মৌলভীবাজারে পানি প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ, ঠিকাদার উধাও, সেবা থেকে বঞ্চিত শতাধিক পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নিজস্ব এক কর্মী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি বাগিয়ে নেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কোটি টাকার বিল তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেভি)’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক ড্রাফটসম্যান। মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে তিনি কাজটি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৩ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বিল তুলে উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ বাস্তবায়নে ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সব ইউনিয়নে ৭৬টি পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং কমিউনিটিভিত্তিক পাইপলাইনের মাধ্যমে হতদরিদ্র ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৌলভীবাজার সদরের ৩৮টির মধ্যে মাত্র ২টিতে আংশিক কাজ হয়েছে। আর রাজনগরের ৩৮টির একটিতেও কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর ধরে উধাও।

রাজনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রকল্পের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়রাও প্রকল্প সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না।

মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে মোটর, পাইপ ও মিটার সংযোগ দিয়ে পানি সরবরাহ চালু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মালাকার বলেন, “এখানে ৩০টি পরিবার এই লাইন থেকে পানি পায়। মোটর, সিঁড়ি কিছুই দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার যে পাইপ লাগিয়েছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যায়। কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে।”

এদিকে জেলা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরও জানে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কত টাকা বিল তুলেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শাহিন আলম একসময় ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ড্রাফটসম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে ছয় বছরে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়।

প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্সের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া বলেন, “এই কাজের মালিক শাহিন। সে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করে আবার ঠিকাদারিও করছে। আমি থাকা অবস্থায় ৯০ লাখ টাকার বিল তুলেছিলাম। এরপর আর জানি না।”

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই কাজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কত বিল তোলা হয়েছে, তাও জানি না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করা হবে।”

প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, “সে নিজের নামের লাইসেন্সে কাজ করেনি। অন্য লাইসেন্স ব্যবহার করেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।




ই/এম বিভাগ-৫-এর টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনকে আইনি নোটিশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৫-এর একটি সরকারি টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার পরও একটি যৌথ উদ্যোগ (JV) প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে ‘নন-রেসপনসিভ’ (অযোগ্য) ঘোষণা করে অন্য একটি সংস্থাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ‘Baset Prokousholi Limited–Versatile Technology Ltd JV’ নামের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান উক্ত টেন্ডারে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের দাবি, টেন্ডারের শর্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা (Similar Nature Work Experience), সমাপ্তি সনদ (Completion Certificate) এবং কাজের পরিধি (Scope of Work) সংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। টেন্ডার নথিতে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম নয়, বরং কাজের ধরন ও কারিগরি জটিলতার সামঞ্জস্যতা চাওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, উক্ত যৌথ প্রতিষ্ঠানটি এর আগে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম প্রকল্পে ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, স্টেজ লাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি ডিসপ্লে, এয়ার কন্ডিশনিং এবং অ্যাকোস্টিক ওয়ার্কসের মতো অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি রহস্যজনকভাবে সেই অভিজ্ঞতাকে আমলে না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ‘Notification of Award (NOA)’ বা কার্যাদেশ জারির নোটিশ দেয়।

এই অনিয়মের প্রতিবাদে বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদ হোসেন পলাশ গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, এই ধরনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়বিধির (PPR) স্বচ্ছতা, সমতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী। নোটিশে অবিলম্বে ৩টি দাবি জানানো হয়েছে:
১. প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নন-রেসপনসিভ’ ঘোষণার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
২. জমাকৃত অভিজ্ঞতার সনদসমূহ পুনরায় নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
৩. তড়িঘড়ি করে জারি করা NOA-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
একই সাথে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিষয়টি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) রিভিউ প্যানেল এবং উচ্চ আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

​আইনি নোটিশে শুধু বর্তমান টেন্ডারই নয়, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত একাধিক উচ্চমূল্যের প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি বড় প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরা হয়:

​১. শাহবাগ বিসিএস প্রশাসন একাডেমি প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১১০৯৩০১): প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক ক্লাসরুম নির্মাণ, সাউন্ড, কনফারেন্স ও ইন্টারনেট সিস্টেম স্থাপন।

২. কাকরাইল বিএমইটি ভবন প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১০৮১৮১০): প্রায় ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৩ টাকা ব্যয়ে ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন প্রতিস্থাপন।

৩. জিএসবি ভবন প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১০৭২১৪৫৮): প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপন।

​নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এসব প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ন্যূনতম পরিবেশ বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (LTM)-এর অপব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একটি সিডিউল বিক্রি ও একটি মাত্র দরপত্র জমা নিয়েই তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের একতরফা প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়ের প্রতিযোগিতামূলক এবং উন্মুক্ত নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

সাংবাদিকতার নীতি মেনে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ০২ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেননি। অভিযোগের বিষয়ে তার এই নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম আইনি দায়িত্ব। যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় নয়, বরং গোটা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার (Public Procurement) নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সচেতন মহল এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




রাজনৈতিক প্রভাবে বারবার শাস্তি এড়ানোর অভিযোগ, বিআরটিসির কর্মকর্তা নায়েব আলীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

বিশেষ প্রতিবেদক: বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর বিভিন্ন ডিপোতে সীমাহীন অনিয়ম, রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান গাবতলী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান এবং ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) নায়েব আলীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একাধিক ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক তদবির এবং প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে তিনি বারবার শাস্তি এড়িয়ে গেছেন।

বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নায়েব আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক গুরুতর ঘটনা সামনে আসতে পারে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে পূর্বের সব অভিযোগ পুনরায় তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাসের মেরামত না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই বছরের ৮ মে তৎকালীন মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ডিপোর ৫৭৩৯, ৫৭৪১ এবং ৫৩৮১ নম্বর বাস অত্যন্ত নিম্নমানের ও চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের আদেশ নং-৩৫.০৪.০০০০.০১১.০০.৪৬৬.৮৮৭ অনুযায়ী নায়েব আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওই বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করেন।

নায়েব আলীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে মতিঝিল বাস ডিপোতে ম্যানেজার (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, যা ছিল ২৭ মার্চ ২০১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, LoC-2 ঋণ প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত নতুন ৩৫টি বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অনুমোদনহীনভাবে কম ভাড়ায় পরিচালনা করা হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭ টাকা হারে কর্পোরেশনের মোট ৮ কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৩ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।

কর্পোরেশনের অডিট বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নায়েব আলীর দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরাসরি ১ কোটি ৭৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০৭ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর পত্র নং-১৭৮৫ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রথমে প্রাপ্ত দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের দণ্ড (আদেশ নং-২৪২২) কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তযোগ্য গুরুতর অভিযোগ।

খুলনা বাস ডিপোতে ম্যানেজার (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কর্পোরেশনের পত্র নং-২১০৯ অনুযায়ী ভুল তথ্য উপস্থাপন করে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয়ের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি ওই অভিযোগও ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন এবং কার্যকর কোনো শাস্তির মুখোমুখি হননি।

বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিগত সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে নায়েব আলীর মতো বিতর্কিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বিআরটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অতীতের সব অভিযোগের ফাইল পুনরায় খুলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ উদ্ধার, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভাগীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালোভাবে উঠেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন নথি, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নায়েব আলীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।




গণপূর্ত প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী Ahsan Habib-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত প্রকৌশলীর পক্ষ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাজ না করে বিল পরিশোধ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ইজিপি আর্কাইভ ও কোটেশন ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি—এ ধরনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রামাণ্য নথি, নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোটেশন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা : প্রতিবাদে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলমান সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) ও ইজিপি সিস্টেম অনুসরণ করেই সকল কোটেশন ও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

কোটেশন আহ্বান ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে: কাজ সম্পন্নের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, কোনো ধরনের “কাজ ছাড়া বিল প্রদান” এর অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, প্রতিবাদপক্ষ দাবি করে, মাঠপর্যায়ের দৃশ্যমানতা না থাকাকে ভিত্তি করে কাজ হয়নি—এমন দাবি করা প্রশাসনিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা।

ইজিপি আর্কাইভ ও রাজারবাগ প্রকল্প প্রসঙ্গে : রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক বিল্ডিং-৩ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে বলা হয়, ইজিপি (e-GP) সিস্টেমে কোনো দরপত্র আর্কাইভ হওয়া মানেই কাজ শেষ ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বোঝায় না।

প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়:
প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে, ইজিপি ডাটা এন্ট্রি ও আর্কাইভিং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, সরেজমিনে অসম্পূর্ণতা দাবি করলে তা যথাযথ টেকনিক্যাল যাচাই ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়, দরপত্র পদ্ধতি (LTM বনাম OTM) প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা,
প্রতিবাদে বলা হয়, এলটিএম (LTM) বা ওটিএম (OTM) নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে কাজের ধরন, অর্থমূল্য এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই বলে দাবি করে বলা হয়: OTM ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়েছে, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য,কমিশন বা ব্যক্তিগত সুবিধার অভিযোগ সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর
রাজনৈতিক ও অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অতীত কর্মস্থলের অনিয়ম বা “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” ধরনের ট্যাগ সম্পূর্ণরূপে চরিত্রহননের চেষ্টা।

এ ধরনের অভিযোগের কোনো: তদন্ত প্রতিবেদন নেই, আদালতের রায় নেই, বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক প্রমাণ নেই, ফলে এগুলোকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিক অবস্থান :প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, Ahsan Habib একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে: ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক তথ্যবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।

উপসংহার : সংশ্লিষ্ট পক্ষ মনে করে, সরকারি প্রকল্প ও প্রকৌশল খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের আরও যাচাই-বাছাই করা উচিত।

তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘটনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়ে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।




‘টেন্ডারবাণিজ্যে শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে “টেন্ডারবাণিজ্যে শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতি, টেন্ডারবাণিজ্য, অর্থপাচার, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ফৌজদারি মামলার অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো একপাক্ষিক, বিভ্রান্তিকর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায়, সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

মো. আহসান হাবীবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদি কোনো অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্ত চলমান থাকে, তবে তার নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিবাদে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। কোনো ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ না করে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাঠকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য।




বরখাস্তের পরও যমুনা অয়েলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ: ফের আলোচনায় সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুব

বিশেষ প্রতিবেদকঃ “গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের ফার্সির দাবীতে চট্টগ্রাম শ্রমিক সমাবেশ” শিরোনামে এই নিউজটা ছাপা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৩ আগষ্ট দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকায়। অবশ্য এই শিরোনামে শুধু এই পত্রিকায় নয়, এই জাতীয় শিরোনামে সেই সময়ে অসংখ্য পত্রিকায় নিউজ হয়েছিল সেই সমাবেশকে ঘিরে। তৎকালীন সময়ে সিইপিজেড থানা হকার্স শ্রমিক সিবিএ / নন সিবিএ বেসিক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে সেই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেছিল নিষিদ্ব সংগঠন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা ও যমুনা অয়েল কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব। সেই সমাবেশে তিনি জোরালো কন্ঠে অনেকটা উচ্চ স্বরে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার ফার্সি দাবি করেছিল ।

কিন্তু ভাবা যায়, সেই এয়াকুবের নিয়ন্ত্রণে এখনো যমুনা অয়েল কোম্পানি পিএলসি। জুলাই গন আন্দোলনের একাধিক হত্যা প্রচেষ্টার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাতীয় শ্রমিকলীগের এই নেতা। গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দিন জেল হাজতে ছিলেন, হয়েছেন চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত। এরপরেও তারই নিয়ন্ত্রণে যমুনা অয়েল কোম্পানি পিএলসি। শোনা যাচ্ছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যেকোনো সময় তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যেতে পারে। বরখাস্ত হয়েও প্রতিনিয়ত সে মহরা দেয় যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে। জানা গেছে ইতিমধ্যে সে বিভিন্ন ডিপোর ডিএসদের বার্তা দিয়েছে শ্রীঘ্রই তার সাসপেন্ড প্রত্যাহার করা হবে । তার ভয়ে তটস্থ খোদ যমুনা অয়েলের সিবিএর বিএনপিপন্থী নেতৃবৃন্দও।

সম্প্রতি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এই সিবিএ নেতার একটি অডিও ক্লিপ আমাদের দপ্তরে এসেছে। এই অডিও ক্লিপে নিজেকে মদখোর এবং নারী নেশায় আসক্ত বলে নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। তাছাড়া যমুনা অয়েলে তার একক আধিপত্য ও বিভিন্ন অনিয়মের কথা ফুটে উঠেছে আলোচিত এই অডিও ক্লিপে। এক কান দুই কান হয়ে মুহাম্মদ এয়াকুবের কান পর্যন্ত পৌঁছে তার অডিও ক্লিপের খবরটি। এমনকি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগে এই অডিও ক্লিপটি ছড়িয়েও গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই সিবিএ নেতা তার ফেইসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট আপলোড দিয়েছেন, যেখানে মুহাম্মদ এয়াকুব বলেছেন ” আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যারা আমার নীরবতাকে দুর্বলতা মনে করছেন, তারাই ভুল করেছেন”।

সত্যিকার অর্থেই এই সিবিএ নেতা যমুনা অয়েলে অনেক সুপার পাওয়ার ফুল। সাময়িক ভাবে চাকরী থেকে বরখাস্ত কৃত হলেও বর্তমান সময়েও তারই ইশারাই চলছে যমুনা অয়েলের প্রশাসনিকের অধিকাংশ কার্যক্রম। জানা গেছে এই সিবিএ নেতার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনেই চলছে সবকটি ডিপোর তেল চুরির সিন্ডিকেট। এদিকে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিপিসি সচিব শাহীনা সুলতানা স্বাক্ষরিত সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন আজাদ মহাব্যবস্থাপক ( অর্থ) এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমানকে (মহাব্যবস্থাপক বানিজ্য অপারেশন)।

গত বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য লিখিত ভাবে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি তদন্ত কমিটি জমা দেয়াতো দুরে থাক, তদন্তের কার্যক্রমই শুরু করেনি। দ্বিতীয় দফা বিপিসি সচিব শাহীনা সুলতানা স্বাক্ষরিত আরেকটি অফিস আদেশ দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার অফিস আদেশে বলা হয়েছে আগামী দশ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য। এই চিঠির মেয়াদও অনেক আগেই পার হয়ে গেছে কিন্তু এবারও তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। অভিযোগ উঠেছে তদন্ত কারী দুই কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রেখেছে মুহাম্মদ এয়াকুব। তদন্তকারী দুই কর্মকর্তাকে নুন্যতম দশ বার ফোন দেয়া হয় , কিন্তু দুজনের কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

এদিকে সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে অব্যাহত চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের বিরুদ্বে। অবশ্য তার হয়ে প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই কাজ করছে একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। জানা গেছে গত দুই মাস আগে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ সংগঠন মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজম নাসিরের বড় একেএম সাইফুদ্দিন দলবল নিয়ে হাজির হয় যমুনা অয়েলের এমডির দপ্তরে। এই আওয়ামীলীগ নেতার ভাইয়ের সাথে ছিলেন যমুনা অয়েলের বিতর্কিত কর্মকর্তা সম্প্রতি ওএসডি হওয়া মাসুদুল ইসলামও । সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের ওস্তাদ খ্যাত ক্ষমতাধর এই মাসুদুল ইসলামের আমন্ত্রণেই আজম নাসিরের সহোদর যমুনা অয়েলে এসেছিল । যদিও সাইফুদ্দিন একসময় যমুনা অয়েলের কেরানি ছিলেন, পরবর্তীতে ছোট ভাই আজম নাসিরের ক্ষমতার দাফটে হয়েছিল ডিজিএম। বিভিন্ন সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে বহিস্কৃত সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুবের চাকরি ফেরতের সুপারিশে এসেছিলেন এই আওয়ামিলীগ নেতার সহোদর।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারী যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিজিএম এইচ আর মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরে তিন সিবিএ নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । তিন সিবিএ নেতাদের একজন মুহাম্মদ এয়াকুব । এই সিবিএ নেতার বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১২ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করেছে, এর পর অনুপস্থিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে চান্দাগাও থামায় একটি মামলায় তাকে ১৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়ে, ১৪ ডিসেম্বরে আদালতের মাধ্যমে জেল খানায় প্রেরন করেছে ৷ এমতবস্থায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । মজার বিষয় হলো এই সিবিএ নেতা যেদিন গ্রেফতার হলেন, এর পরের দিন থেকেই ছুটি মন্জুর হলো কিভাবে? তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে থেকে তারা ছুটির আবেদনই বা করলো কিভাবে? অভিযোগ উঠেছে মাসুদুল ইসলাম নিজেই এয়াকুবের স্বাক্ষর দিয়ে ছুটির আবেদন করে এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই তা মন্জুর করেন। যদিও এই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকার কথা বলা হয়েছে একটি, বাস্তবে এর বিরুদ্ধে মামলা আছে নুন্যতম চারটি।

এদিকে ইতিমধ্যে তিনি জেল হাজত থেকে জামিনে বের হন। এরপরই শুরু হয়েছে এই সিবিএ নেতার ফের দৌড়াত্ম । বিশেষ করে ১৬ মার্চ জেল হাজত থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার দৌরাত্ম্য অনেকটা বেড়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে নিজের সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের জন্য যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তার চাপে সেই অনুযায়ী কাজ করার অভিযোগ উঠেছে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৩ মার্চ যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর সাময়িক বরখাস্তের প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে এই সিবিএ নেতা মুহাম্মদ এয়াকুব৷ এর প্রেক্ষিতে ২৯ মার্চ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এয়াকুবকে তার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ তোলা হয়েছে তা জবাব দিতে বলা হয়েছে আগামী দশ কার্য দিবসের মধ্যে। তিনি জবাবও দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় যে কোনো সময় প্রত্যাহার হতে পারে তার সাময়িক বরখাস্ত। যার নামে জুলাই গণআন্দোলনের হত্যা প্রচেষ্টার একাধিক মামলা আছে, তার সাসপেন্ড প্রত্যাহার হয় কিভাবে? এরকম প্রশ্ন তুলেছে যমুনা অয়েলের একাধিক কর্মকর্তা। তিনি চাকরি ফিরে পেলো আবারও বিগত সতের বছরের মতো লুটেপুটে খাবে যমুনা অয়েল। নেতৃত্ব দিবে তেল চুরির সিন্ডিকেট। এবিষয়ে এয়াকুবের সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হয়, ফোন দেয়া হয় একাধিকবার, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলমকে ঘিরে অনিয়ম, প্রভাব ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৩ ও সচিবালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম-কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রভাব, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন : প্রাপ্ত প্রশাসনিক নথি ও অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও প্রশাসনিক ইউনিটে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার পদায়ন ও প্রশাসনিক অবস্থান বহু ক্ষেত্রে “প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক” দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে একাধিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে এগোয়নি বলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ : একাধিক সূত্রের দাবি, তানভীর আলমের পারিবারিক ও সামাজিক সংযোগ পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল। অভিযোগকারীদের মতে, এই সম্পর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব দাবির স্বপক্ষে কোনো বিচারিক রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

টেন্ডার ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী: কিছু প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুকূলতা দেখানো হয়েছে দরপত্র প্রক্রিয়ায়, “অপ্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ” তৈরি হয়েছে, প্রকল্প মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে, এগুলোকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তাদের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি বলে জানা যায়।

সচিবালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন : সচিবালয়-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক নথিতে দেখা যায়, তানভীর আলম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে বিরূপ কোনো তথ্য নেই—এমন উল্লেখও প্রশাসনিক রেকর্ডে পাওয়া গেছে। তবে একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার পদায়ন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতিতে “অস্বাভাবিক সুবিধা” পাওয়া গেছে।

দুর্নীতি তদন্ত ও অভিযোগের অগ্রগতি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সূত্রগুলো দাবি করছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত মাঝপথে স্থগিত বা সীমিত পরিসরে শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ সংক্রান্ত দাবি : অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার নামে-বেনামে সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এই বিষয়ে কোনো স্বাধীন আর্থিক তদন্ত বা দুর্নীতি দমন সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি: এই প্রতিবেদনের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসংহার : নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বর্তমানে মূলত প্রশাসনিক সূত্র, অভ্যন্তরীণ মন্তব্য ও অপ্রকাশিত তদন্ত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।




বেনাপোল চেকপোস্টে ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের অভিযোগ, এআরও আরেফিন-জুনাবের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেকপোস্টে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিন রমরমা শুল্ক ফাঁকির রাজত্ব গড়ে তুলেছে। চোরাকারবারী খ্যাত জুনাব আলীর সাথে হাতমিলিয়ে মোটা অংকের রফদফায় ল্যাগেজপণ্য ছাড় করছে।

