সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি ইসরায়েলের, বাংলাদেশের নিন্দা

ডেস্ক নিউজঃ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সম্মিলিত সিদ্ধান্তের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইসরায়েল কর্তৃক তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-এর স্বীকৃতি এবং এর ফলে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য এই জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল।

অধিবেশনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে ওআইসির যে কোনো দৃঢ় সংকল্পের সাথে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ একাত্ম।’

তিনি ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে ইসরায়েল কর্তৃক তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-এর স্বীকৃতির বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ফেডারেল রিপাবলিক অব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি ওআইসির অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার অনুরোধ করেন।

তৌহিদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অবৈধ আলোচনা বা চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। একতরফা সিদ্ধান্ত বা জবরদস্তির পরিবর্তে ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিকতাবাদকে জয়ী হতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বিশেষ অধিবেশনের আগে সকালে একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের (প্রস্তুতিমূলক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওআইসির বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নেন। ওই সভায় ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং ওআইসির মূল লক্ষ্য হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুটির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




আবারও বাড়তে পারে শীতের দাপট

আবহাওয়া ডেস্কঃ কনকনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও ৮ ডিগ্রির ঘরে রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার দাপট অব্যাহত আছে। এর মধ্যেই নতুন করে শীত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী দু’দিনও দেশের কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের এমন দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, রোববার ও সোমবার (১১-১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই সময়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে রোববার ও সোমবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে প্রথম দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও পরদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বুধ ও বৃহস্পতিবার (১৪–১৫ জানুয়ারি) দিনের তাপমাত্রা আরও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব দিনে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং কুয়াশার প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।




যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেই। সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন, দ্বীপটির বাসিন্দারা বা ডেনমার্ক বিষয়টি পছন্দ করুক বা না করুক, ওয়াশিংটন সেখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।  

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, রাশিয়া বা চীনকে তিনি প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চান না। এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প ‘সহজ উপায়ে’ বিষয়টি মিটমাট করতে পছন্দ করলেও প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’ বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার বদলে কেন পুরোপুরি মালিকানা নিতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন যে, কোনো জায়গাকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে তার মালিক হওয়া প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জায়গায় সেই পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে কথা না বললেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই দ্বীপটি কব্জায় নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এমনকি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই উন্মুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অর্জনকেই তিনি এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।

গ্রিনল্যান্ডের এই সংকটের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের ফলে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প ‘মালিকানা’র দাবিতে অনড়।

খনিজ সম্পদে ভরপুর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা এখন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ট্রাম্পের ‘সহজ বা কঠিন’ উপায়ের যে কোনো একটির প্রয়োগ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব শান্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: তাস




ক্ষমতার আড়ালে গণপূর্তে ভয়ংকর অনিয়ম: কুষ্টিয়ায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প মানেই এখন অনেকের কাছে অনিয়ম আর দুর্নীতির আশঙ্কা। বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রশ্ন এবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে। এখানকার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আড়ালে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত সরকারি বেতনে চাকরি করেও জাহিদুল ইসলাম খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবনের মালিক হন। কীভাবে একজন সরকারি প্রকৌশলীর পক্ষে এত সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, প্রশাসনের ভেতরেও নীরবে আলোচিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রকল্পে অনিয়ম ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে একটি টেন্ডার সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়। এই সিন্ডিকেটে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের নাম বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রভাবেই পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং এতে সরকারকে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

দরপত্রের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ ও সিসিইউ ভবনের লিফটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়মিতভাবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে দরপত্র নিষ্পত্তি কয়েক মাস ঝুলিয়ে রাখা হতো। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ বা কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না। এই সুযোগে সুপারস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বেশি দামে কাজ দেওয়া হতো।

একই ধরনের অনিয়ম সড়ক, ড্রেন, পুকুর সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও হয়েছে বলে অভিযোগ। মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পায়নি, অথচ গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েটসের মতো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়—যাদের হাতে তখনই প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান ছিল। এতে কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর একটি হলো—কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের একটি পুরোনো সরকারি বাসভবন ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর পুরোনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবনে একই জায়গায় বারবার ‘মেরামতের’ নামে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের জুন মাসেই একাধিকবার কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডিসি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল, সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট ও ডিসি অফিস এলাকায় একই অর্থবছরে বারবার টেন্ডার ডেকে কাজ দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ওভারল্যাপিং প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এত বড় ও গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন—এই নীরবতা কি কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাব কাজ করছে?

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুশাসন ও স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে না—এমন আশঙ্কাই এখন বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছে।




বাংলাদেশে প্রথমবার ‘ড্যান্সিং অরোরা’ডিজাইনে অপো রেনো ১৫ সিরিজ ফাইভজি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কখনো কখনো প্রকৃতি শব্দের দরজা বন্ধ রেখে, কথা বলে আলোর ভাষায়। আকাশ তখন আর আকাশ থাকে না—হয়ে উঠে এক জীবন্ত সত্তা, নড়ে ওঠে, শ্বাস নেয়, আর মেতে ওঠে অনিন্দ্য সুন্দর নৃত্যে। সেই মোহনীয় অভিজ্ঞতা এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে উপভোগ করতে যাচ্ছে প্রযুক্তিপ্রেমীরা। ইন্ডাস্ট্রি-লিডিং ড্যান্সিং অরোরা ডিজাইনে শিগগিরই উন্মোচন হতে যাচ্ছে অপো রেনো ১৫ সিরিজ ফাইভজি।
অরোরা সবসময়ই স্বপ্নদর্শীদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। যারা দূরযাত্রায় বিশ্বাস রাখে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে জানে, তাদের জন্যই ধরা দেয় এই জাদুকরী আলো। ক্ষণস্থায়ী হলেও অবিস্মরণীয়, উজ্জ্বল হলেও কোমল—অরোরা মানুষের ভেতরের সম্ভাবনারই প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য আলো—স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং জীবনীশক্তির মিলন, যা সঠিক মুহূর্তে জেগে ওঠে। যখন এই অভ্যন্তরীণ আলো জাগ্রত হয়, মানুষ বিকশিত হয়, সীমাবদ্ধতা দূর হয় এবং অগ্রগতি তার ছন্দ খুঁজে পায়।
এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই অপো নিয়ে এসেছে এক নতুন ডিজাইন দর্শন, যা শুধু দেখার জন্য নয়—অনুভব করার জন্য। ড্যান্সিং অরোরা ডিজাইন গতিশীলতা, রূপান্তর ও অন্তর্নিহিত দীপ্তিকে তুলে ধরে। এটি এমন এক নকশা, যা জীবন্ত, পরিবর্তনশীল এবং ব্যবহারকারীর সঙ্গে সাড়া দেয়—ঠিক মানুষের মতোই।
এই ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হলো অপোর অরোরা ডিজাইন। এতে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও আলাদা করে চোখে পড়ে না, বরং শৈল্পিকতায় মিশে থাকে। ইন্ড্রাস্ট্রিতে এই প্রথমবার অরোরার মনোমুগ্ধকর আলোকচ্ছটার এক টেক্সচার ফোনের পেছনের কভারকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। আগে যা ছিল নিশ্চুপ ক্লান্তিকর, তা যেন এখন কথা বলে চোখে চোখ রেখে। অনন্য নির্ভুলতার সঙ্গে কোটি কোটি আল্ট্রা হাই-ডেফিনিশন অপ্পো গ্লো প্যাটার্ন তৈরি করা হয়েছে কভারে। এসব প্যাটার্নের অগণিত সূক্ষ্ম রেখা আর আলোর ছাপ মিলিয়ে তৈরি হয় এক ধরনের গভীরতা। হাত বুলালেই মনে হয় ভেতরে আরেকটা আকাশ লুকিয়ে আছে।
আলোর ছোঁয়ায় রঙেরা যেন জেগে ওঠে বয়ে চলা নীরব স্রোতের মতো, ঢেউ তুলে ধীরে ধীরে রূপ বদলায়। মনে হয়, আকাশের বুকে নেচে ওঠা অরোরার এক ক্ষণিক নৃত্য— মাঝপথে থমকে থাকে সময়ের ফ্রেমে বন্দী হয়ে।
হাতে ফোন নড়লেই আলো-ছায়ার খেলা বদলে যায়। কোণের সামান্য পরিবর্তনেই ফুটে ওঠে ভিন্ন ভিন্ন রূপ—কখনও শান্ত ও স্নিগ্ধ, কখনও সাহসী ও দীপ্তিমান। মানুষের আবেগের মতোই এটি কখনও স্থির থাকে না। প্রতিটি মুহূর্ত আলাদা, আর সেই পরিবর্তনশীলতাই এর শক্তি—ব্যক্তিত্ব ও আত্মপ্রকাশের প্রতিফলন।
এই আকাশছোঁয়া গল্প আরও বিস্তৃত হয়েছে ইন্ডাস্ট্রি-পাইওনিয়ারিং ডাইনামিক হলো ক্যামেরা ডেকো ডিজাইনে। প্রথমবারের মতো ইন্টিগ্রেটেড কোল্ড-কার্ভড গ্লাসের ডেকোরেটিভ ফিল্মে ব্যবহৃত হয়েছে মোজাইক ধাচের আদলে। ভেতরে থাকা ডিপ স্পার্কল লেন্স টেক্সচার মোজাইককে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, আর প্রান্তে খোদাই করা বর্গাকার রিং আলো প্রতিফলিত করে তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন গভীরতা।
যা একসময় কেবল কার্যকরী অংশ ছিল, তা এখন শিল্পে রূপ নিয়েছে। ক্যামেরা মডিউল যেন এক নক্ষত্রমালা—রাতের আকাশে অরোরার চারপাশে ঘুরে বেড়ানো আলো। এটি আর নিঃশব্দে কেন্দ্রে বসে থাকে না; বরং প্রবাহিত হয়, দীপ্ত হয় এবং আধুনিক জীবনের ছন্দের সঙ্গে তাল মেলায়।
সব মিলিয়ে এটি শুধু নতুন একটি স্মার্টফোন ডিজাইন নয়—এটি এক আবেগী সংযোগ। আকাশের অরোরা মনে করিয়ে দেয়, দীর্ঘ যাত্রার পরই সৌন্দর্য ধরা দেয়। আর ভেতরের অরোরা মনে করিয়ে দেয়, সেই যাত্রার অর্থ কী। যখন অন্তর্গত আলো ও গতি একত্র হয়, তখনই জন্ম নেয় সৃজনশীলতা; বিশ্বাসের সঙ্গে জীবনীশক্তি মিললে অগ্রগতি নিজেই এগিয়ে আসে।
ইন্ডাস্ট্রি-ফার্স্ট ড্যান্সিং অরোরা ডিজাইন নিয়ে অপো রেনো ১৫ সিরিজ ফাইভজি যখন বাংলাদেশে আসতে চলেছে, তখন এটি শুধু নতুন করে দেখার আহ্বান জানায় না—বাইরের জগৎ ও ভেতরের আলো—দুটোকেই নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ এনে দেয়। নীরবে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে দীপ্তি এগিয়ে চলে—তারই নাম অপো রেনো ১৫ সিরিজ ফাইভজি।



আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা জেলা সাভার আশুলিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ সদস্যের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার পুলিশ সদস্য হলেন- আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে এসআই মনিরুল ইসলাম আশুলিয়ার বাংলাবাজার এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদার কে গ্রেফতার করতে গেলে, আশুলিয়া থানার এস আই মনিরুল ইসলাম উপর হামলা ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসাপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।




আশুলিয়ায় শ্রমিক কলোনীতে অগ্নিকান্ড ; ১৩ কক্ষ ভস্মিভুত

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোহাম্মদ বশির উদ্দিন আশুলিয়া (ঢাকা) : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দোকান ও শ্রমিক কলোনীর ১৩ কক্ষ ভস্মিভুত হয়েছে। এসময় কক্ষে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। স্থানীয় জনতা ও ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি শহীদনগর এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন কলোনীতে আগুনের এ ঘটনা ঘটে।
ডিইপিজেড ফায়ারসার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী জানান, সন্ধ্যায় ওই শ্রমিক কলোনীর একটি মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন অন্যান্য কক্ষে এবং পাশের দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাজীপুর সিটির সারাবো থেকে দুইটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসলেও দুইটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। আধা ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে জিরানী সড়কের মাথায় অটোরিকশার জ্যাম থাকায় ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে। এতে সময় বেশি লেগেছে এবং ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়েছে।
ফায়ারসার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরো জানান, শ্রমিক কলোনী ও পাশের দোকান মিলে ১৩ টি কক্ষ পুড়ে গেছে। কেউ কেউ কিছু মালামাল বের করতে পেরেছে এবং বাকীগুলো পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৫লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।



গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু শিক্ষার্থীর।

শামীমা নাসরিন লিপাঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অকালেই ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ, নিভে গেল একটি সম্ভাবনাময় জীবনের সব স্বপ্ন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার সফিপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত সাফিয়াতুল উম্মাহ হিফয মাদ্রাসায় এই করুণ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আলিফ ইসলাম। তিনি ওই মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় তানহা হেলথ কেয়ার নেওয়া হয়। তবে সেখানে ভর্তি না নিয়ে তাকে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলিফ ইসলাম কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কৌচাকুড়ি গ্রামের মো. সহিদ সাহামের ছেলে। সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আহাজারি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা প্রশাসনের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, “সকালে আলিফ ছাদে জামা-কাপড় আনতে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় অসাবধানতাবশত সে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।”
ঘটনার পরপরই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আলিফের পরিবারকে অবহিত করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী আলিফের অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।



তাঁতি দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা মোঃ সোলেমান শেখ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মোঃ সোলেমান শেখ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ারী থানার তাঁতি দলের সদস্য। যিনি বিগত আওয়ামী লীগ আমলে অগণিত হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনের সর্বোচ্চ সবকিছু হারিয়ে আবারো বিএনপির পতাকা তলে এসে সামনের সারিতে রাজনীতি করছেন।

তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত কান্না ভেঙে পড়েছেন। বলেছেন, “জাতি হারিয়েছে এক অমূল্য রত্ন আমরা হারিয়েছি আমাদের অভিভাবক, আমাদের মা গণতন্ত্রের মনষকন্যা আপসহীন দেশ ও নেত্রী। আমার প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছি না। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে আবারো বিএনপির হাল ধরেছেন দেশ নায়ক তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে দেশ যেমন এগিয়ে যাবে, আমরা যারা নিপীড়িত নির্যাতিত কর্মী রয়েছি আমরা একজন অভিভাবক পেয়েছি এবং আগামী দিনে দেশ গঠনে তারেক রহমান সাহেবের পাশে থেকে সর্বোচ্চ দিয়ে রাজনীতির মাঠে থাকবো। সকল দুঃখ বেদনা ভুলে গিয়ে সেই আশা প্রত্যাশায় বিএনপির একজন কর্মী হয়ে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে চাই। দল আমাকে কি দিল না দিল সেটা বড় কথা নয়, আমি আমি দলকে কি দিলাম দলের পাশে থাকলাম কিনা সেটা বড় কথা। শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আগামী রাজনীতিতে পথ চলব ইনশাআল্লাহ।”




এক যুগের বেশি সময় ধরে খুলনা গণপূর্তে একই ব্যক্তি: বদলি ঠেকাতে তদবীর, প্রকল্পে লুটপাট আর অদৃশ্য শক্তির দাপট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ একটি সরকারি দপ্তর নয়, বরং একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন খুলনাবাসীর মুখে মুখে। বদলির আদেশ এলেই তা বাতিল হয়ে যায়, আর সেই বাতিলের পেছনে কাজ করে রাজনৈতিক তদবীর, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অদৃশ্য ছায়া। এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, যিনি নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই দপ্তরে বহাল আছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন প্রকৌশলীর তিন বছর পরপর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও, মো. সাইফুল ইসলাম ২০১৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ ছাড়েননি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এবং খুলনা মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজনের নাম বারবার উঠে আসে তার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে।

এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাইফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের উপর নিয়মিত চাপ ও ভয়ভীতি তৈরি করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে টেন্ডার, বিল অনুমোদন এবং কাজের মাপজোখ—সবকিছুই তার ইচ্ছামতো চলত। ধীরে ধীরে পুরো বিভাগ কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের জন্য প্রতি বছর এডিপি, স্বাস্থ্যখাতের বিশেষ বরাদ্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালের অবস্থা করুণ। ভবনগুলো জরাজীর্ণ, ওয়াশরুম অচল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং পয়োনিষ্কাশনের অবস্থা ভয়াবহ। অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে নিয়মিত সংস্কার ও উন্নয়ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব চিত্র নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই কাজ বারবার নতুন করে দেখিয়ে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। নকশার বাইরে গিয়ে এস্টিমেট তৈরি, মেজারমেন্ট বুক না মেপেই বিল তৈরি এবং ভুয়া কাজ দেখিয়ে টাকা তোলা ছিল নিয়মিত চর্চা। এসব অনিয়মের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘কোভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্প’-এর আওতায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও ৫ শয্যার প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজে এসব অনিয়মের লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট অডিট টিম সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রায় ৪৪ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের তথ্য চিহ্নিত করে। অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এন বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারীও অভিযোগ করেছেন, নকশাবহির্ভূত এস্টিমেট নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাইফুল ইসলাম তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদার বাধ্য হয়ে কেবল যতটুকু দেখানো হয়েছে, ততটুকুই কাজ করেন।

বদলির আদেশ এলেই শুরু হতো তদবীরের খেলা। ২০২০ সালের নভেম্বরে তাকে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হলেও মাত্র দুই মাসের মধ্যেই শেখ সোহেল ও শেখ শাহজালাল সুজনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি আবার খুলনায় ফিরে আসেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র চার মাসে তিন দফা বদলি ও বাতিলের পেছনে তিনি ৩০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেট থেমে নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা ঠিকাদার শওকতকে সামনে রেখে এখন বিএনপি নেতা লাভু বিশ্বাসের আশ্রয়ে একই কায়দায় খুলনা গণপূর্ত বিভাগে প্রভাব বজায় রেখেছেন সাইফুল ইসলাম। ফলে রাজনৈতিক রং বদলালেও দুর্নীতির ধরন বদলায়নি।

এ অবস্থায় খুলনাবাসীর প্রশ্ন—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কীভাবে একজন বিতর্কিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এক যুগের বেশি সময় একই দপ্তরে বহাল থাকেন? কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থ এবং স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ কি তাহলে একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি?

খুলনাবাসী এখন জোরালোভাবে দাবি তুলছেন—গণপূর্ত উপদেষ্টা, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অবিলম্বে মো. সাইফুল ইসলাম ও তার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে খুলনা থেকে অপসারণ করা হোক। তা না হলে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ উন্নয়নের নয়, দুর্নীতির প্রতীক হিসেবেই ইতিহাসে পরিচিত হয়ে থাকবে।