ভেষজের আড়ালে কেমিক্যাল? আরগন ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ- ২য় পর্ব

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ডেমরাভিত্তিক বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক—এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন আর বিচ্ছিন্ন অনিয়মের পর্যায়ে নেই; বরং তা রূপ নিয়েছে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক গভীর, সুপরিকল্পিত হুমকিতে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক পরিচয়ের আড়ালে এসব প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে এমন সব পণ্য, যেগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান—যার ফলাফল ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভেষজের নামে রাসায়নিক বিষ-কি আছে এসব ওষুধে ?

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যৌনশক্তিবর্ধক সিরাপ ও ক্যাপসুলে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে— সিলডেনাফিল সাইট্রেট (যা সাধারণত প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ) ট্রাডালাফিল সাইট্রেট, ক্যাফেইন (অতিরিক্ত মাত্রায়), এছাড়া তথাকথিত “ভিটামিন” বা “স্বাস্থ্যবর্ধক” ওষুধে পাওয়া যাচ্ছে—গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ কেমিক্যাল সিপ্রোহেপ্টাডিন (Cyproheptadine) শক্তিশালী স্টেরয়েড গ্রুপের ডেক্সামেথাসন এবং মাত্রাতিরিক্ত সিএমসি (Carboxymethyl Cellulose), এইসব উপাদান দীর্ঘদিন সেবনের ফলে মানবদেহে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে- লিভার বিকল কিডনি নষ্ট, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “এগুলো কার্যত ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতোই অপরাধ।”

IMG 20260409 150203.jpg

আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস: লাইসেন্স এক জায়গায়, অপারেশন আরেক জায়গায় : আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ময়মনসিংহের ঠিকানায় লাইসেন্স নিলেও তাদের কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। লাইসেন্সে ‘ল্যাবরেটরি’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তারা বাজারে বিভিন্ন নামে পণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া তারা অনলাইনেও এই ওষুধের প্রচার প্রসার এবং ওষুধ বিক্রয় করছে। যেটার অনুমোদন তাদের নেই।

অভিযোগ রয়েছে—“ডায়কেয়ার, ‘নাইটেক্স, ‘রিস্টোর সহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে ডায়াবেটিস নিরাময়” বা “ইনসুলিন স্বাভাবিক হবে – এমন বিভ্রান্তিকর দাবি করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, *ডায়াবেটিস নিরাময়ের মতো দাবি করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং প্রমাণ ছাড়া এটি সরাসরি প্রতারণার শামিল।”

WhatsApp Image 2026 04 11 at 2.23.16 PM

ডেসটিনি মডেলের পুনরাবৃত্তি? কমিশনভিত্তিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক : ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— একটি শক্তিশালী মার্কেটিং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারাদেশে কমিশনভিত্তিক বিক্রয় চালানো হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্কে— সাধারণ মানুষকে “ব্যবসা” করার লোভ দেখানো হচ্ছে, রোগ নিরাময়ের গল্প ছড়িয়ে পণ্য বিক্রি বাড়ানো হচ্ছে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেকে এটিকে অতীতের বহুল আলোচিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতারণার নতুন সংস্করণ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

বিদেশে বসে ‘ব্যবসা’, দেশে মৃত্যুর মিছিল ? অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু বক্কর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারসহ অবস্থান করে বাংলাদেশে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য—“দেশের সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।” এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে, যা এই চক্রকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

element

হুমকি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
এই অনুসন্ধানের সময় ইকরামুল ওরফে সোহেল নামে এক ব্যক্তি এই পত্রিকার সাংবাদিককে হুমকি ধুমকি দিয়ে বলে— “আমরা অনলাইনে ব্যবসা করি আর কেমিক্যাল দিয়ে মাল তৈরি করি, কিন্তু আপনার কী? ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, আপনারা লিখে কিছুই করতে পারবেন না।”

পরবর্তীতে প্রশ্ন শুরু করলে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে ফোন কেটে দেয়।

পরবর্তীতে আমরা যাচাই-বাছাই করে জানতে পারলাম, সে আরগন ফার্মাসিটিক্যালের মালিক আবু বক্করের আপন ছোট ভাই।
আরো জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন লোককে ফোন দিয়ে থাকে এবং অনেকের সঙ্গেই সে খারাপ আচরণ করে।

photo collage.png (38)

ডেমরার বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল: দেয়ালঘেরা ‘রহস্য কারখানা’ : ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় অবস্থিত বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কারখানাকে ঘিরে অভিযোগ আরও ভয়াবহ।

স্থানীয়দের দাবি— তিনতলা ভবনটি চারদিকে দেয়ালঘেরা গেট প্রায় সবসময় বন্ধ থাকে সাংবাদিক বা বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

সাবেক কর্মচারীদের ভাষ্য—এখানে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ক্যাপসুল তৈরি হয়, অভিযান বা সাংবাদিক আসার খবর পেলেই গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, ভয়ের কারণে অনেক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মালিক শাখাওয়াত হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়।”

photo collage.png (36)

