দুই বছরে শত কোটি টাকার সম্পদ–বিস্তার! তেজগাঁও গণপূর্তের ‘অঘোষিত সম্রাট’ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বিল–বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ তেজগাঁও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য—সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে মাত্র দুই বছরেই তিনি নাকি গড়ে তুলেছেন “শত কোটি টাকার অঘোষিত সাম্রাজ্য।” নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন—এমন দাবি করেছে একাধিক সূত্র। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

জিগাতলা প্রকল্প, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার এবং রায়েরবাজার বদ্ধভূমি প্রকল্প—এসব কাজকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, জিগাতলায় ১,০০০ বর্গফুটের দুটি ভবনের প্রায় ৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদার মাহবুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে নাকি হয় আঁতাত। প্রকৃত কাজ অর্ধেকেরও কম সম্পন্ন হলেও বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে পুরোপুরি, এমনকি কোথাও কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগও শোনা গেছে। প্রকল্পের কিছু বিল–নথিতে “অদৃশ্য” বা “অনুপস্থিত” স্বাক্ষর দেখা গেছে—যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারেও উঠে এসেছে আরেকটি বিতর্ক। অভিযোগকারীরা জানান—এনার্জি গ্লাস কোম্পানির সহযোগিতায় বিশেষ লাইটের দাম বাজারদরের তিনগুণ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়। শুধু এই প্রকল্পেই প্রায় ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, বাজারে যে জিনিসের দাম ১, প্রকল্পের কাগজে তার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩—এবং অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ নাকি গেছে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের পকেটে।

তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিল প্রক্রিয়া করা, একই ব্যক্তির হাতে প্রাকলন প্রস্তুত ও প্রাকলন যাচাই—এসবকেও বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জিগাতলা ও রায়েরবাজার প্রকল্প—দুই জায়গাতেই নাকি স্বাক্ষরবিহীন বিলের ঘটনা ঘটেছে। এক প্রকৌশলীর ভাষায়—“স্বাক্ষর আমাদের, টাকা অন্যের।”

নিয়োগ–বাণিজ্য এবং এলাকা–কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, ই/এম বিভাগের উপ–বিভাগ ৩ ও ৪–এ রাজশাহীর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যেখানে আত্মীয়–স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। একাধিক কর্মী নাকি কাজ না করেও অতিরিক্ত বেতন পেয়ে আসছিলেন। এমনকি কোথাও কোথাও হিসাবসহকারী বা ‘বড়বাবু’র জায়গায় ঠিকাদারের লোকজন দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কাজেও নিন্মমান, দেরিতে সরবরাহ এবং ভুল মালামাল দেওয়ার কারণে উচ্চপর্যায়ের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়—এমনটাও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মতে, এর ফলেই শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি করা হয়।

এছাড়া ২০১২–১৬ সালে বিআইডব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত ডিউটিতে না গিয়েও বেতন নেওয়ার অভিযোগও আবার সামনে এসেছে। একই সময় তার সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার–ঘনিষ্ঠদের সম্ভাব্য সম্পদ। অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে আলিশান বাড়ি, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে রিসোর্ট বা ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বহু বিঘা জমি, মিরপুরে ৬ তলা বাড়ি, বসুন্ধরা আবাসিকে ৫ কাঠার ৩টি প্লট, পশ্চিম মনিপুরের মোল্লাপাড়ায় বাড়ি (বাসা নং–৮৯), উত্তরা সেক্টর–১৩–তে স্ত্রী–নামে ফ্ল্যাট (২য় ও ৩য় তলা), স্ত্রীর নামে কোটি টাকার এফডিআর, শাশুড়ীর নামে সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন এবং একটি ব্র্যান্ড–নিউ লেক্সাস হ্যারিয়ার গাড়ির মালিকানা সম্পর্কিত অভিযোগ ইতোমধ্যে দুদকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অভিযোগকারীরা বলছেন, গত জুলাইয়ে রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিছিলও করে।

দুদক সূত্র জানায়, সব অভিযোগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ, সম্পদ জব্দ এবং মানি–ট্রেইল অনুসন্ধানসহ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সচেতন মহল বলছে—এতসব গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে, জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে যে বিস্তৃত অভিযোগের চিত্র উঠে এসেছে—তা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি বড় সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ককেও ইঙ্গিত করছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে নানা মহলে।




