যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেই। সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন, দ্বীপটির বাসিন্দারা বা ডেনমার্ক বিষয়টি পছন্দ করুক বা না করুক, ওয়াশিংটন সেখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।  

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, রাশিয়া বা চীনকে তিনি প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চান না। এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প ‘সহজ উপায়ে’ বিষয়টি মিটমাট করতে পছন্দ করলেও প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’ বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার বদলে কেন পুরোপুরি মালিকানা নিতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন যে, কোনো জায়গাকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে তার মালিক হওয়া প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জায়গায় সেই পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে কথা না বললেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই দ্বীপটি কব্জায় নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এমনকি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই উন্মুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অর্জনকেই তিনি এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।

গ্রিনল্যান্ডের এই সংকটের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের ফলে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প ‘মালিকানা’র দাবিতে অনড়।

খনিজ সম্পদে ভরপুর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা এখন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ট্রাম্পের ‘সহজ বা কঠিন’ উপায়ের যে কোনো একটির প্রয়োগ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব শান্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: তাস




বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ইরানের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়েলের দরপতনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশটির ছোট ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আন্দোলনের ১২তম দিনে বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরের বিক্রেতারাও দোকান বন্ধ করে এতে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, চলমান বিক্ষোভের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সমর্থনকে ‘হস্তক্ষেপবাদী এবং প্রতারণামূলক’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতি থেকে নেওয়া হয়নি। বরং সর্বোচ্চ চাপ, হুমকি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতির সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ। যেটির লক্ষ্য সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া এবং দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যা করছে তা কেবল অর্থনৈতিক যুদ্ধ নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মিডিয়া প্রচারণা, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সহিংসতার প্ররোচনা।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি পারসিয়ান স্বাধীনভাবে কমপক্ষে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি পারসিয়ানকে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো ‘ইরানি জনগণের ক্ষোভকে প্রতিফলিত করে’, কারণ দেশটির সরকার জনগণকে উন্নত জীবন যাপন করতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।




যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা যুক্ত হলো। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। এতে নতুন করে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এ তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ তিন ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।

এই জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিত নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভিসা বন্ড একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ, যার মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ‘ওভারস্টে’ কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি প্রথম চালু হয় গত আগস্টে, তখন সীমিত কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত ছিল।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি কোনো ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান—সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম চাইলে, তাহলে সেই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এই বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এসব নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যা দিয়ে কোনো ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত—বিশেষ করে থাকার সময়সীমা—মেনে চলবেন বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও বেশির ভাগ দেশই ভিসার সময় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চায়, তবে ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছিল।




ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব রাজনীতিতে তেল আবারও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল উচ্চমানের তেল বিক্রি করবে। এই তেল বিক্রি হবে আন্তর্জাতিক বাজারদরে।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আনা তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। তেল বহনের জন্য ব্যবহার করা হবে বিশেষ স্টোরেজ জাহাজ। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে এসে তেল খালাস করবে। পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জানান, এই তেল বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ আসবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেরই কল্যাণে ব্যবহার করা হবে বলে তিনি দাবি করেছেন। কীভাবে এবং কোন খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার ওভাল অফিসে তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। এই বৈঠকে এক্সন, শেভরন ও কনোকোফিলিপসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আলোচনার বিষয় হবে ভেনেজুয়েলার তেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর পথও খুলে যাচ্ছে। তবে এই চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলল চীন

ডেস্ক নিউজঃ ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে চীন।

সেই সঙ্গে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

রবিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করা এবং দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাদেরকে যেভাবে বন্দি করা হয়, তাতে অবাক হয়েছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে তাদেরকে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




ভেনেজুয়েলায় বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার ঘটনা ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করতে পারে।

মুখপাত্র আর ওবলেন, “মহাসচিব জাতিসংঘের সনদসহ সকলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান করা হয়নি।”

তিনি ভেনেজুয়েলার প্রতি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ‘অন্তভুক্তিমূলক সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ দুটি দেশ ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত।

অপর দুই স্থায়ী সদস্য এবং মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ক্ষমতা থেকে মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা




মাদুরোর আটকাবস্থার ছবি প্রকাশ করলো ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নতুন একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘ইউএসএস ইও জিমার বোর্ডে নিকোলাস মাদুরো’।

এর আগে এই জাহাজটির কথাই তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেন এটিতে করেই ভেনেজুয়েলার নেতাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরা একজন ব্যক্তি—যাকে মাদুরো বলে মনে হচ্ছে—চোখে আই-মাস্ক, কানে হেডফোন পরে আছেন।

এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় নিউইয়র্কের পথে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সুন্দর একটি ফ্লাইটে গেছেন- আমি নিশ্চিত তারা এটি উপভোগ করেছেন। তবে তারা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এটা মনে রাখতে হবে।’




