দুদকের অভিযানে বিএভিএস ও চট্টগ্রাম এলজিইডি কার্যালয়ে অনিয়মের চিত্র উন্মোচন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ভলানটারি স্টেরিলাইজেশন (বিএভিএস) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএভিএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তকারী দলের নজরে আসে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরি করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান চলাকালে সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদক টিম প্রাথমিকভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার আভাস পেয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের এলজিইডি কার্যালয়েও আলাদা একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না করেও বিল উত্তোলন, নিম্নমানের কাজ করে পুরো বরাদ্দ তুলে নেওয়া এবং কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিযানকালে দুদক টিম প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীরা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, ব্যয়ের হিসাব, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বাস্তব কাজের অগ্রগতি মিলিয়ে দেখবেন বলে জানা গেছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে। এসব নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিশনের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




এলজিইডির প্রভাতী প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরদার

এসএম বদরুল আলমঃ এলজিইডি পরিচালিত প্রভাতী প্রকল্পের বারটা বাজিয়ে দিয়েছেন সাবেক পিডি আনিসুল ওহাব। ওটিএম টেন্ডারে ২০-২৫% ঘুষ নিয়ে কার্যাদেশ দিতেন। এনজিও মহিলাদের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজে ঘুষের রেট আরও বেশি আদায় করতেন। ওই প্রকল্প ভুক্ত নির্মাণ মার্কেট নির্মাণ সম্পন্ন না করে ফাইনাল বিল পরিশোধ করেছেন অনেক জায়গায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি পরিচালিত একটি প্রকল্পের নাম প্রভাতী। প্রকল্পের নাম প্রভাতী হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রকল্পের বারোটা বাজিয়েছেন সাবেক প্রকল্প পরিচালক বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওহাব। সূত্র জানায় সাতশ ৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের পিডি আনিসুল ওহাব পকেটে ঢুকিয়েছেন প্রায় শত কোটি টাকা।

উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক প্রভাতী প্রকল্পের আওতায় যে মার্কেট গুলো নির্মিত হয়েছে তার সিংহভাগ নির্মান সম্পন্ন নাকরেই ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে ফাইনাল বিল পরিশোধ করে আশি ভাগ টাকা নিয়েছেন পিডি আনিসুল ওহাব। সূত্র আরো জানায় অনেকগুলো স্থানে মার্কেটর লেআউট দিয়ে ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে দোকানের পজেশন বাবদ মোটা অংকের টাকা নিয়ে পিডি পকেটে ঢুকিয়েছেন। সূত্র জানায় কোন কোন মার্কেটে অনৈতিক ভাবে দোকানের পজেশন বিক্রি করেছেন। প্রকল্পের ডিপিপিতে উল্লেখ আছে পিডি দোকানের পজেসন বিক্রি করতে পারবেন না।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় চল্লিশ ভাগ উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত এনজিওর মাধ্যমে মহিলাদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। সূত্র জানায় পিডি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এনজিওর সাথে ৬০/৪০ শেয়ারে নয়ছয় করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় এনজিও নিয়োগের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের ঘুষ বিনিজ্য হয়েছে।

সূত্র জানায়, এনজিও নিয়োগের ক্ষেত্রে পিডি আনিসুল ওহাব ঘুষকে পারদর্শী হিসেবে গণ্য করেছেন,সক্ষমতা নয়। যে এনজিও যত বেশি ঘুষ অফার করেছে তার সক্ষমতা তত বেশি বলে গন্য হয়েছে আনিসুল ওহাবের কাছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের ডিপিপিতে যে মার্কেট গুলো নির্মিত হওয়ার কথা ছিল তা সবগুলো নির্মাণ করা হয়নি জায়গা না পাওয়ায়।অনেক গুলো প্রয়োজন মত জায়গা না পাওয়া গেলেও মার্কেট ছোট করে নির্মান করা হলেও ফুল সাইজ মার্কেটের মূল্য উঠিয়ে নিয়েছেন ,ক্ষেত্র বিশেষ এই টাকার পরিমান এক থেকে তিন কোটি পর্যন্ত। সূত্র আরো জানায় সিংহভাগ মার্কেট নির্মাণে অপ্রয়োজনে রিভাইজ করে বাড়তি টাকা ঠিকাদারের সাথে ৬০-৪০ হারে ভাগাভাগি করে ৬০ ভাগ পিডি আনিসুল ওহাব নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রভাতী প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রভাতী প্রকল্পের কোন টেন্ডার স্বাভাবিক হয়নি , প্রতিটি টেন্ডারে কার্যাদেশের পূর্বে পিডি আনিসুল ওহাবকে তার ঘুষের টাকা গুনে গুনে পরিশোধ করতে হয়েছে। তারা আরো বলেন প্রায় প্রতিদিনই পিডি ব্যাগ ভরে ঘুষের টাকা নিয়ে যেতেন।

