অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগের পর অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন যুগ্ম-সচিব রোকেয়া বেগম এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপসচিব এস এম নোমান হাসান খান।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব থাকাকালীন সময়ে জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনৈতিক অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগটি করেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রূপসী ফ্লাওয়ার রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের মালিক মো. মহিদুল হক। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তার মিলকে ওএমএসের একক পেষণ ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশসহ প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে সেই অনুমোদন নথি অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদের টেবিলে গেলে তিনি নথিতে স্বাক্ষর না করে মহিদুল হকের নিকটাত্মীয়, শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মীর শাহে আলমকে সচিবালয়ে ডেকে আনেন। সেখানে অনুমোদনের শর্ত হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মহিদুল হক অভিযোগ করেন, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিয়াউদ্দিন ফাইল অনুমোদন না দিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে তার মিলের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন এলেও জিয়াউদ্দিন তা উপেক্ষা করে তাকে হয়রানি করতে থাকেন।

এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গঠিত কমিটিকে প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা এবং সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ভুয়া অ্যাকাউন্টে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুদকের মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তিন ব্যাংকের ১২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সঞ্চয়পত্রের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সংস্থাটি, যাদের মধ্যে ১০ জনই ব্যাংক কর্মকর্তা।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে প্রথম এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্প্রতি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুধবার (৫ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ক্যাশ অফিসার মো. সিকদার লিয়াকত, রূপালী ব্যাংকের সাবেক জুনিয়র অফিসার (বর্তমানে বরখাস্ত) শিবলী সাদিক ফয়সাল, প্রিন্সিপাল অফিসার মাহবুবুর রহমান, জোনাল অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) সঞ্জয় কুমার সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, প্রিন্সিপাল অফিসার রওশন রহমান ও সহকারী অফিসার শিফাইন মোস্তারী।
এছাড়া উত্তরা ব্যাংকের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত সাবেক অফিসার মেহেদী হাসান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মেহেদী হাসান, এবং দুই গ্রাহক মো. সালাউদ্দিন ও সামসুল আহসান বিল্টুকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে তিন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখা, উত্তরা ব্যাংকের বরিশাল শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের সদর রোড কর্পোরেট ও সেন্ট্রাল বাসটার্মিনাল শাখা ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে জানা যায়, তিন দফায় এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়—প্রথম দফায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার ৭২৭ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৮ টাকা, এবং তৃতীয় দফায় ৪৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্র শাখা এবং সরকারি হিসাব বিভাগের (পিএডি) মাসিক বিবরণী যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি চোখে পড়ে। এরপর ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরিশালের কোতয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দুদক এখন মামলাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




বিসিএস কর্মকর্তার বাবার পরিচয় যাচাই করতে যাচ্ছে দুদক, করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনের বাবা-মায়ের পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাচাই করতে যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচা মো. আহসান হাবীবকে বাবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি অর্জন করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, মা-বাবার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তারা ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, মো. কামাল হোসেন তার প্রকৃত বাবা-মা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবিয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা-চাচি মো. আহসান হাবীব ও মোছা. সানোয়ারা খাতুনের নাম ব্যবহার করেছেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারি চাকরি পান।

এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদে তিনি জাল তথ্য ব্যবহার করেছেন। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায়। প্রতারণার মাধ্যমে পিতৃপরিচয় পরিবর্তনের এই অভিযোগ প্রমাণের জন্য দুদক এখন ডিএনএ পরীক্ষা করতে যাচ্ছে।

মামলাটি গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু দ্বারা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দায়ের করা হয়।




৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের সাবেক এমডি ও জিএম কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আবছার এবং তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শারমিন জাহান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিজিএফসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ টি এম শাহ আলম নিজের জন্মসাল পরিবর্তন করে বয়স জালিয়াতি করেন। তাঁর এনআইডি ও শিক্ষাগত সনদে জন্মসাল ১৯৬১-এর পরিবর্তে ১৯৬২ দেখিয়ে তিনি চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে নেন। এতে তিনি ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবসরের সময় অতিক্রম করার পরও অতিরিক্ত এক বছর কর্মরত থেকে প্রায় ৭৪ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি বেতন ও ভাতা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিএফসিএল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ মেলায় বোর্ড সভায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, এ টি এম শাহ আলমকে এই প্রতারণায় সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন এমডি নুরুল আবছার ও জিএম (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদার।