ঘুষ, নিম্নমানের সরঞ্জাম আর গোপন ব্যবসা—গণপূর্তের কর্মকর্তা মালিক খসরুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মালিক খসরুকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরছে অফিসের ভেতরে। সহকর্মীরা ব্যঙ্গ করে তাকে “মালের খসরু” বলে ডাকেন। কারণ, অভিযোগ আছে—তিনি সরকারি পদে থেকেও টাকা-পয়সার দিকে অতিরিক্ত ঝোঁক দেখান এবং সুযোগ পেলেই সুবিধা নেন।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মালিক খসরু বহু বছর ধরে ঢাকাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কাজ করছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে বারবার একই এলাকায় রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু তার ক্ষেত্রে নাকি অনেক নিয়মই আলাদা ভাবে কাজ করেছে। অভিযোগ আছে—একজন প্রভাবশালী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ “মুরীদ” হওয়ায় তিনি এমন সুবিধা পেতেন।

অধিদপ্তরের ভেতরের লোকজন বলেন, শামীম আখতারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে খসরু নিজের পদোন্নতি, পদায়নসহ নানা সুবিধা নিতেন। শোনা যায়, এমন সম্পর্কের কারণেই তিনি ই/এম শাখার লোভনীয় পদগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে গেছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ঢাকা আজিমপুর সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের বহুতল ভবন ও কার পার্কিং প্রকল্প নিয়ে। খসরু এখানে ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ আছে—প্রকল্প চলাকালীন সময় ঠিকাদারদের কাছে বিভিন্ন অজুহাতে কমিশন দাবি করতেন। যেমন—ফাইল আটকে রাখা, রিপোর্টে সাইন না করা বা সাইট ভিজিট প্রয়োজন—এসব দেখিয়ে নাকি তাদের চাপ দিতেন। কিছু ঠিকাদারের ভাষায়, “টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাগজ সই করতেন না।”

আরও অভিযোগ আছে—আজিমপুরের কয়েকটি ভবনে যেসব সাবস্টেশন, জেনারেটর, ফায়ার সেফটি বা ইলেকট্রিকাল সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, সেগুলোর মান অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল। ঠিকাদারদের দাবি, মালিক খসরু ইচ্ছে করেই কম দামের ব্র্যান্ড অনুমোদন করতেন, কারণ সেখান থেকেই নাকি কমিশন পাওয়া সহজ ছিল। এ কারণে ভবনগুলোর কিছু জায়গায় এখন বিদ্যুৎ সমস্যা, ফায়ার অ্যালার্ম না বাজা বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

অর্থবছর ২০২৪–২৫ এ ছোটো কিছু মেরামত কাজের পাশাপাশি প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সাবস্টেশন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের বড় কাজও ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বড় কাজ থেকেই তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন লেনদেন করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।

আরেকটি বড় অভিযোগ হলো—মালিক খসরুর নামে ও তার পরিবার-আত্মীয়দের নামে নাকি বেশ কিছু ব্যাংক হিসাব রয়েছে। গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঘুষ নেওয়ার টাকাগুলো এসব হিসাব ব্যবহার করে লেনদেন করা হত। এমনকি, কিছু টাকা বিদেশেও পাঠানো হতো বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। খিলগাঁওয়ে অ্যাপার্টমেন্ট, টাঙ্গাইলে জমি, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা—এসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেন, খসরুর সঙ্গে কাজ করতে গেলে তাদের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন পর্যন্ত করতে হত—হোটেলে খাওয়ানো থেকে শুরু করে বাইরে ঘোরানো পর্যন্ত। তবুও নাকি তিনি সাইটে গিয়ে নানা কারণে হয়রানি করতেন।

অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন—বেশি প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খুব কম আসে। অভিযোগ এলেও তদন্ত অনেক সময় এগোয় না। কারণ, অভিযোগ এসেছে—উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন যায় মামলা বা তদন্ত থামানোর জন্য।

এখন দুদক ও অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ইউনিট তার সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন নিয়ে নজরদারিতে রেখেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর পক্ষে এত সম্পদ অর্জন স্বাভাবিক নয়। তাই প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।




