ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, শিগগিরই ইন্টারনেট চালুর আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তীব্র অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে একাধিক ‘সহিংস দাঙ্গায়’ বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহতের ঘটনায় রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। নিহত ইরানিদের স্মরণে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা শোক পালন করছে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আন্দোলনের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের স্মরণেই এই জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতি দেখেছে যে, কীভাবে অপরাধীরা দায়েশ (আইএসআইএল বা আইএসআইএস)-এর মতো বর্বর সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষ, বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে অনেকেই শহীদ হয়েছেন।

এদিকে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করতে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও চালু করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভে আরও উসকানি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরাগচি।

এদিকে, চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবেদে সোমবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত, তবে দাঙ্গাবাজদের প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না।




হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো পলককে

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন এলাকায় মো. দুর্জয় আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

বাড্ডা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মামলার বাদী মো. দুর্জয় আহম্মেদ (২৮) কোটা আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে বাড্ডা থানাধীন মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোষ্ট অফিস গলির মাথায় রাস্তার উপর অবস্থানকালে  আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় তাদের অনুসারিদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য এলোপাতাড়ি গুলি করলে বাদীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মাথায় পিছনে আঘাত লেগে গুরুত্বর আঘাত প্রাপ্ত হয়। ওই সময়ে আসামিরা বাদীকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পথচারী লোকজনের সহায়তায় বাদী এ এম জেড হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন দুর্জয় আহম্মেদ।




সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সন্ধ্যায় ঢাকায় আস‌ছেন।

সোমবার (১২ জানুয়া‌রি) কূট‌নৈ‌তিক সূত্রে জানা গেছে বিমানবন্দ‌রে নতুন রাষ্ট্রদূত‌কে স্বাগত জানা‌বেন মা‌র্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের কর্মকর্তারা।

কূট‌নৈ‌তিক সূত্রে আরও জানা গেছে, চল‌তি সপ্তা‌হেই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। আগামী দুই দিন পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে প‌রিচয়পত্র পে‌শের প্রস্তু‌তি নে‌বেন তিনি।

এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়া‌রি) রাষ্ট্রপ‌তি মো. সাহাবু‌দ্দি‌নের কা‌ছে প‌রিচয়পত্র পেশ কর‌বেন।

৯ জানুয়া‌রি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান তাকে। এরপর ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ব‌লেন, বাংলা‌দে‌শের সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত।

ডোনাল্ড ট্রা‌ম্প প্রশাস‌নের ম‌নোনী‌তি রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকায় সবশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন।




ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সাথে জাতীয় পার্টির চেয়ারমান জনাব জিএম কাদেরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এসএম বদরুল আলমঃ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সাথে জাতীয় পার্টির চেয়ারমান জনাব জিএম কাদেরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ।

গতকাল রবিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর মিটিং হলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সাথে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় হয়।

সে সময় জিএম কাদেরের সাথে ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব) মোঃ মাহফুজুর রহমান। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্তা লায়েস ডেপুটি চিফ অবজারভার এবং মার্সল ন্যাগি, পলিটিক্যাল এনালিষ্ট।




খুলনা গণপূর্তে সাত বছরে গড়ে ওঠা নীরব দুর্নীতির বলয়: উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত জোনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র—এমনই অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রকৌশলী (এস্টিমেটর) মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যবহার করে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায়, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সাধারণত তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু মো: মিজানুর রহমান ব্যতিক্রমীভাবে টানা সাত বছর ধরে খুলনা গণপূর্ত জোনেই বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ও বিশেষ সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি বারবার বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ এগোনো কার্যত অসম্ভব।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান, মিজানুর রহমানের কক্ষে সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের ঢুকতেই দেওয়া হয় না। দেখা করতে চাইলে দুর্ব্যবহার করা হয়, ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এমনকি অফিসের ভেতরেও তার কক্ষকে ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে দেখা হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার আচরণে চরম বিরক্ত ও ভীত বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বালাই নেই—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা সুবিধা পায়। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নানা অজুহাতে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা বড় অঙ্কের কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিল আটকে রাখা হয় কিংবা কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ হলেও কোনো যাচাই ছাড়াই পূর্ণ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের অবকাঠামো জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের মানের সঙ্গে অনুমোদিত বিলের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগিয়েছেন। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের কথাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ বারবার ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তাহলে এতদিন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে—খুলনা গণপূর্তের এই দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র ভেঙে দিতে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে মো: মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এখন প্রশ্ন একটাই—খুলনা গণপূর্তের এই নীরব দুর্নীতির দেয়াল কি আরও কিছুদিন অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়ে টিকে থাকবে, নাকি সত্যিই এবার শুরু হবে জবাবদিহির কঠোর অধ্যায়?




