ডিড প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিমন্ত্রী পলক জেলে, আর পিডি বালিগুর রহমান উচ্চপদে বহাল!

এসএম বদরুল আলমঃ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য (যুগ্ম সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে, একই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে।

বালিগুর রহমান ১৫তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও স্টেশনের স্টেশন প্রকৌশলী, মনিটরিং পরিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে—তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের তদবিরে তিনি ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ কোটা থেকে উপসচিব পদে উন্নীত হন। বালিগুর ও পলকের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে; অভিযোগ রয়েছে এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বারবার পদায়িত হন এবং নিয়মকানুন অমান্য করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেন।

উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বেশিরভাগ সময় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর বগুড়ার পরিচিত মহলের তদবিরে তিনি আরও একটি পদোন্নতি অর্জন করেন। অথচ একই সময়ে তার প্রত্যক্ষ বস ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও বালিগুর রহমান দিব্যি যুগ্ম সচিব হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যেখানে তাকে অনেকেই ‘সুপার পাওয়ার’ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অনেক বড়। আইসিটি মন্ত্রণালয় ও “ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড)” প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিড প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, আর প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে সেই অর্থের টেন্ডার, বাজেট ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অনেকেই বলেন, প্রতিমন্ত্রী পলক ও তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বালিগুর রহমান কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করতেন না। সুযোগ পেলেই নিয়মকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া এবং দেশে–বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তে জানা গেছে, পলক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বালিগুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্প থেকে নিয়মিতই ৫% কমিশন আদায় করতেন, যা পরিচালিত হতো তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বালিগুর নিজেই, এবং ডিড প্রকল্পেও সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব ছিল ব্যাপক। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বালিগুর রহমান ও তার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে “৫% কমিশন” নিতেন। বিদেশে টাকা পাচার ও ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিথ্যা।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বালিগুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমলেও, পলকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেত না। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে বর্ণনা করেছেন একজন সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসর হিসেবে।

ডিড প্রকল্পে বালিগুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বাজেটের অর্থ স্থানান্তর, প্রকল্পের অর্থ ব্যয় না করেও বিল উত্তোলন, এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়—৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার ১২ জেলায় আইটি ও হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত সংস্করণেও আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও ৫৩৩ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, ৪৩১ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি–২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, এবং ৩৫৩ কোটি টাকার ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের অসংগতি পাওয়া গেছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ–ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ১৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রকল্পেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই সমস্ত প্রকল্পের ফাইল জব্দ করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও, একই প্রকল্পের আরেক কেন্দ্রীয় ব্যক্তি—ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ইনোভেশন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিড) প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান—এখনও উচ্চপদে বহাল। বরং তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরবর্তীতে আরও আকর্ষণীয় পদ—বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য—হিসেবে নিয়োগ পান।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক কেনাকাটা ই-জিপির মাধ্যমে না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করেন, যাতে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা সুবিধা পায় এবং তিনি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঠিকাদারদের ওপর তদন্ত কমিটি, মন্ত্রণালয় অথবা দুদকের নাম দেখিয়ে ভয় দেখাতেন—এভাবেই হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পিডি আবুল বাশার এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিবের সাথে বালিগুর রহমান মিলেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে অডিট ও এজি অফিসের নামে ৪% করে টাকা তুলতেন। কিন্তু ঠিকাদাররা যখন সরাসরি এসব দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তারা জানতে পারেন—সেসব অফিসে এমন কোনো অর্থ যায়নি। অর্থাৎ এই তিনজনের সিন্ডিকেটই পুরো টাকাটা ভাগ করে নিত। এমনকি শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা টাকা (পিজি) বা এজি অফিসের কর্তনকৃত ১০% ফেরত পেতে চাইলে, ওই অর্থের অর্ধেক দাবি করা হতো। বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আটকে রেখে ঘুষ আদায় ছিল সিন্ডিকেটের নিয়মকৃত পদ্ধতি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—যেসব ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারতেন, তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে হয়রানি করা হতো। প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরও পদায়ন ও স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়ানক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হয়, পিডি আবুল বাশার ও সহকারী পরিচালক শাহাদাত জনপ্রতি প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। টাকা না দিতে পারলে মাত্র তিন ঘণ্টার নোটিশে তাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হতো। একইভাবে বালিগুর রহমান ও শাহাদাত মিলে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পোস্টিংয়ের বদলে বারবার মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।

এত অভিযোগের পরও বালিগুর রহমানকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে আরও উচ্চপদে, বিসিএসআইআরে সদস্য হিসেবে পদায়ন করা প্রশাসনে ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক যখন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে, তখন একই প্রকল্পের মূল ব্যক্তি বালিগুর রহমান কীভাবে এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতাধর অবস্থানে থাকতে পারেন?

