বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা হবে ২১ জানুয়ারি

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে নতুন বেতনকাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিশন। এরপর অর্থ উপদেষ্টা প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে সরকার।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বেতনকাঠামো পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন করতে গেলে বাড়তি ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লাগবে।

প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে নিচের দিকে বেতন–ভাতা বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের প্রধান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।

বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, এটা দ্বিগুণের বেশি বাড়বে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১: ৮ করার সুপারিশ রয়েছে।




দেশবাসীকে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ‘দেশবাসীকে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
গতকাল এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “আজকের এইদিনে অর্থাৎ রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহর প্রিয় নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দিদার লাভ করেছিলেন। মহান আল্লাহর মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে গিয়ে উম্মতে মোহম্মাদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে দুনিয়াতে ফিরে এসেছিলেন। এ কারনেই মুসলমানদের কাছে এ রাতটি অত্যন্ত মহিমান্বিত।”

এই দিনটিকে অত্যন্ত তাৎপর্য বিবেচনা করে জিএম কাদের আরো বলেন, আসুন আমরা সবাই এ রাতটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায় সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগি করে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিংসা, হানাহানি থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি সৌহাদ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের কাছে দোয়া প্রার্থণা করি।




এক নেত্রীর ঠাঁই মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের বিতাড়িত ভূমিতে: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের বিতাড়িত ভূমিতে।”

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেষ হয়।

এই স্মরণসভায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় রাজনৈতিকভাবে বন্দী ছিলেন। তার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ থাকলেও সে সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন।

তিনি স্মরণ করেন, খালেদা জিয়ার একটি মামলায় প্রতিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজে বলেছিলেন, “আমি কি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি?” কিন্তু বিচারক সেই বক্তব্য লিখে রাখেন—খালেদা জিয়া নাকি এতিমের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। আসিফ নজরুল বলেন, “আইনের ছাত্র হিসেবে আমি এত জঘন্য বিচার কখনো দেখিনি।”

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রতিবাদমূলক বিবৃতি দেওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে চেষ্টা করলেও চারজনের বেশি কাউকে রাজি করানো যায়নি। এমনকি চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও অনেকের অনুমোদন ও সাহসের অভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আজ মানুষ মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে পারছে।”

তিনি বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশে মানুষ এখন স্বাধীনভাবে ভালোবাসা ও ঘৃণা প্রকাশ করতে পারছে। এ কারণেই এক নেত্রীর স্থান হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের স্থান হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।”

আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সততা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক রুচি বাংলাদেশের ইতিহাসে অম্লান। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়ার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বেগম জিয়ার কিছু অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে তাঁকে ইন্টারন্যাশনালাইজ করতে হবে।”




ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিতে ৯৪৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৯৪৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দেশের ৯৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ সব প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালা, লাইট-ফ্যান, বাথরুমের স্যানিটারি এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কাজের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেগুলো সংস্কার করতে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাহান আলী বলেন, এই সংস্কার কাজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি স্বচ্ছতার সঙ্গে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) থেকে গতকাল রাতে এ সংক্রান্ত ব্যয় মঞ্জুরির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইনান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ছায়িদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

বরাদ্দকৃত অর্থে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, মেরামত ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনা যাবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেয়েছে।

তদারকি কমিটি গঠন 

এদিকে বরাদ্দ প্রদানের পাশাপাশি এসব সংস্কার কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (উন্নয়ন-৩) এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

একই দিন এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের অপর এক আদেশে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

ব্যয়ের শর্তাবলি 

বরাদ্দ আদেশে ব্যয়ের ৬টি শর্তের কথা বলা হয়েছে। শর্তগুলো হলো-

১. নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ এ বরাদ্দের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

২. তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

৩. ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান ও পিপিআর-২০২৫ কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

৪. ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়/বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম উদঘাটিত হলে এর জন্য ব্যয় নির্বাহকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।

৫. বরাদ্দকৃত এ অর্থ থেকে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া পরিশোধ করা যাবে না।

৬. বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করে অব্যয়িত অর্থ যদি থাকে, তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বলেন, বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার ফলে এখন দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এই জরুরি সংস্কার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু ছায়িদ চৌধুরী জানান, শুধু নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও মেরামত এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনার কাজে এই টাকা খরচ করা যাবে। অন্য কোনো খাত বা এই টাকা দিয়ে পূর্ববর্তী বছরের কোনো বকেয়া পরিশোধ করা যাবে না।




সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে জমি দখল করে রাখার চেষ্টা নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, লেনদেন জটিলতা, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। ইসিবি চত্বরের বিল্লাল হোসেন সড়কে নাজিম উদ্দিনের এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

