খুলনা গণপূর্তে সাত বছরে গড়ে ওঠা নীরব দুর্নীতির বলয়: উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত জোনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র—এমনই অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী প্রকৌশলী (এস্টিমেটর) মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যবহার করে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন আদায়, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে সাধারণত তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু মো: মিজানুর রহমান ব্যতিক্রমীভাবে টানা সাত বছর ধরে খুলনা গণপূর্ত জোনেই বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ও বিশেষ সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি বারবার বদলির আদেশ ঠেকিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ এগোনো কার্যত অসম্ভব।

ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান, মিজানুর রহমানের কক্ষে সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের ঢুকতেই দেওয়া হয় না। দেখা করতে চাইলে দুর্ব্যবহার করা হয়, ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এমনকি অফিসের ভেতরেও তার কক্ষকে ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে দেখা হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার আচরণে চরম বিরক্ত ও ভীত বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বালাই নেই—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা সুবিধা পায়। যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নানা অজুহাতে বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা বড় অঙ্কের কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিল আটকে রাখা হয় কিংবা কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নির্মাণকাজের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ হলেও কোনো যাচাই ছাড়াই পূর্ণ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের অবকাঠামো জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের মানের সঙ্গে অনুমোদিত বিলের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারি পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগিয়েছেন। ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের কথাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ বারবার ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—তাহলে এতদিন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে—খুলনা গণপূর্তের এই দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র ভেঙে দিতে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে মো: মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এখন প্রশ্ন একটাই—খুলনা গণপূর্তের এই নীরব দুর্নীতির দেয়াল কি আরও কিছুদিন অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়ে টিকে থাকবে, নাকি সত্যিই এবার শুরু হবে জবাবদিহির কঠোর অধ্যায়?




গণপূর্তে সমীরণ মিস্ত্রী বিতর্ক: পরকীয়া অভিযোগ থেকে সংসদ ভবনে শতকোটি টাকার দুর্নীতির ছায়া

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর নাম ঘিরে। ব্যক্তিগত জীবনের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের মধ্য দিয়েই মূলত আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। কিন্তু অনুসন্ধানে সামনে আসছে আরও গুরুতর বিষয়—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে সমীরণ মিস্ত্রীর সম্পর্ক ছিল শুধু পেশাগত নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একই বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করা, একসঙ্গে চলাফেরা এবং এমনকি ভারত ভ্রমণের ঘটনাও দপ্তরের ভেতরে আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়, যা দপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদ ভবনের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগে তার দায়িত্বকালকে ঘিরে। ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। এই সময়েই তাকে ঘিরে ওঠে ভয়ংকর দুর্নীতির অভিযোগ। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে কার্যত একজন অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এবং তাকে আড়ালে “টাকাখেকো ইঞ্জিন” বলেও ডাকা হতো।

অনুসন্ধানে যেটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, সেটি হলো তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবনের ভেতরে ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো আলাদা দরপত্র দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে এগুলো ছিল উন্নয়ন প্রকল্প, কিন্তু বাস্তবে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন ও কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল সমীরণ মিস্ত্রীর হাতেই।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে পুরো অঙ্কে। কোথাও পুরোনো যন্ত্রাংশ দেখিয়ে নতুন কেনাকাটা, কোথাও অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের নামে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত অনুপস্থিত ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এতসব অভিযোগের পরও সমীরণ মিস্ত্রী এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তাকে ই/এম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকেও সেখানে বদলি করা হয়। এই একসঙ্গে বদলির বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল?

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকেই। এত বড় পরিসরের দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির আরেকটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগে ঘুরপাক খাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের নাম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২–এ দায়িত্ব পালনকালে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহর মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের একাধিক কাজ পাইয়ে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙে কাজ দেওয়া হলেও অনেক প্রকল্প শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব কাজের আইডি নম্বর হিসেবে উঠে এসেছে 997828, 997827, 997826, 997825, 995647, 994880, 994647, 994646, 994817 ও 994818। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প তদন্ত হলে ‘ওটিএম কেলেঙ্কারি’র মতো বড় অনিয়ম সামনে আসতে পারে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশক ধরে টেন্ডার বাণিজ্য ও বদলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। ওই দরপত্রগুলোর আইডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 1056148, 1057945, 1056137, 1056138, 1056145, 1057947, 1057196, 1056073, 1057101 ও 1018075।

এছাড়াও আরবরিকালচার বিভাগে ভুয়া ফুল ও গাছ রোপণের বিল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং বানোয়াট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তার অনুসারী কিছু কর্মকর্তা এসব ভুয়া ভাউচার প্রস্তুত ও বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।

সূত্র আরও দাবি করছে, ঢাকার এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কিংবা ঢাকার বাইরে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে মনিরুল ইসলাম একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। বদলি হলেও নানা কৌশলে তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি বড় সিন্ডিকেট প্রকাশ পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি বা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




বদলি ও নিয়োগে কোটি টাকার অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে ওয়াসা প্রশাসন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার ভেতরে আবারও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে আছেন সংস্থাটির উপ-সচিব (প্রশাসন-১) নুরুজ্জামান মিয়াজী। ওয়াসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি ও নিয়োগকে হাতিয়ার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং নিজের অবস্থান শক্ত করতেন।

নুরুজ্জামান মিয়াজীর বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। একসময় ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে চাকরি থেকে বরখাস্তও হয়েছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা ও কুমিল্লার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় থেকেই ওয়াসার ভেতরে তার প্রভাব বাড়তে থাকে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াসায় শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর তাকে প্রশাসন বিভাগ-২ থেকে সরিয়ে শ্রম ও কল্যাণ বিভাগে বদলি করা হয়। এই বিভাগটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসার বিএনপিপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম খান (অবসরপ্রাপ্ত) এবং সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পাটোয়ারির সহযোগিতায় তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার প্রশাসন-১ বিভাগে ফিরে আসেন।

পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার পর নুরুজ্জামান মিয়াজী আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। সেই সময় ওয়াসায় সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় পরিস্থিতির সুযোগ নেন তিনি। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বদলি এবং নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠে। এই চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে ৩০ ডিসেম্বর দায়ের করা একটি অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি প্রায় দুই শত আউটসোর্সিং কর্মচারীর বদলি এবং চল্লিশ জন বিলিং সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নুরুজ্জামান মিয়াজী, আজিজুল আলম খান এবং মনির হোসেন পাটোয়ারি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ওয়াসার ভেতরে কর্মচারী ও ঠিকাদারদের কাছে নুরুজ্জামান মিয়াজীকে ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় অভিযোগপত্রে। বলা হয়েছে, তার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ গেলে বদলি, হয়রানি কিংবা চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো। এমনকি তার নিজের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষায় নবম স্থান অর্জন করলেও প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি এই পদে আসীন হন।

এছাড়া ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও নুরুজ্জামান মিয়াজীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকসিম এ খানের সময়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে যে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে, তার অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দুর্নীতির টাকায় নুরুজ্জামান মিয়াজী বর্তমানে প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক। তার এসব সম্পদ ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন সঠিকভাবে তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা প্রচার করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান মিয়াজী। তার দাবি, বদলি ও নিয়োগের বিষয়টি সত্য হলেও সংখ্যা কম। এসব সিদ্ধান্ত এমডির দপ্তর থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী হয়েছে, এতে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এ বিষয়ে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী শওকত মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ক্ষমতার আড়ালে গণপূর্তে ভয়ংকর অনিয়ম: কুষ্টিয়ায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প মানেই এখন অনেকের কাছে অনিয়ম আর দুর্নীতির আশঙ্কা। বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সেই প্রশ্ন এবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে। এখানকার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আড়ালে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত সরকারি বেতনে চাকরি করেও জাহিদুল ইসলাম খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবনের মালিক হন। কীভাবে একজন সরকারি প্রকৌশলীর পক্ষে এত সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, প্রশাসনের ভেতরেও নীরবে আলোচিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রকল্পে অনিয়ম ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে একটি টেন্ডার সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়। এই সিন্ডিকেটে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের নাম বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রভাবেই পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং এতে সরকারকে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

দরপত্রের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ ও সিসিইউ ভবনের লিফটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়মিতভাবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে দরপত্র নিষ্পত্তি কয়েক মাস ঝুলিয়ে রাখা হতো। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ বা কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না। এই সুযোগে সুপারস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বেশি দামে কাজ দেওয়া হতো।

একই ধরনের অনিয়ম সড়ক, ড্রেন, পুকুর সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও হয়েছে বলে অভিযোগ। মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কাজ পায়নি, অথচ গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েটসের মতো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়—যাদের হাতে তখনই প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান ছিল। এতে কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর একটি হলো—কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের একটি পুরোনো সরকারি বাসভবন ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর পুরোনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবনে একই জায়গায় বারবার ‘মেরামতের’ নামে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই বছরের জুন মাসেই একাধিকবার কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডিসি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল, সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট ও ডিসি অফিস এলাকায় একই অর্থবছরে বারবার টেন্ডার ডেকে কাজ দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ওভারল্যাপিং প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এত বড় ও গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন—এই নীরবতা কি কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাব কাজ করছে?

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুশাসন ও স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কুষ্টিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে না—এমন আশঙ্কাই এখন বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছে।




এক যুগের বেশি সময় ধরে খুলনা গণপূর্তে একই ব্যক্তি: বদলি ঠেকাতে তদবীর, প্রকল্পে লুটপাট আর অদৃশ্য শক্তির দাপট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ একটি সরকারি দপ্তর নয়, বরং একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন খুলনাবাসীর মুখে মুখে। বদলির আদেশ এলেই তা বাতিল হয়ে যায়, আর সেই বাতিলের পেছনে কাজ করে রাজনৈতিক তদবীর, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অদৃশ্য ছায়া। এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, যিনি নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই দপ্তরে বহাল আছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন প্রকৌশলীর তিন বছর পরপর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও, মো. সাইফুল ইসলাম ২০১৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ ছাড়েননি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি শেখ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এবং খুলনা মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজনের নাম বারবার উঠে আসে তার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে।

এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাইফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের উপর নিয়মিত চাপ ও ভয়ভীতি তৈরি করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে টেন্ডার, বিল অনুমোদন এবং কাজের মাপজোখ—সবকিছুই তার ইচ্ছামতো চলত। ধীরে ধীরে পুরো বিভাগ কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের জন্য প্রতি বছর এডিপি, স্বাস্থ্যখাতের বিশেষ বরাদ্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালের অবস্থা করুণ। ভবনগুলো জরাজীর্ণ, ওয়াশরুম অচল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং পয়োনিষ্কাশনের অবস্থা ভয়াবহ। অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে নিয়মিত সংস্কার ও উন্নয়ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব চিত্র নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই কাজ বারবার নতুন করে দেখিয়ে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। নকশার বাইরে গিয়ে এস্টিমেট তৈরি, মেজারমেন্ট বুক না মেপেই বিল তৈরি এবং ভুয়া কাজ দেখিয়ে টাকা তোলা ছিল নিয়মিত চর্চা। এসব অনিয়মের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘কোভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্প’-এর আওতায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও ৫ শয্যার প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজে এসব অনিয়মের লিখিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট অডিট টিম সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রায় ৪৪ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের তথ্য চিহ্নিত করে। অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এন বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারীও অভিযোগ করেছেন, নকশাবহির্ভূত এস্টিমেট নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাইফুল ইসলাম তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদার বাধ্য হয়ে কেবল যতটুকু দেখানো হয়েছে, ততটুকুই কাজ করেন।

বদলির আদেশ এলেই শুরু হতো তদবীরের খেলা। ২০২০ সালের নভেম্বরে তাকে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হলেও মাত্র দুই মাসের মধ্যেই শেখ সোহেল ও শেখ শাহজালাল সুজনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি আবার খুলনায় ফিরে আসেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র চার মাসে তিন দফা বদলি ও বাতিলের পেছনে তিনি ৩০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেট থেমে নেই। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা ঠিকাদার শওকতকে সামনে রেখে এখন বিএনপি নেতা লাভু বিশ্বাসের আশ্রয়ে একই কায়দায় খুলনা গণপূর্ত বিভাগে প্রভাব বজায় রেখেছেন সাইফুল ইসলাম। ফলে রাজনৈতিক রং বদলালেও দুর্নীতির ধরন বদলায়নি।

এ অবস্থায় খুলনাবাসীর প্রশ্ন—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কীভাবে একজন বিতর্কিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এক যুগের বেশি সময় একই দপ্তরে বহাল থাকেন? কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থ এবং স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ কি তাহলে একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি?

খুলনাবাসী এখন জোরালোভাবে দাবি তুলছেন—গণপূর্ত উপদেষ্টা, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অবিলম্বে মো. সাইফুল ইসলাম ও তার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে খুলনা থেকে অপসারণ করা হোক। তা না হলে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ উন্নয়নের নয়, দুর্নীতির প্রতীক হিসেবেই ইতিহাসে পরিচিত হয়ে থাকবে।




খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ অনিয়মের অভিযোগে ঘন কুয়াশা: নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এমন একটি দপ্তর, যার ওপর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও উন্নয়ন কাজের বড় দায়িত্ব থাকে। কিন্তু এই দপ্তরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদার, দপ্তরের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো হঠাৎ করে ওঠেনি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো আরও জোরালো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কামরুল ইসলামের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরেই তিনি একজন প্রভাবশালী কিন্তু বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে দপ্তরের ভেতর-বাইরে আলোচনা দীর্ঘদিনের।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো সরকারি সম্পদ বিক্রির নিলাম নিয়ে। অভিযোগ আছে, খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর অধীনে থাকা সিএন্ডবি কলোনি ও জোড়া গেট এলাকার কয়েকটি সরকারি ভবন বিক্রির সময় নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্রয়বিধি পিপিআর-২০০৮ পুরোপুরি অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। এর ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

কেবল খুলনাতেই নয়, এর আগের কর্মস্থল গোপালগঞ্জের সময়কার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সেখানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরেও আসে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেই অভিযোগের সঠিক তদন্ত হয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়—এমন কথাও শোনা যায়।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগও কম নয়। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, মো. কামরুল ইসলাম আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘হিডেন টেন্ডার’ বা গোপনে দরপত্রের ব্যবস্থা করে নিজের পছন্দের একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে থাকা ঠিকাদাররা নিয়মিতভাবে কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের ভেতরে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া করে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার ও কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুমোদন, দরপত্র ছাড়, টিইসি রিপোর্ট তৈরি কিংবা বিল পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার ফাইল আটকে রাখা হয়, অযথা জটিলতা তৈরি করা হয় এবং মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলেও দাবি করা হচ্ছে। আগে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় নিজেকে নতুন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলছে, তখন খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আরও বেড়েছে। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া সত্য বেরিয়ে আসবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগগুলো আদৌ তদন্তের আওতায় আসবে কিনা, নাকি আগের মতোই প্রভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে।




হাতিবান্ধার গোতামারীতে মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ: রংপুরে চিকিৎসাধীন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন মাদক চোরাকারবারিকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আহত যুবক হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে মোঃ রনি মিয়া (২২)। বর্তমানে রনি মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ দইখাওয়া বিওপির একটি টহলদল নিয়মিত সীমান্ত টহল চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পায়। পরে সীমান্ত পিলার নম্বর ৯০২-এর নিকটবর্তী এলাকায় গিয়ে কয়েকজন লোককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায় এবং গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ সময় বিজিবি আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বিজিবি জানায়, এর আগেও গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আহত হন রনি। ওই ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে গেলে প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে তার উপস্থিতি অস্বীকার করা হয়।

এ ঘটনায় বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। বিজিবির জানায়, আহত ব্যক্তি রনি ওই সীমান্ত এলাকায় মাদক বহন ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।




কুড়িগ্রামে ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গাজীপুরে গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ বাদল মিয়া (২৯)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ জহুরুল ইসলাম।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই শওকত আলম সিদ্দিকী সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনালগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে সোমবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ঠাকুরগাঁও জেলার একটি মামলায় (জি আর ৯৭/১৯, রানি সংকল) ১০ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
পুলিশের এই সফল অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।



চেক জালিয়াতির অভিযোগে বাহারছড়া থেকে আটক গণপূর্ত ঠিকাদার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে জেলা গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার জালাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া জালাল উদ্দীন বাহারছড়ার বাসিন্দা এবং সালেহ আহমদের ছেলে। তিনি গণপূর্ত ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলেও জানা গেছে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় দায়ের করা সিআর ৪৭১/২৫ নম্বর একটি মামলায় তিনি প্রধান আসামি। অভিযোগ রয়েছে, চেক প্রদান করে তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল বা অর্থ না রেখে প্রতারণামূলকভাবে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইন অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে আর্থিক জালিয়াতির একাধিক তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, অতীত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।