বছরের শুরুতেই বাড়লো স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই দাম সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি ভালো মানের স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। পরে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দফায় দাম কমানো হলেও নতুন বছরের শুরুতেই তা আবার বাড়ানো হলো।

অন্যদিকে, রুপার দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় পৌনে ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রত্তিবেদকঃ দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে গেল ডিসেম্বর মাসেই ১ লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন করেছে। শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার। গত ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ভ্যাট সপ্তাহ পালন করেছে এনবিআর। এ ছাড়া ১০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়করের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ আদায় হয় ভ্যাট থেকে। গত বছর মোট রাজস্ব আদায়ের ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে আইন সংশোধন করে ৫০ লাখ টাকার বেশি টার্নওভার হলে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। আগে যা ছিল ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া সহজে ভ্যাট নিবন্ধন, সহজে অনলাইনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া এবং অটোমেটেড পদ্ধতিতে অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাট সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজবোধ্য ভ্যাট রিটার্ন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



মঠবাড়িয়ায় নবাগত ওসি’র সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের মতবিনিময় সভা

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মঠবাড়িয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ওসির কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী।তিনি নতুন ওসিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি থানা পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রম,আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও অপরাধ দমন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ সময় মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের আহবায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আবির হোসেন,মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি মনির হোসেন, সার্ক মানবাধিকার সংস্থার মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি নাজমুল আহসান কবির,দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি আব্দুস সালাম আজাদী,দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ও বরিশাল বেতারের সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম রুবেল,মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি মজিবুর রহমান, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধি হারুন অর রশীদ, মঠবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন হাওলাদার, মঠবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবকন্ঠের প্রতিনিধি হাফেজ মোঃ শাকিল হোসেন,মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য সচিব ও দৈনিক আজকের বার্তার প্রতিনিধি মোঃ শাহজাহান, মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপকূলের সংবাদ অনলাইন পোর্টালের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান,মঠবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি সোহেল আমিন,বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি এস এম আকাশ,বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি ফাহিমা আক্তার,সময়ের বার্তা পত্রিকার প্রতিনিধি রোজি আক্তার,দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি টুকু হোসেন প্রমুখ।



লালমনিরহাটে ০৩ আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ০৫ জনের মনোনয়ন বাতিল, অপেক্ষমাণ ২

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সামান্য ত্রুটির কারণে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আপাতত অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে এ তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে তিনটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সামান্য ত্রুটি থাকায় লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ফিরোজ কবির এবং লালমনিরহাট-১ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী শুভ আহমেদের মনোনয়নপত্র অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
শুনানিতে লালমনিরহাট-০১ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, তুরস্কপ্রবাসী শিহাব আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার দাখিলকৃত এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, ডাঃ আবু সামা এবং খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবুল কাসেমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাট-০২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির লালমনিরহাট-০১ আসনের প্রার্থী মশিউর রহমান রাঙ্গার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। লালমনিরহাট-০২ আসনে জনতার দলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল, লালমনিরহাট-০৩ আসনে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এবং জামায়েতে ইসলামীর এ্যাডঃ আবু তাহেরের মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি মনোনয়ন বাতিল এবং দুটি মনোনয়ন সামান্য ত্রুটির কারণে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করা হলে ওই দুটি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।



তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও টেন্ডার ঘিরে গণপূর্তের এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় উচ্ছেদের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্প প্লটের মালিকদের কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে নানা ত্রুটি ধরিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্লট দখল দেখিয়ে আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই জমি অন্য মালিকের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে।

তেজগাঁও গভর্নমেন্ট হকার্স মার্কেট এলাকাতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রায় একশ’টি অবৈধ দোকান বসিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, এই অবৈধ দোকান বসানোর পেছনে সরাসরি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলামের ভূমিকা রয়েছে এবং এখান থেকেই অন্তত দশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া এক বছরে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার দরপত্রে টেন্ডার ওপেনের আগেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দেখা যায়, দরপত্র খোলার পর একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ কম দরে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং অন্য অংশগ্রহণকারীরা সুযোগ পান না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টেন্ডার অনুমোদনের বিনিময়ে নিয়মিত কমিশন আদায় করা হয়। বিল পাসের সময় হিসাব শাখার মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ কমিশন নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। এসব অর্থ লেনদেনের কারণেই একজন সরকারি কর্মকর্তার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রকল্প, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, মডেল মসজিদসহ একাধিক প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ডিপিপির নিয়ম ভেঙে একাধিক প্যাকেজ একত্র করে দরপত্র আহ্বান, একই কাজের জন্য বারবার ভেরিয়েশন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং ওটিএম পদ্ধতিতে পছন্দের ঠিকাদারকে রেট কোট দিয়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এই অভিযোগের সঙ্গে কয়েকজন ঠিকাদারের নামও উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে কাজ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে বাবর এসোসিয়েটসসহ কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেরানীগঞ্জ জেলখানা ও মডেল মসজিদের একাধিক প্রকল্পে একই কৌশলে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত বেতনের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সম্প্রতি ৬৫ লাখ টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে। কুড়িগ্রামে প্রায় ১০ একর জমিতে রিসোর্ট নির্মাণ এবং নিয়মিত বিমানে যাতায়াতের তথ্যও সামনে এসেছে। এসব বিষয় মিলিয়ে অভিযোগকারীরা বলছেন, এক বছরের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মোঃ মইনুল ইসলাম।

সব মিলিয়ে তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে শুরু করে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত একাধিক প্রকল্পে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায় ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩–এর এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।




নোয়াখালীতে নিলাম কেলেঙ্কারি: ছয় ঘণ্টা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে রোববার দীর্ঘ সময় ধরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পানি সরবরাহ ও নলকূপ স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল গোপনে নামমাত্র দামে নিলাম দেওয়ার অভিযোগ তুলে একদল ঠিকাদার কার্যালয়টি ঘেরাও করেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম প্রায় ছয় ঘণ্টা নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই ঘটনায় পুরো কার্যালয়ের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, জেলা কার্যালয়ের গুদামে মজুত থাকা সাত থেকে আট কোটি টাকা মূল্যের পাইপ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ম না মেনে অত্যন্ত কম দামে নিলাম দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজের ঘনিষ্ঠ ও পছন্দের লোকদের কাছে এসব মালামাল বিক্রি করার ব্যবস্থা করেন। এতে প্রকৃত ঠিকাদারেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিকেলের দিকে কার্যালয়ে উপস্থিত শতাধিক ঠিকাদার ও তাঁদের সহযোগীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। কার্যালয়ের ভেতরেও কয়েকজন ঠিকাদার ঢুকে পড়েন এবং সেখানে মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব ওরফে আপেল অভিযোগ করেন, শুধু মালামাল নিলাম নয়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নির্বাহী প্রকৌশলী গত কয়েক মাসে তাঁর কাছ থেকে এবং অন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকেও প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাজ পেতে হলে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এতে অনেক ঠিকাদার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বাধ্য হয়েই তাঁরা কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচিতে নামেন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামের আগে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। সবকিছু গোপনে করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি লাভবান হন এবং সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের শামিল বলেও তাঁরা দাবি করেন।

অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গুদামের মালামালের নিলাম জেলা কার্যালয় থেকে নয়, ঢাকার ঊর্ধ্বতন দপ্তর থেকে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাবি, যেসব ঠিকাদার কাজ পাননি, তাঁরাই ক্ষোভ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিল করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত নিলাম বাতিলের আশ্বাস পেয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে ঠিকাদারেরা কার্যালয় থেকে সরে যান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এলো। সংশ্লিষ্ট মহলে এখন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।