গত ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাজিম উদ্দিন নামের ভূমিদস্যু নামে পরিচিত ব্যক্তি সাবেক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হেনস্থা করেছে। অভিযোগ শুনতে জানা যায় ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন ও সাবেক সেনা সদস্য আবুল কাশেম সহ প্রায় ১০-১২ জন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য তাদের পেনশনের টাকা দিয়ে ক্রয়-কৃত জমি তে গেলে কতিপয় সন্ত্রাসী বাধা প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা জানে রক্ষা পায়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে তারা তাদের নিজস্ব ক্রয় কৃত ঢুকতে পারে না তারা অবৈধভাবে তাদের প্রজেক্ট নাজিম উদ্দিন নামের একজন ভূমি ব্যবসায়ী আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে এই ভূমিদস্যু এই সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ করে যা মানহানি কর। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাবেক এই কর্মকর্তারা। সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেন নাজিম উদ্দিন নামের এই ভূমিদস্যু ২০২৪ ছাত্র গণহত্যার মোহাম্মদপুর থানা মামলা নাম্বার ১৫ -মামলার তারিখ ২৮/০৮/২০২৪ এর ২৬ নম্বর আসামি হিসাবে নাজিমুদ্দিনের নাম দেখা যায় এবং এই মামলার এক নাম্বার আসামি শেখ হাসিনা। ওর সাথে আরেকটি গুলশান থানায় ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন বলে জানান। তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়। একই সাথে তিনি কমিটিতে ছিলেন এর প্রমাণও পাওয়া যায়। ছাত্র গণহত্যার সাথে জড়িত এইরকম একজন মানুষ কিভাবে সাবেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বা তাদের কষ্টের অর্জিত সম্পত্তি দখল করার ধৃষ্টতা দেখায় প্রশাসন কেন এখনো নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে এগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে ভুক্তভোগীরা মনে করে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নাজিম উদ্দিন নিজেকে নির্দলীয় পরিচয় দিলেও পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। তাদের অভিযোগ—তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনলেও অনেকের পাওনা এখনো বুঝিয়ে দেননি। কেউ কেউ দাবি করছেন, ব্যবহৃত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়, হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যারা নির্মাণকাজ চালান, তাদেরও মালামাল আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। একাধিক ক্রেতা জানান, নাজিম উদ্দিন তাদের কাছে প্লট বিক্রি করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্লট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেন, প্লট বিক্রি করার পরও প্রতিটি প্লটে মালিকপক্ষ নিজেদের “শেয়ার” রেখেছে বলে জানানো হয়।

একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তিনি দুই কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওনা আছেন; কিন্তু নাজিম উদ্দিন টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তার নামে মামলা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, তার জমির ওপর দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান মিলেনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের দাবি, জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে কেনা জমি ও সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়—এ জন্য তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




ভূমিকম্পের ছায়া নোয়াখালীতে: পরিত্যক্ত শতাধিক ভবন রয়ে গেছে চরম ঝুঁকিতে

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবন এখন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি মাঝারি কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হলে জেলা সদর মাইজদী, চৌমুহনী, বসুরহাট ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলোর ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফাটল কেবল অবহেলার চিহ্ন নয়, বরং আসন্ন বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে শতাধিক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকার পুরনো জেলা কারাগার, সদর ফায়ার স্টেশন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভবন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর, জেলা দায়রা জজের বাসভবন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল সালাম হল ও টিচার্স ট্রেনিং ভবনসহ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।

অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনো নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশই দুর্বল ও পুরনো ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, নোয়াখালী জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালীর প্রাচীন জেলা কারাগার। প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত এই ভবনটি ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোয়াখালী জেলায় ঘটতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাঁদের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।




রাষ্ট্রপতির কাছে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনে পরিচয়পত্র পেশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।




হাওর ও জলাভূমি দখল-দূষণে ২ বছরের জেল, অধ্যাদেশ জারি

ডেস্ক নিউজঃ দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। হাওর বা জলাভূমি অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার এ তথ্য জানান।

কঠোর শাস্তির বিধান 
অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জারিকৃত ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ (দুই) বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ কার্যক্রম 
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, মাটি, বালু বা পাথর আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

অধিদপ্তরের ক্ষমতা বৃদ্ধি 
অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এই অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তর নিশ্চিত করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনসাধারণের জীবিকার কোনো ক্ষতি হবে কি না।

সুরক্ষিত এলাকা ঘোষণা
সরকার চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকার পানির প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।




গ্যাস বিল পরিশোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিতাসের নতুন নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র থেকে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কিছু প্রতারক চক্র নিজেদেরকে ‘তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসি’র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে কল করছে। তারা গ্রাহকদেরকে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধ করার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদেরকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, শুধু কোম্পানির নির্ধারিত ব্যাংকে এবং অনলাইন ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ অ্যাপের মাধ্যমে (বিকাশ, রকেট, উপায় ও ট্যাপ) গ্যাস বিল পরিশোধ করুন। কারও ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে গ্যাস বিল পরিশোধ করবেন না।

প্রতারক চক্র থেকে রক্ষা পেতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিতাস আরও জানায়, প্রয়োজনে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব অফিসে উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনে যোগাযোগ করে পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করুন।




গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে, তা শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নয় বরং উত্তর আটলান্টিক জোট ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমারেখা নিয়েই এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সতর্ক করে বলেছেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর শেষ।

ন্যাটো গঠিত হয়েছে একটি মৌলিক নীতির ওপর তা হলো, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সকল সদস্যের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতরেই যদি একটি শক্তিধর রাষ্ট্র তার মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের চিন্তা করে, তাহলে ন্যাটোর নৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং রাশিয়া ও চীন যেন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য দ্বীপটির মালিকানা ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।

আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে রাসমুসেন স্পষ্টভাবে চীনের প্রভাব থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনো চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো বিনিয়োগই নেই।’

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ স্বাধীনতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয়। এর অন্যতম কারণ হলো তারা ডেনিশ রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিস্তৃত সামাজিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

রাসমুসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ ব্যবস্থার খরচ বহন করবে।’

তবে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও তিনি জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপের কাজ হবে, কীভাবে ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মোকাবিলা করা যায়।

আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অঞ্চলটি যেনো কোনো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত না হয় সেজন্য আর্কটিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গত বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি