দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু বেড়ে ৯৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৩০-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অন্তত ২,৩৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার(২০ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। যা ১৫ মে ডিআরসিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর একটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল,গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাস আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএইচও-র প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে ১০ মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। অথচ এবার ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র দুই মাস। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।

টেডরস আরও বলেন, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা ইবোলার তৃতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে এটি আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়েছে। ডিআরসিতে ইবোলার ১৭তম এই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম শনাক্ত হয় খনিজ-সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইতুরিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর। এলাকাটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।

ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ও আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার সংক্রমণ এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় শনাক্ত হয়েছে। টেডরস জানান, উগান্ডা এখন ‘ভাইরাস-মুক্ত’ হওয়ার পথে থাকলেও ডিআরসিতে ইবোলা নজিরবিহীন হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতুরিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন এবং বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরোধ করেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দেওয়া সত্ত্বেও তারা কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা ক্ষতিপূরণ পাননি।

টেডরস উল্লেখ করেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০শতাংশেরও বেশি রোগী ‘পরিচিত বা শনাক্তকৃত সংস্পর্শের তালিকার বাইরে’ পাওয়া যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় সংক্রমণের উৎস বা শৃঙ্খলগুলো এখনো শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় রোগীদের সেবা ও সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও সুসংহত হচ্ছে।




সাত সকালে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরান। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কুজারান এলাকার কাছাকাছি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্যের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয়। এর উপকেন্দ্র কুজারান থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এবং কেরমানশাহ প্রাদেশিক রাজধানী থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল।

এর মাত্র একদিন আগে, রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের সারান্দ এলাকায় ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে ইরান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্লেট দুটির ক্রমাগত গতিশীলতার ফলে সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরমানশাহ, খুজেস্তান এবং হরমোজগানের মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ভূমিকম্পের মাত্রা খুব বেশি না হলেও, অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন কম্পন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি অনুভূত হয় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।




ইরানে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক রক্ষাকবচের অধীনে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই হামলায় স্থাপনাটির কী ধরনের বা কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে তেহরানও অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় এই গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই হামলা চলমান উত্তেজনাকে আরও সংঘাতময় করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ন চক্রে ৩ বাংলাদেশিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে একটি সংঘবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়ক ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভয়ংকর এই অপরাধী চক্রের অভিযুক্ত আট সদস্যের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন তদন্তের পর এই চক্রের সন্ধান মেলায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এই আটজনের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগই ধর্ষণের।

‘অপারেশন ওক’ নামে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা শৈশব ও কৈশোরে এই চক্রের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। অভিযুক্তরা অপরাধের সময় নিজেরাও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে গোয়েন্ট পুলিশ।

ল্যাঙ্কাশায়ারের স্থানীয় পত্রিকা ল্যাঙ্কসলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই ল্যাঙ্কাশায়ার, নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, এডিনবরা এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল ও বুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জামিন দেওয়া হয় এবং আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

গোয়েন্ট পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আটজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, ৭৩ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং ৫৮ বছর বয়সী আমিনুর রহমান চৌধুরী।

হান্নানের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীকে দু’বার ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণে তিনবার সহায়তা ও উসকানি এবং ধর্ষণের জন্য দু’বার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে এক নারী ও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

বাকি পাঁচ আসামি: শাকিল বাবর, শফাক আহমেদ, আশান তাকভি, মুরাদ আলী ও কেভিন লরেন্স। কেভিন ছাড়া বাকি চারজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।

শাকিল বাবরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে চারবার যৌন নির্যাতন, শফাক আহমেদের বিরুদ্ধে এক নারী ও কিশোরীকে সাতবার ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। আশান তাকভির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে তিনবার ধর্ষণ এবং মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেভিন লরেন্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে আগেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত এক দশকে এসব চক্রের হাতে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ তরুণী ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেক্টিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টুর্ক বলেন, অপারেশন ওক সাউথ ওয়েলসে দলবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। সিপিএসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। ভুক্তভোগীদের সহায়তা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের তদন্ত সমাজে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, তবে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন যা আদালতের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে।




জানাজারত অবস্থায় গাজায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ একটি জানাজার নামাজ ও দাফনের সময় হামলার শিকার হন।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় একটি সমাবেশে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বহন করে বের হওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবর জেনেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।

হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের সামনেই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।

শুক্রবারের (১৭ জুলাই) এই ঘটনার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ-জাওয়ায়দা, নুসেইরাত ও গাজা সিটিতেও আলাদা আলাদা হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও মে মাস থেকে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বেশি।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় শিশুদের নিয়মিত হত্যা করা হচ্ছে। গত নয় মাসে অন্তত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু।

গাজাজুড়ে ড্রোনের অবিরাম গুঞ্জন আর ধ্বংসের ছবি সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সব আশা নষ্ট করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানছে ইরান। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির তেল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে ইরানের বাহিনী। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুনার বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থাপনাটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুয়েত দমকল বাহিনী জানিয়েছে, সকালে হামলার পর দুটি জায়গায় আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর সময় আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজের সময় শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে টানা সাত রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালিয়ে যায় তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা পূর্ণ যুদ্ধে নামব। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।




‘এআই’ দিয়ে তালিকা বানিয়ে ছুটিতে থাকা কর্মীদের ছাঁটাইয়ের অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেছে বেছে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ডজনখানেক কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করার পরই মেটার এআই প্রযুক্তি তাঁদের বিশেষভাবে নিশানা করে ছাঁটাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ফেডারেল আদালতে এই মামলা করা হয়। এতে মেটার চলতি বছরের শুরুর দিকের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান হলো মেটা। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাঁটাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মী বেছে নিতে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ‘এআই ব্যবস্থার একটি সমাহার’ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে এআইভিত্তিক কাজের রেটিং ও কর্মীদের কি–বোর্ড ব্যবহার ও সক্রিয়তা নজরদারির তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আদালতের ৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘কর্মীদের কাজ সম্পর্কে জানেন, এমন ব্যবস্থাপকদের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মেটা এই ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করেনি।’ মামলার বাদী ২৬ কর্মী অভিযোগ করেছেন, মেটা এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের ‘স্কোর, র‍্যাঙ্কিং ও বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে’।

মামলার বাদী কর্মীরা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার আগেই তা বন্ধ করতে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কর্মক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মীরা এখন পক্ষপাতিত্ব, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও আস্থার সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এ ধরনের প্রযুক্তির আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখছে। এআইয়ের পক্ষপাত ও ‘স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত’ থেকে কর্মীদের রক্ষা করতে আইন পাস করেছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে তারা এই আইন বা বিধিমালা কার্যকর করেছে।

মেটার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এআই প্রযুক্তি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন ও উৎপাদনশীলতার ওপর নজর রাখে। কিন্তু কোনো কর্মী যখন মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকেন, তখন সিস্টেমে এই তথ্যগুলো জমা হয় না। এ ছাড়া শারীরিকভাবে অক্ষম কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই মূল্যায়নের মান কমে যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এর ফলে যাঁরা ছুটি নিয়েছিলেন, তাঁদের ছাঁটাই করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এআই প্রযুক্তির এই স্কোরিংয়ের ব্যবস্থা ছুটি কাটানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় তো নেয়নি, উল্টো আইনি অধিকার প্রয়োগ করার জন্য কার্যত তাঁদের শাস্তি দিয়েছে।’

মামলার বাদী বিজ্ঞানীদের একজন সন্তান প্রসবের আগে ছুটিতে ছিলেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। আরেক বাদী পেশায় প্রকৌশলী। তিনি চোটের কারণে ছুটি নেওয়ায় মেটার সিস্টেমে তাঁর ‘রেটিং কমে গিয়েছিল’। এ ছাড়া অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা এক ব্যবস্থাপক জানান, ছুটি শুরুর মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

