যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে তিন দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মরণকালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এবং প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে গত তিনদিনে (৩ জুলাই-৫ জুলাই) ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কে তিনজন এবং নিউজার্সিতে ৩০ জনের প্রাণহানি হয়।

নিউজার্সির স্বাস্থ্য দফতর এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এ তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অসহনীয় তাপদাহের আশংকা আগেই করা হয় এবং সর্বসাধারণকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হবার পরামর্শও দেয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে, তাপদাহের ভিকটিমদের বয়স ৩০ বছর থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সময়ে তাপ মাত্রা উঠেছিল ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর। নিউজার্সি স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান ডালিয়া ইওয়াইজ উল্লেখ করেন, তাপদাহের ব্যাপারটি এতটাই চরমে উঠেছিল যে, অনেকে তা কল্পনাও করতে পারিনি। গাড়ি চালানোর সময় এবং নিজ বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার ভিকটিম হয়েছেন প্রায় সকলেই। এছাড়া দুয়েকজনের প্রাণহানী ঘটেছে পূর্ব সতর্কাবস্থা অগ্রাহ্য করে বাইরে বের হওয়ায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অসহনীয় তাপদাহের মধ্যেই ঘন্টায় ৭১ মাইলেরও অধিক গতিতে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে নিউজার্সির কোন কোন এলাকায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট-সহ আশেপাশের বেশ কটি স্টেটে এক লাখ ৮৫ হাজার বাসা, ব্যবসা এবং অফিস-আদালত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে প্রচন্ড গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে যাবার পর তিনজনের মৃত্যু এবং আরো কমপক্ষে ১৪৬ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটাই প্রথম অবিশ্বাস্য রকমের তাপদাহ প্রবাহিত হবার পর। অপরদিকে, নিউজার্সিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৩১ জন।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক অঞ্চলে অসহনীয় তাপদাহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও উপস্থিতির হার কমেছিল। ৪ জুলাই ছিল স্বাধীনতা দিবস।




বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেল ও গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার) পৌঁছায়। আগের দিনের দরপতনের পর নতুন করে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কায় বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি দাবি করেছে, সতর্কবার্তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ায় এলএনজি বহনকারী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। তবে এ ঘটনার সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।




এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে নেতানিয়াহুর ‘নালিশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অনবরত ইসরায়েল-বিরোধী বিবৃতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি ‘নালিশ’ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আঙ্কারার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যবহার হতে পারে— এমন কোনো উন্নত সামরিক প্রযুক্তি বা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তুরস্কের কাছে বিক্রি না করার জন্য তিনি মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজের এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে তার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত দুই বছর ধরে গাজা উপত্যকা এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের জেরে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে একটি সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলছেন, কারণ ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে নেতানিয়াহুর আগের সেই একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও নানা মতভেদের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের চমৎকার ব্যক্তিগত সখ্য এবং তুরস্কে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিশাল আর্থিক মুনাফার বিষয়টিকে সরিয়ে ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহু কতটা প্রভাব খাটাতে পারবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে সংশয় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাচ্ছেন, যেখানে তুর্কি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন ইঞ্জিন সরবরাহ চুক্তি এবং দেশটিকে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার এজেন্ডা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ওয়াশিংটন তুরস্ককে এই সংবেদনশীল এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করেছিল।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আঙ্কারার হাতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুনরায় তাদের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রি করা সম্ভব, তা মার্কিন পেন্টাগন বর্তমানে খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান যে মার্কিন আইন মেনে এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আমেরিকার এই সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি তুর্কি সরকারের ক্রমাগত ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছিলেন যে এটি তুরস্কের জাতীয় অস্তিত্বের জন্যও এক বড় হুমকি। এর পরপরই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল সরকারকে ‘মানবজাতির জন্য অসহনীয় বোঝা’ আখ্যা দিয়ে দেশটির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানান।

শুক্রবারের ফোনালাপে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন যাতে তিনি এরদোয়ানকে কিছুটা ‘সংযম’ প্রদর্শনের বার্তা দেন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নেতানিয়াহুর দাবিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তিনি হয়তো তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে তাকে কিছুটা সংযত হতে বলতে পারেন। তবে এই স্পর্শকাতর ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অফিশিয়াল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের নেওয়া কিছু স্বাধীন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও এক ধরনের অদৃশ্য টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অতীতে যেসব ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগই বাস্তবে মেলেনি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার একটি সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন যে তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আঙ্কারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘খারাপ পক্ষকে’ সব ধরনের মদদ যোগাচ্ছে।

নেতানিয়াহু তার সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আমেরিকা-বিরোধী চরমপন্থী আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে কোনোভাবেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা উন্নত ইঞ্জিন দেওয়া উচিত হবে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হবে, যা বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশসামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে সুসংহত রয়েছে’।

সূত্র: অ্যাক্সিওস




খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের ছবিতে পাথর নিক্ষেপ, ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতীকী ছবিতে পাথর নিক্ষেপ করেছেন হাজার হাজার শোকাতুর জনতা।

আজ সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সংবাদ সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ইসলামের পবিত্র হজব্রতের ‘শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ’ (রমি আল-জামারাত) আচারটির অনুকরণে ট্রাম্পের ছবিতে নুড়ি পাথর ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন।

নিহত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ রাজধানী তেহরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। শোকের আবহে পুরুষ ও নারীরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের প্রজাতন্ত্রের পতাকা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে মিছিলে শামিল হন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই বিশাল সমাগম থেকে বরাবরের মতোই ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান তোলা হয় এবং মার্কিন পতাকা পোড়ানো হয়।

এরই মধ্যে জানাজা চলাকালীন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত একটি ‘ওয়ান্টেড’ বা মোস্ট ওয়ান্টেড ধাঁচের ব্যানার দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ব্যানারটিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো)। একইসঙ্গে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জীবিত অথবা মৃত এনে দিতে পারলে ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করা হয় সেখানে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সমাবেশে জানাজায় আসা সাধারণ মানুষের এই ধরনের মার্কিনবিরোধী অবস্থান একটি নিয়মিত চিত্র। আজকের এই জানাজা মিছিল থেকে ট্রাম্পের পাশাপাশি তার প্রশাসনের তথাকথিত ‘যুদ্ধবাজ উপদেষ্টা’দের একটি তালিকাও জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে সেই উপদেষ্টাদেরও ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।




চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরল পরীক্ষা চালাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে আজ সোমবার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএলবিএম) বিরল পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। দেশ দুটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) নৌবাহিনী শাখার মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ ক্যাপ্টেন ওয়াং সুয়েমেং এক বিবৃতিতে বলেন, পিএলএর একটি সাবমেরিন থেকে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ওয়ারহেডের বদলে একটি ডামি ওয়ারহেড বহন করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত এলাকায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

ওয়াং বলেন, এ পরীক্ষা চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নিয়মিত অংশ। পরীক্ষা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

চীনের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতি মেনে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশে পরিচালিত হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাতে রাজি হয়নি দেশটি।

চীনের নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এল-২ এবং জেএল-৩। ক্ষেপণাস্ত্রবিশেষজ্ঞদের মতে, জেএল-৩-এর পাল্লা এতটাই বেশি যে তা দক্ষিণ চীন সাগরসহ চীনের উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে উৎক্ষেপণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম।

চীনের প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন হলো টাইপ-০৯৪ বা ‘জিন’ শ্রেণির সাবমেরিন। বর্তমানে দেশটির কাছে এ ধরনের ছয়টি সাবমেরিন রয়েছে।

বেইজিং খুব কম সময় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে থাকে। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের তথ্যমতে, জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালানো হয় ২০১৮ সালে। এরপর এক বছর পর আরেকটি পরীক্ষা চালানো হয়।

‘উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স জানান, আজ সোমবার চীন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করেছে, তা ১৯৮৬ সালের রারোটোঙ্গা চুক্তির আওতায় গঠিত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের জলসীমায় গিয়ে পড়েছে। চীন ১৯৮৭ সালে এ চুক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রটোকলে স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তির দ্বিতীয় প্রটোকল অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ওই অঞ্চলের কোনো দেশ বা ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকি দিতে পারবে না। তৃতীয় প্রটোকলে ওই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পিটার্স বলেন, ‘আজ দিনের শুরুতে চীন আমাদের জানিয়েছিল, তারা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করবে।’

পিটার্স আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মতো আমরাও চাই না, চীন দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করুক।’

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং চীনের এ পরীক্ষাকে ‘এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে মন্তব্য করেন।

ওং বলেন, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও আশ্বাসের অভাবকে আমলে নিয়ে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে চীনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব দেশটির বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উইনস্টন পিটার্স বলেন, চীনের সর্বশেষ এ পরীক্ষা ২০২৪ সালের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময়ও পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এ অঞ্চলে একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছিল।

পিটার্স বলেন, ‘এ ধরনের পরীক্ষা স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশ হিসেবে আমরা তা কেবল বসে বসে দেখে যেতে পারি না।’

পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন বা অস্বাভাবিক নয়।

উদাহরণ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের কথা বলা যায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ফ্লোরিডা উপকূলে ট্রাইডেন্ট সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। গত ডিসেম্বরে ভারতও একটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আর গত অক্টোবরে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় রাশিয়া।

সামগ্রিকভাবে পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে চীনও তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বহর বাড়াচ্ছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সর্বশেষ আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। দক্ষিণ চীন সাগরের হাইনান দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ডিএফ-৩১বি ক্ষেপণাস্ত্রটি ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় গিয়ে পড়েছিল। উন্মুক্ত সমুদ্রে এটি ছিল ৪৪ বছরের মধ্যে চীনের প্রথম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সাধারণত নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে একাধিক সাইলোভিত্তিক আইসিবিএম উৎক্ষেপণের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাইলো বলতে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকাঠামোকে বোঝায়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চীনের সামরিক শক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পারমাণবিক প্রতিরোধমূলক অভিযানের একটি বিকল্প’ হিসেবে বিবেচনা করে।




তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে জনসমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের আজাদি সড়কে নেমেছে লাখো মানুষ। সোমবার (৬ জুলাই) শেষযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।

খামেনির মরদেহবাহী একটি ট্রাক ধীরগতিতে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। একই ট্রাকে তার মেয়ে, তিন বছর বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূর মরদেহও বহন করা হচ্ছে।

শেষকৃত্যের শোভাযাত্রার তেহরান পর্বের সমাপ্তি হবে আজাদি স্কয়ারে। এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা




চীনের উপকূলে যৌথ মহড়া চালাবে মস্কো-বেইজিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসে চীনের উপকূল এবং প্রশান্ত মহাসাগরের অনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বার্ষিক যৌথ মহড়া চালাবে চীন ও রাশিয়া।রবিবার(৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিংদাওয়ের প্রধান বন্দরের কাছে যৌথ মহড়ার পর প্রশান্ত মহাসাগরের অনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক টহল চালানো হবে।

অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার(৫ জুলাই) থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্যাসিফিক ফ্লিট বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি ক্রুজার, একটি করভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ কিংদাওতে এসে পৌঁছেছে।

চীনের নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর মধ্যে রয়েছে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট, একটি সাবমেরিন, একটি সরবরাহকারী এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ রয়েছে।

বেইজিং জানিয়েছে, উভয় দেশের নৌবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে আঘাত হানার কৌশলগত মহড়া পরিচালনার লক্ষ্যে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রায় দুই মাস পর এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই সফরে তিনি উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘অভূতপূর্ব উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের এই অংশীদারিত্বকে ‘অটল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ২০১২সাল থেকে যৌথ নৌ-মহড়া (জয়েন্ট সি এক্সারসাইজ) পরিচালনা করে আসছে। গত বছরের মহড়াটি রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক বন্দরের কাছে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এরপর প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহলও চালানো হয়েছিল।




নিউইয়র্কে গোলাগুলিতে ৪ শিশুসহ আহত অন্তত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির শেষ দিকে নিউইয়র্ক সিটির কোনি আইল্যান্ড এলাকায় বন্দুকধারীর গুলিতে চার শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ব্রুকলিনে এ ঘটনা ঘটে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে ব্রুকলিনের ওয়েস্ট ৩১তম স্ট্রিট এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ। সেখানে পৌঁছে তারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায় এবং এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ, দুজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। আহত শিশুদের বয়স যথাক্রমে ১৪, ১২, ৭ ও ৬ বছর।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আহতদের মধ্যে সাতজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে ২১ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। কী কারণে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটিও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে ব্যস্ত এই এলাকায় সংঘটিত গোলাগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি নিউইয়র্ক পুলিশ। এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

উল্লেখ্য, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন চলছিল। সেই উৎসবের মধ্যেই নিউইয়র্কের এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।




মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত বিদ্রোহী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট শসস্ত্রগোষ্ঠী ও তাদের মিত্র তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার আফ্রিকার দেশ মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাস আগে একই ধরনের হামলায় দেশটির সামরিক জান্তাকে বড় ধাক্কা দেয়ার পর এটি তাদের আরেকটি বড় আক্রমণ।

বামাকো থেকে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৫টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ০৫০০) শুরু হওয়া এ হামলায় উত্তরাঞ্চলের গাও, আনেফিস ও আগেলহক শহর, মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহর এবং রাজধানীর কাছে কেনিয়েরোবার একটি কারাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

গত এপ্রিলের শেষ দিকে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জেএনআইএম (জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন) এবং তুয়ারেগ এফএলএ (আজাওয়াদ মুক্তি ফ্রন্ট) উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর কিদাল দখল করে এবং মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করে।

২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে বিস্তীর্ণ মরুভূমি অধ্যুষিত এ দেশটি উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় জর্জরিত।

২৫-২৬ এপ্রিলের বড় হামলার পর মালির সেনাবাহিনী, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কোরের সহায়তায় সামরিক অভিযান জোরদার করে।

প্রায় এক বছর আগে তুয়ারেগ এফএলএ ও জেএনআইএম জোটবদ্ধ হয়। এরপর থেকে তারা যৌথভাবে সামরিক সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

ডাকারভিত্তিক টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউটের পরিচালক বাকারি সাম্বে এএফপিকে বলেন, ‘বৃহত্তর আক্রমণের আগে মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযান সরকারকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।’

সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

মালির সেনাবাহিনী শনিবার সকালে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে চারটি শহর ও কেনিয়েরোবার ওপর হামলার কথা নিশ্চিত করে। তাদের দাবি, ‘হামলাগুলো শক্ত হাতে প্রতিহত করা হয়েছে’ এবং ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে এএফপির সাথে কথা বলা বিভিন্ন সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্তও কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল।

এফএলএর মুখপাত্র মোহামেদ এলমাউলুদ রমাদানে এএফপিকে বলেন, আনেফিসে ‘বেশ কয়েকটি অবস্থান’ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে লড়াই চলছিল।

আনেফিসের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শহরের ভেতরে রয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সেনা শিবির এখনো দখল হয়নি।’

এপ্রিলের হামলার পর উত্তরাঞ্চলের কিদাল অঞ্চলে আনেফিস ও আগেলহকই এখন শেষ দুটি এলাকা, যেখানে মালির সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর গাওয়ের বাসিন্দারা জানান, সেনা ঘাঁটির কাছে গুলির শব্দ ও বিকট বিস্ফোরণ শোনা গেছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক একাডেমির কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিটের এক গবেষক এএফপিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য সম্ভবত উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, এরপর আরো দক্ষিণে অগ্রসর হওয়া।’

মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে, যেখানে একটি বড় সেনা ঘাঁটি ও বিমানবন্দর রয়েছে, স্থানীয় এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘সকাল ৫টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েকটি যুদ্ধবিমান এলাকাটির ওপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়।’

রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কেনিয়েরোবা কারাগার কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়। সেখানে উগ্রবাদীসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বন্দীদের রাখা হয়।

এক বন্দী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিছানার নিচে লুকিয়ে আছি। এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’ এরপরই তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কেনিয়েরোবা কেন্দ্রীয় কারাগার মালির সবচেয়ে বড় আধুনিক কারাগার, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি বন্দী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।




পাকিস্তানে মানব প্লাসেন্টা পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বার্ধক্যরোধী (অ্যান্টি-এজিং) ইনজেকশন তৈরির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল থেকে মানব প্লাসেন্টা সংগ্রহ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, এটি মানব প্লাসেন্টা পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রথম সংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্র, যার কার্যক্রম দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের বাইরে আরও কয়েকটি বড় শহরেও বিস্তৃত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এফআইএর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি প্রতি মাসে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রায় ২০০ কেজি মানব প্লাসেন্টা কিনত। পরে সেগুলো শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে বিদেশে পাঠানো হতো, যেখানে এগুলো দিয়ে উচ্চমূল্যের বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরি করা হতো। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা প্রায় ৫০০ কেজি সন্দেহভাজন মানব প্লাসেন্টা জব্দ করেন। বাড়িটিকে প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অবৈধ কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফআইএ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ট্রলিতে সাজানো ট্রের ওপর বিপুল পরিমাণ শুকনো প্লাসেন্টা রাখা ছিল, যা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিয়েতনামগামী ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যুবাহী একটি চালানও আটক করেছে এফআইএ। কর্মকর্তাদের ধারণা, এটিও একই পাচারচক্রের অংশ।

পাকিস্তানের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিনা কানওয়াল জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি প্লাসেন্টা প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি রুপিতে কিনতেন। পরে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করা হতো।

এফআইএর দাবি, এসব প্লাসেন্টা দিয়ে তৈরি প্রতিটি অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ পাকিস্তানি রুপি।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, চক্রটির কার্যক্রম ইসলামাবাদ ছাড়াও লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্তৃত। এ ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি হাসপাতালের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের আইনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মানব অঙ্গ বা মানবদেহের অংশ সংগ্রহ ও পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এফআইএর এক কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে বলেন, এর আগে অবৈধ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও মানব প্লাসেন্টা নিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংগঠিত চক্রের সন্ধান এই প্রথম পাওয়া গেল।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রথমে দাবি করেছিলেন, তারা ভেড়ার প্লাসেন্টা সংরক্ষণ করছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, সেগুলো আসলে মানব প্লাসেন্টা।

এ বিষয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সাদাফ তারিক বলেন, প্লাসেন্টা অত্যন্ত সংক্রমণপ্রবণ চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সন্তান জন্মের পর এটি সাধারণত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য হিসেবে ধ্বংস করা হয় এবং এর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়।

তিনি জানান, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে কেবল সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানই চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে প্লাসেন্টা সংগ্রহ ও ধ্বংস করার অনুমতি পায়। হাসপাতালগুলোকে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিও সংরক্ষণ করতে হয়।

প্লাসেন্টা হলো গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী অঙ্গ, যা গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সন্তান জন্মের পর এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

তবে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে প্লাসেন্টায় থাকা প্রোটিন, আয়রন ও চর্বিকে পুষ্টিকর মনে করে তা দিয়ে বড়ি বা ইনজেকশন তৈরির প্রচলন রয়েছে। যদিও এসব ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত এবং বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আইন ও বিধিনিষেধও ভিন্ন।