ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় তাকে তলব  করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলেছে, নয়াদিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকা বাংলাদেশ মিশন নিয়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়।

এ সময় ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যু তে বাংলাদেশর অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়। দেশটির ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বান্ধেও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এ নিয়ে গত ১০ দিনে প্রণয় ভার্মাকে দ্বিতীয়বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলো। আর, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত ছয়বার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।

আজকের আগে ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। পরে এই তলবের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। তারা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও প্রণয় ভার্মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা তলব করা হয়।

ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে দুই দেশের হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

গত শনিবার রাতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।




বিশ্বশান্তি রক্ষায় দক্ষিণ সুদান গেলেন নৌবাহিনীর ৭১ সদস্য

ডেস্ক নিউজঃ  জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন-ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এ নিয়োজিত বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট ১১-তে অংশ নিতে দ্বিতীয় গ্রুপে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৭১ জন সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, আজ ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে তারা। কন্টিনজেন্টটি ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-১০’ এর প্রতিস্থাপক হিসেবে দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করবে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রথম গ্রুপে ৯৯ জন নৌসদস্য বর্ণিত শান্তিরক্ষী মিশনে যোগদান করেছে। জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত রয়েছে। সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্য সামগ্রী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান, নৌপথের জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা দিচ্ছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, এছাড়াও বার্জগুলোতে কর্মরত বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং মিশনে নিয়োজিত সেনা ও বেসামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় রসদ সামগ্রী দুর্গম স্থানে পরিবহণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নৌবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সেই সঙ্গে আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়াসহ ডুবুরি সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষিণ সুদান ছাড়াও লেবাননের ভূমধ্যসাগরে উপমহাদেশের মধ্যে একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ নিয়োজিত রয়েছে। নীল নদের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন্স (অপারেশন লাইফ লাইন) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিরক্ষায় নৌবাহিনীর এই গর্বিত অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।




যাত্রীসেবায় গতি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনছে শাহজালাল বিমানবন্দর

ডেস্ক নিউজঃ যাত্রীসেবা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত হয়েছে। আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র স্থাপন, কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের ফলে যাত্রী চলাচলে গতি এসেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে উন্নত নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম।
ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাতেও উন্নতি দেখা গেছে। লাগেজ ডেলিভারিতে সময় কমেছে এবং হারানো লাগেজ সংক্রান্ত অভিযোগ হ্রাস পেয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীদের বসার সুবিধা বাড়ানোসহ টার্মিনালজুড়ে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রবাসী আবুল বাশার বলেন, “আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন অপেক্ষার সময় কমেছে। তথ্যসেবা ডেস্ক ও ডিজিটাল সাইনেজের উন্নতির কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাচ্ছি। এছাড়া লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার সম্প্রসারণ দেখে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং লাগেজ কাটার ভয়ের থেকে মুক্তি মিলবে।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় দলগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়াগত সাফল্যে বিশ্বাসী। সবার সম্মিলিত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমেই আরও ভালো সেবা দেওয়া এবং একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ সময় তিনি যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে যাত্রীদের যেকোনো সমস্যা, প্রস্তাব বা পরামর্শ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানানোর আহ্বান জানান। এ জন্য বিমানবন্দরের হটলাইন নম্বর ১৩৬০০-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন তিনি।

কে এম আবু নওশাদ বলেন, সবাই মিলে আরও ভালো থাকার ও আরও ভালো সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টার মাধ্যমেই প্রক্রিয়াসমূহের ধারাবাহিক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, যাত্রীসেবা ও লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অনেক সময় বিদেশফেরত যাত্রীরা লাগেজ কর্তনের দায় বিমান বা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপান, যেখানে কিছু অসাধু চক্র জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সম্পত্তি সুরক্ষা, লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং দায়ী ব্যক্তি বা স্টেশন চিহ্নিত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের লাগেজ ওঠানামায় বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। এর ফলে যাত্রীদের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পেশাদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ফ্লাইটে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি–ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে আসছে। অতি সম্প্রতি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিমানবন্দরে পরিচালিত সকল এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বডি–ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে।

