রুশ সেনাদের গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন, কী নিয়ে ছিল সেই প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত বছর রুশ বাহিনীকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রশিক্ষণের অনুমোদন দেন। এতে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্তত চার জেনারেল সরাসরি অংশ নেন। দুজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও রয়টার্সের দেখা কিছু নথিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন প্রশিক্ষণে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি প্রমাণ করে, রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই এই সহযোগিতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্স রাশিয়ার একটি গোপন নথি হাতে পেয়েছে। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ ডিক্রির (আদেশ) কথা সরাসরি উল্লেখ আছে। ডিক্রিটি ২০২৫ সালের আগস্টে জারি করা হয়।

ওই নথিতে বলা হয়, বেলোসভের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনে যায়। সেখানে তারা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) স্থাপনায় সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ

একই নথিতে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় নভেম্বরে তিন সপ্তাহের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মূলত তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈব সুরক্ষা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় আরেকটি নথিতে প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা ও কিছু ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, এক চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের ক্লাস নিচ্ছেন। সেনারা পারমাণবিক চুল্লির একটি মডেল দেখছেন। সেখানে তাঁদের ‘রাসায়নিক নজরদারি’, ‘তেজস্ক্রিয় নজরদারি’ ও দূষণ থেকে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন সিস্টেম) সুরক্ষার কৌশল শেখানো হচ্ছে।

ইউরোপের এক কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, জৈব ও রাসায়নিক যুদ্ধবিদ্যার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে এই সামরিক আদান–প্রদান কতটা কৌশলগত। যেকোনো সামরিক বাহিনীর জন্যই এসব বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেন সংকটে তাদের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

রয়টার্সের এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘এ–সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো যুদ্ধের বিষয়ে বেইজিং বরাবরই নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করে আসছে। তারা নিজেদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাতে গত মাসে রয়টার্স আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন।

গত মাসের ওই প্রতিবেদন নিয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ‘ভুয়া খবর’ ছড়াচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়কের প্রধান কায়া কালাস গত ১৫ জুন একটি বিবৃতি দেন। তিনি জানান, ব্রাসেলস নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন তাঁরা এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখছেন।

বেইজিং অবশ্য কায়া কালাসের এই মন্তব্যকে ‘স্রেফ অপবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

চীনকে মোকাবিলায় ইইউর ভাবনা

২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন হলো ইইউর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। মস্কো ও বেইজিংয়ের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এখন ইউরোপ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

২৭ সদস্যের ইউরোপীয় জোটের ভেতরে এখন রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের কথা মাথায় রেখে চীনের ওই প্রশিক্ষণের জবাবে আরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নেতারা আলোচনা করছেন।

রাশিয়াকে যুদ্ধে সহায়তা করার অভিযোগে ইইউ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ব্রাসেলসের তৃতীয় এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, জোটের এখন চীনকে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে দেখা বন্ধ করতে হবে; বরং রাশিয়ার যুদ্ধে চীন যে ‘নির্ণায়ক সহায়তাকারী’ হিসেবে কাজ করছে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ইউরোপীয় ওই দুই কর্মকর্তা ২ জুলাই স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির কথা জানান। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তম খুসাইনভ ও চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দায়ুন। তথ্যের সংবেদনশীলতার কারণে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই কার্তাপোলভ রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিভিআই–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রশিক্ষণের এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, চীনের কাছ থেকে রুশ সেনাবাহিনীর কিছুই শেখার নেই।

চীনের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব

ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই করছে রাশিয়া। এতে তারা যুদ্ধের ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে চীনের বিশাল ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত আধুনিক সেনাবাহিনী থাকলেও কয়েক দশক ধরে তারা কোনো যুদ্ধ লড়েনি।

রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক নথিতে এই প্রশিক্ষণের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

নানজিংয়ে হওয়া প্রশিক্ষণ নিয়ে নথিতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে চীনের আধুনিক সরঞ্জাম, সিমুলেটরের ব্যবহার ও প্রশিক্ষকদের উচ্চ স্তরের তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হয়। তবে একই সঙ্গে চীনের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাবের বিষয়টিও সেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

অন্যান্য নথিতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তিন জেনারেলের নাম রয়েছে।

রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি সামরিক নথিতে সব কোর্সে অংশ নেওয়া প্রত্যেক সদস্যের নামের তালিকা রয়েছে। সেখানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নামও আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর পদবি, জন্মতারিখ, কর্মস্থলের পরিচয় ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকা ও রয়টার্সের দেখা দ্বিতীয় একটি সামরিক নথি অনুযায়ী, রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ। তিনি রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার–ইন–চিফ।

দ্বিতীয় নথিতে দেখা যায়, চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুন একটি কোর্সের উদ্বোধনে অংশ নেন। তিনি পিএলএর মিলিটারি একাডেমি অব রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্সের প্রধান।