মৃত মানুষের ওপর দাঁড়িয়ে কোটি টাকার সাম্রাজ্য : সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ— এইসব পণ্য সেবনের ফলে অসংখ্য মানুষ ধীরে ধীরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেউ লিভার নষ্ট হয়ে, কেউ কিডনি বিকল হয়ে, কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন হারাচ্ছেন—আর সেই মৃত মানুষের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠছে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, এই লুটপাটের ভাগ পাচ্ছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলও।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— “বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-এতদিন কেন এসব কার্যক্রম চলতে পারলো? কারা দিচ্ছে এই অবৈধ সুরক্ষা?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা : বিশেষজ্ঞদের মতে—
অনুমোদনবিহীন বা অজানা উৎসের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে “ভেষজ” বা “প্রাকৃতিক” নাম দেখেই বিশ্বাস করা যাবে না চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা: নীরব হত্যাযজ্ঞ থামাবে কে? আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালসকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়—এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক গভীর আঘাত।

যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়— তাহলে এই ভেষজের আড়ালে বিষের ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। এখন দেখার-কর্তৃপক্ষ জাগবে, নাকি এই নীরব মৃত্যুর মিছিল চলতেই থাকবে?




লোন একাউন্ট বাইপাসে কোটি টাকার চেক নগদায়ন: হাতিয়া মসজিদ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ লোন একাউন্ট বাইপাস করে চেক নগদায়ন: ব্যাংক ধ্বংসের পেছনে এখনো লেগে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা বিগত সরকারের আমলে শেখ হাসিনার সহযোগীরা দেশের ব্যাংকিং সেক্টর কার্যত ধ্বংস করে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছানের মতো তার প্রেতাত্মারা এখনো রয়ে গেছে। তারা এখনো দেশের ব্যাংকিং সেক্টর স্থিতিশীল হতে দিতে চায়না।

পূবালী ব্যাংকের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, গত ০৭/১২/২০২০ তারিখে হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV) এর সঙ্গে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের ১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার ওসমান গণি পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখায় ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ঋণ আবেদন করেন। সরকারি প্রকল্পে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হচ্ছে কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধের অর্থ সরাসরি ব্যাংকের নির্ধারিত লোন একাউন্টে আসবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর চিঠির মাধ্যমে নিশ্চয়তা দেয় এবং চেকের গায়েই নির্দিষ্ট ব্যাংক-একাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম লিখে দেওয়া হয় যাতে অই চেক অন্য কোনো একাউন্টে নগদায়ন করা না যায়। এ ক্ষেত্রেও ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের বিপরীতে ইস্যুকৃত সকল চেক তিনি পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখার অধীন KE-OG-DESH (JV) হিসাব নম্বর ০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭ এর বরাবর ইস্যু করবেন। শুধুমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান এর এই নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোঃ ওসমান গনির KE-OG-DESH (JV) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৭,৪৬৪,৫১৮.১৪ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ৩.০০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করেন।

কামরুল হাছান গত ২৬/০৯/২০২৪ ইং তারিখে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে ৩য় বারের মতো একপ্রকার জোর করে পদায়ন নিয়েই শুরু করেন অনিয়ম ও দূর্নীতি। দায়িত্ব নেয়ার নিয়েই কামরুল ঠিকাদার ওসমান গনির ঋণ একাউন্ট বাইপাস করে চেক ইস্যু করা শুরু করেন। একে একে ৪ মাসে তিনি ৬ টি চেক ইস্যু করেন। যার চেক নং স-৯৬২০৮০২, স-৯৬২০৮৬৭, স-৯৬২০৮৮৪, স-৯৬২২৬২৩, স-৯৬২২৬২৪, স-৯৬২২৬৪২ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ৬৫৩১৭২৬.০০, ৮১০২৫০০.০০, ৩৮২২৩৬.০০, ১২১৫৩৭৫০.০০, ৩৬৪৬১২৫.০০, ৯৯৪৬০৭.০০ অর্থাৎ ৬টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষ টাকার চেক ইস্যু করেন যার প্রতিটিই ছিলো ব্যাংকের লোন একাউন্ট বাইপাস করে। বিনিময়ে কামরুল হাছান নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

কাজ শেষ না হতেই সুরক্ষা জামানত অবমুক্ত
ঠিকাদারের করা কাজের বিপরীতে প্রদেয় বিলে ৫/১০% সুরক্ষা জামানত সরকারি কোষাগারে জমা রাখার নিয়ম। এ টাকা ঠিকাদার কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার এক বছর পরে প্রদান করতে হয়। এখানে ঠিকাদারের এখনো কাজের ৫০% ই শেষ হয়নি অথচ বিলের বিপরীতে রক্ষিত সম্পূর্ণ জামানত অবমুক্ত করেছেন, বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব কামরুল হাছান হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অর্থ। জামানত বাবদ রক্ষিত ছিলো ৫১ লক্ষ টাকা এর মধ্যে তিনি তিনটি চেক এর মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকাই দিয়ে দিয়েছেন। চেক নং স-৯৬২০৮০৯ , স-৯৬২২৬৭৭, স-২৪৫৬২০১ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ২০ লক্ষ ও ৫ লক্ষ অর্থাৎ ৫০ লক্ষ টাকার জামানত এর অর্থের চেক তিনি প্রদান করেন লোন একাউন্ট বাদ দিয়ে। জানা গেছে লোন একাউন্ট বাইপাস করে চেক প্রদান করার জন্য কামরুল হাছান ঠিকাদারের থেকে নিয়েছেন ৪২ লক্ষ টাকা।