তিনি জানান, বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সভায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে আরও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের ফলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গৃহীত এ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




দুদকের মামলা হলেও বহাল নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া, প্রশ্নে এলজিইডির নীরবতা

এসএম বদরুল আলমঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া এখনও নিজ পদে বহাল রয়েছেন। রাজধানীর গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ৪র্থ ও ৫ম তলার নির্মাণ কাজ না করেই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া তার সহযোগী সিনিয়র প্রকৌশলী ছাবের আলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামস জাভেদ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলীর মালিক আবু সাইদ খানের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনিয়ম করেন। অভিযোগে বলা হয়, ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক স্বপন কুমার রায় বাদী হয়ে ২৮ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৩৬ হলেও অভিযুক্তরা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এলজিইডি ঢাকা জেলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাচ্চু মিয়ার প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। তিনি আরও বলেন, মামলার পর বাচ্চু মিয়া কিছুদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও বর্তমানে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আরেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দুদকের মামলার পর থেকে তারা কোনো অনৈতিক কাজে সহযোগিতা না করায় নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। অফিসে প্রায়ই রূঢ় আচরণ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, তিনি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়ার নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। শুধু তাই নয়, প্রকল্প পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিতভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গত জুন মাসে কাজ শেষ না করেই বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের অগ্রিম বিল ছাড় করেছেন। দৃষ্টিনন্দন স্কুল প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকা, কেরানীগঞ্জ প্রকল্পে তিনটি প্যাকেজে ৩০ কোটি টাকা এবং বান্দুরা ব্রিজ প্রকল্পে প্রায় ৫ কোটি টাকার বিল দেওয়া হয়, যেখানে কাজের অগ্রগতি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোবাইল মেইনটেনেন্স খাতে কাজ না করেই প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশিরভাগ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। একই রাস্তার ছবি বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। এলজিইডির মেইনটেনেন্স ইউনিটের ডাটাবেজ পরীক্ষা করলেই এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো নিজের পরিবারের নামে কাজ বাগিয়ে নেওয়া। বাচ্চু মিয়া তার ভাই শহিদুল ইসলাম (সুমন)-এর নামে দুটি তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়েছেন, যা নিয়মবহির্ভূত। একটি লাইসেন্স মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ এবং অন্যটি মোহনা এন্টারপ্রাইজ নামে নিবন্ধিত। এই লাইসেন্স ব্যবহার করে বিনা দরপত্রে অফিস ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দেওয়া হয় এবং কাজ না করেই প্রায় ৪৮.৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া তার মেয়ের নামে থাকা লাইসেন্সে আরও প্রায় ৩.৯৮ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়েছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, বাচ্চু মিয়া দিনের বেলায় দাপ্তরিক কাজের পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সময় কাটান। সন্ধ্যার পর বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের নিয়ে অফিসে বসে সিদ্ধান্ত নেন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার যাতায়াতের সময় ও কর্মকাণ্ড স্পষ্ট হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কর্মস্থলে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও কম নয়। নিয়মিত কর্মচারীদের বাদ দিয়ে নিজের নিয়োগ করা বহিরাগত লোক দিয়ে অফিস চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আনিস নামের এক বহিরাগত ব্যক্তিকে তিনি তার প্রধান সহকারী হিসেবে ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বাধ্য হয়ে ঢাকা জেলা এলজিইডি অফিস ছেড়ে অন্যত্র বদলি নিয়েছেন।




বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন- সভাপতি খোরশেদ আলম,সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর কক্সবাজার জেলা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর (রোববার) রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থিত সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অনুমোদন প্রদান করা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান,প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন-এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভাপতি খোরশেদ আলম, নুরুল হোসাইন কে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ জন বিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি লায়ন ড. এ.জেড.এম. মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মো. শফিকুর রহমান মামুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সাঈদা সুলতানা, যুগ্ম সম্পাদক মো. মিটু মোল্লা, প্রচার সম্পাদক ওসামা বিন শিহাব এবং সিনিয়র সাংবাদিক সোহাগ টিপু প্রমুখ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বাবু, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন শান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদুল মামুন সোহাগ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান নগর।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে নব-নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীনকে প্রধান কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

কক্সবাজার জেলা কমিটির পক্ষে প্রধান কার্যালয়ের দাপ্তরিক অনুমোদিত নথি গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা সাঈদা সুলতানা ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিটু মোল্লা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন,বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব একটি আদর্শ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাংবাদিকতার নৈতিক মান রক্ষা এবং পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তিনি আরো বলেন,কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী ও সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এই জেলার সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন এবং গণমাধ্যমের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জেলা কমিটির ভূমিকা অপরিসীম। আমরা আশা করি, কক্সবাজার জেলা কমিটি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে।

তিনি সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা চর্চা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন,
দেশ ও মানুষের কল্যাণে নির্ভীক, স্বাধীন ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কক্সবাজার জেলা কমিটির নবনিযুক্ত সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




বিরল তুষারপাতের সাক্ষী হলো মরুভূমির দেশ সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুষারপাতের মতো বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলো মরুর দেশ সৌদি আরব। উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শীতল আবহাওয়ার দাপটে পাহাড় ও উঁচু ভূমি ঢেকে গেছে বরফের চাদরে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সৌদির একাধিক অঞ্চলে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বদলে গেছে চিরচেনা মরুভূমির দৃশ্যপট—তপ্ত বালুরাশি আর ধূ-ধূ প্রান্তর যেন রূপ নিয়েছে শীতের রূপকথায়।

সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের তাবুক প্রদেশের জাবাল আল-লাওজ পাহাড়ে অবস্থিত পর্যটন এলাকা ট্রোজেনা তুষারাবৃত হয়ে পড়ে। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়ি গন্তব্যে তুষারপাতের পাশাপাশি হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। তাবুক ছাড়াও হাইল প্রদেশের হাইল শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বুধবার সন্ধ্যায় তুষারপাত দেখা যায়। এসব অঞ্চলের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

উত্তর সৌদি আরবের পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলেও বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করে। রাজধানী রিয়াদে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারাদিন ঘন মেঘে ঢাকা ছিল আকাশ। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে রিয়াদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কাসিম অঞ্চলের বুরাইদাহ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। আল-উলা, শাকরা ও এর আশপাশ, বির বিন হারমাস, আল-আইনাহ ও আম্মার এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলের আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত গভর্নরেটেও বৃহস্পতিবার সকালে তুষারপাত হয়। উঁচু ভূমি ও খোলা এলাকায় বরফ জমে থাকতে দেখা গেছে।

এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি জানান, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি তীব্র শীতল বায়ুস্তর, যার সঙ্গে ছিল বৃষ্টিবাহী মেঘ। এর ফলে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ভোরের দিকে তুষারপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আল-কাহতানি বলেন, আগেই এ ধরনের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং বিশেষায়িত দলগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টা তাপমাত্রা আরও কম থাকতে পারে এবং দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তুষার জমে বরফে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় খোলা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত এলাকায় তুষারপাত দেখতে ভিড় করেন অনেকে। রিয়াদের বাসিন্দা থামর আল-ওতাইবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব। তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই শীতের বিস্ময় নিজের চোখে দেখতে এসেছি।’ আরেক বাসিন্দা আবদুল হাম্মেদ জানান, পরিবারের একটি আউটডোর আয়োজন বাতিল করে আবহাওয়ার কারণে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল, রিয়াদ ও কাসিমে দমকা হাওয়া, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, জৌফ ও হাইল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় কুয়াশা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলে ধুলোময় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত আরও তীব্র হতে পারে। লোহিত সাগরে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং আরব উপসাগরে ২৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সৌদির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ বৈরি আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেই সৌদি আরবের মতো মরুপ্রধান দেশে এই বিরল তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে—যা অঞ্চলটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন অনেক বাসিন্দা।




যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে বলে বৈঠকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়, সম্প্রতি দুটি জাতীয় দৈনিক ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। বাকি সন্দেভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

এ ছাড়াও চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত এবং অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




বিএনপির সময় গণমাধ্যম তুলনামূলক বেশি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল: মতিউর রহমান

ডেস্ক নিউজঃ দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারের আমলে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি। বিএনপির সময়ে গণমাধ্যম তুলনামূলকভাবে অধিকতর স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে গণমাধ্যমকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন, চাপ ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতিউর রহমান বলেন, ‘সংবাদপত্রের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতায় বিগত ৫০ বছরে আসলে কোনো সরকারের আমলেই সংবাদপত্রশিল্প খুব ভালো থাকতে পারেনি। নানা কারণে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছে। তার মধ্যে পার্থক্য করলে বলতে হয়, বিগত ১৫-১৬ বছর স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন, চাপ ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রকে যেতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। বিএনপির শাসন আমলে আমরা পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিলাম, তা না। আমি যদি পার্থক্য করি দুই সরকারের মধ্যে, তাহলে বিএনপির সময়ে গণমাধ্যম তুলনামূলকভাবে অধিকতর স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল।’

প্রথম আলোর সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের ৫০ বছরের ইতিহাসে সামরিক-বেসামরিক সব সরকারের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল বিগত ১৫ বছর। শুধু প্রথম আলোর ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রেই।’

বিগত ১৫ বছরে প্রথম আলোর মালিকানা বদলে দেওয়া, সম্পাদক বদলে দেওয়া, শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬—এই সময়ে বিএনপি কতগুলো বড় ভুল করেছে। আমরা সেগুলো কঠোরভাবে লিখেছি। এখনো আমি এই লেখাগুলোর পক্ষেই থাকব। সেগুলো নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তর্ক হয়েছে, আবার হাসিমুখে চা খেয়ে ফিরেও এসেছি। পরবর্তীতে আমাদের সেই কথাগুলো অব্যাহত রেখেছি। তাতে কোনো প্রকাশ্যে আক্রমণ, জেলের ভয়, মামলা-মোকদ্দমার ভয়—এমন ঘটনা ঘটেনি।’

মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘নানা সমালোচনা, তর্কবিতর্কের মধ্যেও বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে ধৈর্য ছিল। তাদের সহ্যশক্তি ছিল এবং তারা আমাদের পত্রিকার সমালোচনাগুলো মেনে নিয়েছিল। সংশোধন করতে পেরেছিলেন কি না—সেটা অনেক লম্বা আলোচনার বিষয়। আগামী দিনে যদি বিএনপি বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে, আমরা তাদের মধ্যে আরও অধিক সহ্যশক্তি, সমালোচনা সহ্য করার শক্তি, মেনে নেওয়ার মানসিকতা দেখব বলে আশা রাখি।’

দেশে একটা রাজনৈতিকশূন্যতা চলছে উল্লেখ করে প্রথম আলোর সম্পাদক বলেন, ‘এটা একটা বিপজ্জনক অবস্থা। বিএনপির জন্যও কিছুটা কঠিন অবস্থা। আমি সব সময় ভাবতাম বা এখনো মনে করি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি আরেকটু আগে—বেশ একটু আগে দেশে আসতে পারতেন, তাহলে এ ক্ষেত্রে হয়তো বিএনপি ও দেশের মধ্যে একটা ভালো, সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি হতে পারত।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মতিউর রহমান বলেন, ‘আপনারা যে নির্বাচনের তালিকা, প্রার্থী তালিকা করেছেন, এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তেমন একটা নেই। কিছু কিছু জায়গায় এটা আপনাদের বিবেচনা করার সুযোগ আছে কি না—আমি বলতে পারব না। কিন্তু এসব বিষয় হয়তো আপনারা একটু ভেবে দেখতে পারেন।’

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গে মতিউর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এই সংকটময় সময়ে আমাদের জন্য যখন একটা বড় দুর্যোগ, তখন আপনারা সবাই দল-মত-নির্বিশেষে সব ধরনের পত্রিকা, সব সাংবাদিক, সব ইউনিয়ন, সব প্রেসক্লাব আমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে। এটা একটা বড় বিষয়। আমি মনে করি, এই প্রকাশটাও আমাদের সংবাদপত্র বা ভবিষ্যৎ সংবাদপত্রের ও গণতন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে খুব ভালো একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এটা রক্ষা করতে পারলে আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। আর এ জন্যই নির্বাচন চাই। নির্বাচন হোক সুষ্ঠু। আমি সব সময় এটা বলে এসেছি। আমি সব সময় বলতাম, যত কিছুই হোক না কেন, নির্বাচন হবে।’

প্রথম আলোর সম্পাদক বলেন, ‘অনেকে সন্দেহ করত, প্রশ্ন করত। আমি তাদের বলতাম, আমি কোনো কিছুই সন্দেহ করি না। কিন্তু এখন আমার মনের মধ্যে একটু প্রশ্ন জাগছে—সময়টা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলো কেমন যাবে, আগামী দুইটা মাস কেমন চলবে। বিগত কয়েক দিনের ঘটনাগুলোর প্রভাব কতটুকু হবে, এই নির্বাচন কতটুকু ভালো হতে পারবে—এই প্রশ্ন আমার মধ্যে জেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী যে সরকার আসবে, তাদের জন্য সময়টা হবে আরও কঠিন। আমার মনে হয়, বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন।’

মতিউর রহমান বলেন, ‘যে শক্তির উত্থান ঘটেছে, যে ধরনের বক্তব্য তারা দিচ্ছে, যে ধরনের কার্যক্রম তারা করছে এবং যে ধরনের কর্মকাণ্ড হয়েছে, যেভাবে সারা দেশে একটা মবতন্ত্র তৈরি হয়েছে, যুক্তি-তর্কের বাইরে গিয়ে এবং কোনো রকম চিন্তা-চেতনার বাইরে গিয়ে এবং বাংলাদেশের যে ভিত্তিমূল, যার পক্ষে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন—এটাই একমাত্র সমাধান।’

মতিউর রহমান বলেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, যদি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে একটা জাতীয় ঐক্য-সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এত বিরোধ, এত বিভেদ, এত সংকট নিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না। কোনো সমাজ টিকতে পারে না।




ঘুষ, ভুল রায় আর ক্ষমতার অপব্যবহারে এলজিইডিতে চাকরি স্থায়ীকরণের নামে কোটি টাকার লুট

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। সাম্প্রতিক সময়ে চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির নামে ঘুষ লেনদেনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সরকারকে গুনতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি। অভিযোগ উঠেছে, এসব অনিয়মের ফলে সরকারের প্রায় ছয় কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, অথচ যাদের প্রকৃতপক্ষে আদালতের বৈধ রায় রয়েছে তারা ঘুষ দিতে না পারায় চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে এলজিইডির তথাকথিত “ওহাব গ্রুপ”। এই গ্রুপের ১২ জন কর্মচারীকে ১০ম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যার তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৫। জানা যায়, এই গ্রুপের মোট ২৪ জন ২০১১ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের রায়ে আদালত তাদের এলজিইডির রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার নির্দেশ দেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রিট দায়েরের সময়ই তারা রাজস্ব খাতের কর্মচারী ছিলেন। অর্থাৎ আদালতের রায়টি বাস্তব প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় ও বিভ্রান্তিকর ছিল।

হাইকোর্টের রায়ে কোথাও পদোন্নতি, গ্রেড পরিবর্তন বা কার্যকর তারিখ উল্লেখ ছিল না। শুধু বলা হয়েছিল, শূন্য স্থায়ী পদে রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। তবুও সেই রায়কে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যান ওহাব গ্রুপের সদস্যরা। গত প্রায় সাড়ে চব্বিশ বছরে এলজিইডিতে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৩ থেকে ১৪ জন প্রধান প্রকৌশলী। তাদের কেউই এই রায় বাস্তবায়নে সম্মতি দেননি, কারণ এটি নিয়োগ বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়াকে ম্যানেজ করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ফাইল নড়াচড়া শুরু করা হয়। প্রশাসন শাখার একাধিক কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীও মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন বলে অভিযোগ আছে। তবে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভুল রায়ের ভিত্তিতে তারা কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করবেন না।

পরবর্তী সময়ে প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনও একই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সার্ভেয়ার ও কার্য সহকারী পদের জন্য নির্দিষ্ট চাকরিকাল ও বিভাগীয় পরীক্ষার শর্ত রয়েছে। অথচ ওহাব গ্রুপে কমিউনিটি অর্গানাইজার ও স্টোর কিপারের মতো পদও রয়েছে, যাদের পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বিধি সংশোধন প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়।

তবুও থেমে থাকেনি ওহাব গ্রুপ। রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের সময় তারা আবার সক্রিয় হয়। অভিযোগ আছে, জাবেদ করিমকে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে, ২০০৬ সাল থেকে চাকরি স্থায়ী দেখানো হলে প্রত্যেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাবদ অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পাবেন। এই আশায় তারা আরও টাকা তুলে ‘ফান্ড’ তৈরি করেন।

জাবেদ করিম প্রশাসন শাখার নতুন কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করালেও বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপর তিনি আর স্থায়ীকরণের অফিস আদেশে স্বাক্ষর করতে রাজি হননি। কিন্তু বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার সময় প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা আবার সক্রিয় হন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১২ জনসহ মোট ১৪ জনের চাকরি স্থায়ীকরণের অফিস আদেশ জারি করা হয়।

এই অফিস আদেশে সুযোগ বুঝে আরও দু’জনের নাম যুক্ত করা হয়, যারা ওহাব গ্রুপের সদস্য নন। প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ও এক উচ্চমান সহকারী ঘুষের বিনিময়ে এই কাজটি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, একই সময়ে এলজিইডিতে কর্মরত বুল বুল আহমদের ঘটনা এই বৈষম্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তার চাকরি স্থায়ীকরণের পক্ষে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, কনডেম অব কোর্ট, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, পিএসসি ও আইন মন্ত্রণালয়—সব জায়গা থেকেই নির্দেশ এসেছে। তবুও ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার চাকরি আজও স্থায়ী হয়নি।

অন্যদিকে, আবু ফাত্তাহ নামের একজন ব্যক্তি দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর নকল সনদের মাধ্যমে এলজিইডিতে কনসালটেন্ট হিসেবে মোটা বেতনে চাকরি করেছেন। তিনি নিজেকে স্নাতক পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ ছাড়া আর কোনো ডিগ্রির প্রমাণ দেখাতে পারেননি। শিক্ষা সনদের কপি চাইলে তা দিতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অভিযোগ আছে, এলজিইডির মিডিয়া কনসালটেন্ট পরিচয় ব্যবহার করে তিনি কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো, মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো এবং টাকা আদায়ের মতো কাজ করেছেন।

চাকরি না থাকলেও বিভিন্ন সুপারিশ ও চাপের মুখে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা তাকে আবার একটি বড় প্রকল্পে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। এতে এলজিইডির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এলজিইডিতে আইন, আদালতের রায় ও নিয়োগ বিধির চেয়ে ঘুষ ও তদবিরই বেশি কার্যকর।




দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে নতুন গতি পাচ্ছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)