নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের ভিসায় কড়াকড়ি, নতুন নির্দেশনা সরকারের

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নির্বাচনকালীন সময়ে বিদেশিদের আগমন, অবস্থান ও প্রস্থান সুশৃঙ্খল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৫ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলামের সই করা আদেশ অনুযায়ী, আগমনী ভিসাসহ সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা নীতিমালা-২০০৬ ও পরবর্তীতে জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যভিত্তিক ভিসা প্রদান করতে হবে। ভিসা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিনা ভিসায় আগত বিদেশিদের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করে আগমনী ভিসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের সময় আগমনের উদ্দেশ্য, আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, আবাসস্থলের তথ্য, ফিরতি টিকিটসহ সব নথি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যাচাইয়ে কোনো অসংগতি বা সন্দেহ দেখা দিলে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশি সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ পর্যবেক্ষণে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য তাদের ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ লেখা সিলযুক্ত আগমনী ভিসা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ থাকলে পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফের সুযোগও থাকবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের আগমন-প্রস্থান ও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাস, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দরকে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও যাতায়াত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রতিদিন এক্সেল ফরমেটে ই-মেইলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ) বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ঢাকাসহ উত্তরের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ আবার বাড়ার সম্ভাবনা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশে আজ বুধবার মাত্র এক জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের সেই জেলা হলো পঞ্চগড়। ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ আজই সবচেয়ে কম অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। আজ অবশ্য রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমেছে খানিকটা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ আবার বাড়তে পারে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র আজ সকালে জানিয়েছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এই তেঁতুলিয়াতেই, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়াতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকছে। গত সোমবার এখানেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছিল, এ মাসে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রায় শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ কমে আসছে।




আংশিক মেঘলা ঢাকার আকাশ, অপরিবর্তিত থাকবে তাপমাত্রা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকার আকাশ বুধবার সকাল থেকেই আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

 বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের এই মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলে ঠান্ডার প্রকোপ থাকলেও রাজধানীতে এখনই বড় ধরনের তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টার দিকে তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ওই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বায়ুপ্রবাহের দিক বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে যে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

সারাদেশের সামগ্রিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তের আবহাওয়াও প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহ কবলিত জেলাগুলো ছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৪ মিনিটে। শীতের এই সময়ে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।




নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের একধরনের বন্যা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকেও এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের ছড়াছড়ি চলছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সরকার উদ্বিগ্ন।

জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্যের পরিমাণ অনেক। এ সমস্যা মোকাবিলায় যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।’

এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

ভলকার তুর্ক গুমসংক্রান্ত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান ও কাজ এগিয়ে নিতে ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাওয়ার আগেই এটি করব।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাঁর দপ্তর গুমসংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।




গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশের গর্বিত অর্জন

ডেস্ক নিউজঃ বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ পেল এক অনন্য আন্তর্জাতিক সম্মান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ প্যারাশুট জাম্প অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশ একসঙ্গে সর্বাধিক ৫৪টি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও দক্ষ স্কাইডাইভারদের অংশগ্রহণে যাদের মধ্যে আশিক চৌধুরী (BIDA)-সহ প্রশিক্ষিত প্যারাট্রুপাররা ছিলেন। এই ব্যতিক্রমী অভিযানে আকাশে ভেসে ওঠে লাল-সবুজের ৫৪টি পতাকা। পুরো উদ্যোগটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (AFD)।

‘Most Flags Flown Simultaneously While Skydiving (Parachute Jump)’ শিরোনামে এই রেকর্ডটি অর্জন করে টিম বাংলাদেশ, যার মাধ্যমে দেশটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল টাইটেল হোল্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট টিম জানায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্মরণীয় করে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কাইডাইভারদের একত্রিত করে জাতীয় ঐক্য, সাহস ও সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা।

এই অর্জন শুধু একটি বিশ্বরেকর্ড নয়; এটি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। লাল-সবুজের এই গর্বিত মুহূর্ত ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।




থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লো ক্রেন, নিহত অন্তত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্যাংকক থেকে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রদেশে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ক্রেন ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশ–এর সিখিও জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিন্নাওং বার্তাসংস্থা এএফপি–কে জানান, ‘এ ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।’

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ট্রেনটি থাইল্যান্ডের উবন রাতচাথানি প্রদেশ–এর উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনের একটি বগির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে ধাতব কাঠামো কেটে কাজ করছেন।

থাইল্যান্ডের স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড জানিয়েছে, ট্রেনটির আসন বিন্যাস অনুযায়ী এতে ১৯৫ জন যাত্রীর নাম ছিল। তবে বাস্তবে ট্রেনে থাকা যাত্রীর সংখ্যা এর চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এ ঘটনায় একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক তদন্ত’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, নির্মাণকাজে গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—সব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের জানাতে কাজ করছে প্রশাসন।




“আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মব সন্ত্রাসের কারনে নির্বাচনী পরিবেশ বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর ঘেরাও অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাশিত নয়”- জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এসএম বদরুল আলমঃ “আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মব সন্ত্রাসের কারনে নির্বাচনী পরিবেশ বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। জুলাই ঐক্য নামের একটি সংগঠনের নির্বাচন কমিশন অফিসে ঘেরাও কর্মসূচির সমালোচনা করে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ঘেরাও অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাশিত নয়।

শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ জাতীয় পার্টিকে সম্পুর্ণ অযোক্তিক ভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ জুলাই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির অবস্থান জাতি নিশ্চয়ই অবগত আছে।

নির্বাচনের আপীল কমিশনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আপীল লড়তে এসে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এই কথাগুলো বলেন।
আজ মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ নির্বাচন কমিশনের আপীল বিভাগে জাতীয় পার্টির আপিল সহায়তা কমিটির আহবায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। আপীল কার্যক্রম শেষে মহাসচিব জানান, আজকের ৪র্থ দিনের আপীলের শুনানীতে জাতীয় পার্টির ৫ জন প্রাথীর মধ্যে সকলেরই আপীল মঞ্জুর হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনেই আপীল মঞ্জুর ও ৫ জনের আপীল খারিজ হয়েছে।

আপীল খারিজ হওয়া প্রার্থীগণ উচ্চ আদালতে রীট করবেন বলে তিনি জানান।
প্রার্থী তালিকা হচ্ছে নিম্নরূপ-
১) সরকার মোঃ সালাউদ্দিন
জাতীয় আসন নং- ১৮৫ ঢাকা-১২
আপিল নং- – ২১৯ (মঞ্জুর)

২) মো: আকবর হোসাইন
জাতীয় আসন নং- ১১৫ ভোলা -০১
আপিল নং- ২৪৫ (মঞ্জুর)

৩) মোঃ লুৎফর রহমান রিপন
জাতীয় আসন নং-২ পঞ্চগড় -০২
আপিল নং- ২৫২ (মঞ্জুর)

৪) গোলাম মোস্তফা
জাতীয় আসন নং-২৫৭ কুমিল্লা-৯
আপিল নং- ২৫৫ ( মঞ্জুর)

৫) মো আয়ুব হোসেন
জাতীয় আসন নং- ১৬৭ কিশোর গঞ্জ ৬
আপীল নং ২৬৯ ( মঞ্জুর)

আপিল সহায়তা কমিটির আহ্বায়ক- ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ছাড়াও নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন – এ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঞা, মাহমুদ আলম, ইকবাল হোসেন তাপস, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন, মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, এম এ রহিম, সোহেল রহমান প্রমূখ।




বুধবার ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসছে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফির আগমন ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও, সবাই সরাসরি ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কেবল কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত বিজয়ীরাই ট্রফিটি কাছ থেকে দেখা এবং এর সঙ্গে ছবি তোলার এক্সক্লুসিভ সুযোগ পাবেন। এই ক্যাম্পেইনটি শেষ হয় গত ৮ জানুয়ারি। নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড স্ক্যান এবং ফিফা-থিমভিত্তিক কুইজে অংশ নিয়ে বিজয়ীরা এই বিশেষ পাস অর্জন করেন।

এর আগে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার ষষ্ঠ আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এই বিশ্বভ্রমণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ভিআইপিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ ট্রফি ট্যুর বিমানে করে রিয়াদে পৌঁছানোর পর দেল পিয়েরো বিমানবন্দরের টারমাকে বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচন করেন। পরে তিনি একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন, যেখানে তরুণ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান ও বিভিন্ন ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিংবদন্তি ফুটবলার ও বিশ্বকাপ ট্রফির উপস্থিতিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

দিনের শেষভাগে রিয়াদের একটি বড় শপিং মলে সাধারণ দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয় পাবলিক ফ্যান ইভেন্ট। সেখানে শত শত ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে প্রদর্শন করা হয় ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি।

এই ট্রফি ট্যুরে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের ৭৫টি গন্তব্যে ভ্রমণ করবে। ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হাজারো ফুটবলপ্রেমী জীবনে একবার হলেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এবারের আসরে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ।

কোকা-কোলার গ্লোবাল অ্যাসেটস, ইনফ্লুয়েন্সার ও পার্টনারশিপস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকায়েল ভিনে বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা যা ভাষা ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।

ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রোমি গাই বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি খেলাধুলার জগতে সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক। কোকা-কোলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত এই সফর হলেও ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ঢাকায় আগমন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।




“দেশে কোন নির্বাচনী আমেজ নেই। ভোটাররা নিরুৎসাহিত, প্রার্থীরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। দলগুলোর মধ্যে নিরুৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”- জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এসএম বদরুল আলমঃ “দেশে কোন নির্বাচনী আমেজ নেই। ভোটাররা নিরুৎসাহিত, প্রার্থীরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। দলগুলোর মধ্যে নিরুৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” বলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

নির্বাচন কমিশনের আপীল বিভাগে দলের প্রার্থীদের পক্ষে লড়তে এসে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এই কথাগুলো বলেন।

নির্বাচন কমিশনের আপীল বিভাগে ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। ৩য় দিনে ০৫ জনের মধ্যে ৩ জনের আপীল মঞ্জুর ও ২ জনের আপীল খারিজ হয়েছে।

সোমবার ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ নির্বাচন কমিশনের আপীল বিভাগে জাতীয় পার্টির আপিল সহায়তা কমিটির আহবায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। আপীল কার্যক্রম শেষে মহাসচিব জানান, আজকের ৩য় দিনের আপীলের শুনানীতে জাতীয় পার্টির ০৫ জন প্রাথীর মধ্যে ৩ জনের আপীল মঞ্জুর ও ২ জনের আপীল খারিজ হয়েছে। আপীল খারিজ হওয়া প্রার্থী ২ জন উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে তিনি জানান।

প্রার্থী তালিকা হচ্ছে নিম্নরূপ-
১) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
জাতীয় আসন নং -২২৮, সুনামগঞ্জ -০৫
আপিল নং- ১৪১ (নামঞ্জুর)
২) এস এম আবদুল মান্নান
জাতীয় আসন নং -১৬৯ মানিকগঞ্জ -০২
আপিল নং- ১৫৮ (না মঞ্জুর )
৩) মোঃ মামুনুর রহিম
জাতীয় আসন নং -১৩৫ টাঙ্গাইল -০৬
আপিল নং- ১৬৭ (মঞ্জুর)
৪) একেএম ফজলুল হক
জাতীয় আসন নং – ১৩৮, জামালপুর -০১
আপিল নং- ১৮৮ (মঞ্জুর)
৫) মোঃ আব্দুর রশিদ
জাতীয় আসন নং – ১০৮, সাতক্ষীরা -০৪
আপিল নং- ২০৮ ( মঞ্জুর) ।

আপিল সহায়তা কমিটির আহ্বায়ক- ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ছাড়াও নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন – আপিল সহায়তা কমিটির সদস্য – মাহমুদ আলম।

