সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ

ডেস্ক নিউজঃ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ‍্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে তারা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নোটিশে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

নোটিশে বলা হয়, আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়াও সকল কোম্পানি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এর আগে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের হুমকি দেয় তারা। এরপর সন্ধ্যায় বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

রাত ১১টার দিকে এলপি গ‍্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। দুপুর ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হবে। আর না হলে বিক্রি বন্ধ থাকবে।




বছরের শুরুতেই বাড়লো স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই দাম সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৩ টাকা।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি ভালো মানের স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। পরে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দফায় দাম কমানো হলেও নতুন বছরের শুরুতেই তা আবার বাড়ানো হলো।

অন্যদিকে, রুপার দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় পৌনে ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রত্তিবেদকঃ দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে গেল ডিসেম্বর মাসেই ১ লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন করেছে। শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার। গত ১০ ডিসেম্বর ভ্যাট দিবস এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ভ্যাট সপ্তাহ পালন করেছে এনবিআর। এ ছাড়া ১০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়করের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ আদায় হয় ভ্যাট থেকে। গত বছর মোট রাজস্ব আদায়ের ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে আদায় হয়েছে। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে আইন সংশোধন করে ৫০ লাখ টাকার বেশি টার্নওভার হলে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। আগে যা ছিল ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া সহজে ভ্যাট নিবন্ধন, সহজে অনলাইনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া এবং অটোমেটেড পদ্ধতিতে অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাট সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজবোধ্য ভ্যাট রিটার্ন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



প্রতি সিলিন্ডারে ৫৩ টাকা বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

ডেস্ক নিউজঃ জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে প্রতি ১২ কেজি সিল্ডিারের দাম পড়বে ১৩০৬ টাকা।

রবিবার নতুন এ মূল্যের ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

এছাড়া, অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ডিসেম্বর মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম ১ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।




শুল্ক কমানো হয়েছে, এনইআইআর বন্ধ হবে না: ফয়েজ তৈয়্যব

ডেস্ক নিউজঃ মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিটিআরসি ভবনে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মোবাইল ফোন আমদানির শুল্কহার কমিয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এরপরও দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ‘অপরাধের লাইসেন্স’ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ভাঙচুরের ফলে সংস্থাটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।

এদিকে, কয়েক দফা দাবি আদায়ে রোববার কারওয়ান বাজার মোড়ে ফের জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়ান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে থেমে থেমে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র‍্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে সকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে আন্দোলনকারীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটি পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।




আজ ১৯ ডিসেম্বর—২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির সর্বশেষ মূল্য

বাণিজ্য ডেস্কঃ বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ার ফলে দেশের বাজারেও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সমন্বয় করে কার্যকর করা এই দামেই শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) স্বর্ণ বিক্রি হবে।               

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা  (যা সোমবার ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা)।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ২১১ টাকা (যা সোমবার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা), ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ টাকা (যা সোমবার ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা), এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা (যা সোমবার ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা)। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।




ভবিষ্যতে ব্যবসা করতে হলে সবাইকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে এখনো বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সামনে এমন সময় আসবে যখন কেউ চাইলে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবসা চালাতে পারবেন না। তিনি জানান, ধীরে ধীরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ নিবন্ধন অভিযান চলবে, যেখানে লক্ষ্য রাখা হয়েছে কমপক্ষে এক লাখ নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা। বর্তমানে দেশে মোট ৬ লাখ ৪৪ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত আছে।

তিনি আরও জানান, ভ্যাট দেওয়ার ঝামেলা কমাতে “এক ক্লিকেই ভ্যাট পরিশোধ” ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে। কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এই সুবিধা ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচবে।

ই-রিটার্ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ই-রিটার্ন জমা পড়েছে এবং বছর শেষে ৪০ লাখে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক–সংক্রান্ত চারটি তথ্য দিতে হয়, যার কারণে করদাতাদের ব্যাংকে যেতে হয়। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হবে যাতে মানুষকে আর বাড়তি ঝামেলায় পড়তে না হয়। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, অনেকের ধারণা রাজস্ব কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য দেখতে পারেন—কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নিয়ম মানছে তাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না। যারা নিয়ম ভেঙে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে।

এই বছর ভ্যাট পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি জানান। পুরস্কারের নীতিমালা পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে পুনরায় পুরস্কার কার্যক্রম চালু হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।