আনিসুল ওহাবের বক্তব্য জানতে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। আমাদের এক দল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ও আনিসুল ওহাবের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় অনুসন্ধান করছেন তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আপগ্রেড পাঠক সম্মুখে উপস্থাপন করা হবে।




দরপত্র কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য ও শত কোটি টাকার সম্পদ: ঢাকা সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  বিগত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে হরিলুট হয়েছে সবচেয়ে বেশি, তবে ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরে অনেক প্রকৌশলী বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত, বদলি, মামলা সহ বিভিন্ন শাস্তির আওতায় পড়েছেন, আবার অনেক চিহ্নিত বিতর্কিত  দুর্নীতিবাজ  প্রকৌশলীরা এখনো আছেন বহাল তবিয়তে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে তাদের মধ্যে অন্যতম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া।

ঢাকা  গণপূর্ত সার্কেল ৩  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার  বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমে তার অনিয়ম দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ অর্থে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে  একাধিক সংবাদ প্রকাশ বিভিন্ন দপ্তরের জমা পড়েছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে নানা বিতর্ক তারপরও কেন তিনি কোন শাস্তির আওতায় পড়েন না ?

তিনি কিভাবে আছেন তার স্বপদে বহাল ? কে এই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া? কি তার ক্ষমতার উৎস?

কুমিল্লার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের শামসুল হক ও খোদেজা বেগমের ছেলে শামসুল হক।১৮ তম বি সি এস ব্যাচ ১৯৯৯ সালে সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে চাকরি জীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে।

তত্ত্ববধায়াক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার সাথে সখ্যতা ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী নেতা এমপি ও মন্ত্রীর সঙ্গে, যার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি কখনো কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি এবং পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন বারবার পদোন্নতি। বিভিন্ন অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের তালিকায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় যেমন:  আবহাওয়া ও গণপূর্ত অধিদপ্তর  ভয়াবহ দুর্নীতির যেই অভিযোগ ছিল  সেই দুর্নীতির বড় মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ঢাকা গণফূর্ত সার্কেল ৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া।

রাজধানীর উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আবাসিক ভবনের কয়েক বছর আগে বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার খরচ ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা দেখিয়ে পুরো টাকা মিলেমিশে আত্মসাৎ করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া এবং  আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন পরিচালক ও পরিকল্পনা কমিশনার একজন ইনচার্জ।

নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি ও কাজ সম্পন্ন না করেও বিল তুলে অর্থ   আত্মসাৎ করেছিলেন। দেশের একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থের বিনিময়ে অনেক সাংবাদিককে ম্যানেজ করে সংবাদ প্রত্যাহার করেছিলেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তদন্তে দুর্নীতি  প্রমাণিত হয়েছিল এবং তত্ত্ববোধক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল প্রতিবেদনে কিন্তু পরবর্তীতে আর কার্যকর হয়নি অভিযোগ আছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ দিয়ে সেই ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের তদন্তে ও প্রমাণিত হয়েছিল তারপরও কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী  ও  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিল করা একটি দরপত্র পুনরায় আহবান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই অর্থ ঘুষ নিয়েছিলেন। ১২০ কোটি টাকার ৩টি বেসমেন্ট সহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজ প্রকল্পের দরপত্রটি  যখন আহবান করা হয়েছিল তখনই দরপত্রের রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদারের একটি প্রতিষ্ঠানকে গোপনে কমিশন নিয়ে দিয়েছিলেন। এন. ডি. ই. সেই দরপত্রে সঠিক ১০ শতাংশ কমে দরপত্রে দর দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল।

তবে সেই অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পৌছালে দুদক গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিল এবং দুদকের প্রাথমিক তদন্তে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম উঠে এসেছিল। দুদকের সেই অভিযানের পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দরপত্রটি বাতিল করে দিয়েছিল এবং সেই দুর্নীতির দায়ে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন এর নামও এসেছিল কিন্তু এখানেও তিনি কোন শাস্তির আওতায় পড়েননি। ঘুষ নিয়ে আহবান করা দরপত্রের আইডি ছিল ১১২০৮৫৩।

