সরকারি গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়ল

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি যানবাহন কেনার মূল্যসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে নতুন নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকে যানবাহন ক্রয়ের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি ও নন-এসি) ও ট্রাকের বর্তমান দাম বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে এই মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৮ অক্টোবর অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রে জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকবে। তবে ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, যেসব সরকারি যানবাহন ১০ বছরের বেশি পুরোনো, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিস্থাপন করা যাবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন মূল্যসীমা মূলত ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাজারে সব ধরনের গাড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ, স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার জন্য প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত মূল্যসীমার মধ্যে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফি ও শুল্ক-কর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সব ধরনের যানবাহনের মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দফায় নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্দেশনায় আগের তালিকার বাইরে থাকা আরও কয়েকটি খাতে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য এসি মিনিবাস (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় নন-এসি বাস (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে মাইক্রোবাসের মূল্যসীমা ৫২ লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এবার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) মূল্যসীমা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এসব গাড়ি মূলত গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হয়। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৬৫ লাখ টাকা মূল্যসীমা বহাল রয়েছে।

এছাড়া সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের মূল্যসীমা ৩৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। যদিও ডাবল কেবিন পিকআপের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি। তবে গত ৬ মার্চ এই গাড়ির মূল্যসীমা ৫৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

৫ টনের ট্রাকের মূল্যসীমা ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা, ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে দুঃসংবাদ

আবহাওয়া ডেস্কঃ শীতের তীব্রতায় সারা দেশ কাঁপছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ১০ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশিত নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে থাকা জেলার মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। এ সময়ে দেশের রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।

সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বায়ু দূষণের কারণে বাতাসে বেড়েছে ভাসমান বস্তুকণা। এতে কাটছে না কুয়াশা। যে কারণে সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে কম। এতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি।

এদিকে তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।




স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে গণপূর্তে তোলপাড়: দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থ নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে নতুন করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে উঠে এসেছে শেরে বাংলা নগর বিভাগ–২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার (উন্নয়ন ও সমন্বয়) এ.এস.এম. সানাউল্লাহর নাম। পৃথক দুটি ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার, নিয়ম ভঙ্গ করে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া এবং কাজ শেষ না করেই বিল পরিশোধের অভিযোগ সামনে এসেছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি হাসপাতালের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের টয়লেট, ফ্লোর টাইলস, রং, ড্রেন, করিডোর আধুনিকায়ন ও বাহ্যিক সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে প্রাক্কলন অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সময় স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে কাগজে–কলমে কাজ শেষ দেখিয়ে ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। কাজ শেষ করার শেষ সময়সীমা ছিল ২৬ জুন ২০২৫, অথচ ওই সময়ের মধ্যেই কাজ অসম্পন্ন থাকা অবস্থায় অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এসব প্রকল্পে এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে মাত্র একজন বা দুজন ঠিকাদার অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঠিকাদাররা প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। পিপিআর অনুযায়ী দরপত্রে প্রতিযোগিতা না থাকলে তা বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করার কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম. সানাউল্লাহর বিরুদ্ধেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার (উন্নয়ন ও সমন্বয়) এ কর্মরত আছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন মাত্র ছয় মাসে বহু দরপত্রে নিয়ম পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়েছেন। এলটিএম হওয়ার কথা থাকলেও তা ওটিএম পদ্ধতিতে রূপান্তর করে কোটি টাকার কাজ বণ্টন করা হয়। কাজের অগ্রগতি না থাকলেও বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। পরবর্তীতে তার দ্বায়িত্ব হস্তান্তর হয় জহুরুল ইসলাম এর কাছে। কিন্তু তারা দুজনই তাদের দ্বায়িত্বের আড়ালে দুর্নীতিতে লিপ্ত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ.এস.এম. সানাউল্লাহ একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি বলয় তৈরি করেন, যেখানে কাজ পাওয়ার বিনিময়ে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। জুন মাসে অনুমোদিত কয়েকটি কাজ এখনো অসম্পন্ন হলেও নিয়ম ভেঙে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা যায়। কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কারণ তারা ওই বলয়ের বাইরে ছিলেন।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই কর্মকর্তা নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে, যদিও এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তদন্তের ফল এখনও প্রকাশ হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জহুরুল ইসলাম ও এ.এস.এম. সানাউল্লাহ উভয়েই অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেছেন, সব কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিল দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, বাস্তব কাজ ও কাগজের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, স্বাস্থ্য খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক খাতে এ ধরনের অনিয়ম জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।




বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াকে নিউটনের সূত্রের সঙ্গে তুলনা অর্থ উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে বাংলাদেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচার বন্ধ রাখা এবং ভারতে টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দুটি যথাযথ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এক্ষেত্রে সরকার নিউটনের সূত্রের মত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও এ ঘটনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘কোনো প্রভাব ফেলবে না’ বলে মনে করছেন অর্থ উপদেষ্টা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে কয়েক দফা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থ উপদেষ্টা, সে সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, ওরা হঠাৎ করে একজন প্লেয়ারকে বাদ দিল, এটা তো নরমাল সেন্সে ভালো না। একটা ভালো প্লেয়ার। এমন না যে দয়া দাক্ষিণ্য করে নিয়েছে তার দল, মুস্তাফিজ ওয়ান অফ দ্য বেস্ট প্লেয়ার।

বাংলাদেশ যে রেসপন্স দিছে সেটা কমপ্লিটলি রোবাস্ট এবং অ্যাপ্রোপ্রিয়েট বলেও জানান তিনি। তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে নিউটনের সূত্র দিয়ে দেখতে চান।

সালেহউদ্দিন বলেন, ‘এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে তার একটা রিঅ্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন। এইটাই বললাম।’




গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগ হলেও এই বিপুল সম্পদ আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে এ সংক্রান্ত কমিটি।

গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এই জরিপ চালানো হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণা উপাত্ত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটা ইমব্যালেন্সের (ভারসাম্যহীনতা) লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এটি হয়েছে।’ এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং স্বল্প গভীরতায়ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করলেও এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ (Sonar) ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী পদ্ধতি হওয়ায় বড় মাছ ধরা পড়লেও ক্ষুদ্র জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘সোনার ফিশিং’ নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

তবে গবেষণায় টুনা মাছের আধিক্য ও উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণে সরকার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির একটি বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্র গবেষণায় সক্ষমতা বাড়াবে। প্রধান উপদেষ্টা জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।




মহাখালী গণপূর্তে ঘুষ–সিন্ডিকেটের অভিযোগ, দুদকের নজরে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুল ইসলাম ডিউক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত প্রকৌশল অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির একটি শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুল ইসলাম ডিউক। ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়জুল ইসলাম ডিউক বহুদিন ধরে ক্ষমতাধর মহলের ছত্রছায়ায় থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, কাজ পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বিল ছাড় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও কমিশন আদায় করা হয়। অনেক ঠিকাদার জানিয়েছেন, কাজ পেতে হলে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়, নইলে ফাইলই নড়ে না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আগের সরকারের সময় থেকেই তিনি দল-ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদারকে নিয়মিত সুবিধা দিয়ে আসছেন। এসব ঠিকাদারকে ঘিরে একটি কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মেরামতের কাজ টেন্ডার ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে শুরু করানো হয় এবং পরে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ শেষ করা হয়। এসব কাজের বিপরীতে বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

চলতি অর্থবছরে এলটিএম পদ্ধতিতে প্রায় ৬০টির মতো সংস্কার কাজ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ওটিএম পদ্ধতি এড়িয়ে এলটিএম ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন দরপত্র ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাতের তথ্য সামনে এসেছে।

মহাখালী গণপূর্তের আওতায় হওয়া বিভিন্ন কাজের মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভবন, ব্রিজ বিল্ডিংসহ একাধিক প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, রড ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজের মানে তার কোনো ছাপ নেই বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। এমনকি কিছু অসমাপ্ত কাজের বিলও ঘুষের বিনিময়ে আগেই পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, ফয়জুল ইসলাম ডিউক একটি বিশেষ “ভিআইপি তালিকা” তৈরি করেছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কাজ পাচ্ছে। অনিক ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, এনএল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন এবং খান এন্টারপ্রাইজ—এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বড় বড় সরকারি কাজ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও “প্রক্সি টেন্ডার” পদ্ধতিতে দুর্নীতি চালানোর অভিযোগ রয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে দরপত্র জমা দিয়ে কৃত্রিম প্রতিযোগিতা তৈরি করেন। বাস্তবে সব কাজ একই সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়। এতে প্রকৃত ঠিকাদাররা বঞ্চিত হন এবং সরকারি অর্থ লুটপাটের পথ তৈরি হয়।

অফিস পরিচালনাতেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত অনুপস্থিতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রভাব খাটানোর কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এসডিই ওয়াহিদ বিন ফরহাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে যে, কাজ পেতে তার কাছেও নগদ অর্থ দিতে হয়।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। দুদক কমিশনার মিয়া মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তরগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং মহাখালী গণপূর্ত নিয়ে একটি তদন্ত দল কাজ করছে।

ফয়জুল ইসলাম ডিউকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে দুদকের একজন মহাপরিচালক জানিয়েছেন, অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামন চৌধুরী বলেছেন, কোনো প্রকৌশলী দুর্নীতিতে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ফয়জুল ইসলাম ডিউক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগ পুরোনো এবং তার সঙ্গে এসব অনিয়মের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।




নির্বাচনী বিধি উপেক্ষা করে এলজিইডিতে বদলি-বাণিজ্য, দুর্নীতির অভিযোগে শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকারি দপ্তরগুলোতে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন সেই নিয়ম মানতেই নারাজ। অভিযোগ উঠেছে, এলজিইডির রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বিচারে বদলি ও পদায়ন করে যাচ্ছেন। এ কাজে তাকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছেন খুলনা বিভাগের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এবং প্রকিউরমেন্ট শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ গোলাম ইয়াজদানী।

গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কাজী গোলাম মোস্তফা প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে একের পর এক বদলি ও পদায়নের আদেশ দিতে শুরু করেন। অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিল যে, নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো ধরনের বদলি বা ছুটির আদেশ দেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশনা এলজিইডিতে কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেওয়া একটি আধা-সরকারি পত্রে, যেখানে নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে—এমন যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। এরপরও এলজিইডিতে একের পর এক বদলি ও পদায়ন চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, কে বা কারা এসব সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দ শফিকুল ইসলামকে ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খুলনা বিভাগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি সেখানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। বরং তিনি প্রায় সারাক্ষণ প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার কক্ষে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে থাকেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ গোলাম ইয়াজদানী। এলজিইডির ভেতরে আলোচনা রয়েছে, এই দুই কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া প্রধান প্রকৌশলী কোনো নথিতে স্বাক্ষর করেন না।

এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে, বর্তমানে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কিংবা প্রশাসন শাখার মতো ক্ষমতাশালী পদগুলো পাচ্ছেন মূলত যাদের অর্থের জোর বেশি। এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী সমর্থিত প্রকৌশলীরা।

এমন অভিযোগও উঠেছে যে, নির্বাচনী আইন অমান্য করে এবং কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি ও বড় প্রকল্পের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও শোনা যাচ্ছে, যা এলজিইডির ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শীর্ষ দুই নেতার প্রভাব খাটিয়ে চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবিরকে আম্পান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং বগুড়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দীনকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের সময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটির সদস্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসেনকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। পরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ গোলাম ইয়াজদানীর আগ্রহে কাজী গোলাম মোস্তফা তাকে আবার সদর দপ্তরে ফিরিয়ে আনেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রকিউরমেন্ট শাখা নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। মোঃ গোলাম ইয়াজদানী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই শাখাটি দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকমতো উৎকোচ না দিলে টেন্ডার অনুমোদনে নানা ধরনের হয়রানি, রি-টেন্ডার বা রি-ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে কাজ আটকে দেওয়ার অভিযোগ করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৌশলীরা।

আরও অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন আওয়ামী ঘরানার সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত মোঃ গোলাম ইয়াজদানী বর্তমানে নিজেকে বিএনপি অনুসারী হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী (অর্থ) মোঃ জামাল হোসেনকে নিয়োগ ও পদায়ন শাখার দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক এই দায়িত্ব নিয়েছেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেছেন সৈয়দ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ গোলাম ইয়াজদানী।

মোঃ জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অর্থ শাখার দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং নিয়মিত উৎকোচ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে সন্তুষ্ট না করলে ফাইল আটকে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে হয়রানি এড়াতে নারী সহকর্মীরা পালাক্রমে তার জন্য বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসন শাখায় প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযোগ ও অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ এলজিইডির সুনাম আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




