গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগে ঘুরপাক খাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের নাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২–এ দায়িত্ব পালনকালে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহর মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের একাধিক কাজ পাইয়ে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙে কাজ দেওয়া হলেও অনেক প্রকল্প শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব কাজের আইডি নম্বর হিসেবে উঠে এসেছে 997828, 997827, 997826, 997825, 995647, 994880, 994647, 994646, 994817 ও 994818। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প তদন্ত হলে ‘ওটিএম কেলেঙ্কারি’র মতো বড় অনিয়ম সামনে আসতে পারে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশক ধরে টেন্ডার বাণিজ্য ও বদলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। ওই দরপত্রগুলোর আইডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 1056148, 1057945, 1056137, 1056138, 1056145, 1057947, 1057196, 1056073, 1057101 ও 1018075।

এছাড়াও আরবরিকালচার বিভাগে ভুয়া ফুল ও গাছ রোপণের বিল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং বানোয়াট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তার অনুসারী কিছু কর্মকর্তা এসব ভুয়া ভাউচার প্রস্তুত ও বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।

সূত্র আরও দাবি করছে, ঢাকার এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কিংবা ঢাকার বাইরে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে মনিরুল ইসলাম একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। বদলি হলেও নানা কৌশলে তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি বড় সিন্ডিকেট প্রকাশ পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি বা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




বদলি ও নিয়োগে কোটি টাকার অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে ওয়াসা প্রশাসন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার ভেতরে আবারও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে আছেন সংস্থাটির উপ-সচিব (প্রশাসন-১) নুরুজ্জামান মিয়াজী। ওয়াসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি ও নিয়োগকে হাতিয়ার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং নিজের অবস্থান শক্ত করতেন।

নুরুজ্জামান মিয়াজীর বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। একসময় ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে চাকরি থেকে বরখাস্তও হয়েছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা ও কুমিল্লার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় থেকেই ওয়াসার ভেতরে তার প্রভাব বাড়তে থাকে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াসায় শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর তাকে প্রশাসন বিভাগ-২ থেকে সরিয়ে শ্রম ও কল্যাণ বিভাগে বদলি করা হয়। এই বিভাগটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসার বিএনপিপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম খান (অবসরপ্রাপ্ত) এবং সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পাটোয়ারির সহযোগিতায় তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার প্রশাসন-১ বিভাগে ফিরে আসেন।

পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার পর নুরুজ্জামান মিয়াজী আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। সেই সময় ওয়াসায় সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় পরিস্থিতির সুযোগ নেন তিনি। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বদলি এবং নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠে। এই চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে ৩০ ডিসেম্বর দায়ের করা একটি অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি প্রায় দুই শত আউটসোর্সিং কর্মচারীর বদলি এবং চল্লিশ জন বিলিং সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নুরুজ্জামান মিয়াজী, আজিজুল আলম খান এবং মনির হোসেন পাটোয়ারি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ওয়াসার ভেতরে কর্মচারী ও ঠিকাদারদের কাছে নুরুজ্জামান মিয়াজীকে ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় অভিযোগপত্রে। বলা হয়েছে, তার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ গেলে বদলি, হয়রানি কিংবা চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো। এমনকি তার নিজের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষায় নবম স্থান অর্জন করলেও প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি এই পদে আসীন হন।

এছাড়া ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও নুরুজ্জামান মিয়াজীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকসিম এ খানের সময়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে যে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে, তার অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দুর্নীতির টাকায় নুরুজ্জামান মিয়াজী বর্তমানে প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক। তার এসব সম্পদ ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন সঠিকভাবে তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা প্রচার করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান মিয়াজী। তার দাবি, বদলি ও নিয়োগের বিষয়টি সত্য হলেও সংখ্যা কম। এসব সিদ্ধান্ত এমডির দপ্তর থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী হয়েছে, এতে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এ বিষয়ে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী শওকত মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ক্ষমতার আড়ালে গণপূর্তে ভয়ংকর অনিয়ম: কুষ্টিয়ায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প মানেই এখন অনেকের কাছে অনিয়ম আর দুর্নীতির আশঙ্কা। বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রশ্ন এবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে। এখানকার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আড়ালে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত সরকারি বেতনে চাকরি করেও জাহিদুল ইসলাম খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবনের মালিক হন। কীভাবে একজন সরকারি প্রকৌশলীর পক্ষে এত সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, প্রশাসনের ভেতরেও নীরবে আলোচিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রকল্পে অনিয়ম ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে একটি টেন্ডার সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়। এই সিন্ডিকেটে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের নাম বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রভাবেই পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং এতে সরকারকে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

