আসাম বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে- মুখ্যমন্ত্রীর শঙ্কা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে রাজ্যটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, জনসংখ্যার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসাম একসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে। তার এই দাবি নতুন করে সীমান্ত ও অভিবাসন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি সরকারি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যাকে তিনি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই তিনি এই প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

এদিন বাংলাদেশের এক নেতার উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বর্তমানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যদি এই সংখ্যা আরও ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (বাংলাদেশের সঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি গত পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলে যাচ্ছি।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে সহায়তা দেওয়া।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নির্ভরশীল, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।

এই বক্তব্যগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মতো হুমকি ভারত মেনে নেবে না। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দিল্লি নীরব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও অবাস্তব। ভারত একটি বড় দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি—এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

তার ভাষায়, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা আচরণ হলে দেশটি নিশ্চুপ থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এসব বক্তব্য ঘিরে আসামসহ পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিবাসন, জনসংখ্যা পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।




দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায়।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এর আগে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে একটি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, ওই রাতে তিনটি গাড়িতে করে কিছু লোক এসে হাইকমিশনের গেটের সামনে চিৎকার করে স্লোগান দেয় এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে চলে যায়।

এ ঘটনার পর ভারত সরকার জানায়, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ‘বিভ্রান্তিকর’। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, সেদিন মাত্র ২০–২৫ জন বিক্ষোভকারী হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েছিল এবং তারা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি।

তবে ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করল, তা নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত। অনুমতি ছাড়া সেখানে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে উগ্র সংগঠনের সদস্যদের একটি দল সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো।




স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে প্রত্যেক অভিবাসীকে ৩০০০ ডলার করে দেবে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে। 

রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে এই সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। বর্তমান প্রশাসন তা তিন গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে।

ডিএইচএস জানিয়েছে, নগদ সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার জন্য বিনা মূল্যে বিমান টিকিটও দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের উচিত এই উপহারটি গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করা। তারা যদি তা না করেন, তাহলে আমরা তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করব। সেক্ষেত্রে তারা আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ পাবেন না।’

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের মার্চে ‘সিবিপি হোম’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে অভিবাসীরা সহজেই স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আবেদন করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় একই অ্যাপ ‘সিবিপি ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল এবং তখন এটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত হতো।

ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক রাখা এবং জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে সরকারের গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় হয়। সে তুলনায় ৩ হাজার ডলার দিয়ে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানো সরকারের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রতি বছর ১০ লাখ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তার প্রশাসন প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার অভিবাসীকে প্রত্যাবাসিত করেছে। আগামী ২০২৬ সাল থেকে এ অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ, নতুন ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে মার্কিন সরকার।




বিরল তুষারপাতের সাক্ষী হলো মরুভূমির দেশ সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুষারপাতের মতো বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলো মরুর দেশ সৌদি আরব। উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শীতল আবহাওয়ার দাপটে পাহাড় ও উঁচু ভূমি ঢেকে গেছে বরফের চাদরে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সৌদির একাধিক অঞ্চলে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বদলে গেছে চিরচেনা মরুভূমির দৃশ্যপট—তপ্ত বালুরাশি আর ধূ-ধূ প্রান্তর যেন রূপ নিয়েছে শীতের রূপকথায়।

সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের তাবুক প্রদেশের জাবাল আল-লাওজ পাহাড়ে অবস্থিত পর্যটন এলাকা ট্রোজেনা তুষারাবৃত হয়ে পড়ে। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়ি গন্তব্যে তুষারপাতের পাশাপাশি হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। তাবুক ছাড়াও হাইল প্রদেশের হাইল শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বুধবার সন্ধ্যায় তুষারপাত দেখা যায়। এসব অঞ্চলের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

উত্তর সৌদি আরবের পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলেও বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করে। রাজধানী রিয়াদে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারাদিন ঘন মেঘে ঢাকা ছিল আকাশ। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে রিয়াদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কাসিম অঞ্চলের বুরাইদাহ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। আল-উলা, শাকরা ও এর আশপাশ, বির বিন হারমাস, আল-আইনাহ ও আম্মার এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলের আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত গভর্নরেটেও বৃহস্পতিবার সকালে তুষারপাত হয়। উঁচু ভূমি ও খোলা এলাকায় বরফ জমে থাকতে দেখা গেছে।

এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি জানান, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি তীব্র শীতল বায়ুস্তর, যার সঙ্গে ছিল বৃষ্টিবাহী মেঘ। এর ফলে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ভোরের দিকে তুষারপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আল-কাহতানি বলেন, আগেই এ ধরনের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং বিশেষায়িত দলগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টা তাপমাত্রা আরও কম থাকতে পারে এবং দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তুষার জমে বরফে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় খোলা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত এলাকায় তুষারপাত দেখতে ভিড় করেন অনেকে। রিয়াদের বাসিন্দা থামর আল-ওতাইবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব। তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই শীতের বিস্ময় নিজের চোখে দেখতে এসেছি।’ আরেক বাসিন্দা আবদুল হাম্মেদ জানান, পরিবারের একটি আউটডোর আয়োজন বাতিল করে আবহাওয়ার কারণে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল, রিয়াদ ও কাসিমে দমকা হাওয়া, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, জৌফ ও হাইল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় কুয়াশা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলে ধুলোময় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত আরও তীব্র হতে পারে। লোহিত সাগরে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং আরব উপসাগরে ২৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সৌদির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ বৈরি আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেই সৌদি আরবের মতো মরুপ্রধান দেশে এই বিরল তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে—যা অঞ্চলটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন অনেক বাসিন্দা।




গাজায় বিয়ের আসরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, শিশুসহ নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিয়ের আসরে এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলায় বর-কনে পক্ষের অন্তত ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অধীনে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এমন প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

তুফাহ এলাকার একটি স্কুল ভবনে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখানেই দোতলার একটি কক্ষে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। আনন্দমুখর সেই পরিবেশে হঠাৎ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হলে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ শোকে পরিণত হয়।

আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জায়গায় এই হামলার কোনো যৌক্তিক কারণ এখন পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন স্তরের একটি শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, যার মেয়াদ বর্তমানে শেষের দিকে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার জন্য জোরালো তাগাদা দিচ্ছেন, তখন আইডিএফ-এর এই কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিকবার হামলা চালিয়ে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তুফাহ এলাকার এই স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে যখন সাধারণ মানুষ একটু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, তখন বিয়ের আসরে এই রক্তপাত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা




জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে ওসমান হাদি হত্যা ইস্যু, বিচার চাইলেন মহাসচিব

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে স্টিফেন দুজারিক বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে এসেছে। মহাসচিব এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সহিংসতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে, যাতে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকে।

এর আগে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার তুর্ক।

জেনেভা থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, গত বছর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মৃত্যুবরণ করেন। বিবৃতিতে মানবাধিকার কমিশনার বলেন, প্রতিশোধ কেবল বিভেদকে আরও গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।




কম্বোডিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা থাইল্যান্ডের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কম্বোডিয়ায় নতুন করে ‘এফ-১৬’ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড। কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের বাহিনী বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রিয়াহ ভিহিয়ার প্রদেশে ‘এফ-১৬’ যুদ্ধবিমান দিয়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রেশ নিউজ জানিয়েছে, সকালের দিকে থাই বিমানগুলো নম কমোচ এবং পিক স্বিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। গত ১২ দিন আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

কম্বোডিয়ার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংকল্পের সঙ্গে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করে চলবে তাদের বাহিনী। অপরদিকে রয়্যাল থাই আর্মি জানিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ক্যাসিনো এবং হোটেলসহ আন্তর্জাতিক জালিয়াতি নেটওয়ার্কের ব্যবহৃত ছয়টিরও বেশি ভবন ধ্বংস করেছে।

