ভূমিকম্পের ছায়া নোয়াখালীতে: পরিত্যক্ত শতাধিক ভবন রয়ে গেছে চরম ঝুঁকিতে

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবন এখন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি মাঝারি কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হলে জেলা সদর মাইজদী, চৌমুহনী, বসুরহাট ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলোর ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফাটল কেবল অবহেলার চিহ্ন নয়, বরং আসন্ন বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে শতাধিক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকার পুরনো জেলা কারাগার, সদর ফায়ার স্টেশন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভবন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর, জেলা দায়রা জজের বাসভবন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল সালাম হল ও টিচার্স ট্রেনিং ভবনসহ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।

অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনো নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশই দুর্বল ও পুরনো ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, নোয়াখালী জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালীর প্রাচীন জেলা কারাগার। প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত এই ভবনটি ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোয়াখালী জেলায় ঘটতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাঁদের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।




লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া। প্রকল্পের কোথাও অর্ধেক বা সিকিভাগ এবং কোথাও কাজ না করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া কিছু কিছু প্রকল্প আছে কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবে কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রকল্পের কাজে তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এ কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের গড়িমসিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হয়েছে শুধু কাগজে কলমে ।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর।

পিআইও মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ  একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে এই উপজেলায় যোগদানের পর অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।

জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম ও ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা  প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার  বেশিরভাগ  প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র ।

সরজমিনে দেখা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি শুধু কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওই প্রকল্প স্থানে পুর্বের এইচবিবি করন কাজ করাই ছিলো। পুর্বের করা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করেছিলো প্রকল্পের সংঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । ২ নং মদাতী ইউনিয়নে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের  তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। মজার বিষয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।কাজ হয়েছে নামমাত্র। ওই প্রকল্পের সভাপতির দেয়া তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যাক্ত। একই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হেতেনের বাড়ীর তিপুতি হইতে ব্রাক্ষণপাড়া কালীমন্দির পযন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোন কাজই করা হয়নি কিন্ত বিল উত্তোলন হয়েছে। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ করা হয়েছে ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। বাকী টাকা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি মর্জিনা বেগম এবং অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু প্রকল্পের কাজ করেছেন আংশিক । কাকিনা ৩ নং ওয়ার্ডের কাজীর হাট ওয়াব্দা বাধ লোকমানের বাড়ী হতে বেলালের বাড়ী পযন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩  লক্ষ ৫০ হাজার ২শত ৫৮ টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবুও উত্তোলন হয়েছে বরাদ্দের পুরো টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে,

চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে টিআর প্রকল্প-৫৩ টি, কাবিখা প্রকল্প-২৪টি এবং কাবিটা প্রকল্প-৪২টির কাজ চলমান রয়েছে।

এসকল প্রকল্পের কাজের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত অনেক প্রকল্পের কাজ আজও রয়েছে কাগজে কলমে।

এ বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাজহানুর রহমান বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের সকল প্রকল্পের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হয়েছে।

ভোটমারী ৮ নং ওয়ার্ডের একটি এইচবিবি করণ পুর্বের করা কাজ দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনও করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে। অপরদিকে মদাতী ইউনিয়নের পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে পর পর দুইবার বরাদ্দ কিভাবে পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করে বরাদ্দ অবশ্যই পেতে পারে তবে কাজ করেছে আবার করবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের বিষয় আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যেসকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের তথ্যগুলো দিলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।




ভান্ডারিয়ায় অটো গাড়ি চোর চক্র গ্রেফতার, চোরাই অটো উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ভান্ডারিয়ায় ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি চুরির ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া অটো গাড়ি (কেটে ফেলা অবস্থায়) ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল আলম শিকদার (৩৮), পিতা- ফারুক শিকদার, মাতা- সাহেরা বেগমের ব্যাটারি চালিত অটো গাড়িটি চুরি হয়। বিষয়টি তিনি গতকাল রাতে ভান্ডারিয়া থানায় অবগত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে।
অভিযানে প্রথমে অটো চুরির সাথে সরাসরি জড়িত মোঃ রায়হান জোমাদ্দার (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভান্ডারিয়া থানাধীন মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ব্যাটারিসহ চুরি করা অটো গাড়ি উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে কেটে ফেলা হয়েছিল।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
১) মোঃ রায়হান জোমাদ্দার (২২), পিতা- মোঃ সালাম জোমাদ্দার, সাং- বড় কানুয়া, থানা- ভান্ডারিয়া, জেলা- পিরোজপুর। (অটো ড্রাইভার ও চোর)
২) সুমন সিকদার (৪৫), পিতা- মৃত সোহরাফ সিকদার, সাং- নিজ ভান্ডারিয়া, থানা- ভান্ডারিয়া, জেলা- পিরোজপুর।
৩) মোঃ নুরুল ইসলাম (৫৫), পিতা- মৃত সুলতান খা, সাং- নিজ ভান্ডারিয়া, থানা- ভান্ডারিয়া, জেলা- পিরোজপুর।
৪) মোঃ বক্কার হোসেন (৩২), পিতা- মোঃ শহিদ জোড়ামানিক, সাং- কল্যাণপুর, থানা- কুমারখালী, জেলা- কুষ্টিয়া; এ/পি- নিজ ভান্ডারিয়া, ৩নং ওয়ার্ড। (ভাঙারির দোকানদার)
৫) মোঃ শিপন ইসলাম (৩২), পিতা- মৃত আমজাদ সরদার, সাং- কল্যাণপুর, থানা- কুমারখালী, জেলা- কুষ্টিয়া; এ/পি- নিজ ভান্ডারিয়া, ৫নং ওয়ার্ড। (ভাঙারির দোকানদার)
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।



