সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ডেস্ক নিউজঃ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন। সংবাদ সম্মেলন সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাসিস্টদের দমন করতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।

নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, চলতি অভিযান শুরু হওয়ার সাত দিনে মোট ৫ হাজার ৯৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অভিযানে তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান এখনও চলমান রয়েছে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখছে।

এর আগে, গতকাল শনিবার শাহবাগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দের বিক্ষোভকারীরা। শাহবাগে জড়ো হওয়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ হাদির স্মরণে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে উঠে আসে হাদির সংগ্রামী জীবনের নানান বার্তা।

সমাবেশে বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগ না করলে শিক্ষার্থী-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।




ছায়ানটে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি সাড়ে ৩০০

ডেস্ক নিউজঃ সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, ধানমন্ডি থানায় হামলা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর রাতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ।

ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা রাতে দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে সিসি ক্যামেরা, আসবাবপত্র, তবলা, হারমোনিয়াম, বেহালা এবং বিভিন্ন কক্ষে হামলা চালায় ও সেগুলোকে পুড়িয়ে দেয়। তবে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর ছায়ানট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ সময় তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানটে হামলা হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।




দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি

ডেস্ক নিউজঃ দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাংলাদেশ ভবনের গেটে এসে উগ্র আচরণ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি করে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে তিনটি গাড়িতে করে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশ ভবনের গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করেন। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে’ এবং ‘হাইকমিশনারকে ধরো’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তিরা পরে মূল গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে চলে যান। তবে এ সময় তারা কোনো ধরনের শারীরিক হামলা চালাননি। কোনো কিছু ছোড়াছুড়িও করা হয়নি।

হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস মিনিস্টার বলেন, হতে পারে। তারা হিন্দি ও বাংলা মিলিয়ে বলছিলেন- ওখানে যদি হিন্দু মারা হয়, তাহলে আমরা তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলবো। তবে এগুলো ছিল কেবল কথাবার্তা ও চিৎকার। কোনো শারীরিক হামলা হয়নি।

ঘটনার পরপরই রাতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স উইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ডিফেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে চিৎকার করে চলে গেছেন এবং বাড়তি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।




তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে সিইসির কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আগে একে একে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রবেশ করেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। প্রথমে আসেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তিন বাহিনীর প্রধানদের স্বাগত জানান। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সিইসির কক্ষে বৈঠক শুরু হয়।

এদিকে, একই দিন দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠকে নির্বাচনের আগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম, সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে যৌথ বাহিনীর ভূমিকা ও প্রস্তুতি, আচরণবিধি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।




ঢাকা-কক্সবাজারসহ ছয় রুটে বেড়েছে ট্রেনের ভাড়া

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা-কক্সবাজারসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। ট্রেনের ভাড়া গত ১৩ বছরে সরাসরি বা কৌশলে বাড়ানো হয়েছে অন্তত পাঁচ বার। এবার সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে আসন ও রুটভেদে সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-এই ছয় রুটের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সব রুটে নয়, নির্দিষ্ট কিছু রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতেই এই ব্যবস্থা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০১২ সালে ছিল ৫৮৫ টাকা। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৭২৫ টাকা। ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর ভাড়া দাঁড়ায় ৮৫৫ টাকা। নতুন পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ার পর এখন যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ৯৪৩ টাকা।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ১ হাজার ৩২২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৬ টাকায়। এ রুটে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।




তেল চুরি, শত কোটি টাকার সম্পদ আর কানাডা পালানোর ছক: হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে যেসব অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী তেল চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। তার সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুব গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান হেলাল উদ্দিন। ১২ ডিসেম্বর ভোর রাতে চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জে তার বাসায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান চালানোর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।

সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থেকেই হেলাল উদ্দিন বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোপনে কানাডা যাওয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে তার প্রাপ্য সব টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব নিজের ছোট ভাই জালাল উদ্দিন বাদলের হাতে তুলে দেন। ১৭ ডিসেম্বর, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ঠিক আগের দিন, হেলাল উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তার ভাইয়ের নামে সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অনুমোদন নেওয়া হয়। সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদুল ইসলাম সেই আবেদন অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর ফলে শ্রমিক অংশীদারিত্ব তহবিল, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ হেলাল উদ্দিনের বিপুল অঙ্কের পাওনা অর্থ তার ভাই গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। তবে যমুনা অয়েলের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন এমডি মো. আমির মাসুদ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিল করতে পারেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, শুধু চাকরিজীবনের পাওনাই নয়—হেলাল উদ্দিন তার নামে-বেনামে থাকা শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি ও দেখভালের দায়িত্বও ছোট ভাইয়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ও দেনদরবার চলছে, যাতে তিনি নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়তে পারেন।

হেলাল উদ্দিনের ছেলে ও মেয়ে আগে থেকেই কানাডায় অবস্থান করছে এবং সেখানে তার একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, চাকরি জীবনের শেষ দিকে তিনি ও তার স্ত্রী বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। চট্টগ্রামের একাধিক ব্যাংকে তাদের নামে থাকা এসব হিসাব থেকে তোলা অর্থের বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অর্থের একটি অংশ ভারতে অবস্থানরত তার আত্মীয় সাবেক এমপি ও যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং কানাডাপ্রবাসী সন্তানদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে হেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ এয়াকুব ও তেল টুটুলের নেতৃত্বে যমুনা অয়েলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ আছে, হাজার হাজার কোটি টাকার তেল আত্মসাতের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন। শুধু হেলাল উদ্দিনই চাকরি জীবনে অন্তত পাঁচশ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নেমেছে বলেও জানা গেছে, যদিও তাকে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হেলাল উদ্দিন যমুনা অয়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পোস্টিংগুলোতেই ছিলেন। ১৯৯৫ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর ১৯৯৭ সালে তার চাকরি স্থায়ী হয়। পতেঙ্গা টার্মিনাল অফিস ও আগ্রাবাদ প্রধান কার্যালয়—এই দুই জায়গাতেই মূলত তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। একবার বগুড়ায় বদলির আদেশ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনেও তার বিলাসবহুল সম্পদের তালিকা দীর্ঘ। চট্টগ্রামে একাধিক বহুতল ভবন, রাউজানে নিজ গ্রামে পাঁচ ভাইয়ের জন্য আলাদা বাড়ি নির্মাণ, প্রিমিও মডেলের ব্যক্তিগত গাড়ি ও স্ত্রীর জন্য বিলাসবহুল জিপ—সব মিলিয়ে তার জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের বড় অংশই তেল চুরি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে গড়ে তোলা।

সব মিলিয়ে, হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়। তদন্ত সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপই এখন দেখার অপেক্ষা।




দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঢাকা ৩ আসনে মনোনীত প্রার্থী বাবুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষে নির্বাচনীয় প্রচারণায় দিনরাত মাঠে হাজী মোঃ জাকির হোসেন

মোঃ মাসুদ মৃধা – স্টাফ রিপোর্টার: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির অন্যতম সদস্য হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রচারণার গতি বাড়ছে। দিনরাত মাঠে থেকে তিনি নিজের এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন।

হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচারণার প্রতিটি মুহূর্তে তার একটাই প্রত্যাশা—ঢাকা-৩ আসন থেকে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের দুঃসময়েও তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এই নেতা বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।

হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “ঢাকা-৩ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। মানুষ পরিবর্তন চায়। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একজন সৎ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ এবার ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে। ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে।”

এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক আলাদা আলাদা টিম গঠন করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, ঢাকা-৩ আসনে এবার নির্বাচনী পরিবেশ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত। জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় একাধিক ভোটার জানান, তারা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে একজন অভিজ্ঞ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে দেখেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে তারা তাকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত। এই ঐক্য ও গণসংযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ঢাকা-৩ আসনে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আশাবাদী—আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।




সুদানে নিহত ৬ শান্তিরক্ষী সেনার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে

ডেস্ক নিউজঃ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও জানাজায় অংশ নেন।

নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন, নাটোরের বাসিন্দা করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মন্ডল, রাজবাড়ীর বাসিন্দা সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এর আগে শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিহতদের মরদেহ বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং নয়জন আহত হন।

হামলায় আহতরা হলেন, কুষ্টিয়ার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের বাসিন্দা সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার বাসিন্দা করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার বাসিন্দা ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের বাসিন্দা সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের বাসিন্দা সৈনিক মোছা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর বাসিন্দা সৈনিক মো. মানাজির আহসান।




সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও কল্যাণের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক আনন্দঘন বনভোজন ও মিলনমেলা। উৎসবমুখর এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল, মোহাম্মদ ফরিদ খান (বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, মোগল), সম্রাট (প্রকাশক ও সম্পাদক, বিডি লাইভ ২৪ নিউজ), কামরুজ্জামান জনি (প্রকাশক ও সম্পাদক), সুবীর আহমেদ (প্রকাশক ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক সংবাদপত্র), মোহাম্মদ বশির আহমেদ (সহকারী সম্পাদক, ক্রাইম নিউজ) এবং মোঃ মাসুদ মৃধা (স্টাফ রিপোর্টার, রাজধানী টেলিভিশন)।

অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

দিনব্যাপী আয়োজিত মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিপূর্ণ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। সকালের নাস্তা দিয়ে শুরু হয়ে দুপুরে সুস্বাদু খাবার এবং বিকেলের নাস্তা পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা, যেখানে সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণ পর্ব। খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে উৎসাহ ও আনন্দ যোগ করে। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, আবৃত্তি ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা মিলনমেলাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন মাত্রায়।

আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত চাপ ও ব্যস্ততার মধ্যেও এমন মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। দিনশেষে আনন্দ, হাসি ও সৌহার্দ্যের স্মৃতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।




অভিযোগের পাহাড়ে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা: আয়ের সঙ্গে সম্পদের মিল নেই বলে দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ, যিনি রানা নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক ও সাবেক এমপি গোলন্দাজ বাবেলের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতা করে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে হারুন রানার চারটি বাড়ি রয়েছে। এগুলো টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, নূরজাহান রোড ও চাঁন মিঞা হাউজিং এলাকায় অবস্থিত। এছাড়াও ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ আছে। গাজীপুরের শ্রীপুর ও মাওনা, ময়মনসিংহের ভালুকা, পাইথল ও গফরগাঁও এলাকাতেও তার স্থাবর সম্পদের কথা বলা হয়েছে। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার মাখল গ্রামে তিনি বিলাসবহুল দুইতলা বাড়ি তৈরি করেছেন, যার বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হারুন রানার মাসিক বেতন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। অথচ চাকরিতে যোগদানের সময় তার বেতন ছিল ১০ হাজার টাকারও কম। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় সহকর্মী ও গ্রামবাসীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব সম্পদ তিনি নিজের নামে না রেখে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামে করেছেন।

ময়মনসিংহের বিল মাখল মৌজায় বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানে বহু কাঠা থেকে শুরু করে একরের পর একর জমি কেনার বিস্তারিত বিবরণ অভিযোগে দেওয়া হয়েছে। এসব জমি তিনি আবুল হাসমে, সুরুজ গং, মোতালেব গং, মিরাজ মেম্বার গং, আঃ রহমান, আঃ হেকিম, নাজিম উদ্দিন, কালাম হাফেজ, আবু সাঈদসহ বহু ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই মৌজায় একাধিক একর চাষি জমি কেনার পাশাপাশি গাজীপুর ও ভালুকাতেও জমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গাজীপুরের শ্রীপুর ও মাওনায় টিনশেড বাড়ি, ভালুকায় জমি ও ঘর, পাগলার গয়েশপুর বাজারে বাড়ি এবং রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান নির্মাণের কথাও রয়েছে। গফরগাঁওয়ের পাইথলে এক একর জায়গায় মুরগির খামার, পাইথল মৌজায় বাড়ি এবং শিলাশী মৌজায় জমির মালিকানার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, মরহুম আবু তাহেরের পরিবারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়ি-ভিটা ও কবরস্থানের জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে নুরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন ও সামছুদ্দিনসহ কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করার অভিযোগ রয়েছে। যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

হারুন রানার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার স্ত্রী ও কন্যার ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে এবং তার ও পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে কোটি টাকা জমা আছে। তিনি একাধিক গাড়ির মালিক বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৪৭৬৩০ নম্বরের একটি গাড়ির কথাও বলা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এর আগেও দুই দফা তদন্তের পর দুর্নীতি দমন কমিশন হারুন রানাকে দায়মুক্তি দেয়। ২০১৬ ও ২০২০ সালে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে জানানো হয়। তবে গ্রামবাসী ও ওয়াসার কর্মচারীদের দাবি, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সম্পদের কোনো মিল নেই। তাই নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

বর্তমানে হারুন রানা ঢাকা ওয়াসার ৩ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত। অভিযোগে বলা হয়েছে, আগের জোনগুলোতেও তিনি একই ধরনের অনিয়ম করেছেন। তিনি নিজে ডিউটি না করে বহিরাগত লোক দিয়ে কাজ করান, যা ওয়াসার নিয়মের পরিপন্থী। এমনকি তার সহকারী ও ড্রাইভারকে তিনি নিজের বেতনের কাছাকাছি বেতন দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সব মিলিয়ে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া হারুন অর রশিদ রানার উত্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের বিবরণসহ আরও একটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।