সুনামগঞ্জের ছাতকে লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা-মদিনা অবমাননার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় লন্ডন প্রবাসী কথিত পীর গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মসজিদের অবমাননার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তার একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘গিয়াস উদ্দিন তালুকদার দরবার শরীফ’-কে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মসজিদের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও গ্রামে অবস্থিত ওই দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলছিল। তবে সম্প্রতি কথিত পীরের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বক্তব্যে তিনি বলেছেন— মক্কা-মদিনা ও মসজিদে গিয়ে যে পরিমাণ সওয়াব ও নেকি অর্জিত হয়, তার দরবার শরীফে গেলেও নাকি একই পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে। এ ধরনের বক্তব্যকে তারা ‘ধর্মীয় বিভ্রান্তি’ ও ‘পবিত্র স্থান সমূহের অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনায় কথিত পীরের ছোট ভাই ইসলাম উদ্দিনসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষজন গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গিয়াস উদ্দিন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন পীর হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ আদায় করে আসছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ইসলামের মৌলিক আকিদা ও শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পবিত্র মদিনা শরীফ অবমাননার প্রসঙ্গ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, কথিত পীর ভক্তদের সামনে নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে পবিত্র মদিনা শরীফের তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে তারা ‘অত্যন্ত আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যা দেন। অভিযোগকারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, “পবিত্র মদিনা শরীফের সঙ্গে কোনো মানুষের শরীরের তুলনা করা মারাত্মক ধর্মীয় অবমাননার শামিল। এর মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দরবার শরীফে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, যা ইসলামী অনুশাসনের পরিপন্থী। কথিত পীর ও তার স্ত্রী মাহিমা বেগমের বিরুদ্ধে অশ্লীল কার্যকলাপ, মদ ও গাঁজা সেবনসহ নানা কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালিত হয় ভক্তদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দরবার শরীফে নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ‘নজরানা’ হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। পরে এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, “এই দরবারটি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রতারণা কেন্দ্র। ধর্মীয় আবরণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে তা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অভিযোগকারীদের মতে, এই দরবারের কার্যক্রম সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দরবার শরীফে নিয়মিত যাতায়াতের ফলে অনেক মানুষ পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, দরবারের বিরোধিতা করায় তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তারা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কথিত পীর গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ছাতকসহ সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন দরবার ও কথিত পীরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও নানা বিতর্ক ও অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে প্রতারণা ও বিভ্রান্তি রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। বর্তমান অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে তা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।



ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একজন নিহত

মামুনুর রহমান, পাবনাঃ  বুধবার ১৭ ডিসেম্বর’ ২৫ সকালে লক্ষ্মিকুন্ডার কামালপুর গ্রামে। সে ঐ গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে এবং লক্ষ্মিকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর’২৫) নিহত বিরু মোল্লার আপন চাচাতো ভাই মৃত ইসলাম মোল্লার ছেলে জহুরুল মোল্লা বিরু মোল্লার মালিকানা দাবিকৃত জমি থেকে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য মাটি কেটে নিয়ে যায়। এই জমিটি নিয়ে উভয়ে মালিকানা দাবি করার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ।
এই জমিটি নিয়ে উভয়ে মালিকানা দাবি করার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিককালে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর’২৫) সকালে বিরু মোল্লা লোকজন নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যায় এবং কেন মাটি কাটা হয়েছে এপ্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বাকবিতন্ডা ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এসময় বিরু মোল্লার লোকজন ইটপাটকেল ছুঁড়লে জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিরু মোল্লাসহ তার লোকজনকে সরে যেতে বলেন। কিন্তু বিরু মোল্লার লোকজন সরে না গিয়ে মারমুখী আচরণে অনড় থাকে। পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে গেলে বিরু মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। এসময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বিরু মোল্লা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারা বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বিরু মোল্লা নিহত হয়েছেন। নিহত বিরু মোল্লার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আকস্মিক এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, নিহত বিরু মোল্লা এবং ঘাতক জহুরুল মোল্লা উভয়ই বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তারা দুজনেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠ সহচর ও সমর্থক বলে উভয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করেন।



গিলকে বাদ দিয়ে ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। বেশ কয়েকদিন ধরে স্কোয়াড কারা আসছেন, সেই আলোচনা চলছিল কয়েকদিন ধরেই।

তবে অনেকটা চমক রেখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। দল থেকে বাদ পড়েছেন টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। দলে ফিরেছেন আরেক টপ অর্ডার ব্যাটার ইশান কিষাণ।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও তার আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এই দল প্রকাশ করেন।

এই দলে জায়গা পাননি শুবমান গিল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে একটা বিষয় নিশ্চিত হয়ে গেল যে, বিশ্বকাপে ভারতের ইনিংস ওপেন করতে চলেছেন সাঞ্জু স্যামসন।

ঘোষিত হওয়া দলে ফিরেছেন রিঙ্কু সিং ও ঈশান কিষাণ। ব্যাটিং বিভাগে আছেন সূর্যকুমার যাদব, অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা। দলে অলরাউন্ডারের সংখ্যা বেশি রাখা হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়া, শিভাম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর প্যাটেল আছেন সেই তালিকায়। অক্ষর প্যাটেলকে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে।

পেস বোলিংয়ের দায়িত্ব থাকছে জসপ্রিত বুমরাহ, হার্ষিত রানা ও আর্শদীপ সিংয়ের ওপর। স্পিন বিভাগে সুযোগ পেয়েছেন কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী। নির্বাচকেরা ভারসাম্য রেখে দল গঠনের চেষ্টা করেছেন।

ভারতীয় দল:
সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, ঈশান কিষাণ (উইকেটকিপার), সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), রিঙ্কু সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী, অর্শদীপ সিং, কুলদীপ যাদব, হার্ষিত রানা, ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর পাটেল (সহ অধিনায়ক)।




ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হলেন উপজেলা বিএনপির পদ স্থাগিত সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীররহর।

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকন জানান, নিজেদের মধ্যে ভুলবুঝাবুঝির কারণে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এটা আমরা মিমাংশা করার চেষ্টা করছি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে ফেরার পথে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বাসস্টান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এসময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.জালালুর রহমান আকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো.হাসিব ভুট্রো, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহীন হাওলাদার ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বাদলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আলিমুল ইসলাম মুন্সি জানান, মহান বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে দলের মাত্র নয়জন শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়। দলের পক্ষ থেকে ছাত্রদলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমলিন্য হয়। পরে বাসস্টান্ডে ওই সব নেতাকর্মীদের সাথে নিজাম মীরবহরের তর্কবির্তক হয়। এক পযার্য় বহিস্কিকৃত সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন নিজামকে লাঞ্চিত করে দলের কয়েকজন। আমি তাকে উদ্ধার করে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই।
আখতার হোসেন নিজাম মীরবহর জানান, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরার পথে বাসস্টান্ডে বসে মটর সাইকেল থামিয়ে তাকে লাঞ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে হয়েছে। যারা এটা করেছে তারা দলের ভালো চায় না।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.জালালুর রহমান আকন জানান, শহীদ মিনারে ফুল দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এরপরও ভুলবুঝাবিুজির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি একান্ত দলীয়, এটা আমরা মিমাংশা করে নিচ্ছি।
থানার ওসি নাছের রায়হান জানান, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসে এমন খবর শুনেছি। তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



বর্ষসেরা ফুটবলারের তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে লাউতারো

খেলাধুলা ডেস্কঃ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপের ড্রসহ নানা আলোচনায় মুখর ছিল এবারের ফুটবল বিশ্ব। এর মধ্যে আগামী বছরে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ঘিরে চলছে নানা আলোচনা।

সেই ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চলতি বছরের সেরা ১০০ পুরুষ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অর ও ফিফার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পর এই র‌্যাংকিংয়েও তিনি প্রথম হয়েছেন।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার কিশোর প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল এবং তৃতীয় স্থানে পিএসজির মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া। শীর্ষ দশে আরও আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেন, এরলিং হালান্ড, আশরাফ হাকিমি, রাফিনিয়া, মোহাম্মদ সালাহ ও পেদ্রি।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে লিওনেল মেসির অবস্থান। আর্জেন্টাইন মহাতারকা এবার তালিকায় ৩৪তম। গত কয়েক বছর ধরেই তার অবস্থান কমে আসছে। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম, ২০২৩ সালে দশম এবং ২০২৪ সালে ২৭তম ছিলেন তিনি। তবে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস শিরোপা জেতা ও টানা দ্বিতীয়বার লিগের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই অবস্থান পেয়েছেন। সংবাদমাধ্যমটির মতে, এটি খ্যাতির মাধ্যমে নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে

২০২৫ সালে তালিকায় সেরা আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে দ্বিতীয় বছর টানা জায়গা করে নিয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ। ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড রয়েছেন ২০তম স্থানে। তার পর আছেন হুলিয়ান আলভারেজ (২৫), আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৩৫), এনজো ফার্নান্দেজ (৪৭), গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ (৭৮) এবং তরুণ নিকো পাস (৮৬)।

অন্যদিকে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবস্থান আরও নেমে গেছে। তিনি এবার আছেন ৫১তম স্থানে। টানা কয়েক বছর ধরে সেরা দশের বাইরে রয়ে গেলেন। এই তালিকা তৈরিতে ভোট দেন সাবেক ফুটবলার, কোচ ও সাংবাদিক মিলিয়ে ২১৯ জন বিচারক। প্রত্যেকে ৪০ জন খেলোয়াড় বেছে নিয়ে পয়েন্ট প্রদান করেন। সমান পয়েন্ট হলে ব্যক্তিগত ভোটসংখ্যা ও সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটকে টাইব্রেকার হিসেবে ধরা হয়।




আলি জাফরের নতুন অ্যালবাম ‘রোশনি’ প্রকাশ

বিনোদন ডেস্কঃ পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা আলি জাফর তার চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘রোশনি’ মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাপী অ্যালবামটি প্রকাশিত হবে।

‘রোশনি’কে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্রবণ অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। অ্যালবামটিতে আলো ও অন্ধকার, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই, ভালোবাসা এবং অন্তর্দৃষ্টির জাগরণের মতো বিষয়গুলো আধুনিক সাউন্ড ও সৎ গল্প বলার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত স্পষ্টতা ও সত্যের পথে থাকার প্রত্যয়ই এই অ্যালবামের মূল বার্তা।

অ্যালবাম মুক্তির দিনই প্রকাশ পাবে প্রথম অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও ‘রুকসানা’। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ধারণ করা ভিডিওটিতে আলি জাফরের নতুন সাউন্ডস্কেপ ও স্টাইল তুলে ধরা হবে। নানা ঘরানায় সাবলীলভাবে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।

‘রোশনি’ সব প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। অ্যালবাম প্রকাশের পর পর্যায়ক্রমে আরও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও লাইভ এক্সটেনশন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

আলি জাফরের সংগীতযাত্রার এক নতুন ও শক্তিশালী অধ্যায়ের সূচনা করছে ‘রোশনি’। ‘হুক্কা পানি’ দিয়ে যাত্রা শুরু, ‘মাস্তি’তে বিস্তার এবং ‘ঝুম’-এ পরিপক্বতা অর্জনের পর এই অ্যালবামে এসে তিনি তুলে ধরেছেন আরও ব্যক্তিগত ও সমসাময়িক অনুভূতি।

তিনি একজন গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক, অভিনেতা ও ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট। পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে আধুনিক পপ সংস্কৃতি গঠনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। নিরন্তর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং গভীর শিল্পীসত্তার মাধ্যমে তিনি মূলধারার আবেদন ও অর্থবহ প্রকাশের মেলবন্ধন ঘটিয়ে চলেছেন।




লালমনিরহাটে সবজি চাষে কৃষক; বঞ্চিত লাভে মধ্যস্বত্বভোগী

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ দেশজুড়ে কৃষকরা যখন ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করছেন নানান ধরনের সবজি, তখন বাজারে সেই সবজির দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু চরম বাস্তবতা হলো এর অধিকাংশ লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, আর প্রথম স্রোতের নায়ক কৃষক রয়ে যাচ্ছেন প্রান্তে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন টনকে টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, মরিচ, মুলা, শিমসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি স্থানীয় কৃষকরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে পরিবহন খরচ অন্যদিকে পর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব সব মিলিয়ে কৃষকরা সবজি তুলেই যেন লোকসানে পড়ছেন। একই সবজি মাঠ থেকে কৃষক বিক্রি করছেন ১০–১২টাকায়, যা ভোক্তার কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০–৪০ টাকা।

এই ব্যবধান কোথায় যাচ্ছে…?

উত্তর একটাইঃ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

কীভাবে লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে.?

কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেন। এরপরে শহরের আড়তে গিয়ে তা বিক্রি হয় দ্বিগুণ বা তিগুণ দামে। এই চক্রে জড়িত থাকে: স্থানীয় দালাল,পরিবহন সিন্ডিকেট, আড়ৎদার ও শহরের খুচরা বিক্রেতারা। ফলে প্রকৃত উৎপাদক কৃষককে তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

কৃষকের কণ্ঠে ক্ষোভ:

আদিতমারী উপজেলার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, দ্রুত পচনশীল হওয়ায় আমরা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। অন্যদিকে হাতীবান্ধার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেয়,

আর আড়তে বিক্রি করতে গেলে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় কৃষকের লাভ আরও কমে যায়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতো, আমরা কিছুটা হলেও বাঁচতাম। দালালরা সব খেয়ে ফেলছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মত:

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ তৈরি না হলে কৃষি ব্যবস্হাপনা কখনোই টেকসই হবে না।

⇨প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠন গড়ে তুলে সরাসরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

⇨কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

করণীয় কী..?

⇨কৃষকের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তায় সরকারিভাবে সরাসরি ক্রয় কেন্দ্র চালু করা।

⇨ডিজিটাল কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

⇨স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের নজরদারি বাড়ানো

⇨কৃষকদের সংগঠিত করে পাইকারি বাজারে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,

চলতি মৌসুমে জেলায় আলু বাদে প্রায় ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ আবাদ আরও বাড়বে।

পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

উপসংহার:

“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”

এই কথা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ দুটোই বিপন্ন হতে পারে।




ঢাকা সেনানিবাসে ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, হবে সামরিক মর্যাদায় দাফন

ডেস্ক নিউজঃ সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা আগামীকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টার যোগে প্রেরণ করে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তার আগে, শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহবাহী ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাৎ বরণকারী ৬ জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন।

এছাড়াও মরদেহ গ্রহণকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি; আবেইতে মোতায়েনরত জাতিসংঘ মিশন ইউনিসেফ এর ফোর্স কমান্ডারের প্রতিনিধি, চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন); ওভারসিজ অপারেশন পরিদপ্তরের পরিচালক; ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ গ্রহণের সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সব সামরিক ব্যক্তি শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট দেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টারে করে পাঠিয়ে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় ৬ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হওয়ার পাশাপাশি ৯ জন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল–৩ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।




‘রঙ বাজার’-এর ফাস্ট লুক প্রকাশ, মুক্তি আসছে ঈদে

বিনোদন ডেস্কঃ মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী গল্পে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রঙ বাজার’–এর ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর আগে শুটিং শেষ হলেও অবশেষে মুক্তির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সিনেমাটির। আসন্ন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

এক রাতের মধ্যে একটি যৌনপল্লী উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে। বাস্তবতার ছোঁয়া দিতে চলচ্চিত্রের বড় একটি অংশের শুটিং করা হয়েছে দৌলতদিয়ায়। সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের জীবনের টানাপোড়েনকে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়।

পরিচালক রাশিদ পলাশ তার ফেসবুক পেজে ফার্স্ট লুক পোস্টার শেয়ার করে সিনেমার মুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই দর্শকদের জন্য সিনেমাটির টিজার প্রকাশ করা হবে।

‘রঙ বাজার’ সিনেমায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখেরা। নায়িকা হিসেবে রয়েছেন পিয়া জান্নাতুল। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ, বড়দা মিঠু, শম্পা রেজা, নাজনীন চুমকি, তানজিকা আমিন ও মৌসুমী হামিদ।

সিনেমাটির মূল ভাবনা দিয়েছেন তামজিদ অতুল, চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। প্রযোজনা করেছে লাইভ টেকনোলজিস। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন ঈদুল ফিতরেই দর্শকদের সামনে আসবে আলোচিত এই সিনেমা।




জাতীয় কবির সমাধির পাশে সমাহিত শহীদ ওসমান হাদি

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। বিকেল তিনটায় লাশ বহনকারীর অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের সামনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রবেশ করানো হয়েছে। লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ওপরে ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েমসহ তার সঙ্গীরা। অ্যাম্বুলেন্সটি আসার পাঁচ মিনিট পর কেন্দ্রীয় মসজিদের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা শুরু হয়। জানাজাস্থল ও টেলিভিশনে যারা সরাসরি দেখেছেন তাদের বেশিরভাগই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

এদিকে জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতারাও জানাজায় অংশ নেন। শহীদ ওসমান হাদির জানাজা ঘিরে সকালে থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সকাল সাড়ে ১০টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতাকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেন। আর্চওয়ে গেট দিয়ে ছাত্র-জনতা দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করেন।