গেজেট পেছালেও পে-স্কেল কার্যকর হবে জুলাই থেকেই
পে-স্কেলের গেজেট জুলাইয়ে হচ্ছে না, চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ
ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। যদিও অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে এই গেজেট জারি হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করেই গেজেট জারি করতে চাইছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে গেজেট প্রকাশ যখনই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন।
গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কত হবে, কোন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন—এসব বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গেজেট প্রকাশে বিলম্বের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ সব আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন আর নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ এ ছাড়া পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তবে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু তাদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই দুই বা তিন ধাপে অবসরকালীন সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেই। এ কারণে তারা ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের চাপ কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ যথেষ্ট সময়োপযোগী। তবে বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই
ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। যার প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের একটি রূপরেখাও সামনে এসেছে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর না করে প্রথম দফায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সামনে আনেন। জাতীয় সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে বেতন পাওয়ায় এবং বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রথম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার, এক লাখ ১৩ হাজার, এক লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, প্রস্তাবনায় ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতনের কাঠামো যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া নিচের সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।
দেশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি
রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় রেখেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই হবে।
তিনি বলেন, ইশতাহারে বলা হয়েছে যে, যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ীই একটা রিভিউ করা হয়েছে। বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
কবে নাগাদ গেজেট প্রকাশ হতে পারে এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি জানান, ‘পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নটা করা হবে।’ যদিও, জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’
বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে নতুন পে-স্কেলে বেতন-ভাতা একসাথে কার্যকর না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটা ধাপে এটা করবো, প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে।’ তবে কোন গ্রেডের কর্মচারীর বেতন কত হতে পারে সে বিষয়ে এখনই কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
তিনি বলছেন, গেজেট চূড়ান্ত করতে সরকার পর্যালোচনা করছে, ‘এই পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।’
যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ বেতন বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব
ডেস্ক নিউজঃ মানুষের কাছে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরে নোয়াখালী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকেই এখন ব্যাংকে অর্থ না রেখে বাসায় নগদ সংরক্ষণ করছেন। অতীতে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগীদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে অবস্থান করছে।
মাহবুব উদ্দিন বলেন, সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যেসব অর্থ আয়কর নথিতে নেই, সেগুলো ২৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি কমবে, ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থ ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।
দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষেও মত দেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দেশে ব্যাংক বেশি। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন জরুরি। জনগণের অর্থ দিয়ে বারবার ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টাকা পাচারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো কঠিন। তাই এমন আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে বিনিয়োগে আস্থা পায়। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীলতা আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ঘাটতি বাজেট অস্বাভাবিক নয়; বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতি বাজেট হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি বৈঠকে বসছে বুধবার (২৪ জুন)। কারিগরি ও আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পে-স্কেল কমিটি আজ এ বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় ৩টি ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করা হলেও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরালো দাবির মুখে এটি কমিয়ে ২ ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যায় কিনা, তা নিয়ে আগামীকাল গভীরভাবে আলোচনা করা হবে।
বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য নিরসন এবং কারিগরি ও আইনি জটিলতা দূরীকরণসহ নানা বিষয়ে এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থাৎ পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বুধবার সচিব কমিটির সভা হওয়ার দিন রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর করার বিষয়টি। একইসঙ্গে আইনি ভেটিংয়ের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত পূর্বের বিধিমালা সংশোধন এবং পে-স্কেলের জটিল হিসাব-নিকাশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইবাস++-এর মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।
এর আগে, গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
ডেস্ক নিউজঃ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও গতিশীল করতে নতুন হিসাব সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন।
এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ খাতের সংযোগ জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এ হিসাব খোলা যাবে। গ্রাহকরা সঞ্চয়ী, চলতি অথবা স্থায়ী আমানত হিসাব হিসেবে এটি পরিচালনা করতে পারবেন।
সার্কুলার অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগের আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত অর্থসহ বৈদেশিক মুদ্রা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল এ হিসাবে জমা রাখা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ হিসাবে জমাকৃত অর্থ এবং অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনযোগ্য। ফলে প্রবাসীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারবেন।
এ ছাড়া হিসাবের অর্থ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাবগুলোতে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ।
নতুন এই সার্কুলারের একটি বড় দিক হলো, এই হিসাবে জমাকৃত তহবিল ব্যবহার করে দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলের (যেমন- ইপিজেড, বেজা) ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় টাকা বা কারেন্সিতে ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এই ঋণ সুবিধা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চলতি ব্যয়, যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আর এই ঋণের টাকা অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া এ হিসাবের বিপরীতে জামানত রেখে প্রবাসী বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। তবে কৃষি, বাগান ও আবাসন খাতে এ ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না।
ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক মহল বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন হিসাব ব্যবস্থা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে, অফশোর ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং প্রবাসীদের দেশীয় অর্থনীতি ও বিনিয়োগে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
আরও কমলো স্বর্ণের দাম
ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (২০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।