বিআইডব্লিউটিএতে ‘আওয়ামী দোসর’ সিন্ডিকেটের দাপট, নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধেই অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস, ডামি পরীক্ষার্থী এবং কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

সূত্রমতে, গত ১৬ মে রাজধানীর মিরপুরের বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালক ও বালিকা শাখা) এবং মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা ওই পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়োগ সিন্ডিকেট তাদের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে আগেভাগেই প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেয়। এমনকি দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটেই প্রশ্নের উত্তরপত্র গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছে যায়। এরপর পুরো পরীক্ষাকেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ ১৯৯০ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এসব চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার নামে সাজানো নিয়োগ নাটক পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-০৩/২০২৫ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএতে ২১ জন লস্কর, ১ জন বাস হেলপার, ২৩ জন শুল্ক প্রহরী, ৬ জন মার্কম্যান, ১৩ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ২ জন ড্রাইভার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত, নভেম্বর-৮ (১৯৯০) অনুযায়ী এমএলএম, গার্ড, নৈশ্যপ্রহরী, শুল্কপ্রহরী, মালি, ঝাড়ুদার, ক্লিনার, হেলপারসহ বিভিন্ন চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রার্থী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই বিধি উপেক্ষা করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতিবাজ চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

“ডামি পরীক্ষার্থী” দিয়ে পাস করানো হয়! বিআইডব্লিউটিএ’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো নিয়োগ জালিয়াতি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এরপর মূল পরীক্ষার্থীর বদলে “ডামি” বা “বডি চেঞ্জ” পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর একইভাবে প্রাকটিক্যাল ও ভাইভাতেও প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চুক্তির ৩০ শতাংশ, প্রাকটিক্যাল শেষে আরও ৩০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত ভাইভা শেষে বাকি ৪০ শতাংশ টাকা লেনদেন হয়। পরে সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের ছবি ও স্বাক্ষর যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়নি। ফলে ভুয়া পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার হলে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী দোসরদের সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় ! অভিযোগে উঠে এসেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা আকতার ও ছরোয়ারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী-এর প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার শত শত লোককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনও অপ্রতিরোধ্য। ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন আর টাকার বিনিময়ে অযোগ্যরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছেন।

নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়োগের অভিযোগ :
এই নিয়োগ পরীক্ষার আহ্বায়ক ছিলেন মোঃ সাজেদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ও সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন)। সদস্য সচিব ছিলেন মোঃ কবির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গোপাল বাবু (পরিচালক, হিসাব), মোঃ গোলাম ফারুক (নিরীক্ষা) এবং মোঃ মিজানুর রহমান (যুগ্ম পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ : নিয়োগ কমিটির ছত্রচ্ছায়াতেই পুরো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আহ্বায়ক মোঃ সাজেদুর রহমান দাবি করেন, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল মেরিডিয়ান ইউনিভার্সিটির এবং খাতা মূল্যায়নও তারাই করেছে। তার ভাষ্য, “প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই।” তবে মৌখিক পরীক্ষার বিধান থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ নেওয়া হয়।”

“একই হাতের লেখায় একাধিক খাতা”—তদন্তের দাবি :
ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন—একই হাতের লেখায় একাধিক উত্তরপত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে,
হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখতে হবে, টপশিটে দেওয়া তথ্য ও স্বাক্ষরের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর প্রকৃত তথ্য মিলছে কি না তা যাচাই করতে হবে, নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে কারা পরীক্ষা দিয়েছে তা তদন্ত করতে হবে এবং পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহারের বিষয় অনুসন্ধান করতে হবে তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে পুরো নিয়োগ সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়োগেই এমন ভয়াবহ দুর্নীতি হয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




আফগানিস্তান-ইয়েমেনে ওষুধ রপ্তানির দ্বারপ্রান্তে Albion, সামনে কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র মামলা

এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রামভিত্তিক Albion Laboratories Limited এখন দেশের উদীয়মান রপ্তানিমুখী ওষুধ শিল্পের অন্যতম আলোচিত নাম। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী জিএমপি সনদ অর্জন এবং একের পর এক বিদেশি বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি যখন বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, ঠিক তখনই একটি সুবিধাবাদী চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অপপ্রচার, হুমকি ও সাইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানসহ একাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানির প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে Albion Laboratories Limited। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের এই সাফল্যকে কেন্দ্র করেই নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আফগানিস্তানে প্রথম চালান, ইয়েমেনে দ্বিতীয় ধাপ : সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের কাবুলে প্রায় ৬৬ হাজার ৬৯০ ডলারের ওষুধ রপ্তানির প্রথম চালান প্রস্তুত করেছে এলবিয়ন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শিগগিরই এই চালান জাহাজীকরণ করা হবে। এরইমধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম অর্থও পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের এডেন সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে ৫৩ হাজার ৬৫০ ডলারের ১০ ধরনের ওষুধ পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুত ঋণপত্র খোলা হলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চালানও পাঠানো হবে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী ধাপে শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের বাজার বিশ্লেষণ করছে এলবিয়নের গবেষণা দল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে উঠে আসছে। সেই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক হিসেবে এলবিয়নের আত্মপ্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

১০০ কর্মী থেকে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান : ১৯৯১ সালে মাত্র ১০০ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল Albion Laboratories Limited। প্রতিষ্ঠাতা Mohammad Nezam Uddin–এর হাত ধরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ভবনে সীমিত আকারে শুরু হয়েছিল উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক কারখানা। নতুন প্রকল্প Albion Specialized Pharma Limited পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে সরাসরি প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বর্তমান চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot অস্ট্রেলিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক Muntahar Uddin Sakib মালয়েশিয়ায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি সম্পন্ন করে ব্যবসায় যোগ দেন। আর পরিচালক Tasnuva Afrin নিজেও একজন ফার্মাসিস্ট। তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এখন অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ক্যাপসুল, ড্রপসহ প্রায় ৪৫০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে।

কোটি টাকার চেক, মামলা আর সাইবার অপপ্রচার :
এই সাফল্যের বিপরীতে সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। Albion Laboratories Limited–এর কর্মকর্তাদের দাবি, পাওনা অর্থ পরিশোধ এড়াতে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন Kazi Mohammad Shahidul Hasan. মামলার নথি অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠান Innovative Pharma এলবিয়নের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পাঁচটি চেক প্রদান করে। পরে নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি ব্যবহার করে এলবিয়নের চেয়ারম্যান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার, মানহানিকর পোস্ট এবং হুমকির ঘটনা ঘটতে থাকে বলে অভিযোগ করেন এলবিয়নের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক Mohammad Rafiq Ahmad। মামলায় আরও যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন—Md. Jahidul Karim Rimon. Md. Shawkat Ali Rifat. Kazi Mohammad Rubaidul Hasan & Kamal Hossain.

আদালতের হস্তক্ষেপ, তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট :
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় Chattogram Cyber Tribunal মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা যখন বাড়ছে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

“Made in Bangladesh” ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে নিতে চায় এলবিয়ন : চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হলেও বাংলাদেশের ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, সরকারের ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের ওষুধের প্রতি বিদেশি বাজারে আস্থা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যখন আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে, তখন সেই সাফল্যকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের সক্রিয় হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাইবার অপপ্রচার ও ভয়ভীতি নয়—গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ।




দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বনামধন্য দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিধি মোতাবেক পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে শিক্ষা ছুটি নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার সুযোগে উপ অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে কলেজটি এখন ধ্বংসের মুখে। এমন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। যার উল্লেখ্য বিষয় কলেজের উপাধ্যক্ষ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নানাবিধ অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। আবেদনটি করেছিলেন দৌলতপুর কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে, মোঃ নাজমুল হাসান প্রাত্তন ছাত্র, দৌলতপুর কলেজ পিতা: মোঃ আরজত আলী গ্রাম: কলেজ মোড়, ডাকঘর: রিফাইতপুর উপজেলা: দৌলতপুর, জেলা: কুষ্টিয়া।

যেখানে উল্লেখিত তদন্ত গুলোর মধ্যে ১. সরকারি সম্পদ লুণ্ঠন ও অর্থ আত্মসাৎ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সমূহের মধ্যে গত ২৪/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখ (শুক্রবার), সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিতকৃত এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন এবং স্থানীয় সাবেক কৃষক লীগ নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম (নান্নু)-এর প্রভাবে উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, মেঃ মাহফুজ আলম (বাবলু), সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, স.ম সরওয়ার, সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম (সাবেক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি) কোনো প্রকার সরকারি নিলাম ছাড়াই কলেজের ৫টি মূল্যবান গাছ কর্তন করেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা। এই অর্থ কলেজ তহবিলে জমা না দিয়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। যা কুষ্টিয়ার স্থানীয় পত্রিকাসহ প্রথম আলো, যুগান্তর ও বিভিন্ন অনলাইন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

২. দৌলতপুর কলেজে ৩ টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স, ১১ টি অনার্স কোর্স, ডিগ্রী (পাস) কোর্স, উচ্চমাধ্যমিক (মানবিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (বিএমটি) শাখা চালু আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৭,০০,০০০০,০৭২,৪৪,০৫,২২-১৮ (তারিখ: ০৯/০২/২০২৬ খ্রি.) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল আয় সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু উপাধ্যক্ষ মহোদয় সরকারি নীতিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব ব্যবহার না করে শিক্ষক মোঃ মাহফুজুল আলম ও স.ম সরওয়ারের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নং (৩১৯৪০১০০৩৩২২৫, রূপালি ব্যাংক পিএলসি) খুলে ম্যানুয়ালি শিক্ষার্থীদের ফি ও অন্যান্য অর্থ সংগ্রহ করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট অপকৌশল।

৩. বর্তমান উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় স্থান অর্জন করেও বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর প্রদর্শক পদ এমপিও নীতিমালায় না থাকার পরেও অনৈতিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে এমপিওভুক্ত (যাহা বিভাগীয় তদন্ত হয় পরবর্তীতে প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত রিপট বাস্তবায়েনে বাধা প্রদান করেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পদের অতিরিক্ত (৩য় শিক্ষক) হিসেবে মোঃ মাহফুজুল আলম এবং পরিসংখ্যান বিভাগে (শুধুমাত্র এইচ, এস সি তে স্বকৃতী) অতিরিক্ত হিসেবে স.ম সরওয়ার এমপিও সুবিধা ভোগ করছেন, যা সরাসরি এমপিও নীতিমালার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপচয়।

৪. উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম ও তার সহযোগী মেষ্ট জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু), স.ম সরওয়ার এবং স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু কলেজে এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের অনৈতিকভাবে হয়রানি ও অর্থ দাবি করে আসছেন। ফলে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং ৪০০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা ১০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু প্রতিদিন কলেজ সময়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস হই না। অনেক শিক্ষক কলেজে এসে বাজার ঘুরে বেড়ায়, সঠিক সময়ে কলেজে উপস্থিত থাকে না। কলেজ সময়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে অবস্থান করে।

