ন ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তের মা্ধ্যমে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে।
রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ নির্বাচন কমিশনের আপীল বিভাগে জাতীয় পার্টির আপিল সহায়তা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া।
আপীল কার্যক্রম শেষে তিনি জানান, আজকের শেষ দিনের আপীলের শুনানীতে জাতীয় পার্টির ৪ জন প্রাথীর শুনানী ছিলো। ৪ জনের মধ্যে আপীল শুনানী বিভাগ ৩ জনের মনোনায়ন বৈধ ঘোষনা করেছেন এবং ১ জনের আপীল খারিজ করেছেন।
প্রার্থী তালিকা হচ্ছে নিম্নরুপ
১) মোঃ রোহান চৌধুরী
নিলফামারী-০৩
আপিল নং- ৪১৯ ( মঞ্জুর)
২) লিয়াকত আলী
জাতীয় আসন নং- ১৩৪
টাংগাইল-৪ (মঞ্জুর)
৩) মাহমুদুল হক মনি
জাতীয় আসন নং -১৪৩
শেরপুর-১ (মঞ্জুর)
৪) বেলাল চৌধুরী
জাতীয় আসন নং- ১৪৪
শেরপুর-২ ( না মঞ্জুর)
আপিল সহায়তা কমিটির সদস্য সচিব এ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঞা ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী , শাহীন, হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, সোহেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: সোলায়মান সামি, মো: হিলটন প্রামানিক, যুবনেতা মনির হোসেন মনির প্রমূখ।
গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে সমালোচনা, ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং
ডেস্ক নিউজঃ জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয় বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রস্তুত করা।
প্রেস উইং আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের ক্ষেত্রে নেতারা তাদের অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেন— এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।
প্রেস উইং জানায়, গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো— ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংস্কার গণভোটকে দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানের মতো দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বলা হয়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।
জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।
বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে জনগণের হাতেই— এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।
যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে: আসিফ নজরুল
ডেস্ক নিউজঃ কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা উদ্দীপকের মতো বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংস্কার হয় নাই, এটা ঠিক নয়। যথেষ্ট হয়েছে। এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি।’
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে আসিফ নজরুল এ কথাগুলো বলেন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, বলা হয় যে তাদের কথা রাখা হয়নি। তারা ১০টা কথা বললে, অন্তত ৬টা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘প্লিজ, সত্য কথা বলেন।’
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ১০ বছর জয় বাংলা আর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললে বিচারক হতে পারবেন না। উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন, সেটা উচ্চ আদালত থেকেই হবে।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় রুল অব ল প্রতিষ্ঠায় আরও ৫/১০ বছর লাগবে। আমরা সংস্কারের পথে এগিয়েছি। নির্বাচিত সরকার এ ধারা ধরে রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।’
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চুরি করে অনলাইন বাজারে বিক্রি, মাসে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা
বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পরিচয়পত্রের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই চক্রের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকারও বেশি অবৈধ আয় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. হাবীবুল্লাহ ও মো. আলামিন। তাদের দুজনেরই বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তারা দুজনই নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা এই অপরাধকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ ইউনিট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার প্রথমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন অফিসে অভিযান চালিয়ে মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তদন্তে সহযোগিতা করেন।
আলামিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই রাতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরেক সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যেগুলো ব্যবহার করে তারা তথ্য পাচার ও লেনদেন করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, মো. হাবীবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছিলেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে বদলি হন। সেখানে তিনি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে মো. আলামিন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তার দায়িত্ব ছিল জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি ও হালনাগাদ করা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয় নম্বরসহ স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করতেন।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন দালাল, অনলাইন প্রতারক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছিল। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া সিম নিবন্ধন, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি করে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা প্রতিটি তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিত এবং বড় অর্ডারে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতো। এভাবেই মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্র। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।
পেনশনের ফাইল আটকে রেখে ঘুষ, বাঁশখালীতে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী আটক
বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পেনশনের কাগজপত্র নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। ওই কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক পেনশনের টাকা তুলতে প্রয়োজনীয় কাগজ ঠিক করতে গেলে বিপাকে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, একই অফিসে কর্মরত অফিস সহকারী শাহ আলম তাঁর কাছে ফাইল এগিয়ে দেওয়ার নাম করে মোট ৯০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক বাধ্য হয়ে প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিছু টাকা দেন। এরপরও শাহ আলম থামেননি। তিনি আরও টাকা দাবি করতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেন। পেনশনের টাকা না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে—এই অবস্থায় ভুক্তভোগী বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার সকালে বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ঘুষের টাকা নেওয়ার মুহূর্তে শাহ আলমকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর ব্যবহৃত ড্রয়ার থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, শাহ আলম সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশনের ফাইল আটকে রেখে তিনি বারবার টাকা দাবি করেন, যা সরাসরি ঘুষ ও দুর্নীতির শামিল। সরকারি সেবার বিনিময়ে টাকা নেওয়া, জোর করে অর্থ আদায় এবং দায়িত্বে অবহেলা—এই সব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, সরকারি দপ্তরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের পথকে কতটা কঠিন করে তুলছে। পেনশনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।