মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। মাত্র ২৯ ঘণ্টায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ায় আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘আমাদের ফান্ড রেইজিং লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। আপনাদের এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।’

তিনি বলেন, এখন শুরু হচ্ছে ‘আসল লড়াই’। তাঁর ভাষায়, এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়, তবে তারা ভুলে যান যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত।

নির্বাচনী কৌশল ব্যাখ্যা করে ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও দিনে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। পুরো প্রচারণা জুড়ে তিনি বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন, ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই পেইড কর্মী নিয়োগ দেব না। মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেক সমর্থকই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হলেও তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতজন এ এলাকায় বসবাস করেন। একজন পরিচিত মানুষের একটি কথাই পোস্টার, ব্যানার বা ব্যয়বহুল প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম মেনে তিনি পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা তা করেছেন; এই অসমতা কাটাতে একটি ফোন কলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি সমর্থকদের প্রতি দুটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান। প্রথমত, সপ্তাহে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তায় টিমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।’

ফান্ড ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। জানান, কোনো নগদ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সব অর্থ একটি বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ভবিষ্যতে যাচাইযোগ্য। কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, সে তথ্য নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং সব নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অনুদানের জন্য ব্যবহৃত বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটি নতুন, সেখানে ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন নেই এবং অ্যাকাউন্টের শতভাগ অর্থই অনুদান হিসেবে সংগৃহীত। সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় করা হবে, তা-ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।




সংবর্ধনা শেষে মায়ের কাছে যাবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে ফিরেই তিনি প্রথমে সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

তিনি আরও জানান, ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন। একই দিন তিনি শেরেবাংলানগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের খোঁজখবর নেবেন এবং শহিদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করবেন।

এর আগে ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বাদ জুম্মা তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সালাহউদ্দিন আহমদ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনের কারণে কিছু জনদূর্ভোগ হতে পারে, যা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।




ঈশ্বরদীতে জেঁকে বসেছে শীত, তাপমাত্রা নেমেছে ১১ ডিগ্রিতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পৌষের শুরুতেই উত্তরের ঈশ্বরদীতে তীব্র শীতের দাপট বিরাজ করছে। শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মজীবনে পড়েছে বড় ধরনের ভাটা। গত চার দিন ধরে অব্যাহত শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার রেলগেট, আলহাজ্ব মোড়, বাজার ও স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়—ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলো কাজের অভাবে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক জায়গায় শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে। কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও শীতের তীব্রতা কমেনি।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, বুধবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর আগে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৮ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন শ্রমিক হাটে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা লালপুর উপজেলার বিলমারি গ্রামের রিয়াজুল জানান, ভোর থেকেই কাজের আশায় এখানে বসতে হয়। কিন্তু এত কুয়াশা আর শীতের কারণে কেউ কাজ নিতে আসছে না। টানা দুই দিন ধরে বসে আছি, কোনো কাজ নেই।

শহরের আমবাগানে পাইকারি সবজি বাজারে ঢাকি ভরে লালশাক বিক্রি করতে আসা জয়নগর গ্রামের আলিফ হোসেন বলেন, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। বাইরে মানুষের সমাগমও খুবই কম।

পৌর শহরের রহিমপুর এলাকার রিকশাচালক সেকেন্দার আলী বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭–৮টার মধ্যে বের হই। কিন্তু আজ সকালে কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা দেখে ৯টার পর বের হয়েছি। তবু রাস্তায় যাত্রী নেই। আয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্টেশন ও মালগুদাম এলাকায় শীতের তীব্রতায় ছিন্নমূল মানুষগুলোকে চরম কষ্টে দিন কাটাতে দেখা গেছে। খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।




ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

ডেস্ক নিউজঃ আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য মনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ শীর্ষক চ্যানেল নাইন আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। আপনারা যারা ডাক্তার, এখানে অনেকে আছেন, আপনারা তেলাপোকা কাটতেন, সেলাই-টেলাই করে ছেড়ে দিতেন—চলত। বাট হাদি হয়তো চলতে পারে নাই।’

এ সময় সঞ্চালক আব্দুন নূর তুষার আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তিনি নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন রাখেন—কেউ কি ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন?

জবাবে মনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা বলার কোনো অপেক্ষাই রাখে না। যদি এটা না হতো, হাদির দলের কয়টা লোক ছিল বা আছে বলেন? আমি তাঁকে ছোট করে বলছি না, আমি তার দলটাকে বলছি। এত মানুষ সারা দেশ থেকে এলো বা আনা হলো—এটার মধ্যে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। এই প্রশ্নবোধক চিহ্নটা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, ‘হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। ইনকিলাব মঞ্চও কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। তিনি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।’

হুমায়রা নূর বলেন, ‘হাদির জানাজার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কষ্টদায়ক। যারা জানাজায় এসেছিলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে আসেননি। তারা এসেছিলেন একজন মানুষ ওসমান হাদির জন্য।’

এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

এদিকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির ফেসবুকে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্য ‘অমর্যাদাকর’ এবং তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আপ-বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর রাফে সালমান রিফাতসহ আরও অনেকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।




রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ: আত্মীয়–বন্ধুদের হাতে কোটি টাকার প্রকল্প, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ–১ এখন আর সাধারণ একটি সরকারি দপ্তরের মতো নেই—এমন অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে। তাঁদের দাবি, এই দপ্তরটি ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ মহলের জন্য “নিশ্চিত কাজ পাওয়ার জায়গায়”। কাগজে-কলমে দরপত্র ডাকা হলেও বাস্তবে কে কাজ পাবে, তা নাকি ঠিক হয়ে যাচ্ছে আগেই।

চলতি অর্থবছরে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ–১ বিভিন্ন সরকারি ভবনের জরুরি সংস্কার ও মেরামত কাজে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের বড় অংশ প্রকৃত প্রতিযোগিতা ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। ইজিপি (e-GP) পদ্ধতিতে বহু ঠিকাদার অংশ নিলেও ফলাফল আগেই নির্ধারিত থাকায় তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের রাজশাহীতে অবস্থান এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগই এই অনিয়মের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। নোয়াখালীর বাসিন্দা হলেও তিনি শৈশব থেকেই রাজশাহীতে বেড়ে উঠেছেন, এখানেই পড়াশোনা করেছেন এবং রুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করে গণপূর্ত বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৬ বছর রাজশাহীতেই চাকরি করার সুবাদে তাঁর ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এখন বেশ শক্তিশালী।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো আদালত ভবনের কাজ নিয়ে। রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ভবনের প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার সংস্কারকাজ পেয়েছেন মো. রফিক নামের এক ঠিকাদার। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের স্ত্রীর আপন চাচাতো ভাই। শুধু এই কাজ নয়, একই ঠিকাদার গণপূর্ত বিভাগের জোন কার্যালয়ের ছাদ সংস্কার ও টাইলস বসানোর আরও দুটি কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া, রাশেদুল ইসলামের আরেক নিকটাত্মীয় ফয়সাল কবির রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের একটি সংস্কারকাজ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত ঠিকাদারদের প্রশ্ন—একই পরিবারের মানুষ বারবার কীভাবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাজ পেয়ে যাচ্ছেন?

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ এসেছে রাজশাহীর সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংস্কারকাজ নিয়ে। ঠিকাদারদের দাবি, এই দুটি কাজের সিদ্ধান্ত টেন্ডার প্রকাশের আগেই নির্বাহী প্রকৌশলীর বন্ধু ইয়াসির আরাফাতের জন্য চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অনেকেরই এমন কাজ করার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই, তবুও ব্যক্তিগত পরিচয়ের জোরে তারা একের পর এক প্রকল্প পেয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিজ্ঞ ও নিয়ম মেনে কাজ করা ঠিকাদাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়, “যোগ্যরা বসে থাকে, আর পরিচয় থাকলেই কাজ পাওয়া যায়।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ইজিপি পদ্ধতিতেই কাজ হয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই ঠিকাদাররা নির্বাচিত হন। তবে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তাঁর বক্তব্য ছিল আরও বিতর্কিত। তিনি বলেন, “আপনারা নিউজ করেন, আমার কিছু হবে না।” এই বক্তব্যে বঞ্চিত ঠিকাদারদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।

অন্যদিকে, তাঁর আত্মীয় ঠিকাদার মো. রফিক বলেন, জরুরি মেরামত কাজে অনেক সময় আগে কাজ শুরু হয়, পরে টেন্ডার হয়। কিন্তু অনেকের মতে, এই বক্তব্য সরাসরি সরকারি দরপত্র আইন ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছে, আত্মীয় হলেও কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন, এতে আইনগত বাধা নেই। তবে যদি গোপন দরপত্র ফাঁস, আগাম কাজ ভাগ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের আওতায় আনা হবে।

এদিকে বঞ্চিত ঠিকাদাররা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ–১ পুরোপুরি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এবং ইজিপি ব্যবস্থা কেবল নামমাত্র নিয়মে পরিণত হবে।




মিরপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা: জননিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফের প্রশ্নবিদ্ধ হলো জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা। মিরপুর ১০ নম্বর পাবলিক টয়লেটের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও প্রকাশ্য মাদকসেবনের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক এস এম রফিক। তিনি মুভি বাংলা টিভি ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার একজন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকর্মী। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পাবলিক টয়লেটের ভেতরে এক যুবক নিয়মিতভাবে গাঁজা সেবন করছিলেন। সেই অবৈধ কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ করতেই সাংবাদিক এস এম রফিকের ওপর চড়াও হয় ওই যুবক। একপর্যায়ে সাংবাদিকের হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট করে দেয় এবং প্রকাশ্যে গায়ে হাত তোলে। এ ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও অভিযুক্ত যুবকের দাপটে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখান। তার এমন হুমকি ও আগ্রাসী আচরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিক এস এম রফিক বলেন,জনস্বার্থে অনিয়ম তুলে ধরতে গেলেই যদি আমাদের ওপর হামলা হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ করবে কে? প্রকাশ্যে মাদকসেবন ও অনিয়ম ঢাকতেই আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”

মিরপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দীন সহ সকল মিরপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

সাংবাদিক নেতারা বলছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।




দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায়।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এর আগে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে একটি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, ওই রাতে তিনটি গাড়িতে করে কিছু লোক এসে হাইকমিশনের গেটের সামনে চিৎকার করে স্লোগান দেয় এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে চলে যায়।

এ ঘটনার পর ভারত সরকার জানায়, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ‘বিভ্রান্তিকর’। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, সেদিন মাত্র ২০–২৫ জন বিক্ষোভকারী হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েছিল এবং তারা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি।

তবে ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করল, তা নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত। অনুমতি ছাড়া সেখানে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে উগ্র সংগঠনের সদস্যদের একটি দল সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো।




ভারতীয় হাইক‌মিশনারকে ডেকে দিল্লি-শিলিগুড়ি মিশনে হামলার প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি এসব ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনা সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধের পরিপন্থি।

সূত্র জানায়, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে প্রবেশ করেন। আসা-যাওয়া মিলিয়ে পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় বাংলাদেশ সরকার ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ও আবাসস্থলের বাইরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনায় ভারত সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

এ ছাড়া ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা অনুযায়ী কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় ভারত সরকার অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে ঢাকা।




স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে প্রত্যেক অভিবাসীকে ৩০০০ ডলার করে দেবে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে। 

রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে এই সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। বর্তমান প্রশাসন তা তিন গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে।

ডিএইচএস জানিয়েছে, নগদ সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার জন্য বিনা মূল্যে বিমান টিকিটও দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের উচিত এই উপহারটি গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করা। তারা যদি তা না করেন, তাহলে আমরা তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করব। সেক্ষেত্রে তারা আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ পাবেন না।’

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের মার্চে ‘সিবিপি হোম’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে অভিবাসীরা সহজেই স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আবেদন করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় একই অ্যাপ ‘সিবিপি ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল এবং তখন এটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত হতো।

ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক রাখা এবং জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে সরকারের গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় হয়। সে তুলনায় ৩ হাজার ডলার দিয়ে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানো সরকারের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রতি বছর ১০ লাখ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তার প্রশাসন প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার অভিবাসীকে প্রত্যাবাসিত করেছে। আগামী ২০২৬ সাল থেকে এ অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ, নতুন ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে মার্কিন সরকার।




শাহজালাল বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশেষ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এ প্রেক্ষিতে যাত্রীসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা বলে মনে করতা হচ্ছে।