দরপত্রটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী যোগসাজশে দরপত্রটি ১২০৭৪৯৯ আইডিতে আবার আহবান করেছিল। চট্টগ্রাম গণপূর্ত ৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় নুরুল আমিন মিয়া ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি টেন্ডার  কমিশন বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করেছেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি করেছিলেন একটি সিন্ডিকেট যা এখনো বহাল আছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সবচেয়ে বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে একাধিক মন্ত্রী এমপির সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সখ্যতা। ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে গঠিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন শাস্তির আওতায় পড়েছেন কিন্তু তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।  বিগত সরকারের আমলে দলীয়করণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ , বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অনিয়ম-দুর্নীতির প্রথম  সারিতে ছিলেন।  তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলেও তিনি থেকে গেছেন পর্দার আড়ালে অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে  কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ  : বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল ভাউচার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ  রয়েছে।  সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী,সচিব, রাজনীতিবিদ প্রভাবশালী ঠিকাদার সহ তৎকালীন বিতর্কিত অনেকের  ছিলেন আস্থাভাজন ।

একাধিক অভিযোগ ও নানা বিতর্ক থাকার পরও অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করে নেন । বদলি বাণিজ্যে করেও উপার্জন করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অনেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীকে পুনর্বাসন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের দায়ের হয়েছে একাধিক অভিযোগ কিন্তু অদৃশ্য কারণে আলোর মুখ দেখেনা। ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পর বেশকিছু রাজনৈতিক মহলকে অর্থ ডোনেশন দিয়ে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন।

ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম কমিশন বাণিজ্য প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অভিযোগ আছে চাকরি জীবনের পূর্বে পরিবারে তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করে অনিয়ম দুর্নীতি  করে ইতিমধ্যে ক্রয় করেছেন একাধিক প্লট ফ্লাট বাড়ি গাড়ি ।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য  সূত্রের তথ্যে জানা যায় সম্পদের তালিকায় রয়েছে : তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া বসবাস করেন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ৭৬ নম্বর বাড়ির ৫/সি ফ্লাটে এখানে তিনি ভাড়া থাকেন তবে এখানে তিনি প্রতি মাসের ৭০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেন অথচ তার বৈধ আয় দিয়ে এমন বিলাসী জীবন যাপন কোনোভাবেই সম্ভব না।

রাজধানীর গুলশানে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট ক্রয় করেছেন যেটার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন এর কাজ চলমান রয়েছে এখানেও ব্যয় হচ্ছে প্রায় কোটি কোটি টাকা অনুসন্ধানী তথ্য বলছে সেই বাড়িতে তিনি নতুন আসবাবপত্র সহ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন।  ৭৬ সেগুনবাগিচায় বসবাসরত বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে ছদ্মপরিচয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন স্যার দ্রুত তার নিজের ফ্ল্যাটে গুলশানে চলে যাবেন । পরিবারের সদস্যদের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি দামি গাড়ি যেটা ক্রয় করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা আক্তারের নামে ।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার বাবা প্রয়াত শামসুল হকের তেমন একটা আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না কিন্তু তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন, অবৈধ উপায়ে আজ তিনি শত কোটি টাকার মালিক। কুমিল্লার ভাওয়াল গ্রামে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি।  কুমিল্লা শহরেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। রাজধানী ঢাকায় রয়েছে আরও একাধিক ফ্লাট প্লট জমি স্ত্রী সন্তানদের নামে। বিভিন্ন ব্যাংকে ছেলে আরিয়ান নাফিস ও মেয়ে নিশাত নায়লার নামে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসারে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, আয়েশা আক্তার, ছেলে আরিয়ান নাফিস, মেয়ে নিশাত নায়লা,শশুর, শাশুড়ি সহ আরো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন  প্রকৌশলী বলেন নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে আদৌ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি কারণ তিনি অনেক ধূর্ত ও চালাক সবকিছু অদৃশ্য করে দেন তবে তার দায়িত্বে থাকা সকল প্রকল্প গুলো পুনরায় তদন্ত করলে তার সব অনিয়ম দুর্নীতি বের হয়ে আসবে।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি কখনো ধরা দেন না প্রকাশ্য কথা বলেন না এবং তাকে কেউ ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন না। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন যদি তার বিরুদ্ধে পূর্বেও কোন অভিযোগ থেকে থাকে সেটা খতিয়ে দেখা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখাবো, কোন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।এই বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

করে ইতিমধ্যে ক্রয় করেছেন একাধিক প্লট ফ্লাট বাড়ি গাড়ি ।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যে জানা যায় সম্পদের তালিকায় রয়েছে : তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া বসবাস করেন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ৭৬ নম্বর বাড়ির ৫/সি ফ্লাটে এখানে তিনি ভাড়া থাকেন তবে এখানে তিনি প্রতি মাসের ৭০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেন অথচ তার বৈধ আয় দিয়ে এমন বিলাসী জীবন যাপন কোনোভাবেই সম্ভব না।

রাজধানীর গুলশানে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট ক্রয় করেছেন যেটার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন এর কাজ চলমান রয়েছে এখানেও ব্যয় হচ্ছে প্রায় কোটি কোটি টাকা অনুসন্ধানী তথ্য বলছে সেই বাড়িতে তিনি নতুন আসবাবপত্র সহ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন। ৭৬ সেগুনবাগিচায় বসবাসরত বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে ছদ্মপরিচয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন স্যার দ্রুত তার নিজের ফ্ল্যাটে গুলশানে চলে যাবেন । পরিবারের সদস্যদের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি দামি গাড়ি যেটা ক্রয় করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা আক্তারের নামে ।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার বাবা প্রয়াত শামসুল হকের তেমন একটা আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না কিন্তু তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন, অবৈধ উপায়ে আজ তিনি শত কোটি টাকার মালিক। কুমিল্লার ভাওয়াল গ্রামে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। কুমিল্লা শহরেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। রাজধানী ঢাকায় রয়েছে আরও একাধিক ফ্লাট প্লট জমি স্ত্রী সন্তানদের নামে। বিভিন্ন ব্যাংকে ছেলে আরিয়ান নাফিস ও মেয়ে নিশাত নায়লার নামে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসারে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী, আয়েশা আক্তার, ছেলে আরিয়ান নাফিস, মেয়ে নিশাত নায়লা,শশুর, শাশুড়ি সহ আরো বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে ক্রয় করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে আদৌ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি কারণ তিনি অনেক ধূর্ত ও চালাক সবকিছু অদৃশ্য করে দেন তবে তার দায়িত্বে থাকা সকল প্রকল্প গুলো পুনরায় তদন্ত করলে তার সব অনিয়ম দুর্নীতি বের হয়ে আসবে।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি কখনো ধরা দেন না প্রকাশ্য কথা বলেন না এবং তাকে কেউ ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন না। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন যদি তার বিরুদ্ধে পূর্বেও কোন অভিযোগ থেকে থাকে সেটা খতিয়ে দেখা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখাবো, কোন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।এই বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।




কেরানীগঞ্জে ভূমিদস্যুর আগ্রাসন: উচ্ছেদের মুখে অশীতিপর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

বিশেষ সংবাদদাতা, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): কেরানীগঞ্জের জান্নাতবাগ এলাকায় এক কুখ্যাত ভূমিদস্যুর আগ্রাসনে উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন অশীতিপর বৃদ্ধ এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বহু বছরের তিল তিল করে গড়া নিজের বসতবাড়িটি রক্ষায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই প্রবীণ নাগরিক। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে কলাতিয়া মৌজার ঘাটারচর (বর্তমান জান্নাতবাগ) এলাকায় ‘আহম্মদপুর হাউজিং প্রকল্পের’ আওতায় ৪ কাঠা (৬.৫০ শতক) জমি ক্রয় করেন উক্ত শিক্ষক। ২০০৪ সালে তিনি সেখানে টিনশেড ঘর তুলে ভাড়া দেন। ২০০৭ সালে তার প্লটের ঠিক পেছনে মহিউদ্দিন আহমদ নামে জনৈক ব্যক্তি ”মহিউদ্দিন ইঞ্জিনিয়ারিং” নামে একটি ছোট ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। সেই সময় ফ্যাক্টরির যাতায়াতের পথ বের করতে শিক্ষকের রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ভাঙা হলেও প্রতিবেশীর সুবিধা ও শান্তি বজায় রাখতে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।

২০১৪ সালে শিক্ষক মহোদয় নিজের একতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। নির্মাণের সময় উক্ত মহিউদ্দিন তাকে পানি সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু ২০২২ সালের আগস্ট মাসে মহিউদ্দিনের আসল রূপ প্রকাশ পায়। একটি বিশাল হাউজিং প্রকল্প করার অজুহাতে তিনি শিক্ষককে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার প্রসাতাব দেন। বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা ৩ কোটি টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। শিক্ষক তার পৈতৃক ভিটার মায়া ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় অমানুষিক মববাজি ও হুমকি।

মহিউদ্দিন দাবি করছেন, শিক্ষকের জমির কিছু অংশ নাকি তার। অথচ তিনি জমি কিনেছেন শিক্ষকের ক্রয়ের ১১-১২ বছর পর। এই অযৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষক তাকে আদালতের শরণাপন্ন হতে বললেও মহিউদ্দিন পেশিশক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত একাধিকবার সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে:
১. জিডি নং-১৭২২ (২৮/০৮/২০২২ইং)
২. জিডি নং-২২৩০ (৩১/১২/২০২৫ইং)
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শিক্ষকের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিউদ্দিন রহস্যজনকভাবে আশপাশের বেশ কিছু প্লট দখল ও ক্রয় করে বর্তমানে ওই এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। এরপরও গত ২০ ফেব্রুয়ারী পুণ:রয় নতুনভাবে সন্ত্রাসীদের আগমন ঘটে। এবং থানায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলে। পুলিশের ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ আসে কিন্ত ততক্ষনে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। একজন নিরীহ শিক্ষকের ওপর এই ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। জীবনের সবটুকু সঞ্চয় দিয়ে এই বাড়িটি করেছি। এখন এই বয়সে এসে আমি কোথায় যাব? আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।”




নওয়াপাড়ায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মকর্তা রিকোর ওপর হামলা, কর্মবিরতির ঘোষণা—শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলা, অপপ্রচার এবং শ্রমিক সংগঠনকে ঘিরে দ্বন্দ্বের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন-এর নেতাদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং সহিংস হামলার পথ বেছে নিয়েছে। এতে করে নওয়াপাড়া নদীবন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নদীবন্দর-এর গোল্ডেন টু (গোল্ডেল-২) ঘাট এলাকায় ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার অফিস সচিব মোঃ নিয়ামুল হক রিকোর ওপর সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় রিকো এবং বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ হাসান মুন্সী মাস্টার জাহাজ মালিকপক্ষের সঙ্গে পাওনা অর্থ নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ইট দিয়ে নিয়ামুল হক রিকোর মাথায় আঘাত করে এবং পরে লাঠি, রড ও কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়।

এই হামলার ঘটনায় নওয়াপাড়া নদীবন্দরে অবস্থানরত শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ের সামনে একটি বড় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ হাসান মুন্সী মাস্টার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহারুল ইসলাম বাহার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। বিশেষ বক্তা ছিলেন শ্রমিক নেতা আশুতোষ বিশ্বাস, সভাপতি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা ও উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। এছাড়া বক্তব্য দেন মোঃ জামাল মাস্টার, সহ-সভাপতি এবং মোঃ জসিম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। সভা পরিচালনা করেন নাজমুল হোসাইন, অফিস কর্মকর্তা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নওয়াপাড়া শাখা এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, “নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন” নামে একটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ফেডারেশনের নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাস্টার অতীতে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।

নেতারা আরও জানান, এই ঘটনার পেছনে একটি পুরনো আর্থিক বিরোধ রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আবদুর রহমানের মালিকানাধীন নাইটার এমভি সেভেন সীজ-৪ নামের একটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার পর ক্ষতিপূরণ নিয়ে মেসার্স এম আর শিপিং কর্পোরেশন ও মেসার্স এম এম শিপিং ট্রান্সপোর্টের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি খুলনায় ফেডারেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলেও নির্ধারিত এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাহাজটি নওয়াপাড়ায় অবস্থান করলে পাওনা অর্থের বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

শ্রমিক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, জাহাজ থেকে মাসোহারা আদায়, শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত। ইকবাল হোসেন, সাইফুল, হৃদয় ও রানা নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অভয়নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১টায় ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ে সভাপতি নূরুল হুদা মাস্টারের সভাপতিত্বে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত শ্রমিক নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ৬টা থেকে নওয়াপাড়া নদীবন্দরে কর্মরত সকল নৌযান শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবেন।

ফেডারেশনের অফিস কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি সফল করতে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, কয়লা, খাদ্য শস্য ব্যবসায়ী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, কর্তৃপক্ষ এবং সকল শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমাতে সন্ত্রাসী হামলা ও অপপ্রচার চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।




নওয়াপাড়ায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকোর ওপর নৃশংস হামলা ও শ্রমিক নেতাদের ওপর হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিক সমাজ – মিথ্যা অভিযোগ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা ঘিরে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি বিতর্কিত চক্র পরিকল্পিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া দমিয়ে রাখতে অপপ্রচার ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, “নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন” নামে একটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের সদস্য সংখ্যা খুবই কম হলেও তারা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সভায় তারা ফেডারেশনের নেতাদের বিএনপি আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পেছনে একটি পুরনো আর্থিক বিরোধও সামনে এসেছে। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আবদুর রহমানের মালিকানাধীন নাইটার এমভি সেভেন সীজ-৪ নামের একটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় মেসার্স এম আর শিপিং কর্পোরেশন ও মেসার্স এম এম শিপিং ট্রান্সপোর্টের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি খুলনায় বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। কয়েকটি চেক দিলেও সেগুলোর টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি নওয়াপাড়ার গোল্ডেন টু ঘাটে অবস্থান করছে। পাওনা অর্থের বিষয়ে কথা বলতে ফেডারেশনের নেতারা জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মালিকপক্ষকে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ হাসান মুন্সী মাস্টার এবং ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার অফিস সহকারী মোঃ নিয়ামুল হক রিকো গোল্ডেন টু ঘাট এলাকায় গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে একটি ইট দিয়ে নিয়ামুল হক রিকোর মাথায় আঘাত করা হয়। তিনি মাথায় গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আরও কয়েকজন মিলে তাকে কিল-ঘুষি ও রড দিয়ে মারধর করে আহত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা রিকোকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ফেডারেশনের নেতারা দাবি করেন, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাস্টার অতীতে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাত এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ছিল। বহিষ্কারের পর তিনি আলাদা সংগঠন গঠন করলেও সাধারণ শ্রমিকদের সমর্থন পাননি বলে অভিযোগ করা হয়।

শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এর আগেও ১১ দফা দাবিতে চলমান কর্মসূচির সময় চেঙ্গুটিয়া এলাকায় ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের ওপর লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। পরে উল্টো ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা শ্রমিকদের কাছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে হয়েছে।

নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াপাড়া নৌবন্দরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, জাহাজ থেকে মাসোহারা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িত। ইকবাল হোসেন, সাইফুল, হৃদয় ও রানা নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নেয় যখন ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ামুল হক রিকোর ওপর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়। ফেডারেশনের নেতারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

নওয়াপাড়া শাখার সভাপতি নূরুল হুদা মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমাতে সন্ত্রাস ও অপপ্রচার চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মোঃ হাসান মুন্সী, সভাপতি বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহারুল ইসলাম বাহার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। বিশেষ বক্তা ছিলেন শ্রমিক নেতা আশুতোষ বিশ্বাস, সভাপতি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা ও উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। এছাড়া বক্তব্য দেন মোঃ জামাল মাস্টার, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা এবং মোঃ জসিম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। সভা পরিচালনা করেন নাজমুল হোসাইন, উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা ও অফিস কর্মকর্তা নওয়াপাড়া এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা।

নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।




নওয়াপাড়ায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকোর ওপর নৃশংস হামলা, মিথ্যা অভিযোগ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, একটি বিতর্কিত সংগঠন পরিকল্পিতভাবে ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি বিতর্কিত সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে। সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন হলেও তারা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা একটি সভা করে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিএনপি আখ্যায়িত করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করে।

নেতৃবৃন্দ জানান, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাষ্টার অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাত এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর তিনি নিজের নেতৃত্বে নতুন সংগঠন গড়ে তুললেও তা সাধারণ শ্রমিকদের সমর্থন পায়নি।

ফেডারেশনের নেতারা আরও জানান, এর আগেও ১১ দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির সময় নওয়াপাড়ার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর উল্টো ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা শ্রমিক সমাজের কাছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইকবাল হোসেন, সাইফুল, হৃদয় ও রানা নামের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে জাহাজ থেকে মাসোহারা আদায়, মোবাইল ছিনতাই এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাষ্টারের প্ররোচনায় বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার অফিস সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকোর ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ফেরিঘাট এলাকায় অতর্কিতভাবে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফেডারেশনের নেতারা এই হামলাকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে এবং চাঁদাবাজির পথ সুগম করতে এই হামলা চালানো হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন ও সংগঠনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সন্ত্রাস ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।

নওয়াপাড়া শাখার সভাপতি নূরুল হুদা মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শাখার নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে দমন করতে কোনো সন্ত্রাসী শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে সকল নৌযান শ্রমিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।




গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ নিয়ম ভেঙে কাজ সম্পন্নের অভিযোগ: তদন্তে উঠল কোটি টাকার অনিয়মের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি যেখানে বাধ্যতামূলক, সেখানে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন—এ যেন আইনের বুকের ওপর দিয়েই হেঁটে যাওয়ার দৃষ্টান্ত। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর বাউন্ডারি ওয়াল উঁচুকরণ, বিচারপতি ভবনে নতুন গেট স্থাপন ও সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর মেরামত এবং নিরাপত্তা গ্রিল স্থাপনের মতো উন্নয়নকাজ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর টেন্ডার ডেকে বিল পরিশোধ—এই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনে। একই ধাঁচের ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার-এর গেটের দেয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজেও। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে এবং দরপত্রের আগে এ ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কাজ—কীভাবে সম্ভব হলো ‘আগে কাজ, পরে টেন্ডার’ ? তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুদকের বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিলনেট দিয়ে ১৬ ফুট উঁচুকরণ, মিডিয়া সেন্টারের ভেতরে একাধিক কক্ষ নির্মাণ, একটি ফ্লোরের মেরামত ও সংস্কারসহ নানা কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬৬ টাকা। কাজের তালিকায় রয়েছে—ফ্লোর নবায়ন, থাইপার্টিশন, দরজা পরিবর্তন, ফলস সিলিং, স্যানিটারি ফিটিংস বদল, নতুন টাইলস বসানো এবং পুরো ভবন রঙ করা।
অন্যদিকে কাকরাইলের ২০ তলা বিচারপতি ভবনের উত্তর পাশে দুটি নতুন গেট স্থাপন, প্রধান চারটি গেটের সংস্কার ও মজবুতকরণ, সীমানাপ্রাচীর ঊর্ধ্বমুখী করে নিরাপত্তা গ্রিল বসানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ টাকা। অভিযোগ—এর একটি অংশের কাজ দরপত্র ছাড়াই শুরু ও সম্পন্ন করা হয়েছে; পরে টেন্ডার ডাকা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রশ্ন: “আইনের সুযোগ কোথায় ?” তদন্ত কমিটির সদস্য, রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. ছাবের আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। “তারা সেই কাজটাই করেছেন। কেন করতে হলো—তা খুঁজে বের করতে বলেছি,”—বলেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের চর্চা পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। কমিটির আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “যত তাড়াই থাকুক, একজন প্রকৌশলীকে আইন-কানুন মেনেই কাজ করতে হবে। তারা তা উপেক্ষা করেছেন। ই-জিপি সিস্টেমে কাজ কে পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাহলে যে ঠিকাদার কাজটি করল, সে কীভাবে নিশ্চিত হলো যে পরবর্তী টেন্ডারে তিনিই কার্যাদেশ পাবেন?”
তার ইঙ্গিত আরও গভীরে—“এখানে হয়তো তাকে আগেই এস্টিমেট জানানো হয়েছে। এটাই দুর্নীতি। অথবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর নিকটাত্মীয়। অথবা প্রকৌশলী নিজেই বেনামে ঠিকাদারি করেন। অথবা রাজনৈতিক চাপ ছিল। এর মধ্যে একটি রহস্য অবশ্যই আছে।”

“অনুরোধপত্র পেয়েছি’—গণপূর্তের সাফাই : গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর মেইনটেন্যান্স বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির বলেন, দুদকের সাবেক সচিব খোরশেদা বেগমের অনুরোধপত্র পেয়ে তারা কাজ করেছেন। “তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ করতে হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—কোন নিয়মে আগে কাজ, পরে টেন্ডার? সরকারি ক্রয়বিধি কি ‘পরিস্থিতি বিবেচনায়’ স্থগিত রাখা যায়? গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব দপ্তরে না থাকলেও ফোনে স্বীকার করেন, কাজগুলো তারা করেছেন। তবে অনিয়ম হয়েছে কিনা—তা কাগজপত্র না দেখে বলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন।

স্বচ্ছতার মুখে তালা, দুর্নীতির দরজা খোলা ? তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকে না; দুর্নীতির পথ সুগম হয়। সরকারি অর্থ ব্যয়ের আগে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক—এটাই আইনের মর্ম। না হলে “শুভংকরের ফাঁকি” থেকে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—এ ঘটনা ঘটেছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নকাজে, যার কাজই হলো দুর্নীতি দমন। সেখানে যদি ‘আগে কাজ, পরে টেন্ডার’ সংস্কৃতি চালু হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার জন্যও এক বিপজ্জনক বার্তা।

এখন কী ? তদন্ত কমিটি তাদের ফাইন্ডিংস জমা দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্তের পালা গণপূর্ত বিভাগের।
প্রশ্ন একটাই—এই কোটি টাকার কাজের নেপথ্যের ‘রহস্য’ উন্মোচিত হবে, নাকি ফাইলের ভাঁজে চাপা পড়ে যাবে ? রাষ্ট্রের অর্থ, রাষ্ট্রের আইন, রাষ্ট্রের জবাবদিহি—সবকিছুর পরীক্ষাই এখন এখানেই।




মিটফোর্ডকেন্দ্রিক ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ: গোপন উৎপাদন ও দেশজুড়ে সরবরাহে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকে ঘিরে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন এবং দেশব্যাপী সরবরাহের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে সংগঠিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে শওকত আলী মেডিসিন মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত রহিম ড্রাগ হাউস ও শাহিদা ড্রাগ হাউস, একই মার্কেটের নিচতলার দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস। আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেটে উত্তরা ব্যাংকের পাশে অবস্থিত বেপারী ড্রাগ হাউস, বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস ও রনি ড্রাগ হাউসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আমির মেডিসিন মার্কেটের ২য় তলার ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস এবং ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেটের নিচতলার রিপন ড্রাগ হাউসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে অবৈধ ওষুধ বাজারজাত করা হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে, যাকে অভিযোগকারীরা ‘গডফাদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জানা গেছে, এক-দুই বছর আগেও তিনি ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় ও চলতি পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ আরও বিস্তৃত হয়ে গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে গোপনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়ের মতো বিষয়গুলোর আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ আনা হলেও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা সরাসরি রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। এতে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে জনস্বার্থে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।




ভেজাল আয়ুর্বেদ–ইউনানি ঔষধে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি: আই,কে গ্রুপের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশে সরকার পরিবর্তনের পর জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঔষধ খাতে অনিয়ম ও ভেজাল কারবার বন্ধে যে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড ও আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নতুন করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড (উৎপাদন লাইসেন্স নং আয়ু-০৮৬, ঢাকা) এবং আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) (উৎপাদন লাইসেন্স নং ২৯৮, ঢাকা) বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারী ও জাতীয় ইউনানি ফর্মুলারী অনুসরণ না করেই দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছে। বলা হচ্ছে, অনুমোদিত ফর্মুলা উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে রং, ফ্লেভার ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে এসব ঔষধ প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঔষধ দেখতে আকর্ষণীয় করতে চটকদার নাম, লেবেল ও মোড়ক ব্যবহার করা হলেও গুণগত মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ভয়াবহ বিষয় হলো—এই পুরো প্রক্রিয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নথি ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বে থেকেও চোখ বন্ধ করে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় একজন পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক, উচ্চমান সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে।

আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের যেসব পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কামিনী বিদ্রাবণ রস (হালওয়া), শুক্রসুধা (হালওয়া), বৃহৎচন্দ্রোদয় মকরধ্বজ ট্যাবলেট, আইকে আমলকি রসায়ন, আইকে দশমূলারিস্ট, আইকে রোজ ভিট, সরবত তুলসী, আইকে গোল্ড ট্যাবলেট এবং আইকে অর্জুনারিস্ট সিরাপ। অন্যদিকে আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে আরক ডাইকোপ্লেক্স (ফওলাদ সাইয়াল), আরক ডাইকোপ্লেক্স গোল্ড (ফওলাদ সাইয়াল) সিরাপ, নাইট্রিন (জিরিয়ানী), কার্ডিফেক্স সিরাপ, আইকে ভিট সিরাপ, আইকে জিনসিন (শরবত জিনসিন) এবং বাসক সিরাপ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, আইকে জিনসিন (শরবত জিনসিন) সিরাপে যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রার উপাদান হিসেবে পরিচিত সিলডেনাফিল সাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আইকে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের শুক্রসুধা ও কামিনী বিদ্রাবণ রস নিয়েও। এসব আয়ুর্বেদ ও ইউনানি ঔষধে এমন কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া আইকে ভিট সিরাপে গবাদি পশু মোটা-তাজাকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঔষধ খেলে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে উত্তেজনা বা শক্তি অনুভূত হলেও দীর্ঘমেয়াদে যৌন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া, হরমোনজনিত সমস্যা, লিভার ও কিডনি বিকল হওয়া এবং হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি এসব কেমিক্যাল নিয়মিত গ্রহণে ধীরে ধীরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও উদ্বেগজনক দিক হলো—এই তথাকথিত শক্তিবর্ধক ও যৌন উত্তেজক ঔষধের সহজলভ্যতার কারণে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরাও এসবের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড ও আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক ও অন্যান্য অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ভেজাল ও ঝুঁকিপূর্ণ ঔষধ সেবন করছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত কেউ নিচ্ছে না।

জনস্বার্থে সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন—জনস্বাস্থ্য নিয়ে এই প্রকাশ্য ছিনিমিনি আর কতদিন চলবে, আর ভেজাল ঔষধে প্রাণহানির দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে পড়বে?