রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে আঘাত হানা মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে বাংলাদেশ সময় এ ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়।

আর্থকোয়াক ট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে। বেশি গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় এর কম্পন ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলক কম অনুভূত হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ বড় কোনো সক্রিয় চ্যুতিরেখার ওপর না থাকলেও মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রায়ই এসব এলাকার ভূমিকম্পের প্রভাব দেশে অনুভূত হয়।




জ্বালানি সংকট: বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ : জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কোন বিধিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে—তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি দল ও বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছেছে। নিয়মিত কার্যক্রম মুলতবি না করে আগামী তিন দিনের মধ্যে এক ঘণ্টা এ বিষয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সংসদে অনির্ধারিত এ বিতর্কের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০ মার্চ জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই, সেটা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে ৩০০ বিধিতে যে বিবৃতি দিয়েছেন, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সংকট নেই—এটা আসলে সংসদের ভেতরে নেই। সংকটটা সংসদের বাইরে।’

মূলত বিরোধীদলীয় নেতার একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ থেকে এ বিতর্কের সূচনা হয়। জ্বালানিসংকট ও এর প্রভাবে জনজীবনে সৃষ্ট সমস্যার ওপর আলোচনা চেয়ে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের প্রস্তাব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলামও।

তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রস্তাব দুটি গ্রহণ না করে বলেন, “ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিভিন্ন বিধিতে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। এরপরও আলোচনা করতে হলে যথাযথ বিধিতে নোটিশ আনতে হবে।’

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি এই সুযোগই দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা কী ধরে নেব? আমরা ধরে নেব যে জনজীবনে যে প্রবলেমটা সবচেয়ে বার্নিং, সেটা নিয়ে এই সংসদে আলোচনা করতে পারলাম না। এটা কি আমাদের জন্য একটা দুর্ভাগ্য হবে না?’

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘সেই বিবৃতি দিয়ে কী হবে? এই বিবৃতিতে কী সমস্যার সমাধান হবে? একদিকে বলা হচ্ছে, তেলের কোনো সংকট নেই। আরেক দিকে বাস্তবে যেটা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

বিরোধী দলের কোনো নোটিশ বিবেচনায় নেওয়া না হলে তারা সংসদে থাকবেন কেন—এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারলে সংসদে থাকার স্বার্থকতা নেই। সংসদের প্রতিটি সেকেন্ডে জনগণের টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি তার নোটিশটি দু–এক দিন পর আলোচনার জন্য নির্ধারণ করার অনুরোধ করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি অবশ্যই আলোচনার যোগ্য। এটি জাতীয় জীবনে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে। অধিবেশনের কার্যক্রম মুলতবি না করে অন্যভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে খুব বেশি হলে দু-চারবার মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুটি মূলতবি প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে। এটা ইতিহাসে অনন্য নজির। আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এটা অনুসরণ করার চেষ্টা করা হবে। তিনি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় নোটিশ দেওয়া বা ৬৮ বিধি অনুযায়ী আলোচনা করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

জ্বালানিমন্ত্রীর বিবৃতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পরে এবং দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা জাতির কাছে পরিষ্কার…আমাদের দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। সেটা আমরা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছি। মন্ত্রী দেখিয়েছেন।’

সহনীয় মাত্রায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একেবারে শেষের দিকে এসে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য বা পাচার বন্ধ করতে সরকার তেলের দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

এর জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করেই বলেছেন, কোনো সংকট নেই। কিন্তু সংকটটা সংসদের বাইরে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সংকট আছে বলেই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য হাইকোর্টের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় দুই দিন ভার্চ্যুয়ালি কোর্ট বসছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সংকটটা সরকারের সৃষ্টি নয়, এটি বৈশ্বিক বিষয়—আমরা তা বুঝি। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি সরকারি দলই পালন করে, তাহলে বিরোধী দলের ভূমিকা কোথায়?’

পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদের কার্যক্রম মুলতবি না করেও আধা ঘণ্টার জায়গায় এক–দেড় ঘণ্টা আলোচনা হতে পারে।’ এতে সম্মতি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা নোটিশ দেবেন, তবে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আলোচনা চান।

শেষে স্পিকার জানান, ‘বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশ দিলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থবহ আলোচনার জন্য যা করণীয়, সংসদ তা করবে।’




গরম আরও বাড়বে

ডেস্ক নিউজ : অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ৯টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি মঙ্গলবার তাপমাত্রা বেড়ে তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। ফলে গরম আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আজ রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। কিছু জায়গায় তা বিস্তার লাভও করতে পারে। মঙ্গলবার তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ কর‍তে পারে।

এদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস দিয়েছে অধিদপ্তর। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।




রাশিয়া-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ, যা কথা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় উভয় নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

ফোনালাপের একপর্যায়ে লাভরভ একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং চলমান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ এবং পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। 

কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে পারে, ইরান সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ফোনালাপটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।




চাঁদপুর জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৭৫৬ জন

ডেস্ক নিউজ : মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। চাঁদপুর জেলায় এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩০ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তন্মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২১ হাজার ৮০৭জন, ভোকেশনাল ১,৭৫৮ জন ও দাখিল ৭,১৯১ জন।

সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ৮ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ৪৫টি। দাখিল কেন্দ্র ১৯টি ও ভোকেশনাল কেন্দ্র ১০টি।

সদর উপজেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র ৬টি, ফরিদগঞ্জে ৬টি, হাজীগঞ্জে ৯টি, শাহরাস্তিতে ৬টি, হাইমচরে একটি, কচুয়ায় ৬টি, মতলব দক্ষিণে ৩টি, মতলব উত্তরে ৭টি।

দাখিল পরীক্ষার জন্য সদরে কেন্দ্র ৪টি, ফরিদগঞ্জে ৩টি, হাজীগঞ্জে ৩টি, শাহরাস্তিতে ২টি, কচুয়ায় ৩টি, মতলব দক্ষিণে ২টি, মতলব উত্তরে ১টি ও হাইমচরে ১টি। ভোকেশনাল কেন্দ্র ৮ উপজেলায় ৮টি এবং হাজীগঞ্জ ও কচুয়ায় ২টি করে মোট ১০টি।

উপজেলা ভিত্তিক পরীক্ষাথীর সংখ্যা :

চাঁদপুর সদর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ৪,৮৫১, দাখিল ৯৭৮ জন, ভোকেশনাল ২৬৬ জন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২,৯০৬ জন, দাখিল ১,৫৯৯জন, ভোকেশনাল ১৫৩ জন।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২,৯৮১ জন, দাখিল ১,১৭১জন, ভোকেশনাল ৪৫৪ জন।
শাহরাস্তি উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২,৮৩৩ জন, দাখিল ৭৫৮ জন ও ভোকেশনাল ৬৫ জন।
কচুয়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ৩,১০৫ জন, দাখিল ১,৩৫৫ জন ও ভোকেশনাল ২৩২ জন।
মতলব উত্তর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ২,৭৩৩ জন, দাখিল ৪৭৪ জন ও ভোকেশনাল ২৩৪ জন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ১,৮২৫ জন, দাখিল ৫৩৫ জন এবং ভোকেশনাল ১৮৬ জন।
হাইমচর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ৫৭৩ জন, দাখিল ৩২১ জন ও ভোকেশনাল ১৬৮ জন।




শর্ত সাপেক্ষে ইরানি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক : ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেবে বলেই প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সোমবার রাতেই তারা ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনায় যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে তাহলে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এই প্রসঙ্গ তোলা হলে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনার কথা আছে। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনও রকম চালাকি করছে না।”

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনও সমস্যা নেই। যদি তারা দেখা করতে চায়; তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে অবশ্যই যেকোনও ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এটি খুবই সাধারণ বিষয়। তাদের কাছে কোনও পরমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা




ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্র ও সমাজে শুধু আইনের শাসন থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। 
জামিন পাওয়ার পর দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কারামুক্তিতে বিলম্ব হওয়াকে ন্যায়বিচার বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আদালতের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে জামিননামা হাতে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারামুক্তি হতে দেরি হয়। এটি আইনের শাসন হলেও ন্যায়বিচার কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আমরা দেখেছি আইনের দোহাই দিয়েই রাতে আদালত বসিয়ে ভিন্ন মতের মানুষের ওপর অবিচার করা হয়েছিল। সেগুলো কখনোই ন্যায়বিচার ছিল না, বরং আইনি বিচারে আইনের অবিচার চালানো হয়েছিল। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক।”
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বগুড়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন বিচারক অনলাইনে জামিন আদেশ সরাসরি কারা প্রশাসনের কাছে পাঠাবেন। ফলে কারা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারবে। এই ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থায় জনগণের অহেতুক হয়রানি ও দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে।”
বিচার বিভাগকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম), আদালতের কেস ম্যাজিস্ট্রেট সিস্টেম এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে বিচার ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াকে কম্পিউটারাইজড করার ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।



