চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান থামল নথি না পাওয়ায়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিযান চালালেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি এগোতে পারেনি। উপাচার্যের কার্যালয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তালাবদ্ধ থাকায় দুদকের কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই করতে ব্যর্থ হন।

বুধবার সকালে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়। তবে সে সময় উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করায় তার দপ্তরের নথিপত্র খোলা সম্ভব হয়নি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।

দুদক চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম জানান, গত প্রায় ১৫ মাসে নিয়ম ভেঙে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না এবং বেশ কয়েকটি বিভাগে আত্মীয়-স্বজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিন্যান্স বিভাগ, ফার্সি বিভাগ, ক্রিমিনোলজি বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নম্বর বণ্টন, ভাইভা বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত সুপারিশে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। মেধার চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয় ও ক্ষমতার সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি এসেছে ফিন্যান্স বিভাগ থেকে। অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান তার প্রভাব খাটিয়ে নিজের মেয়ে মাহিরা শামীমকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিতে ভূমিকা রেখেছেন। জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ফিন্যান্স বিভাগের চারটি প্রভাষক পদের জন্য নিয়োগ বোর্ড বসে। এতে ৫১ জন আবেদনকারীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনে অংশ নেন। সেখান থেকে চারজনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, যাদের একজন মাহিরা শামীম।

মাহিরা শামীম ওই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নসরুল কাদির দাবি করেন, এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের কোনো বিষয় ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাহিরা শামীমের আন্তর্জাতিক জার্নালে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত থাকায় তিনি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, তিনি ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন না এবং বোর্ডের সভাপতি ছিলেন উপাচার্য নিজেই। তার দাবি, তার মেয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতেই আবেদন করেছে এবং বোর্ড স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে তার ভাই মো. আব্দুল কাইয়ুমকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগেও স্বচ্ছতা মানা হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার ভাই যখন চাকরির জন্য আবেদন করেন, তখনই তিনি নিয়োগ বোর্ড থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার দাবি, মো. আব্দুল কাইয়ুমের শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো এবং তিনি এর আগে সৌদি আরবের জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে চলমান বিতর্কের কারণে তার ভাই আদৌ এই চাকরিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সব নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, নম্বরপত্র ও বোর্ডের সুপারিশ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এসব কাগজপত্র যাচাই না করা পর্যন্ত কোনো নিয়োগে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে অভিযান শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিশনে জমা দেওয়া হবে।




গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রবিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেট-খামারবাড়ি এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এতে বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন। রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।

এর আগে গতকাল শনিবার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

পরপর এ দুটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।




আজ শাবানের চাঁদ দেখা যাবে কি, শবেবরাত কবে?

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) হিজরি ১৪৪৭ সনের শাবান মাসের চাঁদের সন্ধান করা হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে মুসলমানদের ধর্মীয় রাত শবেবরাত পালিত হয়।

সংবাদমাধ্যম গালফ টুডে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মেদ শওকত ওদেহ জানান, আজ শাবানের চাঁদের জন্ম হলেও সূর্যাস্তের আগেই তা অস্ত যাবে। এ কারণে আজ খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তবে আগামীকাল সোমবার খালি চোখেই চাঁদ দেখা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আলবেনিয়ায় সোমবার টেলিস্কোপের মাধ্যমে শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে শবেবরাত পালিত হতে পারে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। বাংলাদেশেও যদি সোমবার শাবানের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে একই রাতে শবেবরাত পালিত হবে। তবে চাঁদ দেখা না গেলে দেশে শবেবরাত পালিত হতে পারে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে।

সূত্র: গালফ টুডে




ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়ার ঝুকিতে নোয়াখালী জেলা কারাগার- ৮ বছর কেটে গেলেও এখনো ডিজাইন ই ফাইনাল হয়নি। সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবের হস্তক্ষেপের পরেও নেয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে- প্রশ্ন নোয়াখালীবাসীর।

