যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত চরমে: সমঝোতা বাতিল নিয়ে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এমন প্রেক্ষাপটে চলমান এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় ৫৩ ঘণ্টার সফর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সফর শেষে প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। বুধবার সকালে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’।

অন্যদিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, চলমান এই সংঘাতের মধ্যেও আলোচনা চলতে পারে এবং তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না জানান, এটা মনে রাখা দরকার যে, এই সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচেটিয়া ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন খোদ রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য। তাই চলমান এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বাধা রয়েছে। এখন যেহেতু আর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে বোঝানো বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, তিনি শুরুতে বলেছিলেন এই যুদ্ধ মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

তাছাড়া, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হামলার ধরন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যেন দ্রুত নিজের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ বলতে পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি সাজানো হয়েছিল। তাই এই চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে যে সংঘাত হবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব অবধারিত ছিল। আর এই হরমুজ প্রণালিই এখন নতুন করে সংঘাত বাড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।




মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে থাকা গাজার প্রবীণ নেতাকে হত্যা করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানে বড় পর্দায় মিসর-আর্জেন্টিনা ফুটবল ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন।

প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার ও আরবি পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াহিদির পাশাপাশি এক শিশুসহ আরও দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওয়াহিদির কমিটি গাজা শহরে ম্যাচটি বড় পর্দায় সর্বসাধারণকে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিল।

মিসরীয় ত্রাণ কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়াহিদি ত্রাণ কমিটির গাজা সিটি সদর দপ্তরে প্রবীণদের একটি সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবরা এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে ওয়াহিদির গাড়িতে যখন হামলা হয়, তার ঠিক আগেই তিনি এলাকার একটি বিরোধ মীমাংসা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

কমিটির মুখপাত্র ওয়াহিদিকে সমাজের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো বিরোধ মেটানো এবং মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।’

এই হামলার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

নাসের হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিস এবং উত্তর গাজায় আলাদা ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এই মিসরীয় ত্রাণ কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গাজায় খাদ্য বিতরণ, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ক্যাম্প পরিচালনাসহ বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে।

গাজাজুড়ে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখানোর আয়োজনের জন্যও এই কমিটি বেশ পরিচিত।

কায়রোতে যখন একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই কমিটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

হারেৎজ জানিয়েছে, এই হামলার বিষয়ে কায়রো কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এর জবাব চেয়েছে।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত আট মাসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।




ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার মতে, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই এবং এ ধরনের প্রচেষ্টা শুধু সময়ের অপচয়।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, দেশটি ‘অশুভ মানুষদের’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের প্রশাসন ‘উন্মাদ’।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা শেষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা নিকৃষ্ট। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যাবাদী।’

এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তার আলোচক দলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তারা চাইলে কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা শুধু সময় নষ্ট করছে। সত্যি বলতে, আমি তাদের পেছনে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।’

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তার মন্তব্যের পর এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং অঞ্চলে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনাতে বিশেষ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টি এবং মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নতুন সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে তিন দিনে ৩৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মরণকালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এবং প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে গত তিনদিনে (৩ জুলাই-৫ জুলাই) ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কে তিনজন এবং নিউজার্সিতে ৩০ জনের প্রাণহানি হয়।

নিউজার্সির স্বাস্থ্য দফতর এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এ তথ্য জানিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন অসহনীয় তাপদাহের আশংকা আগেই করা হয় এবং সর্বসাধারণকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হবার পরামর্শও দেয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে, তাপদাহের ভিকটিমদের বয়স ৩০ বছর থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সময়ে তাপ মাত্রা উঠেছিল ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর। নিউজার্সি স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান ডালিয়া ইওয়াইজ উল্লেখ করেন, তাপদাহের ব্যাপারটি এতটাই চরমে উঠেছিল যে, অনেকে তা কল্পনাও করতে পারিনি। গাড়ি চালানোর সময় এবং নিজ বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার ভিকটিম হয়েছেন প্রায় সকলেই। এছাড়া দুয়েকজনের প্রাণহানী ঘটেছে পূর্ব সতর্কাবস্থা অগ্রাহ্য করে বাইরে বের হওয়ায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অসহনীয় তাপদাহের মধ্যেই ঘন্টায় ৭১ মাইলেরও অধিক গতিতে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে নিউজার্সির কোন কোন এলাকায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট-সহ আশেপাশের বেশ কটি স্টেটে এক লাখ ৮৫ হাজার বাসা, ব্যবসা এবং অফিস-আদালত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে প্রচন্ড গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে যাবার পর তিনজনের মৃত্যু এবং আরো কমপক্ষে ১৪৬ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটাই প্রথম অবিশ্বাস্য রকমের তাপদাহ প্রবাহিত হবার পর। অপরদিকে, নিউজার্সিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৩১ জন।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক অঞ্চলে অসহনীয় তাপদাহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও উপস্থিতির হার কমেছিল। ৪ জুলাই ছিল স্বাধীনতা দিবস।




বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেল ও গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। খবর আল জাজিরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার) পৌঁছায়। আগের দিনের দরপতনের পর নতুন করে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কায় বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি দাবি করেছে, সতর্কবার্তা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ায় এলএনজি বহনকারী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। তবে এ ঘটনার সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।




এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে নেতানিয়াহুর ‘নালিশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অনবরত ইসরায়েল-বিরোধী বিবৃতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি ‘নালিশ’ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আঙ্কারার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যবহার হতে পারে— এমন কোনো উন্নত সামরিক প্রযুক্তি বা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তুরস্কের কাছে বিক্রি না করার জন্য তিনি মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজের এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে তার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত দুই বছর ধরে গাজা উপত্যকা এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের জেরে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে একটি সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলছেন, কারণ ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে নেতানিয়াহুর আগের সেই একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও নানা মতভেদের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের চমৎকার ব্যক্তিগত সখ্য এবং তুরস্কে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিশাল আর্থিক মুনাফার বিষয়টিকে সরিয়ে ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহু কতটা প্রভাব খাটাতে পারবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে সংশয় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাচ্ছেন, যেখানে তুর্কি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন ইঞ্জিন সরবরাহ চুক্তি এবং দেশটিকে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার এজেন্ডা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ওয়াশিংটন তুরস্ককে এই সংবেদনশীল এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করেছিল।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আঙ্কারার হাতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুনরায় তাদের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রি করা সম্ভব, তা মার্কিন পেন্টাগন বর্তমানে খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান যে মার্কিন আইন মেনে এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আমেরিকার এই সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি তুর্কি সরকারের ক্রমাগত ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছিলেন যে এটি তুরস্কের জাতীয় অস্তিত্বের জন্যও এক বড় হুমকি। এর পরপরই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল সরকারকে ‘মানবজাতির জন্য অসহনীয় বোঝা’ আখ্যা দিয়ে দেশটির ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি জানান।

শুক্রবারের ফোনালাপে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন যাতে তিনি এরদোয়ানকে কিছুটা ‘সংযম’ প্রদর্শনের বার্তা দেন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নেতানিয়াহুর দাবিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তিনি হয়তো তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে তাকে কিছুটা সংযত হতে বলতে পারেন। তবে এই স্পর্শকাতর ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অফিশিয়াল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের নেওয়া কিছু স্বাধীন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও এক ধরনের অদৃশ্য টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অতীতে যেসব ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগই বাস্তবে মেলেনি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার একটি সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন যে তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আঙ্কারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘খারাপ পক্ষকে’ সব ধরনের মদদ যোগাচ্ছে।

নেতানিয়াহু তার সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আমেরিকা-বিরোধী চরমপন্থী আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে কোনোভাবেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা উন্নত ইঞ্জিন দেওয়া উচিত হবে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হবে, যা বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশসামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে সুসংহত রয়েছে’।

সূত্র: অ্যাক্সিওস




খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের ছবিতে পাথর নিক্ষেপ, ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতীকী ছবিতে পাথর নিক্ষেপ করেছেন হাজার হাজার শোকাতুর জনতা।

আজ সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সংবাদ সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ইসলামের পবিত্র হজব্রতের ‘শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ’ (রমি আল-জামারাত) আচারটির অনুকরণে ট্রাম্পের ছবিতে নুড়ি পাথর ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন।

নিহত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ রাজধানী তেহরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। শোকের আবহে পুরুষ ও নারীরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের প্রজাতন্ত্রের পতাকা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে মিছিলে শামিল হন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই বিশাল সমাগম থেকে বরাবরের মতোই ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান তোলা হয় এবং মার্কিন পতাকা পোড়ানো হয়।

এরই মধ্যে জানাজা চলাকালীন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত একটি ‘ওয়ান্টেড’ বা মোস্ট ওয়ান্টেড ধাঁচের ব্যানার দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ব্যানারটিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো)। একইসঙ্গে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জীবিত অথবা মৃত এনে দিতে পারলে ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করা হয় সেখানে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সমাবেশে জানাজায় আসা সাধারণ মানুষের এই ধরনের মার্কিনবিরোধী অবস্থান একটি নিয়মিত চিত্র। আজকের এই জানাজা মিছিল থেকে ট্রাম্পের পাশাপাশি তার প্রশাসনের তথাকথিত ‘যুদ্ধবাজ উপদেষ্টা’দের একটি তালিকাও জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে সেই উপদেষ্টাদেরও ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।




চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরল পরীক্ষা চালাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে আজ সোমবার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (এসএলবিএম) বিরল পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। দেশ দুটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) নৌবাহিনী শাখার মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ ক্যাপ্টেন ওয়াং সুয়েমেং এক বিবৃতিতে বলেন, পিএলএর একটি সাবমেরিন থেকে একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ওয়ারহেডের বদলে একটি ডামি ওয়ারহেড বহন করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত এলাকায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

ওয়াং বলেন, এ পরীক্ষা চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নিয়মিত অংশ। পরীক্ষা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

চীনের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতি মেনে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশে পরিচালিত হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাতে রাজি হয়নি দেশটি।

চীনের নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এল-২ এবং জেএল-৩। ক্ষেপণাস্ত্রবিশেষজ্ঞদের মতে, জেএল-৩-এর পাল্লা এতটাই বেশি যে তা দক্ষিণ চীন সাগরসহ চীনের উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে উৎক্ষেপণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম।

চীনের প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন হলো টাইপ-০৯৪ বা ‘জিন’ শ্রেণির সাবমেরিন। বর্তমানে দেশটির কাছে এ ধরনের ছয়টি সাবমেরিন রয়েছে।

বেইজিং খুব কম সময় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে থাকে। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের তথ্যমতে, জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালানো হয় ২০১৮ সালে। এরপর এক বছর পর আরেকটি পরীক্ষা চালানো হয়।

‘উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স জানান, আজ সোমবার চীন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করেছে, তা ১৯৮৬ সালের রারোটোঙ্গা চুক্তির আওতায় গঠিত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের জলসীমায় গিয়ে পড়েছে। চীন ১৯৮৭ সালে এ চুক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রটোকলে স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তির দ্বিতীয় প্রটোকল অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ওই অঞ্চলের কোনো দেশ বা ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকি দিতে পারবে না। তৃতীয় প্রটোকলে ওই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পিটার্স বলেন, ‘আজ দিনের শুরুতে চীন আমাদের জানিয়েছিল, তারা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করবে।’

পিটার্স আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মতো আমরাও চাই না, চীন দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করুক।’

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং চীনের এ পরীক্ষাকে ‘এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ বলে মন্তব্য করেন।

ওং বলেন, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও আশ্বাসের অভাবকে আমলে নিয়ে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে চীনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব দেশটির বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উইনস্টন পিটার্স বলেন, চীনের সর্বশেষ এ পরীক্ষা ২০২৪ সালের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময়ও পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এ অঞ্চলে একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছিল।

পিটার্স বলেন, ‘এ ধরনের পরীক্ষা স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশ হিসেবে আমরা তা কেবল বসে বসে দেখে যেতে পারি না।’

পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন বা অস্বাভাবিক নয়।

উদাহরণ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের কথা বলা যায়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ফ্লোরিডা উপকূলে ট্রাইডেন্ট সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। গত ডিসেম্বরে ভারতও একটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আর গত অক্টোবরে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় রাশিয়া।

সামগ্রিকভাবে পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে চীনও তার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বহর বাড়াচ্ছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে সর্বশেষ আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। দক্ষিণ চীন সাগরের হাইনান দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ডিএফ-৩১বি ক্ষেপণাস্ত্রটি ফরাসি পলিনেশিয়ার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় গিয়ে পড়েছিল। উন্মুক্ত সমুদ্রে এটি ছিল ৪৪ বছরের মধ্যে চীনের প্রথম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সাধারণত নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে একাধিক সাইলোভিত্তিক আইসিবিএম উৎক্ষেপণের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাইলো বলতে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকাঠামোকে বোঝায়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চীনের সামরিক শক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পারমাণবিক প্রতিরোধমূলক অভিযানের একটি বিকল্প’ হিসেবে বিবেচনা করে।




তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে জনসমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের আজাদি সড়কে নেমেছে লাখো মানুষ। সোমবার (৬ জুলাই) শেষযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।

খামেনির মরদেহবাহী একটি ট্রাক ধীরগতিতে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। একই ট্রাকে তার মেয়ে, তিন বছর বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূর মরদেহও বহন করা হচ্ছে।

শেষকৃত্যের শোভাযাত্রার তেহরান পর্বের সমাপ্তি হবে আজাদি স্কয়ারে। এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা