তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: দুদকের অভিযানেও নড়েনি সিন্ডিকেট

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তেজগাঁও। এই এলাকার সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এখানে বৈধ ফি দিয়ে কাজ করানো প্রায় অসম্ভব। বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ উঠছে, এই অফিসে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সক্রিয়, যারা রেজিস্ট্রার বদল হলেও নিজেদের অবস্থান অটুট রেখেছে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ছদ্মবেশে অভিযান চালায়। দুদকের জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় দুইজন নকলনবিশ ও একজন দালালকে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়।

অভিযানে দুদক টিম দেখতে পায়, দলিল সার্চ, দলিল যাচাই ও দলিলের নকল উত্তোলন—এই প্রতিটি ধাপেই সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে। আরও গুরুতর বিষয় হলো, অফিসে কোথাও নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সিটিজেন চার্টার টাঙানো নেই। নকল উত্তোলন ও সার্টিং সেবার নামে আদায় করা টাকার সঙ্গে সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেওয়া টাকার স্পষ্ট গরমিল পাওয়া গেছে, যা রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

দুদকের অভিযানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে রেকর্ডরুম নিয়ে। সংরক্ষিত ও সংবেদনশীল এই কক্ষে অবাধে ঢুকছে দালাল ও এখতিয়ারবহির্ভূত ব্যক্তিরা। এমনকি দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত লোক দিয়ে দলিল যাচাই করানো হচ্ছে, যা প্রচলিত আইন ও বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা দুদক টিমকে জানান, ঘুষ না দিলে এখানে একটি কাজও এগোয় না। প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয়।

একই দিনে দুদক তেজগাঁও ভূমি অফিসেও আলাদা অভিযান চালায়। সেখানে ভূমি সেবা দিতে গড়িমসি, হয়রানি এবং দালালনির্ভর কার্যক্রমের প্রমাণ মেলে। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিসের ভেতরে না ঢুকেই দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া গত জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসনের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন দালালের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথিও সংগ্রহ করে দুদক।

দুদক জানিয়েছে, এই দুই অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে—এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আদৌ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? অভিযানে ধরা পড়া দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কি কোনো বিভাগীয় বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ট্রেজারি অর্থের গরমিল নিয়ে কি আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর মানুষ আশা করেছিল প্রশাসনে শুদ্ধতা আসবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুর্নীতি থামেনি। বরং অভিযোগ উঠেছে, আগের চেয়েও আরও সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট।

দুদকের অভিযান দুর্নীতির চিত্র সামনে এনেছে ঠিকই, কিন্তু সিন্ডিকেট ভাঙার বাস্তব কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। যতদিন পর্যন্ত দালাল চক্র ও তাদের মদদদাতা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হবে, ততদিন তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিস শুধু একটি অফিসের দুর্নীতির গল্প নয়—পুরো রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক হয়েই থাকবে।




ঢাকা বিভাগের খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থায় ঘুষের ছক: ৩০ কোটি টাকার ঠিকাদারি নিয়ে ডিজি-আরএফসি যোগসাজশের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ সরকারি খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত ঢাকা বিভাগে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে একটি সংগঠিত ঘুষ-নির্ভর সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সড়কপথে খাদ্য পরিবহনের ঠিকাদারি বণ্টনে অন্তত ৩০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করা হয়েছে। এই ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর এবং ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সুফি সাগর শামস এই অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, খাদ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ৮১৯টি পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার সুযোগ না দিয়ে পূর্বনির্ধারিতভাবে মাত্র ৩০০টির মতো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই তালিকায় জায়গা পেতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিলেন মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর এবং আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন। মাঠপর্যায়ে ঘুষ আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন সুরাইয়া খাতুন, যিনি সরাসরি টাকা না নিয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করেন। অভিযোগে যেসব ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন আবুল কালাম আজাদ (জননী এন্টারপ্রাইজ), জাহাঙ্গীর আলম (সেতারা অ্যান্ড সন্স), আব্দুল হাই রাজু (এ. হাইএন্ড ব্রাদার্স), আনসার হাজী (তালুকদার এন্টারপ্রাইজ), আলী নূর (এ আর এন্টারপ্রাইজ) এবং হারুন অর রশিদ (রিমি এন্টারপ্রাইজ)। এই ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘুষ সংগ্রহ করে পছন্দের তালিকায় নাম তোলার নিশ্চয়তা দেওয়া হতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

ই-টেন্ডার পদ্ধতি থাকলেও বাস্তবে সেটিকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গত ২২ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হলেও ভালো দর পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেক ঠিকাদারের আর্থিক ও কারিগরি নথি নিজেদের কাছে রেখে দেন সুরাইয়া খাতুন। যারা ঘুষ দিতে রাজি হন, তাদের নথি ঠিকঠাক রাখা হয়। আর যারা অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো দরপত্র কারসাজি। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ৪৬৭ জন ঠিকাদারের দরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল চিহ্ন ও অস্বাভাবিক উচ্চ দর দেখানো হয়। অন্যদিকে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তাদের শত শত দরপত্র একই কলম, একই হাতের লেখা ও একই লেখনীর ধরনে লেখা, যা পরিকল্পিত জালিয়াতির প্রমাণ বলে দাবি করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় বসে এবং কার নির্দেশে এতগুলো দরপত্র একই হাতে লেখা হলো।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ২৪ অক্টোবর চিটাগাং রোড এলাকার একটি তাজমহল কমিউনিটি সেন্টারে সাধারণ ঠিকাদারদের ডেকে এনে জোর করে দরপত্র নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। যারা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এটি ছিল প্রশাসনিক ক্ষমতার সরাসরি অপব্যবহার।

এই পুরো অনিয়মের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন (নিবন্ধন নং ৮১৬), মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ (নং ৪৬৮), মেসার্স আমির ব্রাদার্স (নং ৮৫৬) এবং মেসার্স জেড এ এন্টারপ্রাইজ (নং ৮৯২) গত ২৩ অক্টোবর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নীরবতাই দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অতীতেও সরকারি পরিবহন পুলে দায়িত্ব পালনকালে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি গাড়ির তেল বিক্রির মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। তবে সেসব অভিযোগ কখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখ দেখেনি।

এখন দুদকের সামনে বড় প্রশ্ন হলো—ই-টেন্ডার ব্যবস্থাকে কীভাবে ভেঙে হাতে লেখা দরপত্র চালু করা হলো, কার নির্দেশে শত শত দরপত্র একইভাবে তৈরি হলো এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীরা দরপত্র প্রক্রিয়া জব্দ, ব্যাংক লেনদেন তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।




পিরোজপুরে নারী ও কন্যার প্রতি প্রযুক্তির জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রেস ব্রিফিং

পিরোজপুর প্রতিনিধি : নারী ও কন্যার প্রতি প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং  অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলন আয়তনে গণউন্নয়ন সমিতির আয়োজনে প্রতিরোধ, প্রশমন ও সর্বপক্ষীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রেস ব্রিফিং  অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি  প্রযুক্তি-নির্ভর জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. জিয়াউর রহমান। গণউন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. রব্বানী ফিরোজ। পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন মাসুদ, প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি মো. খেলাফত হোসেন খসরু, এডভোকেট ওয়াহিদ হাসান বাবু, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক  নাইন তালুকদার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সভাপতি এইচ. এম. জুয়েল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে নারী ও কিশোরীরা অনলাইনে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, সাইবার বুলিং ও মানহানির মতো সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের জন্য সহজ অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত আইনি সহায়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল অবদানের জন্য ১৪ জন নারী প্রতিনিধিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সচেতন নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ৪৬ জন অংশগ্রহণ করেন।



রিয়েলমি সি৮৫-এর অ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইনে দেখানো হলো নেক্সট-লেভেল ডিউরেবিলিটি ও পাওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নতুন নিয়ে আসা রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের অসাধারণ সক্ষমতাকে তুলে ধরতে বিশেষ অ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি। গত ০১-১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের প্রধান প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট স্থানগুলোতে হাজার হাজার ক্রেতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। ব্যবহারকারীদের বাস্তব চাহিদা পূরণে সেগমেন্টের সেরা প্রযুক্তি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে রিয়েলমির প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ এ ক্যাম্পেইন।

 

অ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে রিয়েলমির পক্ষ থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এনআরএন নিট অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ডায়নামিক এক্সপেরিয়েন্স জোনের ব্যবস্থা করে রিয়েলমি। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সি৮৫ সিরিজের বিশেষ ফিচার, যেমন আইপি৬৯ প্রো রেটিং ও উদ্ভাবনী রিভার্স চার্জিং সুবিধাসহ সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সম্পর্কে ক্রেতাদের সামনাসামনি সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা।
এক্সপেরিয়েন্স জোনগুলো রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে ডিজাইন করা হয়। এতে আইপি৬৯ প্রো রেটিংয়ের দৃঢ়তা প্রমাণ করতে সি৮৫ সিরিজের স্মার্টফোনগুলোকে নির্দিষ্ট সময় ধরে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর ডুবিয়ে রাখা হয়। যেখানে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সুবিশাল ব্যাটারিকে পোর্টেবল পাওয়ার সোর্স হিসেবে দেখানো হয় এবং একইসাথে, এর রিভার্স চার্জিং ফিচারের মাধ্যমে পরিচালিত চার্জিং ব্যবস্থা প্রতিদিনের জীবনে কী ভূমিকা রাখছে তা তুলে ধরা হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা ডিভাইসটির ডিউরেবিলিটি হাতে-কলমে পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পান।
প্রাণবন্ত এই ক্যাম্পেইনটি কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং, বিভিন্ন গেমস ও ইন্টারেক্টিভ অ্যাকটিভিটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে ব্র্যান্ডটি। পুরো আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পেইনটিতে ৮,৩০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে আকর্ষণীয় উপহার ও পুরস্কার জিতে নেন ১,৬৮০-রও বেশি মানুষ।
শক্তিশালী এই অ্যাক্টিভেশনের মাধ্যমে রিয়েলমি আবারও এর ফ্যানদের সাথে গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করলো। স্মরণীয় ও আনন্দদায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের যুক্ত করার পাশাপাশি, রিয়েলমি সি৮৫ সিরিজটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসমস্ত বাস্তব সমাধান নিয়ে এসেছে তা-ও ভালোভাবে তুলে ধরা হয়। মানসম্পন্ন প্রযুক্তিকে সবার জন্য সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডটির দৃঢ় প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ এই অ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইন।



“মহান বিজয় দিবস ২০২৫” উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন

জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সকালে জেলার কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা, বিপিএম +বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), জনাব শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড (অপস্), জনাব এ কে এম ফজলুল হক,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল)

ডিআইও-১, জেলা বিশেষ শাখা, অফিসার ইনচার্জ, লালমনিরহাট থানা, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি সম্মান এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




ই-ডিএলএমএসে চাকরির আশায় সর্বস্ব হারালেন প্রার্থীরা, এমডি মিজান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ভূমি অধিদপ্তরের ই-ডিএলএমএস (ই-ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) প্রকল্পে আউটসোর্সিং নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বহু চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা দিয়েও কেউ চাকরি পাননি, আবার অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক ভুক্তভোগী আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এই ঘটনায় মো. হাবিবুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগে বলা হয়, স্টেট সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান এবং তার শ্যালক জাকির হোসেন চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে প্রথমে ২ লাখ টাকা নেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে আরও ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীকে ইসলামী ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট হিসাব নম্বর ২০৫০২০৫০২১৪৪৮৪১০-এ টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি তারিখে ২ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়ার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ দেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ ছিল। একই অ্যাকাউন্ট নম্বর বারবার ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরো লেনদেনকে পরিকল্পিত প্রতারণার ইঙ্গিত দেয়। এসব কাগজপত্র ও ব্যাংক লেনদেনকে ঘুষ, আর্থিক জালিয়াতি এবং প্রতারণার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কিছু নির্দিষ্ট আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে ই-ডিএলএমএস প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চেইনম্যান, সার্ভেয়ার ও কম্পিউটার অপারেটরের মতো পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। প্রার্থীদের বলা হতো, সবকিছু “উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনে” হচ্ছে এবং “প্রকল্প পরিচালকের সুপারিশ” রয়েছে। পরে এসব কথাই যে মিথ্যা ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