ক্ষমতার আড়ালে গণপূর্তে দুর্নীতির বিস্তার: কুষ্টিয়ার প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকার কথা, সেখানে বারবার প্রশ্ন উঠছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে উঠেছে এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ, যা এখন শুধু কুষ্টিয়াতেই নয়, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত সরকারি বেতনের বাইরে গিয়ে তিনি বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবনের মালিক এই প্রকৌশলীর সম্পদের সঙ্গে তার চাকরিজীবনের আয়ের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টনের নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব কাজ নাকি হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পকে ঘিরে। এই প্রকল্পে অনিয়ম ছিল বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিত ও সংগঠিত। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে জাহিদুল ইসলাম কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা-কে সঙ্গে নিয়ে তিনি টেন্ডার বণ্টনে একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যেখানে নিয়মের কোনো মূল্য ছিল না।

দরপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বারবার সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ, সিসিইউ, একাডেমিক ভবনের লিফটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দর দেওয়া ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, টেন্ডার ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো এবং ‘কমিশন’ না দিলে কাজ অনুমোদন মিলত না। এই প্রক্রিয়ায় সুপারস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পেত।

শুধু বড় ভবন নয়, সড়ক, ড্রেন, পুকুরসহ ছোট-বড় আনুষঙ্গিক কাজেও একই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পায়নি, অথচ গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েটসকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যাদের হাতে তখনই বিপুল অঙ্কের প্রকল্প চলমান ছিল। একইভাবে কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ওভারল্যাপিং টেন্ডার’ নিয়ে। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি ভবনে একই অর্থবছরে একাধিকবার মেরামতের নামে টেন্ডার ডেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পুরোনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবনে একই বছরে বারবার কাজ দেখিয়ে টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। একই কৌশলে ডিসি অফিসের বাউন্ডারী ওয়াল, সদর হাসপাতাল, জজ কোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বারবার টেন্ডার আহ্বান করে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এসব অনিয়ম নিয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নীরব ভূমিকা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এত বড় অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই পদ্ধতিতে দুর্নীতি চলতে পারে—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

এ বিষয়ে মোঃ জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন সরকারি প্রকৌশলীর এই বিপুল সম্পদের উৎস কী? কারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষা দিয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কি আদৌ এই অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত করবে? জনস্বার্থে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখন সময়ের দাবি।




হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ

ডেস্ক নিউজঃ টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে (১ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ঠান্ডাজনিত জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪৬ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে ৯৮ হাজার ৭৪১ জন রোগী ঠান্ডাজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয়ে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৫৫৫ জন, মৃত্যু ৪০ জন। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ১৮৬ জন, মৃত্যু ৬ জন।

বিভাগীয় হিসেবে ঢাকা বিভাগে শ্বাসতন্ত্রের রোগী এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শীতের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এবং তীব্র শীতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম শিশুদের বিশেষভাবে উষ্ণ রাখা এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শীত মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি জটিল থাকতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বা ডায়রিয়া হলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




দেশে পরপর দুই ভূমিকম্প, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের বিপদের শঙ্কা

ডেস্ক নিউজঃ মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভোররাতে পরপর দুদফায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সোমবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর ঠিক ১৩ সেকেন্ড পর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে দ্বিতীয় দফায় আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিলেট অঞ্চলে।

সকালে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। তিনি জানান, ভোরে বাংলাদেশ এবং ভারতের আসাম রাজ্যে দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২ এবং ৩০ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ৫ দশমিক ৪ মাত্রায় সংঘটিত হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির কাছের মরিগাঁও এলাকা।

আমেরিকান ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও একই গভীরতায় ছিল বলে জানা গেছে।

মোস্তফা কামাল পলাশ তাঁর পোস্টে সতর্ক করে বলেন, যেহেতু দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪, যা মধ্যম মানের ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত, তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এই আফটারশক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কোনো ফল্ট লাইনে সংঘটিত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলল চীন

ডেস্ক নিউজঃ ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে চীন।

সেই সঙ্গে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

রবিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করা এবং দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাদেরকে যেভাবে বন্দি করা হয়, তাতে অবাক হয়েছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে তাদেরকে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা