মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে রাজস্ব আত্মসাতের এক ভয়ংকর চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। সম্প্রতি রাজস্ব সংক্রান্ত একটি ঘটনায় পলায়নের অভিযোগ ওঠার পর এবার মধুপুর রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে নিলামের মাধ্যমে মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের লট নম্বর ১৫, ১৬, ১৯ ও ৩১/২৪-২৫ সহ একাধিক লট বিক্রি করা হয়। এসব লটের ক্রেতা হিসেবে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আলাল খান ও রহমত সরকার এবং টাঙ্গাইলের অরণখোলা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আয়নাল হকের নাম উঠে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে ডেকে কাঠ ব্যবসায়ী আলাল খানের কাছ থেকে লট নম্বর ১৫ ও ১৬/২৪-২৫ বাবদ ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, রহমত সরকারের কাছ থেকে লট নম্বর ১৯, ৩১ ও আরও একটি লট বাবদ ১৪ লাখ টাকা এবং আয়নাল হকের কাছ থেকে কয়েকটি লটের বিপরীতে প্রায় ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায় করা হলেও এসব অর্থ আজও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, কাঠ ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত লটের গাছ কেটে নিয়ে গেছেন এবং জামানতের অর্থও ফেরত পেয়েছেন। একই সঙ্গে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন ওই বনভূমিতে দ্বিতীয় আবর্তের বাগান সৃজন করেছেন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো—এত বড় অঙ্কের বিক্রয়মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ায় বন বিভাগের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বন বিভাগের সব পাওনা পরিশোধ করেছেন বলে মনে করলেও রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সরকারি রশিদের পরিবর্তে কাঁচা রসিদ বা টোকেন ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। বন বিভাগের সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য নির্ধারিত রশিদ বহি থাকা সত্ত্বেও কেন কাঁচা রসিদ ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন সম্প্রতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন কাঠ ব্যবসায়ীদের আবারও তার অফিসে ডেকে টাকা দাবি করেন। তখনই মূল তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। স্থানীয়দের মতে, তদন্ত হলেই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এদিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পাল্টা পোস্টে মোঃ মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, লাল চান নামের এক বাগান মালী (আউটসোর্সিং স্টাফ) পারিবারিক ঝামেলার কারণে পরিবার রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে এই ব্যাখ্যাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন আউটসোর্সিং স্টাফের পারিবারিক সমস্যার দায় কেন একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা নেবেন এবং কেন তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় জিডি করবেন—এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার নয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্টাফ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে রেঞ্জ কর্মকর্তার করণীয় হলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সেখানে থানায় জিডি করার বিষয়টি অনেকের কাছেই সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একজন আউটসোর্সিং স্টাফের কাছে রাজস্বের লক্ষ লক্ষ টাকা জমা রেখে নিশ্চিন্ত ছিলেন এবং ওই স্টাফের কোনো খোঁজখবর নেননি। স্থানীয়রা জানান, মুক্তাগাছার বানারপাড়া এলাকার করাতকল মালিক মোঃ শফি এবং আরও একজনের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে ওই স্টাফ লাল চান ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পাচার করেছে—যা এলাকায় মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইলের ডিএফও’র অত্যন্ত স্নেহভাজন হওয়ায় মোঃ মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ডিএফও, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও প্রধান বন সংরক্ষক মহোদয়ের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




১১ বছরের গোপন সিন্ডিকেট : গণপূর্ত প্রকৌশলী রাকিবুলের ঠিকাদারি সাম্রাজ্য ও কোটি টাকার লুটচক্রের অভিযোগে ঝড়

এসএম বদরুল আলমঃ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে মো. রাকিবুল হাসানের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গণপূর্ত অধিদপ্তরজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। কারণ, যাকে উচ্চ পদে উন্নীত করা হয়েছে, সেই কর্মকর্তা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরির পাশাপাশি গোপনে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করেছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে রাকিবুলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র—যেখানে তিনি দিনে সরকারি প্রকৌশলী, আর রাতে ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত। সহকর্মী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, রাকিবুল দুই পরিচয়ে কাজ করে কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং প্রকল্প লুটপাটের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাকিবুলের নির্দেশ ছাড়া তার এলাকায় কোনও প্রকল্প এগোয় না। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা, মাপজোখে জটিলতা সৃষ্টি করা কিংবা প্রভাব খাটানো ছিল নিয়মিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাবশালী নাম ব্যবহার করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ‘নিজেদের ঠিকাদার’ ছাড়া অন্য কাউকে কাজ করার সুযোগ দিতেন না।