পিরোজপুর পুলিশের অভিযানে ২২টি মোবাইল ও বিকাশ প্রতারণার ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুর জেলা পুলিশের আইসিটি এন্ড মিডিয়া (সাইবার পেট্রোলিং) শাখা অভিযান চালিয়ে  হারিয়ে যাওয়া ২২ টি মোবাইল ফোন সেট, বিকাশ প্রতারণার ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি)  বেলা ১২টার দিকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন সেট ও বিকাশ প্রতারণার অর্থ প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এর দিকনির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মো: জিয়াউর রহমান  এর তদারকীতে জেলার আইসিটি এন্ড মিডিয়া শাখার তৎপরতায় এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন থানার হারানো মোবাইল, বিকাশ প্রতারণা জিডিসমুহ পর্যালোচনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা হতে ২২ টি হারানো বিভিন্ন ব্রান্ডের এনড্রয়েড মোবাইল ফোন সেট ও বিকাশ প্রতারনার ১৮ হাজার  টাকা উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীরা তাদের মোবাইল, প্রতারণার টাকা ফেরত পেয়ে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন,  পুলিশের আইসিটি এন্ড মিডিয়া (সাইবার পেট্রোলিং) শাখার এ এরকম উদ্ধারজনিত কার্যক্রম অব্যহত থাকবে। জেলা পুলিশ ইতোপূর্বেও এরকম উদ্ধারজনিত কাজ করে সবসময় জনগনের পাশে অবস্থান করছে।




আশুলিয়ায় বৈদ্যুতিক গ্রীডের ক্যাপাসিটর ব্যাংকে আগুন

সিনিয়ার ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ বশির উদ্দিন, আশুলিয়া (ঢাকা): শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার কবিরপুরে বৈদ্যুতিক গ্রীডের ক্যাপাসিটর ব্যাংকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ারসার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় আধা ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার কবিরপুর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের ক্যাপাসিটর ব্যাংক ভবনের ভেতরে আগুনের এই ঘটনা ঘটে।
ফায়ারসার্ভিসের তথ্য মতে, ক্যাপাসিটর ব্যাংকের একতলা ভবনের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ারসার্ভিস থেকে দুটি এবং কালিয়াকৈর ফায়ারসার্ভিস থেকে দুটি সহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। পরে প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ারসার্ভিস। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেনি ফায়ারসার্ভিস।
কবিরপুর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের ইনচার্জ সহকারী প্রকৌশলী মো: নাজিম উদ্দিন জানান, আড়াইটার দিকে ক্যাপাসিটর ব্যাংক ভবনের ভেতরে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরক্ষণেই ধোয়া দেখে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয় এবং ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়া হয়। পরে ভেতরে গিয়া দেখি ক্যাপাসিটর কক্ষের একটি রি-এক্টরে আগুন ধরেছে। এতে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তবে শুধুমাত্র ক্যাপাসিটর ব্যাংকের চারটা রি-এক্টরের মধ্যে শুধুমাত্র একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফায়ারসার্ভিস জোন-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো: হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে চারটা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় আধা ঘন্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তদন্ত করে পরে জানানো হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।



আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লালমনিরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের মিশনমোড়ের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদুল হক আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম মানিক, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাইদুল ইসলাম, সদস্যসচিব নাজমুল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কল্লোল এবং আদিতমারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রনি।

বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।




পিরোজপুর প্রেসক্লাব নির্বাচনে রেজাউল ইসলাম শামীম সভাপতি তানভীর আহম্মেদ সম্পাদক

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর প্রেসক্লাব নির্বাচন-২০২৬ এ- এস. এম. রেজাউল ইসলাম শামীম (দৈনিক আমার দেশ) সভাপতি ও এস. এম. তানভীর আহমেদ (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যমুনা টিভি) সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার সকালে প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারন সভা শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্বে অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন।
জেলা প্রশাসকের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশনার ও জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ ইকবাল করিম এ দায়িত্ব পালন করেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যসব পদের প্রার্থীরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি খেলাফত হেসেন খসরু (দৈনিক পিরোজপুরের কথা) ও শেখ মো. রশিদ আল মুনান (এনটিভি), যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক (সময় টিভি), কোষাধ্যক্ষ কুমার শুভ রায় (বাংলাভিশন), দপ্তর ও পরিসম্পদ সম্পাদক মো. তামিম সরদার (ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও দৈনিক আজকের পত্রিকা), সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবির হোসাইন (দিপ্ত টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক রেজওয়ান ইসলাম সাজন (সাপ্তাহিক বলেশ্বর), তথ্য প্রযুক্তি ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ আবু মোঃ জুবায়ের জনি (সাপ্তাহিক পিরোজপুর বাণী)।

নির্বাহী সদস্য মাহামুদ হোসেন (ইউএনবি), এম এ রব্বানী ফিরোজ (দৈনিক খবর), আরিফ মোস্তফা (দৈনিক বনিক বার্তা ও বাংলা ট্রিবিউন), ফসিউল ইসলাম বাচ্চু (সমকাল ও চ্যানেল আই), জহিরুল হক টিটু (দৈনিক যায়যায় দিন ও নিউ নেশন), খালিদ আবু (আমাদের সময়), মাহামুদুর রহমান মাসুদ (দৈনিক মানবজমিন), ওয়াহি হাসন বাবু (ইনকিলাব) ও কে এম হাবিবুর রহমান (ডেইলী স্টার ও ডিবিসি টিভি)।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিরোজপুর প্রেসক্লাব ঐতিহ্যের সাথে একটি অন্যতম সামাজিক সংগঠন হিসেবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছে।




জেলা প্রেসক্লাব, পটুয়াখালী শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক জাহিদ রিপন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১০(জানুয়ারি) রোজ শনিবার আছর বাদ জেলা প্রেসক্লাব, পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস রোড, অস্থায়ী কার্যালয় শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ৷
জানা যায়, সাংবাদিক জাহিদ রিপন দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। বুধবার রাতে কলাপাড়া পৌর শহরের নিজ বাসভবনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয় সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কলাপাড়া পৌর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
জাহিদ রিপন এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর পটুয়াখালী উপকূল প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে তিনি ছিলেন আপসহীন, যা সহকর্মী ও নবীন সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
এছাড়াও কলাপাড়া প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স ক্লাব এবং কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামসহ উপজেলার সকল সাংবাদিক সংগঠন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আয়োজিত এই মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা জেলা সাভার আশুলিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ সদস্যের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার পুলিশ সদস্য হলেন- আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে এসআই মনিরুল ইসলাম আশুলিয়ার বাংলাবাজার এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদার কে গ্রেফতার করতে গেলে, আশুলিয়া থানার এস আই মনিরুল ইসলাম উপর হামলা ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসাপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।




আশুলিয়ায় শ্রমিক কলোনীতে অগ্নিকান্ড ; ১৩ কক্ষ ভস্মিভুত

সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোহাম্মদ বশির উদ্দিন আশুলিয়া (ঢাকা) : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দোকান ও শ্রমিক কলোনীর ১৩ কক্ষ ভস্মিভুত হয়েছে। এসময় কক্ষে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। স্থানীয় জনতা ও ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি শহীদনগর এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন কলোনীতে আগুনের এ ঘটনা ঘটে।
ডিইপিজেড ফায়ারসার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী জানান, সন্ধ্যায় ওই শ্রমিক কলোনীর একটি মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন অন্যান্য কক্ষে এবং পাশের দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাজীপুর সিটির সারাবো থেকে দুইটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসলেও দুইটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। আধা ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে জিরানী সড়কের মাথায় অটোরিকশার জ্যাম থাকায় ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে। এতে সময় বেশি লেগেছে এবং ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়েছে।
ফায়ারসার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরো জানান, শ্রমিক কলোনী ও পাশের দোকান মিলে ১৩ টি কক্ষ পুড়ে গেছে। কেউ কেউ কিছু মালামাল বের করতে পেরেছে এবং বাকীগুলো পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ৫লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।