নির্বাচন মিশনে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন – প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, এম এ রহিম, সোহেল রহমান প্রমূখ।




তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দালালরাজ্য: প্রভাবশালী চক্রের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে সেবা নিতে এলে দালাল চক্রের মুখোমুখি না হয়ে কোনো কাজ করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো অফিসটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো দলিল নড়ে না, কোনো ফাইল এগোয় না। ফলে প্রকৃত সেবা প্রত্যাশীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাদের কোনো সরকারি পদ বা দায়িত্ব নেই, তারাও সাব রেজিস্ট্রারের এজলাসে প্রকাশ্যে বসে দলিল সম্পাদনের কাজে যুক্ত থাকে। সাব রেজিস্ট্রারের পাশেই দাঁড়িয়ে তারা দলিল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এবং নিজেদের প্রভাব দেখায়। এইভাবেই বছরের পর বছর ধরে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই চক্রের অন্যতম আলোচিত সদস্য হলেন আকিব এবং তার ভাই আওলাদ হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কারও বৈধ নিয়োগপত্র বা দায়িত্ব না থাকলেও তারা অফিসের ভেতরে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সাধারণ মানুষকে নানা কৌশলে আস্থায় নিয়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা। এরপর কাজের বিনিময়ে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে নেয়। কেউ রাজি না হলে ফাইল আটকে রাখার ভয় দেখানো হয়।

অভিযোগ আছে, তেজগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদেরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতাতেই এই দালাল চক্রটি এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাব রেজিস্ট্রার যতক্ষণ এজলাসে থাকেন, ততক্ষণ এই চক্রের সদস্যরা চারপাশ ঘিরে বসে থাকে। আগত সেবাগ্রহণকারীদের নজরে পড়তেই তারা কাছে টেনে নেয় এবং দ্রুত কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করে।

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে দলিল তৈরি, বালাম বইয়ে কাটাছেঁড়া, গুরুত্বপূর্ণ পাতা ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি নথি নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানা গেছে। তেজগাঁও ও মোহাম্মপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে তারা কার্যত নিজেদের অবৈধ বাণিজ্য কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও এই চক্র সব সময় নিজেদের অবস্থান ঠিক রেখে চলে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করে। অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ স্থানীয় কিছু পাঁতি নেতার পেছনে ব্যয় করে তারা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখে। এসব নেতাদের মাধ্যমেই সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সুযোগে সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদের রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দালাল চক্রটি অফিসটিকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছে। ফলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, বালাম বই ও নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হারিয়েও যাচ্ছে।

অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি। একাধিক সূত্র জানায়, তাকে এক সময় পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং কয়েক মাস জেলও খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, আওলাদ হোসেন এমন কোনো কাজ নেই যা করতে সে পিছপা হয়। অনেক সময় তার কথা না মানলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় তার পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। হাতিরঝিল, বাড্ডা ও টঙ্গীতে রয়েছে জমি ও বাড়ি। সুনামগঞ্জে তিন একর জায়গাজুড়ে মাছের ঘের আছে বলেও জানা গেছে। এসব সম্পদের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও তিনি সবই পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওলাদ হোসেন নিজেকে কারও তোয়াক্কা না করা একজন হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন। আইজিআর, জেলা রেজিস্ট্রার—কাউকেই তিনি গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাব রেজিস্ট্রার ছাড়া অন্য কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই। এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এজলাস কক্ষ দখল করে রাখাও এই চক্রের আরেকটি বড় অভিযোগ। সাধারণ সেবাগ্রহণকারীরা সেখানে দাঁড়ানোরও সুযোগ পান না। টেবিল-চেয়ার বসিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীরা জায়গা দখল করে রাখে। কে কতটা প্রভাবশালী, তার ওপর নির্ভর করে কে এজলাস কক্ষে বসতে পারবে। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদেরের উদাসীনতায় পুরো চক্রটি এখন আরও লাগামহীন হয়ে উঠেছে।