গণপূর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার: নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়ম ভাঙা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। সরকারি দপ্তরকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করে তিনি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব ও শৃঙ্খলার প্রতি তার এই অবহেলা দেখে অনেক সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

একসময় নিয়াজ মো. তানভীর আলম বঙ্গভবনে এসডিই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি আজিমপুর এলাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় দায়িত্বে ছিলেন। সেখান থেকে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে সচিবালয়ে বদলি করা হলেও তিনি নির্ধারিত নিয়ম মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, বদলির পর এক মাসেরও বেশি সময় তিনি একসঙ্গে দুটি ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করেন, যা স্পষ্টভাবে সরকারি আদেশের লঙ্ঘন। এমনকি দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ না করে ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল ছাড় করেন এবং এর মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যে জড়ান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং একই সময়ে দুই জায়গায় অফিস চালিয়েছেন, ব্যবহার করেছেন দুটি সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি সুবিধা। বিভিন্ন বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা ঘিরে সরকারি দপ্তরে প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির জোরে তিনি বারবার আইন ও নিয়ম ভেঙে পার পেয়ে যাচ্ছেন?

আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে নির্মাণাধীন বহুতল মেকানিক্যাল কার পার্কিং শেড নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ডিপিপিতে যেখানে ২৮৮টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, সেখানে অনুমোদন ছাড়াই তা কমিয়ে ২৪০টিতে নামিয়ে আনা হয়। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকা সাশ্রয় হলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই কাজের জন্য আলাদা আলাদা দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাকা ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এই অনিয়মের তদন্তে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) শফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য সচিব ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখর চন্দ্র বিশ্বাস এবং সদস্য ছিলেন আশেক আহমেদ শিবলী। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা কমানো স্থপতির এখতিয়ার বহির্ভূত এবং এটি প্রকল্প পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছাড়া করা ঠিক হয়নি। তবুও এসব অনিয়মের পরও প্রকৌশলী তানভীর আলম কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।

লিফট স্থাপনের টেন্ডারেও গুরুতর কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। মতিঝিল ও আজিমপুর সরকারি কলোনিতে মোট ৬৮টি লিফট স্থাপনের কাজ দেওয়া হয় রওশন এলিভেটরসকে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ২০ বছরের উৎপাদন অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সার্টিফিকেশন থাকার কথা ছিল। কিন্তু রওশন এলিভেটরসের ইতালীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মোভিলিফট’ এসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবুও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাদের দরপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা সরকারি ক্রয়বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

এ ছাড়া আজিমপুর নতুন কলোনিতে রক্ষণাবেক্ষণের নামে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ বেশিরভাগ ভবন নতুন হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজনই ছিল না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ভবনের নামে যে বৈদ্যুতিক কাজের বিল দেখানো হয়েছে, সেসব ভবনের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এমনকি যেসব বাসার নামে বিল করা হয়েছে, সেই বাসার বাসিন্দারাও কোনো কাজ হওয়ার কথা জানেন না। এতে করে ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এই পুরো সময়ে আজিমপুর ইএম বিভাগ-৩-এর দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম। তার সঙ্গে ছিলেন এ কে এম গোলাম মোস্তফা। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই প্রভাবশালী প্রকৌশলী রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ের ব্যবস্থা করেছেন, যার বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি দুই জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।




নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন একাউন্টে ১৫টি চেক নগদায়ন, বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে (PWD) সরকারি বিল পরিশোধের নিরাপদ ও নির্ধারিত প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম। অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারের বিলের চেকগুলো নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অন্তত ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে নগদায়ন করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV)-এর সঙ্গে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ১৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা থেকে ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ঋণ গ্রহণ করে। সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হলো—কাজের বিপরীতে ইস্যুকৃত প্রতিটি বিলের চেক সরাসরি ব্যাংকের নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দিতে হবে, যাতে ঠিকাদার অন্য কোনোভাবে অর্থ উত্তোলন করতে না পারেন।

এই শর্ত পূরণে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে ব্যাংককে জানায় যে, হাতিয়া মডেল মসজিদ প্রকল্পের বিপরীতে ইস্যুকৃত সব চেক পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অধীন KE-OG-DESH (JV)-এর নির্দিষ্ট একাউন্ট নম্বরের বরাবর ইস্যু করা হবে। এমনকি প্রতিটি চেকের গায়ে ওই একাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম উল্লেখ করার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। এই লিখিত নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই ব্যাংক ঠিকাদারের অনুকূলে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ৩ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিশ্চয়তার পরও বাস্তবে ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা নবায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগে একটি চিঠি পাঠায় এবং নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও বিল সংক্রান্ত চেকের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। এই চিঠির পরই সামনে আসে ভয়াবহ আর্থিক অসঙ্গতি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তখন পর্যন্ত ইস্যুকৃত ১৩টি চেকের মধ্যে প্রথম সাতটি ও শেষ একটি—মোট আটটি চেক নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দেওয়া হলেও মাঝের পাঁচটি চেক ওই একাউন্টে ইস্যু করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ঘটনা প্রকাশ পেলে তার চাকরি থাকবে না।

তবে এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর পরবর্তী সময়ে একই প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১০টি চেক ইস্যু করা হলেও একটিও নির্ধারিত ঋণ একাউন্টে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে মোট ২৩টি চেকের মধ্যে মাত্র আটটি সঠিক একাউন্টে জমা হয় এবং বাকি ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে নগদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত একাউন্টে জমা হওয়া আটটি চেকের মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কিন্তু বাকি ১৫টি চেকের অর্থ ভিন্ন পথে চলে যাওয়ায় ঠিকাদারের বিপরীতে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি আরেকটি বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের মুখে পড়েছে।

এই চেক জালিয়াতির পেছনে গণপূর্ত বিভাগের ভেতরের লোকজনের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন ও ক্যাশিয়ারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইমরান হোসেন নোয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই ইমরান হোসেন পদোন্নতি পেয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তদবিরে নিজ জেলা নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিশ্চিত করেন। একই কর্মস্থলে তিনি সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ক্যাশিয়ারও ২০০৪ সাল থেকে একই বিভাগে কর্মরত থাকায় স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে হিসাবরক্ষক ও ক্যাশিয়ারের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ঠিকাদারদের ঋণ থাকে এবং চেক প্রস্তুতের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। তারা চেক সইয়ের জন্য তার কাছে নিয়ে আসে এবং বলে যে একাউন্ট নম্বর রেজিস্টার দেখে চেকের গায়ে লিখে দেওয়া হবে। এরপর যদি তারা চেকের গায়ে নির্ধারিত একাউন্ট নম্বর না লিখে ঠিকাদারের হাতে তুলে দেয়, তাহলে তা তার জানার কথা নয় বলে তিনি দাবি করেন।




মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে রাজস্ব আত্মসাতের এক ভয়ংকর চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। সম্প্রতি রাজস্ব সংক্রান্ত একটি ঘটনায় পলায়নের অভিযোগ ওঠার পর এবার মধুপুর রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর তথ্য স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে নিলামের মাধ্যমে মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের লট নম্বর ১৫, ১৬, ১৯ ও ৩১/২৪-২৫ সহ একাধিক লট বিক্রি করা হয়। এসব লটের ক্রেতা হিসেবে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলী এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আলাল খান ও রহমত সরকার এবং টাঙ্গাইলের অরণখোলা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আয়নাল হকের নাম উঠে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে ডেকে কাঠ ব্যবসায়ী আলাল খানের কাছ থেকে লট নম্বর ১৫ ও ১৬/২৪-২৫ বাবদ ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, রহমত সরকারের কাছ থেকে লট নম্বর ১৯, ৩১ ও আরও একটি লট বাবদ ১৪ লাখ টাকা এবং আয়নাল হকের কাছ থেকে কয়েকটি লটের বিপরীতে প্রায় ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায় করা হলেও এসব অর্থ আজও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, কাঠ ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত লটের গাছ কেটে নিয়ে গেছেন এবং জামানতের অর্থও ফেরত পেয়েছেন। একই সঙ্গে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন ওই বনভূমিতে দ্বিতীয় আবর্তের বাগান সৃজন করেছেন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো—এত বড় অঙ্কের বিক্রয়মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ায় বন বিভাগের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বন বিভাগের সব পাওনা পরিশোধ করেছেন বলে মনে করলেও রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সরকারি রশিদের পরিবর্তে কাঁচা রসিদ বা টোকেন ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। বন বিভাগের সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য নির্ধারিত রশিদ বহি থাকা সত্ত্বেও কেন কাঁচা রসিদ ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন সম্প্রতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন কাঠ ব্যবসায়ীদের আবারও তার অফিসে ডেকে টাকা দাবি করেন। তখনই মূল তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। স্থানীয়দের মতে, তদন্ত হলেই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এদিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পাল্টা পোস্টে মোঃ মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, লাল চান নামের এক বাগান মালী (আউটসোর্সিং স্টাফ) পারিবারিক ঝামেলার কারণে পরিবার রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে এই ব্যাখ্যাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন আউটসোর্সিং স্টাফের পারিবারিক সমস্যার দায় কেন একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা নেবেন এবং কেন তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় জিডি করবেন—এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার নয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্টাফ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে রেঞ্জ কর্মকর্তার করণীয় হলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সেখানে থানায় জিডি করার বিষয়টি অনেকের কাছেই সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একজন আউটসোর্সিং স্টাফের কাছে রাজস্বের লক্ষ লক্ষ টাকা জমা রেখে নিশ্চিন্ত ছিলেন এবং ওই স্টাফের কোনো খোঁজখবর নেননি। স্থানীয়রা জানান, মুক্তাগাছার বানারপাড়া এলাকার করাতকল মালিক মোঃ শফি এবং আরও একজনের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে ওই স্টাফ লাল চান ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পাচার করেছে—যা এলাকায় মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইলের ডিএফও’র অত্যন্ত স্নেহভাজন হওয়ায় মোঃ মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ডিএফও, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও প্রধান বন সংরক্ষক মহোদয়ের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




১১ বছরের গোপন সিন্ডিকেট : গণপূর্ত প্রকৌশলী রাকিবুলের ঠিকাদারি সাম্রাজ্য ও কোটি টাকার লুটচক্রের অভিযোগে ঝড়

এসএম বদরুল আলমঃ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে মো. রাকিবুল হাসানের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গণপূর্ত অধিদপ্তরজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। কারণ, যাকে উচ্চ পদে উন্নীত করা হয়েছে, সেই কর্মকর্তা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরির পাশাপাশি গোপনে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করেছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে রাকিবুলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র—যেখানে তিনি দিনে সরকারি প্রকৌশলী, আর রাতে ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত। সহকর্মী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, রাকিবুল দুই পরিচয়ে কাজ করে কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং প্রকল্প লুটপাটের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাকিবুলের নির্দেশ ছাড়া তার এলাকায় কোনও প্রকল্প এগোয় না। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা, মাপজোখে জটিলতা সৃষ্টি করা কিংবা প্রভাব খাটানো ছিল নিয়মিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাবশালী নাম ব্যবহার করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ‘নিজেদের ঠিকাদার’ ছাড়া অন্য কাউকে কাজ করার সুযোগ দিতেন না।

তেজগাঁও উপবিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার ওঠার আগেই ঠিকাদারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত—কারা কাজ পাবে আর কারা পাবে না। অভিযোগকারীরা জানান, যেসব প্রকল্পে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের সুযোগ ছিল, সেখানে রাকিবুল নিজেই গোপনে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। ফলে প্রকল্পে তার স্বার্থ যুক্ত হলে বাইরের কোনও ঠিকাদারই কাজ পেতেন না।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। একটি প্রতিষ্ঠানের বিল ছাড় করতে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার ভুয়া ভেরিয়েশন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা কমিশন নিয়েছেন। আবার তেজগাঁও বিসিক ভবনের বেজমেন্টে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লেও মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বহু প্রকল্পে তিনি নিয়মিতভাবে ৫% পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করেছেন।

গণপূর্তের ভেতরে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে—গত কয়েক বছরে রাকিবুল কীভাবে আকস্মিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। অভিযোগ রয়েছে, তেজগাঁও শিল্প প্লট ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শত কোটি টাকা লোপাট করে তিনি ঢাকায় ফ্ল্যাট ও জমি, কুমিল্লায় ১০ কাঠা জমি এবং গাজীপুরে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন। আরও অভিযোগ আছে, হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে।

এ সব অভিযোগ সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঠিকাদারদের একটি অংশ মানববন্ধন করে রাকিবুলের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি দীর্ঘদিন গোপনে ঠিকাদারি ব্যবসা চালাচ্ছেন, কমিশন ছাড়া কোনও ফাইল এগোতে দেন না, আর কমিশন দিলে নিম্নমানের কাজও সহজে অনুমোদন পেয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেদিন কার্যালয়েও উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

পদোন্নতির পরই তার দীর্ঘদিনের গোপন সিন্ডিকেট ও অনিয়ম জাতীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। এখন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে—যে নেটওয়ার্ক এক দশকের বেশি সময় ধরে অদৃশ্য ক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে, সেই শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে কি সত্যিকারের তদন্ত সম্ভব?




ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নিয়ে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, আর্থিক লেনদেনে অসংগতি এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিল্লাল হোসেন সড়কের পাশে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার ও সঠিক লেনদেনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নাজিম উদ্দিন নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নির্দলীয় পরিচয় দিলেও পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি এলাকাভিত্তিক প্রভাব খাটাতেন, যার সুযোগে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে জমি কিনে এখনো অনেকের পাওনা পরিশোধ করেননি। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তাদের কেনা প্লট হস্তান্তর না করে উল্টো প্রতিটি প্লটে মালিকপক্ষ নিজেদের ‘শেয়ার’ দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কেউ কেউ জানান, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নির্মাণসামগ্রী আনা–নেওয়ার সময়ও বাধার মুখে পড়তে হয় এবং প্রয়োজনে ভয়-ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটছে।

এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, তার দুই কোটি টাকার বেশি পাওনা থাকা সত্ত্বেও নাজিম উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকার করছেন। বরং তিনি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন আহমেদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার কথায়, তার জমির সামনে দেয়াল তুলে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

অধিকাংশ ভুক্তভোগীই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য, যারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে জমি কিনেছেন। তাদের আশঙ্কা—যতদিন পর্যন্ত প্রশাসন ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ না করবে, ততদিন তাদের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে না। এজন্য তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




বেনাপোলে আমদানিকারকদের ভোগান্তি বাড়ছে—দুর্নীতির অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে ক্ষোভ

এসএম বদরুল আলমঃ বেনাপোল স্থলবন্দর ঘিরে আমদানিকারকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি—কাস্টমসের শুল্কায়ন গ্রুপ-২ (এ)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু মিয়া এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরিফিন নিয়মিত ঘুষ দাবি করেন এবং নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করেন। তাদের কথায়, এই দুই কর্মকর্তা নাকি প্রভাবশালী পরিচয় দেখিয়ে বন্দরজুড়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন যেখানে ঘুষ ছাড়া কোনো চালান এগোয় না।

অনেক আমদানিকারক অভিযোগ করেন, সনজু মিয়ার টেবিলে ফাইল উঠলেই স্বাক্ষর থেকে শুরু করে মূল্যায়ন—সবকিছুর জন্য আলাদা করে টাকা চাইতে দেখা যায়। কেউ টাকা দিতে না চাইলে চালান নাকি আটকে রাখা হয়, আবার কখনও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও পণ্য ঢাকা বুয়েটে পরীক্ষার নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়, এতে সময় নষ্ট হয় এবং ব্যয়ও বাড়ে। এসব কারণে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ছাড় করানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে।

কিছু ব্যবসায়ী জানান, এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় অনেকেই এখন বেনাপোল এড়িয়ে অন্য বন্দরে পণ্য ছাড় করছেন। এতে স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহন মালিক এবং বন্দরনির্ভর ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন আমদানিকারক দিদারুল ইসলাম বলেন, সনজু মিয়া যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দাবির ঘটনা বেড়েছে। তার ভাষায়—টাকা না দিলে মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া বা টেস্টে পাঠানোর ভয় দেখানো এখন নিয়মিত বিষয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে ঘুষের মাধ্যমে সনজু মিয়া নামে-বেনামে সম্পদ বাড়িয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের তুলনা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে। আবার কেউ অভিযোগ করেন—কোনো আপত্তি তুললে লাইসেন্স বাতিল থেকে ফাইল স্থগিত করা পর্যন্ত নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়, ফলে অনেকে মুখ খুলতে চান না।

অন্যদিকে, সনজু মিয়া এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য—এসব তথ্য ভিত্তিহীন। তবে কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগেও বেনাপোলে দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছিল। চলতি বছর অক্টোবর মাসে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে আরও আগে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমসের সচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আবারও জোরালো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তাদের দাবি—সরকার চাইলে দ্রুত তদন্ত করে এই অনিয়ম বন্ধ করতে পারে এবং বন্দরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।




জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রকৌশলী ইনামুল কবীরকে ঘিরে তদন্তের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটে জলবায়ু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মান বজায় রাখাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গরমিল পাওয়া গেছে। নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুল সামাদ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছে—২০২০ সালের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, বিল–ভাউচার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয়নি, এমনকি কিছু জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার কথা থাকলেও, USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষভাবে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মান না থাকায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

রক্ষণাবেক্ষণ বা Gob Maintenance খাতে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যে কাজ বাস্তবে হয়েছে তার সঙ্গে খরচের অংক মিলে না। দুই অর্থবছর—২০২০–২১ এবং ২০২১–২২—এ ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনামুল কবীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করা বেশ কঠিন ছিল। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পিডির সঙ্গে দেখা করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এজন্যই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের নজরে পাঠানো হয়েছে, এবং এলজিইডির পক্ষ থেকেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর সংক্ষেপে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।




আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ; নগদ টাকা লুট

মোঃ বশির উদ্দিন  আশুলিয়া (ঢাকা): শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ীকে প্রজাশ্যে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় তার সাথে থাকা ঝুট বিক্রি ৪লাখ ৯০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার। এরআগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া দি রোজ ড্রেসেজ লিমিটেড কারখানার সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার মৃত আলমাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন দি রোস এন্ড ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লাবাড়ি এলাকার মৃত আতোয়ার রহমানের ছেলে  আতিকুর রহমান উজ্জ্বল (৪৯), মো: আরিফ (৩৮), মো: এরশাদ (৩৭), আব্দুস সাত্তার (৫২), সামাদ ভূইয়া (৪৮), তৈয়বপুর এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৬) এবং মোস্তাফিজুর রহমান লিটন (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
ভুক্তভোগী ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আশুলিয়ার জানগড়া এলাকায় ঝুটের ব্যবসা করে আসছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে। সোমবার বিকেলে জামগড়া দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা থেকে ঝুট বের করে গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এসময় উজ্জ্বল, আরিফ, এরশাদ, সাত্তার, সামাদ, মোস্তাফিজ, লিটন সহ আরো কয়েকজন এসে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করার সাথে সাথেই আমার উপর হামলা চালায় এবং পিটিয়ে হাত ভেংগে ফেলে, মাথায় ও অন্য হাতে সহ পুরো শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। পরে তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ীস্থ হাবীব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে, “কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম কারখানার মূল ফটকে  দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল যোগে এসেই হামলাকারীরা তার সাথে কথা বলতে দেখা যায়। পরক্ষণেই তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে দেখা যায়। পরে জীবন রক্ষার্থে ঝুট ব্যবসায়ী আমিনুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত অয়ালিয়ে যায়।”
আশুলিয়া থানার ওসি রকিবুল হাওলাদার জানান, ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ববস্থা নেয়া হবে।



লালমনিরহাটে অবৈধ ইটভাটার ভয়াবহ দাপট; হুমকির মুখে ফসলি জমি ও পরিবেশ

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভয়াবহ বেড়ে চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখা। আইন ও নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ চলছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি উর্বর জমির উপরের “টপ সয়েল” পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও কমলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, শিঙিমারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন, এবং হাতীবান্ধার পাটগ্রাম এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী স্হানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায়  এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে। কৃষি জমির উর্বর “টপ সয়েল” তুলে তা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় জমি গুলো পরবর্তী ১০-১৫ বছর ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ছে।

ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান, এরপর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা স্হাপন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনায় দোষী প্রমাণিত হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা আছে। সেখানে দায়িত্বশীলদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবী ও প্রতিবাদ, এলাকাবাসী, কৃষক,  পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা বারংবার এই সমস্যা তুলে ধরলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্হা দেখা যাচ্ছে না।

তার দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উপসংহারঃ লালমনিরহাটের এই সংকট শুধু স্হানীয় নয়, এটি জাতীয় কৃষি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।




টাঙ্গাইল বন বিভাগে অনিয়মের গুঞ্জন: দুই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ টাঙ্গাইল বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমনই জানাচ্ছে স্থানীয় কিছু সংবাদ সূত্র। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন বিভাগের অনেক সফল উদ্যোগ থাকলেও টাঙ্গাইল অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ সেই ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কয়েকটি রেঞ্জে পোস্টিং পাওয়ার জন্য নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করা হয়।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে মোট নয়টি রেঞ্জ এবং একটি চেক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ ও করটিয়া চেক স্টেশনকে সবচেয়ে ‘লোভনীয়’ বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এসব জায়গায় পোস্টিং নিতে অনেকেই নানা উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

তাদের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুই কর্মকর্তা—হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রশীদ এবং বাঁশতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান। অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নানা দুর্নীতির সুযোগ নিয়েছেন।

এসএম আব্দুর রশীদকে নিয়ে অভিযোগ আরও পুরোনো। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে তিনি নাকি এক বছরের জায়গায় টানা আট বছর দায়িত্বে ছিলেন। সংবাদ সূত্রের দাবি, তিনি তখন প্রভাবশালী একজন সাবেক এমপির ‘ডিও লেটার’ দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং সেই সুবিধা নিয়েই আর্থিকভাবে উপকৃত হন। তার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলে প্রভাবশালীদের সহায়তার অভিযোগও রয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

২০২১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সার্কেলে বদলি নেন এবং পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে টাঙ্গাইল বন বিভাগে নিজের পছন্দের পোস্টিং নেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি হতেয়া রেঞ্জে থাকলেও তার লক্ষ্য নাকি বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়া। খবর এসেছে যে তিনি ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিটে পোস্টিংও নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে শাহীনুর রহমান, যিনি প্রায় ২ বছর ৮ মাস ধরে বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধেও কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি তিনি নাকি করটিয়া চেক স্টেশনে চলার চেষ্টা করছেন এবং সেই পোস্টিংও প্রায় নিশ্চিত বলে গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দুই কর্মকর্তা টাঙ্গাইল জেলার হওয়ায় তারা এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী নিজের এলাকায় চাকরি করার সুযোগ থাকার কথা নয়। সংবাদকর্মীরা এসএম আব্দুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আর শাহীনুর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।