দরপত্রের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ ও সিসিইউ ভবনের লিফটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়মিতভাবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে দরপত্র নিষ্পত্তি কয়েক মাস ঝুলিয়ে রাখা হতো। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ বা কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না। এই সুযোগে সুপারস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বেশি দামে কাজ দেওয়া হতো।

একই ধরনের অনিয়ম সড়ক, ড্রেন, পুকুর সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও হয়েছে বলে অভিযোগ। মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পায়নি, অথচ গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েটসের মতো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়—যাদের হাতে তখনই প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান ছিল। এতে কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর একটি হলো—কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের একটি পুরোনো সরকারি বাসভবন ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর পুরোনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবনে একই জায়গায় বারবার ‘মেরামতের’ নামে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের জুন মাসেই একাধিকবার কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডিসি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল, সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট ও ডিসি অফিস এলাকায় একই অর্থবছরে বারবার টেন্ডার ডেকে কাজ দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ওভারল্যাপিং প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এত বড় ও গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন—এই নীরবতা কি কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাব কাজ করছে?

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুশাসন ও স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে না—এমন আশঙ্কাই এখন বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছে।




এক যুগের বেশি সময় ধরে খুলনা গণপূর্তে একই ব্যক্তি: বদলি ঠেকাতে তদবীর, প্রকল্পে লুটপাট আর অদৃশ্য শক্তির দাপট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ একটি সরকারি দপ্তর নয়, বরং একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন খুলনাবাসীর মুখে মুখে। বদলির আদেশ এলেই তা বাতিল হয়ে যায়, আর সেই বাতিলের পেছনে কাজ করে রাজনৈতিক তদবীর, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অদৃশ্য ছায়া। এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, যিনি নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই দপ্তরে বহাল আছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন প্রকৌশলীর তিন বছর পরপর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও, মো. সাইফুল ইসলাম ২০১৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ ছাড়েননি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এবং খুলনা মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজনের নাম বারবার উঠে আসে তার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে।

এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাইফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের উপর নিয়মিত চাপ ও ভয়ভীতি তৈরি করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে টেন্ডার, বিল অনুমোদন এবং কাজের মাপজোখ—সবকিছুই তার ইচ্ছামতো চলত। ধীরে ধীরে পুরো বিভাগ কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের জন্য প্রতি বছর এডিপি, স্বাস্থ্যখাতের বিশেষ বরাদ্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালের অবস্থা করুণ। ভবনগুলো জরাজীর্ণ, ওয়াশরুম অচল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং পয়োনিষ্কাশনের অবস্থা ভয়াবহ। অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে নিয়মিত সংস্কার ও উন্নয়ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব চিত্র নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই কাজ বারবার নতুন করে দেখিয়ে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। নকশার বাইরে গিয়ে এস্টিমেট তৈরি, মেজারমেন্ট বুক না মেপেই বিল তৈরি এবং ভুয়া কাজ দেখিয়ে টাকা তোলা ছিল নিয়মিত চর্চা। এসব অনিয়মের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘কোভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্প’-এর আওতায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও ৫ শয্যার প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজে এসব অনিয়মের লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট অডিট টিম সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রায় ৪৪ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের তথ্য চিহ্নিত করে। অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এন বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারীও অভিযোগ করেছেন, নকশাবহির্ভূত এস্টিমেট নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাইফুল ইসলাম তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদার বাধ্য হয়ে কেবল যতটুকু দেখানো হয়েছে, ততটুকুই কাজ করেন।

বদলির আদেশ এলেই শুরু হতো তদবীরের খেলা। ২০২০ সালের নভেম্বরে তাকে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হলেও মাত্র দুই মাসের মধ্যেই শেখ সোহেল ও শেখ শাহজালাল সুজনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি আবার খুলনায় ফিরে আসেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র চার মাসে তিন দফা বদলি ও বাতিলের পেছনে তিনি ৩০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেট থেমে নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা ঠিকাদার শওকতকে সামনে রেখে এখন বিএনপি নেতা লাভু বিশ্বাসের আশ্রয়ে একই কায়দায় খুলনা গণপূর্ত বিভাগে প্রভাব বজায় রেখেছেন সাইফুল ইসলাম। ফলে রাজনৈতিক রং বদলালেও দুর্নীতির ধরন বদলায়নি।

এ অবস্থায় খুলনাবাসীর প্রশ্ন—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কীভাবে একজন বিতর্কিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এক যুগের বেশি সময় একই দপ্তরে বহাল থাকেন? কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থ এবং স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ কি তাহলে একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি?

খুলনাবাসী এখন জোরালোভাবে দাবি তুলছেন—গণপূর্ত উপদেষ্টা, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অবিলম্বে মো. সাইফুল ইসলাম ও তার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে খুলনা থেকে অপসারণ করা হোক। তা না হলে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ উন্নয়নের নয়, দুর্নীতির প্রতীক হিসেবেই ইতিহাসে পরিচিত হয়ে থাকবে।




খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ অনিয়মের অভিযোগে ঘন কুয়াশা: নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এমন একটি দপ্তর, যার ওপর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও উন্নয়ন কাজের বড় দায়িত্ব থাকে। কিন্তু এই দপ্তরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদার, দপ্তরের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো হঠাৎ করে ওঠেনি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো আরও জোরালো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কামরুল ইসলামের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেই তিনি একজন প্রভাবশালী কিন্তু বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে দপ্তরের ভেতর-বাইরে আলোচনা দীর্ঘদিনের।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সরকারি সম্পদ বিক্রির নিলাম নিয়ে। অভিযোগ আছে, খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর অধীনে থাকা সিএন্ডবি কলোনি ও জোড়া গেট এলাকার কয়েকটি সরকারি ভবন বিক্রির সময় নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্রয়বিধি পিপিআর-২০০৮ পুরোপুরি অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। এর ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

কেবল খুলনাতেই নয়, এর আগের কর্মস্থল গোপালগঞ্জের সময়কার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সেখানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরেও আসে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেই অভিযোগের সঠিক তদন্ত হয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়—এমন কথাও শোনা যায়।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগও কম নয়। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, মো. কামরুল ইসলাম আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘হিডেন টেন্ডার’ বা গোপনে দরপত্রের ব্যবস্থা করে নিজের পছন্দের একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে থাকা ঠিকাদাররা নিয়মিতভাবে কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের ভেতরে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া করে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুমোদন, দরপত্র ছাড়, টিইসি রিপোর্ট তৈরি কিংবা বিল পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার ফাইল আটকে রাখা হয়, অযথা জটিলতা তৈরি করা হয় এবং মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলেও দাবি করা হচ্ছে। আগে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় নিজেকে নতুন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলছে, তখন খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আরও বেড়েছে। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া সত্য বেরিয়ে আসবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগগুলো আদৌ তদন্তের আওতায় আসবে কিনা, নাকি আগের মতোই প্রভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে।




হাতিবান্ধার গোতামারীতে মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ: রংপুরে চিকিৎসাধীন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন মাদক চোরাকারবারিকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আহত যুবক হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে মোঃ রনি মিয়া (২২)। বর্তমানে রনি মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ দইখাওয়া বিওপির একটি টহলদল নিয়মিত সীমান্ত টহল চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পায়। পরে সীমান্ত পিলার নম্বর ৯০২-এর নিকটবর্তী এলাকায় গিয়ে কয়েকজন লোককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায় এবং গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ সময় বিজিবি আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বিজিবি জানায়, এর আগেও গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আহত হন রনি। ওই ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে গেলে প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে তার উপস্থিতি অস্বীকার করা হয়।

এ ঘটনায় বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। বিজিবির জানায়, আহত ব্যক্তি রনি ওই সীমান্ত এলাকায় মাদক বহন ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।




কুড়িগ্রামে ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গাজীপুরে গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ বাদল মিয়া (২৯)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ জহুরুল ইসলাম।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই শওকত আলম সিদ্দিকী সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনালগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে সোমবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ঠাকুরগাঁও জেলার একটি মামলায় (জি আর ৯৭/১৯, রানি সংকল) ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।



চেক জালিয়াতির অভিযোগে বাহারছড়া থেকে আটক গণপূর্ত ঠিকাদার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে জেলা গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার জালাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া জালাল উদ্দীন বাহারছড়ার বাসিন্দা এবং সালেহ আহমদের ছেলে। তিনি গণপূর্ত ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলেও জানা গেছে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় দায়ের করা সিআর ৪৭১/২৫ নম্বর একটি মামলায় তিনি প্রধান আসামি। অভিযোগ রয়েছে, চেক প্রদান করে তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল বা অর্থ না রেখে প্রতারণামূলকভাবে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইন অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে আর্থিক জালিয়াতির একাধিক তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, অতীত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঘুষ-দালালের জালে উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: দুদকের অভিযানেও থামেনি অনিয়ম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগ এখন আর নতুন নয়। স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত, যেন প্রকাশ্য গোপন কথা। ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়া, দালাল ছাড়া ফাইল নড়াচড়া না করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি—সব মিলিয়ে অফিসটি এখন অনিয়মের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সেবা নিতে আসা মানুষদের অভিযোগ, অফিসটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি প্রবেশ কার্যত কঠিন করে রাখা হয়েছে। অফিসের সামনে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দালালের মাধ্যম ছাড়া ভেতরে ঢোকাই মুশকিল। ফলে সেবাপ্রার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন দালালনির্ভর ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে।

উখিয়া সদর এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব ফি পরিশোধ করার পরও তাকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়—কিছু টাকা ‘ম্যানেজ’ না করলে দলিল নামানো সম্ভব নয়। এমন অভিজ্ঞতা শুধু একজনের নয়, বহু মানুষের একই অভিযোগ।

স্থানীয় দলিল লেখক ও একাধিক সূত্রের মতে, অফিস সহকারী বেবী রাণী দে এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন। তার সঙ্গে মোহরার সৃদুল দাশ এবং কর্মচারী রবিউল্লাহ রবির নামও বারবার উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই তিনজনকে ঘিরেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা অফিসের ভেতরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

জমি নিবন্ধনের সময় সরকারি ফি’র বাইরে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগও গুরুতর। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জমির ঘোষিত মূল্যের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। অর্থাৎ এক কোটি টাকার জমি নিবন্ধনে দিতে হয় প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিরিক্ত। এই টাকা সরাসরি হাতে নেওয়া হয় না; দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করা হয়, যাতে লেনদেন আড়ালে থাকে।

গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবা দিতে গড়িমসি এবং অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুদকের অভিযানের খবর আগেই সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জেনে যান। সেদিন তিনি অস্বাভাবিকভাবে সকালে অফিসে উপস্থিত হন এবং অফিসে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

দুদকের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলসান আনোয়ার অভিযানের দিন জানান, ছদ্মবেশে গিয়ে দলিল নিবন্ধনের খরচ, পদ্ধতি এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে হয়রানি ও অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।

তবে এত কিছুর পরও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই অভিযান কি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল?

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলমকে ঘিরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পতিত সরকার আমল থেকেই তিনি একই অফিসে বহাল রয়েছেন। একাধিকবার অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—যদি অফিসে অনিয়ম না থাকে, তাহলে বারবার এত অভিযোগ আসে কেন? আর অভিযোগ মিথ্যা হলে দুদক কেন অভিযান চালাল?

একজন প্রবীণ দলিল লেখকের ভাষায়, দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তা এক জায়গায় থাকলে সেখানে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই অনিয়ম একদিনে হয়নি, এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে।

ঘুষ আদায়ের পাশাপাশি আরও ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। জমির শ্রেণি পরিবর্তন, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন এবং এর মাধ্যমে সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব কাজে অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পৃক্ততার কথাও বলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, সরকার বদলালেও মাঠপর্যায়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনই যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

অভিযুক্ত অফিস সহকারী বেবী রাণী দে ও মোহরার সৃদুল দাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রবিউল্লাহ রবি জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিসে প্রবেশে কোনো বাধা নেই এবং সব কার্যক্রম সিসিটিভির আওতায়। তার দাবি, অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি পরিষ্কার—শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন প্রশাসনিক জবাবদিহি। তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চান।




এলজিইডিতে সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ খাতের প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোনো কাজ না করেই প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বাচ্চু মিয়া। বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে, দপ্তরের ভেতরেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এলজিইডির রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এলজিইডি ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মঞ্জুর সাদেককে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া নিজের প্রভাব ব্যবহার করে এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে গ্রহণ করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একটি সংস্থায় মাত্র একটি তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স করতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়া তার আপন ভাই মো. শহিদুল ইসলাম (সুমন)-এর নামে দুটি আলাদা লাইসেন্স করান।

এর মধ্যে একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে “মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ”-এর নামে বিনা দরপত্রে অফিস ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দেখানো হয়। বাস্তবে কোনো কাজ না করেই সেখান থেকে ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, নিজের মেয়ে মোহনার নামে খোলা “মোহনা এন্টারপ্রাইজ”-এর মাধ্যমে আবাসিক ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দেখিয়ে আরও ৪৩ লাখ ৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাজগুলোর ক্ষেত্রেও বাস্তবে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

এছাড়াও ছোট ছোট কোটেশনের মাধ্যমে বাকি অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসিক ভবনের বাসিন্দা ও এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবনগুলোতে কোনো দৃশ্যমান রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি। অভিযোগ ওঠার পরই কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়।

এদিকে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান অনুসন্ধান নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং কে তাকে তদন্ত করবে তা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিষয়টিকে অনেকেই তদন্ত কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস হিসেবে দেখছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি কিংবা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এলজিইডির ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই তদন্ত শুধু একটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়; বরং এটি পুরো রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচনের একটি সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।