মানবাধিকার ও গণতন্ত্রে নির্ভীক কলম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান- সুমন খানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবাধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনিক অনিয়ম ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিক সুমন খান-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।

সত্য অনুসন্ধানে আপসহীন অবস্থান ও জনস্বার্থে সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ এন্ড প্রেস সোসাইটি ও দৈনিক ঢাকার ক্রাইম-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “মানবাধিকার রক্ষা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬” শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুণীজন সম্মাননা স্মারক২০২৫অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,

“যখন মূলধারার অনেকেই নীরব, তখন কিছু সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরছেন—সুমন খান তাদেরই একজন।”
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত সাংবাদিক সুমন খান দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সরকারি দপ্তরের অনিয়ম, দালালচক্র, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাধারণ মানুষের বঞ্চনার চিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন।

তার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিচারহীনতার বাস্তব চিত্র—যা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি কার্যকর হাতিয়ার

বক্তাদের মন্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা বলেন,সুষ্ঠু নির্বাচন ও মানবাধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় বাধা হলো ভয় ও নীরবতা। সাংবাদিক সুমন খান সেই ভয় উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

তারা আরও বলেন,অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।

সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সম্মাননা প্রাপ্ত সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান জানান।

স্পষ্ট বার্তা- এই সম্মাননা শুধু একজন সাংবাদিকের স্বীকৃতি নয় এটি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো সাংবাদিকতার প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দমনে কোনো অপচেষ্টা চললে তা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, কেন্দ্রীয় কমিটি।

উদ্বোধক ও প্রধান আলোচক
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মোঃ জুয়েল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লিগ্যাল পাইলিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ,নাদিম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রার্থী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, কেন্দ্রীয় কমিটি।সভাপতির বক্তব্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মোঃ আনোয়ার হাসান আকাশ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ এন্ডপ্রেস সোসাইটি।




!! অনুসন্ধানী প্রতিবেদন !! প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ভয়াবহ অনিয়মের ছায়া : বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বেকার সমাজের স্বপ্ন ভাঙছে !

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ (২০২৫–২৬) ঘিরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন আর গুঞ্জন নয়—এটি পরিণত হয়েছে দেশের শিক্ষিত বেকার সমাজের জন্য এক দুঃস্বপ্নে। মেধা, যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমকে উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক নিয়োগ কার্যক্রমে সেই অভিযোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও কিছু অসাধু মহলের যোগসাজশে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত মেধাবী ও পরিশ্রমী প্রার্থীরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন, আর চাকরি পাচ্ছেন ‘আগাম লেনদেনের’ মাধ্যমে নির্বাচিতরা।

একাধিক শিক্ষিত বেকার তরুণ জানান, বছরের পর বছর ধরে নিরলস পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পরও তারা চাকরি পাচ্ছেন না। এতে তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—এই দুর্নীতিগ্রস্ত বাস্তবতায় শিক্ষিত বেকারদের সঙ্গে প্রহসন কি কারও চোখে পড়ে না?

পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে বাতিল—চরম ভোগান্তি

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৬ তারিখ বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিকের হিসাব সহকারী পদের পরীক্ষাটি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে বাতিল করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা হাজারো পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েন—অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মানসিক ধাক্কা দুই-ই বহন করতে হয় তাদের।
একইভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁস নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, বুয়েটের অধীনে প্রণীত প্রশ্নপত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে ফাঁস হচ্ছে। এমনকি গুঞ্জন রয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সহকারী শিক্ষক পরীক্ষার আসন (সিট) আগাম বুক করা এবং প্রশ্নফাঁসের প্রবল আশঙ্কাও রয়েছে। এই বাস্তবতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের হতাশা কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তারই প্রতিফলন। প্রশ্ন উঠছে—মেধাবীদের মূল্যায়ন আর কবে হবে?

নির্বাচনী তফসিল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি : এদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত যেখানে পরীক্ষা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে না, সেখানে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটা নিরাপদ—সে প্রশ্নও জোরালোভাবে উঠছে।

শিক্ষাবিদদের সতর্কবার্তা :
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো জাতিকে বহন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ না হলে বেকার সমাজের হতাশা আরও গভীর হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়বে।

শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি : এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত বেকার ও পরীক্ষার্থীরা কয়েকটি সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন— সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত ও প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অবিলম্বে বুয়েটের অধীন থেকে সরিয়ে পিএসসির অধীনে নেওয়া হোক। পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়, সে লক্ষ্যে যে পদক্ষেপগুলো প্রয়োজন তা অনতিবিলম্বে গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের বারবার বিপাকে পড়তে না হয়। নির্বাচনী সময়কাল ও রাস্তাঘাটের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হোক। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বান
সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, কঠোর নজরদারি ও দালালচক্র নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেষ কথা : সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি শিক্ষার্থীদের কঠিন আবেদন—এই সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে তাকিয়ে, অন্তত জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান করে, অসদুপায় রোধ করুন। প্রকৃত মেধাবীদের স্বপ্ন যেন আর ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ২ জানুয়ারির সহকারী শিক্ষক পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় দেশের এই অন্ধকার বাস্তবতায় শিক্ষিত বেকাররা আজীবন হতাশা ও অনিশ্চয়তার গহ্বরে গড়াগড়ি খাবে।
একটি সুন্দর, মানবিক ও শিক্ষিত সমাজ গড়তে হলে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতেই হবে। প্রকৃত মেধার বিকাশ হোক—এটাই এখন সময়ের দাবি।




তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়রুল কবিরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এদিকে, রবিবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকেও এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে, ২৭ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।

২৭ ডিসেম্বরই ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান-বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল আগেই। সেজন্য সব প্রস্তুতিও সেরে রাখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ।

বিএনপি মিডিয়া সেল শনিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর।

২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে ফিরতে না পারায় তিনি ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি।




২০২৬ সালে বিদ্যালয়ে সরকারি ছুটি ৬৪ দিন, তালিকা প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, এ বছর মোট ছুটি রয়েছে ৬৪ দিন। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ছুটি আগামী ৮ থেকে ২৬ মার্চ মোট ১৯ দিনের। এসব ছুটি রমজান, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে।




আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিকলীতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারা দেশেই কয়েকদিন ধরে দাপট দেখাচ্ছে শীত। তবে আজ রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায়।

হাওর অধ্যুষিত এ উপজেলায় সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাছুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। সেখানে আজকের তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বেশ কয়েকদিন ধরেই কিশোরগঞ্জ জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।




মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে: জান্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, দেশটিতে চলমান জাতীয় নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হচ্ছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিয়ানমারে। খবর এএফপির।

রাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।’

স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জান্তা-পরিচালিত এই জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে ইয়াঙ্গুনের কামায়ুত টাউনশিপে একটি ভোটকেন্দ্র খোলা দেখা যায়। কেন্দ্রটি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ মিয়ানমার ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের মতে, চলমান গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্প—দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা দেশে খাদ্য সংকটসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে গবেষক ও ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পর থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।




ঢাকা–১৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তারেক রহমান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা–১৭ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সকাল ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ জানান, তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা–১৭ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেবেন। একই সময়ে ঢাকা–১৭ আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে এই আসন থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানান। এ সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা–১৭ আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা–১ আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তার বাবা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

এদিকে এর আগে বগুড়া–৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন—বগুড়া–৭, ফেনী–১ ও দিনাজপুর–৩—থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।




ওসমান হাদির খুনি ফয়সালের দুই সহযোগী ভারতে আটক

ডেস্ক নিউজঃ  ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হামলাকারীর দুই সহযোগী ভারতে আটক হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব-পরিকল্পিত। মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান দেশে নেই; তিনি ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন। ফয়সালকে সহায়তা করার অভিযোগে পুত্তি এবং স্বামী নামের তার দুই সহযোগী ভারতের মেঘালয়ে আটক হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্রুত মামলার চার্জশিট দাখিলের পরিকল্পনা রয়েছে; আগামী ৭–১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং ৭ জানুয়ারির মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে।

তদন্তে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য (মোটিভ) এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। নজরুল ইসলাম জানান, মূল সন্দেহভাজনকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে মোটিভ সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে’ যোগাযোগ করে ফয়সালকে সহায়তা করার জন্য দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আশা করছে, মূল সন্দেহভাজন ফয়সালকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার চার্জশিট দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার অজ্ঞাত পরিচয় সহযোগী হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত অবস্থায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। তবে হাদির মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।



যমুনা অয়েলে কারাগারে থেকেও হাজিরা ও ছুটি: দুই সিবিএ নেতাকে বাঁচাতে কোটি টাকার নেপথ্য তৎপরতা

এসএম বদরুল আলমঃ যমুনা অয়েল কোম্পানিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, কারাগারে থাকা দুই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মচারীকে নিয়মিত কর্মস্থলে হাজির দেখানো হয়েছে, এমনকি জেল থেকেই তাদের ছুটির আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেনকে ২০২৫ সালের ২০ জুলাই নগরীর ইপিজেড থানাধীন সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হলেও আশ্চর্যজনকভাবে ২০ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত তাকে অফিসে নিয়মিত হাজির দেখানো হয়। প্রায় বিশ দিন ধরে এই বিষয়টি অফিসিয়ালি গোপন রাখা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ পেলে ১৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো এজিএম টার্মিনাল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকছুদুর রহমান মানব সম্পদ বিভাগের জিএম মো. মাসুদুল ইসলামকে লিখিতভাবে জানান যে আবুল হোসেন ১০ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত। এরপর এক মাস বা কখনো ২০ দিন পরপর অনুপস্থিতির চিঠি দেওয়া হতে থাকে। অথচ এই পুরো সময়জুড়েই আবুল হোসেন ছিলেন কারাগারে।

অভিযোগ রয়েছে, মাকছুদুর রহমান মূলত আবুল হোসেনের পৃষ্ঠপোষক জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হিসাব শাখায় কাজ করলেও অপারেশন বিভাগে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে এজিএম টার্মিনাল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেওয়া হয় এবং পরে চলতি দায়িত্বেও পদায়ন করা হয়। একই সময়ে আবুল হোসেনের কারাবন্দি থাকার তথ্য গোপন রেখে বিশেষাধিকার ছুটির আবেদন পাঠানো হয় এবং মাসুদুল ইসলাম সেসব ছুটি নিয়মিত অনুমোদন দেন। গত ছয় মাস ধরে এভাবেই একজন গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক লীগ নেতাকে নিয়ে চলেছে প্রশাসনিক লুকোচুরি।

এ বিষয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও মাসুদুল ইসলাম ও আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগগুলো কার্যত ফাইলবন্দি হয়ে আছে বলে জানা গেছে।

একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে যমুনা অয়েলের লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের বিরুদ্ধেও। তাকে ১২ ডিসেম্বর রাত দুইটায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় ১৪ ডিসেম্বর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু গ্রেপ্তারের দিনই তিনি এক মাসের ছুটির আবেদন করেন এবং মানব সম্পদ বিভাগ তা অনুমোদন করে।

এভাবে দুইজন সিবিএ নেতা জেল হাজতে থেকেও অফিসিয়াল ছুটি ও হাজিরার সুবিধা ভোগ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই দুই নেতার পেছনে সক্রিয় ছিলেন যমুনা অয়েলের তেল চোরাচালান সিন্ডিকেটের প্রধান, সদ্য বিদায়ী ডিজিএম (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকা হেলাল উদ্দিন এই দুই নেতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহে নামেন। এই অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় তার সিন্ডিকেটের আটজন সদস্যকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ফতুল্লা ডিপোর গ্রেজার শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা জয়নাল আবেদীন টুটুল, দৌলতপুর ডিপোর সিবিএ নেতা দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস, বাড়াবাড়ি ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম, পার্বতীপুর ডিপোর আইয়ুব আলী (এয়াকুবের সহোদর), ভৈরব ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার মতিয়ার রহমান, এজিএম টার্মিনাল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকছুদুর রহমান, ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) ধীমান কান্তি দাস এবং ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন) হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে এবং ডিপো ইনচার্জদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরির পুরনো নেটওয়ার্ক ধরে রাখতে ধীমান কান্তি দাস ও হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বিশেষভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

ধীমান কান্তি দাস ২০০৭ সালে হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে ম্যানেজার (ফাইন্যান্স) পদে আছেন। অন্যদিকে হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ২০১১ সালে চাকরিতে যোগ দেন এবং এখন এমডির দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে এই দুই কর্মকর্তার কোনো বদলি হয়নি। যদিও ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বিপিসির সমন্বিত সভায় তিন বছরের বেশি একই জায়গায় কর্মরত কর্মকর্তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবুও এই দুজন সেই সিদ্ধান্তের বাইরে রয়ে গেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এমডির দপ্তরে যেকোনো অভিযোগ প্রথমে হোসেন মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার হাত দিয়েই যায়। ফলে তেল চুরির সিন্ডিকেট সংক্রান্ত বহু অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নজর এড়িয়ে গেছে। যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে দ্রুত এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা অত্যন্ত জরুরি।




হাদির খুনি ভারতে থাকলে তারা ফেরত দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ডেস্ক নিউজঃ ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাকে (খুনিকে) যদি ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়, তারা অবশ্যই বাংলাদেশকে সহায়তা করবেন- এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সামনে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, হাদিকে যারা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই যেন তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি- এই বার্তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, হত্যাকারীকে ভারতে খুঁজে পাওয়া গেলে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আশ্বস্ত করছি, ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, চিহ্নিত খুনি, এর পেছনে যারা ছিল, সকলকে বিচারের মুখোমুখি করতে কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা একটা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাজটা করছি।

উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে। এই চার্জশিট দেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন সময়ে যেন বিচার করে যাওয়া যায়, সেটার নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি। আমরা থাকতে থাকতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।