নিয়ম ভেঙে রাজউকে গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীর পদায়ন, ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তারা

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তিন সহকারী প্রকৌশলী—রকিবুল হাসান, মেহেদী রায়হান নাদিম এবং হাসানুর রেজাকে—রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ‘অথরাইজড অফিসার’ হিসেবে প্রেষণে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ পদায়ন ঘিরে রাজউকের ভেতরে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের দায়িত্ব সাধারণত পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের কাউকে দেওয়া হয়। অথচ যাদের পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী।

রাজউকের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, অথরাইজড অফিসার হতে হলে কমপক্ষে পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) বা সহকারী প্রধান স্থপতি, উপস্থপতি, উপনগর পরিকল্পনাবিদ হতে হয়। নিচের পদের কেউ এ দায়িত্ব নিতে পারেন না। অথচ এই তিনজনের পদবি সহকারী প্রকৌশলী, যা নিয়মের সঙ্গেই যায় না। অভিযোগ আরও আছে, রাজউকের নিজস্ব ১১ জন অথরাইজড অফিসার থাকলেও তাদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাদের পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত থেকে নতুন লোক আনা হচ্ছে—যা স্বাভাবিক নয় এবং প্রশ্ন তোলে পদায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে।

আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৯ সালে দুই সহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে রাজউকে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তখন যোগ্যতার অভাবে তারা রাজউকে যোগ দিতে পারেননি, এবং পরে মন্ত্রণালয় সেই আদেশ বাতিল করে। এবারও অনেকে মনে করছেন, একই নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত আবার পুনরাবৃত্তি হল।

এই প্রেষণ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসমিন ফারহানা। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই তিনজন যদিও সহকারী প্রকৌশলী, তবে তারা গণপূর্তে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব সামলেছেন। আর তারা রাজউকে গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বেতন পাবেন না—সহকারী প্রকৌশলীর বেতনই পাবেন। তাঁর মতে, তাই এটিকে বড় ধরনের নিয়মভঙ্গ বলা যাবে না। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে বিষয়টিতে বিতর্কের জায়গা আছে।

অন্যদিকে রাজউকের বোর্ড সদস্য (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিনের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দেশের বাইরে আছেন এবং এখনো এ ধরনের কোনো আদেশের খবর পাননি। দেশে ফিরে অফিসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

সব মিলিয়ে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও গণপূর্তের তিন প্রকৌশলীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো নিয়ে রাজউকের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রশ্ন আর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।




আজিমপুর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: মালিক খসরুকে ঘিরে প্রশ্নে সরগরম গণপূর্ত

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল শাখার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মালিক খসরু দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। সহকর্মীদের একাংশ তাকে কটাক্ষ করে ডাকেন “মালের খসরু”—নামটি নাকি এসেছে তার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর জমতে থাকা টাকার লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে। অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি চাকরিতে থেকেও টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখিয়ে অফিসের ভেতরে ভীতি ও প্রভাব তৈরির পরিবেশ বানিয়ে ফেলেছেন।

সাধারণ নিয়মে সরকারি কর্মকর্তাদের তিন বছর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও মালিক খসরু ঢাকাতেই ৩, ৫ ও ৭ নম্বর ডিভিশনের “আকর্ষণীয়” পোস্টে টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্র দাবি করে, এক সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর “আধ্যাত্মিক ঘনিষ্ঠতা” তাকে সব সময় ঢাকায় রাখার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। একই অফিসে থেকেই তার পদোন্নতি হওয়াও অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আজিমপুরে সরকারি আবাসিক ভবন ও কার পার্কিং প্রকল্পে তার দায়িত্ব পালনকে ঘিরে। বিভিন্ন ঠিকাদার এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র অভিযোগ করছে—মালিক খসরু নাকি ফাইল আটকে রেখে কমিশন আদায় করতেন, সাইট ভিজিট বা রিপোর্ট সই করার আগে টাকা দাবি করতেন, এমনকি কারও বিল দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা অজুহাতে চাপ তৈরি করতেন। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছে, “টাকা না দিলে কাগজে সই পাওয়া যেত না,” এবং “হোটেলে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সুবিধা—সবকিছুর দাবি ছিল।”

ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন, জেনারেটর, সোলার প্যানেল, ফায়ার সেফটি সহ নানা যন্ত্রপাতিতে নিম্নমানের ব্র্যান্ড অনুমোদনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, কম দামের পণ্য পাস করাতেই নাকি তার কমিশন বেশি উঠত। এর ফল হিসেবে আজিমপুরের ভবনগুলোতে বারবার বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি, ফায়ার সিস্টেম অকার্যকর হওয়া, যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির দ্রুত নষ্ট হওয়া—এগুলো দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এতে বাসিন্দারা ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে সরকারের বাড়তি খরচের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—মালিক খসরুর পরিবারের সদস্যদের নামে ২৫টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পাশাপাশি খিলগাঁওয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিশাল জমি, এমনকি ঠিকাদারদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করার অভিযোগও শোনা যায়। কিছু সূত্র দাবি করেছে, নামে-বেনামে তার সম্পদের পরিমাণ নাকি ২০ কোটি টাকারও বেশি, যার একাংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো এবং পরে দেশে ফেরত আনার অভিযোগও আলোচনা হয়।

অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, পরিবারের নামে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান—যেমন ব্রাদার্স ইলেকট্রিক—গণপূর্তের প্রকল্পে অংশ নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে, যা স্পষ্টভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। ঠিকাদারদের কেউ কেউ বলছেন, “কাজ না দিলে হুমকি, আর কাজ দিলে কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা—এটাই ছিল নিয়ম।”

তবে অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।” আবার অন্য সূত্রের দাবি—অভিযোগ উঠলেই নাকি “উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন এসে ফাইল থামিয়ে দেওয়া হয়,” আর সেখানে তদন্ত এগোয় না।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কীভাবে এত সম্পত্তি গড়লেন? তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদেশ যাতায়াত বা অর্থ লেনদেন—এসব কি কখনও খতিয়ে দেখা হয়েছে?

আজিমপুর প্রকল্পের এই বিতর্ক এখন আরও বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—গণপূর্তের ভেতরে স্বচ্ছতা কি আদৌ সম্ভব, যদি এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়?




মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গোপন টেন্ডারে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহসিন উদ্দিন ফকিরের অনিয়ম দুর্নীতি লিখে শেষ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্নীতির নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বর্জ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও অপসারণ খাতে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। সেই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ড্রাম ও পলিথিন ক্রয় করার জন্য। কিন্তু তিনি ঐ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য পত্রিকায় ঘুপচি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে অতি গোপনে ফরিদপুরে একজন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ঐ ঠিকাদার নাকি তার নিকট আত্মীয়। এই টেন্ডারের বিষয়টি মাগুরার কোন ঠিকাদার জানতে পারেন নি।

গোপনে খাতা কলমে পেপার ওয়ার্ক ঠিক রেখে তিনি সামান্য ৫/১০ লাখ টাকার ড্রাম ও পলিথিন কিনে বাকি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি কেউ জানতে না পারলেও একজন ঠিকাদার এজি অফিস সুত্রে জানতে পারেন যে, সুপার ডাঃ মোহসিন উদ্দিন ফকির এই খাতে বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। পরবর্তীতে স্টার কীপার গৌতম কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

অভিযোগকারীদের মতে ২০২৪ সালের জুন মাসে যদি ৫০ লাখ টাকার ড্রাম ও পলিথিন ক্রয় করা হয় তবে তা এখনো স্টোরে জমা থাকার কথা। কিন্তু সেটাতো খাতা পত্রে ছাড়া বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে সেগুলো গেল কোথায়?

এ বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুদকের তদন্তের দাবী জানানো হয়েছে।




লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট পৌরসভার তিনদিঘী এলাকায় আলোচিত আব্দুল জলিল হত্যা মামলায় স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আনোয়ার হোসেন মিঠু।

দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনা বেগম (২৭) জেলা শহরের মাঝাপাড়া এলাকার রহমত আলী মোল্লার মেয়ে। তার প্রেমিকা গোলাম রব্বানী সদর উপজেলার কিসমত ঢঢগাছ (পাঙ্গাটারি) এলাকার রমজান মুন্সির ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ২০২১ সালের ২১ জুলাই রাতে পরকীয়ার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পনা করে জলিলকে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়, পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন জলিলের ভাই আব্দুর রশিদ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাহমুদুন নবী আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, চার বছরের শুনানি শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে জলিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, আসামিদের ফাঁসি হলে আমাদের মনটা আরও শান্ত হতো। তারা পরিকল্পিতভাবেই আমার ভাইকে হত্যা করেছে, এবং আমরা আদালতে সেটি প্রমাণ করতে পেরেছি।




বিটিভিতে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বর্তমানে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নানা সূত্রে জানা গেছে, বিটিভির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সংগঠিতভাবে কোটি কোটি টাকা লুটপাট, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিচালক (অর্থ) মোঃ জহিরুল ইসলাম মিয়া, পরিচালক (পরিকল্পনা ও অনুষ্ঠান) মোঃ আজগর আলী এবং সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, প্রায় ৭৮ বছর বয়সী ডিজি ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে আজগর আলী পুরো প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন। ২০১৩ সালে কন্ট্রোলার পদে যোগ দেওয়ার পর অস্বাভাবিক গতিতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৫ সালের ২ আগস্ট তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) পদে বসেন। তার এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু ও উপসচিব ইব্রাহিম মিনির প্রভাব থাকার কথাও বলা হচ্ছে।

বিটিভির আলোচিত আরেক নাম নুর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে তিনি বিরাট অঙ্কের অর্থ লুট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে বিটিভির ১৪ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সিন্ডিকেটের সদস্যরা—জহিরুল ইসলাম মিয়া, আজগর আলী ও নাজিম উদ্দিন—তার অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সংক্রান্ত দুর্নীতি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিটিভির এটি বিনামূল্যে সম্প্রচার করার কথা থাকলেও পরিচালক (অর্থ) জহিরুল ইসলাম মিয়া পরিকল্পিতভাবে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয় “খেলায় জয়” হিসেবে দেখিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়নি, সরকারি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে গেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সিন্ডিকেটের প্রভাব স্পষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নিয়োগে প্রার্থীপ্রতি ১৫–২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জহিরুল ইসলাম মিয়া, আজগর আলী ও উপসচিব ইব্রাহিম নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে নিয়োগ বোর্ড এবং টেন্ডার কমিটিকে প্রভাবিত করছেন। এর মাধ্যমে পদোন্নতি, বদলি ও আর্থিক লেনদেনে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া ‘দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (১ম পর্ব)’ এবং ‘বিটিভি কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন’ প্রকল্পেও প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে এসেছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ অডিট, অর্থ বিভাগ, অনুষ্ঠান শাখা ও প্রকল্পগুলোতে চলমান অনিয়মের পরও কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। ফলে বিটিভির সাধারণ কর্মকর্তারা আতঙ্কে কর্মজীবন চালাচ্ছেন। সিন্ডিকেটের দীর্ঘদিনের দাপটে সরকারি গণমাধ্যমের সুনাম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য দিতে রাজি হননি।




দুই দশকের ক্ষমতার ছায়া: এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ঝড়

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এলজিইডি—যেখানে সারা দেশে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র, বাজার উন্নয়নসহ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলে। সেই বিশাল প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে আছেন জাবেদ করিম। আর তাঁকে ঘিরেই এখন নানা স্তরে বিস্তর প্রশ্ন, অভিযোগ আর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তালিকা এতটাই বড় যে শুধুই একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়—এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও সততা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, জাবেদ করিমের পুরো পথচলাই ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। শুরু নিয়োগ অনিয়ম দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে—কুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই তিনি নাকি এলজিইডির জিওবি খাতে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান। তখন প্রচলিত নিয়ম ছিল, বিএসসি পাস ছাড়া নিয়োগ নয়। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেকে এটিকে বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেন। এলজিইডির ভেতরকার কিছু কর্মকর্তার মতে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তারিখ, কুয়েটের ফল প্রকাশ, নির্বাচিত তালিকা ও যোগদানের সময় মিলিয়ে দেখলে অসংগতিটা চোখে পড়ে স্পষ্টভাবেই।

এরপর শুরু হয় তাঁর দ্রুত উত্থান। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জিয়া উল হক জিয়ার ঘনিষ্ঠতা পাওয়া যায় তাঁর নামে। অভিযোগ রয়েছে—একজন জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হয়েও তিনি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। এমনকি যিনি আগেই দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে জাবেদ করিমকে বসানো হয়। তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল হাসান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বলে শোনা যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপ কাজ করায় নিয়মও টিকতে পারেনি। সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয়—এই অতিরিক্ত দায়িত্ব ছয় মাস নয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে টিকে ছিল। প্রবীণ কর্মকর্তারা বলেন, এখান থেকেই এলজিইডির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভাঙতে শুরু হয়।

এ সময়টাকে অনেকে ‘কমিশন বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। অভিযোগ—কার্যাদেশ পেতে ৮–১০% কমিশন দিতে হতো ঠিকাদারদের। একই রাস্তার নামে একাধিকবার বরাদ্দ আদায়, মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ, হাতের লেখা টেন্ডারের মাধ্যমে সবকিছু একক আধিপত্যে চালানো—এমন অভিযোগ বহু বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এই সময় লক্ষ্মীপুরেই নাকি শত কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে।

২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতি দমন অভিযানের সময় জাবেদ করিমের নাম নাকি গ্রেফতার তালিকায় ছিল। একই অভিযোগে বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রানা গ্রেফতারও হন। কিন্তু জাবেদ করিমের ক্ষেত্রে ঘটনাটা নাকি ভিন্ন। অভিযোগ—তাকে দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যাতে গ্রেফতার এড়ানো যায়। খুব অল্প সময়ে ফাইল-নোটিং, অনুমোদন, ভিসা সব সম্পন্ন হয়। পরে দেশে ফিরে আবারও তিনি এলজিইডির ক্ষমতাকেন্দ্রে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবার আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের সময়েও তাঁর প্রভাব ছিল বলেই বিভিন্ন সূত্র দাবি করে। অভিযোগ ওঠে—গণভবনে অবাধ যাতায়াত, দলীয় তহবিলে বড় অঙ্কের অনুদান, বড় প্রকল্পে অপরিসীম কর্তৃত্ব, এমনকি নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর তিনি নাকি ভিন্ন পরিচয় তুলে ধরে নিজেকে জাতীয়তাবাদী ধারায় অবস্থান করছেন—শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে।

দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি উঠে আসে। দেশের সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নাকি ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। মান কম, কাজ কম করে পুরো বিল নেওয়া, রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের লোকদের (বিশেষ করে কিছু এপিএসের) মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ—এসব অভিযোগ শোনা যায়। শুধু এই প্রকল্প থেকেই নাকি শত কোটি টাকার বেশি লোপাট হয়েছে। আরও বড় অভিযোগ—তিনি নাকি দেশে-বিদেশে পাচার করেছেন হাজার কোটি টাকা এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এছাড়া সড়ক-সেতুর রক্ষণাবেক্ষণেও ছিল নানা অনিয়মের অভিযোগ। দায়িত্বে থাকার সময় বাস্তবে রাস্তাঘাটের তেমন কোনো সংস্কার হয়নি, কিন্তু কাগজ-কলমে সব ঠিকঠাক দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষায়—এই সময়টা ছিল “রক্ষণাবেক্ষণহীন রক্ষণাবেক্ষণের অধ্যায়”, যেখানে দুর্নীতি পদ্ধতিগত হয়ে ওঠে।

এলজিইডির ভেতরে আরও গুঞ্জন রয়েছে—বড় প্রকল্পের পরিচালক হতে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হতো। বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নেও নাকি বড় অঙ্কের টাকা লেগেছে। অনেকেই দাবি করেন—এই পুরো সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জাবেদ করিম। তাঁদের প্রশ্ন—যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানজুড়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

সরকারি চাকরিজীবীর মাসিক বেতন যেখানে ৮০–১২০ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ—এ অভিযোগ সকলকে অবাক করে। দেশে-বিদেশে সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বাড়ি, প্লট—সবকিছুর মধ্যেই নাকি অস্বাভাবিক আয়ের প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি—দুদক নীরব, মন্ত্রণালয়ও উদাসীন।

প্রশ্ন উঠছে—এলজিইডির মতো দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থার অভ্যন্তরে যদি এভাবে নিয়োগ অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্প লুট, পোস্টিং-বাণিজ্য আর অর্থপাচারের অভিযোগ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে—তাহলে দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কোথায়?