এ ছাড়া তালিকা অনুযায়ী, রাশিয়ার মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভ বেংবু শহরে হওয়া একটি কোর্সে অংশ নেন।




চীনের সবচেয়ে উঁচু ভবনে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন পাইলট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে একটি ছোট উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করে নিহত হওয়া ওই পাইলট মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এমনকি নিজের ডায়েরিতে তিনি আত্মহত্যার কথাও লিখেছিলেন।

গত শুক্রবার বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ৫২৮ মিটার উঁচু ‘সিআইটিআইসি’ টাওয়ারে একটি ছোট উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে। এতে ভবনটির ওপরের দিকের কাচ ভেঙে যায় এবং নিচে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় ১৩ জন আহত হন।

চীনের শীর্ষ নেতাদের বাসভবন থেকে এই ভবনের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। তাই কঠোর নিরাপত্তার এই শহরে এমন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৬ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম লিউ। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বেইজিংয়ে একাই থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনিদ্রা ও হতাশায় ভুগছিলেন। তার ডায়েরিতে নিজের ‘জীবন শেষ করে দেওয়ার’ কথা লেখা ছিল। ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই তিনি মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ করেছেন।

লিউ পেশায় ফ্রিল্যান্সার ছিলেন এবং উড়োজাহাজ চালানোর লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ঘটনার দিন বিকালে তিনি দুই আসনের একটি ছোট উড়োজাহাজ নিয়ে একাই উড়ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি নির্ধারিত পথ ছেড়ে অন্যদিকে চলে যান এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয় এবং ইন্টারনেট থেকে এই ঘটনার সব ছবি ও ভিডিও দ্রুত মুছে ফেলা হয়।




আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফনের প্রস্ততি চলছে ইরানে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চিরবিদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার মৃত্যুর পর, এবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে ইরান জুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং প্রতিবেশী ইরাকসহ মোট পাঁচটি প্রধান শহরে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে খামেনির জানাজার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় একটি মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে এবং তারপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরের দিকে যাবে।

আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে তার নিজ শহর মাশহাদে। ইরান এবং ইরানের বাইরে থেকে বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন এবং পুলিশ এই অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারাও এতে অংশ নেবেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি মাসের শুরুতে সংসদে দেওয়া এক ভাষণে জানান, তিনিও খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।




ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মিললেই বাহিনী অভিযান শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে দু’দফা অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করেছে। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে তৃতীয়বারও হামলা চালাতে ইসরায়েল দ্বিধা করবে না এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জুন জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানায়, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে পৌঁছালে তা দিয়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব।

আইএইএর ওই প্রতিবেদনের কয়েক দিনের মধ্যেই, ১১ জুন রাতে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ১২ দিন চলা এ অভিযানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অভিযান বন্ধ করা হয়।

পরবর্তীতে একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে অভিযানের দু’দিন পর যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে ওই অভিযান থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে ইসরায়েল মূলত লেবানন সীমান্তে সীমিত পরিসরে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং ইসলামাবাদ চুক্তির আওতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

যদিও এর আগেই নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সতর্ক করে দেওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি আর প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেননি।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিবি(নেতানিয়াহুর ডাক নাম), কথাবার্তায় সতর্ক থাকুন। তা না হলে খুব শিগগিরই নিজেকে একা অবস্থায় দেখতে হতে পারে।’




ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর তিন বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার ছয় দিন পর, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে বের করে আনার সময় উদ্ধারকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান বলে জানিয়েছেন। ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির এই উদ্ধারকে ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটলো যখন জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, ভেনেজুয়েলায় হাজার হাজার মানুষ জরুরিভাবে খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নাসা-র স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই শক্তিশালী কম্পনে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে যে, ক্লিয়েবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ।

সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন উদ্ধার কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ধরা হয়, যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তারও অনেক পরে এই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

লা গুয়াইরা ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি, যেখানে স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, ইউএনএইচসিআর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ওই এলাকায় খাদ্য সংকট প্রকট, মৌলিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস, যিনি ভূমিকম্পের সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন, তিনি এএফপি-কে বলেন, কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, তবে খাবার পাওয়ার জন্য মানুষ এতটাই মরিয়া যে প্রায়ই মারামারি লেগে যাচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে যে, ৩০ হাজার ভূমিকম্প কবলিত মানুষের ছয় মাসের জন্য সুরক্ষা, ত্রাণ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য তাদের প্রাথমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ‘চরম চাপের’ মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার সতর্ক করেছেন যে, টিকাদানের হার কম হওয়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

দেশি ও আন্তর্জাতিক দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং লা গুয়াইরাসহ অন্যান্য রাজ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ ডজন খানেক দেশ থেকে এসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ও ভারী সরঞ্জাম নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো। কিছু আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসতে শুরু করেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তা এসে পৌঁছেছে, যার মধ্যে জরুরি স্বাস্থ্য কিট, নিরাপদ প্রসবের সামগ্রী ও নবজাতকের যত্ন নেওয়ার সরঞ্জাম রয়েছে।

এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ দাফন শুরু হয়েছে। অনেকে এখনো তাদের স্বজনদের মরদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, যাদের মৃত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

লা গুয়াইরা বন্দরের একটি অস্থায়ী মর্গে উইলকার মোলালা নামে একজন জানান, তিনি তার বোন, বোনের সন্তান এবং ভাইয়ের সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করার জন্য অপেক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, “আমার পরিবারে ১১ জন সদস্য ছিল। কেবল দুজন বেঁচে আছি কারণ আমরা তখন কাজে ছিলাম।”




৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয় ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল এল প্রোগ্রেসো শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হওয়া এ ভূমিকম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরীয় এলাকায় অনুভূত হয়।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটি অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় এর কম্পন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।




পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের লাহোরের কাছে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে উদ্ধারকারী ও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

লাহোরের উপকণ্ঠ কাহনা এলাকার একটি প্রাইভেট টিউশন সেন্টারে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশটির জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন যে বিকেল চারটা ৪৫ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পান এবং এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শিশুদের অধিকাংশের বয়সই সাত থেকে এগারো বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে।

ভবন ধসের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জহির নামের ৪৫ বছর বয়সী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে দুর্ঘটনার সময় ঘরের চালের ওপর মেরামতের কাজ চলছিল এবং সেখানে অতিরিক্ত ওজনের টাইলস রাখার কারণেই জরাজীর্ণ ছাদটি হঠাৎ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর ভেঙে পড়ে।

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এক সরকারি বার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ একে একটি ‘হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে নিষ্পাপ শিশুদের এই চলে যাওয়া এক অপরিসীম বেদনাদায়ক ঘটনা। তিনি ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি




ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত কাটতে না কাটতেই শক্তিশালী পরাঘাত, রাস্তায় মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর আবারও বড় ধরনের পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত  বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। গত সপ্তাহের ওই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে এখন চরম মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

গত সোমবার ভোরে আঘাত হানা ওই পরাঘাতের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৬। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এর তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ১। রাজধানী কারাকাস ও বিধ্বস্ত বন্দরনগরী লা গুইরা এ সময় কেঁপে ওঠে। লা গুইরার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এই পরাঘাতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে মাটির কম্পন আর ভূমিকম্পের সতর্কসংকেত শুনে কারাকাস ও লা গুইরার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কারাকাসের এল হাতিলো এলাকার বাসিন্দা আমারেলিস মেন্দোজা বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কাঁপুনিতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আগের অন্য পরাঘাতগুলো টের না পেলেও আজকের কম্পনটি গত বুধবারের ভূমিকম্পের মতোই শক্তিশালী মনে হয়েছে।’

এই পরাঘাতে রাজধানীর আলতামিরা ও সান বার্নার্দিনো এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়শিবির ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। নতুন করে ভবনধসের ভয়ে অনেকে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বা ফুটপাতে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

বারবার পরাঘাতে কারাকাস মেট্রোর অবকাঠামো ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর আরও ক্ষতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু লাইন আবারও বন্ধ করে দিয়েছে।

সান বার্নার্দিনোতে গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ২২ ইউনিটের ‘রিটা’ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবারের কম্পনের পর সেখানে উদ্ধারকাজ প্রায় দেড় ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।

নতুন সপ্তাহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মানবিক সংকট গভীর হওয়ায় পার্ক ও গণচত্বরগুলোয় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার লাশের ব্যাগ দেবে বলে জানিয়েছে। তবে তারা আশা করছে, নিহতের সংখ্যা যেন এত বেশি না হয়।

ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা দেল তিন্দারো সরকারি তথ্যের বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে জানানো তথ্যের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি হবে।’

তিন্দারো আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনেপ্রাণে আশা করছি, নিহতের সংখ্যা যেন ওই সংখ্যার (১০ হাজার) চেয়ে কম হয়।’

আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার প্রশংসাও করেন তিন্দারো। তিনি জানান, ২৭টি দেশ থেকে ২ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টির বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার দুটি প্রধান বন্দরের একটি মেরামত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী (ইউএস মেরিনস)। এখন সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘লা গুইরা বন্দরটি সচল হয়েছে। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল বন্দরটি ব্যবহার করছে।’

কারাকাস ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা কয়েক শ বাস্তুচ্যুত পরিবার রাজধানীর পূর্ব দিকের ২০০ একর আয়তনের ‘পার্কে দেল এস্তে’ পার্কে আশ্রয় নিয়েছে।

কারাকাসের বেলো ক্যাম্পো এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী কাতিউস্কা আসুয়াজে চার সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছুর চেয়ে জীবনের দাম বেশি।’

আসুয়াজো আরও বলেন, ‘ছাদের একটি পলেস্তারা আগেই খসে পড়েছিল। আমরা চাচ্ছিলাম না মাথার ওপর বাড়িটি ধসে পড়ুক। তাই চলে এসেছি।’

কারাকাসের পশ্চিমে ৩৬ বছর বয়সী মারিউরি পেরেজ ও ৪০ বছর বয়সী জাইমে ব্লাঙ্কোর ঘরটি ধসে পড়েছে। তাঁদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

পেরেজ বলেন, ‘আমাদের এখন একটি তাঁবু বা ঘুমানোর জন্য অন্তত একটি গদি প্রয়োজন। প্রতিবেশীরা আমাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই।’

গত বুধবার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশি–বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজছিলেন, ঠিক তখনই নতুন করে পরাঘাতটি অনুভূত হলো।

গত রোববার লা গুইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা আজকেও জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ হবে না।’

তবে জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এল সালভাদর থেকে আসা এক উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেন, ‘এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেবল লাশই পাওয়া যাবে। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো কাউকে জীবিতও পেতে পারি।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ৮০০ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যে লাখ লাখ মানুষ স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।




জার্মানিতে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টেড শহরে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আজ সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর জার্মানির স্টেড শহরের একটি যুবকল্যাণ কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই গোলাগুলিতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসময় তারা অভিযুক্ত হামলাকারীসহ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

বর্তমানে এলাকাটি নিরাপদ এবং জনসাধারণের জন্য কোনো হুমকি নেই। জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় কাউন্সিলর কার্স্টেন ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘যেখানে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে, তার ঠিক পাশেই শহর কর্তৃপক্ষ একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করে।’

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা স্বস্তি পেয়েছি যে আমাদের দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মী ও শিশুরা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছে এবং এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তাদের সেবার জন্য আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘একই সাথে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।’

এদিকে পুলিশ সতর্ক করেছে, ঘটনাটি সম্পর্কে যাচাইবিহীন তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং জনগণকে কোনো গুজব না ছড়াতে অনুরোধ করেছে। কারণ এটি তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

হামবুর্গ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার (২৭ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত স্টেড প্রায় ৫০,০০০ মানুষের একটি ঐতিহাসিক শহর।

জার্মানিতে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল। দেশটিতে বন্দুক মালিকানার কঠোর আইন রয়েছে এবং এর জন্য লাইসেন্স আবশ্যক। বন্দুক রাখার অনুমতি পেতে হলে বাসিন্দাদের নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, একটি প্রশিক্ষণ কোর্স ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এবং অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তাও প্রমাণ করতে হয়।

জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৮৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রায় ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষের কাছে ৩০ লাখের বেশি বন্দুক রয়েছে।




বাংলাদেশি পর্যটকদের অপেক্ষায় গেদে সীমান্তের ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক নিউজঃ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার এই কার্যক্রম চালুর পর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত চেকপোস্টে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা। একই ধরনের স্বস্তির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও।

একটা সময় দিনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক আসতেন ভারতে। কিন্তু গত দু বছরে শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় সেই সংখ্যাটা কয়েকগুণ কমে যায়। এ অবস্থায় হিলি কিংবা গেদে-দুই সীমান্তের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। ব্যবসায় মন্দার কারণে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়েছে অনেককে।

এবার পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে এক দিকে যেমন পুনরায় বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়বে, তেমনি উভয় সীমান্ত এলাকার ব্যাবসা, বাণিজ্যের উন্নতি ঘটবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

ভারতের হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা বলেন, ‘টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, ব্যাবসার পরিস্থিতির আগের থেকে অনেকটাই ভালো হবে। আগে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করত। বিগত দুই বছর ধরে ভারত শুধু বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা দিচ্ছিল। যার ফলে এই সংখ্যাটা কমে এসেছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। আমার প্রত্যাশা, এর ফলে আমাদের জেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যাবসা-বাণিজ্য আবার পুনরায় উন্নতি ঘটবে।’

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাদিয়া নামে এক বাংলাদেশি তরুণী বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে একটা অনেক ভালো লাগার বিষয়। কারণ, আমরা দীর্ঘ দুই বছর পর টুরিস্ট ভিসা চালু হতে চলেছে। আমি নিজেও মেডিকেল ভিসা নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলাম। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আশা করি, সামনের বার যখন আসবো, তখন মেডিকেল ভিসা নয়, সরাসরি ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারব।’

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার জানান, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। আর্থিক দিক দিয়ে এই স্থল বন্দরের উন্নতি হবে। কারণ গত দুই বছর ধরে এটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া ভিসা কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকেও বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হচ্ছিল। টুরিস্ট ভিসা চালু হলো, আশা করা হচ্ছে অন্য ভিসাও চালু হবে।’