মাদুরোর ওপর এত রাগ কেন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মাদুরোর গ্রেফতার প্রমাণ করে ট্রাম্প যা বলেন তা তিনি করেন। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে ক্ষমতা ছাড়কে মাদুরোকে হুমকি দেওয়া হলেও তিনি তা শোনেননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে আসে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাদুরোর ওপর এতো রাগ কেন তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি।

একটা সময় পর্যন্ত সংসার চালাতে বাস চালাতেন মাদুরো। ক্রমেই ভেনিজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ভেনিজুয়েলা আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। মাদুরোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারপরেও অবশ্য ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুননির্বাচিত হয়েছেন মাদুরো। দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভোটে কারচুপি করেছেন মাদুরো। মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। কিন্তু তাকে ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে ভেনিজুয়েলায় ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ’ মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

কেন মাদুরোর উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সংঘাত বহু দিনের। ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকের কারবার চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনিজুয়েলার শরণার্থীদের আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া নিয়েও আপত্তি ছিল ট্রাম্পের। ২০১৩ সালের পর থেকে ভেনিজুয়েলা থেকে বহু মানুষ আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই ছিলই। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনিজুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছ।

ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি সে দেশের তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনিজুয়েলা সীমান্তে কোনো তেলের ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। ভেনিজুয়েলার সরকারকেও ফের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাদুরোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে ভেনিজুয়েলাকে ঘিরতে ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণুডুবোজাহাজ মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। সর্বক্ষণ দেশটিকে একপ্রকার ঘিরে রেখেছিল মার্কিন বাহিনী। শুক্রবার মধ্যরাত (স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ২টা) থেকেই রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি খুব স্পষ্ট ছিলেন যে, মাদক পাচার বন্ধ করতে হবে এবং চুরি করা তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, মাদুরো সবশেষ ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলছেন সেটি অর্থবহ। আমাদের সাহসী বিশেষ অপারেটরদের ধন্যবাদ, যারা সত্যিই চমৎকার একটি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

পালটা দাবি ভেনিজুয়েলার

আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে ভেনিজুয়েলা। সরকারের দাবি, খনিজ তেল এবং সম্পদ কুক্ষিগত করতেই এই কাজ করেছে আমেরিকা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চেষ্টা সফল হবে না বলে জানিয়েছে তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেদের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভেনিজুয়েলায় নিজেদের পছন্দের লোক চান ট্রাম্প। কিন্তু বামপন্থী নেতা মাদুরো আমেরিকার অঙ্গুলিহেলনে হাঁটার পাত্র নন। ক্ষমতায় আসার পরই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। অভিযোগ, ভেনিজুয়েলার সম্পদ কুক্ষিগত করার লক্ষ্যেই আসলে এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ভেনিজুয়েলাও দাবি করেছে, লক্ষ্য যদি মাদক বন্ধ হয়, তাহলে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে কেন টার্গেট করছে আমেরিকা? এগুলি ধ্বংস করার একটাই উদ্দেশ্য ভেনিজুয়েলার আয়ের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে আর্থিকভাবে দেশটিকে আমেরিকার কাছে হার মানতে বাধ্য করা এবং সেখানে মার্কিন সমর্থিত সরকার বসানো।




মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে: জান্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, দেশটিতে চলমান জাতীয় নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হচ্ছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিয়ানমারে। খবর এএফপির।

রাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।’

স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জান্তা-পরিচালিত এই জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে ইয়াঙ্গুনের কামায়ুত টাউনশিপে একটি ভোটকেন্দ্র খোলা দেখা যায়। কেন্দ্রটি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ মিয়ানমার ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের মতে, চলমান গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্প—দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা দেশে খাদ্য সংকটসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে গবেষক ও ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পর থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।




সৌদির গ্রান্ড মসজিদে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নিরাপত্তারক্ষী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফ সংলগ্ন গ্রান্ড মসজিদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীকে বাঁচিয়ে প্রসংশায় ভাসছেন নিরাপত্তারক্ষী রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন নিচে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন রায়ান।

ওই ব্যক্তি যখন মসজিদের ওপরের তলা থেকে লাফ দেন তখন তাকে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন রায়ান। এতে তিনি আহত হন। ওই সময় আত্মহত্যা চেষ্টাকারী ও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এই নিরাপত্তারক্ষীকে দেখতে শুক্রবার হাসপাতালে যান সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ। সেখানে তার উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, লাফ দেওয়া ব্যক্তিকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী রায়ানও মাটিতে পড়ে গেছেন। যদি তিনি তার হাত দিয়ে তাকে না আটকাতেন তাহলে ওই ব্যক্তি সেখানেই হয়তো মারা যেতেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও; তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর পরিচয় বা তিনি কোন দেশের নাগরিক এবং তার অবস্থা কেমন আছে এর কিছুই আর জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আরব নিউজ