কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেল হিসাবে তৈরি করাতে চান উপাচার্য

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর গত ১৬ মাসে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষার মডেলে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। জনবল সংকট থাকলেও মেধা, স্বচ্ছতা আর নিরলস প্রচেষ্টায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের ছাপ রাখছে এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম ২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরাতে কাজ শুরু করেন। অন্যান্য সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতেই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়োগের সংস্কৃতি থাকলেও কুড়িকৃবি সেই পথে হাঁটেনি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি আগে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট গঠনের জন্য অপেক্ষা করেন।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সিন্ডিকেট সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা। উপাচার্য স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লবিং বা অসদুপায় সহ্য করা হবে না। প্রতিটি নিয়োগ হবে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।”

বর্তমান উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি ২০২৫ সাল থেকেই কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর হার ছিল ৯৪.৬৯%, যা দেশের ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।

ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের (লেভেল-১, সেমিস্টার-১) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের মিড-টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রমও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিজ্ঞ খণ্ডকালীন ও অতিথি শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটমুক্ত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাকে (Outcome Based Education) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কুড়িকৃবি। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় শুরু হয়েছে। কৃষি গবেষণার পথ প্রশস্ত করতে সাউথইস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ অনুদান প্রদান করেছে।

গত সিন্ডিকেট সভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ৪টি বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— চর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ফ্রেশওয়াটার ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ভেজিটেবলস এন্ড ফ্রুটস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা দুটি হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে রোভার স্কাউট, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও ডিবেটিং সোসাইটির মতো কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুড়িকৃবি অচিরেই একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। যথাযথ সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা পেলে এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও কৃষি বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।




প্রয়াত কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজিত করলো জাতীয় কমিটি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় কমিটির শোকসভায় বক্তারা কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-আত্মত্যাগ ও তাত্ত্বিক নেতৃত্ব প্রদানে অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুুল) দীর্ঘ ৫৫ বছর চলৎ শক্তিহীন অবস্থায় এদেশের বিপ্লবী আন্দোলন অগ্রসর করার ক্ষেত্রে মাকর্সবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করে যে উদাহরণ তৈরি গেছেন তা শুধু এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনেই নয় কমিউনিস্ট আন্দোলনেই অনন্য।

১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটি আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শুরুতে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় ও তার জীবনী পাঠ করেন তফাজ্জল হোসেন। শোকসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বিডি রহমত উল্লাহ, সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এ্যাডঃ মনসুর হাবীব, ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. হারুন অর রশিদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ-এর আহ্বায়ক হাসান ফখরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রহিমা জামাল, কন্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, প্রয়াতে বোন জেবুন্নেছা, কবি মোজাফ্ফর আহমেদ বাবু, জাতীয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এডভোকেট মনসুরুল হাই সোহান প্রমুখ। সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন শাহজাহান কবির ও প্রকাশ দত্ত।

 

WhatsApp Image 2026 04 17 at 10.29.45 PM

 

শোকসভায় বক্তাগণ বলেন, আজ বিশ্বব্যাপি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাজার ও প্রভাব বলয় নিয়ে ইউক্রেনযুদ্ধ, প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলের আগ্রাসন, ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ যা আঞ্চলিকযুদ্ধের ধারায় পারমাণবিকযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করছে। এই বিরুদ্ধে বিশে^র দেশে দেশে জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় ক্ষেত্রে সম্ভাব্যযুদ্ধে সম্পৃক্ত করার বিপদ যেমন বাড়ছে তেমনি আমাদের দেশে অর্থনীতির সঙ্কট ঘনীভূত হয়ে দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি, জ¦ালানী সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করতে আহ্বান জানানো হয়।

কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর জীবনের উপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মাপাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন।

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভচক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর বিকল্প বিপ্লবী ধারা অগ্রসর করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন।

১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। এ সময়ে ২৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে কমরেড রউফ গুলিতে আহত হন। আহত হয়ে প্যারালাইজড অবস্থায় তাঁকে স্ট্রেচারে করে চলাচল করতে হতো। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমরেড রউফকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। চিকিৎসায় কমরেড আব্দুর রউফ জীবনে বেঁচে গেলেও তাঁর নিম্নাঙ্গ অর্থাৎ মেরুদ-ের নীচের অংশ দুই পা অকার্যকর হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। দেশে ফিরে আসার পর প্রথমে তিনি খুলনা জেলা পার্টির সাথে যুক্ত হন।

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর আন্তর্জাতিকতাবাদী লাইনের পক্ষে কমরেড রউফ দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’-এর বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পার্টির তুলে ধরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদী লাইনকে প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা রাখেন। তিনি কমরেড আবদুল হক-এর জীবদ্দশায় কমরেড আব্দুর রউফ পার্টির ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৯ম কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকেন। শারীরিক কারণে ২০০৬ এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দশম ও একাদশ কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে না থাকলেও কার্যত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর তাত্ত্বিক নেতা।

দীর্ঘ দিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে অবশেষে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি ’২৬ সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রয়াত নেতার মরদেহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খুলনায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।




জিয়া শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জিয়া শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষিত হয়েছে। সংগঠনের এক জরুরী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেয়াদোর্ত্তীন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সাংগঠনিক বিধি মোতাবেক সভায় উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দের সম্মতিতে নতুন কমিটি গঠিত হয়। সভায় পুনরায় প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শিকদারকে সভাপতি ও আশরাফুল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৪৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি বিভাগে আলাদা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে।