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালীতে ভূমিকম্পের আতঙ্ক নতুন নয়। নতুন আতঙ্ক হচ্ছে—ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আর সেই তালিকার সবচেয়ে ভয়াবহ নাম—নোয়াখালী জেলা কারাগার। যেখানে প্রতিদিন রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন ৮২৩ জন বন্দি, ডিউটিতে থাকেন কারারক্ষীরা, আসেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতা—সবার মাথার ওপর ঝুলছে ভঙ্গুর ভবনের নিঃশব্দ হুমকি। দেয়ালে ফাটল, বেরিয়ে থাকা মরিচাধরা রড, ছাদ থেকে ঢালাই-সহ প্লাস্টার খসে পড়া, ভাঙা গ্রিল, ঘুণে ধরা কাঠ—এগুলো শুধু “জীর্ণ দশা” নয়; সংশ্লিষ্টদের ভাষায় এগুলো দুর্ঘটনার পূর্বাভাস। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগারের ভেতরের প্রধান সড়ক ডুবে যায়, জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সাক্ষাতের ঘরও জরাজীর্ণ। আর ভূমিকম্পের কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও তীব্র—কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটা বড় কম্পন লাগবে কেন? ভবন কি ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে না?

৫৩ বছরের পুরোনো কাঠামো, ভেতরে ৮২৩ বন্দি—ঝুঁকির ভেতরেই জীবন
কারাগারটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে মাইজদি কোর্ট এলাকায়। পরে ১৯৭২ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৫৩ বছরে উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা আধুনিকায়ন হয়নি। মোট জমি ৩৬ একর, পেরিমিটার ওয়ালের ভেতরে ৮.৫০ একর, বাইরে ২৭.৫০ একর। সরেজমিনে কারাগারের ভেতর-বাইরে দেখা যায় একাধিক ভবনে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে থাকা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই এখনো বন্দি ও কারারক্ষীদের বসবাস। জেল সুপার আবদুল বারেক জানিয়েছেন— বৃষ্টি হলেই পানি ভেতরে জমে যায়, বন্দিদের ফ্লোর ডুবে যায়, ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হয় বন্দি ও কারারক্ষীদের। স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমাম উদ্দিন বলছেন, সাক্ষাতের জায়গাসহ সামগ্রিক অবস্থা এতটাই জীর্ণ যে সেটা চোখেই ধরা পড়ে—এ অবস্থাকে তিনি “অত্যন্ত জরাজীর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

ডিসেম্বর ২০২৩ ভূমিকম্পঃ বজরা ভবন ‘রেড অ্যালার্ট’—তবু থেমে যায় গতি
ডিসেম্বর ২০২৩-এর ভূমিকম্পে কারাগারের বজরা ভবনে নতুন করে বহু ফাটল তৈরি হয়। বীম, ছাদ ও লোড বেয়ারিং দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গণপূর্ত বিভাগ দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বন্দি অন্যত্র সরানোর চিঠি দেয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ ভবনের ২য় ও ৩য় তলা খালি করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ—এত বড় সতর্ক সংকেতের পরও সামগ্রিক পুনঃনির্মাণ/ আধুনিকীকরণের কাজ আবার আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতায় আটকে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটা ভবন খালি করলেই কি দায় শেষ? পুরো কারাগার তো একই ঝুঁকিতে!

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণঃ “ভবন ভঙ্গুর, কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে”
২৬-০৫-২০২৫ তারিখের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন—কারাগারের ভবনগুলো ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ; কয়েকটি ভবনের একটা বড় অংশ ইতিমধ্যে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে বলেও দেখা গেছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও এখনো কারাগার পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা—এ কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদনটি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এর কাছে পাঠানো হয়। যতোদুর জানা গেছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনো কারো টনক নড়ছেনা।

জুন ২০২৫ঃ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর রিপোর্ট—“সামান্য ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার সম্ভাবনা”
জুন ২০২৫-এ নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শন প্রতিবেদনে বজরা, বেলাভূমি, সৈকতসহ কয়েকটি ভবনে দেয়াল-বীমে ফাটল, ছাদ থেকে ঢালাই খসে পড়ে রড দৃশ্যমান, ভাঙা গ্রিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি—সবকিছু বিস্তারিত উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়: সামান্য ভূমিকম্পে ভবনগুলো ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রতিবেদনে রেট্রোফিটিং/ বিশেষ মেরামতের সুপারিশ থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—এগুলো ব্যয়বহুল, এবং নতুন কারাগার নির্মাণের আগে সাময়িক সমাধান মাত্র।

২০১৭ থেকে ২০২৫: কাগজে কাগজে ৮ বছর—ডিজাইনই ফাইনাল নয়!
নোয়াখালী জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ/আধুনিকীকরণ নিয়ে উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। ২০১৮ সালে পরিদর্শন ও নকশা চূড়ান্তকরণের কাজ হয়। ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি খসড়া প্রাক্কলন/ প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। এরপরও অভিযোগ বছরের পর বছর কেটে গেছে; কোথাও সভা, কোথাও চিঠি, কোথাও সংশোধন—কিন্তু মাঠে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি সাম্প্রতিক সভায় মাস্টারপ্লান সংশোধনের সিদ্ধান্ত, অনুমোদন-প্রতিস্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলেছে—তবু ডিজাইন ফাইনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। নোয়াখালীবাসীর প্রশ্ন তাই আরও ধারালো—কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে? কারাগার তো শুধু ভবন নয়—এটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, মানবিক দায়, আইন-শৃঙ্খলা—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।

“শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জেলা” কারাগারকে ঘিরে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি
নোয়াখালীতে পুরোনো/ পরিত্যক্ত ঘোষিত বহু স্থাপনা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে—এ নিয়ে আগেও উদ্বেগ উঠেছে। কিন্তু সবচেয়ে স্পর্শকাতর অবস্থান কারাগারকে ঘিরে—কারণ এখানে মানুষ ইচ্ছেমতো বের হতে পারে না। বিপদে দ্রুত ইভাকুয়েশনও সহজ নয়। ফলে কারাগারের ঝুঁকি মানেই সম্ভাব্য ম্যাস ক্যাজুয়ালটি এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংকট।

এখনই করণীয়: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে দ্রুত ডিপিপি, দ্রুত অনুমোদন
স্থানীয় নাগরিক সমাজের বক্তব্য একটাই—প্রস্তাব নয়, বাস্তব পদক্ষেপ। বিশেষ করে— প্রকল্পটি “ফাইল-ভ্রমণ” থেকে বের করে জরুরি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চূড়ান্ত করা, ডিজাইন চুড়ান্ত করে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন সম্পন্ন করা, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ না করে বিশেষ টাস্কফোর্স/ ফাস্ট ট্র্যাক ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপিপি পাশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির ভবনে অস্থায়ী ঝুঁকি-নিয়ন্ত্রণ, সীমিত ব্যবহার ও জরুরি মেরামত/সাপোর্ট ব্যবস্থা, কারাগারের ভেতর-বাইরে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক কার্যকর ড্রেনেজ ও উঁচু করণের ব্যবস্থা।

নোয়াখালী জেলা কারাগার এখন কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি এক নিঃশব্দ অ্যালার্ম। প্রতিদিন ৮২৩ বন্দির জীবন, কারারক্ষীদের নিরাপত্তা এবং একটি জেলার আইন-শৃঙ্খলার ভার এই ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটা দুর্ঘটনার পর আর কোন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। নোয়াখালীবাসীর দাবি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন, এবং পুনঃনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কারণ— ভূমিকম্প নয়, অবহেলাই যেন সবচেয়ে বড় কম্পন।




গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে কাঁদলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের কান্না, আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মায়ের ডাক ও আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত মতবিনিময়ে শোকাবহ ও আর্তনাদের পরিবেশ সৃষ্টি হয়

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি। বাবার অপেক্ষা থাকা এই কন্যা বলেন, ‌‌‘এবছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর একটা বছরের বেশি পার হয়ে গেল কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।’

ঋদি জানে না বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা আদৌ পূরণ হবে কি না।

ঋদি বলছিল, আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন থেকে আম্মুর কোলে চড়ে এখানে আসি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবো কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।

মাত্র ২ মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও।

কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, একযুগ ধরে বাবার জন্য সবাই অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।

সমবয়সীদের যখন হাঁটা শেখায় বাবারা, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।

মিম, সাফা, ঋদির মতো গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গুমের শিকার হয়ে স্বজন হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার। কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই আবার কেউ বা হারিয়েছেন স্বামীকে। এখন শুধু সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদ শুনে কাঁদেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

দেড় যুগরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপির চেয়ারম্যান স্বজন হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা জানান।

গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে উল্লেখ বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মানুষ গণতেন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের বাবা হঠাৎ করে দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় রয়ছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে দেখা দিবে।’

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন, গুম প্রতিরোধে এমন আইন করবেন যেনো ভবিষ্যতে এই অপরাধ করার সাহস কারো না হয়।




মাস্কের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলো তার সন্তানের মা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দায়ের করেছেন তার (ইলন মাস্কের) ১৬ মাস বয়সী ছেলে রোমুলাসের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাশলি অভিযোগ করেছেন, মাস্কের চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে তার অত্যন্ত অবমাননাকর ও যৌন উত্তেজক ‘ডিপফেক’ ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ইতিমধ্যেই মাস্কের কোম্পানিকে এই ধরনের অনৈতিক ও সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ প্রদান করেছেন।

অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। তিনি জানান, গত বছর থেকে গ্রক দিয়ে তৈরি তার বিকৃত ছবিগুলো এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি বিষয়টি মাস্কের সংস্থাকে জানান। তবে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ শুরুতে জানায় যে, ওই ছবিগুলো তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি।

পরবর্তীতে তার ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো অ্যাশলির এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং ভেরিফিকেশন মার্ক সরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাশলি বলেন, ‘গ্রক যেভাবে আমার কুরুচিপূর্ণ ছবি তৈরি ও প্রচার করছে, তাতে আমি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি এবং আমার মানসিক যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ছে।’

অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘এক্সএআই’ পাল্টা মামলা করেছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে। তাদের দাবি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ব্যবহারকারী চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, কারণ ওই চুক্তিতে যেকোনো আইনি বিরোধ টেক্সাসের আদালতে মীমাংসা করার কথা উল্লেখ ছিল।

অ্যাশলির আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন তারা নিউ ইয়র্কেই এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, নারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের যৌনতাপূর্ণ কৃত্রিম ছবি তৈরি করে এক্সএআই মূলত জননিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইলন মাস্কের এই এআই চ্যাটবটটি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান ইতিমধ্যেই গ্রক-এর ডিপফেক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

শুক্রবার জাপানি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, এ ধরনের আপত্তিকর ছবি তৈরি বন্ধে তারা এক্স-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি কেবল তার একার লড়াই নয়; এটি মূলত সেইসব এআই সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই যা কোনো জবাবদিহি ছাড়াই নারী ও শিশুদের অপব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা




মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীকে বরখাস্ত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন  প্রেসিডেন্ট। সাব সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবের বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ভেনেজুয়েলান নাগরিক সাবকে ‘তার সেবার’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান। রদ্রিগেজ বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মূলত, ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই এই পরিবর্তন এলো বলে মনে হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া সাবকে ২০২৪ সালে মাদুরো তাকে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাবকে গত ২০২০ সালে দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বিমানে জ্বালানি নেওয়া হচ্ছিল।

ইন্টারপোলের নোটিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ ছিল।

পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়, যেখানে সাব ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার আলভারো পুলিদোর বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর কারাকাসে সাবকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি দেশের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছেন। সাবের বরখাস্ত সেই ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি।




ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে তৎপর দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, চাবাহার বন্দরে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের কাছে চাবাহার কেবল একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর। এছাড়া এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি প্রধান সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় অন্তত ১৫ দিন কমিয়ে আনবে।