মেটার এক মুখপাত্র অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠানো এক ই–মেইলে তিনি বলেন, ‘এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলোয় কোনো সত্যতা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো মানুষের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। এখানে এআই কাজ করেনি।’

মেটা চলতি বছরের শুরুর দিকে কর্মীদের ওপর নজরদারি করার এআই প্রোগ্রাম চালু করে। মূলত কর্মীরা কম্পিউটারের কোন বোতাম চাপছেন, মাউসের ব্যবহার কেমন, কোন ব্রাউজার ব্যবহার করছেন—সবই ট্র্যাক করা এই প্রোগ্রামের লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি অফিসের ডিভাইসে পাঠানো বার্তা, ই–মেইল ও ব্যবহারকারীর অবস্থানও এটি পর্যবেক্ষণ করতে পারত।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান, কর্মীদের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে কোম্পানির এআই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছিল।

প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার একটি অভ্যন্তরীণ সভায় মার্ক জাকারবার্গ এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের এআই মডেলগুলো অত্যন্ত মেধাবী মানুষের কাজ দেখে শেখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্য সাধারণ কর্মীদের তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের গড় বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি।’

মামলায় দাবি করা হয়েছে, কর্মীদের সম্মতি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে মেটা এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছিল। জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তার পরিবর্তে সাধারণ একজন প্রকৌশলীর মাধ্যমে একটি কম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ পোস্ট দিয়ে কর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেশ কিছু টিমের কর্মীদের কোনো পূর্বানুমতি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। এমনকি প্রথম দিকে এই নজরদারি এড়ানোর কোনো সুযোগও (অপট–আউট) কর্মীদের দেওয়া হয়নি।

গত কয়েক মাসে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে মার্ক জাকারবার্গ এই নজরদারি প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন। কোম্পানির ১ হাজার ৬০০–এর বেশি কর্মী একটি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। যেখানে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, এই কর্মসূচি তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।

সোমবারের মামলায় বাদীদের আইনজীবীরা মেটার এআই প্রযুক্তিগুলোর ওপর তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নিরীক্ষা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কেন ছুটিতে থাকা বা বিশেষ সুযোগ–সুবিধা পাওয়া ২৬ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা জানা যাবে। এক ই–মেইল বার্তায় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ‘মেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল প্রক্রিয়াটি গোপন রেখেছে।’

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত কর্মীদের প্রত্যেকেই ২২ জুলাই পর্যন্ত মেটার তালিকাভুক্ত কর্মী হিসেবে বহাল থাকবেন। এরপর তাঁদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নেবে। তবে মেটা যেন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনজীবীরা সতর্কতা চেয়েছেন। তাঁরা আবেদন করেছেন, যেন বাদীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। এ ছাড়া বিষয়টির আইনি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বহাল রাখার নির্দেশ চেয়েছেন।

আইনজীবীরা বলেন, ‘একবার ছাঁটাই চূড়ান্ত হয়ে গেলে এর ক্ষতি আর পূরণ করা যাবে না।’ গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর কর্মীরা যে স্বাস্থ্যবিমা পেতেন, তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের ছুটির অধিকার বাতিল হবে। তাঁদের শেয়ারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। এমনকি অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এটি।




বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া তৈরির জন্য বিএসএফকে ১০০০ একর জমি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য দেশটির সীমন্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

যেসব জেলায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জেলা, যেখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ।

শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিএসএফের কাছে জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের তালিকাও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই তালিকায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটারের জন্য ৩৩৭ একর জমি দিয়ে মুর্শিদাবাদ সবার ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ মোট যা জমি দেওয়া হয়েছে, তার ৩৩ শতাংশ এসেছে মুর্শিদাবাদ থেকে। এরপরে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

