অবসরের ১১ বছর পর কাস্টমসের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামে অবসরে যাওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পর কাস্টমস বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার আহসান হাবিব ও তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট তিন কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে মামলাগুলো দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম।

দুদকের তথ্যানুযায়ী, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আরও ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ গোপন ও ৬৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা আহসান হাবিব ১৯৮০ সালে কাস্টমস বিভাগে পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরি শেষে ২০১২ সালে সহকারী কমিশনার পদে উন্নীত হয়ে ২০১৪ সালে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তাঁরা দুজনই দুদকের কাছে তাঁদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই ধারায় তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। তবে ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আহসান হাবিবকেও সহযোগী আসামি করা হয়েছে, কারণ তিনি চাকরিরত অবস্থায় অবৈধ অর্থে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্পদ বিবরণীতে আহসান হাবিব নিজ নামে মাত্র ৯ লাখ টাকার কিছু বেশি স্থাবর সম্পদ ও ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানা দেখান প্রায় ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ, তবে অস্থাবর সম্পদ নেই বলে দাবি করেন। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করলেও দুদকের তদন্তে তাঁর ব্যবসার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব মেলেনি।

চাকরিজীবনের এক দশক পরও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই মিলল না এই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর। দুদকের তদন্তে এখন দেখা যাবে—তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি টাকার এই অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।




গণপূর্তের ক্ষমতাধর প্রকৌশলী ড. মঈনুল: রাজনীতির ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য আলোচিত-সমালোচিত। এই অনিয়মের পেছনে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নাম এসেছে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামের।

ড. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শাস্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও বেঁচে গেছেন।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই মঈনুলের নানা বিতর্ক ছিল। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যখন ১৫তম ব্যাচের অন্য সহকারী প্রকৌশলীরা যোগ দেন, তিনি যোগ দেন ৯ মাস পর—১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট। এরপর এক সময় ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি চাকরি হারাননি। বরং আপিলের মাধ্যমে পুনর্বহাল হন—যা স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে তাকে “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” নামে ডাকা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন। শুধু তিনটি বড় প্রকল্প থেকেই তিনি শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশে ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ—সবই তার নামে বা পরিবারের নামে আছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে তিনি বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. মঈনুল ইসলামের নাম উঠে আসে কুখ্যাত ঠিকাদার জি কে শামীমের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও। র‌্যাবের হাতে শামীম গ্রেফতারের পর তদন্তে প্রকাশ পায়, গণপূর্তের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন ভাগাভাগি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ—সবকিছুতেই জড়িত ছিলেন মঈনুল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীরা এক মামলায় ৩১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

এই সব অভিযোগ তদন্তে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২০ সালের শেষ দিকে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। দুদক তার সম্পদের উৎস যাচাই করে অনেক অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পায়।

ড. মঈনুলের দুর্নীতির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিল খুলনা অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা। খুলনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মাহবুব মোল্লা লিখিত অভিযোগ দেন—টেন্ডারে অনিয়ম, ঠিকাদার বাছাইয়ে পক্ষপাত ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে। হাসপাতাল, থানা ভবনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ভুতুড়ে’ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নয়, বরং একটি সাংগঠনিক দুর্নীতির চক্র—যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা মিলে “দুর্নীতির সিন্ডিকেট” গড়ে তুলেছেন। তারা সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় এবং পরে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়।

ফলে জনগণের করের টাকায় চলা প্রকল্পগুলোর মান দিন দিন কমছে। সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষ ভুগছে নিম্নমানের নির্মাণকাজের ভোগান্তিতে।

একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যখন রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে বছরের পর বছর দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন, তখন এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যর্থতার প্রতিফলন। প্রশ্নটা সেখানেই—কোন শক্তি এত বছর ধরে তাকে অদৃশ্যভাবে রক্ষা করেছে?




খাজনা দিতে গিয়ে প্রতারণা, রসিদে কম টাকা দেখালেন ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন

মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে—অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে রসিদে কম পরিমাণ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভুক্তভোগী রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে লতিবপুর এলাকার কামরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জমির খাজনা দিতে গেলে আল-আমিন মিয়া তার কাছে মোট ৩৩ হাজার ৭৫৯ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে দেখানো হয় মাত্র দুইটি পরিমাণ—একটি ১ হাজার ৫৬২ টাকা এবং আরেকটি ১ হাজার ৮৭৯ টাকা। বাকি টাকার হিসাব জানতে চাইলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তার।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানও। তিনি জানান, খাজনা বাবদ ৬ হাজার ৮৩ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে লেখা হয় মাত্র ১ হাজার ৮৩ টাকা। তার অভিযোগ, “ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, কিন্তু রসিদে খুব অল্প দেখান।”

স্থানীয়রা জানান, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা প্রদান—টাকা ছাড়া হয় না। অফিসে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অফিস এখন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিনের অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা এখন হাতে হাতে টাকা নেই না। সব কিছু অনলাইনে হয়। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

তবে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আগে জানা ছিল না, এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে যেহেতু লিখিত অভিযোগ গেছে, নির্দেশ পেলেই তদন্ত শুরু হবে।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




নাচোল ইউএনও কামাল হোসেন ওএসডি: মুক্তিযোদ্ধা কোটা জালিয়াতি তদন্তে করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামাল হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্বহীন করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কামাল হোসেনের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার ভিত্তিতে জানা গেছে, কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই কৌশলে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি লাভ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মা–বাবার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কামাল হোসেনের ডিএনএ নমুনা তার প্রকৃত মা-বাবা এবং চাচা-চাচির ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালতের অনুমতির পর দুদক এই পরীক্ষার অনুমোদন দেয়। দুদক সূত্র জানায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগের পর অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন যুগ্ম-সচিব রোকেয়া বেগম এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপসচিব এস এম নোমান হাসান খান।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব থাকাকালীন সময়ে জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনৈতিক অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগটি করেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রূপসী ফ্লাওয়ার রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের মালিক মো. মহিদুল হক। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তার মিলকে ওএমএসের একক পেষণ ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশসহ প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে সেই অনুমোদন নথি অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদের টেবিলে গেলে তিনি নথিতে স্বাক্ষর না করে মহিদুল হকের নিকটাত্মীয়, শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মীর শাহে আলমকে সচিবালয়ে ডেকে আনেন। সেখানে অনুমোদনের শর্ত হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মহিদুল হক অভিযোগ করেন, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিয়াউদ্দিন ফাইল অনুমোদন না দিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে তার মিলের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন এলেও জিয়াউদ্দিন তা উপেক্ষা করে তাকে হয়রানি করতে থাকেন।

এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গঠিত কমিটিকে প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা এবং সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ভুয়া অ্যাকাউন্টে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুদকের মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তিন ব্যাংকের ১২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সঞ্চয়পত্রের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সংস্থাটি, যাদের মধ্যে ১০ জনই ব্যাংক কর্মকর্তা।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে প্রথম এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্প্রতি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুধবার (৫ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ক্যাশ অফিসার মো. সিকদার লিয়াকত, রূপালী ব্যাংকের সাবেক জুনিয়র অফিসার (বর্তমানে বরখাস্ত) শিবলী সাদিক ফয়সাল, প্রিন্সিপাল অফিসার মাহবুবুর রহমান, জোনাল অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) সঞ্জয় কুমার সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, প্রিন্সিপাল অফিসার রওশন রহমান ও সহকারী অফিসার শিফাইন মোস্তারী।
এছাড়া উত্তরা ব্যাংকের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত সাবেক অফিসার মেহেদী হাসান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মেহেদী হাসান, এবং দুই গ্রাহক মো. সালাউদ্দিন ও সামসুল আহসান বিল্টুকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে তিন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখা, উত্তরা ব্যাংকের বরিশাল শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের সদর রোড কর্পোরেট ও সেন্ট্রাল বাসটার্মিনাল শাখা ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে জানা যায়, তিন দফায় এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়—প্রথম দফায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার ৭২৭ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৮ টাকা, এবং তৃতীয় দফায় ৪৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্র শাখা এবং সরকারি হিসাব বিভাগের (পিএডি) মাসিক বিবরণী যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি চোখে পড়ে। এরপর ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরিশালের কোতয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দুদক এখন মামলাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




বিসিএস কর্মকর্তার বাবার পরিচয় যাচাই করতে যাচ্ছে দুদক, করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনের বাবা-মায়ের পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাচাই করতে যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচা মো. আহসান হাবীবকে বাবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি অর্জন করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, মা-বাবার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তারা ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, মো. কামাল হোসেন তার প্রকৃত বাবা-মা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবিয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা-চাচি মো. আহসান হাবীব ও মোছা. সানোয়ারা খাতুনের নাম ব্যবহার করেছেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারি চাকরি পান।

এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদে তিনি জাল তথ্য ব্যবহার করেছেন। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায়। প্রতারণার মাধ্যমে পিতৃপরিচয় পরিবর্তনের এই অভিযোগ প্রমাণের জন্য দুদক এখন ডিএনএ পরীক্ষা করতে যাচ্ছে।

মামলাটি গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু দ্বারা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দায়ের করা হয়।




৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের সাবেক এমডি ও জিএম কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আবছার এবং তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শারমিন জাহান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিজিএফসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ টি এম শাহ আলম নিজের জন্মসাল পরিবর্তন করে বয়স জালিয়াতি করেন। তাঁর এনআইডি ও শিক্ষাগত সনদে জন্মসাল ১৯৬১-এর পরিবর্তে ১৯৬২ দেখিয়ে তিনি চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে নেন। এতে তিনি ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবসরের সময় অতিক্রম করার পরও অতিরিক্ত এক বছর কর্মরত থেকে প্রায় ৭৪ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি বেতন ও ভাতা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিএফসিএল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ মেলায় বোর্ড সভায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, এ টি এম শাহ আলমকে এই প্রতারণায় সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন এমডি নুরুল আবছার ও জিএম (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদার।

ঘটনার পর বিজিএফসিএলের তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাসার মিজি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি এ টি এম শাহ আলম মামলা হওয়ার পরপরই দেশ ত্যাগ করেন। অপর দুই আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন, তবে সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগগুলো জামিন অযোগ্য ধারার হওয়ায় আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




হাসপাতালের কোয়ার্টারে ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বার: তাড়াইলে দুদকের অভিযানে অনিয়মের চিত্র

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। ছদ্মবেশে পরিচালিত এই অভিযানে টিম দেখতে পায়, হাসপাতালের এক চিকিৎসক নিজ কোয়ার্টারেই ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় টিম হাসপাতালের বহির্বিভাগে আগত রোগীদের ওষুধ সরবরাহের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে। দেখা যায়, অনেক রোগী ঠিকমতো ওষুধ পাচ্ছেন না। হাসপাতালের খাবারেও অনিয়ম ধরা পড়ে—রোগীদের জন্য নির্ধারিত ১৮০ গ্রামের পরিবর্তে মাত্র ১২৫ গ্রাম মাংস দেওয়া হচ্ছে, ১০০ গ্রামের পাউরুটির পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ৫০ গ্রাম, আর নির্ধারিত ৫০ গ্রাম চিনি দেওয়া হয়নি। রান্নাঘরে ডায়েট চার্ট না থাকা, নোংরা পরিবেশ এবং বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা টিমের নজরে আসে।

তাছাড়া, হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল, ওয়ার্ডে বেডশিটগুলো ছিল অপরিচ্ছন্ন। ডিউটি থাকা ডাক্তাররা নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অভিযানে পাওয়া এসব অনিয়মের বিষয়ে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে টিম একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে দুদক।




চট্টগ্রাম কাস্টমসে বড় জালিয়াতি: ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার অনুমোদন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের শুল্ক ব্যবস্থার ইতিহাসে আলোচিত “অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম” জালিয়াতি মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কনটেইনার খালাসে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাবেক ও বর্তমান মোট ১০ জন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং পাঁচজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. আক্তারুল ইসলাম জানিয়েছেন, কমিশনের অনুমোদন ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, এবং মামলাটি শিগগিরই দায়ের করা হবে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাসুদেব পাল, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক ও দিদারুন নবী। এছাড়া সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রনি বড়ুয়া ও মো. আরিফুর রহমান, এবং বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা ফারহানা আকরাম ও মো. মাহবুবুর রহমানকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— অন্তরা করপোরেশনের মালিক মো. মুশতাক খান, মেসার্স এ. অ্যান্ড জে. ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার মো. আবদুল জলিল আকন ও মো. আলতাফ হোসেন, মেসার্স প্যান বেঙ্গল এজেন্সির মো. সেলিম, এবং জিআর ট্রেডিং করপোরেশন সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুল রহিম।

দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় আত্মসাৎ, প্রতারণা, জাল নথি প্রণয়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে “অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম” হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে জানা যায়, কাস্টমস কর্মকর্তারা সফটওয়্যারের দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চার হাজারেরও বেশি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে অসংখ্য কনটেইনার অবৈধভাবে খালাস করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।

বহু বছর অনুসন্ধানের পর অবশেষে মূল জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ দেশের কাস্টম প্রশাসনে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।