আমি কবি নই

লেখক:    আলেয়া মান্নান

আমি কবি নই, তবুও কেন কবি!

কিছু বিরহ কিছু ছন্দ বলি।

আমি প্রেমি নই,তবু লিখি প্রেমের কলি।

 কিছু বেদনা আর প্রেমানলে জ্বলি।

 আমি রূপসী নই, তবুও ইচ্ছে, রূপ সাগরে ভাসি।

কিছু দুঃখ, কষ্ট নিয়ে, কিছু সময় ভাবি!!!

আমি কবি নই, তবুও কবিতা ভালোবাসি।

কিছু আঘাত কিছু যন্ত্রণা, খুব যত্ন করে রাখি।

আমি শিল্পী নই, তবুও কিছু আঁকি।

কিছু চিত্র কিছু স্মৃতি, সর্বক্ষণ দেখি।

আমি সুখী নই, তবুও সুখের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচি।

কিছু কান্না অনুভূতি নিয়ে, বেঁচে আছি।

আমি কবি নই, তবুও আমি কবিতা পড়ি।

কিছু কথা কিছু মায়া, এই নিয়ে গল্পের ঝুড়ি।

আমি মাঝি নই, তবুও আমি নৌকায় চড়ি,

কিছু সময় কিছু রাস্তা, দিতে হয় একা পাড়ি।

 আমি জ্ঞানী নই, তবুও চাই জ্ঞানের পরশে থাকি।

কিছু মুখ কিছু মুখোশ, চেনার অভিজ্ঞতা করি।

আমি কবি নই, তবুও লিখি কবিতা।

লিখতে লিখতে চেয়ে দেখি, তাহার নামটি গাঁথা।

আমি কবি নই, তবু আছি, কবির শিরোনামে।

আমি কবি নই, কবিতা লিখব না আমার নামে।




রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর সুপার লিংক মালিক সমিতির একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন জ্বলছে।

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাসে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, তবে প্রাথমিকভাবে কীভাবে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ১০৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং রবিউল আউয়াল বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলের ১১৪ নম্বর সি/এ-তে অবস্থিত সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (রাসেল) ।

নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মী ও নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ ও মতাদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশার মানুষের একটি সংগঠন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে পেশাজীবী সমাজের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করাই এ সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

আরিফুল ইসলাম জিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে পেশাজীবীদের মতামত তুলে ধরা, পেশাগত অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং দলীয় নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচি সম্পর্কে পেশাজীবী সমাজকে সম্পৃক্ত করা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যয়
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সভা, সেমিনার, মতবিনিময় ও পরিচিতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নবগঠিত ১০৯ সদস্যের আংশিক কমিটি পেশাজীবীদের ঐক্য সুদৃঢ় করা, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দলের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আউয়াল বিপ্লবসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়। পরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়।




মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)। এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)। এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)। পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বীন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)।  অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)। এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি। ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।




আলেয়া মান্নানের অপ্রকাশিত লিখা ‘কাল যদি’- কবিতা

কাল যদি

         -আলেয়া মান্নান

 

ভাবতে গিয়ে তোকে নিয়ে, বন্ধ হয় নিঃশ্বাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।

তোকে নিয়েই ভয় যত, আছি আমি ভয়ে।

তুই যদি চলে যাস, অন্যের সঙ্গী হয়ে।

বুকের ভিতর কেমন যেন, ভয় করে এক রাশ।

কাল থেকে হঠাৎ করে, বদলে যদি যাস!!!

অন্য কাউকে যদি ভীষণ, আপন করে নিস।

আমাকে করিস যদি, তোর চোখের বিষ।

এসব ভেবে ভয় করে, ঘুম আসে না রাতে।

আবার তোকে হারিয়ে ফেলার, নানান ভয়েতে।

কাল যদি তোর জীবন, অন্যরকম সাজায়।

তখন যে তুই আবার, ভুলে যাবি আমায়।

তোর কানে যদি কেউ, মন্ত্রতন্ত্র বাজায়।

সে ভাবনাটায় আমার মনে, বারং বার ভাবায়।

হয়ত তখন বদলে যাবি, পরিস্থিতির সাথে।

আমাকে এড়িয়ে চলবি, নানান অজুহাতে।

ভয় করে তোর ভাবনাটা, ভাবি যখন আমি।

কাল আবার অন্য কাউকে, করিস যদি দামী।

এসব ভেবেই ভয় করে, থমকে ওঠে শ্বাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।

তোকে নিয়েই যত ভাবনা, আমার অন্তরে।

যদি আবার জড়িয়ে যাস, অন্য মায়ার সুরে।

ভয়ে শুধু ভাবি তোকে, করি না কিছু প্রকাশ।

কাল যদি আবার তুই, আমায় ভুলে যাস।

অন্য কাউকে নিয়ে যদি, সুখী হতে চাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।




সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণে কাজের প্রত্যয়, আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান।

এ সম্মানজনক দায়িত্বে মনোনীত হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের সম্মানিত চেয়ারম্যান, প্রিয় লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু ভাইসহ সংগঠনের সকল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

এক প্রতিক্রিয়ায় খান সেলিম রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে আমাকে মনোনীত করা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গৌরবের ও অনুপ্রেরণার। আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মনোনীত করায় আমি সত্যিই অভিভূত।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, কল্যাণ ও সুরক্ষায় এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

খান সেলিম রহমান বলেন, “আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সংগঠনের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”




বাংলাদেশের প্রথম বৃহত্তম অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে রেকর্ড ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ ২৩ হাজারেরও বেশি তরুণ বাংলাদেশি যখন তাদের স্মার্টফোন হাতে তুলে প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোকে গল্পে রূপান্তরিত করে, তখন কী হয়? এই ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে-তে অপো ঠিক সেই অসাধারণ সৃজনশীলতাকেই উদযাপন করছে। ‘এভরি ফটো টেলস আ স্টোরি’ শীর্ষক অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬, গ্র্যান্ড ফিনালেতে পৌঁছেছে; আর সারাদেশ থেকে এতে রেকর্ড পরিমাণ ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন এসেছে।

ফটোগ্রাফি আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য। একসময় যা কেবল পেশাদার ফটোগ্রাফার ও বিশেষ যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেই ফটোগ্রাফি আজ এক সর্বজনীন ভাষা হয়ে উঠেছে। ঢাকার কোনো রাস্তার একটি মুহূর্ত, প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পোর্ট্রেট বা কম আলোয় ধারণ করা দৃশ্য; সঠিকভাবে দেখলে এর সবই একেকটি গল্প হয়ে উঠতে পারে।

অপোর কাছে ফটোগ্রাফি সবসময়ই উদ্ভাবনের কেন্দ্রে রয়েছে। সেলফি প্রযুক্তিতে পথ দেখানো থেকে শুরু করে এআই-সক্ষম ইমেজিং, পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি, নাইট ফটোগ্রাফি সহ বিভিন্ন ইমেজিং সক্ষমতা উন্নত করা পর্যন্ত, অপো সবসময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ফটোগ্রাফি আরও সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যান্ডটি বিশ্বাস করে, ফটোগ্রাফি কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি মানুষকে নিজের মতো করে দেখতে, সৃষ্টি করতে ও গল্প বলতে সক্ষম করে তোলার বিষয়।

বাংলাদেশে এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ‘অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’, যা দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রতিষ্ঠান পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সাথে অংশীদারিত্বে আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের স্মার্টফোনে তোলা ছবি পাঁচটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে জমা দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো- পোর্ট্রেট; নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ; স্ট্রিট অ্যান্ড আর্কিটেকচার; লো লাইট; ও হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার।

এতে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। প্রতিযোগিতায় ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন পড়েছে, যা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফটোগ্রাফির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সৃজনশীল প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তাকে প্রতিফলিত করে।

গ্র্যান্ড ফিনালের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথে যেন উদ্দীপনা আরও বাড়ছে; হাজারো এন্ট্রির মধ্য থেকে কোন ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্প আলাদাভাবে বোঝা যাবে? বিজয়ীদের একাধিক ধাপে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যেন প্রতিটি ধাপে সৃজনশীলতার উদযাপন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড উইনার পাবেন ১,০০,০০০ টাকা নগদ পুরস্কার, একটি অপো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। এলিট উইনার পাবেন ৫০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। মাস্টার উইনার পাবেন ৩০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। এবং প্রতিটি ক্যাটাগরি উইনার পাবেন ২০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স।

এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “অপোতে আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে, ফটোগ্রাফি তরুণদের জন্য নিজেদের পরিচয় ও বিশ্বকে দেখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি। ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে আমাদের জন্য প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার একটি অসাধারণ সুযোগ। এটি কেবল ইমেজিং প্রযুক্তির প্রতি নয়; বরং, দেশজুড়ে আমরা যে সৃজনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে চাই তার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও। ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আমাদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের গল্পগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন; এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। এই আবেগ ও সৃজনশীলতাকে আরও বিকশিত হতে সহায়তা করবে আমরা এমন প্ল্যাটফর্ম ও সুযোগ তৈরি করতে চাই।”

এই প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে সৃজনশীল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতি অপোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। স্মার্টফোন প্রযুক্তি, পাঠশালার মতো পেশাদার ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ও হাজারো উদীয়মান ফটোগ্রাফারকে একত্রিত করার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং তারচেয়েও বেশি কিছু। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে উদীয়মান ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলাররা স্বীকৃতি পাবেন, পেশাদারদের কাছ থেকে শিখতে পারবেন এবং তাদের অনুভূতিকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।

এবারের ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে-তে ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন এক শক্তিশালী স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে; যেখানে ফটোগ্রাফি এখন আর দামি ক্যামেরা বা পেশাদার স্টুডিও দিয়ে পরিমাপ করা হয় না। কেবল অনুভূতি আর এর তীব্র বহিঃপ্রকাশের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে এই দৃষ্টিভঙ্গি।

আর গ্র্যান্ড ফিনালে এগিয়ে আসার সাথে সাথে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ২৩ হাজারেরও বেশি গল্পের মধ্য থেকে কোন ছবিটি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে!




সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার: অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা। আগামীকালের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

বুধবার ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানার ওসি যে মামলা নিয়েছেন, সেটি রক্ষা করতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন আইনে মামলাটি নেওয়া হয়েছে এবং সেটি কোনো চাপে করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে তদন্ত হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে তখন গ্রেপ্তার করা যেত।

তিনি বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তাঁর প্রতিবেদনের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলা করার সুযোগ ছিল। থানায় মামলা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগের পরিস্থিতি ভেবে কেউ যেন অন্যায় না করেন।

শাহবাগ থানার ওসি ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের আগে ২৪–এর আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ রাখা উচিত।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখে সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পরীক্ষিত সংবাদকর্মী হাফিজুর রহমান শফিককে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চান তিনি।

তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁরা কল্পনাও করেননি।

দিদারুল আলম দিদারের অভিযোগ, এ ঘটনা প্রমাণ করে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মধ্যে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা রয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যে প্রতিবেদনের কারণে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও তীব্র কর্মসূচি দেবে বলেও জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হলে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেই মানুষকে মারধর, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অপরাধ করলে বিচার হবে, তবে নিরপরাধ কাউকে মব সৃষ্টি করে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের বাঁচাতে হলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের কাউন্সিলর নুরুল আবছার, ডিইউজের সদস্য আকাশ মনি সহ প্রমুখ।




মিরপুর প্রেসক্লাবে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত নাম ঘোষণা- সভাপতি হিসেবে এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ শিহাব উদ্দিন নির্বাচিত এবং তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্মদিন উদযাপন