শনিবার ২৭ (জুন) বিকাল সাড়ে ৪ ঘটিকার সময় চোরাকারবারী জোনাব আলীর মাধ্যমে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিন গ্রীন সিগনালে ৫০ হাজার টাকা রফদয়ায় ৫ জন ল্যাগেজবাহী যাত্রী ইমিগ্রেশন দিয়ে পার হয়েছে। এসব যাত্রী প্রতি ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ছেড়ে দিয়েছেন। কাস্টমসের সিসি ক্যামেরা চেক করলে মিলে যাবে পাচারের চিত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চক্রের হোতা জোনাব আলীর সাথে হাতমিলিয়ে আরেফিনের গ্রীন সিগনালে যাত্রী ছেড়ে লাখ লাখ টাকা অবৈধ পন্থায় আয় করছে। ভারত থেকে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রীর মাধ্যমে ট্রলি বোঝায় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিক্স গ্রীন এই কর্মকর্তার সিগনালে বের হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য আমদানি না করে ইমিগ্রেশন দিয়ে অনায়াসে প্রবেশ করাচ্ছে এসব পণ্য।

স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে অসাধু কর্মকর্তার এ সিন্ডিকেটের কারণে একদিকে সরকার প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ও প্রকৃত যাত্রীরা কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে এসে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগ নিখুঁতভাবে তল্লাশি করা হলেও, এই সিন্ডিকেটের মালামাল কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই পার হয়ে যাচ্ছে।

ইমিগ্রেশন সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশি শতাধিক বিজনেস ভিসাধারী এই ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তাদের পাসপোর্ট হিস্টরি দেখলে চোঁখ কপালে উঠবে ১ থেকে ২ দিন পর পর যাওয়া আসা করে। একই সাথে ভারতীয় বিজনেস ভিসাধারীদের দিয়ে নিয়মিত ল্যাগেজবাহী ট্রলি ও ব্যাগ প্রবেশ করায় এই সিন্ডিকেট। যা কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আগমন ও বহির্গমন চেক করলে মিলে যাবে।

আমদানিকারক জসিম জানান, অবৈধ আয় রুখতে অবিলম্বে এই সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফিনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং বেনাপোল চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানোর জন্য কাস্টমস কমিশনারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সংযোগ মেলেনি। এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন-কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন তাবে আগামীকাল হাউসে যোগদান করে বিষষটি তিনি দেখবেন। এছাড়া জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।




সওজে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় তিনি একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে মো. আব্দুল হান্নান নামে একজন ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি নিজেকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়মিত ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে অস্বাভাবিক হিসাব দেখানোর মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, উপকূলীয় ও পর্যটন এলাকার সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের কিছু অংশ প্রকৃত কাজের সঙ্গে মিল না রেখে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ছাড় করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকার সময় মো. মনিরুজ্জামান কয়েকজন নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অনেক ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তেন।

মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় কাজের মান সন্তোষজনক ছিল না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু সড়কে ক্ষতি দেখা দেয় এবং জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ‘আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন’সহ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি ক্রয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে এমন কিছু শর্ত তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পায়।

বর্তমান দায়িত্বে থেকেও প্রকল্প অনুমোদন, কারিগরি বিষয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন ছাড়া ফাইল অনুমোদন না করার অভিযোগ উঠেছে মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার একটি ব্যবস্থা চালু ছিল।

সওজের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তার কারণে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি উন্নয়ন কাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে দরপত্র, বিল অনুমোদন এবং কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গবেষকদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বড় প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তা জানান, মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কমিশনে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার সম্পদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ: সুনামগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে “গ্রীন কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পূর্ববর্তী শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় থেকে যায়, যার মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রীন কনস্ট্রাকশন—এমনটাই দাবি করছেন একাধিক ঠিকাদার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মচারী।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ :
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, অধিকাংশ দরপত্রে কার্যত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, দরপত্রে অংশ নিতে গেলে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে “ম্যানেজড টেন্ডার” ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ এককভাবে গ্রীন কনস্ট্রাকশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিম্নমানের কাজ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ :
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

পানি সরবরাহ লাইন, টিউবওয়েল স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, “কাগজে-কলমে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের প্রভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকেনি।

তদন্তের দাবি জোরালো :
স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা স্বত্বাধিকারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।