অভিযোগের পাহাড়ে ডুবলেন ইউপি সদস্য রুপালী খাতুন, মন্ত্রণালয়ের আদেশে বরখাস্ত

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালী খাতুনকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে মারধর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো, এমনকি ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১০ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে রুপালী খাতুনকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে আদেশটি কার্যকর করার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ৪৬.০০.৮১০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৪.২৫-৮৮৫/১(৭) নং স্মারকে চিঠি পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর রুপালী খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন–এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা, বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে-বেনামে বানানো অভিযোগ দেওয়া এবং ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ কাজে বাধা সৃষ্টি করার মতো ঘটনা একাধিকবার ঘটান। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পায় এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন–২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, রুপালী খাতুনের কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব, আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্র মতে, অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়কার প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছিলেন। ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তিনি নতুন এক প্রভাবশালী নেতার ছায়ায় থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মারধর, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ অসংখ্য অভিযোগ জমতে থাকে। গ্রামবাসীর দাবি, কারা তাকে এত ক্ষমতা দিয়েছে এবং কারা তাকে উসকানি দিচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বরখাস্তের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা রুপালীর পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন সংবাদটি নিশ্চিত করেন।




টাঙ্গাইলে বহুতল ভবন নিয়ে জমির মালিকানা বিতর্ক ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার পাশের প্রায় এক একর ৫২ শতাংশ জায়গায় ২০১৫ সালে ‘বিবর্তন’ নামে একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করে জেলা পরিষদ। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রকল্পটির উদ্যোগ নেন।

কিন্তু এই জমির বড় অংশ—প্রায় ৭৫ শতাংশ—গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অভিযোগ, তাদের জায়গা দখল করেই জেলা পরিষদ বিশাল ভবনটি নির্মাণ করেছে। বারবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তখনকার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক তা মানেননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, ভবনে যেই জমি দখল হয়েছে তার মূল্য ৩০ কোটি টাকারও বেশি। তারা এই জায়গার অধিকার ছাড়বেন না। ভবিষ্যতে এই ভবন গণপূর্তের অধীনে নিতে হবে অথবা পুরো নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয় যদি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকতে পারে।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না জানান, গণপূর্তের দাবি কতটা সঠিক, তা আগে যাচাই করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।

এদিকে ভবনটি নির্মাণের সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ আরও পরিস্থিতি জটিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে—গণপূর্তের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দোকান বরাদ্দ নেওয়া প্রায় আড়াইশ ব্যবসায়ী। তারা ১০ বছর আগে টাকা জমা দিয়ে দোকান ইজারা নিলেও এখনো কাউকে দোকানের পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনটি আদৌ শেষ হবে কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধ, অন্যদিকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।




ওবায়দুল কাদেরের পরিচয়দাতা আসাদুজ্জামান হিরুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নামল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ পরিচয়ে চলাফেরা করা আসাদুজ্জামান ওরফে হিরুর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক জানায়, হিরুর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চোরাচালান, হুন্ডি ব্যবসা, শুল্ক ফাঁকি, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বর্তমানে আসাদুজ্জামান হিরু ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের (এনডিই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি। শুধু তাই নয়—প্যারাগন, লন্ডন টাচ, প্যারিস গ্রুপ ও ওয়েস্ট ফিল্ড নামের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক। দুদকের ধারণা, এসব ব্যবসার আড়ালেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হিরু এবং তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ট্যাক্স জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে। তদন্তের জন্য দুদক দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে—দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপ-সহকারী পরিচালক আবু তালহা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসাদুজ্জামান হিরুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক হত্যা মামলায় তাকেও অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, হিরু নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ওবায়দুল কাদেরের ‘পালিত পুত্র’ বলে পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা নিতেন এবং এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই তিনি বড় ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান এখন সেই সমস্ত অভিযোগ যাচাই করে দেখবে—ঠিক কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে এবং কার সহায়তায় তিনি এত বড় অঙ্কের সম্পদ সংগ্রহ করেছেন।




