শহরের চেয়ে মফস্সলে বেশি মানুষ তামাক সেবন করছে

নিজস্ব ডেস্কঃ শহরের তুলনায় তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য সেবনে আসক্তি বাড়ছে মফস্সলে। শহরাঞ্চলে তামাক সেবনের হার ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। মফস্সলের এটি প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর আট বিভাগে সবচেয়ে বেশি তামাক সেবন হচ্ছে সিলেট ও ময়মনসিংহে। দেশে তামাক ব্যবহারে পুরুষের সংখ্যা ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নারীদের এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান উন্নয়ন ব্যুরোর হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫-এর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্যমতে, দেশে তামাক ব্যবহারে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও উত্পাদনশীলতার যে আর্থিক ক্ষতি হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৮৭ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।

জরিপে দেখা যায়, ১৫ বছর বা  তদূর্ধ্ব বয়সিদের মধ্যে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের হার ছিল ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। লিঙ্গভেদে প্রতিটি অঞ্চলে পুরুষদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ময়মনসিংহ তামাক ব্যবহার হচ্ছে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ;  সিলেটে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ; বরিশালে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ; রংপুরে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ; চট্টগ্রামে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ; রাজশাহীতে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ; খুলনায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ আর ঢাকায় ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

জরিপে আরো দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তামাক ব্যবহারের প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। ১৫-১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৪ শতাংশ। ৫০-৫৪ বছর বয়সিদের এই হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সে সর্বোচ্চ হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সি পুরুষদের হার ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে নারীদের হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। ৪৫-৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে পুরুষদের হার ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।

জরিপের তথ্যমতে, জর্দা ও গুলে তামাক ব্যবহার হচ্ছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ, ধূমপানে ব্যবহূত তামাক ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। সরাসরি তামাক পাতা সেবনের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং হুক্কা ব্যবহারের হার ১ শতাংশ। ধূমপানের সূচনা সবচেয়ে বেশি ঘটে ২০-২৪ বছর বয়সে। এরপরে রয়েছে ১৫-১৯ বছর বয়সিরা। নারীরা তুলনামূলকভাবে পরে ধূমপান শুরু করে ২৫-২৯ বছর বয়সে। আবার ৩০ বছরের পর নতুনভাবে ধূমপান শুরু করার নিম্নমুখী প্রবণতাও দেখা গেছে।

এদিকে, তামাক ব্যবহারের কারণে দেশে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও উত্পাদনশীলতার যে অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটে, তার পরিমাণের ওপর গবেষণা চালায় ইকোনমিকস ফর হেলথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি প্রায় ৮৭ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর সরকার তামাকজাত পণ্য থেকে রাজস্ব পেয়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা।

গবেষণায় তথ্যমতে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তামাকের কারণে হওয়া ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। তামাকের কারণে পরিবেশ সম্পর্কিত ক্ষতিও কম নয়। বন উজাড়, ভূমিক্ষয়, অগ্নিকা্ল, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতিসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে আর্থিক ক্ষতি মোট ক্ষতির প্রায় ১৬ শতাংশ।

জানা যায়, দেশে এক-তৃতীয়াংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তামাক ব্যবহার করেন। তামাকের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা একটি গবেষণা পরিচালনা করেছি যেখানে দেখা যায়, বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের আশপাশের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। দোকানগুলোতে তামাক বিক্রেতারা শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য এমনভাবে রাখা হয়, যেন তা শিশুদের চোখের উচ্চতা বা সীমার মধ্যে থাকে। যেগুলো নিয়ে কাজ করা জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তামাক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি। এটি মোকাবিলায় ধারাবাহিক, প্রমাণভিত্তিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যুব প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা একটি জাতীয় দায়িত্ব। এ জন্য আইন সংস্কার এবং কার্যকর তামাক কর কাঠামো অপরিহার্য।’




নির্বাচনে হুমকি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গুলি!

ডেস্ক নিউজঃ পুলিশের লুট হওয়া বৈধ অস্ত্রের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়ার এক বছর পর গত ১০ আগস্ট অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেও তেমন লাভ হয়নি। উলটো আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি বাড়ছে। তবে এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র রয়েছে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র  দেশকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। এর ফলে সহিংসতা, রাজনৈতিক ভীতিপ্রদর্শন এবং অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর সারা দেশে আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ অস্ত্রের মজুত নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই ঘটনার ১০ দিনের মাথায় গত ২২ ডিসেম্বর খুলনার সোনাডাঙায় একটি বাড়িতে দলীয় অন্তঃকোন্দলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। এর পাশাপাশি যশোর, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, নারায়াণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, পাবনাসহ ২০ জেলায় গত ১৪ মাসে প্রতিপক্ষের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে পাঁচ শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের আগ্নেয়াস্ত্র ভাড়া দেওয়ারও ঘটনা ধরা পড়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য অপরাধীগোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রও যুক্ত হয়েছে। এটাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব  ফেলেছে। এ কারণে গত ১০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়, একটি লাইট মেশিনগান (এলএমজি) উদ্ধার করতে পারলে সন্ধানদাতা পাবেন ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া সাব মেশিনগানের (এসএমজি) জন্য দেড় লাখ, চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ এবং পিস্তল ও শটগানের জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আর প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য মিলবে ৫০০ টাকা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই ঘোষণার সময় পুলিশের হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৫টি এবং গুলি ছিল ২,৫৭,৮৪৯টি।

পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র এবং ২,৫৭,৬৫৯ রাউন্ডেরও বেশি গুলি কোথায়—তা অজানা। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে : রাইফেল, সাব-মেশিনগান (এসএমজি), হালকা মেশিনগান (এলএমজি), বিভিন্ন ক্যালিবারের পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান এবং টিয়ারগ্যাস লঞ্চার ।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, লুট হওয়া বা খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হাতে চলে গেছে। অস্ত্রের ক্রেতা বা বাহকদের খুঁজে বের করতে সময় লাগবে। অনেক আগ্নেয়াস্ত্র হাত বদল করে অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আবার কিছু অস্ত্র ও গুলি ভয়ে নদীতে বা জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হতে পারে।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে নির্বাচনের আগে সরকার নতুন আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান স্থগিত রেখেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকা জেলা প্রশাসন প্রায় ৪৫টি লাইসেন্স প্রদান করেছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ১৭ হাজার ২০০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৪০টি জমা পড়ে। ৩ হাজার ৮৬০টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। যারা অস্ত্র ও লাইসেন্স আত্মসমর্পণ করেনি তাদের ঐসব আগ্নেয়াস্ত্র এখন ‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র’ বলে ঘোষণ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লাইসেন্স বাতিল :সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৭৭টি লাইসেন্স বাতিল করে। বাতিল করা লাইসেন্সের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। ঢাকায় সর্বোচ্চ ৭৯৬টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পাবনায় ১৪১টি, চট্টগ্রামে ৭৩টি, যশোরে ৬৬টি, সিলেটে ৬৩টি এবং কক্সবাজারে ৩৮টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, অনেক লাইসেন্সধারী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকে আত্মগোপনে আছেন। অনেকেই দাবি করেছেন যে বিদ্রোহের সময় তাদের অস্ত্র চুরি হয়ে গেছে। মাহবুবুল আলম হানিফ, নিজাম উদ্দিন হাজারী, শামীম ওসমান ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের নেতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।




পরশু থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ পৌষের প্রথম পক্ষ না পেরুতেই শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো  কাহিল হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে। বইছে শৈত্যপ্রবাহ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ ও প্রাণীকূল। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরে সূর্যের সামান্য রোদের উষ্ণতা জনপদের মানুষের ঠান্ডা নিবারণ হচ্ছে না।

ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া ও আরিচা কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা নামলেই। রাজধানীসহ সারা দেশের আটটি বিভাগের ওপরই বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল শুক্রবার যশোরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি।

উত্তরের জেলাগুলোর অবস্থা আরো করুণ। গত তিন দিনে শৈত্যপ্রবাহের তীব্র শীত আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কয়েকটি জেলার জনজীবন। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। বেশি অসুবিধায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা ও বয়োবৃদ্ধরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না গরিব অসহায় মানুষ। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে। ঘন কুয়াশা আর হাড়-কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনেও স্বস্তি নেই, আর রাত নামলেই প্রকৃতি যেন আরো কঠোর হয়ে ওঠে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বইছে এই জেলায়।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পাঁচ দিন দেশের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। দেশে শীতের দাপট হঠাত্ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এই বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। এই বলয়ের বর্ধিতাংশ এখন পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডা অনুভূতি বাড়তে পারে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

রাজধানীতে বেড়েছে শীতের দাপট:

ঢাকায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিমেল হাওয়ার দাপট। বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমেছে, ফলে জনজীবনে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে প্রবলভাবে। গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ঢাকায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এদিকে শীত বাড়তে থাকায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হতদরিদ্র লোকজনকে শীতে জবুথবু হয়ে রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া হঠাত্ ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শীতের কাপড়ের দোকানে ও ফুটপাতের দোকানে বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে।

 দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গা এখন কনকনে শীতের কবলে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ বইতে থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় খেটে-খাওয়া মানুষ এবং প্রাণীকূল শীতে কষ্ট পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও তাপমাত্রা কমে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। এরপর নতুন বছরের শুরুতেই শীত আরো তীব্র আকারে জেঁকে বসতে পারে। তবে এ মুহূর্তে শৈত্যপ্রবাহের কোনো পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়াবিদ নাজমুল হকের মতে, শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেশের অন্তত দুই থেকে তিনটি এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে।

পরশু থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা :

দেশ জুড়ে শীতের তীব্র রূপ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, শীতের তীব্রতা এবার সাধারণের চেয়ে কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আসে, তবে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। আর এই পার্থক্য যদি ৫ ডিগ্রির নিচে নামে, তবে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হয়। বর্তমানে রংপুর, দিনাজপুর ও তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে থাকায় সেখানে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি ঢাকা, বগুড়া ও সিলেটেও এই পার্থক্য ১৩ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। যদিও আজ রাত থেকে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে সামান্য বাড়তে পারে, তবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবারও নতুন উদ্যমে হানা দেবে শীতের দাপট। তখন দুই থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশার ঘনত্বের কারণে নৌপথ ও সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে চালকদের। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছেন নানা শীতজনিত রোগে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, সামনের কয়েকটা দিন প্রকৃতির এই শীতল লড়াই আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।




আজ শুভ বড়দিন

ডেস্ক নিউজঃ আজ খ্রিষ্টানদের ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দধারা। বর্ণিল আলোকের রোশনাইয়ে ভেসে যাচ্ছে গির্জা, ঘর-দুয়ার আর অভিজাত হোটেলগুলো। সাজানো হয়েছে গোশালা, ক্রিসমাস ট্রি আর বহুবর্ণের বাতি দিয়ে। আজ ২৫ ডিসেম্বর, শুভ বড়দিন। খ্রিস্টধর্ম বিশ্বাসে ‘পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে আর ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো’—এই ‘সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতির্ময়’ আহ্বান নিয়ে মানুষের ‘মনের রাজা’ যিশু খ্রিষ্ট এদিন আসেন এই পৃথিবীতে। তাই এদিনে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালন করছে তাদের এই সবচেয়ে বড় উৎসব।

আজ প্রভাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা (খ্রিষ্টযোগ) হবে। সব বাড়িতেই থাকবে কেক, পিঠা, কমলালেবু, পোলাও-বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ও উন্নতমানের খাবারদাবারের আয়োজন। বেড়ানো, ধর্মীয় গান, কীর্তন, অতিথি আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে পরমানন্দে দিনটি কাটাবেন তারা।

আজ সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি ও রেডিও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ সবার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আজ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪ বছর আগে জেরুজালেমের বেথেলহেম শহরের এক গোয়ালঘরে সেইন্ট মেরির (মুসলমানদের কাছে যিনি পরিচিত হজরত মরিয়ম আ. নামে) গর্ভে জন্ম হয়েছিল যিশুর, ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনালেন। তিনি বললেন,‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো। ভালোবাসো সবাইকে, ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশীকে, এমনকি তোমার শত্রুকেও। মানুষকে ক্ষমা করো, তাহলে তুমিও ক্ষমা পাবে। তিনি বললেন, ‘পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে। গরিব-দুঃখীদের সাধ্যমতো সাহায্য করো, ঈশ্বরকে ভয় করো।’ যিশুর কথা শুনে অনেকে তাদের মন ফেরাল।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। কাকরাইলসহ কয়েকটি গির্জায় ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সোনারগাঁও হোটেল, রেডিসনসহ নামিদামি তারকা হোটেলগুলোতে আনন্দমুখর প্রস্তুতি। কাকরাইলের রমনা সেইন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল চার্চ ও মোহাম্মদপুরের সেইন্ট ক্রিস্টিনা গির্জার ভেতরে ও বাইরে নানা রঙের বেলুন, নকশা করা ককশিট, রঙিন কাগজ, জরি ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কৃত্রিম ‘ক্রিসমাস ট্রি’। গির্জা প্রাঙ্গণে থাকা গাছে ঝোলানো হয়েছে রংবেরঙের বাতি। গির্জার মূল ফটকের বাইরে মেলা বসেছে। মেলার দোকানগুলোতে বড়দিন ও ইংরেজি নতুন বছরের কার্ড, নানা রঙের মোমবাতি, সান্তা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি, যিশু-মরিয়ম-যোসেফের মূর্তিসহ নানা জিনিস বিক্রি হচ্ছে।

গির্জাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ঢাকাসহ দেশের গির্জাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড়দিন উপলক্ষে দেশের গির্জাগুলোর প্রবেশপথে তল্লাশি, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। র্যাব ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গির্জা, উপাসনালয়সমূহ ও অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজনীয় স্যুইপিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে পুলিশ ও র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে। যারা সাইবার জগতে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাবে তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব। গির্জাসমূহের নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদেরকে গির্জা কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাসেবক টিমকে সহায়তা করবে। সুষ্ঠুভাবে উত্সব পালনে পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চ পরিদর্শন শেষে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব জায়গায় সবাই যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উত্সবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করতে পারে সেজন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, আমরা নিয়েছি।’

ঢাকায় আতশবাজি ফোটানো এবং ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শুভ বড়দিন উদযাপন উপলক্ষ্যে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।




১৭ বছর পর দেশের মাটিতে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সপরিবারে দেশের মাটিতে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর ঢাকায় পা রাখলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ঢাকার হযরত আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান।




‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে’

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। তারেক রহমান নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’

তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকায় আসছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ১২টা ১৭ মিনিটে (প্রথম প্রহরে) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি। একই বিমানে তার সঙ্গে দেশে ফিরছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিআইপি লাউঞ্জ ‘রজনীগন্ধা’য় অবস্থান শেষে তারেক রহমান সড়কপথে কুড়িল হয়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত গণসংবর্ধনা মঞ্চে যাবেন। সেখানে তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন এবং দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করবেন।

এরপর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে বসুন্ধরা জি ব্লকের গেট দিয়ে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখানে বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা চিকিৎসাধীন তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাশে অবস্থান করার কথা রয়েছে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবন ‘ফিরোজা’য় যাবেন।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সোয়াট টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে ঢাকা ওয়াসায় আউটসোর্সিং বাণিজ্য: উপসচিব নুরুজ্জামান মিয়াজীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

সূত্র জানায়, মাত্র গত সপ্তাহেই প্রায় দুই শত আউটসোর্সিং কর্মচারী বদলি এবং প্রায় চল্লিশ জন বিলিং সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব বদলি ও নিয়োগের বিপরীতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে কথিত সিবিএ নেতা আজিজ ও মনির মূল ভূমিকা পালন করছেন বলেও সূত্রের দাবি।

ঢাকা ওয়াসার এক উপসচিব, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—নুরুজ্জামান মিয়াজীর মতো একজন চরম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে প্রশাসন বিভাগে বহাল রাখা প্রতিষ্ঠানটির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে ঢাকা ওয়াসা পুরোপুরি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসার পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সাবেক এমডি তাকসিম এ খানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন উপসচিব (প্রশাসন-১) নুরুজ্জামান মিয়াজী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দাপটের সঙ্গে একই পদে বহাল রয়েছেন।

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ঘুষখোর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত নুরুজ্জামান মিয়াজী ফাইল আটকে রেখে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একসময় তাকে ওয়াসার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলেও প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসেন। এমনকি পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকার করেও প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বর্তমান পদে আসীন হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ঘুষ না পেলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফাইল ফেরত পাঠাতেন। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত ওয়াসার পলাতক সাবেক এমডি তাকসিম এ খানের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন নুরুজ্জামান মিয়াজী—এমন দাবিও উঠে এসেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠতার প্রচারণা চালাতেন। ফেসবুকে আওয়ামী লীগের পক্ষে পোস্ট ও নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে ওয়াসায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উস্কানিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওয়াসার কথিত জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ইউনিয়নের স্বঘোষিত নেতা আজিজুল আলম খান ও মনির হোসেন পাটোয়ারীকে মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে তাদের ছত্রছায়ায় আবারও নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একসময় নুরুজ্জামান মিয়াজীকে প্রশাসন বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে আজিজ–মনির চক্রের সহায়তায় তিনি পুনরায় একই বিভাগে পোস্টিং পেয়েছেন। এ জন্য বড় অঙ্কের ডোনেশন দেওয়া হয়েছে বলেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা একটি অভিযোগে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাকসিম এ খানের ছত্রছায়ায় নুরুজ্জামান মিয়াজীর অনিয়ম, দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।




উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।




আসাম বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে- মুখ্যমন্ত্রীর শঙ্কা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে রাজ্যটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, জনসংখ্যার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসাম একসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে। তার এই দাবি নতুন করে সীমান্ত ও অভিবাসন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি সরকারি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যাকে তিনি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই তিনি এই প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

এদিন বাংলাদেশের এক নেতার উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বর্তমানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যদি এই সংখ্যা আরও ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (বাংলাদেশের সঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি গত পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলে যাচ্ছি।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে সহায়তা দেওয়া।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নির্ভরশীল, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।

এই বক্তব্যগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মতো হুমকি ভারত মেনে নেবে না। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দিল্লি নীরব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও অবাস্তব। ভারত একটি বড় দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি—এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

তার ভাষায়, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা আচরণ হলে দেশটি নিশ্চুপ থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এসব বক্তব্য ঘিরে আসামসহ পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিবাসন, জনসংখ্যা পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।




ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।  বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, ভোর থেকেই নদীতে কুয়াশার তীব্রতা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে যায় যে নৌপথের চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক নূর আহম্মেদ জানান, কুয়াশার তীব্রতা কমে এলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে মানিকগঞ্জের আরিচা এবং পাবনার কাজিরহাট নৌপথেও সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে মাঝ নদীতে দুটি ফেরি আটকা পড়ে বলে জানা গেছে।