গণপূর্তে সমীরণ মিস্ত্রী বিতর্ক: পরকীয়া অভিযোগ থেকে সংসদ ভবনে শতকোটি টাকার দুর্নীতির ছায়া

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর নাম ঘিরে। ব্যক্তিগত জীবনের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের মধ্য দিয়েই মূলত আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। কিন্তু অনুসন্ধানে সামনে আসছে আরও গুরুতর বিষয়—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে সমীরণ মিস্ত্রীর সম্পর্ক ছিল শুধু পেশাগত নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একই বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করা, একসঙ্গে চলাফেরা এবং এমনকি ভারত ভ্রমণের ঘটনাও দপ্তরের ভেতরে আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়, যা দপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদ ভবনের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগে তার দায়িত্বকালকে ঘিরে। ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। এই সময়েই তাকে ঘিরে ওঠে ভয়ংকর দুর্নীতির অভিযোগ। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে কার্যত একজন অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এবং তাকে আড়ালে “টাকাখেকো ইঞ্জিন” বলেও ডাকা হতো।

অনুসন্ধানে যেটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, সেটি হলো তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবনের ভেতরে ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো আলাদা দরপত্র দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে এগুলো ছিল উন্নয়ন প্রকল্প, কিন্তু বাস্তবে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন ও কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল সমীরণ মিস্ত্রীর হাতেই।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে পুরো অঙ্কে। কোথাও পুরোনো যন্ত্রাংশ দেখিয়ে নতুন কেনাকাটা, কোথাও অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের নামে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত অনুপস্থিত ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এতসব অভিযোগের পরও সমীরণ মিস্ত্রী এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে ই/এম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকেও সেখানে বদলি করা হয়। এই একসঙ্গে বদলির বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল?

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকেই। এত বড় পরিসরের দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির আরেকটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, জানালেন ডিজি

ডেস্ক নিউজঃ প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী।

তাদের দাবি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুতই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা হয়েছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে। এটি প্রশ্নফাঁস না। এই নকলের দায়ে ২০৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, রবিবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। এ সময় তারা নানান স্লোগানে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে জানিয়ে বাতিলের দাবি জানান।




বন্ধ করা যাচ্ছে না চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আতঙ্কে যাত্রীরা

ডেস্ক নিউজঃ ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা থামছেই না, গত এক বছরে এ ধরনের ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন; সম্প্রতি (গত ৭ জানুয়ারি) কুমিল্লায় সুবর্ণ এক্সপ্রেসে পাথর লেগে চার যাত্রী আহত হয়েছেন, যা এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে এই ঘটনাগুলো প্রায়ই ঘটে, যেখানে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়, ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। অন্য যে কোনো গণপরিবহনের তুলনায় নিরাপদ হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের পছন্দ ট্রেনে ভ্রমণ। কিন্তু ট্রেনের যাত্রীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আচমকা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ করলেও সহসাই রোধ করা যাচ্ছে না ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা।

রেল সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২ হাজার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ফলে দরজা জানালা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথরের আঘাতে যাত্রীদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে প্রীতি দাশ নামের এক প্রকৌশলী নিহত হওয়ার পর, এ নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। নিহত হয় রেলেরই এক (টিটি) পরিদর্শক। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস কুমিল্লার গোমতী ব্রিজ এলাকায় আসলে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙে চার যাত্রী আহত হয়।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যাত্রীদের মধ্যে জানতে চাইলে নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। মাঝে মধ্যেই ছুটিতে বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়ায় বেশির ভাগ সময়ই যাওয়া-আসা করা হয় ট্রেনেই। তবে বিভিন্ন সময় দেখি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় অনেক যাত্রী আহত-নিহত হন। এসব ঘটনা আমাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করছে।