এই প্রতারণার শিকারদের বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকেই পরিবারের জমানো টাকা, ঋণ কিংবা স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে তারা এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত। কেউ কেউ পাওনাদারদের চাপ সহ্য করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শক্তিশালী এই চক্রের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, সরকারি বা সরকারি প্রকল্পের নিয়োগে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। লিখিত নির্দেশনা ও টাকা নেওয়ার প্রমাণই দেখায় যে এটি একটি সাজানো নিয়োগ বাণিজ্য। টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা চাকরি দেয়নি, আবার অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আউটসোর্সিং নিয়োগে যথাযথ সরকারি নজরদারি না থাকায় এ ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু চাকরিপ্রার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ছাড়া সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চান। তারা অভিযুক্ত এমডি মিজানুর রহমান, জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, নেওয়া অর্থ ফেরত, ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।




হাজারীবাগে হোস্টেলে মিললো এনসিপি নেত্রী জান্নাতারার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি ছাত্রীবাস থেকে জান্নাতারা রুমী (৩০) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে ছাত্রীবাস থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতারা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জান্নাতারা রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর থানাধীন মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান বেগম।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সে এলাকায় থাকাকালীন এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।




১২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকা থেকে আটক ১২ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে তাদের হেফাজত থেকে মুক্তি দিয়েছে। 

বুধবার (১৭ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস টেলিগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কেরেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

বন্দি মুক্তির এই খবরের পাশাপাশি গাজায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের ছোড়া একটি মর্টার শেল ভুলবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ার কারণে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ বুধবার এই সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই তাদের এই ভুল শেলিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মর্টার শেলটি লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার বিষয়টি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং তারা ইতিমধ্যে এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। তবে গাজায় চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও এ ধরনের প্রাণঘাতী যান্ত্রিক বা কৌশলগত ভুল সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১২ ফিলিস্তিনির পরিচয় বা তাদের আটকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।




মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা ছাড়া ভারত বিজয় অর্জন করতে পারতো না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত সবসসময় এই মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে।  তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা ছাড়া তারা এ বিজয় অর্জন করতে পারতো না। 

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিজয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা কলকাতায় যেমন এটাকে ওই অন্যভাবে পালন করে— তাদের ওই যে ইস্টার্ন কমান্ড দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ তারা তা মনে করে, তারা যুদ্ধ করে তাদের সেনাবাহিনী বিজয় অর্জন করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা বিজয় অর্জন করেছে সত্য। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের যে বিজয়, সেটাতে তাদের লিটারেচারগুলো পড়েন। আমার বইয়ের মধ্যেও তার কিছু কিছু রেফারেন্স আছে। তাদের বিশেষজ্ঞ যারা তারাই বলছেন যে, যেভাবে সফটেন করে রেখেছিল পাকিস্তান আর্মি রেজিস্টেন্সকে, সেটা না করলে ভারতের এই বিজয়ের জন্য অনেক সময় লাগতো। অনেক বেশি ক্ষয় হতো, অনেক মানুষ নিহত হতো।

তৌহিদ হোসেন বলেন,  মুক্তিযোদ্ধারা যেহেতু পূর্ববর্তী ৯ মাস না ধরুন, ৬ মাস ধরুন— তখন থেকে তারা ফুললি অ্যাক্টিভ হয়েছে। প্রথমে তো একটা রেজিস্টেন্স গেছে। কিন্তু তারপর তো জুনের দিক থেকে পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধা।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানটাকে যারা অস্বীকার করেন, তারা মিলিটারি হিস্ট্রি বা মিলিটারি সায়েন্স সম্বন্ধে তাদের কোনও জ্ঞান নেই। তারা এটাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অস্বীকার করার কোনও অর্থ হয় না। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা ছাড়া তারা এ বিজয় অর্জন করতে পারতো না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর) রাত পর্যন্ত জানি যে, তারেক রহমান ট্রাভেল পাসের আবেদন করেননি।




সৌদিতে অনুমতি ছাড়া নির্বাচনি সভা, বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আটক

ডেস্ক নিউজঃ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার বিষয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে দূতাবাস। এরইমধ্যে এমন ঘটনায় কয়েকজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন বলে দূতাবাস জানিয়েছে।

বুধবার (১৭ ডি‌সেম্বর) রাতে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে বাংলাদে‌শি নাগ‌রিকদের সতর্ক করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হলরুম ভাড়া করে এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে অননুমোদিত বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশ আয়োজন, দলবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করে।

এমতাবস্থায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ আয়োজন, রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

একইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবের আইন-কানুন বিধি-বিধান মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানায় দূতাবাস।