যমুনা অয়েলে ক্ষমতার সিন্ডিকেট: নতুন এমডির দায়িত্বের পরদিনই হামলা, কেন্দ্রে জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলাম

এসএম বদরুল আলমঃ গত বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, বিকেল ৪.১৫ মিনিটে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের নতুন এমডি হিসাবে দায়িত্ব নেয় মো: ইউসুফ হোসেন ভুইয়া। রোববার ছিল তার দ্বিতীয় কর্মদিবস। এর মাঝে আজ ১৯ এপ্রিল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলাম অফিস কক্ষেই অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক ডিজিএম এইচ আর বর্তমানে ডিজিএম সেলস মো: হাসান ইমামের উপর। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি চলে কিছুক্ষন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি এমডিকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন হাসান ইমাম। অবশ্য জিএম এইচ আর এর অত্যাচারে অনেকটা বাধ্য হয়ে চলতি মাসের ১৩ তারিখে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগও করেছিল, কিন্তু পরের দিন সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের অনুরোধে সেই পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাসান ইমাম । যমুনা ওয়েলের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তাদের দাবী পুরো প্রতিষ্ঠানটি জিম্মি হয়ে আছে মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের কাছে । প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে সবকটি ডিপোতে রয়েছে তার সিন্ডিকেট সদস্য।

এক সাথে পাঁচ পদের দায়িত্বে:

২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর পদে দায়িত্ব পান মো: মাসুদুল ইসলাম। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পাকাপোক্ত করে তুলেছেন। তার ইচ্ছেই চলছে যমুনা ওয়েলের সকল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। মার্কেটিং কিংবা হিউম্যান রির্সোস ম্যানেজম্যান্টের উপর নুন্যতম কোন ডিগ্রী নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম তৃতীয় শ্রেনী, শুধু মাত্র চাটার্ড একাউন্টেসী কোর্স কমপ্লিট অথচ তিনি একই সাথে মহাব্যবস্থাপক মানবসম্পদ, মহাব্যবস্থাপক বিপনন, কোম্পানি সচিব, বিটুমিন সরবরাহ এবং অর্থ বিনিয়োগ কমিটির আহবায়কও। এছাড়া অল্প কয়দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্বও পালন করেছে। যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে আছে এই কর্মকর্তার পৃথক পৃথক তিনটি চেম্বার। অফিসারদের চেম্বার বন্টনের দায়িত্বেও তিনি এর সব কিছুর মূলে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরুত -ই ইলাহির আর্শীবাদে।

পরবর্তীতে অবশ্য প্রকৌশলী আমির মাসুদ নতুন এমডির দায়িত্ব নেয়ার পরেও সেই আগের মতোই ছিল মাসুদুল ইসলামের ক্ষমতা। ইতিমধ্যে নতুন এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে মো: ইউসুফ হোসেন। হয়তোবা তিনিও আগের এমডিদের মতো সমীহ করবেন মাসুদুল ইসলামকে, এমনটাই ধারণা করেছে যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। যদিও ২০১৬ সালে যমুনা ওয়েলের আভ্যন্তরিন একটি তদন্ত কমিটি রিপোর্টে এই মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি তৎকালীন সময়ে তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশও করেছিল। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। বরং গত ২৭ নবেম্বর ২০২৫ তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন এর দায়িত্বও পায়, ছিলেন ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দায়িত্ব পেয়েই প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সব চেয়ে বেশী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডিপো অপারেশন ইনচার্জ শেখ জাহিদ আহমেদকে পদায়ন করে এজিএম (ডি, বি) ইনচার্জের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে।

মাসুদুল ইসলামের মহা জালিয়াতি:

প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী সব কিছুতে মাসুদুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণ। কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বও তিনিই করে থাকেন । চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারী ডিজিএম এইচ আর মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরে তিন সিবিএ নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । এই তিন সিবিএ নেতার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাদিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আমার বার্তা। এদের বিরুদ্ধে গঠিত হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটিও। তবে বরাবরই এই তিন সিবিএ নেতার হয়ে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্বে। কিন্ত মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত এদেরকে এযাত্রায় বাঁচাতে পারেনি তিনি। বরখাস্তকৃত সিবিএ নেতাদের একজন আবুল হোসেন। তিনি যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি ও নিষিদ্ধ সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগ বন্দর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। সাময়িক বরখাস্তকৃত সিবিএ এই নেতাকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে ২১ জুলাই হতে ৯ আগষ্ট ২০২৫ পর্যন্ত বিশেষাধিকার ছুটি ভোগ করেন। এরপর অনুপস্থিত, প্রাপ্ত তথ্য মতে কোতোয়ালী থানার জি আর মামলা নাম্বার ৪১৫/২০২৫ আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে ২১ জুলাই চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজেষ্টেটের আদালতে প্রেরন করে।

পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। এমতাবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। অনুরুপ যমুনা ওয়েলের অপর সিবিএ নেতা এয়াকুবের বেলায়। এই সিবিএ নেতার বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১২ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করেছে, এর পর অনুপস্থিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে চান্দাগাও থামায় একটি মামলায় তাকে ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়ে, ১৪ ডিসেম্বরে আদালতের মাধ্যমে জেল খানায় প্রেরন করেছে ৷ এমতবস্থায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মজার বিষয় হলো এই দুই সিবিএ নেতা যেদিন গ্রেফতার হলেন, সেদিন থেকেই ছুটি মন্জুর হলো কিভাবে? তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে থেকে তারা ছুটির আবেদনই বা করলো কিভাবে? অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলাম নিজেই এদের স্বাক্ষর দিয়ে ছুটির আবেদন করে এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই তা মন্জুর করেন৷ মাস দেড়েক আগে এই দুই সিবিএ নেতা জামিনে জেল হাজত থেকে বের এসেছে। এরপরই এদের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মাসুদুল ইসলাম। এমনকি সকল প্রক্রিয়াও শেষ করেছিল। অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে এক কোটি বিশ লাখ টাকার রফাদফায় সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের সাসপেন্ড প্রত্যাহারের বিষয়টি চুড়ান্তও করেছিল তিনি। তারই মধ্যস্থতায় টাকার বিষয়টি রফাদফাও হয়েছিল সদ্য বিদায়ী এমডি প্রকৌশলী আমির মাসুদের সাথে, কিন্তু তাকে হুট করে এমডি পদ থেকে ছড়িয়ে দেয়ার তাদের প্লান ভেস্তে গেছে।

এদিকে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সুবিধাবাদীদের ভালো জায়গায় পোষ্টিং ও পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে৷ কোন নীতিমালা ও বিভাগীয় প্রধানদের সুপারিশ তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গত বছরের আগষ্টে তার ইচ্ছে মতো পাঁচ জনের নামের প্রস্তাব পাঠায় পদোন্নতি সভায়। পরবর্তীতে সকলেই পদোন্নতিও পায়৷ যমুনা অয়েল সুত্রে জানা গেছে ২০২৫ সালের ৩১ আগষ্ট মাসুদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত পদোন্নতি প্রাপ্ত তালিকাদের মধ্যে অন্যতম হলো কুতুবউদ্দিন হোসেন৷ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি পাওয়া কুতুবউদ্দিন হলো নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র আজম নাসিরের চাচাতো ভাই।

বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে আজম নাসিরের হাত ধরেই তার চাকরীতে যোগদান। তবে চাকরিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই অফিসের কোন শৃঙ্খলা তোয়াক্কা করেননি। ইচ্ছে হলে অফিসে এসেছে ইচেছ না হলে আসেনি। তার এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য একবার খুলনা বিভাগীয় অফিসে বদলী করা হলেও আজম নাসিরের ক্ষমতার দাপটে সেই বদলি স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু বিতর্কিত এই কর্মচারীকে নিজের ইচেছমতো পদোন্নতি দিয়েছে জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলাম। দ্বিতীয় পদোন্নতির তালিকায় আছে মো: সহীদুল আলম, তাকেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জুনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে । তার চাকরিও হয়েছে বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আলমে, তাও আবার রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর আর্শীবাদে। এছাড়া সহীদুল আলম ছিল ছাত্রলীগের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও রাউজান ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের মনোনীত সাবেক ভিপি। বিগত সরকারের আমলে একদিনের জন্যও অফিসে যেতে হয়নি তাকে। কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। পদোন্নতির তালিকায় আরও আছে ছাত্রলীগের ক্যাডার শেখ কামাল, ইকরাম ও মীর আরিফ। তাদের প্রত্যেককে কেরানি থেকে জুনিয়র অফিসার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