মিরপুরে লাজফার্মার ভুল ওষুধে জীবন-মৃত্যুর লড়াই রিনার; প্রতিশ্রুতি ভেঙে উল্টো পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে লাজফার্মার অবহেলার কারণে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন কামাল হাউজিংয়ের বাসিন্দা খালেদা আক্তার রিনা (৪৫)। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা Methoflex 500 mg-এর পরিবর্তে ফার্মেসি থেকে তাকে তুলে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ও অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি-জাতীয় ওষুধ Methotrexate 10 mg—এক পুরো পাতায় মোট ১০টি ট্যাবলেট। ভুল ওষুধ সেবনের পর থেকেই রিনার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাথা ও ভ্রুর চুল পড়ে যেতে শুরু করে।

২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মিরপুরের রাইনখোলা মোড়ে শাহ আলী থানার কাছাকাছি লাজফার্মা থেকে ওষুধ কেনেন রিনা। শরীর খারাপ হতে থাকলে প্রথমে তাকে ১ নভেম্বর মিরপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত ধানমন্ডীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

রিনা আইসিইউতে থাকা অবস্থায় লাজফার্মার ম্যানেজার মো. ওবায়দুল কয়েকবার হাসপাতালে যান। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষায় তিনি পরিবারকে বলেন যে চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় লাজফার্মা বহন করবে। শুরুতে তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সাহায্যও দেন। কিন্তু ৫ নভেম্বর রিনাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়ার পর তাদের আচরণ পুরোপুরি বদলে যায়।

১১ নভেম্বর রিনার পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে কথা বলতে লাজফার্মায় গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল এবং পরিচালক বেলালের ভাই জিলাল তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি দেন এবং আর কোনো খরচ বহন করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর পরিচালক আকবর ও বেলাল চার লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দেন।

১২ নভেম্বর ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপারের অফিসে রিনার পরিবার ও লাজফার্মা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাদা কাগজে লিখিত সমঝোতাও হয়—সেখানে চার লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই টাকা দেয়নি তারা। বরং লাজফার্মার ম্যানেজার ওবায়দুল উল্টো রিনার পরিবারের বিরুদ্ধে “চাঁদাবাজি” অভিযোগে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার তদন্ত করছেন এসআই রুবেল।

স্থানীয়দের দাবি, রাইনখোলা মোড়ের লাভজনক এই লাজফার্মার সাইনবোর্ডটি কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ–সম্পৃক্ত নেতার কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ফলে মাসে লাখ টাকার বেশি মালিক লুৎফর রহমানকে দিতে হয়—যার কারণে ওষুধের মান, ভোক্তার নিরাপত্তা বা নৈতিকতার চেয়ে এখন মুনাফাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এমনকি আগে লাজফার্মার অন্য একটি শাখায় নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও হয়েছিল।

গ্রাহকদের অভিযোগ—লাজফার্মার অনেক কর্মীই নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন, ভুল ওষুধ দেন এবং নানা প্রতারণা করেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা আক্তার রিনা এখনো গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার বলছে—লাজফার্মার অবহেলা, ভুল ওষুধ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই রিনার জীবন আজ ঝুঁকির মধ্যে।




কাশিমপুরে সেনাবাহিনীর টানা অভিযানে ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার আটক দুই কারবারি থানায় হস্তান্তর

জুলফিকার আলী জুয়েলঃ গাজীপুরের কাশিমপুরে সেনাবাহিনীর টহল টিমের তথ্যভিত্তিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) গভীর রাতে মৌচাক আর্মি ক্যাম্পের একটি টহলদল এনায়েতপুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক ব্যক্তিকে আটক করার মধ্য দিয়ে অভিযানটির সূত্রপাত হয়।

টহল টিমের একজন সদস্য জানান, রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচয় দেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু ডিলারের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহের কথা স্বীকার করে তিনি তাদের পরিচয়, অবস্থান ও মাদক লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। এ তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী।