ব্যাংকের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে এ কাজের বিপরীতে কামরুল হাছান এর ইস্যুকৃত ৯টি চেক “জালিয়াতির মাধ্যমে” ভিন্ন একাউন্টে নগদায়ন করার ফলে ঠিকাদারের নিকট পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৯৫,৭৫,৯১১.৬৫ টাকা এবং সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ অনিয়ম ব্যাংককে আরও একটি খেলাপি ঋণের কবলে ফেলেছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে শেখ হাসিনার আমলে সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি পংগু করা হয়েছে কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর এখনো যদি কামরুল হাছানের মতো লোকজনের শাস্তি না হয় তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

“দেশ সংস্কারের এই সময়েও যদি কামরুল হাছানদের মতো লুটেরাদের কঠোর শাস্তি না হয়, তবে ব্যাংকিং সেক্টরের ধ্বংস ঠেকানো অসম্ভব।” — সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা।

কাজ ছাড়াই বিল
এই কাজের বিপরীতে গত ০৯-১০-২০২৪ হতে ১৬-০৩-২০২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রদানকৃত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। অর্থাৎ কাজ ছাড়াই বিল দিয়েছেন। ঠিকাদার ওসমান গণি এর একজন ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কামরুল স্যার যখন তিন কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন সেসময় সেই ৩ কোটি টাকার কোনো কাজ মাঠ পর্যায়ে ছিলোনা। গত প্রায় বছরখানেক ধরে এডভান্স বিলের মধ্যে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ করা হলেও এখনো তার ২ কোটি টাকার কাজ হয়নি। আর মাঠ পর্যায়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ সহকারী প্রকৌশলীদের থেকে জোর করে ও ভয় ভীতি দেখিয়ে কিছু বিলে স্বাক্ষর নেয়া হলেও এখনো কিছু বিল স্বাক্ষর বিহীন রয়েছে।

নিম্নমানের কাঠ বাশের সেন্টারিং: আল্লাহর ঘরে নিম্নমানের কাজ!
গত সপ্তাহে হাতিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে নিম্নমানের কাঠ বাশের সাটার ব্যবহার করে ছেন্টারিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান অবগত নন বলে জানান এবং দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর ওপর ন্যস্ত বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান যে, গত ০৯-০৩-২০২৫ তারিখে স্মারক নং-১৫৩ এর মাধ্যমে ঠিকাদারকে লিখিতভাবে নিম্নমানের কাঠ বাশের সাটার অপসারণ এবং স্টিল সাটার ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। পূর্বেও একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও ঠিকাদার কোনো সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এবং বিষয়টি ০৯/০৩/২০২৫ তারিখে স্বারক নং ১৫৪ এর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এরপরেও তিনি কেনো অবগত নন বলেছেন সেটা আমার জানা নাই। স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত আছে যে কামরুল হাছান আর ওসমান গনি ব্যাবসায়িক পার্টনার, এতোদিন সেটা বিশ্বাস না করলেও এখন তো মনে হচ্ছে কথা সত্য।

উল্লেখ্য যে, GCC ক্লজ 51.1 অনুসারে কাজ অবশ্যই অনুমোদিত Specifications অনুযায়ী হতে হবে; GCC ক্লজ 27.1(b) অনুযায়ী সাইটের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ঠিকাদারের বাধ্যবাধকতা। কাঠ/বাঁশের অনঅনুমোদিত ছেন্টারিং ব্যবহার উভয় ধারারই লঙ্ঘন। আর, নির্দেশ অমান্য করে ত্রুটিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় GCC 55 (Rejection of defective work) ও GCC 56 (Removal and re-execution) অনুযায়ী ঐ কাজ প্রত্যাখ্যান ও অপসারণ/পুনঃকাজের ব্যয়ভার সম্পূর্ণরূপে ঠিকাদারের দায় হবে।

আইন বিশেষজ্ঞ এর মত: প্রচলিত আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন
এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আইন ও বিধি বিধান বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত আইনজীবী এডভোকেট সজীব বলেন, আলোচ্য ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান সরকারি অর্থ বা সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থেকে তা আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেছেন ফলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ধারা ৪০৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বিশ্বাসভঙ্গ, ধারা ৪২০ (প্রতারণা): ব্যাংকের সাথে করা চুক্তি (ঋণ একাউন্টে চেক দেওয়ার নিশ্চয়তা) ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, ধারা ৪৬৭/৪৬৮ (জালিয়াতি): বিলের চেকে জালিয়াতি বা স্বাক্ষরবিহীন বিলে অর্থ ছাড় করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭: সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো আর্থিক লাভের ব্যবস্থা করা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২: ঘুষের অর্থ (৪২ লক্ষ টাকা) গ্রহণ এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর করার দায়ে দায়ী।

এছাড়াও কামরুল হাছান সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা, দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া এবং পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য অসদাচরণ (Misconduct), ঘুষ গ্রহণ (৪২ লক্ষ টাকা) এবং সাইটে কাজ না থাকা সত্ত্বেও বিল প্রদান এর জন্য দুর্নীতি (Corruption) এর দায়ে দায়ী হবেন।