২০২৪ সালে ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছে। সূত্রমতে, ভারত এই প্রকল্পে সরাসরি সরকারি সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সত্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যাতে ভারত সরকারের ওপর সরাসরি কোনো দায় বা ঝুঁকি না আসে কিন্তু উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ওপর এর প্রভাব হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের বিশাল অর্থনীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ভারত এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার বন্দর কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই স্থিতিশীল বাণিজ্য পথটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া।

সূত্র: এনডিটিভি




ইরানকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে গ্রেফতার হওয়া শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বাতিল করায় দেশটির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি অত্যন্ত সম্মান জানাই, যারা সব নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, যা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধন্যবাদ!”

ট্রাম্প আরও বলেন,‘উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইসরায়েল আমাকে হামলা থেকে বিরত রেখেছে—এমন মন্তব্য সঠিক নয়; কেউ আমাকে বোঝায়নি; আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারও ফাঁসি হয়নি। তারা ফাঁসি বাতিল করেছে। এটি আমার উপর বড় প্রভাব ফেলেছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ‘স্থগিত’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি “সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে।

ট্রাম্প বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তার ভাষায়, কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে ও প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে’ আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হলে তেহরানকে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপের’ মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে এসবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে প্রাণঘাতী ও সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয় । তবে হতাহত বা আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

ডেস্ক নিউজঃ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ বিষয়ে বাংলাদেশের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং অবস্থান জানাতে চলতি মাসে ঢাকায় আসার কথা ছিল জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদলের। একই সঙ্গে ২১ জানুয়ারি এলডিসি–উত্তরণ নিয়ে একটি স্বাধীন প্রস্তুতিমূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনের সূচিও ছিল। তবে সফরের আগেই প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সূত্র জানায়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা–এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটির ঢাকায় আসার কথা ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সফরটি এ সময়ে না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব এবং সাবলীলভাবে উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের পথনকশা তৈরির লক্ষ্যে গত নভেম্বরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে মতামত ও নথিপত্র সংগ্রহ করে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ঢাকা সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়েই মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটা আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।’

এদিকে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা তুলে ধরে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এলডিসি থেকে বের হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা আর থাকবে না। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এলডিসির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক নয়। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭ দেশের যেকোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলে সেটিকে সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশসহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলনে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানায়। সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘকে এই দাবির কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে জাতিসংঘের কোনো ইঙ্গিত পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে লাওস ও নেপাল এখনো এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এ বছরের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা বাংলাদেশের। তবে উত্তরণ পেছানোর দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বলে আসছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৬ সালেই হবে। তাঁর বক্তব্য, উত্তরণ পেছানোর আবেদন অন্তর্বর্তী সরকার করবে না; নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এ বিষয়ে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তারা প্রস্তাব দিয়েছিল উপদেষ্টা পরিষদসহ বড় সম্মেলন করার। আমরা বলেছি, সামনে সংসদ নির্বাচন। অল্প সময়ের মধ্যে তা করা সম্ভব হবে না।’
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। অপেক্ষা করে দেখতে পারি নির্বাচিত সরকার কী করে। তবে কারিগরি কমিটি হয়ে বিষয়টি যাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। পেছানোর পক্ষে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া সহজ কাজ নয়।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন মিললে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি শ্রেণি থেকে বেরিয়ে যাবে। এর আগে ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের পর্যালোচনার পর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা চাই, এ উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছাক। কারণ, আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি আছে।’

কার ঘাটতি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ঘাটতি আছে ব্যবসায়ীদের। তবে সরকারের ঘাটতিই বড়। যে ক্লাবে আমরা উঠতে চাইছি, সেখানে অন্যদের ব্যাংকঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে, আমাদের প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্যদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা আছে, আমাদের আছে অনিশ্চয়তা। সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। এত সমস্যা রেখে শুধু নামে এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে আমাদের লাভ কী?’