প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় এলাকার কুখ্যাত ইয়াবা সরবরাহকারী আরিফ হোসেন ওরফে কসাই আরিফের আস্থায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ রুবেল আলম (৪০)–কে ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশিতে ৫,৯৯৬ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে রুবেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে আরেকটি অভিযানে আটক করা হয় মোঃ রাজু আহমেদ (৩২)–কে। তার কাছ থেকেও ২,৩০৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে মোট ৮,৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে টহল টিম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এনায়েতপুর–কাশিমপুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বেগে ছিলেন। সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযান এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে জানান একাধিক বাসিন্দা।

মৌচাক আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকবিরোধী এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ আসাদ। আটক দুই ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য কাশিমপুর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “মাদকচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করা সম্ভব।

এদিকে কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।




ইসিবি চত্বরে জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে নাজিমুদ্দিনকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন ইসিবি চত্বরে জমি ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠান নিউ গিনি প্রপার্টিজকে ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্রেতা থেকে শুরু করে জমির মালিক—অনেকেই বলছেন, জমি দখল, প্লট আটকে রাখা, প্রতারণা, অতিরিক্ত টাকার দাবি, এমনকি ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, যারা জীবনের সঞ্চয় লাগিয়ে নিরাপদ একটি জায়গা করতে চেয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেউ ৫০ লাখ, কেউ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দিলেও এখনো কোনো প্লট পাননি। অনেকে আবার টাকা দেওয়ার পরও কোনো কাগজপত্র পর্যন্ত হাতে পাননি। টাকা ফেরত চাইলে নাজিমুদ্দিনের লোকজন নাকি মামলা করার ভয় দেখায়। ভুক্তভোগী আমির বলেন, “শেষ সম্বল দিয়ে জমি কিনলাম, আর আজ আমাদেরই ভয় দেখাচ্ছে।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে হোসেন মোস্তফা বলেন, “প্লট দেখায়ে টাকা নিলো। অপেক্ষা করতে বললো। দুই বছর হলো—প্লট নাই, টাকা নাই, বরং উল্টো ভয় দেখায়।”

জমির মালিক মুকুল ও সিরাজ জানান, তাদের জমি নাজিমুদ্দিন টাকা পরিশোধ না করেই দখল করে রেখেছেন। দাবি করলে নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আরেকটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তার ৩৫ কাঠা জমির চারপাশে টিনের বাউন্ডারি তুলে দিয়েছেন নাজিমুদ্দিনের লোকজন, এমনকি জমিতে প্রবেশের পথটাও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “এলাকায় একটি চক্র সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি দেওয়া হয়।”

এ ছাড়া ক্রেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, আশপাশের ব্লকের কাজ পর্যন্ত নাজিমুদ্দিন জোর করে বন্ধ করে দেন। স্কয়ারফুটের রেট ২২০০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও ২৫০০ টাকা না দিলে নাকি কাজই করা যায় না। অনেকেই দাবি করেছেন, টাকা নেওয়ার পর তাদের প্লট অন্য আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, আর টাকা ফেরত চাইলে মামলা ঠুকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, জীবনের পরিশ্রমের অর্থ দিয়ে অবসরে শান্তিতে থাকার জন্য জমি কিনেছিলেন। এখন উল্টো হুমকি আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন এবং নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




কক্সবাজারে এলজিইডি প্রকৌশলী মামুন খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম–হুমকি–তদবিরের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকেই এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খানকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, মামুন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় ফ্ল্যাট, পটুয়াখালীতে আধুনিক বাড়ি, ধানি জমি, ঢাকার অদূরে বাগানবাড়ি আর দামি গাড়ি—সব মিলিয়ে তার বিত্তবৈভব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩–২৪ অর্থবছরের সম্পন্ন ও চলমান কাজের বিস্তারিত তথ্য চাইলে মামুন খান সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন সেনা সদস্যের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরে গুলিস্তান আর্মি ক্যাম্পের কর্নেল আফজালুর রহমান পরিচয়ে একটি দলের সদস্যরা এসে এক পত্রিকার রিপোর্টার এম শাহীন আলমকে খুঁজে হয়রানি করেন। পত্রিকার সম্পাদক জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে মোবাইলে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, অথচ কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে জানানো উচিত ছিল। তার দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান নিজের অনিয়ম ঢাকতেই সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উন্নয়নকাজে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার ইউনিব্লক বসানোর কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের ইটের কণা ও সাগরের বালু মিশিয়ে তৈরি ব্লক বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকৌশলী মামুন খান নিম্নমানের কাজ করিয়ে অর্থ লুটপাট করেছেন এবং প্রকৃত কাজের তুলনায় অধিকাংশ অর্থ ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে। কাজের গরমিল ধামাচাপা দিতে এখন নানা অজুহাত খোঁজা হচ্ছে।

উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া—সব জায়গায়ই রাস্তা, ছোট সেতু, কালভার্ট ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উখিয়ায় রাস্তার তিন লেয়ারের বদলে দুই লেয়ার কাজ করেই ঠিকাদাররা বিল পেয়েছেন, যার পেছনে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া মামুন খান নিয়ম ভেঙে বারবার কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন—মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে কীভাবে সপ্তাহে কয়েকবার বিমান ভ্রমণ সম্ভব? কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজেই এসব যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সকল কাজ বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন এবং সরেজমিনে গেলে প্রকৃত অবস্থা দেখা যাবে। অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মনগড়া বলে দাবি করেন।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, সম্প্রতি মামুন খানকে বদলি করে প্রধান কার্যালয়ে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেখানে তার নিজস্ব কোনো চেয়ার–টেবিলও নেই। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতাশালী মহলের মাধ্যমে নিজের পছন্দের স্থানে বদলি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।




ডিড প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিমন্ত্রী পলক জেলে, আর পিডি বালিগুর রহমান উচ্চপদে বহাল!

এসএম বদরুল আলমঃ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য (যুগ্ম সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে, একই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

বালিগুর রহমান ১৫তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও স্টেশনের স্টেশন প্রকৌশলী, মনিটরিং পরিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে—তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের তদবিরে তিনি ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ কোটা থেকে উপসচিব পদে উন্নীত হন। বালিগুর ও পলকের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে; অভিযোগ রয়েছে এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বারবার পদায়িত হন এবং নিয়মকানুন অমান্য করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেন।

উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বেশিরভাগ সময় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বগুড়ার পরিচিত মহলের তদবিরে তিনি আরও একটি পদোন্নতি অর্জন করেন। অথচ একই সময়ে তার প্রত্যক্ষ বস ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও বালিগুর রহমান দিব্যি যুগ্ম সচিব হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যেখানে তাকে অনেকেই ‘সুপার পাওয়ার’ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অনেক বড়। আইসিটি মন্ত্রণালয় ও “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিড প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, আর প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে সেই অর্থের টেন্ডার, বাজেট ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অনেকেই বলেন, প্রতিমন্ত্রী পলক ও তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বালিগুর রহমান কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করতেন না। সুযোগ পেলেই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া এবং দেশে–বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তে জানা গেছে, পলক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বালিগুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্প থেকে নিয়মিতই ৫% কমিশন আদায় করতেন, যা পরিচালিত হতো তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বালিগুর নিজেই, এবং ডিড প্রকল্পেও সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বালিগুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে “৫% কমিশন” নিতেন। বিদেশে টাকা পাচার ও ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিথ্যা।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বালিগুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমলেও, পলকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে বর্ণনা করেছেন একজন সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসর হিসেবে।

ডিড প্রকল্পে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বাজেটের অর্থ স্থানান্তর, প্রকল্পের অর্থ ব্যয় না করেও বিল উত্তোলন, এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়—৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার ১২ জেলায় আইটি ও হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণেও আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ৫৩৩ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, ৪৩১ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি–২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, এবং ৩৫৩ কোটি টাকার ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের অসংগতি পাওয়া গেছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ–ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ১৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রকল্পেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই সমস্ত প্রকল্পের ফাইল জব্দ করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও, একই প্রকল্পের আরেক কেন্দ্রীয় ব্যক্তি—ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড) প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান—এখনও উচ্চপদে বহাল। বরং তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে আরও আকর্ষণীয় পদ—বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য—হিসেবে নিয়োগ পান।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক কেনাকাটা ই-জিপির মাধ্যমে না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করেন, যাতে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা সুবিধা পায় এবং তিনি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঠিকাদারদের ওপর তদন্ত কমিটি, মন্ত্রণালয় অথবা দুদকের নাম দেখিয়ে ভয় দেখাতেন—এভাবেই হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পিডি আবুল বাশার এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিবের সাথে বালিগুর রহমান মিলেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অডিট ও এজি অফিসের নামে ৪% করে টাকা তুলতেন। কিন্তু ঠিকাদাররা যখন সরাসরি এসব দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তারা জানতে পারেন—সেসব অফিসে এমন কোনো অর্থ যায়নি। অর্থাৎ এই তিনজনের সিন্ডিকেটই পুরো টাকাটা ভাগ করে নিত। এমনকি শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা টাকা (পিজি) বা এজি অফিসের কর্তনকৃত ১০% ফেরত পেতে চাইলে, ওই অর্থের অর্ধেক দাবি করা হতো। বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আটকে রেখে ঘুষ আদায় ছিল সিন্ডিকেটের নিয়মকৃত পদ্ধতি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—যেসব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারতেন, তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে হয়রানি করা হতো। প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরও পদায়ন ও স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়ানক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হয়, পিডি আবুল বাশার ও সহকারী পরিচালক শাহাদাত জনপ্রতি প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। টাকা না দিতে পারলে মাত্র তিন ঘণ্টার নোটিশে তাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হতো। একইভাবে বালিগুর রহমান ও শাহাদাত মিলে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পোস্টিংয়ের বদলে বারবার মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।

এত অভিযোগের পরও বালিগুর রহমানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে আরও উচ্চপদে, বিসিএসআইআরে সদস্য হিসেবে পদায়ন করা প্রশাসনে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক যখন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে, তখন একই প্রকল্পের মূল ব্যক্তি বালিগুর রহমান কীভাবে এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতাধর অবস্থানে থাকতে পারেন?

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়, ঢাকায় আমার এক ছটাক জমিও নেই।” তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, রাজশাহী ও বগুড়ায়ও তার নামে-বেনামে জমি ও সম্পত্তি আছে। অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদেশেও তিনি অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানকারীরা বলছেন—বালিগুর রহমান যে প্রকল্পগুলোতে ২০১৮ সাল থেকে যুক্ত ছিলেন, সেসব ফাইল দুদক গভীরভাবে পরীক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তৃত প্রমাণ পাওয়া যাবে—এটা নিশ্চিত।




ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।

ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।

ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।




বুড়িচং পিআরও জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুড়িচং উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআরও) জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—২০২৪–২৫ অর্থবছর ও চলতি বাজেটের বেশ কিছু প্রকল্পে তিনি তথ্য গোপন করেছেন এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জানান—নানা প্রকল্পের তালিকা এবং ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি তাঁর পরিচিত একজন গণমাধ্যম কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি তথ্যের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যখন তথ্যই দেন না, তখন সেটা কি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯–এর লঙ্ঘন নয়?

উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদারসহ কিছু জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন—প্রকল্প অনুমোদন, বিল–ভাউচার ছাড়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত কমিশন নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি, তবে স্থানীয়রা মনে করছেন—যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে—সরকার মানুষের কল্যাণে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে বাজেট দেয়, তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে উন্নয়ন থেমে যায়। তাই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ওঠা সত্যিই হতাশার।

এদিকে জোবায়ের হাসানের নামে বেনামে সম্পদ গড়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করছে। তাদের মতে, এসব তথ্য প্রকাশ হলে অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ, ঠিকাদার, সাংবাদিক—সবার একই দাবি: অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সৎ, স্বচ্ছ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে।