মেট্রোরেল, হাসপাতাল আর বিআরটিএ—তিন খাতে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একদিনে তিনটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে—মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুদকের তিনটি আলাদা দপ্তর থেকে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এসব অভিযান চালিয়েছে।

মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল তদন্তে নামে। টিম জানতে পারে—বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল মেট্রোরেল লাইন ও ১২টি পাতাল স্টেশন তৈরি হচ্ছে এই রুটে। পাশাপাশি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল পথ ও ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন নিয়ে পূর্বাচল রুটের কাজও চলছে। সব মিলিয়ে মোট ৩১.২৪১ কিলোমিটার লম্বা এমআরটি লাইন–১ নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পুরো প্রকল্পটি ১২টি কনট্রাক্ট প্যাকেজে ভাগ করে কাজ চলছে।

এর মধ্যে CP–01 প্যাকেজের আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৯০ একর জমির ডিপো উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের আগস্টে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগেই কাজ শেষ করেছে বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানকালে দুদক দল স্যান্ড এমব্যাংকমেন্ট ও ফিলিং–সংক্রান্ত কাজে কোনো অনিয়ম আছে কিনা তা যাচাই করতে ডিপো এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চায়। নথি হাতে পাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে পুরো প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হন—এমন অভিযোগ পাওয়ায় দুদকের কুড়িগ্রাম টিম ছদ্মবেশে সেখানে অভিযান চালায়। টিম হাসপাতালে গিয়ে দেখে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন, অ্যাম্বুলেন্সের লগবুকে অনিয়ম, প্যাথলজি বিভাগে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকটি ওয়াশরুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ১০–১২ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকেও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে একজন প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে তিনি নিয়ম ভেঙে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখানে ঘুষ নিয়ে রুট পারমিট দেওয়া, সেবা পেতে ভোগান্তি এবং কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক টিম হাজির হয়। টিম দেখে, ২০২৩ সালের আগস্টে বিআরটিএ ১৭৩টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করেছে। যাত্রী–পণ্য পরিবহন কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী ৫৭১টি থ্রি–হুইলারের মধ্যে ৫১১টির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এই বিষয়ে এর আগেও একটি মামলা করা হয়েছিল, যার তদন্ত এখনো চলছে। দুদক টিম সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করে। সব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে পুরো প্রতিবেদন কমিশনকে জানানো হবে।




মানিকনগর স্কুল প্রকল্পে রহস্যজনক বিল: ফিরোজ আলম–বেলালের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রথম দুই পর্ব প্রকাশের পর পুরো দপ্তরে আলোচনার ঝড় ওঠে। পাঠকদের অনুরোধে প্রতিবেদক আরও গভীর অনুসন্ধানে নেমে এই পর্বে নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন—যা পুরো এলজিইডি জুড়েই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী নেতা সালমান এফ. রহমানের ‘কথিত ছেলে’ পরিচয় ব্যবহার করে ফিরোজ আলম ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে নিজের পছন্দের পদে পোস্টিং নেন। এতে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমনকি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ক্ষুব্ধ ঠিকাদার ও কর্মচারীরা তাকে অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বলেও জানা গেছে। অভিযোগ—কাজ না করিয়ে ঠিকাদারদের বিল পাস করিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নিতেন তিনি।

তদন্তে উঠে এসেছে মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্পের তথ্য। “ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় এই কাজটি পায় মেসার্স ইফাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার ডালিয়া ইমাম; ঠিকানা—৮৪২, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা। চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২ মে ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ আগস্ট ২০২৫।

কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত কাজ শুরুই হয়নি। তবুও ঠিকাদারকে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে এলজিইডির ভেতরের একাধিক সূত্র। বর্তমানে ঠিকাদার ডালিয়া ইমাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিককে জানান—এটি প্রথম ঘটনা নয়। ফিরোজ আলম নাকি কাজ না করিয়েই একাধিক ঠিকাদারকে বিল দিয়েছেন। পরে অন্য কর্মকর্তারা বিপদ এড়াতে নানা ঝামেলা সামলাতেন। তার ভাষায়, “ওর এসব কাজ ধামাচাপা না দিলে এখন পর্যন্ত বড় বিপদে পড়ত।”

এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিরোজ আলম তালুকদার দাবি করেন, “মানিকনগর স্কুল প্রকল্পে শুধু joist–এর বিল দেওয়া হয়েছে, অগ্রীম কোনো বিল নয়।” তবে প্রকল্পে ‘joist’ দেওয়ার মতো কাজ আদৌ হয়েছে কি না—তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপরের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে বলে তিনি মত দেন।

এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলজিইডি অফিসের ভেতরে নতুন করে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি বড় ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করছে।




সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সোনাগাজী সমিতির অফিসের গেইটে তালা ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক সংগঠন হল ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের একটি ধারণ । সামাজিক সংগঠনের মধ্যেমে মৌন গঠন, স্থানিক সমন্বয়, নেতৃত্ব, কাঠামো তৈরী, শ্রম বিভাজন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদির মতো গুণাবলী অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়ন এর লক্ষ্যে কাজ করা।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কল্যাণে অব্যবসায়ীক মনমানসিকতা নিয়ে কোনো কাজ করাই হলো সামাজিক কাজ। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও সামাজিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এক সমাজে গরিব-ধনী, অসহায়, এতিম, সহায়–সম্বলহীন নানা রকম মানুষের বসবাস। একা ভালো থাকার নাম ভালো থাকা বলে না। একজন ব্যক্তির সব সার্থকতা অন্যকে ভালো রাখার মাঝেই লুকিয়ে আছে। অন্যকে উপকার করার দ্বারা শুধু অন্যদের সহযোগিতা করা হয় না, বরং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ববোধ ফুটে ওঠে। সমাজ নিয়ে তার ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা গড়ে ওঠে। সামাজিক কাজের দ্বারা শুধু একজনই উপকৃত হয় না, বরং এর দ্বারা একটা পরিবার উপকৃত হয়, সমাজ উপকৃত হয়, রাষ্ট্রও উপকৃত হয়। সামাজিক কাজ মানুষের দক্ষতা বিকাশ করে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ফলে সামাজিক ও আর্থিক অবস্থা উন্নত করে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। সামাজিক কাজকর্ম একজন ব্যক্তির একাকিত্ব দূর করে। যার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সামাজিক কাজ আমাদের সুখী করে। আমাদের ভালো অনুভূতি দেয়।
সামাজিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে ১) রাস্তঘাট ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের সংস্কার। ২) বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা। ৩) গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা। ৪) শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ৫) রোগী ও বৃদ্ধদের সহায়তা এবং পুনর্বাসন। ৬) অনৈতিকতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ দূর করা।

সামাজিক এই সব কার্যক্রমের অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ঢাকাস্থ সোনাগাজীবাসীদের নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার গাজী আনোয়ারুল কাদের মুক্তু মিয়া গঠন করেন, সোনাগাজী সমিতি, ঢাকা। তার ধারা বাহিকতায় এটি চলমান আছে । ২রা নভেম্বর, ২০২৪ সালে সমিতির নিবার্হী কমিটির সভায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সাহাদাত হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে সহসভাপতি দুলাল, শিক্ষা সম্পাদক ফারুক, সালাহ উদ্দিন শিমুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বয়াতী সেলিম(পদ ত্যাগকারী) সহ রংপুর, দিনাজপুর ও অন্যান্য এলাকার বহিরাগত ৪০ জনের একটি টোকাই গ্রুপ নিয়ে সমিতি অফিস দখলের পায়তারা করেন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিসলু খান বিষয়টি টের পেয়ে সভাটি স্থগিত ঘোষনা করেন। এবং সমিতির অফিসের সভাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. বিকাল ৪:০০ ঘটিকার সময় সোনাগাজী সমিতি ঢাকা’র পূর্ব নির্ধারিত নির্বাহী কমিটির সভায় অযোক্তিক মিছিলের নেতুত্ব দিয়ে ফরহাদ ছাত্র , নুরুল আলম(ইনসুরেন্স কর্মচারী) সভাটি ভন্ডুল করে দেয়। সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমিতির কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মেসবাহ উদ্দিন খান কিসলু কে সম্পৃক্ত করে নানা ধরনের উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্ট করে তুলেন। সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। অফিসের সামনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার গাজী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, জনাব আমির হোসেন জনি, জনাব সুলতান কামাল উদ্দিন সহ সোনাগাজীর বিশিষ্ট জনদের কে বিভিন্ন এলাকার বহিরাগতদেরকে সদস্য ফি- ৫০০০/- টাকা ব্যাতিত সদস্ করার জন্য চাপ প্রয়োগ সহ নানাভাবে নাজেহাল করেন। সোনাগাজী সমিতি ঢাকা’র কার্যালয়ের সামনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনায় সোনাগাজীর বিশিষ্ট জনেরা লজ্জিত, বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেছেন। এতে করে সোনগাজীবাসীয়ানরা অ্ন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ফেসবুক, হোয়াটসআ্যাপ, মেসেন্জআর, ও ইন্সট্রগ্রামে দুরবুত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

গত ৩১/১০/২০২৫ খ্রি: ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ফরহাদ বর্তমানে কলেজের ছাত্র, হাবিব, রানা এবং জাকির হোসেন সুমন রা সমিতির সদস্য ফি-৫০০০/- টাকা জমা দিয়ে সমিতির সদস্য হিসেবে এখন ‍ও নিবন্ধিত হন নাই। নেপথ্যে থাকা নুরুল আলম, সালাহ উদ্দিন এবং সমিতির বর্তমান কমিটির একজন সহসভাপতি সহ বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্তির আগে নির্বাচন ছাড়া নতুন কমিটি গঠন করার পায়তারা করে সোনাগাজীয়ানদের সমর্থন না পাওয়ায় ব্যর্থ হন। ব্যর্থ হয়ে তারা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং নেপথ্যে থাকা উস্কানিদাতা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানি্য়েছেন সমিতির বাকী নেতৃত্ব এবং ঢাকাস্থ সোনাগাজীবাসীয়ানরা। সবাই একমত পোষণ করে বলেন, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ আশা করা যায় না। তাদের কে তদন্ত করে সমিতি থেকে বহিস্কারকরন সহ শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ।
সমিতির ফ্ল্যাট ক্রয় ও রেজিষ্ট্রেশন, ইন্টেরিয়র কাজ, ত্রাণ সামগ্রী ক্রয় ও বিতরণ, ম্যাগাজিন ছাপানোর কাজ, বৃত্তিপরীক্ষার ফটোকপির কাজ বাবদ সহ পরীক্ষা পরিচালনার হিসাব নিষ্পত্তির বিষয়ে ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ খ্রি: অডিট প্রতিবেদনে বিল, ভাউচার সঠিক ভাবে পাওয়া যায় নাই। হাতে লেখা বানোয়াট কাচা রশিদ এবং টাকার হিসাবে কয়েক লক্ষ টাকার গরমিল পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করে অডিট কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদন নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনার জন্য এজেন্ডায় রাখা হয়েছে । তারা তাদের গরমিল হিসাবের সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এবং সম্পাদক পদে জোর জবর দখল করার প্রয়াসে সমিতির অফিসে নির্বাহী কমিটির সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং কলাপসিবল গেইটে তালা লাগিয়ে দেন।
অডিট কমিটির সদস্য জনাব মিজানুর রহমান সাহেব কে অডিট প্রতিবেদন সমন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি কমিটির সদস্য হলেও আমাকে কোন বিল ভাউচার, হিসাব , রেজিস্ট্যার, লেজার বুক প্রদর্শন করতে পারেন নাই। অর্থ্যাৎ তাদের দেওয়া মৌখিক হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, কিছু টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে । উক্ত অভিযোগের বিষয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার নুরুল আলমের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নাই। এ প্রতিবেদকের হাতে সমিতির অফিসের আরো কিছু ছবি, অডিট প্রতিবেদন এর কপি, পূর্বর্তী হিসাব নিকাশের তথ্য এবং ম্যাগাজিন পকাশের হিসাব সংক্রান্ত ডকুমেন্ট এসে পৌছেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন-২ আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।




রেলের লাগেজ ভ্যান কেনাকাটায় ৩৫৮ কোটি টাকার অপচয়: সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এসএম বদরুল আলমঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বড়সড় অনিয়মের ঘটনায় সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুদকের উপ–সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লাগেজ ভ্যান কেনার নামে রেলওয়ের ৩৫৮ কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের সরাসরি ক্ষতি।

মামলায় সাবেক ডিজি শামসুজ্জামান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, হারুন অর রশীদ, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরীসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে রেলওয়ে ৩৫৮ কোটি টাকায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনেছিল—যার উদ্দেশ্য ছিল পণ্য, লাগেজ এবং দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্য পরিবহন বাড়ানো। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা বা বাজার যাচাই–বাছাই ছাড়াই শুধু ব্যক্তিস্বার্থ দেখে এসব ভ্যান কেনা হয়। কিনে আনার পর এগুলো প্রায় সবই অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ নথি ও সমীক্ষায় দেখা যায়—কারিগরি সহায়তা প্রকল্প থাকলেও বাস্তব চাহিদা, কৃষক বা ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন, বাজারের অবস্থা কিছুই যাচাই করা হয়নি। এমনকি ভ্যান কেনার কোনো প্রকৃত প্রয়োজনও ছিল না; তবুও কিছু কর্মকর্তা লাভ দেখিয়ে চুক্তি করান। চীনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ব্রডগেজ ভ্যানের প্রতি ইউনিট মূল্য ধরা হয় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং মিটারগেজ ভ্যানের দাম ধরা হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এগুলো রেলের বহরে যুক্ত হয়, কিন্তু ব্যবহারই হলো না।

পণ্যের পরিবহন বাড়ানোর আশায় রেল আগেই “ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন” চালু করেছিল, যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে। এরপরও লাভ দেখানোর গল্প শুনিয়ে কেনা হয় লাগেজ ভ্যান। পরে “কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন” চালু করা হলেও যাত্রী–সাড়া না পেয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সেটিও বন্ধ করতে হয়। এতে রেলের আরও লোকসান বাড়ে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন—অপ্রয়োজন বুঝেও লাভ দেখিয়ে কারা এসব ভ্যান কিনিয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। তিনি জানান, বিদেশি ঋণ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ–ও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল। উদ্বোধনের সময় তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন দাবি করেছিলেন—এটি সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ। কিন্তু রেলের বহু কর্মকর্তার মত অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কয়েকজন রেল কর্মকর্তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তির মিলে কমিশন বাণিজ্যের একটি পরিকল্পিত কাজ।




রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ভবন নির্মাণ, ৩৬ কোম্পানির বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়েল এস্টেট খাতে নানা অনিয়ম, প্রতারণা আর গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগ বাড়তে থাকায় অবশেষে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা এক জরুরি নোটিশে জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে—৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার চুক্তিতে না যেতে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেয়া, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, শর্ত না মানা এবং গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল বাসির বলেন, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদন নিতে কোম্পানিগুলোর জাতীয় গৃহায়নের কাছে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই নিয়মই মানেনি। এজন্যই তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান—এখন কেউ যদি নিবন্ধন ছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নিবন্ধন পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তালিকায় থাকা ৩৬টি বাতিল কোম্পানি হলো—ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিস, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিস, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস, তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্ট ওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিস, বেস্ট ওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিস ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিস, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অফ বেঙ্গল প্রপার্টিস, বসুধা বিল্ডারস, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিস, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডারস অ্যান্ড ডেভেলপারস, এসএফএল, চন্ডিমাটি হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টস, হারপ হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ি, নব্যধারা হাউজিং, রিসমন্ট ডেভলপারস, পুবালি ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইস প্রপার্টিস, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাকপাই হাউজিং লিমিটেড।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—রাজউকের নিষেধাজ্ঞা, নিয়ম-কানুন আর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কোম্পানি এখনো নির্বিঘ্নে বিল্ডিং তুলে যাচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজউক কোথায়? তারা কি এ সব দেখেও দেখছে না? সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকলেও নজরদারির জায়গায় যেন এখনো বড় ধরনের শিথিলতা রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গ্রাহকদের সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কাই বেশি। ছাপোষা মানুষের জীবনভর জমিয়ে রাখা টাকা যেন ভুল হাতে পড়ে নষ্ট না হয়—এটাই এখন প্রধান সতর্কবার্তা।




ঘুষে চলছে বদলি-বাণিজ্যে: দুর্নীতির দৌড় থামছে না কোথাও

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গেলে অনেকেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কেউ সরাসরি বলে দেন—“১০ কোটি টাকা দিয়ে এই চেয়ারে বসেছি, টাকা ছাড়া কাজ করানো যাবে না।” কথাটা শুনতে যতটা আগ্রাসী মনে হয়, বাস্তবে এর চিত্র আরও ভয়াবহ। দেশের বহু সরকারি দপ্তরে বদলি-বাণিজ্য যেন ওপেন সিক্রেট—যেখানে পদ, পোস্টিং আর দায়িত্ব সবই নির্ভর করে কে কত টাকা দিতে পারে তার ওপর।

অধিকাংশ মানুষের ধারণা, এসব অনৈতিক কাজ হয়তো নিচের স্তরের কয়েকজন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় চিত্র একেবারেই উল্টো—সচিব পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্নতম স্তর পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা পছন্দের পদে যেতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করে থাকেন। যিনি লাখ টাকা বা কোটি টাকা দিয়ে কোনো পদে যান, তিনি প্রথম দিন থেকেই সেই বিনিয়োগ তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর নিজের ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু করেন আরও টাকা তোলার পথ খোঁজা—ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি তো বাড়েই, সেই অফিসগুলোতে দুর্নীতি মোটেই কমে না।

বিবিএস পরিচালিত সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)–এর ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২৫’-এ উঠে এসেছে সরকারি সেবার করুণ অবস্থা। জানান হয়েছে—গত এক বছরে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ দিয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৮.৬২ শতাংশ, নারীদের ক্ষেত্রে ২২.৭১ শতাংশ। ঘুষ-দুর্নীতির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিআরটিএ (৬৩.২৯ শতাংশ)। এরপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৬১.৯৪ শতাংশ), পাসপোর্ট অফিস (৫৭.৪৫ শতাংশ) এবং ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস (৫৪.৯২ শতাংশ)।

টিআইবি পরিচালিত নবম থানা জরিপে পরিস্থিতি আরও মারাত্মকভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে—দেশে ৭০.৯ শতাংশ খানা কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার। ১৭টি খাতের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এরপর রয়েছে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২.১ শতাংশ খানা জানিয়েছেন—ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না। গড়ে প্রতিটি পরিবার ৬,৬৩৬ টাকা করে ঘুষ দিয়েছে এবং এর মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ কোটি টাকার মতো—যা কেবলই সরকারি সেবা নিতে গিয়ে জনগণের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বদলি-বাণিজ্য দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। অতীতে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় ওসি হতে ১০–১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনো পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুধু ওসি না, এসব থানায় কনস্টেবল হিসেবেও ঢাকায় পোস্টিং নিতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন—ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসতে চাইলে পদভেদে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে। স্বাভাবিকভাবেই, ঘুষ দিয়ে পদ পাওয়া অফিসারদের কাছ থেকে সততা বা স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন।

ভূমি অফিসের চিত্রও একই। সাব-রেজিস্ট্রাররা এই খাতের মূল ভাগ আদায়কারীর ভূমিকায় থাকেন। তারা সরাসরি জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন এবং সেই টাকা আবার নির্দিষ্ট নিয়মে উপরের দিকে পৌঁছে যায়। গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ—এ ধরনের জায়গার সাব-রেজিস্ট্রার পদ নাকি রীতিমতো নিলামে বিক্রি হয়, কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ—এসব দপ্তরের অনেক উচ্চপদে বদলি হতে প্রচুর টাকা লাগে। এমনকি ২০২৩ সালে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ শত কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল বলে জানা যায়। ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও ঢাকায় বদলি হয়ে কাজ করতে চাইলে লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

সবমিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—যেখানে মোটা টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বে বসেন, সেখানে সেবা নয়, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে কীভাবে বিনিয়োগ করা টাকা তুলবেন আর কতটা বাড়তি আয় করতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষ পড়ে যায় এক দুষ্টচক্রে—যেখানে ঘুষ, ভোগান্তি আর দুর্নীতি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না।




ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানের দুর্নীতির অভিযোগে কাস্টমসজুড়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালন করা রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন চর্চার কেন্দ্রে। কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্র এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগে জানা যাচ্ছে, তিনি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লেনদেন, সুবিধাবাদী সমঝোতা এবং সরাসরি ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতি করেছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তাকে ঘুষ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ওয়ালিউল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে দেওয়ার নামে বিশেষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের বিনিময়ে গোপনে ‘মুক্তিপণ’ আদায়, কাগজপত্র জালিয়াতি করে আমদানি–রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুবিধা দেওয়া, এবং সরকারি নথি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলে সরবরাহের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে, তিনি সহকর্মী ও অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতেন এবং এভাবে ধাপে ধাপে অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তুলতেন।

কাস্টমসের ভেতর থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওয়ালিউলের এসব কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ক্ষতি করছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশও নষ্ট করছে। ব্যবসায়ী এবং কর্মকর্তা—উভয় মহলেই এখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।




খুলনায় ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতির মিথ্যা মামলায় হয়রানী চাঁদাদাবি ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

খুলনা প্রতিবেদকঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১০ নম্বর সহ-সভাপতি ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দাবি করেছেন—দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন ও বেকার অবস্থায় থেকে নানা প্রতারণার মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছোট ভাইসহ তিনি জলমা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার শিকার অনেকেই থানায় ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং ফিরোজ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর এলাকায় একাধিক নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে চাঁদা দাবি করেছেন ফিরোজ—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিগত সরকার আমলে ক্ষমতাসীনদের সাথে থেকে সামান্য অর্থ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজির নতুন কৌশল নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার চায়ের দোকানদারদের দাবি, ফিরোজ হোসেন তাদের কাছ থেকে বহু টাকা বাকী নিয়েও ফেরত দেননি। কেউ পাওনা চাইলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়। অনেক দোকানদারের পাওনার পরিমাণ ৭ হাজার টাকাও ছাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন ওকর্ম ও প্রতারককে দলীয় পদে রাখলে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ভোটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ হোসেন সম্প্রতি দল ক্ষমতায় এলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মঞ্জু ও মনা ভাইদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে এলাকার সৎ মানুষদের হয়রানি করে চলেছেন।

সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে পরবর্তী সময় এলাকার কয়েকজন সামান্য দিনমজুর খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে একজন সাংবাদিক পরিবার এই নেতার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তারা এক ভাই মামলা দায়ের করে অন্য ভাই সাক্ষী হিসেবে থাকেন। এই দুই ভাইয়ের প্রতারণার আতঙ্কে রয়েছে খুলনা শহরের অনেকেই।

বিগত কয়েক বছরে তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে জমি বিক্রির নামে বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ফিরোজ হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি—বিএনপি নেতৃত্ব দ্রুত তদন্ত করে এই প্রতারক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক, যাতে দলের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা পায়।




ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতির অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়াল ও তার স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগারওয়াল অসৎ উপায়ে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তিনি ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব কার্যক্রম মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি দমন আইনের অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।

একইভাবে তার স্ত্রী সবিতা আগারওয়াল অসৎ উপায়ে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। তিনি ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৮টি ব্যাংক হিসাবে ২১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির এসব অভিযোগের সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ও সবিতা আগারওয়ালার আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন।

আদালত শুনানি শেষে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে ওই দম্পতির আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।




পলওয়েল কারনেশন মার্কেটে দুর্নীতি‌র সম্রাজ্য বানিয়েছেন কে এই কবির হোসেন খান

এসএম বদরুল আলমঃ দুর্নীতি ও ক্ষমতার দাপট একটি অপ্রিয় চরম সত্যে রূপান্তরিত হয়েছে, যা সমাজ থেকে সহজে নির্মূল করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির কারণে সমাজের প্রশাসনিক এবং সরকারি গোষ্ঠী লাভবান হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নতুন ব্যবসা শুরু থেকে পরবর্তীতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া ও নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রথায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, বিশেষ ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়েছেন পলওয়েল কারনেশন শপিং সেন্টার উত্তরা মার্কেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কবির হোসেন খান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ (যা তিনি উপহার বলেন) পুলিশের নিজস্ব দোকান ও অফিস স্পেস ভাড়া দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া।দোকান ভাড়া ও গোল্ড ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গোল্ড বাকিতে নেওয়া এবং সেই গোল্ড ব্যবসায়ীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের সাথে আলোচনা না করে মার্কেটে কেউ দোকান ভাড়া নিতে পারে না। পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের দুইজন পুলিশের কনস্টেবল’সহ নিজস্ব সিন্ডিকেট দ্বারা বিভিন্ন ভাবে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের হুমকি ও নানাভাবে হয়রানি’সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়েছেন এই কবির হোসেন।

পলওয়েল মার্কেট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটে দোকান মালিকদের নিরুৎসাহী করে দোকান বিক্রি করানো এবং পরবর্তীতে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বায়না করে মোটা অংকের দালালি নিয়ে অন্য জনের কাছে বিক্রি করার সাথে ও জড়িত কবির হোসেন। তার অপকর্মে ভুক্তভোগী হচ্ছেন পলওয়েল মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকেরা।

 

 

পলওয়েল কারনেশন মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভুক্তভোগী দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পলওয়েল মার্কেট বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মার্কেট। মার্কেটের ভিতরের বাহিরের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে কিন্তু এই মার্কেটে পরিচালনার দায়িত্বে অতীতে যারা এসেছেন তারা যেমন দুর্নীতিতে এবং নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছেন একই নীতিতে এই কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।

তারা আরো বলেন, কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেট পুলিশের নির্ধারিত দোকান অফিস স্পেস ভাড়া দেওয়ার সময়, যারা ভাড়া নিতে আসে তাদের কাছে থেকে মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন কবির সিন্ডিকেট।

মার্কেটে কবির সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন দুইজন কনস্টেবল ও একজন গোল্ড ব্যবসায়ী সাকিব, জানা যায় এই সাকিবের স্ত্রীর সাথে কবির হোসেনের রয়েছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাকিবের দোকান থেকে মোটা অংকের গোল্ড নিয়েছেন কবির হোসেন। সাকিবের স্ত্রীর সাথে গভীর সম্পর্ক থাকায় মার্কেটের চতুর্থ তালায় পাঁচটি দোকান ভাড়া নেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন কবির হোসেন। মার্কেট ব্যবসায়ীরা ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, পাঁচটি দোকানের একটি দোকানের ও সার্ভিস চার্জ ও জমিদারী বিল পরিশোধ করেন না সাকিব এবং উর্মি। চতুর্থ তালার ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সাকিব গত ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে চোরাই গোল্ড বিক্রির দায়ে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। সাকিব চতুর্থ তলায় গোল্ডের ব্যবসার নামে মূলত কিশোর গ্যাং দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা পরিচালনা করছেন, চতুর্থ তালায় দোকান ভাড়া নিতে আসলে যেন দোকান ভাড়া না নিতে পারে ব্যবসায়ীরা সেজন্য তাদেরকে নিরুৎসাহী করে ফেরত পাঠান। মার্কেটের চতুর্থ তলায় দোকান ভাড়া নিতে বাধার সৃষ্টি করেন সাকিব।

পলওয়েল মার্কেটের আরেকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমাদের মার্কেটের বাহিরে দুই সাইডে বড় বড় দুইটি বিলবোর্ড আছে, যেগুলো ভাড়া নেওয়ার জন্য আমি কনস্টেবলদের কাছে যাই, যেন উনারা আমার কাছে এই বিলবোর্ড দুইটি ভাড়া দেন এবং আমরা সুন্দর লাইটিং করে বিলবোর্ড দুইটি চালু করি, যাতে মার্কেটে সৌন্দর্য বাড়ে কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও আমার কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করেন এই কবির হোসেনের সিন্ডিকেট। পরবর্তীতে আমি এই কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখি।

তরুণ উদ্যোক্তাদের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে কবির হোসেন এর বিরুদ্ধে। তিনি মার্কেটে একটি গ্রুপ সিন্ডিকেটের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। সুদের ব্যবসা, দোকান ক্রয়-বিক্রয়, কবির হোসেনের কথা মত না চললে চলমান দোকান থেকে উঠিয়ে আরেকজনকে ভাড়া দেওয়ার হুমকি ও দেওয়া হয়। এখানে কবির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, দোকান মালিকদের দোকান ভাড়া না হওয়ায় অনেক দোকানের জমিদারি বিল ও সার্ভিস চার্জ জমে গেছে, সেই দোকান মালিকদের ডেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে মার্কেট কখনো জমবে না, এই ধরনের অপপ্রচার করে সেই দোকান তার লোক দিয়ে বায়না করে পরবর্তীতে দালালি করে বেশি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করার বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কবির হোসেন।

এরকম নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মার্কেটের চতুর্থ তলার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে কবির হোসেন বলেন, আমার অনেক পাওয়ার আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে পুলিশের ডিআইজিরা মাঠে হাটে আর কথা বলে। পলওয়েল নিয়ে আমি যা বলব তাই হবে এখানে অন্য কেউ ডিস্টার্ব করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। (এই ধরনের এসএমএসের কয়েকটি স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে)। কবির হোসেনের অত্যাচার অতিষ্ট হয়ে পুলিশ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ বরাবর একটি অভিযোগের চিঠি দিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ীরা। কবির হোসেনের নামে চিঠি দেওয়ার কারণে, কবির হোসেন মার্কেটে এসে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে অনেক ভয়-ভীতি দেখিয়েছে এবং বলে গিয়েছে তারা কিভাবে এই মার্কেটে থাকে সেটা তিনি দেখে নিবে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা অনেক আতঙ্কে মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা যায়।

সরজমিনে মার্কেটে ঘুরে দেখা যায়, পলওয়েল সুন্দর একটি মার্কেটে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তারা। সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কবির হোসেনের ভয়ে মার্কেটে কেউ কথা বলতে পারে না, মার্কেটে বেচা-কেনা খুবই কম, অনেকের তিন মাস, চার মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ ও জমিদারি বিল বাকি রাখে, যদি কেউ কোন কথা বলে তাহলে সাথে সাথে তার দোকানে লাইন কেটে দেওয়া হয়। যারা কবির হোসেনের সাথে সিন্ডিকেট করে চলেন তাদেরকে সার্ভিস চার্জ জমিদারী বিল বছরে ১ বার দিলেও কোন সমস্যা হয় না বলে জানা যায়।

পলওয়েল সূত্র জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের সাথে সু সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন উর্মি। এই উর্মি আক্তার পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেনের পরিচয় ব্যবহার করে মার্কেটের অন্যান্য উদ্যোক্তাদের দোকান বরাদ্দ নিতে নিরুৎসাহিত করেন। উর্মি আক্তারের কথার অমতে দোকান বরাদ্দ নিলে পুলিশ কর্মকর্তা কবির হোসেন এর পাওয়ারে কিশোর গ্যাং দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং দোকান ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন থাকেন। ভুক্তভোগী একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন সাকিব ও উর্মীর‌ অন্যায়ের কোন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলেই সাথে সাথে কবির হোসেন ফোন দিয়ে তার কনস্টেবলদেরকে পাঠিয়ে আমাদেরকে হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে বাহিরে থেকে কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের এনে আমাদেরকে হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী মহিলা উদ্যোক্তাকে সাকিব ও উর্মীসহ তার কর্মচারীরা মারতে আসে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। (হুমকি ও মারতে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে এসেছে) এই ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় কিছুদিন আগে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাসুদা নামে একজন উদ্যোক্তা, সেখানেও অদৃশ্য কারণে কবির হোসেন সেই অভিযোগটি আটকে রেখেছেন থানা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ভুক্তভোগী মহিলা উদ্যোক্তা মাসুদা পুলিশের হেড অফিস বরাবর ও পলওয়েল কারনেশনের দোকান মালিক সমিতি বরাবর একটি চিঠি দিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। কিন্তু পলওয়েল হেড অফিস বরাবর যে চিঠিটি দেয়া হয়েছে কবির হোসেন সেই চিঠিটিও আটকে রেখেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে দেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাসুদা । কবির হোসেন সিন্ডিকেটের সাকিব ও উর্মিকে বাঁচানোর মরন কামড়ে মেতে উঠছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মার্কেট ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি আমরা, কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দোকানে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়, থানা পুলিশের ভয় দেখায়, মামলা দিয়ে জেলে ভরে দিবে সেই ভয় দেখায়। বলে ৪-৫ জন পুলিশের ডিআইজির সাথে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করি কেউ আমাকে কিছু করতে পারবা না বলেও হুমকি দেয় কবির হোসেন।

মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশ কর্মকর্তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে উর্মি আক্তার প্রভাব এতটাই বেশি যে, কেউ তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচার পযর্ন্ত দিতে ভয় পায়। জানা যায় সাকিব ও উর্মির গোল্ডের দোকানে চুরি হয়, সে বলে তার দোকানে ৭০ লক্ষ টাকার গোল্ড ছিল, সরজমিনে দেখা যায়, গোল্ড এর চেয়ে তার দোকানে গোল্ড প্লেট বেশি এবং তিনি পুরানো গোল্ড কেনা-বেচা করেন।

প্রতিবেশী দোকান মালিকরা বলেন, সর্বসাকুল্যে তার দোকানে ১০/১৫ লক্ষ টাকার গোল্ড আছে। তিনি ৭০ লক্ষ টাকার গোল্ড ক্রয় করেছেন তার কোন মেমো পাওয়া যায়নি সে দেখাতেও পারবেনা। মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানে চুরির ঘটনার সম্পূর্ণ সাজানো নাটক এবং সাজানো নাটক কেন্দ্র করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারদের কাছে সহানুভূতি নিয়ে, পলওয়েলের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে নিজে অনৈতিক সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন এই সাকিব ও উর্মি এবং কবির হোসেন সিন্ডিকেট।

কবির হোসেন ও তার সিন্ডিকেটের যন্ত্রণায় অতিষ্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা ফুঁসে উঠেছে যে কোন সময় তারা মানববন্ধন সহ যে কোন আন্দোলনে যেতে পারেন। এবং তারা দাবি করেছেন পলওয়েল কর্তৃপক্ষের কাছে যাতে কবির হোসেন সহ দুইজন কনস্টেবল কে অবিলম্বে এখান থেকে প্রত্যাহার করে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক এবং মার্কেটকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কাছে আবেদনও করেন।