রাজউক জোন-৫/১ এ মোবাইল কোর্টে অনিয়মের অভিযোগ, ইমারত পরিদর্শক মেহরাব ও অথোরাইজড সাইদার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর জোন-৫/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, দায়সারা অভিযান এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ মেহরাব হোসেন। একই সঙ্গে এই অনিয়মে অথোরাইজড সাইদা ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের নির্ধারিত আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং মোবাইল কোর্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে লোক দেখানো অভিযান। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা, ভবন ভাঙার নির্দেশ বা মামলা করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বা অন্যান্য মিটার খুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী সরঞ্জাম অপসারণের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এসব অভিযান মূলত আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ভবন মালিকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।

একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ভবন মালিকের সঙ্গে মেহরাব হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। ওইসব স্থানে অভিযান হয় শুধুই আনুষ্ঠানিকতার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নরম অবস্থান নেওয়া হয়। অভিযোগ করলে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

মোহাম্মদপুরের সিমেক্স প্রপার্টিজের চানমিয়া হাউজিং এর এক ভবন মালিক লিখিত ও মৌখিকভাবে সরাসরি ইমারত পরিদর্শক মেহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনে বাধ্য করা হয় এবং অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভবন মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাসার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেওয়া হলে এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করতে, অথোরাইজড সাইদা ইসলামের দিকে ইঙ্গিত করেন মেহরাব হোসেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এইসব অভিযোগ/ কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত নয় সবকিছুই ভিত্তিহীন এবং “অথোরাইজড সাইদা ইসলাম সবকিছুই জানে তার কথাতেই সবকিছু হয়।” তবে এ বিষয়ে সাইদা ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হয় কিন্তু তিনি কোন ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ রয়েছে, মেহরাব হোসেন ও সাইদা ইসলাম সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় গাফিলতি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ভবন বা স্থাপনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না, ফলে অবৈধ নির্মাণ নির্বিঘ্নে চলতে থাকে। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণে নীরব সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোন-৫/১ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বেড়েই চলেছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনিয়মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে- কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অবৈধ নির্মাণ থামানোর বদলে এগুলো আরও বাড়ছে।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজউকের মোবাইল কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গাফিলতি থেকে গেলে তা পুরো নগর ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতে নগর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ রোধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ নতুন নয়। জোন-৫/১ এলাকায় সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।




সরকার পাল্টেছে, ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক রয়ে গেছে: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ঠিকাদারি বাণিজ্য ঘিরে ভিন্ন এক চিত্রের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—বিগত আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে তারা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, সাভার ডেইরি ফার্ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে একচেটিয়া ব্যবসা করত, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন পরিচয় : একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প—ছাগল উন্নয়ন প্রকল্প, প্রুভেন বুল প্রকল্প, ছিটমহল প্রকল্প, সাভার ডেইরি ফার্ম, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, কুমিল্লা মুরগি খামার, নারায়ণগঞ্জ হাঁস খামার, সীতাকুণ্ড হাঁস-মুরগি খামার, হাটহাজারী ডেইরি ফার্মসহ দেশের বিভিন্ন খামারে একই গোষ্ঠীর ঠিকাদারদের আধিপত্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দরপত্রে এমন সব শর্ত সংযুক্ত করা হচ্ছে যা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়। এর ফলে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে একক দরদাতা কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

দরপত্র মূল্যায়নে ‘একই মুখ’ :
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা অধিকাংশ দরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের কয়েকজন এখনও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও সরকারি ক্রয়বিধির যথাযথ অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের ভেটেরিনারি সার্জনকে ঘিরেও নানা অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তার দাবি, তাকে অসংখ্য দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য কিংবা সভাপতি করা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তার জন্য সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে এবং সেই গাড়ি ব্যক্তিগত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ :
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম বিভিন্ন প্রকল্পে উঠে এসেছে।

সূত্রের দাবি, প্রায় ৯৮ লাখ টাকার একটি ওষুধ সরবরাহ প্যাকেজে একক দরদাতা হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধ সরবরাহ সম্পন্ন হয়নি, ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিম্নমানের পশুখাদ্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে নীরব বিপদ ?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে পশুখাদ্য সরবরাহ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক কোটি টাকার পশুখাদ্য সরবরাহের কাজে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যার সঙ্গে দরপত্রে জমা দেওয়া নমুনার মিল নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের বা ভেজাল পশুখাদ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক, ছত্রাকজনিত বিষাক্ত উপাদান, নিম্নমানের কাঁচামাল বা দূষিত উপাদান থাকলে তা পশুর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রভাব পরবর্তীতে দুধ, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পশুখাদ্যে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে— প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দুধ ও মাংসের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। খাদ্যনিরাপত্তা ও জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। খামার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিভিন্ন খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সৎ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে অধিদপ্তরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।

তদন্তের দাবি : সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মন্ত্রণালয়, সচিবালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন— গত এক বছরে সকল বড় সরবরাহ কাজের নিরীক্ষা। পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থা। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা।একক দরদাতা হিসেবে প্রাপ্ত প্যাকেজগুলোর তদন্ত। সরকারি যানবাহারের ব্যবহার ও প্রশাসনিক সুবিধার নিরীক্ষা। এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের আর্থিক ও প্রশাসনিক যোগসূত্র অনুসন্ধান।

শেষ কথা : সরকার পরিবর্তনের পরও যদি পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও জনস্বার্থের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে সেটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে পশুখাদ্যের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। কারণ, খামারে সরবরাহ হওয়া নিম্নমানের খাদ্যের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে।




অভিযোগ নাকি চরিত্রহননের কৌশল?’— আরিফ হাসনাতকে ঘিরে একতরফা প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একতরফাভাবে একজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মৌলিক শর্ত হচ্ছে তথ্যের বহুমাত্রিক যাচাই, নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগের ভাষাই যেন রায়ে পরিণত হয়েছে।

‘দুই হাজার কোটি টাকার লুট’— কোথায় সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন ?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ‘পানির দামে’ বিক্রির অভিযোগ আনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘লুটেরা’, ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ বা ‘দুর্নীতির হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।

অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণ নয় : দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অথচ কিছু প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

ব্যক্তিগত জীবন টেনে আনার উদ্দেশ্য কী?

আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা কথিত ভিডিও সংক্রান্ত যেসব দাবি প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা কোথাও নিশ্চিত করা হয়নি। ভিডিওর উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট কিংবা ফরেনসিক যাচাই ছাড়াই এসব তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সাংবাদিক মহলের একাংশের মতে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার অভিযোগ :
প্রতিবেদনগুলোতে বারবার অতীত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য নথি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

প্রশ্নের মুখে একতরফা সাংবাদিকতা : গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্তের আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরিত্রহননের দায়ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত:
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যেমন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে, তেমনি অভিযোগভিত্তিক একতরফা প্রচারণার উৎস, উদ্দেশ্য ও পেছনের স্বার্থও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন যেমন জরুরি, তেমনি কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া ‘দুর্নীতির প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রবণতাও গণমাধ্যম ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটি কি সত্যিই একটি বৃহৎ দুর্নীতির কাহিনি, নাকি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতে গড়ে ওঠা একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের অভিযান ?




ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ: আরিফ উদ্দিনকে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও এবং যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতেও একটি চক্র একই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। বর্তমানেও একই কৌশলে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন এবং এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিন মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেছেন, জিডি নং- ১৬৫৩।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এআই-নির্মিত ভিডিও বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ব্যক্তি অধিকার, গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর যদি অপপ্রচার বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব, অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।




বিআইডব্লিউটিসিতে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে নানা অভিযোগের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার, জাহাজ মেরামতের কাজে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআইডব্লিউটিসির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আশিকুজ্জামান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে সংস্থার জমি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, করপোরেশনের সম্পদ রক্ষার বদলে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। এ নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির ভেতরেও একাধিকবার অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তার চাকরিজীবনের পদোন্নতির বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এস এম আশিকুজ্জামান এজিএম ফিডার পদে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার আগেই ২০১৫ সালে ডিজিএম (সাময়িক) পদে দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিমালায় এমন পদোন্নতির সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরে ডিজিএম পদে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও উচ্চ পদে দায়িত্ব পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে তিনি বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ওই সময় থেকে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত কাজে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই প্রক্রিয়ায় আশিকুজ্জামানের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিসিতে প্রায় ৬০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের সময় আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন প্রার্থী বয়স ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদনপত্র, সভার সিদ্ধান্ত, নোটশিট এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকাসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাজ মেরামত ও সংস্কারকাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু মেরামত কাজে নিয়মিত দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের হাতিয়া থেকে ভাসানচর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত এসটি জব্বার জাহাজ মেরামতের ক্ষেত্রে টেন্ডার ছাড়াই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে আইভি রহমান নামের আরেকটি জাহাজের সংস্কারকাজ নিয়েও। অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লুজ যাত্রী পারাপারের টিকিট ও ইজারা ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার কারণে সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করছে দুদক।

এদিকে এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী নামের দুটি জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

দুদকের অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আশিকুজ্জামান ও তার স্ত্রী ফারজানার সম্পদের তথ্য যাচাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নামে থাকা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে এস এম আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, জাহাজ মেরামত, ক্রয় বা সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ তার সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দুদকের এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত বিষয় সামনে আসবে।

সব মিলিয়ে এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। নিয়োগ থেকে শুরু করে টেন্ডার, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কার্যক্রম—বিভিন্ন বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর মিলবে তদন্ত শেষে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে, আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে দীর্ঘদিনের বিতর্কেরও অবসান হবে।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিল ছাড়ে অনিয়ম ও কমিশন দাবির অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের দাবি, প্রকল্পের বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা, ফাইল আটকে রাখা এবং আর্থিক সুবিধা চাওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-১১ এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে বিল অনুমোদনে দেরি হচ্ছে। তাদের দাবি, রানিং বিল কিংবা চূড়ান্ত বিল ছাড় করানোর ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা চাওয়া হয়। আর সেই দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী।

তাদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের দাবির সঙ্গে একমত না হলে ফাইলে অতিরিক্ত কাগজপত্র, ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক জটিলতার বিষয় দেখিয়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়। এতে কাজ শেষ করেও অনেক ঠিকাদার সময়মতো পাওনা টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ঋণ, ধার করা অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, বিল আটকে থাকার কারণে তাদের ব্যবসায়িক চাপ বাড়ছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অর্থ ছাড় না হওয়ায় শ্রমিক, সরবরাহকারী ও অন্যান্য খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতার ভয় দেখিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট খাতের কয়েকজনের মতে, সরকারি প্রকল্পের বিল অনুমোদনে অযথা বিলম্ব হলে শুধু ঠিকাদাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, সরকারি উন্নয়ন কাজও বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সময়মতো শেষ করতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, সরকারি প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, সরকারি দপ্তরের ফাইল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন মনিটরিং এবং বিল অনুমোদন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। এতে কোনো কর্মকর্তা এককভাবে দীর্ঘ সময় ফাইল আটকে রাখার সুযোগ পাবেন না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-১১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।




মিরপুরে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন, সানভিউ টাওয়ার্সের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর মিরপুরে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সানভিউ টাওয়ার্স নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অধিগ্রহণ করা জমি নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভবন নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে মামলা চললেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সরকারি সংস্থাটি।

জানা গেছে, মিরপুরের পল্লবী থানার বাউনিয়া মৌজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা বড় একটি জমির অংশ নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সিএস ৩১২৪ ও সিএস ৩১২৮ দাগের জমির মধ্যে প্রায় ৩ একর জায়গা সানভিউ টাওয়ার্স দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করার পাশাপাশি নতুন আরও একটি ভবনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব জমি সরকার অধিগ্রহণ করে তাদের আওতায় নিয়েছে। কিন্তু সানভিউ টাওয়ার্স দাবি করছে, তারা ওই জমি সাগুফতা কোম্পানির মালিক জুয়েল মোল্লার কাছ থেকে কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে তারা জমিটি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ শুরু করে।

তবে সরকারি সংস্থার অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় এবং আদালতে মামলা চলার মধ্যেই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জমির ওপর অনুমোদন ছাড়া এবং নকশার বাইরে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নির্মাণ বন্ধে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চিঠির পর রাজউক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভবনের কিছু অংশ ভাঙা হলেও পুরো নির্মাণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সানভিউ টাওয়ার্সের কর্মকর্তারা রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই জমি নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত পুরোনো রেকর্ডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যেখানে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা ছিল। এ কারণে জমির কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারি জমি নিজেদের নামে দেখাতে কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া বা বিতর্কিত কাগজপত্র ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, সানভিউ টাওয়ার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিএস দাগের জমি দখল করে ব্যবসা করছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গার অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, ওই জায়গা সরকারি পরিকল্পনার অংশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে দখলের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর এলাকায় জমির মূল্য অনেক বেশি। প্রায় ৩ একর জমির বাজারমূল্য শতকোটি টাকার ওপরে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয় গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারিজুর রহমান বলেন, সানভিউ যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করছে সেটি গৃহায়নের অধিগ্রহণ করা জমি। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তারপরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেন, সরকারি জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দখল করতে দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সানভিউ টাওয়ার্সের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা জমিটি বৈধভাবে কিনেছেন। তবে ভবনের কিছু অংশ অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি হওয়ায় রাজউক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে সরকারি জমির মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে সানভিউ টাওয়ার্স ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি জমি রক্ষা ও অবৈধ দখল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।




বন বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ: বদলি, নিয়োগ ও বনভূমি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

এসএম বদরুল আলমঃ বন অধিদপ্তরের ঢাকা সামাজিক বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বন বিভাগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ, পদায়ন, এনওসি প্রদান এবং বনভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

হোসাইন মোহাম্মদ নিশাত ২০০৩ সালে ২২তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে বন বিভাগে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২৩ বছরের চাকরি জীবনে তিনি রাজধানীর বাইরে বড় ধরনের বদলির মুখোমুখি হননি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

২০১৩ সালে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তিনি তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং সাবেক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন বলে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল সোনারগাঁও চেকপোস্ট। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই চেকপোস্টকে ঘিরে গাছ পরিবহনের ট্রাক থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক কাঠবোঝাই ট্রাক চলাচল করত এবং প্রতিটি ট্রাক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়া হতো। পাশাপাশি চেকপোস্টের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন অফিসার, সহকারী স্টেশন অফিসার এবং বন প্রহরীদের পোস্টিং নিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে।

২০১৬ সালে হোসাইন নিশাত বন অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক (সংস্থাপন) পদে দায়িত্ব পান। এই পদে থাকাকালে বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোস্টিং পেতে অনেককে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হতো।

রেঞ্জ কর্মকর্তা, ফরেস্টার এবং বন প্রহরীদের বদলি নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, লাভজনক রেঞ্জ, চেকপোস্ট বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে নিয়মিতভাবে টাকা দিতে হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার পোস্টিংকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বন্যপ্রাণী আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া অনেক ফাইল আটকে রাখা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়া হতো এবং প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক এনওসি থেকে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

২০২০ সালে বন বিভাগের পদোন্নতি নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছিল এবং রাজনৈতিক পরিচয় থাকা কিছু ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল। এ ঘটনায় বন বিভাগের অনেক কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বন বিভাগে কর্মী নিয়োগ নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের চাচাতো ভাই গিয়াস তালুকদারের মালিকানাধীন ‘বলাকা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে প্রায় চার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগে কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একইভাবে ২০২৫ সালে ২৮৪ জন ফরেস্ট গার্ড নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা কমিটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে হোসাইন নিশাতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়।

বনভূমি দখল নিয়েও তার দায়িত্বকাল নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় বন অঞ্চলের আওতাধীন গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকায় বিপুল পরিমাণ বনভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। এসব এলাকায় রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এলাকায় বনভূমি দখলের ঘটনায়ও তার সহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদেশেও সম্পত্তি কেনার তথ্য রয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ গড়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তবে হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, ৩৯ দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে একের পর এক ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৯টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই বিপুল সংখ্যক দরপত্র নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশ কিছু দরপত্র প্রকাশ করা হয়। এসব দরপত্রের মধ্যে রয়েছে টেন্ডার আইডি 1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851 এবং 1057813।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাগজে-কলমে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও বাস্তবে কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের রেট নির্ধারণ ও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।

এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন, প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, আর্থিক সুবিধা ছাড়া অনেক ফাইল এগোয় না।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কাজের ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সরকারি অর্থের অপচয়, কাজের মান কমে যাওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।




গণপূর্তের জিগাতলা ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক, তদন্তকারী নিজেই অভিযুক্ত!

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর জিগাতলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত নতুন বহুতল আবাসিক ভবনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুসরণ না করে যোগ্যতার বাইরে কয়েকজনকে বাসা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেন নিয়ম ভেঙে ডি-২ শ্রেণির একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। এ কারণে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে শফিকুল ইসলাম থাকায় বিষয়টির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহাবুব হাসানকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুপারিনটেনডেন্ট অফিসার আবু জাফর সিদ্দিক। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, গ্রেড ও বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জিগাতলার নতুন ভবনে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডি-২ শ্রেণির বাসা সাধারণত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেনকে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডি-১, ই, এফসহ বিভিন্ন শ্রেণির ফ্ল্যাট বরাদ্দেও পদমর্যাদা ও গ্রেডের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পছন্দের লোকজনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসা বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ প্রকাশের পর। পরে সরকারি আবাসন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তের সুপারিশ করে। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ পাওয়ার পরও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি কমিটি করা হয়, যার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাসা বরাদ্দে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নির্দেশের পর ওই চক্র বিষয়টি নিজেদের মতো করে সামলানোর চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, এই অনিয়মের তথ্য বাইরে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-৪ এর অফিস সহায়ক ফারুক রহমান শেখকে ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, তথ্য প্রকাশের কারণে চাপের মুখে পড়েই তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে হলে বর্তমান কমিটি বাতিল করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বাসা বরাদ্দে অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে আসে।