মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম চলছে। তাই তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গত কয়েকদিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করায় জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে সেবা গ্রহীতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দশম গ্রেড প্রদানের দাবিটি দীর্ঘদিনের পুরানো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল কর্মকাণ্ড ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে অবহিত করেছে।

এই দাবি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোভাবও ইতিবাচক এবং তারাও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, কাজেই তা সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।

এরপরও তারা দাবি আদায়ের নামে রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। যা স্বাস্থ্যসেবার মত মহান পেশায় নিয়োজিত সেবাপ্রদানকারীদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায়, সরকারের সকল পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব, উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড চলমান অবস্থায় কর্মবিরতির নামে রোগীদের সেবাবঞ্চিত করার পথ পরিত্যাগ করে অবিলম্বে কাজে যোগদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যথায়, এ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় সেবা বন্ধের মত জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।




‘খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতের পরে অথবা ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে’

ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বা শুক্রবার ভোরে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন।

গত ১২ দিন ধরে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

হাসপাতালসূত্র জানায়, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও তেমন পরিবর্তন হয়নি।

গতকাল রাতে চীন থেকে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে মেডিকেল বোর্ডে যোগ দেন। এর আগে দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় পৌঁছান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকেরা সর্বশেষ সব রিপোর্টও পর্যালোচনা করেছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছরের জানুয়ারিতেও লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানকার একটি হাসপাতালে ও পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।




খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেনের মা সিসিইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন নেসা গুরুতরভাবে অসুস্থ। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বেগম জেবুন নেসা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তার বয়স প্রায় ৮২ বছর। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ২৪ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগের দিন ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি চিকিৎসার সমন্বয় করেন। পর দিন একই হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি করানো হয়।

এক দিকে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আরেক দিকে মা—দু’জনেই সিসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় আছেন। খালেদা জিয়া এবং মায়ের এই সংকটকালে তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন।




ফের ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকা

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ১৪ মিনটে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর শিবপুরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।




এখনও ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি তারেক রহমান: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাছে এখনো ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি তারেক রহমান।

তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা মতামত দেবেন। এই মতামতের ওপর অনেকটা নির্ভর তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।

সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে লন্ডন প্রথম অগ্রাধিকার। সেটা হলে তারেক রহমান লন্ডনেই থাকবেন। আর দীর্ঘ সময়ের বিমানযাত্রার বিষয়ে চিকিৎসকরা অনুমোদন না দিলে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান দেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। মায়ের বিদেশি চিকিৎসক দল ও মেডিকেল বোর্ডের মতামতের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন থেকে ১১ দিন ধরে তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন।




জানুয়ারির মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীরা আগামী জানুয়ারি থেকেই নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিতে আজ বুধবার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে সরকার নবম পে–কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পে–কমিশনের কাজ চলমান থাকলেও জানুয়ারি থেকেই নতুন বেতন কাঠামো চালুর চাপ বাড়াচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে আগামী ৬ ডিসেম্বর কর্মসূচি পালিত হবে। জানুয়ারিতে নতুন পে–স্কেল কার্যকর না হলে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কর্মচারীরা চাপ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




ফোনকলে রাষ্ট্রের ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, দুদকের সাবেক কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক ফোনকল করে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকসহ ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুদকের ইতিহাসে এই প্রথম সংস্থাটির কমিশনার পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের হলো।




ট্যাক্স ছাড়া কয়টি বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনা যাবে, জানাল সরকার

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকার দেশে মোবাইল ফোনের অবৈধ আমদানি ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা যদি ছুটি কাটাতে দেশে এসে টানা ৬০ দিনের বেশি অবস্থান করেন, তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)-এ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

প্রবাসীদের জন্য কর-ছাড় সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) নিবন্ধন কার্ড রয়েছে, তারা দেশে ফেরার সময় ট্যাক্স ছাড়াই তিনটি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহৃত ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন হ্যান্ডসেট।

বিএমইটি কার্ড না থাকা প্রবাসীরা নিজের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট ট্যাক্স দিয়ে আনতে পারবেন।

একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য কর-ছাড় সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) নিবন্ধন কার্ড রয়েছে, তারা দেশে ফেরার সময় ট্যাক্স ছাড়াই ৩টি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন হ্যান্ডসেট।

আর যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তারা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট ট্যাক্স দিয়ে আনতে পারবেন।

গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর অফিসে এনইআইআর কার্যকর ও মোবাইল আমদানির শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সভায় স্মার্টফোনের বৈধ আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোসহ দেশের মোবাইল কারখানায় উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের ওপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্স হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানিতে মোট শুল্কহার ৬১ শতাংশের মতো। এই উচ্চ শুল্ক কমালে বৈধ আমদানি বাড়বে এবং মোবাইলের বাজারদরও কমে আসবে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসে, শুধু আমদানির শুল্ক কমালে চলবে না—দেশে থাকা ১৩ থেকে ১৪টি মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানার ওপর আরোপিত শুল্ক-ভ্যাটও যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন। অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনাও চলছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, শিগগিরই ডিভাইস ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনুকূল সিদ্ধান্ত আসবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের মোবাইল কেনার বৈধ চালান সঙ্গে রাখতেই হবে। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা প্রবাসীদের চোরাচালান চক্র চাপ প্রয়োগ করে স্বর্ণ ও দামি ফোন শুল্ক ছাড়া বহনে ব্যবহার করছে।

একই সঙ্গে দেশে ব্যবহারের অযোগ্য পুরোনো বিদেশি মোবাইলের ‘ডাম্পিং’ বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেসিং পরিবর্তন করে রিফারবিশড বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য ঢোকানোর প্রবণতা ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আগত ফ্লাইটগুলো চিহ্নিত করে কাস্টমস শিগগিরই অভিযান চালাবে।

এ ছাড়া ক্লোন ফোন, চুরি-ছিনতাইকৃত ফোন ও রিফারবিশড হ্যান্ডসেট আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে অবৈধভাবে আমদানি করা—কিন্তু বৈধ আইএমইআইযুক্ত হ্যান্ডসেটগুলোর তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিলে হ্রাসকৃত শুল্কে সেগুলো বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোনকে কোনোভাবেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে না।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এনইআইআর চালু হলে ১৬ ডিসেম্বরের আগে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এ বিষয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সচেতন থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে তিন বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানগণ। 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে একে একে সেখানে পৌঁছান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।




নভেম্বরে নারী-শিশুসহ নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার ১৮১ জন

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নারী ও শিশুসহ মোট ১৮১ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জন কন্যাশিশু ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান উঠে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও কন্যাদের মধ্যে ১৯ জন কন্যাসহ ২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৯ জন কন্যাসহ ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ৩ জন। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৭ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিভিন্ন কারণে ৭ জন কন্যা ও ৪৬ জন নারীসহ মোট ৫৩ জন হত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে ৪ জন কন্যা ও ২১ জন নারীসহ ২৫ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৯ জন কন্যা ও ৫ জন নারীসহ ১৪ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছে ২ জন কন্যাসহ ৩ জন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৮ জন কন্যা ও ৩ জন নারীসহ মোট ১১ জন, এরমধ্যে ৭ জন কন্যাসহ ৯ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ১ জন কন্যাসহ ২ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে।

এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ২ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ৩ জন নারী। ৬ জন কন্যাসহ ৭ জন অপহরণের ঘটনার শিকার হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে ৬ জন কন্যাসহ ১২ জন।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩ জন কন্যাসহ ১৩ জন। ফতোয়া ঘটনার শিকার হয়েছে ১ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টা করা হয়েছে ১ জন কন্যার। যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছে ৪ জন নারী। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৮ জন  বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।