ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চব্বিশের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় তাদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে গত বছরের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঘটনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন রাজসাক্ষী আবজালুল। 

যদিও মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না। তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে জানতে পারেন লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎকে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ী করেন তিনি। একইসঙ্গে ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন বলে জানান তিনি। সবশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চান। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একইসঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে হয়নি। যদিও আসামিদের হাজির করা হয়। ১২ নভেম্বরও একই কারণে সাক্ষীকে হাজির করেনি প্রসিকিউশন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার হোসেন সজিব। তার সামনেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এমনকি তার বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। পরে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুলিবিদ্ধ হওয়া ভুক্তভোগী সানি মৃধা। ২১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশের গুলিতে নিজে আহত হওয়ার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার নির্মমতার দৃশ্যের বিবরণ দেন। ২৯ অক্টোবর জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. আশরাফুল হাসান। তিনি একই থানার ওসির নির্দেশে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাইফেলের ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন। পরে থানায় জমা দেন এ আলামত।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। এর আগের দিন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামি হলেন-  ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।




গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা: নতুন দায়িত্বের জন্য তদবির ও অভিযোগের ছায়া

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামছুদ্দোহা বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিতে তদবির চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। চাকরিজীবন জুড়ে নানা বিতর্কে জড়িত এই কর্মকর্তা সরকারি প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও অনুমোদনে শত কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শামছুদ্দোহা প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরে বুয়েটের হল শাখা ছাত্র লীগের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পদে বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা ছাড়ার পর তিনি রমনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, এবং সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ময়মনসিংহে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ জোনের সরকারি প্রকল্পের বড় অংকের টাকা বন্টনে প্রভাব বিস্তার করেন।

ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এপিপি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ও অনুমোদনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জোনের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে শামছুদ্দোহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে নিয়োগ পেতে তিনি নানা তদবির চালাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের সংস্থান ও সমন্বয় শাখার দায়িত্বে থাকায় তিনি বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের সহযোগিতায় ঢাকা জোনের পদে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এই সময়ে সম্পদ বিভাগের একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত সিন্ডিকেটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

শামছুদ্দোহার নাম-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তিনি বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক এবং বারিধারায় ফ্ল্যাট মালিক। জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে একটি রিসোর্ট নির্মাণের জন্য দশ একর জমি ক্রয় করছেন।




পিরোজপুরে ষাট হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ ১৬/১১/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ দুপুর ১৩:৩৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার পিরোজপুর জনাব খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসেরের সার্বিক দিক নির্দেশনা অনুসারে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুল ইসলাম ও এসআই (নিরস্ত্র)/মোঃ শহিদুল ইসলাম নেতৃত্বে সংগীয় অফিসার ফোর্স কর্তৃক একটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে মাদকবিরোধী বিশেষ তৎপরতার অংশ হিসেবে পিরোজপুর সদর থানাধীন ৫নং ওয়াড কপুড়িয়া পট্টি, আলহামদুলিল্লাহ মার্কেট এর ৫ম তলা ভবনের ৪র্থ তলায় আসামী মোঃ মিজানুর জামান (৪৮) এর শয়ন কক্ষে ওয়াড্রবের মধ্যে ০১টি কাপুরের ব্যাগের মধ্যে ০১টি নীল রংয়ের জিপারে ২০০ পিস করে, (২০০x৩০০)=৬০,০০০ (ষাট হাজার) পিস কথিত নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট’সহ ০১ (এক) জন মাদক পেশাদার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ মিজানুর জামান (৪৮), পিতা-মৃত নুরুজ্জামান ফকির, মাতা-মৃত মোসাঃ মেহেরুন নেছা, স্থায়ী ঠিকানাঃ-সাং-মধ্য টেংরাখালী, ইউপি-টেংরাখালী, থানা-কচুয়া, জেলা-বাগেরহাট, এ/পি-আলহামদুলিল্লাহ মার্কেট, ৪র্থ তলা, কাপুড়িয়াপট্টি, ৫নং ওয়ার্ড, পিরোজপুর পৌরসভা, থানা ও জেলা-পিরোজপুর বলে জানায়। (জাতীয়পরিচয় পত্র অনুযায়ী ঠিকানাঃ-বড় কুমিরা, জেবল হোছেন চৌকিদার বাড়ী, পোষ্ট-কুমিরা, থানা-সীতাকুন্ড, জেলা-চট্টগ্রাম।
মাদক নির্মূলে পিরোজপুর জেলা পুলিশ বরাবরের মতোই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



গণপূর্ত প্রকৌশলী লতিফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ, একাধিক মামলা চললেও দায়িত্বে বহাল

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর-১ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ঘুরছে। সরকারি দায়িত্বে থেকে তিনি নাকি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, আর এসবই সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও আশ্রয়ের কারণে—এমন মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলন দমাতে লতিফুল ইসলাম নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন—আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে মাঠে প্রয়োজনীয় রসদ পর্যন্ত। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া সি.আর. মামলা নং ৬৩/২৫ এবং এফআইআর নং ০৬ (তারিখ: ০৩ মার্চ ২০২৫)–এ তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

গণপূর্তের ভেতরের লোকজন জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে অস্বাভাবিক দর নির্ধারণ, ঘুষ নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর নিয়মিত কৌশল। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, সংসদ ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনার কাজ তাঁর সময়েই নানা অনিয়মে ভরপুর ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অধস্তন প্রকৌশলীদের অনেক সময় জোর করে তাঁর ইচ্ছামতো প্রাক্কলনে স্বাক্ষর করতে হতো বলেও জানা যায়।

খুলনায় দায়িত্ব পালন করার সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘুষ আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন অভয়-আশ্রয়ে। সহকর্মীরা বলেন, প্রকল্পে ১৫% কমিশন দাবি করতেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে নাকি অফিসে ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল—“মিস্টার ১৫”।

বর্তমান পরিস্থিতিও কম নাটকীয় নয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এখন আবার বিএনপিপন্থী নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পদোন্নতির আশায় নানান দপ্তরে সক্রিয় তদবিরও করছেন তিনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লতিফুল ইসলাম সবসময়ই প্রশাসনিক নিরাপত্তা পেয়ে এসেছেন। হত্যা থেকে শুরু করে দুর্নীতির মতো একাধিক মামলা চলমান থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুদক জানিয়েছে, লতিফুল ইসলামসহ গণপূর্তের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকার পরও তাঁদের কেউই দায়িত্ব থেকে সরেননি, যা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে লতিফুল ইসলামের সাথে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




গাজার ঐতিহাসিক প্রাসাদ ধ্বংস, ওসমানীয় আমলের বিরল প্রত্নবস্তু লুট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বহু শতাব্দীর ইতিহাস ধ্বংস হয়ে গেছে। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে এই আগ্রাসন শুরু হলেও, ইসরায়েলি হামলা থেকে রক্ষা পায়নি গাজার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও। এর ফলে দুই বছরের এই যুদ্ধে গাজা থেকে হারিয়ে গেছে বা লুট হয়ে গেছে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে ওসমানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি বিরল প্রত্নবস্তু।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতে সোমবার বার্তাসংস্থাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফিলিস্তিনিদের পরিচয় মুছে ফেলতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় প্রত্নস্থলগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ‘৩১৬টির বেশি’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভবন পুরোপুরি কিংবা আংশিক ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস হওয়া এই স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই মামলুক ও ওসমানীয় আমলের, বাকিগুলো প্রাথমিক ইসলামি যুগ ও বাইজেন্টাইন আমলের। এই ধ্বংসযজ্ঞে বাদ যায়নি মামলুক আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ কাসর আল-বাশাও।

ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেরও পুরোনো। অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে সেন্টার ফর কালচারাল হেরিটেজ প্রিজারভেশনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার জানান, গাজার পুরোনো শহরের আল-দারাজ এলাকায় অবস্থিত এই প্রাসাদের ৭০ শতাংশ অংশ ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

থাওয়াবতে বলেন, গাজার ঐতিহ্যের ওপর হামলা চালিয়ে এটা শুধু ধ্বংসই করা হয়নি— এটি ছিল সংগঠিত লুটপাট। আন্তর্জাতিক আইনে যা অপরাধ এবং বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত। তিনি জানান, প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে ওসমানীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে। এসব প্রত্নবস্তু স্থানীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল।

দাহদারও নিশ্চিত করেছেন যে, ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর হাজারো বিরল প্রত্নবস্তু উধাও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রত্নবস্তুই ছিল ইতিহাসের অংশ… এসব লুটপাট জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এটি মানবজাতির সমষ্টিগত ঐতিহ্যের ওপর এক গুরুতর অপরাধ।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা দখল করে এবং ১৯৯৪ সালে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধেও প্রাসাদটি আবার ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের শিকার হয়। একই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




নোয়াখালীতে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক দুটি পৃথক মামলা করেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী ও সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। অভিযুক্ত আলমগীর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার গোমদন্ডী এলাকার নুর উল্লার ছেলে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আলমগীর সেনবাগ শাখায় দুই দফা চাকরির সময়—২০১৫ থেকে ২০২০ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত—মোট ৮৯টি ভুয়া ঋণ বিতরণের কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নিজের কাজে লাগান। এসব ঋণ বাস্তবে কখনোই গ্রহীতাদের কাছে যায়নি।

এছাড়া তিনি নোয়াখালী শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায়—২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত—আরও তিনজন ভুয়া ঋণগ্রহীতার নাম ব্যবহার করে টাকা তুলেন। এই সময়ে তিনি অন্তত ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রাথমিকভাবে মোট প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর দুদক তদন্ত করে দুইটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।




৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে মোট ৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব, এলসি এবং বিভিন্ন নথি যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। তদন্তে দেখা যায়, বিদেশ থেকে আমদানির নামে প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা এনেছে। কিন্তু একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ—৬৭৮ কোটি টাকার বেশি—স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। এতে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে এসব স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছিল।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক পরিচয়ে দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যবসা করলেও বাস্তবে তিনি এই ব্যবসার আড়ালে পাচার ও চোরাচালান করছিলেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা বৈধ পণ্যের মূল্য ছিল মাত্র ৩৮ কোটি টাকার মতো। অথচ স্থানীয় বাজার থেকে আগ্রহজনক উপায়ে সংগ্রহ করা পণ্যের মূল্য ছিল ৬৭৮ কোটি টাকার বেশি—যা উৎসহীন অর্থ ছাড়া সম্ভব নয়।

এই উৎসহীন বিপুল অর্থের লেনদেন ও চোরাচালানের প্রমাণ মিললেও কোনো বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর সিআইডি রিপোর্ট জমা দেয় এবং গত ১৭ নভেম্বর দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানিলন্ডারিং মামলা রুজু করা হয়।

সিআইডি জানায়, গুলশান থানায় এই মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তারাই পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে। এখন প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।




মুজিবনগর সেচ প্রকল্পে ২৪৮ কোটি টাকার অনিয়মের চিত্র ফাঁস, দুদকে তলব ১৯ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নকারী ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে’ বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পটির কাজ কাগজে-কলমে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রায় কিছুই পাওয়া যায়নি। মোট ২৪৮ কোটি টাকার এই পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ঠিকাদারি নিয়োগ থেকে শুরু করে বিল-ভাউচার তৈরি, কাজের মান, কৃষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে দুদক।

২০২০–২১ অর্থবছরে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এলাকার কৃষিজমিতে উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। লক্ষ্য ছিল বছরে বাড়তি ৫১ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—কাগজে অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ হয়নি। স্থানীয় কৃষক এবং সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে দিয়ে ঠিকাদারি কাজ করিয়ে প্রকল্প পরিচালক এবং কিছু প্রকৌশলী মিলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এই দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহবুব উল আলম হানিফের নামও উঠে এসেছে। ঠিকাদার নিয়োগে তার প্রভাব বিস্তারের কথাও দুদকের নথিতে এসেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত শুরুর পর প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধান টিম মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলের মোট ১৯ জন কর্মকর্তাকে আলাদা দিনে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

২৫ নভেম্বর তলব করা হয়েছে সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলী, হাফিজ ফারুক এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম, আদনান আল বাচ্চু, আসিফ মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে।
২৬ নভেম্বর যেতে হবে খালেদা ইয়াসমিন, দিদার-ই-খোদা, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হালিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হুমায়ুন কবিরকে।
আর ২৭ নভেম্বর হাজির হবেন শাহজালাল আবেদীন, মাযহারুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ, লিমন হোসেন, ইকরামুল হক, শ্যামল হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রতি সেচ প্লান্ট স্থাপনে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগেও মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ আছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, কাজ না করেই ভুয়া বিল তোলা হয়েছে এবং সেই অর্থ থেকে ৪০ শতাংশ নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক, বাকিটুকু পেয়েছে ঠিকাদারি পক্ষ।

প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রাখা হয়নি বলেও জানায় দুদক। এমনকি ঠিকাদারদের বিল ছাড় করতে সহকারী প্রকৌশলী, সাইট অফিসার ও হিসাব সহকারী পর্যন্ত নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন চাইতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় বিএডিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে দেখা যায়—১৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের কাগজপত্র দেখানো হলেও মাঠে কাজের কোনো বাস্তব চিহ্ন নেই। দুদকের কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দুদক।

এ বিষয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন খান ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এস সাঈদের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দেননি। অন্যদিকে স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন—দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের অবশিষ্ট ৫৬ কোটি টাকার কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করার।




বিসিএস প্রশাসন সমবায় সমিতির সাবেক কর্মকর্তা জাহিদুলের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বহিষ্কৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অফিস সহায়ক হিসেবে যোগ দেওয়া জাহিদুল পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হন এবং সমিতির সব ধরনের আর্থিক নথি ও ব্যাংক হিসাবের দায়িত্ব পান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সদস্যদের জমা দেওয়া কিস্তির পে-অর্ডারের টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সোনালী ব্যাংক, রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স শাখায় “প্রকল্প পরিচালক, বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড” নামে খোলা একটি হিসাবেই জমা দিতেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিল ও জুলাই মাসে প্লট রেজিস্ট্রেশনের ভ্যাট–করসহ অন্যান্য খাতে সদস্যরা যে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেন, তার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

দুদকের তথ্যে আরও উঠে এসেছে, মাসে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তা স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ও তার পরিবারের নামে কুড়িগ্রামের মোগলবাসা ইউনিয়নের মালভাঙ্গা এলাকায় প্রায় এক একর জমি, ঢাকার বড় কাঁঠালদিয়ায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকার জমি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ফ্ল্যাটসহ একাধিক গাড়ির খোঁজ মিলেছে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিআইএএম ভবনে সমিতির অফিসে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যায় এবং পিয়ন আব্দুল মালেক ও ড্রাইভার ফারুক হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনার পর হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলায় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়েছে।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক তদন্ত চলছে, আর জাহিদুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে দুদক আরও গভীরভাবে যাচাই–বাছাই করছে।




খন্দকার মুশতাকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপকর্মের অভিযোগ—রাজনীতি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র প্রভাব বিস্তার!

এসএম বদরুল আলমঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবুহেনা মোরশেদ জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার আরও শক্তিশালী করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। তাকে “ফ্যাসিবাদ-ঘেঁষা চক্রের দোসর” বলেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, দীর্ঘসময় ধরে তিনি সরকারি প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নিজেকে ক্ষমতাধর অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘প্রশাসনিক সুবিধা’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-যুব সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা আছে। মতিঝিলে অবস্থিত একটি সুপরিচিত স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডিতে থাকা অবস্থায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন বলে দাবি ওঠে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—শতাধিক শিশু ও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা, এমনকি অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও মুশতাককে দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে তিনি এক রাজনৈতিক দলের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, ঢাকায় দীর্ঘ সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সংবাদে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের চারপাশে একটি চক্র তৈরি করেন—যারা সহিংসতা, প্রতারণা, নির্বাচনী কারচুপি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমকে একটি বৃহত্তর “নাশকতার পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থাকা একদল প্রভাবশালীর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সামগ্রিকভাবে, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন প্রভাবিত করা, শিশু-নারী নির্যাতন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণা। এসব অভিযোগ যাচাই ও আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।