এছাড়া রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সীমান্ত সংঘাতে থাইল্যান্ড বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে কম্বোডিয়া। হাসপাতালে কম্বোডিয়ার এক সেনা এ হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। কম্বোডীয় সেনা কুন ইয়ং বলেছেন, সম্প্রতি তিনি সীমান্তে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। থাই বিমান থেকে হামলার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাকে সরে যেতে হয়েছে বলে জানান এ সেনা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।’
ডিসেম্বরের শুরু থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। এ সংঘর্ষে দুই দেশে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র লড়াই। কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্টি মিঞ্চি প্রদেশে বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাই বিমান হামলার পর শ্বাসকষ্টে ভোগার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে। তারা বলছেন, থাই বিমান থেকে বিষাক্ত পানি ছোড়া হয়েছিল। ওদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় প্রতিদিনই দাবি করে আসছে যে, থাই সেনাবাহিনী ‘বিষাক্ত গ্যাস’ ব্যবহার করছে।

এদিকে কম্বোডিয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে থাই কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সকে থাই বিমানবাহিনীর মুখপাত্র এয়ার মার্শাল জ্যাকরিত থাম্মভিচাই বলেছেন, তারা কখনই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেননি।
এর আগে, গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের সময় কম্বোডিয়া সাদা ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল থাই বাহিনীর বিরুদ্ধে। থাইল্যান্ড তাদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছিল। তবে বলেছিল, আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আওতায় এই অস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে গণ্য নয়।




১২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকা থেকে আটক ১২ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে তাদের হেফাজত থেকে মুক্তি দিয়েছে। 

বুধবার (১৭ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস টেলিগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কেরেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

বন্দি মুক্তির এই খবরের পাশাপাশি গাজায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের ছোড়া একটি মর্টার শেল ভুলবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ার কারণে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ বুধবার এই সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই তাদের এই ভুল শেলিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মর্টার শেলটি লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার বিষয়টি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং তারা ইতিমধ্যে এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। তবে গাজায় চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও এ ধরনের প্রাণঘাতী যান্ত্রিক বা কৌশলগত ভুল সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১২ ফিলিস্তিনির পরিচয় বা তাদের আটকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।




রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত – নতুন বছরকে সামনে রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পবিত্র রমজান এবং ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি।

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল–জারওয়ান বলেন, ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে অনুযায়ী, রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং এটি চলতে পারে ২৯ বা ৩০ দিন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ২০ মার্চ শুরু হতে পারে।

সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানান, রমজান মাস যদি ৩০ দিন পূর্ণ না হয়, তবুও ইউএই সরকারের নীতি অনুযায়ী ৩০তম দিনটি ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য ছুটি ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত টানা চার দিন হবে। জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর শুরু হতে পারে ২০ মার্চ।

২০২৬ সালে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ছুটি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আরাফাত দিবস হতে পারে ২৬ মে এবং ঈদুল আজহা শুরু হতে পারে ২৭ মে। এই ছুটি ২৯ মে পর্যন্ত চলতে পারে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ছয় দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।

তবে অন্যান্য ইসলামি ছুটির মতো, ইউএইতে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করবে।




জাপানে ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের উত্তরাঞ্চলে সোমবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জানিয়েছে। ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তীব্র শীতের মধ্যে বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। খবর জাপান টাইমসের।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, এর আগে ৭ দশমিক ৬ বলা হয়েছিল। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনে একই রকম বা আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।

সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার হলেও জাপানের বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ সতর্ক ও ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, আওমোরি অঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এতে সাগরে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় হোক্কাইডো থেকে সানরিকু উপকূলের অদূরবর্তী অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা এখন বেশি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আওমরি উপকূলের অদূরে। এর পরপরই হোক্কাইডো ও আওমোরির পূর্ব উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাঁচটি অঞ্চলের সোয়া ১ লাখ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের কারণে আওমোরি ও ইওয়াতে প্রায় ৪৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা আওমরির হাচিনোহে শহরে জাপানি শিন্ডো স্কেলে আপার-৬ রেকর্ড করা হয়। এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।

প্রথমে তিন মিটার পর্যন্ত সুনামির সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৭০ সেন্টিমিটার। কয়েক ঘণ্টা পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

কিছু এলাকায় বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যেন প্রকৌশলীরা রেললাইনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারেন।

২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে যে সুনামি আঘাত হানে, তাতে ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।

জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।