আবার আর্থিক বিধিবিধান ও চেক নিরাপত্তা লঙ্ঘন সরকারি অর্থ ব্যয় ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে তিনি গুরুতর আর্থিক বিধি ভঙ্গ করেছেন। গ্যারান্টি ও ঋণের শর্ত লঙ্ঘন (Breach of Assignment)

ব্যাংককে দেওয়া লিখিত নিশ্চয়তা (Letter of Comfort/Undertaking) অনুযায়ী চেকগুলো নির্দিষ্ট ঋণ একাউন্টে (হিসাব নং ০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭) এ জমা হওয়ার কথা ছিল। এটি অমান্য করে অন্য একাউন্টে চেক নগদায়ন করার ব্যবস্থা করা Account Payee Crossing নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। কাজের অগ্রগতি ব্যতীত বিল প্রদান করায় (Advance/Excess Payment) সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী, কাজ যতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তার ভিত্তিতে বিল পরিশোধ করতে হয়। মাঠ পর্যায়ে কাজ না থাকা সত্ত্বেও ৩/৩.৫ কোটি টাকা বিল প্রদান করা সরকারি অর্থের চরম অপচয় এবং সরাসরি আত্মসাৎ। সাধারণত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া এবং ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড পার না হওয়া পর্যন্ত জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া যায় না। কাজ চলাকালীন জামানতের ৫১ লক্ষ টাকার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ায় জামানত (Security Deposit) অবমুক্তকরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। বিভাগীয় হিসাবরক্ষকের যোগসাজশে স্বাক্ষরবিহীন বিলে অর্থ ছাড় করা এবং চেকে ব্যাংক ও শাখার নাম উল্লেখ না করা CPWA Code (Central Public Works Accounts Code) এর সরাসরি লঙ্ঘনের দায়ে দায়ী হবেন।

ভোল পাল্টানো রাজনীতির ‘খলিফা’
একসময় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলীর ছত্রছায়ায় থাকা ওসমান গণি ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টেছেন নিমিষেই। ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রকৌশলীর বক্তব্য বনাম বাস্তবতা
নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান এখন ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার ভয় দেখালেও পর্দার আড়ালে তার যোগসাজশের প্রমাণ মিলছে ব্যাংকের নথিতে। পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা এখন প্রায় ২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে, কারণ প্রকৌশলী সাহেব ব্যাংকের সাথে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে চেকগুলো অন্য হাতে তুলে দিয়েছেন।

এ প্রকল্প ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একাধিক চেক নির্ধারিত ঋণ-একাউন্টের বাইরে নগদায়ন করা হয়েছে, বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় বিল দেওয়া হয়েছে, এবং ৫০ শতাংশ কাজ শেষ না হলেও জামানতের অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়; তবে অভিযোগের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি।

মসজিদটি এখন শুধু একটি নির্মাণাধীন ভবন নয়—এটি ধীরগতি, প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়ন এবং জনঅসন্তোষের এক অস্বস্তিকর প্রতীক।

হাতিয়ার মানুষের প্রশ্ন একটাই—আর কত বছর ঝুলিয়ে রাখা হবে এই পবিত্র স্থাপনা? নাকি দুর্নীতির এই মহাকাব্য চলতেই থাকবে?




বাইকের নামে বিনিয়োগ, শেষে প্রতারণা—বাজাজ মামুন চক্রের উত্থান ও পতনের গল্প

এসএম বদরুল আলমঃ দেশে ই-কমার্স খাতের দ্রুত প্রসারের সুযোগে এক ভয়াবহ আর্থিক প্রতারণার চক্র গড়ে ওঠার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়, বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়—যার বড় অংশ আজও অধরাই রয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘বাইক ডেলিভারি’র আড়ালে “চেক ডেলিভারি” নামে অভিনব এক কৌশল ব্যবহার করে আলোচনায় আসেন এস কে ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী বাজাজ আল মামুন। অভিযোগ রয়েছে, বাইক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে স্বল্প সময়েই শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান তিনি এবং পরবর্তীতে অর্থ পাচারের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন।

ই-কমার্স জায়ান্টদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ : এই প্রতারণা চক্রে বাজাজ আল মামুনের সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং আলিশা মার্টের চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম শিকদারের। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের যোগসাজশে এই চক্র শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতোমধ্যে বাজাজ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। বনানী থানার মামলা নং-৪০ (স্মারক নং ৩২১৬(৫)/১, তারিখ: ১ জুন ২০২৩)। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। এ মামলায় আলিশা মার্টের চেয়ারম্যানকে ১ নম্বর এবং বাজাজ মামুনকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাফরুল থানায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অর্থের একটি বড় অংশ এস কে ট্রেডার্সের মাধ্যমে বাজাজ মামুনের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘চেক ডেলিভারি’—প্রতারণার নতুন ফাঁদ : প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ কৌশল। গ্রাহকরা অনলাইনে বাইক অর্ডার করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাইক না দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো পোস্ট-ডেটেড চেক।

প্রথমদিকে সেই চেক নগদায়ন হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। পরে অধিক লাভের আশায় অনেকেই একাধিক—কখনো ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত বাইক অর্ডার দেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে বাইকের প্রয়োজন না থাকলেও নগদ লাভের আশায় বিনিয়োগ করতেন গ্রাহকরা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে বাইক কিংবা টাকা—কোনোটিই আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এতে এক লাখের বেশি বাইক অর্ডার জমা পড়ে।

