ভূমিকম্পের ছায়া নোয়াখালীতে: পরিত্যক্ত শতাধিক ভবন রয়ে গেছে চরম ঝুঁকিতে
এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবন এখন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি মাঝারি কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হলে জেলা সদর মাইজদী, চৌমুহনী, বসুরহাট ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলোর ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফাটল কেবল অবহেলার চিহ্ন নয়, বরং আসন্ন বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে শতাধিক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকার পুরনো জেলা কারাগার, সদর ফায়ার স্টেশন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভবন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর, জেলা দায়রা জজের বাসভবন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল সালাম হল ও টিচার্স ট্রেনিং ভবনসহ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।
অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনো নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশই দুর্বল ও পুরনো ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, নোয়াখালী জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালীর প্রাচীন জেলা কারাগার। প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত এই ভবনটি ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোয়াখালী জেলায় ঘটতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাঁদের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