৫. মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক বৈধ সভাপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বাঁধার কারণে অদ্যাবধি কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু এবং তাঁর একটি সহযোগী চক্রদের মধ্যে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, প্রদর্শক মেঃ জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু) এবং স.ম সরওয়ার। এই চক্রটি সম্মিলিতভাবে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আমানুল হককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। যা আদালতের অবমাননা। মহামান্য হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট রায় ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, তারা আইন অমান্য করে আরিফুল ইসলাম নাড়ুকে ‘অবৈধ সভাপতি’ হিসেবে বহাল রেখেছে। যা আর্থিক তছরুপ। এই চক্রটি কলেজের সাধারণ তহবিল ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে এবং তা কমিটির ব্যক্তিগত স্বার্থে খরচ করছে। বৈধ সভাপতিকে কলেজে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ফাংসের দ্বারপ্রান্তে। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতা কলেজের সাধারণ শিক্ষক বা কর্মচারীগণ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের ওপর নেমে আসে নানা প্রকার হয়রানি ও হুমকি। চক্রটির ভয়ে বর্তমানে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার ফলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বৈধ সভাপতিকে সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া জরুরী বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে একটি তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তাতে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর অবৈধ নিয়োগ, কলেজের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলার প্রমান মেলে তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও মোঃ জহুরুল আলমকে জিঙ্গাসাবাদ করলে তারা পূর্বের একটি নিয়োগ বোর্ডের কথা উল্লেখ করেন। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায় যে, ০৫/১১/১৯৯৭ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ বার্তায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া আছে এবং সে অনুযায়ী ২২/০৩/১৯৯৮ তারিখে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠিত হয়। উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোঃ রেফাজ উদ্দিন প্রথম স্থান এবং মোঃ জহুরুল আলম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। নিয়োগ বোর্ড মোঃ রেফাজ উদ্দিনকে প্রদর্শক, ভূগোল পদে নিয়োগ দানের সুপারিশ করেন এবং উক্ত সুপারিশে আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম স্থান অধিকারী মোঃ রেফাজ উদ্দিন, প্রদর্শক, ভূগোল পদে যোগদান না করলে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মোঃ জহুরুল আলম-কে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া যাবে। কিন্তু তদন্তে দেখা যায় যে, মোঃ রেফাজ উদ্দিন ২২/০৯/১৯৯৮ তারিখে প্রদর্শক, ভুগোল, দৌলতপুর কলেজ, দৌলতপুর পদে যোগদান করেন এবং এপ্রিল ২০০১ পর্যন্ত চাকুরী করেন এবং সরকারি বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। তার এমপিও ভুক্তির তারিখ মে/২০০০ এবং ইনডেক্স নং DEM-4194431। তদন্ত কমিটির মতামত অনুযায়ী মোঃ জহুরুল আলম-এর বিরুদ্ধে অন্যান্য যে সব অভিযোগ আনীত হয়েছে কমিটি তদন্তে তার যথেষ্ট প্রমাণাদি পেয়েছে যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৫ এর ধারা ১৬ এবং উপধারা ১,৩,৫ ও ৬-এর পরিপন্থী।

সাধারণ শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও সচেতন মহলের দাবি কলেজটি তার আগের ধারায় ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সেই সাথে যারা কলেজের এই দুরবস্থা সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।




গণপূর্তে ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ সক্রিয়: আবু নাসের–আবু তালেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কথিত ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ এখনো সক্রিয়—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী ও ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদের ভয়ংকর সব তথ্য। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনো গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর সেই প্রভাব খাটিয়েই চলছে শত কোটি টাকার লুটপাট।

ঢাকায় পোস্টিং পেতে ১০ কোটি টাকার তদবির ! অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী ঢাকায় “লাভজনক” পোস্টিং নিশ্চিত করতে অন্তত ১০ কোটি টাকার তদবির ও ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিপু মুন্সির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ নিজের পোস্টিং নিশ্চিত করেন। এর আগে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বরং পুরোনো সেই রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করেই তিনি আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ায় ওটিএম কেলেঙ্কারি: এলটিএম এড়িয়ে কমিশন বাণিজ্য : বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এলটিএম পদ্ধতি এড়িয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত কাজগুলোতে ওটিএম অনুমোদনের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখিত ওটিএম টেন্ডার আইডিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১১১১৭৮১, ১১১৯৩১৬, ১১১৩০৭৯, ১১১১৫৬৩, ১১১১৫৫৮, ১১১১৫৫৯, ১১১১৫৬০, ১১১১৫৭০, ১১১১৫৬৭, ১১১১৫৬৯, ১১১১৫৬১, ১১১১৫৬৪, ১১১১৫৬৫, ১১১১৫৬৬, ১০৮১৫৪৬, ১১০০৭৯০, ১১০২০২৮, ১০৯১৯৭৩, ১০৯১৯৭৪, ১০৯১৯৭৫, ১০৯১৯৭৬, ১০৯১৯৭৭, ১০৯১৯৭৮, ১০৯১৯৭৯, ১০৮২১৫৯, ১০৮০২৩৫, ১০৮০২৩৬, ১০৬৯১৩১, ১০৭০৮৭৪, ১০৭০৮৭৫, ১০৭০৮৭৬, ১০৭১২৬৫, ১০৪৩২৪৮, ১০২৯৫৯৬ ও ১০১৮১৫৯।

ভেরিয়েশন বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা লোপাট : শুধু টেন্ডার নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে “ভেরিয়েশন” সুবিধা দেখিয়েও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করা হতো নিয়মিতভাবে।