এই সব অভিযোগের বিষয়ে জাবেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




লালমনিরহাটে মহাসড়ক বন্ধঃ জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অবস্থান কর্মসূচি পালিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের মহেন্দ্রনগর এলাকার বিশ্ব সার গোডাউন সংলগ্ন সড়কটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

বক্তারা জানান, গত ২৪ নভেম্বর নির্মাণাধীন সড়কসেতুর পাশে একটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে গেলে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে যায়। এরপর থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তারা দ্রুত বিকল্প রাস্তা চালুর দাবি জানান এবং বলেন, “প্রশাসনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় আন্দোলনে যাওয়া হবে।”

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীগণ অংশগ্রহণ করেন।




তিতাস–হোমনায় রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার টিপুর অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ তিতাস আর হোমনায় হঠাৎ করেই এক নাম নিয়ে পুরো এলাকা সরগরম—রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম টিপু। সরকারি চাকরির একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি শ্বশুরবাড়ির গ্রাম দাশকান্দিতে যে বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তা দেখে স্থানীয়দের মনে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সবাই এক ভাষায় জানতে চাইছে—“টিপুর এত টাকা আসে কোথা থেকে?”

হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) সিরাজুল ইসলাম মোল্লার ছেলে টিপুর শ্বশুরবাড়ি তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাশকান্দি গ্রামে। শ্বশুর আব্দুল মান্নানের পরিবারে ঘরজামাই হয়েও তিনি কয়েক বছরের মধ্যেই এমন অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে ফেলেছেন যে, এলাকায় এখন তা প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। কেউ আর আড়াল করে বলছে না—টিপুর সম্পদ বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো অস্বাভাবিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় বড় নেতাদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজউক থেকেই নাকি শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। সেই টাকার জোরেই শ্বশুরবাড়ির এলাকায় জমি ক্রয় থেকে শুরু করে দখল—সবকিছুই করেছেন দাপটের সঙ্গে। অভিযোগ আছে, তার স্ত্রী লাকি আক্তারের নামে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমি কিনেছেন। আবার শ্বশুর আব্দুল মান্নানের কাছ থেকেও নাকি কয়েক বিঘা জমি দখলে নিয়েছেন। এসব জমি বালু ভরাট করে এখন তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করছেন, যার খরচ সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

নির্মাণ শ্রমিকদের ভাষায়, শুধু মিস্ত্রিদের বিলই প্রায় আটাশ লাখ টাকার মতো দাঁড়িয়েছে। দুইতলা ভবনের নিচে যে অঢেল টাকা ঢালা হচ্ছে, তার হিসাব করা তো দূরের কথা—তা শুনলেও সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরে যায়। এলাকাবাসীর অনেকে বলছে, “রাজউকের এক ইঞ্জিনিয়ার কি এমন বাড়ি তুলতে পারে?” আবার অনেকে মনে করে, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিপুর রাজত্ব ছিল। মান্নানের মেয়ের জামাই টিপু এখন গ্রামের গডফাদার।”

টিপুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে—তিনি সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে রাজউকে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। এমনকি নিজের ছোট ভাই সাইদুর আলম অপুকে নৌকার প্রার্থী বানিয়ে ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক মাঠেও নামিয়েছিলেন তিনি। সেলিমা আহমাদ মেরির রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ানোই ছিল তার উদ্দেশ্য—এমনটাই বলছে স্থানীয়রা।

এই সব অভিযোগ নিয়ে বদিউল আলম টিপুর বক্তব্য জানতে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা যায়নি।

চায়ের দোকান, বাজার, রাস্তা—এলাকার যেখানেই যান না কেন, এখন একটাই আলোচনা—রাজউকের সরকারি চাকরি করে বদিউল আলম টিপু কীভাবে এমন সম্পদের মালিক হলেন? সন্দেহ, ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিলিয়ে বিস্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই রহস্যময় সম্পদ বিস্তার।