সরকারি গৃহঋণে জটিলতা: অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যাংকের আচরণে বিস্ময়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুরু হয় যখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মফিজ উদ্দীন আহমেদ রূপালী ব্যাংক থেকে ২০২২ সালের মে মাসে ৭৫ লাখ টাকার গৃহঋণ নেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ২০ বছর ধরে ২৪১ কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তিনি নিজের সঞ্চয় যোগ করে ঢাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকায় একটি ফ্ল্যাটও কেনেন এবং ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে নিয়মিত কিস্তি দিতেও থাকেন। এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ১ জুলাই তিনি অবসর নেন, কিন্তু অবসরের মাত্র দুই মাস পরই ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক চাপের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রূপালী ব্যাংকের করপোরেট শাখা তাঁকে হাজির হতে বলে এবং সেখানে গিয়ে তিনি একটি চিঠি পান। চিঠিতে জানানো হয়, তাঁকে হঠাৎ করেই ৪৭ লাখ টাকা একবারেই পরিশোধ করতে হবে, বাকি অংশ কিস্তিতে দেওয়া যাবে। অথচ তিনি তো নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছিলেন! এই আচরণ তাঁর কাছে পুরোপুরি অযৌক্তিক মনে হয়। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে অর্থ বিভাগকে জানান, এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়—ব্যাংকের এই দাবি সরকারি গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা-২০১৮–এর সঙ্গে একদমই যায় না। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, অবসরের পর কিস্তি বকেয়া থাকলেও গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কিস্তি পুনর্গঠন করা যাবে, কিন্তু এককালীন চাপ দেওয়া যাবে না।

ঘটনা এখানেই থামেনি। ২৬ অক্টোবর নিজের এলাকার একটি শাখা থেকে নিজের জমা টাকার অর্ধেক তুলতে গেলে তাঁর চেক প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক হিসাব ‘ওপরের নির্দেশে’ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অথচ কোনো সরকারি অনুমতি ছাড়া ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নিয়ম নেই—এটি স্পষ্টভাবে নীতিবহির্ভূত। পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন নিয়মিত কিস্তি দেওয়া গ্রাহকের সঙ্গে এমন অদ্ভুত আচরণ কেন হলো?

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে শুধুমাত্র রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে নয়। সরকারি কর্মচারীরা জানাচ্ছেন, যেসব ব্যাংক গৃহঋণ কার্যক্রমে যুক্ত—তার মধ্যে অনেক ব্যাংকই এখন গ্রাহকদের নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে হয়রানি করছে। কারণ সাধারণ ঋণের সুদের হার বাড়ায় ব্যাংকগুলো এখন ভালো মুনাফা ধরে রাখতে ব্যস্ত, আর সরকারি গৃহঋণে সুদের হার মাত্র ৪ শতাংশ হওয়ায় এ ঋণ দিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাপের মুখে ফেলছে।

এ অবস্থায় অর্থ বিভাগ ১১ নভেম্বর ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া পুনঃতফসিল করা যাবে না, অবসরের পর কোনো বাড়তি চাপ দেওয়া যাবে না, এবং কোনো অস্পষ্টতা হলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। আরও বলা হয়, গৃহঋণের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বা বাড়ির দলিল থাকে, তাই ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ নয়; ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওপর অযাচিত চাপ দেওয়া অনুচিত।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া সরকারি গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালার আওতায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৯৪ জনের নামে ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩০ জন চূড়ান্তভাবে ভর্তুকি পেয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে ১৮৩ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়েছে।

পুরো ঘটনায় মফিজ উদ্দীন আহমেদ শুধু জানান, অর্থ বিভাগ ও ব্যাংক এখন বিষয়টি সমাধানের পথে এনেছে। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—সরকারি কর্মচারীদের গৃহঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব জরুরি প্রয়োজন।




বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: শিল্প উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের অনেক কলকারখানা, বিশেষ করে চিনিকলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে কিছু মিল আবার চালু করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দেশের বৃহত্তম সরকারি চিনিকল চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে ২০২৫–২৬ মৌসুমের ৮৮তম আখ মাড়াই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে আদিলুর রহমান খান বলেন, চিনিকলটির আধুনিকায়ন ও যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনসংক্রান্ত বিএমআরআই প্রকল্প দ্রুত সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। আমি আশা করেছিলাম আজই বিএমআরআই চালু হবে। পরে জানলাম কিছু কাজ এখনো বাকি। তবে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে—খুব দ্রুতই এটি কার্যক্রমে ফিরবে। আমরা পুরো প্রকল্পটি দ্রুতই চালু করবো।




যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৬১ হাজার মেট্রিক টন গম

ডেস্ক নিউজঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে দেশটি থেকে ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন গমবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন গমবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির কার্যক্রম শুরু করেছে। এই চুক্তির আওতায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায়— যার প্রথম চালানে ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গম গত ২৫ অক্টোবর, দ্বিতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন গম ৩ নভেম্বর তারিখে এবং তৃতীয় চালানে ৬০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন গম ১৫ নভেম্বর দেশে পৌঁছেছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা গমের চতুর্থ চালান। চুক্তি অনুযায়ী ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গমের মধ্যে ইতোমধ্যে চারটি চালানে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজে রাখা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গমের নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত তা খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।