তেজগাঁও উপবিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার ওঠার আগেই ঠিকাদারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত—কারা কাজ পাবে আর কারা পাবে না। অভিযোগকারীরা জানান, যেসব প্রকল্পে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের সুযোগ ছিল, সেখানে রাকিবুল নিজেই গোপনে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। ফলে প্রকল্পে তার স্বার্থ যুক্ত হলে বাইরের কোনও ঠিকাদারই কাজ পেতেন না।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। একটি প্রতিষ্ঠানের বিল ছাড় করতে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার ভুয়া ভেরিয়েশন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা কমিশন নিয়েছেন। আবার তেজগাঁও বিসিক ভবনের বেজমেন্টে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লেও মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বহু প্রকল্পে তিনি নিয়মিতভাবে ৫% পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করেছেন।

গণপূর্তের ভেতরে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে—গত কয়েক বছরে রাকিবুল কীভাবে আকস্মিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। অভিযোগ রয়েছে, তেজগাঁও শিল্প প্লট ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শত কোটি টাকা লোপাট করে তিনি ঢাকায় ফ্ল্যাট ও জমি, কুমিল্লায় ১০ কাঠা জমি এবং গাজীপুরে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন। আরও অভিযোগ আছে, হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে।

এ সব অভিযোগ সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঠিকাদারদের একটি অংশ মানববন্ধন করে রাকিবুলের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি দীর্ঘদিন গোপনে ঠিকাদারি ব্যবসা চালাচ্ছেন, কমিশন ছাড়া কোনও ফাইল এগোতে দেন না, আর কমিশন দিলে নিম্নমানের কাজও সহজে অনুমোদন পেয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেদিন কার্যালয়েও উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

পদোন্নতির পরই তার দীর্ঘদিনের গোপন সিন্ডিকেট ও অনিয়ম জাতীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। এখন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে—যে নেটওয়ার্ক এক দশকের বেশি সময় ধরে অদৃশ্য ক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে, সেই শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে কি সত্যিকারের তদন্ত সম্ভব?




ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নিয়ে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, আর্থিক লেনদেনে অসংগতি এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিল্লাল হোসেন সড়কের পাশে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার ও সঠিক লেনদেনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নাজিম উদ্দিন নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নির্দলীয় পরিচয় দিলেও পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি এলাকাভিত্তিক প্রভাব খাটাতেন, যার সুযোগে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে জমি কিনে এখনো অনেকের পাওনা পরিশোধ করেননি। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তাদের কেনা প্লট হস্তান্তর না করে উল্টো প্রতিটি প্লটে মালিকপক্ষ নিজেদের ‘শেয়ার’ দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কেউ কেউ জানান, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নির্মাণসামগ্রী আনা–নেওয়ার সময়ও বাধার মুখে পড়তে হয় এবং প্রয়োজনে ভয়-ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটছে।

এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, তার দুই কোটি টাকার বেশি পাওনা থাকা সত্ত্বেও নাজিম উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকার করছেন। বরং তিনি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন আহমেদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার কথায়, তার জমির সামনে দেয়াল তুলে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অধিকাংশ ভুক্তভোগীই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য, যারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে জমি কিনেছেন। তাদের আশঙ্কা—যতদিন পর্যন্ত প্রশাসন ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ না করবে, ততদিন তাদের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে না। এজন্য তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




বেনাপোলে আমদানিকারকদের ভোগান্তি বাড়ছে—দুর্নীতির অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে ক্ষোভ

এসএম বদরুল আলমঃ বেনাপোল স্থলবন্দর ঘিরে আমদানিকারকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি—কাস্টমসের শুল্কায়ন গ্রুপ-২ (এ)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু মিয়া এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরিফিন নিয়মিত ঘুষ দাবি করেন এবং নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করেন। তাদের কথায়, এই দুই কর্মকর্তা নাকি প্রভাবশালী পরিচয় দেখিয়ে বন্দরজুড়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন যেখানে ঘুষ ছাড়া কোনো চালান এগোয় না।

অনেক আমদানিকারক অভিযোগ করেন, সনজু মিয়ার টেবিলে ফাইল উঠলেই স্বাক্ষর থেকে শুরু করে মূল্যায়ন—সবকিছুর জন্য আলাদা করে টাকা চাইতে দেখা যায়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে চালান নাকি আটকে রাখা হয়, আবার কখনও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও পণ্য ঢাকা বুয়েটে পরীক্ষার নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়, এতে সময় নষ্ট হয় এবং ব্যয়ও বাড়ে। এসব কারণে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ছাড় করানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে।

কিছু ব্যবসায়ী জানান, এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় অনেকেই এখন বেনাপোল এড়িয়ে অন্য বন্দরে পণ্য ছাড় করছেন। এতে স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহন মালিক এবং বন্দরনির্ভর ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন আমদানিকারক দিদারুল ইসলাম বলেন, সনজু মিয়া যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দাবির ঘটনা বেড়েছে। তার ভাষায়—টাকা না দিলে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া বা টেস্টে পাঠানোর ভয় দেখানো এখন নিয়মিত বিষয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে ঘুষের মাধ্যমে সনজু মিয়া নামে-বেনামে সম্পদ বাড়িয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের তুলনা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে। আবার কেউ অভিযোগ করেন—কোনো আপত্তি তুললে লাইসেন্স বাতিল থেকে ফাইল স্থগিত করা পর্যন্ত নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়, ফলে অনেকে মুখ খুলতে চান না।

অন্যদিকে, সনজু মিয়া এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য—এসব তথ্য ভিত্তিহীন। তবে কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগেও বেনাপোলে দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছিল। চলতি বছর অক্টোবর মাসে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে আরও আগে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমসের সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আবারও জোরালো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তাদের দাবি—সরকার চাইলে দ্রুত তদন্ত করে এই অনিয়ম বন্ধ করতে পারে এবং বন্দরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।




জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রকৌশলী ইনামুল কবীরকে ঘিরে তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটে জলবায়ু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মান বজায় রাখাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গরমিল পাওয়া গেছে। নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুল সামাদ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছে—২০২০ সালের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, বিল–ভাউচার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয়নি, এমনকি কিছু জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার কথা থাকলেও, USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষভাবে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মান না থাকায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

রক্ষণাবেক্ষণ বা Gob Maintenance খাতে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যে কাজ বাস্তবে হয়েছে তার সঙ্গে খরচের অংক মিলে না। দুই অর্থবছর—২০২০–২১ এবং ২০২১–২২—এ ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনামুল কবীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করা বেশ কঠিন ছিল। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পিডির সঙ্গে দেখা করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এজন্যই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের নজরে পাঠানো হয়েছে, এবং এলজিইডির পক্ষ থেকেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর সংক্ষেপে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।




আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ; নগদ টাকা লুট

মোঃ বশির উদ্দিন  আশুলিয়া (ঢাকা): শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে প্রজাশ্যে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তার সাথে থাকা ঝুট বিক্রি ৪লাখ ৯০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার। এরআগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া দি রোজ ড্রেসেজ লিমিটেড কারখানার সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার মৃত আলমাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন দি রোস এন্ড ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লাবাড়ি এলাকার মৃত আতোয়ার রহমানের ছেলে  আতিকুর রহমান উজ্জ্বল (৪৯), মো: আরিফ (৩৮), মো: এরশাদ (৩৭), আব্দুস সাত্তার (৫২), সামাদ ভূইয়া (৪৮), তৈয়বপুর এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৬) এবং মোস্তাফিজুর রহমান লিটন (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
ভুক্তভোগী ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আশুলিয়ার জানগড়া এলাকায় ঝুটের ব্যবসা করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে। সোমবার বিকেলে জামগড়া দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা থেকে ঝুট বের করে গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এসময় উজ্জ্বল, আরিফ, এরশাদ, সাত্তার, সামাদ, মোস্তাফিজ, লিটন সহ আরো কয়েকজন এসে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার সাথে সাথেই আমার উপর হামলা চালায় এবং পিটিয়ে হাত ভেংগে ফেলে, মাথায় ও অন্য হাতে সহ পুরো শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ীস্থ হাবীব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে, “কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম কারখানার মূল ফটকে  দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে এসেই হামলাকারীরা তার সাথে কথা বলতে দেখা যায়। পরক্ষণেই তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে দেখা যায়। পরে জীবন রক্ষার্থে ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত অয়ালিয়ে যায়।”
আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার জানান, ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ববস্থা নেয়া হবে।



লালমনিরহাটে অবৈধ ইটভাটার ভয়াবহ দাপট; হুমকির মুখে ফসলি জমি ও পরিবেশ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভয়াবহ বেড়ে চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখা। আইন ও নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ চলছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি উর্বর জমির উপরের “টপ সয়েল” পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও কমলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, শিঙিমারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন, এবং হাতীবান্ধার পাটগ্রাম এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী স্হানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায়  এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে। কৃষি জমির উর্বর “টপ সয়েল” তুলে তা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় জমি গুলো পরবর্তী ১০-১৫ বছর ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ছে।

ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান, এরপর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা স্হাপন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনায় দোষী প্রমাণিত হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা আছে। সেখানে দায়িত্বশীলদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবী ও প্রতিবাদ, এলাকাবাসী, কৃষক,  পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা বারংবার এই সমস্যা তুলে ধরলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্হা দেখা যাচ্ছে না।

তার দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উপসংহারঃ লালমনিরহাটের এই সংকট শুধু স্হানীয় নয়, এটি জাতীয় কৃষি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।




টাঙ্গাইল বন বিভাগে অনিয়মের গুঞ্জন: দুই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমনই জানাচ্ছে স্থানীয় কিছু সংবাদ সূত্র। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন বিভাগের অনেক সফল উদ্যোগ থাকলেও টাঙ্গাইল অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ সেই ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কয়েকটি রেঞ্জে পোস্টিং পাওয়ার জন্য নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হয়।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে মোট নয়টি রেঞ্জ এবং একটি চেক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ ও করটিয়া চেক স্টেশনকে সবচেয়ে ‘লোভনীয়’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এসব জায়গায় পোস্টিং নিতে অনেকেই নানা উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

তাদের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুই কর্মকর্তা—হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রশীদ এবং বাঁশতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান। অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নানা দুর্নীতির সুযোগ নিয়েছেন।

এসএম আব্দুর রশীদকে নিয়ে অভিযোগ আরও পুরোনো। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে তিনি নাকি এক বছরের জায়গায় টানা আট বছর দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ সূত্রের দাবি, তিনি তখন প্রভাবশালী একজন সাবেক এমপির ‘ডিও লেটার’ দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং সেই সুবিধা নিয়েই আর্থিকভাবে উপকৃত হন। তার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলে প্রভাবশালীদের সহায়তার অভিযোগও রয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

২০২১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সার্কেলে বদলি নেন এবং পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে টাঙ্গাইল বন বিভাগে নিজের পছন্দের পোস্টিং নেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি হতেয়া রেঞ্জে থাকলেও তার লক্ষ্য নাকি বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়া। খবর এসেছে যে তিনি ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিটে পোস্টিংও নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে শাহীনুর রহমান, যিনি প্রায় ২ বছর ৮ মাস ধরে বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধেও কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি তিনি নাকি করটিয়া চেক স্টেশনে চলার চেষ্টা করছেন এবং সেই পোস্টিংও প্রায় নিশ্চিত বলে গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দুই কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলার হওয়ায় তারা এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী নিজের এলাকায় চাকরি করার সুযোগ থাকার কথা নয়। সংবাদকর্মীরা এসএম আব্দুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আর শাহীনুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।




নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, এবার লাখো কণ্ঠে কোরআন পাঠের ঘোষণা হুমায়ুনের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নতুন বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হওয়ার পর এবার লাখো কণ্ঠে কোরআন পাঠের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মুসলিমদের অধিক সংখ্যায় বিধানসভায় জয়ী করতে তিনি কোরআন পাঠের আয়োজন করবেন। মুর্শিদাবাদের কোনো স্থানে প্যান্ডেল তৈরি করে লাখো মুসলিমকে নিয়ে কোরআন পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মাংস ও ভাতের ভোজের আয়োজন করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, কোরআন পাঠের পর নতুন বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এর আগে, গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ২ নম্বর ব্লকের ছেতিয়ানি এলাকায় নতুন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এই কাজের মাধ্যমে তিনি কোনো অসাংবিধানিক কার্যকলাপ করেননি এবং হাইকোর্টও এ বিষয়ে কোনো অসাংবিধানিকতার অভিযোগ স্বীকার করেনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া বিধায়ক বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করেছেন, কিন্তু এর বিরুদ্ধে ভারতের মুসলিম সমাজ কোনো প্রতিবাদ করেনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাবরি মসজিদ আবারও তৈরি হবে এবং কোনো শক্তি এটিকে আটকে রাখতে পারবে না।

উল্লেখ্য, কোরআন পাঠের ঘোষণা হুমায়ুন কবিরের পক্ষ থেকে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের মুসলিম সমাজের ভোটরদের প্রতি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। একই সময়ে কলকাতার ব্রিগেড পারেড গ্রাউন্ডে সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে ‘পঞ্চ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’ অনুষ্ঠিত হয়, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে আয়োজন করা হয়। এই দুই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম ও রাজনীতির সংযোগের প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে।




অভিযোগের পাহাড়: ঘুষ–দুর্নীতির নেপথ্যে জনস্বাস্থ্যের ক্যাশিয়ার আমিনুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জামালপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত ক্যাশিয়ার আমিনুল ইসলামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ ঘুরছে। অফিসের অনেকেই দাবি করেন, তিনি নাকি ঘুষ, চাঁদাবাজি আর ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে নিজের জন্য এক ধরনের “অদৃশ্য ক্ষমতা” গড়ে তুলেছিলেন। এসব অভিযোগ সত্য কিনা তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ, তবে অভিযোগকারীরা বলছেন—গত ১২ বছরে নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে আমিনুল নাকি শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার মতো বিপুল সম্পদ জমিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি জামালপুর অফিসে যোগ দেন।এরপর থেকেই বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে যে কোনো প্রকল্পে ফান্ড এলে তাদের নামে চেক ইস্যু করা হলেও আমিনুলের নির্ধারিত ‘কমিশন’ না দিলে চেক নাকি ক্যাশ হতো না। কেউ কেউ বলছেন—কাজ পেতে আগাম টাকা, কাজ চলাকালে মাসিক টাকা, আর বিল তুলতে গেলেও নাকি আবার নতুন করে ঘুষ দিতে হতো। অভিযোগকারীদের দাবি—এসব হিসাব রাখার জন্য তার নাকি আলাদা গোপন ডায়েরিও ছিল।

শুধু ঘুষ নেওয়ার অভিযোগই নয়, অভিযোগ আছে—আমিনুল নিজেই বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হয়ে প্রকল্পের কাজ ভাগ করে নিতেন। জামালপুরে রূপসা এন্টারপ্রাইজ, রিপন এন্টারপ্রাইজ, আর শেরপুরে লুৎফর ও আকরাম হোসেন এন্টারপ্রাইজ—এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাকি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারিত্ব ছিল। তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার শেরপুর অফিসে চাকরি করায়, সেখানেও তিনি প্রভাব খাটাতে পারতেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগ আরও আছে—দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নানা জায়গায় জমি, বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স আর স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেছেন। কিছু সম্পদ তার নিজের নামে, আর কিছু নাকি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি দেড় কোটি টাকায় জামালপুর শহরের মুকন্দবাড়ীতে জমি ও আধাপাকা বাড়ি কিনেছেন—এ তথ্যও অভিযোগকারীরা তুলে ধরেছেন।

অফিসের ভেতরে তার পরিচিতি হয়েছে “সুলতানের মাইম্যান”—মানে এমন একজন ব্যক্তি, যার পেছনে নাকি শক্তিশালী মহলের সাপোর্ট আছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরের কিছু সূত্র বলছে, এসব অভিযোগ সত্য কি না সেটা যাচাই করতে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে, তবে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।