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মিরপুর প্রেসক্লাবে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়। এবং কমিটি গঠন শেষে ক্লাবের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমী, সম্মানিত উপদেষ্টা মোঃ সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের জন্মদিন একসঙ্গে উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও খবর বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা, উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান এবং উপদেষ্টা মোঃ মাহবুবুর রহমান খান সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত মিরপুর প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে *সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এস এম বদরুল আলম* , *সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ শিহাব উদ্দিন* এবং *সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোঃ শফিকুল ইসলাম সাইমন*। এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মোঃ রাহাত খান, এস এম ইসলাম উকিল ও মাইনুল ইসলাম পলাশ; সহ-সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম টুটুল, মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, শাহিনুজ্জামান ও শফিকুল ইসলাম রাজু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ সাইফুল ইসলাম, সুমন খান, মুন্না, মঞ্জুর আহমেদ ও জিএস জয়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে এম এ গাফফার, এম এ মালেক, ডালিয়া মির্জা, রিয়া মনি, দুলাল হোসেনসহ অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম। তিনি বলেন,
“মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমাদের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী, উপদেষ্টা সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করছি। একই সঙ্গে নবগঠিত কমিটির সবাইকে নিয়ে আমরা মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন,
“আমাদের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী সবসময় সাংবাদিকদের অভিভাবক হিসেবে পাশে থেকেছেন। তাঁর দিকনির্দেশনা মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে উপদেষ্টা সালমান ফারসি ও সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের অবদানও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”

উপদেষ্টা মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা বলেন,
“তালুকদার রুমীর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করছি। পাশাপাশি সালমান ফারসি ও নজরুল ইসলাম টুটুলের প্রতিও রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।”

উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান বলেন,
“মিরপুর প্রেসক্লাব আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আমরা তিনজনেরই সুস্থ, সুন্দর ও সফল জীবন কামনা করি।”

উপদেষ্টা মোঃ মাহবুবুর রহমান খান বলেন,
“এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমরা আশা করছি।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার মোঃ রাহাত খান বলেন,
“তালুকদার রুমী সাংবাদিকদের জন্য একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মতো অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগায়।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ বলেন,
“আজকের এই আয়োজন আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক। জন্মদিনের তিনজন গুণী ব্যক্তিত্বের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।”

সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুল জন্মদিনের শুভেচ্ছার জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মিরপুর প্রেসক্লাব পরিবার সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে মিরপুর এলাকার প্রায় দেড়শ থেকে দুই শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কেক কাটা, ফুলেল শুভেচ্ছা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। বিশেষ করে মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সফলতা কামনা করেন উপস্থিত সবাই।

একই সঙ্গে সম্মানিত উপদেষ্টা মোঃ সালমান ফারসি এবং সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুলের জন্মদিনও আন্তরিক ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁদের সাংবাদিকতা, সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টুটুল জন্মদিনের শুভেচ্ছার জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মিরপুর প্রেসক্লাব পরিবার সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিন গুণী ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের সম্মান জানান এবং সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সবশেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে মিরপুর প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সাংবাদিকবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও ঐক্যের মাধ্যমে মিরপুর প্রেসক্লাব ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




কুড়িলে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ছাতা মাথায় রেললাইন পার হওয়ার সময়ে ট্রেনের ধাক্কায় মো. রাকিবুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পেশায় তিনি গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। রবিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবু রায়হান জানিয়েছেন, সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল সে সময়ে রাকিব মাথায় ছাতা দিয়ে অসতর্কভাবে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। মাথায় ছাতা থাকার কারণে সম্ভবত তিনি ট্রেনের হর্ন বা শব্দ শুনতে পাননি। সে সময় বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে পথচারী ওই আরও বলেন, মৃত রাকিব অনার্স (স্নাতক) সম্পন্ন করেছিলেন, ঢাকায় এসে গতকাল থেকে গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। আজ ছিল তার চাকরির দ্বিতীয় দিন সকালে কর্মস্থল গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় অবগত করা হয়েছে। মৃত রাকিব ভোলা জেলার দৌলতখান থানার চর খলিফা গ্রামের প্রাইভেটকার চালক মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কুড়াতলী এলাকায় পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়।