এরপরে যথাক্রমে রয়েছে কোচবিহার (৩৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটারের জন্য ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর), মালদা (২০ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের জন্য ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর), নদীয়া (১৪ দশমিক ৭৯ কিলোমিটারের জন্য ৯৫ দশমিক ১১ একর), দক্ষিণ দিনাজপুর (৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের জন্য ২৬ দশমিক ৪১ একর), দার্জিলিং (১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের জন্য ৪ দশমিক ৩১ একর), উত্তর দিনাজপুর (১ দশমিক ২৮ কিলোমিটারের জন্য ৬ দশমিক ৬১ একর) এবং জলপাইগুড়ি (০ দশমিক ৩১ কিলোমিটারের জন্য ২ দশমিক ১৭ একর)।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমাদের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করতে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছি।’

অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জমি কেন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দিতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল রাজ্যের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশও বরাবরই বলেছে, রাজ্যের জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, বিশেষত এমন একটি রাজ্যে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

এ নিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অতীতে বিবৃতি দিয়েছে, আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তচুক্তি হয়, সে সময় ১০ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় ভারত, তখন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ। কিন্তু এখন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পশ্চিমবঙ্গের জমি দিয়ে দেওয়া হলেও কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।




‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে সোনম ওয়াংচুকের’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাদাখের সমাজকর্মী, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ১৯ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন তিনি।

বুধবার দায়ের করা এক আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার আদালত বলেন, সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতিটি নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং তা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।

আবেদনে বলা হয়, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক অনশন না ভাঙলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হতে পারে। এতে অভিযোগ করা হয়, সরকার পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নয়। অনশনের পর থেকে তার ওজন সাড়ে ৮ কেজি কমেছে। একই সঙ্গে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রাও কমে গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও খনিজ, প্রয়োজনে তরল আকারে, সরবরাহ করা উচিত। এতে উল্লেখ করা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা দেশের জন্য এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের লজ্জার বিষয় হবে।

শুনানিতে আদালত জানতে চান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য কেন নিরবচ্ছিন্ন সরকারি তদারকি নেই। জবাবে সরকারপক্ষ জানায়, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সব সময় সরকারি চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না, কখনও বেসরকারি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময় আদালত নির্দেশ দেন, ওয়াংচুক যেন প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পান এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত বলেন, প্রয়োজন হলে ওষুধও দিতে হবে। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, অনশনে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ না আসা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। দুর্বলতা থাকলেও এখনও হাঁটতে পারছি। শুধু অনশন ভাঙার আহ্বান না জানিয়ে ২০ জুলাই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে এসে সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ওয়াংচুক।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়টস-এ আমির খান অভিনীত ফুনশুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল।




মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের উপকূলে দুটি সন্দেহভাজন নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে ৫০০ জনের বেশি আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যেতে পারে বলে প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আরোহীদের বেশিরভাগই ছিলেন দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা।

তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকেও যাত্রা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এসব শিবিরে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘটনাগুলো এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ব্যাপকতায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘের সংস্থা দুটি উল্লেখ করে, নৌযাত্রাগুলো নিয়মিত নৌ-চলাচলের মৌসুমের বাইরে হয়েছিল। এসময় সমুদ্রের পরিস্থিতি সাধারণত আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বন্যা সমুদ্রপথে যাত্রার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, তথ্যগুলো সত্য হলে এ বছরের শুরু থেকে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা নিহত বলে ধারণা করা প্রায় ৩০০ জনের তালিকায় আরও বহু মানুষের নাম যুক্ত হবে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

হতাশার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারী চক্র

এএফপি জানিয়েছে, উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় প্রতিবছরই বহু রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তারা সাধারণত মানবপাচারকারী চক্রের পরিচালিত জরাজীর্ণ নৌকায় ভ্রমণ করেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করা ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিখোঁজ হন বা মারা যান।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রভাব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সীমিত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খোঁজে আরও বেশি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নামছেন।

সংস্থা দুটি আরও বলেছে, এসব ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে যে, নিরাপত্তার খোঁজে থাকা মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে মানবপাচার ও অবৈধভাবে মানুষ পারাপারকারী চক্রগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর সমুদ্রে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও অবৈধভাবে মানুষ পারাপারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একইসঙ্গে বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ‘উল্লেখযোগ্য উদারতার’ প্রশংসা করেছে সংস্থা দুটি।

তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, শরণার্থী ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।