এদিকে রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হলে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তাছাড়া পাথর নিক্ষেপে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রেল সূত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯২৯ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার। সারা দেশে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৩২টি এবং সর্বমোট স্টেশন রয়েছে ৪৬০টি। রেলের দুই বিভাগের ২০ জেলার মধ্যে ৭০ থেকে ৭২টি স্থানকে পাথর নিক্ষেপের স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থান থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনাগুলো ঘটছে।

রেল পুলিশের মাঠে কাজ করা এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সাধারণত নিরিবিলি এলাকাগুলোতে হয়ে থাকে। দেখা গেছে রেললাইনের আশপাশে যেসব বাড়ি ঘর আছে সেখান থেকে কেউ একজন রেললাইনের পাথর নিয়ে নিক্ষেপ করে দিল। অনেক সময় দুষ্টুমির ছলে অনেকে এ কাজ করে থাকে। একটা ট্রেন ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছে ঐ সময় কেউ একজন পাথর নিক্ষেপ করলে তাকে আর ধরার মতো নজরদারি থাকে না।

পাথর নিক্ষেপের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে রেল বিভাগ জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ট্রেন চালুর পর থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশেও এই অপকর্মটি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী, যাত্রীও আহত হচ্ছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পাথর নিক্ষেপ দেখার দায়িত্ব আমাদের আরএনবি, রেল নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশের। লিফলেট দিয়ে এবং পাথর নিক্ষেপের স্পট চিহ্নিত করে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করে ঐ সব এলাকায় দেখানো হচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তবে প্রচার-প্রচারণা করার কারণে আগে থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে এখন কিছু মাদকাসক্ত আছে যারা এই কাজ করে থাকে। আগে পাথর নিক্ষেপ প্রতিদিনই ঘটতো কোনো না কোনো ট্রেনে। তবে বর্তমানে এটি কিছুটা কমেছে।




নির্বাচনের পর তিন কাজে মনোযোগ দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্চে জাপান সফর

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর তিনি কী করবেন—এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিণী আকিয়ে আবের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী পরিকল্পনার কথা জানান ড. ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বৈঠকে আকিয়ে আবে ড. ইউনূসের কাছে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, দায়িত্ব ছাড়ার পর মূলত তিনটি বিষয়ে কাজ করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার কাজের প্রধান লক্ষ্য হবে—

প্রথমত, ডিজিটাল হেলথকেয়ার ডেভেলপমেন্টে কাজ করা। এর মাধ্যমে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবার খোঁজখবর রাখতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

দ্বিতীয়ত, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। এ ক্ষেত্রে যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।

তৃতীয়ত, ‘থ্রি জিরো’ ধারণা নিয়ে যে কাজ তিনি দীর্ঘদিন ধরে করছেন, তা অব্যাহত রাখবেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, আততায়ীর গুলিতে নিহত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, নির্বাচনের পর আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে ওশিয়ান রিসার্চ নিয়ে গবেষণা করে। সফরকালে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করবেন।




গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগে ঘুরপাক খাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের নাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২–এ দায়িত্ব পালনকালে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহর মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের একাধিক কাজ পাইয়ে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙে কাজ দেওয়া হলেও অনেক প্রকল্প শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব কাজের আইডি নম্বর হিসেবে উঠে এসেছে 997828, 997827, 997826, 997825, 995647, 994880, 994647, 994646, 994817 ও 994818। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প তদন্ত হলে ‘ওটিএম কেলেঙ্কারি’র মতো বড় অনিয়ম সামনে আসতে পারে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশক ধরে টেন্ডার বাণিজ্য ও বদলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। ওই দরপত্রগুলোর আইডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 1056148, 1057945, 1056137, 1056138, 1056145, 1057947, 1057196, 1056073, 1057101 ও 1018075।

এছাড়াও আরবরিকালচার বিভাগে ভুয়া ফুল ও গাছ রোপণের বিল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং বানোয়াট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তার অনুসারী কিছু কর্মকর্তা এসব ভুয়া ভাউচার প্রস্তুত ও বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।

সূত্র আরও দাবি করছে, ঢাকার এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কিংবা ঢাকার বাইরে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে মনিরুল ইসলাম একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। বদলি হলেও নানা কৌশলে তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি বড় সিন্ডিকেট প্রকাশ পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি বা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।