মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীকে বরখাস্ত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন  প্রেসিডেন্ট। সাব সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবের বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ভেনেজুয়েলান নাগরিক সাবকে ‘তার সেবার’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান। রদ্রিগেজ বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মূলত, ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই এই পরিবর্তন এলো বলে মনে হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া সাবকে ২০২৪ সালে মাদুরো তাকে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাবকে গত ২০২০ সালে দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বিমানে জ্বালানি নেওয়া হচ্ছিল।

ইন্টারপোলের নোটিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ ছিল।

পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়, যেখানে সাব ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার আলভারো পুলিদোর বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর কারাকাসে সাবকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি দেশের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছেন। সাবের বরখাস্ত সেই ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি।




ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে তৎপর দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, চাবাহার বন্দরে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের কাছে চাবাহার কেবল একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর। এছাড়া এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি প্রধান সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় অন্তত ১৫ দিন কমিয়ে আনবে।

২০২৪ সালে ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছে। সূত্রমতে, ভারত এই প্রকল্পে সরাসরি সরকারি সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সত্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যাতে ভারত সরকারের ওপর সরাসরি কোনো দায় বা ঝুঁকি না আসে কিন্তু উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ওপর এর প্রভাব হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের বিশাল অর্থনীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ভারত এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার বন্দর কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই স্থিতিশীল বাণিজ্য পথটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া।

সূত্র: এনডিটিভি




ইরানকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে গ্রেফতার হওয়া শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বাতিল করায় দেশটির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি অত্যন্ত সম্মান জানাই, যারা সব নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, যা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধন্যবাদ!”

ট্রাম্প আরও বলেন,‘উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইসরায়েল আমাকে হামলা থেকে বিরত রেখেছে—এমন মন্তব্য সঠিক নয়; কেউ আমাকে বোঝায়নি; আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারও ফাঁসি হয়নি। তারা ফাঁসি বাতিল করেছে। এটি আমার উপর বড় প্রভাব ফেলেছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ‘স্থগিত’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি “সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে।

ট্রাম্প বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তার ভাষায়, কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে ও প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে’ আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হলে তেহরানকে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপের’ মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে এসবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে প্রাণঘাতী ও সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয় । তবে হতাহত বা আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে, তা শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নয় বরং উত্তর আটলান্টিক জোট ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমারেখা নিয়েই এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সতর্ক করে বলেছেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর শেষ।

ন্যাটো গঠিত হয়েছে একটি মৌলিক নীতির ওপর তা হলো, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সকল সদস্যের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতরেই যদি একটি শক্তিধর রাষ্ট্র তার মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের চিন্তা করে, তাহলে ন্যাটোর নৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং রাশিয়া ও চীন যেন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য দ্বীপটির মালিকানা ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।

আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে রাসমুসেন স্পষ্টভাবে চীনের প্রভাব থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনো চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো বিনিয়োগই নেই।’

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ স্বাধীনতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয়। এর অন্যতম কারণ হলো তারা ডেনিশ রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিস্তৃত সামাজিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

রাসমুসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ ব্যবস্থার খরচ বহন করবে।’

তবে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও তিনি জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপের কাজ হবে, কীভাবে ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মোকাবিলা করা যায়।

আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অঞ্চলটি যেনো কোনো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত না হয় সেজন্য আর্কটিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গত বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




‘ইরান ইস্যুতে দৃঢ় ট্রাম্প, স্থল অভিযানের শঙ্কা কম’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হস্তক্ষেপে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, আন্দোলন চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা জোরদার, সাইবার কার্যক্রম এবং সীমিত সামরিক হামলার বিষয় আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী সচিব মার্ক কিমিট বলেন, ইরান বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে মনে হচ্ছে।

তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালাবে, এমন আশঙ্কা কম। বরং সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান হতে পারে।

কিমিট বলেন, এসব অভিযানে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ নেতারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান কিংবা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্ব থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২০ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই বছরের ৩ জানুয়ারি ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিমিটের ভাষায়, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এমন পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে, যা সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নতুন ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরাটিআরটি




থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লো ক্রেন, নিহত অন্তত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্যাংকক থেকে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রদেশে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ক্রেন ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশ–এর সিখিও জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিন্নাওং বার্তাসংস্থা এএফপি–কে জানান, ‘এ ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।’

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ট্রেনটি থাইল্যান্ডের উবন রাতচাথানি প্রদেশ–এর উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনের একটি বগির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে ধাতব কাঠামো কেটে কাজ করছেন।

থাইল্যান্ডের স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড জানিয়েছে, ট্রেনটির আসন বিন্যাস অনুযায়ী এতে ১৯৫ জন যাত্রীর নাম ছিল। তবে বাস্তবে ট্রেনে থাকা যাত্রীর সংখ্যা এর চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এ ঘটনায় একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক তদন্ত’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, নির্মাণকাজে গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—সব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের জানাতে কাজ করছে প্রশাসন।




ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, শিগগিরই ইন্টারনেট চালুর আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তীব্র অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে একাধিক ‘সহিংস দাঙ্গায়’ বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহতের ঘটনায় রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। নিহত ইরানিদের স্মরণে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা শোক পালন করছে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আন্দোলনের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের স্মরণেই এই জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতি দেখেছে যে, কীভাবে অপরাধীরা দায়েশ (আইএসআইএল বা আইএসআইএস)-এর মতো বর্বর সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষ, বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে অনেকেই শহীদ হয়েছেন।

এদিকে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করতে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও চালু করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভে আরও উসকানি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরাগচি।

এদিকে, চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবেদে সোমবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত, তবে দাঙ্গাবাজদের প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না।




ইন্দোনেশিয়ার তালাউড দ্বীপপুঞ্জে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার তালাউদ দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জার্মান জিওসাইন্স রিসার্চ সেন্টার (জিএফজি) জানিয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল প্রায় ৭৭ কিলোমিটার গভীরে।

স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ‍বিকেএমজি জানায়, তারা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যার গভীরতা মাত্র ১৭ কিলোমিটার।

বিকেএমজি আরও জানায়, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ছোট কম্পনও অনুভূত হয়েছে। তবে এই ভূমিকম্প সুনামি সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

জানা গেছে, উত্তর সুলাওয়েসির প্রান্তে অবস্থিত মানাডো শহরে অনেকেই ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়া অবস্থিত ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে একাধিক টেকটনিক প্লেট মিলিত হয়, সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।

সূত্র : রয়টার্স




ইরানে হামলার ব্যাপারে ‘সিরিয়াসলি’ ভাবছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করায় দেশটিতে হামলার ব্যাপারে ‘সিরিয়াসলি’ (গুরুত্বের সঙ্গে) ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে কীভাবে হামলা করা যায় এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ট্রাম্প হামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন।

সংবাদমাধ্যমটিকে নাম গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে কোথায় কিভাবে হামলা চালাতে পারে সে ব্যাপারে একাধিক পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এরআগে আরেক সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানো হতে পারে।

ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হওয়ার পর শুক্রবার রাতেও রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

তবে গতকাল শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলো নিহত ও আহতে মানুষে উপচে পড়েছে।

তেহরান হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন তরুণদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হয়েছে। এছাড়া অনেকের হার্টেও গুলি করা হয়েছে।

একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে এত বেশি রোগী আসছিল যে তারা ক্রাইসিস মুডে চলে গেছেন। হতাহতের চিকিৎসা দিয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

বিক্ষোভকারীদের পাশপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ১৪ জন বলে জানা গেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল




বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টানা দুই সপ্তাহের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়ায়, তাহলে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সহায়তা করে, তারাও ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন—এমনকি তারা নিজেরা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও।

দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় না দিয়েই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।’

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘জনসাধারণের স্থানগুলো নিজেদের বলে দাবি করতে পারে’।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি রিয়ালে নেমে গেলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।