ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে শত শত মানুষের মৃত্যুর পর এবার পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছে। পোল্যান্ড, চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) ও স্লোভাকিয়ায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সে তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২৮ জুন) ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার মধ্যে ছিলেন। জার্মানি, চেকিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পোল্যান্ডে ১৯২১ সালে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার (২৮ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা ও টুপি ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। তাপ থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে বিভিন্ন শহরে পানির ফোয়ারা বা ‘ওয়াটার কার্টেন’ স্থাপন করা হয়েছে।

চেক হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, দেশটিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশ খানিকটা বেশি হতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

চেকিয়ায় শনিবারই ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ। রাতভর দেশটির ১০০টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামেনি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের মতে, রোববার (২৮ জুন) পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবারের (২৭ জুন) রেকর্ড নিশ্চিতভাবেই আবারও ভেঙে যাবে। একই সঙ্গে রোববার রাতেও ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে দেশটি।

জার্মানিতেও শনিবার (২৭ জুন) রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনির বাউটজেন এলাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বার্লিনের বাসিন্দাদের তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে শনিবার (২৭ জুন) জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটিয়েছে পুলিশ। একই ব্যবস্থা রোববারও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান সপ্তাহের শেষে অতি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

স্লোভাকিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এরই মধ্যে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২০০৭ সালে দেশটির সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড রোববার বা সোমবার (২৯ জুন) ভেঙে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮৭১ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্লোভাকিয়ায় টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে।

ডেনমার্কেও শনিবার (২৭ জুন) ১৮৭৪ সালে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এটি দেশটির ওডেন্স শহরের উত্তরের একটি এলাকায় পরিমাপ করা হয়।

এদিকে ফ্রান্সে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হিসাব শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আগের মাসগুলোর তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখনো প্রাথমিক ও শেষ পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মানুষের নিজ নিজ বাড়িতে। বিশেষ করে, রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরাও এই তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পরিস্থিতি বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের প্রতি সংহতি ও সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং ডানপন্থি লে রিপাবলিকাঁ দলের সংসদ সদস্য ফিলিপ জুভাঁ বলেছেন, ফ্রান্সে শেষ পর্যন্ত তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, এমনও হতে পারে যে এখনো অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় কিংবা মারা গেছেন, কিন্তু আগামী সপ্তাহের আগে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, আগামী কয়েক দিন দেশটির হাসপাতাল ও জরুরি সেবাগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। গ্রিনস পার্টির নেতা মেরিন টঁদেলিয়ে বলেছেন, এত বিপুল মৃত্যুর কারণ পুরোপুরি তদন্ত করে সামনে আনতে হবে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি জরুরি কলের সাড়া দিয়েছে।

স্পেনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অন্যদিকে, উত্তর ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া আঘাত হেনেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা সড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং প্লাবিত বাড়িগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন।

আইন এলাকায় বজ্রপাতের কারণে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে লাওঁ শহরের একটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে ৬০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।

এদিকে, বেলজিয়ামেও ভয়াবহ ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে একটি গাছ গাড়ির ওপর ভেঙে পড়লে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।




১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ বিধ্বস্ত করলো রুশ সু-৩৫!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের পোলতাভা অঞ্চলে ইউক্রেনের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার সু-৩৫এস। ১৯০ কিলোমিটার দূর থেকে মিগ-২৯ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে রুশ যুদ্ধবিমান সু-৩৫। এত দূর থেকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করার এমন দাবিতে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিফেন্স সিকিউরিটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬-২৭ জুন রাতের ওই সংঘর্ষটি হয়। আধুনিক সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে ফাইটার-টু-ফাইটার ভূপাতিতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম রেকর্ড হতে পারে।

এদিকে, পোলতাভা অঞ্চলে যুদ্ধ মিশনের সময় একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। তবে তারা জানিয়েছে, বিমানের পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং প্রাণে বেