গাজায় বিয়ের আসরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, শিশুসহ নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিয়ের আসরে এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলায় বর-কনে পক্ষের অন্তত ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অধীনে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এমন প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

তুফাহ এলাকার একটি স্কুল ভবনে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখানেই দোতলার একটি কক্ষে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। আনন্দমুখর সেই পরিবেশে হঠাৎ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হলে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ শোকে পরিণত হয়।

আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জায়গায় এই হামলার কোনো যৌক্তিক কারণ এখন পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন স্তরের একটি শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, যার মেয়াদ বর্তমানে শেষের দিকে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার জন্য জোরালো তাগাদা দিচ্ছেন, তখন আইডিএফ-এর এই কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিকবার হামলা চালিয়ে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তুফাহ এলাকার এই স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে যখন সাধারণ মানুষ একটু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, তখন বিয়ের আসরে এই রক্তপাত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা




জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে ওসমান হাদি হত্যা ইস্যু, বিচার চাইলেন মহাসচিব

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে স্টিফেন দুজারিক বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে এসেছে। মহাসচিব এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সহিংসতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে, যাতে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকে।

এর আগে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার তুর্ক।

জেনেভা থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, গত বছর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মৃত্যুবরণ করেন। বিবৃতিতে মানবাধিকার কমিশনার বলেন, প্রতিশোধ কেবল বিভেদকে আরও গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।




এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকারের (এ.কে. খন্দকার) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, এ.কে. খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় সৈনিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অটল দেশপ্রেম স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও সুসংহত করেছিল।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এ.কে. খন্দকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে এই বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে অসামান্য অবদান রাখেন।’

তিনি বলেন, এ. কে. খন্দকার রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে পতিত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ব্যাপক রোষানলে পড়েন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই ছিলো পতিত শাসনের দৃষ্টিতে তার অপরাধ।

তিনি বলেন, এ.কে. খন্দকার ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা মুক্তিযোদ্ধা, সৎ ও সাহসী এবং আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক। তার কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ. কে. খন্দকারের মৃত্যুতে একজন বীর সন্তানকে হারাল দেশ। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।




জানাজার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগের উদ্দেশে লাখো জনতা

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ‍ও জুলাই বিপ্লবী শহিদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজার পর মিছিল নিয়ে সবাইকে শাহবাগে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জানাজার পর মানুষের স্রোত নেমেছে শাহবাগের উদ্দেশে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা এখানে কান্না করার জন্য দাঁড়াইনি, ভাইয়ের বদলা নিতে জানাজায় দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলে, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাদির ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে সপ্তাহব্যাপী তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানানোর দাবি করেন তিনি।

এর আগে হাদির জানাজায় বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি হাদির জন্য সকলের কাছে দোয়া চান। জাবেরের পর বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর বক্তব্য রাখেন হাদির বড় ভাই। এবং তিনিই হাদির জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।




ভাইয়ের ইমামতিতে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজঃ বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। 

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণে তার নামাজে জানাজা শুরু হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গতকাল শুক্রবার জানানো হয়, শনিবার ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহিদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
এতে আরও বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় যারা অংশ নিতে আসবেন তারা কোনো প্রকার ব‍্যাগ বা ভারি বস্তু বহন না করার জন‍্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।



নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৯০.৩৬ শতাংশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ (এনটিকিউবি) পরিচালিত তৃতীয় শ্রেণির ১৯তম সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শায়খুল কুরআন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের পরিচালক মাওলানা কালিমুল্লাহ জামিল হুসাইন।

দেশের মোট ১ হাজার ১২টি কেন্দ্রে গত ২৯ নভেম্বর দেশব্যাপী একযোগে এই সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়ে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে।

এতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ৫৩২ জন এবং পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা কালিমুল্লাহ জামিল হুসাইন বলেন, দেশব্যাপী তরুণ আলেমদের কাছে অনুরোধ করছি যে একটি নীরব সাধনায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করতে হবে, আর তা হচ্ছে প্রতিটি গ্রামে, পাড়ায় ও মহল্লায় নূরানী মাদরাসা, নূরানী স্কুল, নূরানী মকতব ও ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিটি সন্তানের কাছে দ্বীন শিক্ষাকে সহজ থেকে সহজতর করতে হবে।

পরীক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব ইসমাঈল বেলায়েত হুসাইন বলেন, শিশুরা কাঁচামাটির মতো। তাদের যেভাবে গড়ে তুলবেন, তারা সেভাবেই গড়ে উঠবে। আমরা দ্বীন ধর্ম ও মাতৃভূমির ভালোবাসায় সন্তানদের গড়ে তুলি। সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করে নূরানী বোর্ড।

এদিকে এই অনুষ্ঠানে তরুণদের জন্য ‘শায়খুল কোরআন আল্লামা কারী বেলায়েত হুসাইন (রহ.) স্কলারশিপ’-এরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০ লাখ টাকা সমমূল্যের এই স্কলারশিপ পাবেন ১০০ তরুণ। মনোনীত ১০০ তরুণ ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্সটি বিনামূল্যে করতে পারবেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মাওলানা আবু বকর ও মাওলানা তারেক হুসাইনসহ নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলগণ।




ওসমান হাদির দাফন উপলক্ষে ঢাবিতে ভিড় এড়াতে প্রশাসনের আহ্বান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। হাদির দাফন ঘিরে ক্যাম্পাসে ভিড় না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিড় না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জন-সাধারণের স্বাভাবিক চলাফেরায় সাময়িক অসুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে জানাজায় অংশ নিতে আসা লাখো ছাত্র-জনতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করেছেন। মানিক মিয়া এভিনিউতে দীর্ঘক্ষণ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করার পর সকাল সাড়ে ১০টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনতাকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেন। এ সময় চীন থেকে আনা ৮টি আর্চওয়ে গেট দিয়ে ছাত্র-জনতা দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করেন।




‘তাকদীর’–এর ৫ বছর: যেভাবে ওটিটিতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল

বিনোদন ডেস্কঃ এক তরুণীর মুখ। আপাতদৃষ্টে ভাবলেশহীন। একটু পরই কথা বলতে শুরু করে সে। কোনো বাড়তি আবেগের প্রকাশ নেই, নেই কোনো আবহসংগীত। ক্যামেরা কাছে এলে স্পষ্ট হয়, অদ্ভুত অন্তর্ভেদী দৃষ্টি তার। শীতল চাহনির আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনো দুঃসহ অতীত স্মৃতি। ধর্ষণের শিকার হয়েছে সে।

বাংলা কনটেন্টে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে নানাভাবেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে দর্শকের সঙ্গে। তবে ‘তাকদীর’-এর এই সূচনা পর্ব অনেক অর্থেই দেশি দর্শকের কাছে ‘ভিনদেশ’। আবহ সংগীতের অতি ব্যবহারে বাড়তি নাটকীয়তা তৈরির চেষ্টা নেই, কথা বলার সময় কান্নাকাটি নেই। বাস্তবে যেমন হয় বলে ইনটিউশন আপনাকে বলে দেয়, তেমনই। ‘তাকদীর’-এর এই সূচনা দৃশ্যই আসলে বহুল চর্চিত সিরিজটির সুর বেঁধে দিয়েছে। এরপর পর্বগুলো এগিয়েছে সে পথ ধরেই। একই সঙ্গে সিরিজটি কি বাংলা কনটেন্টের গতিপথও ঠিক করে দেয়নি?

২০২০ সালে ‘তাকদীর’ দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় সৈয়দ আহমেদ শাওকীর। আজ ১৮ ডিসেম্বর সিরিজটি মুক্তির পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে প্রচারিত সিরিজটি নির্মাণ করেছিল প্রযোজনা সংস্থা ফিল্ম সিন্ডিকেট।

কোনো এক বিকেলে

নির্মাতা শাওকী সাক্ষাৎকারে আগে বলেছিলেন ‘তাকদীর’ নির্মাণের গল্প। এক বিকেলে তাঁদের দেখা করার কথা হইচইয়ের তখনকার হেড অব কনটেন্ট অনিন্দ্য ব্যানার্জির সঙ্গে। শাওকীদের মাথায় কোনো গল্প নেই, মিটিংয়ে যাওয়ার সময় হাঁটতে হাঁটতে একটা প্লট ভেবে বলে দিলেন। অনিন্দ্য বললেন, ‘এটা কি এক্ষুনি আসতে আসতে বানালি?’ সেই সঙ্গে জুড়ে দিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রশ্নও, ‘এই গল্প যদি বাংলাদেশে না হয়ে টেক্সাসে হয়, তাহলে কি গল্পটা বদলে যাবে?’ না, বদলাবে না। এ উত্তর শুনে তিনি বললেন, এ রকম গল্প তাঁর চাই না। তাঁর চাই এমন গল্প, যা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। এভাবেই এসেছিল ‘তাকদীর’-এর গল্পটা।

সম্পাদক অনীমের যাত্রা শুরু
সম্পাদক, নির্মাতা, প্রযোজক—এখন নানা ভূমিকায় সালেহ সোবহান অনীম পরিচিত হলেও অনেকেই হয়তো জানেন না, ‘তাকদীর’ দিয়েই শুরু হয় তাঁর সম্পাদনার যাত্রা। সালেহ সোবহান জানালেন, সম্পাদনা তিনি শিখেছেন বিপদে পড়ে। ‘তাকদীর’-এর শুটিংয়েই সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। পোস্টপ্রোডাকশনের বাজেট আর ছিল না। তাই নিজে নিজেই সম্পাদনা শিখে নিতে হয়। পরে এ বিষয়ে আগ্রহও তৈরি হয় তাঁর। আশপাশের বন্ধুরাও বুঝতে পারেন, সম্পাদনায় তাঁর একটা দক্ষতা তৈরি হয়েছে। এভাবে আস্থাও গড়ে ওঠে।

করোনার সেই সময়ে

হইচইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্মৃতিচারণা করা হয়েছে ‘তাকদীর’-এর নির্মাণের গল্পের। সালটা ২০২০, সারা বিশ্বে করোনা। অদ্ভুত এক অস্থির সময়, যেখানে বিনোদনের সুযোগ খুব একটা নেই। আবার অন্যদিকে বাংলাদেশের ওটিটির উত্থান। আবার এই ওটিটি নিয়ে ভালো-মন্দ, শ্লীলতা-অশ্লীলতা নিয়ে চলছে তর্কবিতর্ক। ঠিক সেই সময় মুক্তি পায় ‘তাকদীর’।

ওয়েব কনটেন্টে সিরিজটিকে ‘এক মাইলফলক’ উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘হইচইয়ে মুক্তির পর থেকে সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশের ক্রাইম-থ্রিলার ও স্লো-বার্ন ঘরানার ড্রামা হিসেবে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও বেশ পরিচিতি পায় কনটেন্টটি। গল্প, নির্মাণশৈলী ও পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ‘তাকদীর’ এখনো দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, দুর্নীতি ও মানবিক সিদ্ধান্তের জটিলতা, মার্ডার মিস্ট্রি—এই সবকিছুকেই দক্ষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় সিরিজটিতে।’

সিরিজে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, সোহেল মণ্ডল, সানজিদা প্রীতি, পার্থ বড়ুয়া, মনোজ কুমার প্রামাণিক, ইন্তেখাব দিনার, সমু চৌধুরীসহ অনেকে।কী বলছেন নির্মাতা
‘তাকদীর’-এর চিত্রনাট্য যখন তৈরি হচ্ছিল, গল্পটা ছিল বেশ আনকনভেনশনাল (অপ্রচলিত) এবং ডার্ক ঘরানার। কিন্তু মুক্তির পর দেখা গেল, এটা সাধারণ দর্শকের আবেগকেও ছুঁয়ে গেছে। মানবিক গল্পে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল? কী বলছেন নির্মাতা
‘তাকদীর’-এর চিত্রনাট্য যখন তৈরি হচ্ছিল, গল্পটা ছিল বেশ আনকনভেনশনাল (অপ্রচলিত) এবং ডার্ক ঘরানার। কিন্তু মুক্তির পর দেখা গেল, এটা সাধারণ দর্শকের আবেগকেও ছুঁয়ে গেছে। মানবিক গল্পে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?




শানাকার ওপরই ভরসা শ্রীলঙ্কার

খেলাধুলা ডেস্কঃ ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আসরকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দাসুন শানাকা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নির্বাচক কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নভেম্বর পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজে অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেনি চারিথ আসালাঙ্কা। তখন অন্তর্বর্তী অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় শানাকাকে। তার নেতৃত্বেই শ্রীলঙ্কা সেই সিরিজের ফাইনালে ওঠে। তবে ২৯ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে ফাইনালে স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তার দল।

নতুন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান প্রমোদয়া বিক্রমাসিংহে জানান, আসন্ন বড় আসরের আগে নেতৃত্বে স্থায়ী নেতৃত্ব বাছাই করতে চান তারা। সে কারণেই অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেলেও, শানাকাকেই অধিনায়ক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগের কমিটি ঘোষিত ২৫ সদস্যের স্কোয়াডেও কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

চারিথ আসালাঙ্কা এখন পুরোপুরি সুস্থ। তিনি বিশ্বকাপের ২৫ সদস্যের দলে আছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম ভালো নয়। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তিনি করেছেন ১৫৬ রান। গড় ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৬০। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা চলতি বছরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালেও উঠতে পারেনি।

এছাড়া পাকিস্তান সফরে শ্রীলঙ্কা দলের ভেতরের অসন্তোষের ঘটনাতেও আসালাঙ্কার নাম জড়ায়। রাওয়ালপিন্ডির স্টেডিয়াম থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সন্ত্রাসী হামলার পর খেলোয়াড়দের ফেরানোর বিষয়ে বোর্ড ও সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার হয়েছিল। এসব বিষয়েও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সন্তুষ্ট ছিল না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।

নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের পর শানাকাই এখন পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দেবেন। বিশ্বকাপের আগে দল গঠনে ধারাবাহিকতাই এখন বোর্ডের মূল লক্ষ্য।




আজ ১৯ ডিসেম্বর—২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির সর্বশেষ মূল্য

বাণিজ্য ডেস্কঃ বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ার ফলে দেশের বাজারেও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সমন্বয় করে কার্যকর করা এই দামেই শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) স্বর্ণ বিক্রি হবে।               

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা  (যা সোমবার ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা)।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ২১১ টাকা (যা সোমবার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা), ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ টাকা (যা সোমবার ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা), এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা (যা সোমবার ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা)। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।