হাতিবান্ধার গোতামারীতে মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ: রংপুরে চিকিৎসাধীন
জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন মাদক চোরাকারবারিকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আহত যুবক হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে মোঃ রনি মিয়া (২২)। বর্তমানে রনি মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ দইখাওয়া বিওপির একটি টহলদল নিয়মিত সীমান্ত টহল চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পায়। পরে সীমান্ত পিলার নম্বর ৯০২-এর নিকটবর্তী এলাকায় গিয়ে কয়েকজন লোককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায় এবং গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ সময় বিজিবি আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বিজিবি জানায়, এর আগেও গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আহত হন রনি। ওই ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে গেলে প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে তার উপস্থিতি অস্বীকার করা হয়।
এ ঘটনায় বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। বিজিবির জানায়, আহত ব্যক্তি রনি ওই সীমান্ত এলাকায় মাদক বহন ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
কুড়িগ্রামে ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গাজীপুরে গ্রেফতার
চেক জালিয়াতির অভিযোগে বাহারছড়া থেকে আটক গণপূর্ত ঠিকাদার
বিশেষ প্রতিবেদকঃ চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে জেলা গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার জালাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া জালাল উদ্দীন বাহারছড়ার বাসিন্দা এবং সালেহ আহমদের ছেলে। তিনি গণপূর্ত ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলেও জানা গেছে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় দায়ের করা সিআর ৪৭১/২৫ নম্বর একটি মামলায় তিনি প্রধান আসামি। অভিযোগ রয়েছে, চেক প্রদান করে তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল বা অর্থ না রেখে প্রতারণামূলকভাবে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইন অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে আর্থিক জালিয়াতির একাধিক তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, অতীত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘুষ-দালালের জালে উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: দুদকের অভিযানেও থামেনি অনিয়ম
বিশেষ প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগ এখন আর নতুন নয়। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত, যেন প্রকাশ্য গোপন কথা। ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়া, দালাল ছাড়া ফাইল নড়াচড়া না করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি—সব মিলিয়ে অফিসটি এখন অনিয়মের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সেবা নিতে আসা মানুষদের অভিযোগ, অফিসটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি প্রবেশ কার্যত কঠিন করে রাখা হয়েছে। অফিসের সামনে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দালালের মাধ্যম ছাড়া ভেতরে ঢোকাই মুশকিল। ফলে সেবাপ্রার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন দালালনির্ভর ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে।
উখিয়া সদর এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব ফি পরিশোধ করার পরও তাকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়—কিছু টাকা ‘ম্যানেজ’ না করলে দলিল নামানো সম্ভব নয়। এমন অভিজ্ঞতা শুধু একজনের নয়, বহু মানুষের একই অভিযোগ।
স্থানীয় দলিল লেখক ও একাধিক সূত্রের মতে, অফিস সহকারী বেবী রাণী দে এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন। তার সঙ্গে মোহরার সৃদুল দাশ এবং কর্মচারী রবিউল্লাহ রবির নামও বারবার উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই তিনজনকে ঘিরেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা অফিসের ভেতরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
জমি নিবন্ধনের সময় সরকারি ফি’র বাইরে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগও গুরুতর। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জমির ঘোষিত মূল্যের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। অর্থাৎ এক কোটি টাকার জমি নিবন্ধনে দিতে হয় প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিরিক্ত। এই টাকা সরাসরি হাতে নেওয়া হয় না; দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করা হয়, যাতে লেনদেন আড়ালে থাকে।
গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবা দিতে গড়িমসি এবং অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুদকের অভিযানের খবর আগেই সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জেনে যান। সেদিন তিনি অস্বাভাবিকভাবে সকালে অফিসে উপস্থিত হন এবং অফিসে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
দুদকের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলসান আনোয়ার অভিযানের দিন জানান, ছদ্মবেশে গিয়ে দলিল নিবন্ধনের খরচ, পদ্ধতি এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে হয়রানি ও অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
তবে এত কিছুর পরও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই অভিযান কি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলমকে ঘিরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পতিত সরকার আমল থেকেই তিনি একই অফিসে বহাল রয়েছেন। একাধিকবার অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—যদি অফিসে অনিয়ম না থাকে, তাহলে বারবার এত অভিযোগ আসে কেন? আর অভিযোগ মিথ্যা হলে দুদক কেন অভিযান চালাল?
একজন প্রবীণ দলিল লেখকের ভাষায়, দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তা এক জায়গায় থাকলে সেখানে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই অনিয়ম একদিনে হয়নি, এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে।
ঘুষ আদায়ের পাশাপাশি আরও ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। জমির শ্রেণি পরিবর্তন, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন এবং এর মাধ্যমে সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব কাজে অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পৃক্ততার কথাও বলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, সরকার বদলালেও মাঠপর্যায়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনই যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
অভিযুক্ত অফিস সহকারী বেবী রাণী দে ও মোহরার সৃদুল দাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রবিউল্লাহ রবি জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিসে প্রবেশে কোনো বাধা নেই এবং সব কার্যক্রম সিসিটিভির আওতায়। তার দাবি, অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি পরিষ্কার—শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন প্রশাসনিক জবাবদিহি। তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চান।
নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না
ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে নিজেদের স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
শনাক্ত হওয়া শহীদেরা হলেন— শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহীদ মাহিন মিয়া (৩২), শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।
সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন এবং শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে— সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মুছে দেওয়া, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়বিচারের পথে এক সাহসী পদক্ষেপ। যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে পথ চেয়ে আছেন, তাদের জন্য এ কার্যক্রম আশার আলো— একদিন সত্য সামনে আসবেই।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, সিআইডির এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিআইডির ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।
সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ
ডেস্ক নিউজঃ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে তারা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নোটিশে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
নোটিশে বলা হয়, আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়াও সকল কোম্পানি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এর আগে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের হুমকি দেয় তারা। এরপর সন্ধ্যায় বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
রাত ১১টার দিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। দুপুর ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হবে। আর না হলে বিক্রি বন্ধ থাকবে।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি
আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের তুলনায় সামান্য বেশি। একই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকা জেলার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ— রংপুর বিভাগের সব জেলা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে—গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে মোট জেলা সংখ্যা ১৬। এর সঙ্গে আরও ৮ জেলা যুক্ত হওয়ায় মোট ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। সে দিন নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ছিল চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী— ৮.১°–১০° সেলসিয়াস: মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১°–৮° সেলসিয়াস: মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১°–৬° সেলসিয়াস: তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৪° সেলসিয়াসের নিচে: অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। নতুন করে কিছু জেলা যুক্ত হতে পারে, আবার কিছু জেলা শৈত্যপ্রবাহের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত কেটে যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এটি চলতে পারে। এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে।”
এলজিইডিতে সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ খাতের প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোনো কাজ না করেই প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বাচ্চু মিয়া। বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে, দপ্তরের ভেতরেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এলজিইডির রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এলজিইডি ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মঞ্জুর সাদেককে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া নিজের প্রভাব ব্যবহার করে এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে গ্রহণ করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একটি সংস্থায় মাত্র একটি তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স করতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়া তার আপন ভাই মো. শহিদুল ইসলাম (সুমন)-এর নামে দুটি আলাদা লাইসেন্স করান।
এর মধ্যে একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে “মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ”-এর নামে বিনা দরপত্রে অফিস ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দেখানো হয়। বাস্তবে কোনো কাজ না করেই সেখান থেকে ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, নিজের মেয়ে মোহনার নামে খোলা “মোহনা এন্টারপ্রাইজ”-এর মাধ্যমে আবাসিক ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দেখিয়ে আরও ৪৩ লাখ ৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাজগুলোর ক্ষেত্রেও বাস্তবে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।
এছাড়াও ছোট ছোট কোটেশনের মাধ্যমে বাকি অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসিক ভবনের বাসিন্দা ও এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবনগুলোতে কোনো দৃশ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি। অভিযোগ ওঠার পরই কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়।
এদিকে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান অনুসন্ধান নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং কে তাকে তদন্ত করবে তা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিষয়টিকে অনেকেই তদন্ত কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস হিসেবে দেখছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি কিংবা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এলজিইডির ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই তদন্ত শুধু একটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়; বরং এটি পুরো রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচনের একটি সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা যুক্ত হলো। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। এতে নতুন করে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এ তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ তিন ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।
এই জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিত নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভিসা বন্ড একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ, যার মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ‘ওভারস্টে’ কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি প্রথম চালু হয় গত আগস্টে, তখন সীমিত কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত ছিল।
ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি কোনো ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান—সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম চাইলে, তাহলে সেই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এই বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এসব নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে কার্যকর হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।
ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যা দিয়ে কোনো ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত—বিশেষ করে থাকার সময়সীমা—মেনে চলবেন বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও বেশির ভাগ দেশই ভিসার সময় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চায়, তবে ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছিল।