চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান থামল নথি না পাওয়ায়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিযান চালালেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি এগোতে পারেনি। উপাচার্যের কার্যালয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তালাবদ্ধ থাকায় দুদকের কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই করতে ব্যর্থ হন।

বুধবার সকালে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়। তবে সে সময় উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করায় তার দপ্তরের নথিপত্র খোলা সম্ভব হয়নি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।

দুদক চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম জানান, গত প্রায় ১৫ মাসে নিয়ম ভেঙে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না এবং বেশ কয়েকটি বিভাগে আত্মীয়-স্বজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিন্যান্স বিভাগ, ফার্সি বিভাগ, ক্রিমিনোলজি বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নম্বর বণ্টন, ভাইভা বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত সুপারিশে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। মেধার চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয় ও ক্ষমতার সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি এসেছে ফিন্যান্স বিভাগ থেকে। অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান তার প্রভাব খাটিয়ে নিজের মেয়ে মাহিরা শামীমকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিতে ভূমিকা রেখেছেন। জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ফিন্যান্স বিভাগের চারটি প্রভাষক পদের জন্য নিয়োগ বোর্ড বসে। এতে ৫১ জন আবেদনকারীর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনে অংশ নেন। সেখান থেকে চারজনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, যাদের একজন মাহিরা শামীম।

মাহিরা শামীম ওই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নসরুল কাদির দাবি করেন, এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের কোনো বিষয় ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাহিরা শামীমের আন্তর্জাতিক জার্নালে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত থাকায় তিনি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, তিনি ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন না এবং বোর্ডের সভাপতি ছিলেন উপাচার্য নিজেই। তার দাবি, তার মেয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতেই আবেদন করেছে এবং বোর্ড স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে তার ভাই মো. আব্দুল কাইয়ুমকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগেও স্বচ্ছতা মানা হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার ভাই যখন চাকরির জন্য আবেদন করেন, তখনই তিনি নিয়োগ বোর্ড থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার দাবি, মো. আব্দুল কাইয়ুমের শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো এবং তিনি এর আগে সৌদি আরবের জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে চলমান বিতর্কের কারণে তার ভাই আদৌ এই চাকরিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সব নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, নম্বরপত্র ও বোর্ডের সুপারিশ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এসব কাগজপত্র যাচাই না করা পর্যন্ত কোনো নিয়োগে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে অভিযান শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিশনে জমা দেওয়া হবে।




ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়ার ঝুকিতে নোয়াখালী জেলা কারাগার- ৮ বছর কেটে গেলেও এখনো ডিজাইন ই ফাইনাল হয়নি। সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবের হস্তক্ষেপের পরেও নেয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে- প্রশ্ন নোয়াখালীবাসীর।

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালীতে ভূমিকম্পের আতঙ্ক নতুন নয়। নতুন আতঙ্ক হচ্ছে—ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। আর সেই তালিকার সবচেয়ে ভয়াবহ নাম—নোয়াখালী জেলা কারাগার। যেখানে প্রতিদিন রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন ৮২৩ জন বন্দি, ডিউটিতে থাকেন কারারক্ষীরা, আসেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতা—সবার মাথার ওপর ঝুলছে ভঙ্গুর ভবনের নিঃশব্দ হুমকি। দেয়ালে ফাটল, বেরিয়ে থাকা মরিচাধরা রড, ছাদ থেকে ঢালাই-সহ প্লাস্টার খসে পড়া, ভাঙা গ্রিল, ঘুণে ধরা কাঠ—এগুলো শুধু “জীর্ণ দশা” নয়; সংশ্লিষ্টদের ভাষায় এগুলো দুর্ঘটনার পূর্বাভাস। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই কারাগারের ভেতরের প্রধান সড়ক ডুবে যায়, জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, সাক্ষাতের ঘরও জরাজীর্ণ। আর ভূমিকম্পের কম্পন ঘন ঘন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও তীব্র—কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটা বড় কম্পন লাগবে কেন? ভবন কি ভূমিকম্প ছাড়াই ধসে পড়তে পারে না?

৫৩ বছরের পুরোনো কাঠামো, ভেতরে ৮২৩ বন্দি—ঝুঁকির ভেতরেই জীবন
কারাগারটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে মাইজদি কোর্ট এলাকায়। পরে ১৯৭২ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৫৩ বছরে উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা আধুনিকায়ন হয়নি। মোট জমি ৩৬ একর, পেরিমিটার ওয়ালের ভেতরে ৮.৫০ একর, বাইরে ২৭.৫০ একর। সরেজমিনে কারাগারের ভেতর-বাইরে দেখা যায় একাধিক ভবনে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে থাকা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই এখনো বন্দি ও কারারক্ষীদের বসবাস। জেল সুপার আবদুল বারেক জানিয়েছেন— বৃষ্টি হলেই পানি ভেতরে জমে যায়, বন্দিদের ফ্লোর ডুবে যায়, ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হয় বন্দি ও কারারক্ষীদের। স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমাম উদ্দিন বলছেন, সাক্ষাতের জায়গাসহ সামগ্রিক অবস্থা এতটাই জীর্ণ যে সেটা চোখেই ধরা পড়ে—এ অবস্থাকে তিনি “অত্যন্ত জরাজীর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

ডিসেম্বর ২০২৩ ভূমিকম্পঃ বজরা ভবন ‘রেড অ্যালার্ট’—তবু থেমে যায় গতি
ডিসেম্বর ২০২৩-এর ভূমিকম্পে কারাগারের বজরা ভবনে নতুন করে বহু ফাটল তৈরি হয়। বীম, ছাদ ও লোড বেয়ারিং দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গণপূর্ত বিভাগ দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বন্দি অন্যত্র সরানোর চিঠি দেয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ ভবনের ২য় ও ৩য় তলা খালি করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ—এত বড় সতর্ক সংকেতের পরও সামগ্রিক পুনঃনির্মাণ/ আধুনিকীকরণের কাজ আবার আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতায় আটকে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটা ভবন খালি করলেই কি দায় শেষ? পুরো কারাগার তো একই ঝুঁকিতে!

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণঃ “ভবন ভঙ্গুর, কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে”
২৬-০৫-২০২৫ তারিখের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন—কারাগারের ভবনগুলো ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ; কয়েকটি ভবনের একটা বড় অংশ ইতিমধ্যে মাটির নিচে দেবে যাচ্ছে বলেও দেখা গেছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও এখনো কারাগার পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা—এ কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রতিবেদনটি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এর কাছে পাঠানো হয়। যতোদুর জানা গেছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনো কারো টনক নড়ছেনা।

জুন ২০২৫ঃ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর রিপোর্ট—“সামান্য ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার সম্ভাবনা”
জুন ২০২৫-এ নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পরিদর্শন প্রতিবেদনে বজরা, বেলাভূমি, সৈকতসহ কয়েকটি ভবনে দেয়াল-বীমে ফাটল, ছাদ থেকে ঢালাই খসে পড়ে রড দৃশ্যমান, ভাঙা গ্রিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি—সবকিছু বিস্তারিত উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়: সামান্য ভূমিকম্পে ভবনগুলো ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। প্রতিবেদনে রেট্রোফিটিং/ বিশেষ মেরামতের সুপারিশ থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—এগুলো ব্যয়বহুল, এবং নতুন কারাগার নির্মাণের আগে সাময়িক সমাধান মাত্র।

২০১৭ থেকে ২০২৫: কাগজে কাগজে ৮ বছর—ডিজাইনই ফাইনাল নয়!
নোয়াখালী জেলা কারাগার পুনঃনির্মাণ/আধুনিকীকরণ নিয়ে উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। ২০১৮ সালে পরিদর্শন ও নকশা চূড়ান্তকরণের কাজ হয়। ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি খসড়া প্রাক্কলন/ প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। এরপরও অভিযোগ বছরের পর বছর কেটে গেছে; কোথাও সভা, কোথাও চিঠি, কোথাও সংশোধন—কিন্তু মাঠে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি সাম্প্রতিক সভায় মাস্টারপ্লান সংশোধনের সিদ্ধান্ত, অনুমোদন-প্রতিস্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলেছে—তবু ডিজাইন ফাইনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। নোয়াখালীবাসীর প্রশ্ন তাই আরও ধারালো—কর্তৃপক্ষ কি শত শত মানুষের প্রাণহানীর অপেক্ষায় রয়েছে? কারাগার তো শুধু ভবন নয়—এটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, মানবিক দায়, আইন-শৃঙ্খলা—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।

“শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জেলা” কারাগারকে ঘিরে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি
নোয়াখালীতে পুরোনো/ পরিত্যক্ত ঘোষিত বহু স্থাপনা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে—এ নিয়ে আগেও উদ্বেগ উঠেছে। কিন্তু সবচেয়ে স্পর্শকাতর অবস্থান কারাগারকে ঘিরে—কারণ এখানে মানুষ ইচ্ছেমতো বের হতে পারে না। বিপদে দ্রুত ইভাকুয়েশনও সহজ নয়। ফলে কারাগারের ঝুঁকি মানেই সম্ভাব্য ম্যাস ক্যাজুয়ালটি এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংকট।

এখনই করণীয়: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে দ্রুত ডিপিপি, দ্রুত অনুমোদন
স্থানীয় নাগরিক সমাজের বক্তব্য একটাই—প্রস্তাব নয়, বাস্তব পদক্ষেপ। বিশেষ করে— প্রকল্পটি “ফাইল-ভ্রমণ” থেকে বের করে জরুরি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চূড়ান্ত করা, ডিজাইন চুড়ান্ত করে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন সম্পন্ন করা, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ না করে বিশেষ টাস্কফোর্স/ ফাস্ট ট্র্যাক ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপিপি পাশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির ভবনে অস্থায়ী ঝুঁকি-নিয়ন্ত্রণ, সীমিত ব্যবহার ও জরুরি মেরামত/সাপোর্ট ব্যবস্থা, কারাগারের ভেতর-বাইরে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক কার্যকর ড্রেনেজ ও উঁচু করণের ব্যবস্থা।

নোয়াখালী জেলা কারাগার এখন কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি এক নিঃশব্দ অ্যালার্ম। প্রতিদিন ৮২৩ বন্দির জীবন, কারারক্ষীদের নিরাপত্তা এবং একটি জেলার আইন-শৃঙ্খলার ভার এই ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটা দুর্ঘটনার পর আর কোন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। নোয়াখালীবাসীর দাবি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন, এবং পুনঃনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কারণ— ভূমিকম্প নয়, অবহেলাই যেন সবচেয়ে বড় কম্পন।




সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে জমি দখল করে রাখার চেষ্টা নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, লেনদেন জটিলতা, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। ইসিবি চত্বরের বিল্লাল হোসেন সড়কে নাজিম উদ্দিনের এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

গত ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাজিম উদ্দিন নামের ভূমিদস্যু নামে পরিচিত ব্যক্তি সাবেক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হেনস্থা করেছে। অভিযোগ শুনতে জানা যায় ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন ও সাবেক সেনা সদস্য আবুল কাশেম সহ প্রায় ১০-১২ জন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য তাদের পেনশনের টাকা দিয়ে ক্রয়-কৃত জমি তে গেলে কতিপয় সন্ত্রাসী বাধা প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা জানে রক্ষা পায়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে তারা তাদের নিজস্ব ক্রয় কৃত ঢুকতে পারে না তারা অবৈধভাবে তাদের প্রজেক্ট নাজিম উদ্দিন নামের একজন ভূমি ব্যবসায়ী আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে এই ভূমিদস্যু এই সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ করে যা মানহানি কর। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাবেক এই কর্মকর্তারা। সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেন নাজিম উদ্দিন নামের এই ভূমিদস্যু ২০২৪ ছাত্র গণহত্যার মোহাম্মদপুর থানা মামলা নাম্বার ১৫ -মামলার তারিখ ২৮/০৮/২০২৪ এর ২৬ নম্বর আসামি হিসাবে নাজিমুদ্দিনের নাম দেখা যায় এবং এই মামলার এক নাম্বার আসামি শেখ হাসিনা। ওর সাথে আরেকটি গুলশান থানায় ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন বলে জানান। তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়। একই সাথে তিনি কমিটিতে ছিলেন এর প্রমাণও পাওয়া যায়। ছাত্র গণহত্যার সাথে জড়িত এইরকম একজন মানুষ কিভাবে সাবেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বা তাদের কষ্টের অর্জিত সম্পত্তি দখল করার ধৃষ্টতা দেখায় প্রশাসন কেন এখনো নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে এগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে ভুক্তভোগীরা মনে করে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নাজিম উদ্দিন নিজেকে নির্দলীয় পরিচয় দিলেও পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। তাদের অভিযোগ—তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনলেও অনেকের পাওনা এখনো বুঝিয়ে দেননি। কেউ কেউ দাবি করছেন, ব্যবহৃত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়, হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যারা নির্মাণকাজ চালান, তাদেরও মালামাল আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। একাধিক ক্রেতা জানান, নাজিম উদ্দিন তাদের কাছে প্লট বিক্রি করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্লট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেন, প্লট বিক্রি করার পরও প্রতিটি প্লটে মালিকপক্ষ নিজেদের “শেয়ার” রেখেছে বলে জানানো হয়।

একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তিনি দুই কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওনা আছেন; কিন্তু নাজিম উদ্দিন টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তার নামে মামলা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, তার জমির ওপর দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান মিলেনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের দাবি, জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে কেনা জমি ও সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়—এ জন্য তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




ভূমিকম্পের ছায়া নোয়াখালীতে: পরিত্যক্ত শতাধিক ভবন রয়ে গেছে চরম ঝুঁকিতে

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি ভবন এখন ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি মাঝারি কিংবা শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হলে জেলা সদর মাইজদী, চৌমুহনী, বসুরহাট ও সোনাইমুড়ী-চাটখিল এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থিত পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনগুলোর ফাউন্ডেশন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফাটল কেবল অবহেলার চিহ্ন নয়, বরং আসন্ন বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে শতাধিক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকার পুরনো জেলা কারাগার, সদর ফায়ার স্টেশন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভবন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর, জেলা দায়রা জজের বাসভবন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল সালাম হল ও টিচার্স ট্রেনিং ভবনসহ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা।

অভিযোগ উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনো নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এসব ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভবনের অধিকাংশই দুর্বল ও পুরনো ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, নোয়াখালী জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালীর প্রাচীন জেলা কারাগার। প্রায় ৭০ বছরেরও বেশি আগে নির্মিত এই ভবনটি ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোয়াখালী জেলায় ঘটতে পারে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাঁদের মতে, বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করতে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।




এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) গোপন তথ্য চুরি ও অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পাচার এবং এনআইডিতে ভুয়া তথ্য সংযোজনের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন এবং ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে বিভিন্ন পক্ষের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এই কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে আসছিল। এই চক্রের সঙ্গে ইসির আরও কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আরও জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই জালিয়াতির গভীরতা এবং এর মাধ্যমে কতজন নাগরিকের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে এনআইডি সংশোধন ও ভুয়া তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা রাষ্ট্রীয় জালিয়াতির পথ সুগম করছিল কি না, সেটিও সিআইডির গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। এই জালিয়াতি প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো নিয়েও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এবং তাদের অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হবে।

সিআইডি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের ফলে এনআইডি জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্ক সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে।




অতিরিক্ত দায়িত্ব না কি দুর্নীতির লাইসেন্স? এলজিইডিতে জাবেদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ এলজিইডি’র অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ল্যাব টেকনিশিয়ান সাব এসিস্ট্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: জেমস জাবেদ এর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, দৃষ্টি নন্দন প্রকল্পের এক আদেশে প্রকল্প পরিচালক মো: বারেক হাওলাদার এর অধীনস্থ থেকে সংযুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকা জেলার এলজিইডি অফিসে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে যুক্ত হন। নিম্নমানের কাজ ও অতিরিক্ত বিল প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে এসএই জাবেদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, দূর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত জাবেদ টাকার বিনিময়ে উপরের মহল ম্যানেজ করেই ঢাকা জেলার ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব নেন। সূত্রমতে জাবেদের দূর্নীতির কারণে দূর্নীতি না করেও অহেতুক ফেঁসে যেতে পারেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলেন এসিস্ট্যান্ট সাব ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ প্রতিবেদকে বলেন, এলজিইডিতে অন্যান্যরা যেমনটি করে আমিও তাই করেছি। পারলে আমাকে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলান। এ বলে তিনি কল কেটে দেন। তাছাড়া তিনি সিহরন নামক এক সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে ঐ সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে বলেন।




লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর,কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া। প্রকল্পের কোথাও অর্ধেক বা সিকিভাগ এবং কোথাও কাজ না করেই বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া কিছু কিছু প্রকল্প আছে কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবে কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রকল্পের কাজে তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সাথে জড়িত। তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা সংস্কার কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ টাকা ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এ কাজের তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কিন্তু তদারককারী ও বাস্তবায়নকারীদের গড়িমসিতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ হয়েছে শুধু কাগজে কলমে ।

বাংলাদেশ সরকারের হাতে গোনা কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নির্ভর করে যেসব দপ্তর তার মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর।

পিআইও মাজহানুর রহমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ  একটি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে এই উপজেলায় যোগদানের পর অনিয়ম করেই যাচ্ছেন।

জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম ও ২য় এবং তৃতীয় কিস্তিতে টিআর,,কাবিখা-কাবিটা  প্রকল্পের আওতায় যে সকল প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার  বেশিরভাগ  প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র ।

সরজমিনে দেখা যায়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে তৃতীয় কিস্তিতে কাবিটা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১ নং ভোটমারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খান্নুন এর বাড়ী হইতে নুরইসলাম মাষ্টারের বাড়ী পযন্ত ১০০ মিটার রাস্তা এইচবিবি করন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি শুধু কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ওই প্রকল্প স্থানে পুর্বের এইচবিবি করন কাজ করাই ছিলো। পুর্বের করা প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা করেছিলো প্রকল্পের সংঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । ২ নং মদাতী ইউনিয়নে টিআর কর্মসূচীর আওতায় পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ৩ নং ওয়ার্ডের  তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাহতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সেখানে কাজ হয়েছে নামমাত্র। মজার বিষয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওই একই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা নাম দিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।কাজ হয়েছে নামমাত্র। ওই প্রকল্পের সভাপতির দেয়া তথ্যমতে প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যাক্ত। একই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে হেতেনের বাড়ীর তিপুতি হইতে ব্রাক্ষণপাড়া কালীমন্দির পযন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যার কোন কাজই করা হয়নি কিন্ত বিল উত্তোলন হয়েছে। গোড়ল ইউনিয়নের গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫শত টাকা, কাজ করা হয়েছে ১০ টি টিন ও ৬ টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা। বাকী টাকা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। একই ইউনিয়নের গোড়ল ৮ নং ওয়ার্ডের ভাল্লাটারী হতে সিএমএস স্কুল পযন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা বরাদ্দ ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮শত টাকা। বরাদ্দের টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের সভাপতি মর্জিনা বেগম এবং অত্র ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু প্রকল্পের কাজ করেছেন আংশিক । কাকিনা ৩ নং ওয়ার্ডের কাজীর হাট ওয়াব্দা বাধ লোকমানের বাড়ী হতে বেলালের বাড়ী পযন্ত ৩৫০ মিটার রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩  লক্ষ ৫০ হাজার ২শত ৫৮ টাকা। কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবুও উত্তোলন হয়েছে বরাদ্দের পুরো টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে,

চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে টিআর প্রকল্প-৫৩ টি, কাবিখা প্রকল্প-২৪টি এবং কাবিটা প্রকল্প-৪২টির কাজ চলমান রয়েছে।

এসকল প্রকল্পের কাজের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত অনেক প্রকল্পের কাজ আজও রয়েছে কাগজে কলমে।

এ বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মাজহানুর রহমান বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের সকল প্রকল্পের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হয়েছে।

ভোটমারী ৮ নং ওয়ার্ডের একটি এইচবিবি করণ পুর্বের করা কাজ দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনও করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ করা হবে। অপরদিকে মদাতী ইউনিয়নের পরিত্যাক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে পর পর দুইবার বরাদ্দ কিভাবে পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নাম পরিবর্তন করে বরাদ্দ অবশ্যই পেতে পারে তবে কাজ করেছে আবার করবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি, প্রকল্পের বিষয় আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে যেসকল প্রকল্পের কাজ হয়নি সেই সকল প্রকল্পের তথ্যগুলো দিলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।




তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দালালরাজ্য: প্রভাবশালী চক্রের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে সেবা নিতে এলে দালাল চক্রের মুখোমুখি না হয়ে কোনো কাজ করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো অফিসটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো দলিল নড়ে না, কোনো ফাইল এগোয় না। ফলে প্রকৃত সেবা প্রত্যাশীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাদের কোনো সরকারি পদ বা দায়িত্ব নেই, তারাও সাব রেজিস্ট্রারের এজলাসে প্রকাশ্যে বসে দলিল সম্পাদনের কাজে যুক্ত থাকে। সাব রেজিস্ট্রারের পাশেই দাঁড়িয়ে তারা দলিল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এবং নিজেদের প্রভাব দেখায়। এইভাবেই বছরের পর বছর ধরে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই চক্রের অন্যতম আলোচিত সদস্য হলেন আকিব এবং তার ভাই আওলাদ হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কারও বৈধ নিয়োগপত্র বা দায়িত্ব না থাকলেও তারা অফিসের ভেতরে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সাধারণ মানুষকে নানা কৌশলে আস্থায় নিয়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা। এরপর কাজের বিনিময়ে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে নেয়। কেউ রাজি না হলে ফাইল আটকে রাখার ভয় দেখানো হয়।

অভিযোগ আছে, তেজগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদেরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতাতেই এই দালাল চক্রটি এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাব রেজিস্ট্রার যতক্ষণ এজলাসে থাকেন, ততক্ষণ এই চক্রের সদস্যরা চারপাশ ঘিরে বসে থাকে। আগত সেবাগ্রহণকারীদের নজরে পড়তেই তারা কাছে টেনে নেয় এবং দ্রুত কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করে।

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে দলিল তৈরি, বালাম বইয়ে কাটাছেঁড়া, গুরুত্বপূর্ণ পাতা ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি নথি নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানা গেছে। তেজগাঁও ও মোহাম্মপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে তারা কার্যত নিজেদের অবৈধ বাণিজ্য কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও এই চক্র সব সময় নিজেদের অবস্থান ঠিক রেখে চলে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করে। অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ স্থানীয় কিছু পাঁতি নেতার পেছনে ব্যয় করে তারা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখে। এসব নেতাদের মাধ্যমেই সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সুযোগে সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদের রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দালাল চক্রটি অফিসটিকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছে। ফলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, বালাম বই ও নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হারিয়েও যাচ্ছে।

অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি। একাধিক সূত্র জানায়, তাকে এক সময় পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং কয়েক মাস জেলও খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, আওলাদ হোসেন এমন কোনো কাজ নেই যা করতে সে পিছপা হয়। অনেক সময় তার কথা না মানলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় তার পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। হাতিরঝিল, বাড্ডা ও টঙ্গীতে রয়েছে জমি ও বাড়ি। সুনামগঞ্জে তিন একর জায়গাজুড়ে মাছের ঘের আছে বলেও জানা গেছে। এসব সম্পদের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও তিনি সবই পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওলাদ হোসেন নিজেকে কারও তোয়াক্কা না করা একজন হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন। আইজিআর, জেলা রেজিস্ট্রার—কাউকেই তিনি গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাব রেজিস্ট্রার ছাড়া অন্য কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই। এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এজলাস কক্ষ দখল করে রাখাও এই চক্রের আরেকটি বড় অভিযোগ। সাধারণ সেবাগ্রহণকারীরা সেখানে দাঁড়ানোরও সুযোগ পান না। টেবিল-চেয়ার বসিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীরা জায়গা দখল করে রাখে। কে কতটা প্রভাবশালী, তার ওপর নির্ভর করে কে এজলাস কক্ষে বসতে পারবে। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদেরের উদাসীনতায় পুরো চক্রটি এখন আরও লাগামহীন হয়ে উঠেছে।




নওগাঁ এলজিইডিতে টেন্ডার নিয়ে ভয় ও চাপের অভিযোগ, কেন্দ্রবিন্দুতে প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান

এসএম বদরুল আলমঃ নওগাঁ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে টেন্ডার পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঠিকাদার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নওগাঁ এলজিইডিতে যোগদানের পর থেকেই টেন্ডার সংক্রান্ত প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ করা হলেও নানা অজুহাতে তাদের ফাইল আটকে রাখা হয়, বিল ছাড় দিতে অযথা দেরি করা হয় এবং কাজের মান নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলে মানসিক ও আর্থিক চাপে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব চাপের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, টেন্ডার পাওয়ার পর কিংবা কাজ চলমান অবস্থায় ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে কখনো কখনো ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অঘোষিত কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। কেউ কমিশনের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি তুললে তার কাজ বাতিলের হুমকি, ভবিষ্যতে টেন্ডার না পাওয়ার ভয় এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। এসব কারণে অনেক ঠিকাদার প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে তারা জানিয়েছেন।

এলজিইডি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ অনেক ঠিকাদার নিয়মিত কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা নওগাঁ জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বিভিন্ন সময় নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, গুণগত মান এবং জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, এলজিইডি সদর দপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে অভিযোগগুলোকে ভুয়া ও অসত্য বলে উড়িয়ে দেন।




খুলনা গণপূর্তে সাত বছরে গড়ে ওঠা নীরব দুর্নীতির বলয়: উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত জোনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র—এমনই অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রকৌশলী (এস্টিমেটর) মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যবহার করে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায়, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সাধারণত তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু মো: মিজানুর রহমান ব্যতিক্রমীভাবে টানা সাত বছর ধরে খুলনা গণপূর্ত জোনেই বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ও বিশেষ সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি বারবার বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ এগোনো কার্যত অসম্ভব।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান, মিজানুর রহমানের কক্ষে সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের ঢুকতেই দেওয়া হয় না। দেখা করতে চাইলে দুর্ব্যবহার করা হয়, ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এমনকি অফিসের ভেতরেও তার কক্ষকে ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে দেখা হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার আচরণে চরম বিরক্ত ও ভীত বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বালাই নেই—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা সুবিধা পায়। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নানা অজুহাতে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা বড় অঙ্কের কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিল আটকে রাখা হয় কিংবা কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ হলেও কোনো যাচাই ছাড়াই পূর্ণ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের অবকাঠামো জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের মানের সঙ্গে অনুমোদিত বিলের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগিয়েছেন। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের কথাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ বারবার ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তাহলে এতদিন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে—খুলনা গণপূর্তের এই দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র ভেঙে দিতে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে মো: মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এখন প্রশ্ন একটাই—খুলনা গণপূর্তের এই নীরব দুর্নীতির দেয়াল কি আরও কিছুদিন অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়ে টিকে থাকবে, নাকি সত্যিই এবার শুরু হবে জবাবদিহির কঠোর অধ্যায়?