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়, ঢাকায় আমার এক ছটাক জমিও নেই।” তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, রাজশাহী ও বগুড়ায়ও তার নামে-বেনামে জমি ও সম্পত্তি আছে। অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদেশেও তিনি অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানকারীরা বলছেন—বালিগুর রহমান যে প্রকল্পগুলোতে ২০১৮ সাল থেকে যুক্ত ছিলেন, সেসব ফাইল দুদক গভীরভাবে পরীক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তৃত প্রমাণ পাওয়া যাবে—এটা নিশ্চিত।




ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।

ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।

ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।




বুড়িচং পিআরও জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুড়িচং উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআরও) জোবায়ের হাসানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—২০২৪–২৫ অর্থবছর ও চলতি বাজেটের বেশ কিছু প্রকল্পে তিনি তথ্য গোপন করেছেন এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জানান—নানা প্রকল্পের তালিকা এবং ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি তাঁর পরিচিত একজন গণমাধ্যম কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি তথ্যের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যখন তথ্যই দেন না, তখন সেটা কি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯–এর লঙ্ঘন নয়?

উপজেলার কয়েকজন ঠিকাদারসহ কিছু জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন—প্রকল্প অনুমোদন, বিল–ভাউচার ছাড়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত কমিশন নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি, তবে স্থানীয়রা মনে করছেন—যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে—সরকার মানুষের কল্যাণে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যে বাজেট দেয়, তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে উন্নয়ন থেমে যায়। তাই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ওঠা সত্যিই হতাশার।

এদিকে জোবায়ের হাসানের নামে বেনামে সম্পদ গড়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করছে। তাদের মতে, এসব তথ্য প্রকাশ হলে অভিযোগের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ, ঠিকাদার, সাংবাদিক—সবার একই দাবি: অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সৎ, স্বচ্ছ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে।




এলবিয়ন গ্রুপকে ঘিরে নানা অভিযোগ: নিম্নমানের ওষুধ, রাজস্ব ফাঁকি ও প্রতারণার তদন্ত চলছে

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের ওষুধ শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এলবিয়ন গ্রুপ সম্প্রতি বারবার আলোচনায় আসছে নানা অভিযোগের কারণে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একদিকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলা চলমান, অন্যদিকে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন বড় ধরনের বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে।

চট্টগ্রামের ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি কোতোয়ালিতে মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাইসুল উদ্দিন, এমডি মোহাম্মদ মুনতাহার উদ্দিন এবং চিফ অ্যাডভাইজার নিজাম উদ্দিন চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণা করেছেন। ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী এলবিয়ন ওষুধ উৎপাদন করে লাভ ভাগাভাগি করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তারা চুক্তি ভেঙে ৫-৬ কোটি টাকার ওষুধ ইনোভেটিভ ফার্মার গুদামে জমা রেখে ৯টি খালি চেক জামানত হিসেবে নেয়। পরে আবার সেই ওষুধ ফেরত নিয়ে চেকগুলো ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু হয়। এমনকি হুমকি দিয়ে ২ কোটি টাকার চাঁদা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। মামলা নম্বর—১৫১/২৩। বিষয়টি তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মেট্রোর পিবিআই।

এদিকে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবরের এক রিপোর্টে দেখা যায়, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজের উৎপাদিত বেশ কিছু ওষুধের মান স্বাভাবিক মানদণ্ডের নিচে। ‘মিমক্স’ নামের অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুলে অ্যামোক্সিসিলিনই পাওয়া যায়নি, বরং ভিতরে ছিল সাদা দানা ধরনের পাউডার। ‘ইনডোমেথাসিন’ ক্যাপসুলেও নির্ধারিত পরিমাণের কম উপাদান পাওয়া গেছে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—মানুষ ও পশুর ওষুধ একই ভবনে তৈরি করা হচ্ছিল, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। এছাড়া বাজারে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে, যা নিম্নমানের উৎপাদনের ইঙ্গিত বহন করে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কর বছরভিত্তিক গোপনে কোটি কোটি টাকার আমদানি-বিক্রয় করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত গোপন রাখা আমদানি ও বিক্রয়ের হিসাব মোটেই ছোট নয়—শুধু একটি বছরেই গোপন আমদের পরিমাণ ৪৯ কোটি টাকার ওপরে। আরও অভিযোগ রয়েছে মালিকপক্ষের নামে বেনামী জমি, একাধিক দামি গাড়ি, ৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৯টি ব্যাংক হিসাব গোপন রাখা নিয়ে।

সংস্থাটি বিদেশে উচ্চমানের ওষুধ রপ্তানির দাবি করলেও তদন্তে জানা যাচ্ছে, এসব প্রচারণার অনেক তথ্যই ভ্রান্ত। দেশে মানহীন ওষুধ উৎপাদনের মাঝে রপ্তানি নিয়ে এমন প্রচারণা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এলবিয়ন গ্রুপের অধীনে রয়েছে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, এলবিয়ন অ্যানিমেল হেলথ, ব্লু অ্যাকোয়া ড্রিংকিং ওয়াটার, ফেভারিট লিমিটেড, ক্লিনজি ফরমুলেশন, ফবিটা, এলবিয়ন ট্রেডিং কর্পোরেশন, এলবিয়ন ডিস্ট্রিবিউশন, সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসো (ইতালি) ও এলবিয়ন স্পেশালাইজড ফার্মা লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতারণা মামলা, মানহীন ওষুধ উৎপাদন, বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা—এই চার দিকের অভিযোগ এখন প্রতিষ্ঠানটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। এসব বিষয়ে সত্যতা যাচাই এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিবিআই ও দুদকের সক্রিয় তৎপরতা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

 




লন্ডন সফরকে ঘিরে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের আবুল বাশারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক

এসএম বদরুল আলমঃ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আবুল বাশার এবার ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন। কিন্তু তার এই সফর নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে, কারণ বর্তমান মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই তাকে প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তালিকায় তার নাম যুক্ত করেছেন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমানে নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান মহাপরিচালক শফিউল বারী নির্বাচনী প্রচারণায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না—এমন যুক্তিতে পুরোনো ডিজি মাকসুদকে বিশেষ আগ্রহে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এখনো নৌপরিবহন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে নৌসেক্টরে প্রভাব বজায় রেখেছেন, এমন মন্তব্যও রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। অন্যদিকে আবুল বাশারসহ বাকি দল ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

এদিকে আবুল বাশারকে ঘিরে বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষায় ঘুষ নিয়ে পাস করানো, প্রকল্পের বিল আটকে অর্থ আদায়, কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে কমিশন নেয়া, পিজি আটকে রেখে টাকা দাবি, অডিট খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়—এরকম একাধিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। এসবের মধ্যে একটি বিভাগীয় মামলার তদন্তও চলছে। এমনকি তিনি নিজের শ্যালককে নিয়ম ভেঙে কন্ট্রাক্টরি কাজ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সতর্ক সূত্র বলছে, তিনি প্রায়ই বিভিন্ন স্টার হোটেলের বার ও স্পা সেন্টারে সময় কাটান এবং মদ্যপ হয়েই বের হন—যা সরকারি চাকরির বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। গত পাঁচ বছরে এমন আচরণের জন্য কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি মার্চেন্ট ও ইনল্যান্ড পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ফল পরিবর্তনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি—চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক হারে সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা তার নামে-বেনামে রয়েছে।

তার অতীত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৩৮তম ব্যাচে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে নীতিভ্রষ্ট আচরণের অভিযোগে পুরো ব্যাচ বহিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিতে অপ্রফেশনাল আচরণের জন্য তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি এমভি জাহান মনির দ্বিতীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিন নষ্ট করার ঘটনাও মালিকপক্ষ তাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক তদবীরে তিনি সরকারি চাকরি পান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি রাজনৈতিক খাতিরে গুরুত্ব পেয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল বাশার দাবি করেন—সবকিছুই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাবে এবং তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।




এনবিআর সদস্য বদিউল আলমের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এনবিআর-এর সদস্য (কর লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) এ কে এম বদিউল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল আদালতে আবেদনের মাধ্যমে জানান, বদিউল আলমের জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে বর্তমানে অনুসন্ধান চলছে। তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন তথ্য পাওয়ায় অভিযোগের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে দুদক মনে করে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।




স্বাস্থ্য সরঞ্জাম–এলজিইডি অফিস–স্কুল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তিন জেলায় দুদকের আকস্মিক অভিযান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের তিন জেলায় একদিনে তিনটি অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার, ১৯ নভেম্বর, দুদকের পটুয়াখালী, রংপুর ও টাঙ্গাইল কার্যালয় থেকে আলাদা টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদক জানায়, প্রথম অভিযানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেখানে এনফোর্সমেন্ট টিম পাঠানো হয়। টিম প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে টেন্ডার সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে এবং তাঁর বক্তব্য নেন। টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা এখনো ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকলেও এর মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সব নথি যাচাই করে পরে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে রংপুরের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসে ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানো, ঘুষ দাবি এবং বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে আরেকটি দল অভিযান চালায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অভিযানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে টিম। ভিডিওতে একজনকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও এটি ঘুষ কিনা নিশ্চিত হতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন বলে জানায় দুদক।

তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায়। অভিযোগ ছিল—পিইডিপি–৪ প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং অগ্রিম বিল তুলার ঘটনা। এনফোর্সমেন্ট টিম নিরপেক্ষ প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিকভাবেই কয়েকটি অনিয়মের সত্যতা পায়। এখানে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরে কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

পুরো দিনজুড়ে হওয়া এসব তিনটি অভিযানে স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে সরকারি নির্মাণশিলা পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।




রাকাব কর্মকর্তা আবুল কালামের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে নেমেছে দুদক

রাজশাহী প্রতিবেদকঃ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)–এর আইসিটি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে ডিজিটাইজেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান মো. আমির হোসাইন গত ৩০ অক্টোবর রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও রেকর্ড সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে ব্যাংকের ‘নেটওয়ার্ক ডিভাইস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি (এএমসি), টেন্ডার আইডি: ৭৪৪০৭২’–সংক্রান্ত কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার সত্যায়িত কপি ৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, সদর দফতরের নির্দেশে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় এই তদন্ত পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানকারী দলে উপ-সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানও রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ভেতর আগে থেকেও বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে—পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, ঋণ বিতরণে জালিয়াতি এবং কর্মকর্তাদের লাঞ্চ ভাতার নামে বেআইনি অর্থ প্রদানসহ নানা ঘটনা ব্যাংকের সুনাম ও আর্থিক অবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নতুন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আবুল কালামকে ফোন করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণ নিয়মে প্রতি তিন বছর অন্তর কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কথা। কিন্তু মো. আবুল কালাম ক্ষমতা ও টাকার জোরে একই কর্মস্থলে ১৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানের বদলি ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সিবিএ নেতা মো. রায়হান আলীকে দিয়ে ‘মব’ তৈরি করেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাপ প্রয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজেও ঘটনাটির প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ, মো. মিজানুর রহমান ও সিবিএ সভাপতি মো. রায়হান আলী—এই তিনজন মিলে ব্যাংকের মধ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছেন।

দুদকের চলমান তদন্তে ব্যাংকের ভেতরের অনিয়ম প্রকাশ পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে—এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।




শেখ হাসিনা-কামালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলকে চিঠির প্রস্তুতি এনসিবির

ডেস্ক নিউজঃ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপিও সংযুক্ত করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই চিঠি পাঠানো হবে। এর আগে ইন্টারপোলকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করে দুইবার চিঠি পাঠানো হলেও সংস্থাটি নোটিশ জারির যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনেই পলাতক ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই সময়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

রায় কার্যকর করতে এখন তাদের দেশে ফেরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। তখন মামলা বিচারাধীন থাকায় দণ্ডের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। এখন রায় ঘোষণা হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য যুক্ত করে নতুন করে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রচেষ্টাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজনে আরও চিঠি দেওয়া হবে।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই উদ্যোগ। আগের চিঠির সময় তিনি শুধু পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন, এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত, ইন্টারপোলের নোটিশ জারির ক্ষেত্রে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




গণপূর্তে অনিয়ম ঢাকতে ‘সাফাই সাংবাদিকতা’: বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ সংকেত

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে যখন নানা পত্রিকা অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ করছে, তখনই একদল স্বার্থান্বেষী সাংবাদিককে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। তারা নিজেরা সংবাদকর্মী হলেও দায়িত্ব পালন না করে বরং কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলীর প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নানা অনলাইন পোর্টালে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে এমন কিছু প্রতিবেদন, যেগুলো আসলে সাংবাদিকতা নয়—বরং নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় ‘সাফাই প্রচার’।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ–এর নাম জড়িয়ে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে ইতিবাচক, অতিরিক্ত প্রশংসামূলক ও প্রশ্নবোধক কিছু রিপোর্ট। এসব রিপোর্টে দেখা গেছে—একটি পত্রিকা অনিয়ম নিয়ে যখন অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছে, তখনই আরেক পত্রিকা বা পোর্টাল ঠিক তার উল্টো সুরে কায়কোবাদকে ‘সৎ, দক্ষ ও নিন্দিত হওয়ার অযোগ্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যেন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তথ্য তুলে ধরা নয়—কাউকে রক্ষা করা।

গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা বলছেন—এ ধরনের পাল্টা-রিপোর্ট আসলে সংবাদপত্র আইন ১৯৭৩–এর মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালায় ‘স্বার্থসংঘাত’ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু এখানে সংবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘পিআর টুল’ হিসেবে। আইনজীবীদের মতে, কোনো রিপোর্টে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি প্রমাণসহ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেন—কিন্তু এক পত্রিকার রিপোর্ট ঢাকতে আরেক পত্রিকার পক্ষে গিয়ে ব্যক্তিগত সাফাই দেওয়া আইনসম্মত নয়, এটি সরাসরি প্রেস এথিকস ভঙ্গ।

এই পাল্টা সাংবাদিকতার আরেকটি বড় সমস্যা হলো—ভুল ছবি, ভুল পরিচয়, অযথা ব্যক্তির প্রশংসা, অসংগত তথ্য জোড়া লাগানো। অভিজ্ঞ এক সম্পাদক তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব ভুল কেবল অদক্ষতা নয়, বরং জনমত বিভ্রান্ত করার কৌশল। যেসব পত্রিকা সাধারণত অনিয়ম উন্মোচন করে, সেগুলোকে টার্গেট করেই এই ‘সাফাই সাংবাদিকতা’ চালানো হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভেতরের অবস্থার কথা তুলে ধরেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। তাঁদের ভাষায়, গণপূর্তের প্রভাবশালী কয়েকজন প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন সাংবাদিককে ব্যবহার করছেন নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে। কোনো অনিয়ম প্রকাশিত হলেই শুরু হয়—অভিযুক্ত কর্মকর্তার ছবি এড়িয়ে অন্য কারো ছবি ব্যবহার, অনলাইনে হঠাৎ প্রশংসামূলক নিউজের বন্যা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে ফোন করে ‘নরম করার চেষ্টা’, এবং আরেক পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম রিপোর্টকে ভুল প্রমাণের খেলা। তাদের কথায়, “দুর্নীতির রিপোর্ট দেখলেই ওরা দালাল সাংবাদিক পাঠায়।”

দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো—যেখানে একটি পত্রিকা প্রশ্ন তুলছে, সেখানে অন্য পত্রিকা সেই প্রশ্নকে ভুল প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগছে। এতে প্রকৃত সত্য আড়ালে পড়ে যায়, জনমত বিভ্রান্ত হয় এবং দুর্নীতিবাজরা বাঁচার সুযোগ পায়।

দেশের সিনিয়র সাংবাদিক ও গণযোগাযোগবিদরা এ পরিস্থিতিকে গণমাধ্যমের জন্য একটি ভয়ংকর বিপদ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সংবাদ কখনোই ব্যক্তিবিশেষের ঢাল হতে পারে না। সাংবাদিকতা সত্য উদ্ঘাটনের জায়গা, কারো ব্যক্তিগত প্রচারের প্ল্যাটফর্ম নয়। এভাবে স্বার্থান্বেষী প্রকৌশলী ও কিছু সাংবাদিকের যোগসাজশ চলতে থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অস্বচ্ছ হবে, আর দুর্নীতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হয়। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—যে পত্রিকা অনিয়ম প্রকাশ করে, তারা হয় চাপের মুখে পড়ে; আর যে পত্রিকা অনিয়ম আড়াল করে, তারা নানা সুবিধা পায়। এটি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং জনগণ—তিন পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

সবশেষে বলা যায়—সংবাদকে অস্ত্র বানিয়ে অনিয়ম আড়াল করা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। এক পত্রিকার রিপোর্ট ঠেকাতে আরেক পত্রিকার সাফাই কেবল অপেশাদার সাংবাদিকতা নয়, এটি সত্যকে চাপা দেওয়ার ভয়ংকর প্রচেষ্টা। প্রকৃত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং এবং যথাযথ তদন্ত—গৃহপালিত সাংবাদিকতা নয়।