গেল বছরের শেষের দিকে ফতুল্লা ডিপোতে পৌনে চার লাখ লিটার ডিজেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দেয়া হয়েছে। সব কটি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছে ফতুল্লা ডিপোর অফিসার (অপারেশন) ইমরান হোসেন। তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের অন্যতম খলিফা জয়নাল আবেদীন টুটুলের বিভিন্ন অনিয়মের ফিরিস্তি ও তেল চুরির কাহিনি। তবে তার এই প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাড়ায়। ২৪ নভেম্বর ২০২৫ মাসুদুল ইসলামের স্বাক্ষরে তাকে বদলী করা হয়েছে ঢাকা বিভাগীয় বিক্রয় অফিসে (অফিসার সেলস পদে)। এদিকে এজিএম টার্মিনাল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকছুদুর হলো জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের আরেকজন অত্যান্ত বিশ্বস্ত সহোচর।

বিগত সময় চাকরী করেছে হিসাব শাখায় কিন্তু বছর খানিক আগে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় এজিএম টার্মিনাল পদে (অতিরিক্ত দায়িত্ব)৷ অপারেশন বিভাগে কাজ করার নুন্যতম অভিজ্ঞতা নেই,কিন্তু সেই মাকছুদুর রহমানকে ১১ নবেম্বর ২০২৫ তারিখে এজিএম টার্মিনাল পদে চলতি দায়িত্বে পদায়ন করে মানব সম্পদ বিভাগের জিএম এই মো: মাসুদুল ইসলাম৷ সম্প্রতি তার সিন্ডিকেটের অন্যতম দুই সদস্য এজিএম সেলস সৈয়দ সফিকুর রহমান ও মোংলা ডিপো ইনচার্জ আল আমিন খানকে তেল চুরির অভিযোগে সাসপেন্ড করেছে । তবে এখনো সক্রিয় আছে তার সিন্ডিকেট অন্যান্য সদস্যরা। এই৷ তালিকায় আছে দৌলতপুর ডিপোর সিবিএ নেতা দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস, বাঘাবাড়ি ডিপোর ইনচার্জ আবুল ফজল সাদেকিন, এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাহবুবুল আলম (কোন নিয়মনীতি ছাড়াই মাহবুবল আলম একই ডিপোতে পাঁচ বছর ধরে চাকরি করছে), পার্বতীপুর ডিপো থেকে সদ্য বদলীকৃত আইয়ুব আলী (সিবিএ নেতা এয়াকুবের সহোদর), ভৈরব ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার মতিয়ার রহমান, ধীমান কান্তি দাস মানেজার (ফাইনান্স) ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন) এমডির দপ্তর প্রধান কার্যালয়।

মাসুদুল ইসলাম সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ধীমান কান্তি দাস ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নামক যমুনা অয়েলের এই দুই কর্মকর্তা। প্রথম জন ২০০৭ সালে একাউন্টস অফিসার হিসাবে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করে। বর্তমানে ম্যানেজার (ফাইনান্স)। দ্বিতীয় জনের চাকরিতে যোগদান ২০১১ সালে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে এদের কোনো বদলী নাই৷ যদিও ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বিপিসির সমন্বিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদের অধীনস্থ কোম্পানি সমুহে ৩ বছরের অধিক কর্মরত, ওদেরকে বদলী করতে। কিন্তু এই দুজনের বেলায় কিছুই হয়নি৷ বরং হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে এমডির গোপনীয় সহকারে হিসাবে। এমডির দপ্তরে যেকোনো অভিযোগ গেলে তার হাত দিয়েই যেতে হয়৷ তাই তেল চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই নজরে আসেনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের।

এদিকে ২০২০ সালের ২১ জুনে মাসুদুল ইসলাম ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজিম (একাউন্টস)। সেসময় জিএম অপারেশন বরাবর তার দেয়া একটা চিঠির বিষয়বস্তু হলো তেলের ক্ষতি প্রসঙ্গে। সেই চিঠিতে বলা হয়, মংলা অয়েল ইনষ্টেশন ডিপোর এপ্রিল ২০২০ মাসের এফও এর ট্যাংকে মজুদ এবং লাভ/ক্ষতির সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, তেলের কোনো ধরনের অপারেশন বিহীন ২০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে ৩১° সে: তাপমাত্রায় মোট ২৯৯২৫ লিটার কার্যকালীন ক্ষতি দেখানো হয়েছে। উল্লেখিত ক্ষতি কিভাবে সমন্বয় করা হবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং সদয় সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো। তবে এই ঘটনার পাঁচ বছর হয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনার সাথে অভিযুক্ত তৎকালীন মংলা ডিপো ইনচার্জ আনিসুর রহমানকে বরিশাল ডিপোর মতো ভালো জায়গায় পোষ্টিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয় এই মাসুদুল ইসলাম।এরকম অসংখ্য অভিযোগ মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামির পক্ষ নিলেন জিএম এইচ আর ও বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ:

ডাকাতি মামলায় একটানা জেল হাজতে ছিল এক মাস সতের দিন। জামিনে বের হয়ে ফের চাকরীতে যোগ দিলেন। দীর্ঘদিন এই অনুপস্থিতিতির বিষয়টি অফিসকে জানানো হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ জানা গেছে সিরাজগন্জের বাঘাবাড়ীর অয়েল ডিপোর অফিস সহকারী (হাজিরা ভিত্তিক) হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টন গত ৬ জানুয়ারী ২০২৬ একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়। চট্রগ্রামের চন্দনাইশ থানার সেই মামলায় আদালতের জারীকৃত গ্রেফতারী পরোয়ানের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর থানা পুলিশ সেদিন তাকে গ্রেফতার করে। এবিষয়ে ৫ মার্চ আমার বার্তায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, সেদিনই ইসহাক মিল্টনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকিন জিএম এইচ আর এর ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত। আর এই হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টন হলো আবার এই ডিপো ইনচার্জের ক্যাশিয়ার। আবুল ফজল মো: সাদেকিন যেখানেই বদলী হয়ে যান, সাথে করে নিয়ে যায় এই ইসহাক মিল্টনকেও। ওরা দুজন সর্বশেষ চাকরি করেছে পার্বতীপুর ডিপোতে৷ আবুল ফজল মো : সাদেকিন সেখান থেকে বাঘাবাড়িতে বদলী হয়ে আসার সময় সাথে করে ইসহাক মিল্টনকেও এখানে বদলী করে নিয়ে আছে। তিন বছরের মাথায় বদলীর নিয়ম থাকলেও আবুল ফজল মো: সাদেকিন এখানে চাকরি করে যাচ্ছে নুন্যতম পাঁচ বছরের উপরে।

প্রতিষ্ঠানটিতে মাসুদুল ইসলামের চাকরি জীবন শুরু ১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর। কর্মরত অবস্থায় গাড়ি কেনার ঋন পায় একবার কিন্তু তিনি পেয়েছে দুবার। সিনিয়র একাউন্টস সময়কালী গাড়ি কিনতে ঋন নিয়েছে। এদিকে জিএম এইচ আর হওয়ার পর আগের ঋন সারেন্ডার করে নতুন করে আবেদন করে। পেয়েও যায় বিশ লাখ টাকার ঋন, কিন্তু গাড়ি না কেনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে সেই টাকা। অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বছর খানিক পরে সেই টাকা ফেরত দেয় মাসুদুল ইসলাম। চাকরি জীবনে মালিক হয়েছে শত কোটি টাকার। চট্টগ্রাম হালিশহরের ব্লক এল, লেইন -১, রোড -১, বাড়ি নং-২২, দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। চউক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাকলিয়ার কম্পোলেক আবাসিক প্রকল্পে আছে দুটো প্লট। ইতিমধ্যে একটি প্লটে ভবন নির্মাণ শুরু করেছে। একই এলাকায় আছে বৃহৎ একটি ডেইরি ফার্ম। বিনিয়োগ করে রেখেছে চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জে নামে বেনামে শত কোটি শেয়ার। এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মাসুদুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দেয়া কিন্তু তিনি ফোন ধরেনি, পাঠানো হয় ক্ষুদে বার্তা, এতেও তিনি সাড়া দেয়নি।




ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর সময় সৃষ্ট ঘর্ষণ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। পুলিশ জানায়, কাট্টানারপত্তি এলাকার ওই কারখানায় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তখনই আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার অন্তত চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। শব্দটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে শিবকাশী, সাত্তুর ও বিরুধুনগরসহ আশপাশের এলাকা থেকে দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কারখানাটি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি




লঞ্চের ভাড়াও বাড়াতে চান মালিকরা, বিআইডব্লিউটিএ-কে চিঠি

ডেস্ক নিউজঃ দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নৌপরিবহন খাতেও পড়েছে। এ অবস্থায় লঞ্চ মালিকরা যাত্রীভাড়া সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) লঞ্চ মালিক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল এ প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, প্রপেলার, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রংসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দামও বেড়েছে, যা মোট পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নৌপথে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি। ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৩ টাকা ৩৮ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। এছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে অনেক যাত্রী নৌপথ ছেড়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় লঞ্চমালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় ভাড়া সমন্বয় না করলে নৌপরিবহন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ১৮ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যা ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।