সপ্তাহে দুই দিন অফিস, বাকি সময় পোস্টিং তদবির : অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া সার্কেলে দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করতেন আবু নাসের চৌধুরী। বাকি সময় কাটাতেন ঢাকায়—ওয়াকিং সার্কেল এবং পরবর্তীতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ পোস্টিং নিশ্চিত করার তদবিরে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে।

ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাহাড় : আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে— বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট বারিধারা ও গুলশান–২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমি Uttara Bank PLC-এ বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিপু মুন্সির ছায়ায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ দাপট : গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা হওয়ার সুবাদেই আওয়ামী আমলে কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন আবু নাসের চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বদলি, হয়রানি কিংবা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার ভয় কাজ করত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বর্তমানেও সেই পুরোনো “ফ্যাসিবাদী আচরণ” ফিরে আসছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণপূর্তের অনেকে।

বিসিএস ছাড়াই ‘ক্যাডার’ পরিচয়! নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেবের বিরুদ্ধে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবের বিরুদ্ধে উঠেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল উত্তোলন : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অন্তত ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবু তালেবের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকা, সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ আরও ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে বিল উত্তোলন : অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এমন মর্মে ব্যাকডেটেড ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন ও দণ্ডবিধি লঙ্ঘন করে এই জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও “ম্যানেজ” করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হতো।

কমিশন ছাড়া কাজ নয় ! গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব গড়ে তুলেছেন কথিত “কমিশন রাজ”—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ নগদ কমিশন নিশ্চিত করতে হতো। তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা কাজ হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অবৈধ সম্পদের পাহাড় : অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু তালেব। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঢাকা ও আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান শুরু : আবু তালেবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে নথিপত্র যাচাই শুরু করেছে। অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে জরুরি তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপূর্তে দুর্নীতির ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ কি এখনো বহাল ? গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত। বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল বিভাগে অনিয়ম আরও প্রকট বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, “সমঝোতা” ছাড়া কোনো কাজ পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই কমিশনের হার নির্ধারণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়—দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ই-টেন্ডারিং, থার্ড পার্টি মনিটরিং ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন জোরদার করা প্রয়োজন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরে যদি এমন দুর্নীতি চলতে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যবস্থা—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।




ফায়ার সার্ভিসে রেজায়ে রাব্বী বিতর্ক: কোয়ার্টার বাণিজ্য, পদায়ন সিন্ডিকেট ও আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাণিজ্য এবং আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএন-১০০৩১৮ নম্বরধারী রেজায়ে রাব্বী দীর্ঘদিন ঢাকা অঞ্চলে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ঢাকার বিভিন্ন লাইসেন্সিং এলাকায় কর্মরত ছিলেন। এই সময়েই তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বদলি ও পদায়নে সুবিধা নিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক সুবিধা ভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে আচরণগত কারণে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরে এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুরে পদায়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে।

অভিযোগ আছে, নিজের নামে বরাদ্দ নেওয়া সরকারি বাসা তিনি নিজে ব্যবহার না করে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন। এমনকি চাকরিচ্যুত এক ফায়ার ফাইটার হান্নানের কাছে সেই কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মহাপরিচালক জায়েদ কামালের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারও পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন রেজায়ে রাব্বী। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।




টেন্ডার বাণিজ্য থেকে সিনিয়রিটি কারসাজি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, সিনিয়রিটি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত বিসিএস পদ্ধতি এড়িয়ে বিশেষ সুবিধায় তাকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিসিএসের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র সেই নিয়ম ভেঙে কয়েকজনকে সরাসরি উচ্চ পদে বসানোর ব্যবস্থা করে। এই তালিকায় ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান ও মোঃ আবু তালেবসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া এবং সাবেক এমপি শেখ সেলিম ও শেখ হেলালের প্রভাবেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হককে সরাসরি নির্দেশ দেন যাতে লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াই নির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাইভা নিয়ে ১১ জনকে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিএস ক্যাডারের একাংশ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু চাকরিতে বহালই রাখা হয়নি, বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে সিনিয়রিটিতেও এগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে চাকরিতে যোগদান ও বেতন উত্তোলন নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে প্রায় ১১ মাসের ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদানপত্র তৈরি করা হয়। অথচ ওই সময় অনেকেই বাস্তবে চাকরিতে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও সরকারি কোষাগার থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, সেই সময় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত বেতন নিচ্ছিলেন। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হচ্ছে, মোঃ আইয়ুব আলী তখন মেরিন একাডেমিতে চাকরিতে ছিলেন এবং মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পরে ব্যাকডেট দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুবিধা নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, শেখ সেলিম, শেখ হেলাল এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়ার সরাসরি প্রভাব কাজ করেছে।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের “পি পি ডব্লিউ ডি উড ডিভিশন” নিয়েও নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে পদায়নের জন্য প্রভাবশালী এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপিপির আওতাধীন প্রকল্পকে দুই ভাগে ভাগ করে কমিশন নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর সামনেই দুই পক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর ভাই “মামুন”-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হাতিল, পশ ফার্নিচার, রিগেল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকার পরও কীভাবে তিনি প্রায় দেড়শ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কেন সেটি জমা পড়েনি তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আবারও নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহায়তা ছাড়া এত বিতর্কের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে যেতে পারেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।




দুয়ারীপাড়ার ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজার কয়েকটি জমি ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা আদেশ থাকার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র ওই সম্পত্তিতে দখল, নির্মাণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বার বলেন, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করা হয়। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ বিতর্কিত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। সেই আদেশ এখনও কার্যকর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে মাটি ভরাট, ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াকফা এস্টেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে আদালতের আদেশ সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াকফ সম্পত্তির খালি জায়গাগুলো ধীরে ধীরে দখল করে সেখানে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, বিতর্কিত ভূমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, যেসব জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন এবং যেখানে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ রয়েছে, সেখানে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।

ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্যের ঘটনায় কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশেই এখনও ওই জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ বন্ধ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।




ওহাব গ্রুপের পদোন্নতি কাণ্ড: এলজিইডির কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির কতিপয় কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পদোন্নতিতে প্রধান প্রকৌশলী সহ কয়েকজনের ব্যাক্তিগত লাভ হলেও সরকারের গচ্চা গেছে পাঁচ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন পদের ২৪ জন কর্মচারী তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট মামলা নং ৮৪৩১/ ২০১১ এবং প্রথম শুনানি হয় ২৬ জুলাই ২০১২ দ্বিতীয় ও শেষ শুনানি হয় ১৬ অক্টোবর ২০১২। মামলার অথচ রায় হয় ১৫ অক্টোবর ২০১২, এখানে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। দেখা যায় শেষ শুনানি ১৬ অক্টোবর ২০১২ আর রায় হয়েছে ১৫ অক্টোবর ২০১২। এই রায় ফরমায়েশি,ভুয়া বা স্বঠিক তা বুঝা দুষ্কর।

এলজিইডির এই ২৪ জন কর্মচারী যাদের মূল পদ কেউ সার্ভেয়ার কেউ কার্য সহকারী কেউবা স্টোর কিপার। তাদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন কেউ মারা গেছেন অবশিষ্ট আছেন ১২ জন এবং তাদের দলনেতা ছিলেন প্রয়ায়ত আব্দুল ওহাব। ওহাব গ্রুপের এই ১২জনকে কোর্টের ভুল রায়ের আলোকে এই পদোন্নতি দেয়া হল। কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ১১ জনের চাকরি শুরু থেকে রাজস্ব খাতে ছিল। ২০১২ সাল থেকে বর্তমান অবদি ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী গত হয়েছেন কিন্তু কেউ কোর্টের এই ভুল রায়ের কারণে তা বাস্তবায়ন করেননি। ওহাব গ্রুপের সদস্যরা ২০২৫ সালের শুরু থেকে মোটা অংকের ফান্ড তৈরি করে এবং জোর প্রচেষ্টা শুরু করে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তাদের পদোন্নতির ফাইল চালু করেন এবং পদোন্নতি দেন। সরকারি চাকরি বিধির আলোকে রুটিন দায়িত্বের কোনো কর্মকর্তা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেন না অথচ দেখা যায় তিনি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, রায়ে কোথাও উল্লেখ নাই যে ইফেকটিভ ডেট থেকে তাদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দেওয়ার কথা। অথচ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাবদ প্রত্যেকে ৪০-৪৫ লাখ টাকা হারে সরকারের কোষাগারে থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন ও এরিয়ার সমুদয় বিল প্রদানের আদেশ করাতে চেস্ট করেও বিফল হয়। পরবর্তিতে গোলাম মোস্তফা প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপ আদা জল খেয়ে চেষ্টা শুরু করেও ব্যর্থ হয় এবং জাবেদ করিমের সময় সফল হয়।নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকা মোঃ শরিফুজ্জামান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান দায়িত্বভার গ্রহনের পর ওহাব গ্রুপের ১২ জনের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল প্রদানের চিঠি চুড়ান্ত করা হয়। শরিফুজ্জামান বেলাল হোসেনর ভায়রা তার মাধ্যমে ওহাব গ্রুপের এরিয়াল বিল প্রদানে তাতপর ছিলেন তিনি।সরকারের পাঁচ কোটি টাকা গচ্ছার পিছনে কেকে জড়িত তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অবিজ্ঞ মহল।

ওহাব গ্রুপের সদস্যরা তাদের পক্ষে প্রজ্ঞাপন ও সিলেকশ গ্রেড এবং টাইমস্কেল প্রাপ্তির জন্য দেড় কোটি টাকা ঘুষ দেন। দেড় কোটি টাকার এক কোটি টাকা দেন প্রধান প্রকৌশলী ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনকে। বাকি পঞ্চাশ লাখ টাকা দেন এরিয়াল বিল প্রদান ফাইল শুরু জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসনকে। কিন্তু কোর্টের রায়ে ইফেকটিব ডেট থেকে কার্যকর হবে তা উল্লেখ নাই অথচ প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত যুক্ত থাকায়। ওই ১২ জনের জন্য সরকারের প্রায় পাচঁ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

সূত্র জানায়, ওহাব গ্রুপের সাথে প্রসাশন শাখার কয়েকজনের সাথে চুক্তি হয় কেসের মাধ্যমে অন্য যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের চাকরি গ্রহনের দিন থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের ব্যবস্থা করতে হবে বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ পাবে। কোর্টের ডিরেকশন না থাকার পরেও তাদের বকেয়া সিলেকশ গ্রেড ও টাইমস্কেল ব্যবস্থা করে দিবেন। চুক্তি অনুযায়ী নিয়োম নীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ভুল রায়কে বাস্তবায়ন করে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দন্ড লাগিয়েছেন কিন্তু লাভবান হয়েছেন ওহাব গ্রুপের ১২ জন এবং ঘুষ গ্রহিতারা।




টেন্ডার সিন্ডিকেট থেকে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ—গণপূর্তে ড. আবু নাসেরকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর—যে দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত হওয়ার কথা, সেটিই এখন যেন পরিণত হয়েছে এক ‘নিয়ন্ত্রিত দুর্গে’। অভিযোগ উঠেছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীর অঘোষিত নির্দেশ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ কার্যত অসম্ভব।

দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে ঘিরে এখন তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনজুড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক আলোচিত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবের বলয়ে রয়েছেন ড. আবু নাসের চৌধুরী। আর সেই প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে তুলেছেন এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ উঠেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এ তার পদায়ন নিয়ে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১ কোটি টাকার বিনিময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অথচ এর আগেই বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠে ভয়াবহ অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ।

সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত বিভিন্ন কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করা হয়েছে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ভেরিয়েশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ায় দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে দুই দিনের বেশি অফিস করতেন না ড. আবু নাসের। বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করে তদবির, পদ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলবে। তার বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট, বারিধারা ও গুলশান-২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। এছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল ব্যাংক হিসাব ও অঘোষিত সম্পদের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সাংবাদিকদের প্রতি তার আচরণ।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা খাতা চালু করা হয়েছে। সেখানে নাম, পত্রিকার পরিচয়, আগমনের কারণ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—সব বিস্তারিত লিখে দিতে হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর আমন্ত্রণে অফিসে গেলেও গেটে তাকে আটকে দেওয়া হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি জানান, ড. আবু নাসের চৌধুরীর নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সেই সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছিল সরকারি অফিসে নয়, কোনো গোপন সামরিক স্থাপনায় ঢুকতে গেছি। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে এমন নজরদারি কেন ? ভয়টা কোথায় ?”

তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন দেওয়ার পর আচরণ কিছুটা নরম হয়। এরপর নাম এন্ট্রি, স্বাক্ষর ও ভিজিটর কার্ড দিয়ে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি “অপমানজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ” বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—একটি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে এত অস্বাভাবিক কড়াকড়ির পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের তথ্য আড়াল করতেই কি এই ‘নিজস্ব আইন’ চালু করা হয়েছে?

এ বিষয়ে ড. আবু নাসের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি নিজেই গণপূর্তে ঢোকার নিয়ম তৈরি করেছি।” সাংবাদিকদের প্রবেশে এত কড়াকড়ির কারণ জানতে চাইলে তিনি ধমকের সুরে কথা বলে ফোন কেটে দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের কর্মচারীরা জনগণের সেবক মাত্র। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য নয়। অথচ ড. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ করে, তিনি যেন সরকারি দপ্তরকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পরিণত করেছেন।

অভিযোগের পাহাড়, প্রভাবের বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ সম্পদের প্রশ্ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে অঘোষিত বাধা—সব মিলিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন যেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক ভয়ংকর ‘দুর্গতন্ত্র’। আর সেই দুর্গের কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচিত নাম—ড. আবু নাসের চৌধুরী।




চট্টগ্রাম বন বিভাগে দুর্নীতির ছড়াছড়ি, বনভূমি দখল আর কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। বছরের পর বছর এসব অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে বন বিভাগের ভেতরে ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়ছে।

সাবেক বন সংরক্ষক (সিএফ) বিপুল কুমার দাশের সময় থেকেই নানা অনিয়ম নিয়ে আলোচনা ছিল। পরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্ল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ইচ্ছামতো রেঞ্জ পরিচালনা করছেন এবং বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও অনিয়মের ঘটনায় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সম্প্রতি কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ অফিস থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে দ্রুত ১৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই গর্জন গাছ কেটে পাহাড়ি বনভূমি দখল করা হলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলেন। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই রেঞ্জ অফিস থাকলেও দখল ঠেকাতে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। এমনকি ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা বা বিট কর্মকর্তাদের এলাকাতেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কয়েকদিন ধরেই বনভূমি দখলের কাজ চালায়। বন বিভাগের সামনেই গাছ কেটে ঘর নির্মাণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, বন কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় দখল সম্ভব নয়। পরিবেশবাদীরাও আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান না চালালে সংরক্ষিত বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হয়ে যেতে পারে।

এদিকে “সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)” প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বাগান তৈরি না করেই প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের ভেতরে আলোচনায় থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি। বরং প্রধান অভিযুক্তদের একজন সাদেকুর রহমানকে শাস্তি না দিয়ে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে দ্রুত বর্ধনশীল বাগান তৈরির নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয়নি। পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারাগাছের হার ছিল মাত্র ৬০ শতাংশের কিছু বেশি, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮০ শতাংশ থাকার কথা। আরেকটি ১০ হেক্টরের বাগানে চারার হার পাওয়া যায় প্রায় ৫০ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয় যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের গাফিলতি ও অর্থ লোপাট হয়েছে।

এ ঘটনায় উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তাদের কাছে দায়ীদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠালেও অভিযোগ রয়েছে, সেই তালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়। বন বিভাগের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচাতে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনও অভিযোগ আছে যে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটকে প্রভাবিত করতে ঘুষ লেনদেন হয়েছে।

দুর্নীতির ঘটনায় যাদের নাম সামনে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, উপবন সংরক্ষক (ডিসিএফ) এস.এম. কায়চার এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন। অভিযোগ রয়েছে, বনায়নের নামে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এস.এম. কায়চার বর্তমানে চট্টগ্রামে, সাদেকুর রহমান কক্সবাজারে এবং জয়নাল আবেদীন সিলেটের হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাদেকুর রহমান দায় এড়িয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে এস.এম. কায়চারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আর জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি অভিযুক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না।

সব মিলিয়ে বন বিভাগের ভেতরে দুর্নীতি, বনভূমি দখল, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের যোগসাজশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের সংরক্ষিত বনভূমি আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।