ইডেনের সামনে চাঁদাবাজির অভিযোগ: ঢাকা কলেজের ৪ ছাত্র গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজের চার জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। রাজধানীর সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লালবাগ এলাকায় ইডেন মহিলা কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই অপরাধে এর আগেও একবার তাদের আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ইডেন কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে চারজনকে চাঁদা আদায় করতে দেখে। এ সময় বাপ্পি নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই যুবকেরা তাকে মারধর করে আহত করেন। পরে চারজনকেই আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ঢাকা কলেজের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। ওই চার ছাত্র হলেন– মো. বাইজিদ, মাসুদ রানা, আবির হোসেন ও মো. আমজাদ। রাত ৯টা ১০ মিনিটে তাদের লালবাগ থানার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি একই অভিযোগে ইডেন কলেজের সামনে থেকে এই চারজনকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় ক্যাম্প কমান্ডার তাদের শিক্ষার্থী বিবেচনা করে মৌখিক সতর্কতার মাধ্যমে ছেড়ে দেন। তবে মাত্র এক দিন পরই তারা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় আটক চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।




আজ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে পারে দেশ

ডেস্ক নিউজঃ টানা ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতার সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন-প্রাণিকুল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রার পারদও নামছে ক্রমশ। গতকাল দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এক দিনের ব্যবধানে গতকাল তাপমাত্রা এক ডিগ্রি নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৪ এবং ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশা আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে গোটা দেশ। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা পাঁচ থেকে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার রাত থেকেই তাপমাত্রা ধাপে ধাপে হ্রাস পাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে অন্তত এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ‘গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন জেলা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। তার মতে, আজ মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ জেলায় দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা মিলবে না। অন্যদিকে, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোয় সকাল ১০টার পর ধীরে ধীরে সূর্যের আলো দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়—টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছি, তাড়াশ, বাঘাবাড়ি, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুমারখালির ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, এটি অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদনদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনো কখনো কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে, দেশের ১৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা, বেড়েছে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ ও পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি সমস্যা।




বরিশাল গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমকে ঘিরে আবারও অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও গণপূর্ত কার্যালয়ে স্বস্তি ফেরেনি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও মো. ফয়সাল আলম দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করেছেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিয়ে আসছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে মো. ফয়সাল আলম নৌকার ব্যাজ পরিধান করতেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কৌশলে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, এখন তিনি নিজেকে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপনের চেষ্টাও করছেন, যাতে ক্ষমতা ও প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে।

বরিশাল গণপূর্তে কাজ করা একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে বারবার কাজ পাচ্ছে। বিশেষ করে খান বিল্ডার্স ও খান ট্রেডার্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একচেটিয়াভাবে প্রকল্প পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তাদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ ঠিকাদার আব্দুর রহিম বলেন, ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালের মতো একই ধরণের অনিয়ম বরিশালেও চলছে। তার ভাষায়, নিয়ম মানা ঠিকাদাররা পিছিয়ে পড়ছেন, আর নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাজ পাচ্ছে। আরেক ঠিকাদার তসলিম মৃধা অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা এবং গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক।

একাধিক টেন্ডারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা সক্ষমতা নেই, তাদের দরপত্র প্রথমে বাতিল করা হলেও পরে যৌথ উদ্যোগ দেখিয়ে আবার কাজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঠিকাদারদের মতে, এটি টেন্ডারের শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে গণপূর্ত কার্যালয়ে বাকবিতণ্ডা হয় এবং প্রতিবাদী ঠিকাদারদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদার এটিএম আশরাফুল হক রিপন জানান, তিনি শুধু প্রশ্ন তুলেছেন—ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে টেন্ডারে অংশ নিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে হুমকি বা অপমান করা হয়নি। তবে মো. ফয়সাল আলমের দাবি, কয়েকজন ঠিকাদার তার অফিসে এসে তাকে হুমকি দিয়েছেন।

মো. ফয়সাল আলম ৩২তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা এবং ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময়ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন বাণিজ্য ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে জানা যায়, যদিও সেগুলোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরিশালে বদলির পরও ঠিকাদারদের অভিযোগ, অনিয়ম থামেনি। বরং নতুন জায়গায় এসে একই কৌশলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যেই ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের নবগঠিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন। এই পদ পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, বরিশাল গণপূর্তে কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যেতে হয়। এতে করে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। নিয়ম মেনে দরপত্র জমা দিয়েও তারা কাজ পাচ্ছেন না, যা স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ।

সংবাদ প্রকাশের আগে মো. ফয়সাল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না হলে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ম স্থানীয় ঠিকাদারদের আস্থা নষ্ট করছে এবং সরকারি প্রকল্পের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বরিশাল গণপূর্তে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।