সভাপতি- জাহাঙ্গীর শিকদার
সিনিয়র সহ-সভাপতি- কে.এস. হোসেন টমাস
সহ-সভাপতি- হায়দার আলী বাবলা
সহ-সভাপতি- জসীম উদ্দিন খান খোকন
সহ-সভাপতি- কাওসার মজুমদার
সহ-সভাপতি- হাসান মুকুল
সহ-সভাপতি- হাজী আক্তার হোসেন
সহ-সভাপতি- শেখ মহসিন
সহ-সভাপতি- তানিয়া ইসলাম
সহ-সভাপতি- নিয়ামুল বাশার মনকা
সহ-সভাপতি- কাজী আলমগীর হোসেন
সহ-সভাপতি- সাখাওয়াত হোসেন তুহিন
সহ-সভাপতি- আব্দুল আলীম
সহ-সভাপতি- শরীফুল ইসলাম রাকিব
সহ-সভাপতি- মীর আদনান তুহিন
সহ-সভাপতি- মাসুদ পারভেজ মানিক
সহ-সভাপতি- আলমগীর কবির বাবু
সাধারণ সম্পাদক- মোঃ আশরাফুল আমিন খান
সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- দ্বীন মোহাম্মদ দুলু
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- কাজী আনোয়ার হোসেন
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- তারেক কবির
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- কাউসার আহমেদ মিয়া
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- মীর নূর উস শামস্
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- হাজী মোহাম্মদ সজল
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- হামিদুল হক চৌধুরী
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- নাসিমুল গনি খান
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- মিন্টু আলম
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- কামরুল ইসলাম চৌধুরী
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- উমর ফারুক
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- কামরুল হাসান
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- জিয়া উদ্দিন জিয়া
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- এ্যাড. মজিবুর রহমান প্রধানীয়া
সহ-সাধারণ সম্পাদক- কেরামত আলী রাজু
সহ-সাধারণ সম্পাদক- এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু
সহ-সাধারণ সম্পাদক- ওবায়দুল্লাহ মাসুম
সহ-সাধারণ সম্পাদক- জহিরুল ইসলাম বুলবুল
সহ-সাধারণ সম্পাদক- মজিবুর রহমান দীপু
সহ-সাধারণ সম্পাদক- নাসির উদ্দিন শাহ মামুন
সহ-সাধারণ সম্পাদক- তাজুল ইসলাম তাজু
সহ-সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ মাসুদ
সহ-সাধারণ সম্পাদক- রফিক মৃধা
সহ-সাধারণ সম্পাদক- আমিনুল হোসেন সুমন
বিশেষ সম্পাদক- এস. এম ফরিদ
বিশেষ সম্পাদক- মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিজভী
বিশেষ সম্পাদক- আ.ন.ম. আব্দুল হামিদ
বিশেষ সম্পাদক- রুকাইয়া হক রুকু
বিশেষ সম্পাদক- বিপুল আহমেদ
বিশেষ সম্পাদক- কিরণ শেখ
বিশেষ সম্পাদক- আব্দুল মান্নান বাবুল
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা- নাহিদুল ইসলাম নাহিদ
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা- কামরুল হাসান
সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম- জহিরুল ইসলাম
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম- জাহাঙ্গীর আলম
সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল- ফেরদৌস আহমেদ
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল- শামীম আহমেদ মৃধা
সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট- সোলেমান আহমেদ সিদ্দিক
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট- নাজমুল ইসলাম চৌধুরী
সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদপুর- মুহাম্মাদ আরিফুজ্জামান (অপু)
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদপুর- মোঃ সাহিদুল ইসলাম নান্নু
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদপুর- মোহাম্মেদ শরিফ আহম্মেদ
সাংগঠনিক সম্পাদক, খুলনা- রঞ্জু আহমেদ
সাংগঠনিক সম্পাদক ময়মনসিংহ- মোঃ আকরাম হোসেন
দপ্তর সম্পাদক (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ মর্যাদা)- মোঃ মোরশেদ আলম (চঞ্চল)
সহ-দপ্তর সম্পাদক- মোঃ নূর নবী
সহ-দপ্তর সম্পাদক- মোঃ আহসান হাবীব সবুজ
প্রচার সম্পাদক- মাহির আহমেদ রানা
সহ-প্রচার সম্পাদক- নজরুল ইসলাম
সহ-প্রচার সম্পাদক- মোঃ মাসুম ফরায়েজি
কোষাধ্যক্ষ- মাসুদ রানা
সহ-কোষাধ্যক্ষ- মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- দিলদার হোসেন শামীম
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- ইমরান জাহান সম্রাট
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- জহির রায়হান
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- আজিজুন নাহার মালা
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- জামান ফারুক
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- সুজন ঢালী
সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান
সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- শফিকুল ইসলাম লাভলু
সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- সৈয়দ মামুন হোসেন
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক- হাবিবুর রহমান (রুবেল)
সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক- গোলাম আশরাফ খান উজ্জল
সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক- কল্যানী ঘোষ
প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক- জাহাঙ্গীর আলম
সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ ইকরামুল হাসান
সহ-প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক- হাফিজ আল আসাদ
সংগীত বিষয়ক সম্পাদক- আব্দুল আউয়াল
সহ-সংগীত বিষয়ক সম্পাদক- শাহীন বিশ্বাস
সহ-সংগীত বিষয়ক সম্পাদক- এস. এম পান্না
সহ-সংগীত বিষয়ক সম্পাদক- আনোয়ার সরদার
সহ-সংগীত বিষয়ক সম্পাদক- আফরোজা আক্তার এ্যানী
সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক- রুুহুল আমিন
সহ-সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ আলমগীর হোসেন
সহ-সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ শাহাদাত হোসেন স্বপন
সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক- সাবদার মাহমুদ অতুল
সহ-সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ আব্দুল গফুর ভূঁইয়া
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক- রুপা খান
সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক- সালমা খানম পুতুল
শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- সাইদুর রহমান
লোকজ সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক- সেলিম রেজা
সহ-লোকজ সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক- আফসানা ইমা
আবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)- শফিকুল ইসলাম ডাবলু
নৃত্যকলা বিষয়ক সম্পাদক- রুবি মজুমদার
সহ-নৃত্যকলা বিষয়ক সম্পাদক- ওয়াহিদ উদ্দিন নঈম
সহ-নৃত্যকলা বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ রুহুল কুদ্দুস (সুমন)
নাট্যকলা বিষয়ক সম্পাদক- মোহাম্মদ নেসার
সহ-নাট্যকলা বিষয়ক সম্পাদক- শেখ ইসরাফিল ইসরাইল (অপু)
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক- দেওয়ান নূর ইসলাম উজ্জল
ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ ইমরান হোসেন
সহ-ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ মামুন হোসেন
গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক- হাফিজুর রহমান শফিক
সহ-গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান বিপ্লব
সহ-গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক- মুস্তাক আহমেদ
আইন বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. আওলাদ হোসেন
সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. মোঃ সাইফুল আলম সাব্বির
সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. ফারুক গাজী
সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. মোঃ শরীফ পাঠান
মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. রেহানা পারভীন
সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক- এ্যাড. রোজিয়া বেগম
সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক- মাসুদা আক্তার
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক – হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম
সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- মুফতি গোফরান ফরিদী
সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- হাফেজ মাওলানা আব্দুল বাসেত
সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- মাওলানা আব্দুল্লাহ হাসান
ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক- আবুল হোসেন পাপ্পু
সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক- সালাহউদ্দিন ইমন
সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির
সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক- মোঃ মোস্তফা কামাল
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক- আব্দুর রহিম তালুকদার
আলোকচিত্র বিষয়ক সম্পাদক- মীর্জা সম্রাট রেজা
আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক- আব্দুস সালাম খান
সহ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক- ফিরোজ শিকদার
লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক- শামীম হাসান
সদস্য- জাকির হোসেন আখের
সদস্য- মোঃ মাহবুবুল আলম
সদস্য- মোঃ শহিদুল্লাহ
সদস্য- শরীফ মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া
সদস্য- মোঃ নাহিদ হাসান
সদস্য- ফরিদ আলম অপু
সদস্য- মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিঠু
সদস্য- আলাল খাঁন
সদস্য- শফিকুল ইসলাম জীবন
সদস্য- খাইরুদ্দিন ভূট্টো
সদস্য- মোঃ আযম আল ফয়সাল শিমুল
সদস্য- জসীম উদ্দিন
সদস্য- আব্দুল মান্নান
সদস্য- জাকিয়া সুলতানা স্বর্না
সদস্য- রাউফি খন্দকার শুভ
সদস্য- সোনিয়া নেহা
সদস্য- সুইটি মাহমুদ




বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর স্মরণে শোকসভা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর শোকসভা আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, বিকাল ৪টায়, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শোকসভা সফল করতে সর্বস্তরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, শক্তি ও সংগঠনের নেতা-কর্মি-দরদি-সমর্থকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হলো।

উল্লেখ্য, কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-এ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মা পাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রহিম রেলওয়েতে কর্মরত ছিলেন এবং মা আমেনা খাতুন ছিলেন গৃহিনী। তিনি ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে বড় বোনের পর দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক বিপ্লবী কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময়টা দক্ষিণ এশিয়া ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যেমন মুখোমুখি অবস্থান ছিলো, তেমনই বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম ও বিপ্লবের ছিল উত্তাল সময়। এ সময়ে বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ববিপ্লবকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তীব্রতর হয়ে উঠে।

সমাজাতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ সামনে আনা হলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহাবিতর্ক শুরু হয়। প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বিকল্প বিপ্লবী ধারার পক্ষে থাকেন। তিনি ১৯৬৮-৬৯-এর গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। ১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চীন ঘেরাও নীতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ১৯৬৫ সালে ভারতকে দিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত করে। এতে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগকে দিয়ে ৬-দফার আন্দোলন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করার পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়। এ সময়ে প্রতিপক্ষ সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদও বসে থাকে না। এ প্রেক্ষিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যুদ্ধ শুরু হয়।

প্রতিবিপ্লবী এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। দেশব্যাপী বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করার প্রেক্ষিতে ‘গণমুক্তি ফৌজ (PLA-Peoples Liberation Army)’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিপ্লবী সেনাবাহিনী, গেরিলা স্কোয়াড, ঘাঁটি এলাকা, মৌসুমি ঘাঁটি এলাকা ইত্যাদি গড়ে তুলে বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করা হয়। খুলনা জেলার বিভিন্ন লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেন কমরেড রউফ। এ সময়ে ২৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে কমরেড রউফ গুলিতে আহত হন। আহত হয়ে প্যারালাইজড অবস্থায় তাকে স্ট্রেচারে করে চলাচল করতে হতো। এ সময়ে এলাকার পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি নৌকায়, পায়ে পায়ে স্ট্রেচারে করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী সেনাবাহিনীর সাথেই থাকতেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমরেড রউফকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। তাঁর চিকিৎসায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চিকিৎসায় কমরেড আব্দুর রউফ জীবনে বেঁচে গেলেও তাঁর নিম্নাঙ্গ অর্থাৎ মেরুদন্ডের নীচের অংশ দুই পা অকার্যকর হয়ে যায়। তখন থেকে তিনি পায়ে ভর করে চলাফেরা করতে পারতেন না। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। কোলকাতা থেকে ফিরে আসার পর তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে চলেন। ফিরে আসার পর প্রথমে খুলনা জেলার সাথে যুক্ত হন।

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর আন্তর্জাতিকতাবাদী লাইনের পক্ষে কমরেড রউফ দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনে সামরিক শাসক মার্কিনের দালাল জিয়াউর রহমান সরকারকে মোহাম্মাদ তোয়হা’র নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল ‘দেশপ্রেমিক সরকার’ এবং ইদ্রিস লোহানী-সত্য মৈত্রী’র নেতৃত্বে বিসিপি (এম-এল)’র ‘জাতীয় সরকার’ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র এবং জিয়াউর রহমানকে মার্কিনের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে পাটির্র মূল্যায়ন উর্ধ্বে তুলে ধরা হয়। এ প্রেক্ষিতে কমরেড রউফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রদত্ত সংশোধনবাদী ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’-এর বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পার্টির তুলে ধরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদী লাইনকে প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ পার্টি কংগ্রেসে পার্টির তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে মাও সেতুং চিন্তাধারা বাদ দিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, পার্টির সামরিক লাইন উন্নত করতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য হিসেবে কমরেড রউফ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশেষ কংগ্রেসে মাও সেতুং চিন্তাধারার মূল্যায়ন ও এর স্বরূপ উন্মোচনে কমরেড আবদুল হক-এর সাথে তিনি অনন্য ভূমিকা গ্রহণ পালন করেন।

১৯৯০-৯১ সালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় যে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করা হয় তা মোকাবেলায় কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের এক বছর এগিয়ে এনে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির নেতৃত্বে সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে পার্টি লাইনে সংগঠন-সংগ্রাম পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা কার্যকরী করতে ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয়। কমরেড আবদুল হক-এর জীবদ্দশায় কমরেড আব্দুর রউফ পার্টির ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুকে তাৎপর্যমন্ডিত করাসহ বাংলাদেশে বিসিপি’র ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে সংশোধনবাদের স্বরূপ উন্মোচন করে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে সফল পরিণতিতে নেওয়া হয়। কমরেড আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির ৯ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির সামরিক লাইনে সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবী যুদ্ধের সাথে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের সার্থক সমন্বয় সাধনের প্রেক্ষিতে সামরিক লাইন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৯ম কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকেন। শারীরিক কারণে ২০০৬ এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দশম ও একাদশ কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে না থাকলেও কার্যত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর তাত্ত্বিক নেতা।

কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করছে। তাঁর মৃত্যুতে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দিপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। একই সাথে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ হারালো তাদের অকৃত্রিম বন্ধু ও বিপ্লবী নেতাকে । কমরেড মুকুল ছিলেন দৃঢ়, সাহসী, নীতিনিষ্ঠ, প্রখর ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী আপসহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা। তিনি সর্বদা দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দর্শন এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে ভিত্তি করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেন। কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুর পর কমরেড রউফ ছিলেন এ দেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অবিসংবাদিত তাত্ত্বিক নেতা। সদালাপি, সদা হাস্যমুখ এবং সৎ চরিত্রের অধিকারী এ মহান বিপ্লবী শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে পার্টি ও বিপ্লবের স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিলো কমরেড আব্দুর রউফ-এর জীবনের অন্যতম সুমহান বৈশিষ্ট্য। কমরেড আব্দুর রউফ-এর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে আজ প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করা।




সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা: টার্গেটে বন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বন বিভাগকে অশান্ত করতে বেশ কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে নানামুখী অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। একটি অশুভ শক্তি সোস্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এতে কোনটি সত্য কোনটি অসত্য তা নিরূপন করা আদৌ সম্ভব হচ্ছে না। কিন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বন অধিদপ্তর।

এই চক্রটি কখনও প্রধান বন সংরক্ষক, কখনও উপ প্রধান বন সংরক্ষক কিংবা বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও মনগড়া তথ্য এবং আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে বন অধিদপ্তরকে। এতে বন কর্মকর্তাদের মধ্যে নানামুখী ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢালাওভাবে অভিযোগের কারণে বন বিভাগের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন অধিদপ্তরের আওতায় সারাদেশে মেধাবী, দক্ষ ও সচেতন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সংখ্যাও কম নয়। অথচ বন বিভাগে কর্মরত এই সব দক্ষ, চৌকস, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকার ও দেশবাসীকে বিব্রত করা হচ্ছে। কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তো রয়েছেই। তাই বলে সবাইকে অভিযুক্ত করে সোস্যাল মিডিয়ায় ন্যাক্কারজনকভাবে অপপ্রচার চালানো অশুশক্তির অপপ্রয়াস বলে অভিহিত করেছেন সচেতনমহল।

সাম্প্রতিককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে বন বিভাগের শীর্ষ পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের একের পর অসত্য, বানোয়াট এবং কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার সেই সব ভুয়া আইডি যাচাইকালে দেখা যাচ্ছে এতে কারও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। নেই যোগাযোগ করার ব্যবস্থাও।

সূত্র জানিয়েছে, সেই সব ভুয়া আইডি ব্যবহারকারীরা কোন কোন বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করছে। তারা শান্ত বন অধিদপ্তরকে অশান্ত করার করার নীল নকশা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সোস্যাল মিডিয়ার ভুয়া আইডিগুলো যাচাইকালে দেখা যায়, বন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর মত একজন ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তাকে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আবার প্রধান বন সংরক্ষকের দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের সঙ্গেও ট্যাগ লাগিয়ে দুরত্ব সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বিব্রত।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী তার যোগ্যতায় আওয়ামী সরকারের আমলেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তার চাকুরীকাল আরও বেশ কয়েক বছর রয়েছে। তিনি আওয়ামী আমলে ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করেননি। তিনি রাষ্ট্রীয় এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। দিবালোকের মতো সত্য যে, তিনি ফ্যাসিবাদী মন্ত্রীদের চাটুকারীও করেননি। তিনি নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য করেননি। অথচ তাকে আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে প্রধান বন সংরক্ষকের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা।

পেশাগত দায়িত্বপালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন সিসিএফ আমীর হোসাইন চৌধুরী। তিনি ২০০৩ সালে বন অধিদপ্তরে সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রধান বন সংরক্ষকের ঈর্ষাণীয় সফলতায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের ঘৃণ্য অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলেও তার সহকর্মীরা জানান এ প্রতিবেদকে। সিসিএফ আমীর হোসাইন চৌধুরী তার পেশাগত দায়িত্বপালনকালে বন বিভাগে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা সমস্যা সমাধানে সরকারে শীর্ষ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এর সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। তার বিনয়ী ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে বলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারিরা জানান।

তবে কি কারণে, কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে দুর্বৃত্তরা বন অধিদপ্তরে কর্মরত পেশাদার ও দায়িত্বশীল প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমীর হোসাইন চৌধুরীকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারিগণ।




সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বসুন্ধরায় ‘আপন হেলথ কেয়ার লিঃ’ এর শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : “স্বাস্থ্য সচেতন হোন- আপনার সুস্বাস্থ্যই আমাদের লক্ষ্য”এই স্লোগানকে ধারণ করে *APON HEALTHCARE LTD*, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ-ব্লকের প্রাইম লোকেশনে যাত্রা শুরু করলো বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। এ সময় তিনি আপন হেলথ কেয়ারের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক, খ্যাতনামা ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ জহির রায়হান বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) এমডি আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান ও স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কে নিয়ে ‘আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বিস্তারিত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেডের উপদেষ্টা এম এম মাসুমুজ্জামান। আপন হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন-

“মানব সেবা এবং সঠিক নির্ভুল রোগ নির্ণয় তথা স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে আজ আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড এর যাত্রা শুরু করতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। আমার উদ্দেশ্য ব্যবসা নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় তথা সুচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সর্ব সাধারণের জন্য সহজ ও নিরাপদ এবং হাতের নাগালে যেন সকল চিকিৎসা সেবা পায় সেই ব্যাবস্থা করা।”

প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মাসুমুজ্জান বলেন,

“এখানে স্বল্প মূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে ইনশাল্লাহ। দেশের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততায় থাকছে চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্র। আমাদের আধুনিক ল্যাবে দুই-লেয়ার মেশিন থাকছে। এতে করে আমরা সঠিক টেস্ট রেজাল্ট নির্ধারণ করতে পারবো। আমাদের এই সেন্টারে দেশের বাইরে যেভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় তাই আমরা সুনিশ্চিত করতে চাচ্ছি। যাতে করে রোগীদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এবং আপনাদেরকে আমরা আরো আশ্বস্ত করছি যে,খুব শিগগিরই আমাদের নতুন ইউনিট চালু হবে ইনশাল্লাহ। সেখানে থাকবে ডেন্টাল, আই এস্হেটিক ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট। ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি সেন্টার এবং ডে-কেয়ার ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা জেনে আরো খুশি হবেন যে  আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করতে যাচ্ছি এবং বিনামূল্যে হোম স্যাম্পল কালেকশনের সুযোগ থাকবে।”

এমএম মাসুদুজ্জামান আরো বলেন,

“সবার দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ‘আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর চিকিৎসা সেবার পরিধি আরো সম্প্রসারণ করা হবে। ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য স্পেশাল আলাদা সেবা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনার মধ্যে ডে-কেয়ার ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিকের মাধ্যমে গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।”

ছবি ক্যাপশন : আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।




পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার (৩১ মার্চ): দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার বর্ষ ১-এর ৩০০ তম সংখ্যায় প্রকাশিতসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় “ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুই পরিচালক (চঃ দাঃ) এর খুঁটির জোর কোথায়?” শিরোনামের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রতিবেদনে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ নাঈম গোলদার এবং পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও, সংশ্লিষ্টদের দাবি—উল্লেখিত অভিযোগসমূহ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।

“মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন” : অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তার অধিকাংশই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফল। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

পদোন্নতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে ব্যাখ্যা : নাঈম গোলদারের পদোন্নতি প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, তিনি চাকরির শুরু থেকেই মেধা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করেন। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, শফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেন সহকর্মীরা।

অভিযোগের পেছনে “স্বার্থান্বেষী মহল” : অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, কিছু প্রভাবশালী ও অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে উক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

রিড ফার্মা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিড ফার্মা লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় পরিচালক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরনো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিষয়টি তখনকার প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং এতে ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া :
অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটি মূলত দুই কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা। তারা মনে করেন, এমন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপসংহার : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত এমন সংবাদ শুধু ব্যক্তি নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সত্যনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




মিরপুর প্রেসক্লাবে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ পবিত্র রমজান উপলক্ষে মিরপুর প্রেসক্লাবে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিকতা, সামাজিক কল্যাণ ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সমাজসেবক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে এবং সমাজে মানবিক সহায়তার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আব্বাস আলী একজন জনদরদী মানুষ, যিনি সব সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণ তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত দেখতে চায়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, রমজানের এই পবিত্র সময়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। এমন আয়োজন সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরসালিন রাহাত, এসএম ইসলাম উকিল, ডক্টর মাইনুল ইসলাম পলাশ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম সাইমন, মঞ্জুর আহমেদ, সুমন খান, মানজারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নিপু আহমেদ, কাফরুল থানা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অহিদুর রহমান তুষার, কাফরুল থানা কৃষক দলের সভাপতি, তাঁতি দলের সাবেক সদস্য সচিব মোঃ বেলাল হোসেন,

প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সোহরাব হোসেন ও জিএস জয়।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আখতারুজ্জামান, মানবাধিকার সহ-সম্পাদক রশিদী মাহবুব, সহ-প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক কাজী ইমামুল হক, সহ-সম্পাদক শাহাদত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক সারোয়ার আলম, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আল মামুন, সহ-দপ্তর সম্পাদক এম এ মালেক।

আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের সদস্য সুলতান মাহমুদ ও মনিরুল ইসলামসহ অসংখ্য সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা।

ইফতারের পূর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসার দিন। বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস।

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সিকদারঃ ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও আজ হয় পবিত্র। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের এই উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন।

দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেয়া-নেয়া।রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কনসার্টেরও আয়োজন করা হয়েছে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু`ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।ভ্যালেনটাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।

দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।




কথাসাহিত্যিক ক্যাপ্টেন কাপ্তান নুরের ৯১ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ সন্ধ্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা: নতুন আলো সাহিত্য পরিষদ কতৃক আয়োজিত কথাসাহিত্যিক ক্যাপ্টেন কাপ্তান নুরের ৯১ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ সন্ধ্যা।

প্রধান অতিথি: কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী
সভাপতিত্ব করেন: কবি ও পুথিশিল্পী হাসিনা মমতাজ হাসি
অতিরিক্ত পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রধান আলোচক : জাগ্রত মহানায়ক শিহাব রিফাত আলম।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মোঃ আবুল হাছান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দৈনিক ডেসটিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে যারা ছিলেন:
ডক্টর সাহেদ মন্তাজ উপ পরিচালক বাংলা একাডেমি।
কবি ও গবেষক আলহাজ্ব শরিফ সাকি।
কবি ও গবেষক আব্দুল গনি ভূঁইয়া।
সব্যসাচী লেখক ফারুক প্রধান।
ইকবাল হোসেন কবি ও গবেষক
রবিউল ইসলাম রবি কবি ও সংগঠক।
সোহাগ হোসেন বাবু।
আরমানুল হক সভাপতি ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা কবি ও গবেষক।
অনিতা দাস কবি ও আবৃত্তি শিল্পী
কবি ও সংগঠক ঝর্ণা আক্তার।
কবি ও সংগঠক সুমাইয়া তৃষ্ণা।
নাসিমা গাজী নারী নেত্রী।
অপর্ণা চৌধুরী কণ্ঠশিল্পী।
ইমরান সিকদার কণ্ঠশিল্পী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যারা উপস্থিত হিসেবে আরো
৩৪ জন উপস্থিত ছিলেন।
সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অফুরন্ত।