ঘটনার পর বিজিএফসিএলের তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাসার মিজি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি এ টি এম শাহ আলম মামলা হওয়ার পরপরই দেশ ত্যাগ করেন। অপর দুই আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন, তবে সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগগুলো জামিন অযোগ্য ধারার হওয়ায় আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




হাসপাতালের কোয়ার্টারে ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বার: তাড়াইলে দুদকের অভিযানে অনিয়মের চিত্র

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। ছদ্মবেশে পরিচালিত এই অভিযানে টিম দেখতে পায়, হাসপাতালের এক চিকিৎসক নিজ কোয়ার্টারেই ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় টিম হাসপাতালের বহির্বিভাগে আগত রোগীদের ওষুধ সরবরাহের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে। দেখা যায়, অনেক রোগী ঠিকমতো ওষুধ পাচ্ছেন না। হাসপাতালের খাবারেও অনিয়ম ধরা পড়ে—রোগীদের জন্য নির্ধারিত ১৮০ গ্রামের পরিবর্তে মাত্র ১২৫ গ্রাম মাংস দেওয়া হচ্ছে, ১০০ গ্রামের পাউরুটির পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ৫০ গ্রাম, আর নির্ধারিত ৫০ গ্রাম চিনি দেওয়া হয়নি। রান্নাঘরে ডায়েট চার্ট না থাকা, নোংরা পরিবেশ এবং বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা টিমের নজরে আসে।

তাছাড়া, হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল, ওয়ার্ডে বেডশিটগুলো ছিল অপরিচ্ছন্ন। ডিউটি থাকা ডাক্তাররা নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অভিযানে পাওয়া এসব অনিয়মের বিষয়ে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে টিম একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে দুদক।




চট্টগ্রাম কাস্টমসে বড় জালিয়াতি: ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার অনুমোদন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের শুল্ক ব্যবস্থার ইতিহাসে আলোচিত “অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম” জালিয়াতি মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কনটেইনার খালাসে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাবেক ও বর্তমান মোট ১০ জন রাজস্ব কর্মকর্তা এবং পাঁচজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. আক্তারুল ইসলাম জানিয়েছেন, কমিশনের অনুমোদন ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, এবং মামলাটি শিগগিরই দায়ের করা হবে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাসুদেব পাল, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক ও দিদারুন নবী। এছাড়া সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রনি বড়ুয়া ও মো. আরিফুর রহমান, এবং বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা ফারহানা আকরাম ও মো. মাহবুবুর রহমানকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— অন্তরা করপোরেশনের মালিক মো. মুশতাক খান, মেসার্স এ. অ্যান্ড জে. ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার মো. আবদুল জলিল আকন ও মো. আলতাফ হোসেন, মেসার্স প্যান বেঙ্গল এজেন্সির মো. সেলিম, এবং জিআর ট্রেডিং করপোরেশন সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুল রহিম।

দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় আত্মসাৎ, প্রতারণা, জাল নথি প্রণয়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে “অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম” হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে জানা যায়, কাস্টমস কর্মকর্তারা সফটওয়্যারের দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চার হাজারেরও বেশি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে অসংখ্য কনটেইনার অবৈধভাবে খালাস করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।

বহু বছর অনুসন্ধানের পর অবশেষে মূল জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ দেশের কাস্টম প্রশাসনে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে সম্পদ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চান মিরপুর-কাফরুল এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল এলাকায় জাহাঙ্গীর লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঙ্গে জাহাঙ্গীর লতিফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং সাচ্চুর অর্থ-সম্পদের একটি অংশ জাহাঙ্গীর লতিফের কাছে গচ্ছিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ছাত্র হত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের দাবি, ওই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। তার শ্বশুর মতিউর রহমান, শাশুড়ি দিলারা রহমানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রোমানা জাহাঙ্গীরও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি মান সম্মান ও মেরে ফেলার হুমকীর কারনে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গৃহকর্মীর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তার বাসায় এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর লতিফের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর লতিফের বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান: জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, সহিংসতা, নির্যাতন , ছাত্র হত্যা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।