খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ অনিয়মের অভিযোগে ঘন কুয়াশা: নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এমন একটি দপ্তর, যার ওপর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও উন্নয়ন কাজের বড় দায়িত্ব থাকে। কিন্তু এই দপ্তরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদার, দপ্তরের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো হঠাৎ করে ওঠেনি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো আরও জোরালো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কামরুল ইসলামের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেই তিনি একজন প্রভাবশালী কিন্তু বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে দপ্তরের ভেতর-বাইরে আলোচনা দীর্ঘদিনের।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সরকারি সম্পদ বিক্রির নিলাম নিয়ে। অভিযোগ আছে, খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর অধীনে থাকা সিএন্ডবি কলোনি ও জোড়া গেট এলাকার কয়েকটি সরকারি ভবন বিক্রির সময় নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্রয়বিধি পিপিআর-২০০৮ পুরোপুরি অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। এর ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

কেবল খুলনাতেই নয়, এর আগের কর্মস্থল গোপালগঞ্জের সময়কার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সেখানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরেও আসে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেই অভিযোগের সঠিক তদন্ত হয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়—এমন কথাও শোনা যায়।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগও কম নয়। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, মো. কামরুল ইসলাম আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘হিডেন টেন্ডার’ বা গোপনে দরপত্রের ব্যবস্থা করে নিজের পছন্দের একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে থাকা ঠিকাদাররা নিয়মিতভাবে কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের ভেতরে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া করে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুমোদন, দরপত্র ছাড়, টিইসি রিপোর্ট তৈরি কিংবা বিল পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার ফাইল আটকে রাখা হয়, অযথা জটিলতা তৈরি করা হয় এবং মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলেও দাবি করা হচ্ছে। আগে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় নিজেকে নতুন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলছে, তখন খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আরও বেড়েছে। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া সত্য বেরিয়ে আসবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগগুলো আদৌ তদন্তের আওতায় আসবে কিনা, নাকি আগের মতোই প্রভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে।




বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের শুক্রবারের জরুরি বৈঠকেও দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

পরে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।




২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮

আবহাওয়া ডেস্কঃ শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দেশের ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এভাবে শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে আরও অন্তত দুদিন। অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। এ সময় এর বিস্তৃতি কমবেশি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় গতকাল শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর পাশাপাশি চার জেলা– নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায়ও বয়ে গেছে শৈত্যপ্রবাহ।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব মিলিয়ে গতকাল ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকলে ওই এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এমন আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে।

নীলফামারীতে গতকাল সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। এদিন দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটার।

গত তিন দিনে মাত্র ঘণ্টাখানেক সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।




নির্বাচন করতে পারবেন তাসনিম জারা

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

আপিল শুনানিতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হলো।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে কমিশন এই রায় দেয়। এর মাধ্যমে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলে সফল হন উভয় প্রার্থী।

শনিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সব সদস্য এ শুনানি গ্রহণ করছেন।

ইসি সূত্র জানায়, শুনানির প্রথম দিনেই ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই তাসনিম জারা ও হামিদুর রহমান আযাদের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় এবং তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আপিল শুনানি চলবে। সূচি অনুযায়ী—

১১ জানুয়ারি (রোববার): ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল
১২ জানুয়ারি (সোমবার): ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার): ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিল

অবশিষ্ট আপিলগুলোর শুনানির তারিখ পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। চলমান এই শুনানির মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিনে আরও অনেক প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।




নির্বাচন বানচালে সীমান্তের ওপারে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: আদিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজঃ একটি মহল দেশের ভেতরে ও সীমান্তের ওপার থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প এবং গৃহায়ন, গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার, পল্লী­উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের জুলাই ৩৬ চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোট নিয়ে প্রচারণার ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন গণভোটের প্রচারণায় ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই এর কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি সুনামগঞ্জ বাফার গুদাম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান, বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন এবং গণপূর্ত বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম।




যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, শুল্ক কমানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

ডেস্ক নিউজঃ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শুল্কনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও তার পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানান, অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (reciprocal trade agreement) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড. খলিলুর রহমান বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন। অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্কিন কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা বাতিলের বিষয়ে ড. রহমানের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্রুত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করতে এখনো অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত পোষণ করে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সম্প্রতি বাংলাদেশকে মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ কাঠামোর আওতায় আনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করতে ইউএসটিআরের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) থেকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এ ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, ড. খলিলুর রহমান সফরের পরবর্তী ধাপে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন।




বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ইরানের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়েলের দরপতনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশটির ছোট ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আন্দোলনের ১২তম দিনে বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরের বিক্রেতারাও দোকান বন্ধ করে এতে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, চলমান বিক্ষোভের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সমর্থনকে ‘হস্তক্ষেপবাদী এবং প্রতারণামূলক’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতি থেকে নেওয়া হয়নি। বরং সর্বোচ্চ চাপ, হুমকি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতির সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ। যেটির লক্ষ্য সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া এবং দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যা করছে তা কেবল অর্থনৈতিক যুদ্ধ নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মিডিয়া প্রচারণা, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সহিংসতার প্ররোচনা।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি পারসিয়ান স্বাধীনভাবে কমপক্ষে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি পারসিয়ানকে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো ‘ইরানি জনগণের ক্ষোভকে প্রতিফলিত করে’, কারণ দেশটির সরকার জনগণকে উন্নত জীবন যাপন করতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।




পে-স্কেল ও গ্রেড বিন্যাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে আজ

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কমিশনের সভাকক্ষে বসছে গুরুত্বপূর্ণ এক সভা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আজকের এই বৈঠক থেকেই আসতে পারে বেতন কাঠামো ও গ্রেড বিন্যাস সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড চালু থাকলেও নতুন পে-স্কেলে তা কমিয়ে আনার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের একাংশ মনে করছেন, গ্রেড কমিয়ে আনলে বেতন কাঠামো আরও আধুনিক ও সহজ হবে। তবে অন্য অংশ বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধির পক্ষে অনড়।

সূত্র আরও জানায়, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের দেয়া কয়েকশ প্রস্তাব চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির কাজ এখন অন্তিম মুহূর্তে। আজকের সভায় গ্রেড সংখ্যা ও নতুন বেতন কাঠামোর জটিলতাগুলো নিরসন হলেই সুপারিশনামা চূড়ান্ত রূপ পাবে।

আজকের সভা শেষে কেবল বেতন কাঠামোই নয়, সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচিও নির্ধারণ হতে পারে। কমিশন বলছে, তারা এমন একটি সুপারিশ তৈরি করতে চায় যা একদিকে যেমন বাস্তবসম্মত হবে, অন্যদিকে সাধারণ কর্মচারীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সে হিসাবে কমিশনের হাতে সময় রয়েছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।




সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈধ ও অবৈধ যে কোনো ধরনের অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩ (১২ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে সংশোধিত) অধ্যায়- ১৬এ-এর বিধি ৩ এর দফা ৪ অনুযায়ী ‘কোনো ব্যক্তি, তিনি বারের সদস্য বা আইনজীবী সহকারী বা আদালতের কর্মী বা অন্য কোন ব্যক্তি আদালত প্রাঙ্গণে বা আদালত ভবনের কোন অংশে কোন মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না’।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈধ ও অবৈধ যে কোনো প্রকার অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো। এছাড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ব্যতীত রাস্তা, ভবনের গেটের সামনে গাড়ি ও রিকশা পার্ক করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।



বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বসতঘর, যুবক নিহত

ডেস্ক নিউজঃ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি বসতঘর উড়ে গেছে। এ ঘটনায় সোহান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীর কান্দি গ্রামে এই বিস্ফোরণ ঘটে। নিহত সোহান একই এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে একটি ঘরের দেয়াল ও চালা উড়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি লন্ডভন্ড অবস্থায় দেখতে পান। ঘর থেকে কিছুটা দূরে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।