উৎপাদন সক্ষমতার বাইরে অর্ডার :
তদন্তে জানা গেছে, এস কে ট্রেডার্স যে পরিমাণ বাইকের অর্ডার নিয়েছিল, তার উৎপাদন সক্ষমতা মূল কোম্পানি উত্তরা মোটরসের পক্ষেও সম্ভব ছিল না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাইকের কোনো বৈধ কাগজপত্র—চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর বা আমদানির নথিও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বাজাজ মামুন নিজস্ব ইনভয়েসের মাধ্যমে বাইক অর্ডার গ্রহণ করতেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নিয়ন্ত্রণহীন ও অস্বচ্ছ।

বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ : সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা নাসরিন গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে তা পণ্য সরবরাহে ব্যয় না করে বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, সম্পদ অর্জন এবং বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করেছেন। গ্রাহকদের বারবার ভুয়া ডেলিভারি তারিখ দিয়ে আশ্বস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি—যা সরাসরি প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের শামিল।

বিস্তৃত চক্রের সন্ধানে সিআইডি :
সিআইডি জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে গভীর তদন্ত চলছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি : ভুক্তভোগীদের দাবি, ইভ্যালি ও আলিশা মার্টের শতকোটি টাকা এখনো বাজাজ আল মামুনের কাছে রয়েছে। তারা আলিশা মার্টের অর্থপাচার মামলার পাশাপাশি ইভ্যালির মামলাতেও বাজাজ মামুনকে অভিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেষ কথা : ই-কমার্সের মোড়কে গড়ে ওঠা এই প্রতারণার জাল শুধু হাজারো গ্রাহকের সঞ্চয়ই গ্রাস করেনি, বরং দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের ওপর আস্থাকেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কত দ্রুত এই জটিল আর্থিক জাল উন্মোচন করতে পারে এবং ভুক্তভোগীরা আদৌ তাদের অর্থ ফেরত পান কি না।




পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে ঘিরে অনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক উপ-পরিচালক আব্দুস সালামকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। নারীসংক্রান্ত অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণার অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী দাবি করেছেন, এসব সম্পর্কের মাধ্যমে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, এই অভিযোগগুলোর পক্ষে কিছু ছবি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে এসব উপাদানের স্বতন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি—যা পুরো বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

হোটেল-রিসোর্টে যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন : বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি, তথাপি অভিযোগের ধারাবাহিকতা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা ? অভিযোগ হুমকি ও হয়রানির
অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তার হয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন শ্রমিক দলের কথিত এক নেতা জাকারিয়া, যিনি পল্টন এলাকার একটি অফিস থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, জাকারিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং কেন এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের “ব্ল্যাকমেইলার” ও “চাঁদাবাজ” বলে আখ্যা দেন।
এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা, বারবার ফোন করে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টিকে অনেকেই স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি চাপ ও ভীতির পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

নীরব অভিযুক্ত, সক্রিয় ‘পক্ষসমর্থক’—কেন এই বৈপরীত্য ?
গুরুতর অভিযোগের মুখে আব্দুস সালামের নীরবতা এবং তার পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসী অবস্থান নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে তা খণ্ডন করা।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে : প্রশাসনিক নৈতিকতা ও জনআস্থার প্রশ্নে এমন অভিযোগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই বিতর্কের কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব নয়।

শেষ কথা : এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কি সত্য ? নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র?
যে কোনো উত্তরই হোক, সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বা তথ্য গোপন রেখে সত্য চাপা দেওয়া সম্ভব নয়। জনস্বার্থে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি।




ভেষজের আড়ালে কেমিক্যাল? আরগন ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ডেমরার বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ময়মনসিংহের ঠিকানায় লাইসেন্স নিলেও তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঢাকাকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। লাইসেন্সে ‘ল্যাবরেটরি’ নাম থাকলেও বাজারে ভিন্ন নামে পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও “ফার্মাসিউটিক্যালস” শব্দ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আধুনিক ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে তাদের পণ্যের গুণগত মান নিয়ে। তাদের প্রধান ব্যবসার পণ্যের মধ্যে অনুমোদিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ‘ডায়কেয়ার’, যৌনশক্তিবর্ধক হিসেবে প্রচারিত ‘নাইটেক্স’ ও ‘রিস্টোর’ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, ভেষজ উপাদানের কথা বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে কিছু পণ্যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও যৌনশক্তি বৃদ্ধির নামে বাজারজাত কিছু পণ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এসব পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব পণ্যের অনেকগুলোই অনুমোদিত তালিকায় নেই এবং আয়ুর্বেদিক বা ভেষজ হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে সেগুলোতে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।  

element

প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে আবু বক্করের নাম উঠে এসেছে অভিযোগে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি বড় মার্কেটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশে শোরুম এবং কমিশনভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতিতে এসব পণ্য বিপণন করা হচ্ছে। কিছু অভিযোগে এটিও বলা হয়েছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, “ডায়াবেটিস নিরাময়” বা “ইনসুলিন স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে”—এ ধরনের দাবি দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যথাযথ গবেষণা ছাড়া এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। 

অন্যদিকে, রাজধানীর ডেমরার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭০নং ওয়ার্ডের মেন্দিপুর এলাকায় বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কারখানায় অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যার স্বত্বাধিকারী মো. শাখাওয়াত হোসেন।

স্থানীয়রা জানায়, তিন তলা ভবন বিশিষ্ট এ কারখানাটি চারদিকে দেয়াল দিয়ে আটকানো এবং যেখানে মূল গেট সেটা দিনরাত সব সময় বন্ধ থাকে। আমাদের এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান এখানে আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা চাকরি করতেন৷ তবে তাদের দিয়ে তৈরি করে নেওয়া হয় যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ক্যাপসুল। এসব কারণে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়, বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল নামের এই আয়ুর্বেদিক কোম্পানিতে অভিযান পরিচালনা করেও কোনো লাভ নেই, এটা কেউ বন্ধ করতে পারবে না। কারণ এরা ওপর লেভেলের সকলকে ম্যানেজ করেই অবৈধ কার্যকলাপ করে থাকে।

photo collage.png (36)

স্থানীয় রিপন নামে একজন বলেন, ‘এখানে যে সব যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়, তার কোনো অনুমোদন নেই৷ আমি এক জনের মাধ্যমে কোম্পানির মধ্য বেড়াতে গিয়ে দেখি সেখানে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ।’

রানা হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এখানে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়৷ আমি এই কোম্পানিতে চাকরি করতাম। আমি খেয়াল করেছি মাঝে মাঝে যখন সাংবাদিক আসতো তখন আমাদের বলা হতো গেট খোলা যাবে না। কোনো সাংবাদিককে গেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন সময় অভিযান হয় একারণে ভয়েই আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কোম্পানির মালিক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমার এখানে কোনো যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয় না। যা যা তৈরি করা হয় তা নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়।’

এ বিষয়টি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘আপনারা এই বিষয় অবগত করেছেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরগন ফার্মাসিউটিক্যালসকে ঘিরে আরও অভিযোগ— কোম্পানিটি ডেসটিনির মতন করে ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগের নাম বলে সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে কোম্পানির মালিক আবু বক্কর আমেরিকায় ফ্যামিলি সহ থাকেন। সেখানে বসে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমেরিকায় বসে আরামের জীবন কাটাচ্ছেন। ওষুধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোম্পানিদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু বক্করের শাশুড়ির প্রভাব খাটিয়ে নানা কর্মকান্ড চালিয়ে ছিল। সে নিজেও আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডে ফান্ডিং করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশে পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কমিশনভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন রোগের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে—প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। যদিও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই তার অনুমোদন, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং নিবন্ধন যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পণ্য ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার বার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।




রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘গ্রীন টিভি’ ও ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। গত রবিবার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের মারধর করে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের পেশাদার ভিডিও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় গ্রীন টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট মোঃ শরীয়তুল্লা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ গ্রীন টিভিতে নাওড়া এলাকার মোশাররফ হোসেনের মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন ও সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ এপ্রিল বিকেলে গ্রীন টিভি, প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা পুনরায় সংবাদ সংগ্রহে নাওড়া এলাকায় গেলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোশাররফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

হামলাকারীরা সাংবাদিকদের এলোপাথাড়ি মারধর ও লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে বিবাদী শরীয়তুল্লা গ্রীন টিভির ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্যানাসনিক-৩৭২ ভিডিও ক্যামেরা, ৪০ হাজার টাকার ট্রাইপড এবং ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে শোরগোল শুরু হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিয়ে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শরীয়তুল্লা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করার পাশাপাশি আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।




ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা ইকরামের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ওয়াসার ২ নম্বর জোনের রাজস্ব কর্মকর্তা এএমএম ইকরামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। জালিয়াতি, মিথ্যাচার, দলীয় প্রভাব খাটানো, ঘুষ বাণিজ্য এমনকি একই সঙ্গে দুটি সরকারি চাকরি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মহলে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ‘ঢাকা ওয়াসার ইবলিশ’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তথ্য গোপন করে একদিকে ঢাকা ওয়াসায় চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী পৌরসভার সচিব হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত বেতন তুলেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি নোয়াখালী পৌরসভার চাকরি ছেড়ে দেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাকে কেবল নিম্নতর বেতন স্কেলে নামিয়ে শাস্তি দিয়ে দায়িত্বে বহাল রাখে।

জানা যায়, ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ) পদে ঢাকা ওয়াসায় যোগ দেন ইকরাম। চাকরির শুরুর দিকে তাকে বোতলজাত পানি উৎপাদন প্ল্যান্টে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে, যেখানে উল্লেখ করা হয় তিনি একই সময়ে নোয়াখালী পৌরসভায় সচিব হিসেবে কর্মরত থেকে বেতন নিচ্ছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার দ্বৈত চাকরির বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা-১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর একাধিক চাকরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলেও ইকরামের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তার বেতন স্কেল সামান্য কমিয়ে দেওয়া হয় এবং বরখাস্তকালীন সময়কে ‘অসাধারণ ছুটি’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওয়াসায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি নোয়াখালী পৌরসভায় সচিব পদে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ২০০৫ সালের ৭ জুন সেখানে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দুই জায়গায় সমান্তরালভাবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজে উপস্থিত না থেকে অন্য কাউকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি তাকে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অথচ তার আগের জ্যেষ্ঠ ২৫ জন কর্মকর্তা এখনো একই পদে রয়ে গেছেন, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (ডিসিআরও) পদে পদোন্নতির জন্যও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে এই পদে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার নেই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, প্রেষণ ছাড়াই পিপিআই প্রকল্পে ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একই সময়ে একাধিক উৎস থেকে বেতন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী সালমা আক্তার মিনা ঢাকা ওয়াসার পিএন্ডডি সার্কেলে পিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মাস্টাররোলে কর্মরত আছেন। অভিযোগ আছে, আত্মীয়স্বজনদের আউটসোর্সিং ও মাস্টাররোলে নিয়োগ দিতেও তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন।

এদিকে তার সহকর্মীদের পক্ষ থেকে একাধিক লিখিত অভিযোগ ওয়াসা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি অপরাধের মধ্যেও পড়ে। তাদের মতে, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং যারা তাকে লঘুদণ্ড দিয়েছেন তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য এএমএম ইকরামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।




রাজউকের মালিবাগ কোয়ার্টার এখন অব্যবস্থাপনা, মাদক ও দুর্নীতির আখড়া

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত রাজউকের অফিসার্স কোয়ার্টার এখন যেন বসবাসের অযোগ্য এক পরিবেশে পরিণত হয়েছে। যেখানে উন্নয়ন আর নিরাপদ বসবাসের কথা, সেখানে দেখা যাচ্ছে ময়লা পানি, অপরিচ্ছন্নতা, মশার উপদ্রব এবং নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে এই কোয়ার্টারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. আবু সাইদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট উন্নয়নের নামে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পেলেও বাস্তবে কাজ হয় খুবই নিম্নমানের। একই কাজ বারবার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কোয়ার্টারের বাস্তব চিত্র বদলায়নি।

কোয়ার্টারের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিমধ্যে এখানে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অথচ এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগ আছে, দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজান ও আমিনুল বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও তারা নানা অজুহাতে সময় পার করছেন। ফলে বাসিন্দারা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।

এদিকে কোয়ার্টারের ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক। পাম্পচালক সুমনের নেতৃত্বে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও মদের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অফিস সহকারী ইউসুফ, ড্রাইভার ইলিয়াছ, আসাদুল, মেকানিক আবুল কাশেম ওরফে জামাই কাশেম এবং জাহেদ ইবনে নোমান (জুয়েল)-এর নাম উঠে এসেছে। এর আগে সুমন মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে।

শুধু মাদকই নয়, কোয়ার্টারের ড্রাইভারদের ডরমেটরিতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। আবুল কাশেম ও ইলিয়াছের নেতৃত্বে এই জুয়ার বোর্ড পরিচালিত হয়। রাতের বেলায় সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং মাদক সেবনও চলে। আগে পার্কিং এলাকায় এসব কার্যক্রম হলেও এখন ডরমেটরির ভেতরেই তা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, করোনাকালীন সময়েও কোয়ার্টারের একটি ভবনের লোহার ফ্রেম কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ টন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

বর্তমানে কোয়ার্টারের অনেক রুম অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ড্রাইভার ইলিয়াছ, জুয়েল, খুরশীদ আলম (মিলন), ফারুকসহ অনেকেই একাধিক রুম ভাড়া দিয়েছেন। এসব রুমে বিভিন্ন পেশার লোকজন বসবাস করছেন, যাদের অনেকেই বহিরাগত। এর মাধ্যমে মাসে বড় অঙ্কের অর্থ আয় হচ্ছে, যার একটি অংশ নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার কাছেও যায়।

এছাড়া এখানে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও বেড়েছে। জুয়েলের ছেলে আইজান, জাকিরের ছেলে শুভসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গ্যাং কোয়ার্টারের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা নিয়মিত আড্ডা, ইভটিজিং এবং মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু বাসায় অতিরিক্ত লোক সাবলেট হিসেবে রাখা হচ্ছে। যেমন ডিডি আসমা বেগমের বাসায় প্রায় ২০ জনের মতো মানুষ থাকেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করার অভিযোগও উঠেছে।

সব মিলিয়ে, যেখানে রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে এখন চলছে দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, জুয়া এবং অব্যবস্থাপনা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, এই কোয়ার্টারের সব অনিয়ম তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বন্ধ করে কোয়ার্টারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।




৫৫ ডিপো জুড়ে তেল চুরির মহোৎসব: সিবিএ নেতা ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট সক্রিয়

এসএম বদরুল আলমঃ দেশজুড়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রায় ৫৫টি ডিপো রয়েছে, আর এই ডিপোগুলোকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরির অভিযোগ ঘুরে ফিরে আসছে। বিভিন্ন কৌশলে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল গায়েব হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চুরির সঙ্গে শুধু সাধারণ কর্মচারী নয়, বরং সিবিএ নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকেই জড়িত বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল উদ্ধার হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আবার আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি পদ্মা অয়েলের গোদনাইল ডিপো থেকে কুর্মিটোলার পথে প্রায় ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির ঘটনা সামনে আসে। চারটি ট্যাংকার কাগজে-কলমে গন্তব্যে পৌঁছালেও বাস্তবে সেগুলো পৌঁছায়নি। এই জেট ফুয়েল মূলত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে কম দামের কারণে এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহা. মফিজুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন।

এর আগেও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে যমুনা অয়েলের দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে প্রায় ৬ লাখ লিটার তেল উধাও হয়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দেড় বছর পর কয়েকজন কর্মচারীকে মৌখিকভাবে বদলির সুপারিশ করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এরপরও একই ডিপো থেকে আবার ৪৫ হাজার লিটার তেল গায়েব হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, অডিট করতে গেলেও কৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিছু ডিলারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কাগজে-কলমে হিসাব মিলিয়ে দেওয়া হয়।

এই ডিপোতে দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সমির পালের বিরুদ্ধেও পুরনো অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে পতেঙ্গার গুপ্তখাল ডিপো থেকে তেল পাচারের ঘটনায় তিনি বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরে কিছু টাকা আদায় করে তাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং বিভিন্ন ডিপো ঘুরে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরেক আলোচিত নাম হেলাল উদ্দিন, যিনি যমুনা অয়েলের সাবেক ইনচার্জ থেকে পরে ডিজিএম (অপারেশন) পদে উন্নীত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তেল চুরির টাকায় তিনি শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। চট্টগ্রামে একাধিক বাড়ি, বিদেশে ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি—সবই তার সম্পদের অংশ। এমনকি তার বাসা থেকেই এক সময় ২৫ লাখ টাকা চুরি হলেও তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি, কারণ এতে নিজেই বিপদে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলেও তা শেষ পর্যন্ত থেমে যায়।

তেল চুরির এই সিন্ডিকেটে সিবিএ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তারা সাময়িক বরখাস্ত হলেও তাদের অনুসারী নাসির উদ্দিন বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে জোরপূর্বক অর্থ কেটে নেওয়ার জন্য চিঠিও দিয়েছেন, যা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অন্যদিকে মোংলা ডিপোতে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া গেছে, যার কোনো হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় ডিপোর ম্যানেজার আল আমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এলাকায়ও প্রকাশ্যে চোরাই তেল বিক্রির চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি যেমন স্বপন, কালাম, হৃদয়, রনি, পাগলা রাজু, ফয়সাল, কাইল্লা সোহেল, নাসির উদ্দিন, জালাল মিয়া, মাসুদ ও ইকবাল চৌধুরীর নেতৃত্বে আলাদা আলাদা চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা ট্যাংকার থেকে অতিরিক্ত তেল সরিয়ে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া নদীপথে জাহাজ থেকে তেল নামানোর সময়ও চুরি হয়।

অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংকারে ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা থাকলেও কাগজে ৯ হাজার লিটার দেখানো হয়, আর বাড়তি তেল মাঝপথেই বিক্রি হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোলা বাজারে অবৈধভাবে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে, যার সঙ্গে ডিপোর কিছু কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, তেল চুরি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, আর জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।




আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগে চাপে সাউথইস্ট ব্যাংক, নজরে বাংলাদেশ ব্যাংক

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। আর্থিক সক্ষমতা, পরিচালনা কাঠামো এবং নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান এম এ কাসেম এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মুশফিকুর রহমান-কে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছায়া, নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপের অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সক্রিয় প্রভাব রয়েছে। শুধু নীতিনির্ধারণেই নয়—নিয়োগ, বদলি ও পদায়নেও এই গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শাখা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি অপছন্দের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলার কথাও শোনা যাচ্ছে।

নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, আস্থাহীনতায় আমানতকারীরা : ব্যাংকের গ্রাহক ও আমানতকারীদের একটি অংশ চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকলেও বয়সজনিত কারণে তিনি আগের মতো সক্রিয় নন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন তারা।

তারল্য সংকটের শঙ্কা, টাকা তুলতে শুরু গ্রাহকরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় আর্থিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কিছু আমানতকারী ইতোমধ্যে তাদের জমাকৃত অর্থ তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‘লজিস্টিকস সিন্ডিকেট’ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ : ব্যাংকের অভ্যন্তরে মুশফিকুর রহমানকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লজিস্টিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তার প্রভাবের কারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভিতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লজিস্টিক বিভাগকে ঘিরে সরঞ্জাম ক্রয় ও অবকাঠামোগত কাজে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

দুদকের তদন্তে নতুন মাত্রা :
এদিকে চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-কে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ রয়েছে, জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কম মূল্যের জমি বেশি দামে দেখানো, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি কেনায় অনিয়ম, এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে জমি ক্রয়ের বিষয়গুলো তদন্তাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে। এসব গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের ব্যয়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত কমিটি গঠন করে সিটিং অ্যালাউন্স নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন :
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ একই ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখার অভিযোগও উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের লেনদেন স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং একটি ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আস্থার সংকটে ব্যাংকিং খাত:
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা। পরিচালনায় স্বচ্ছতা না থাকলে দ্রুত গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, যা সরাসরি আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।

এখন কী করণীয় ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। পরিচালনা পর্ষদে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের ঝুঁকি রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সাউথইস্ট ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার।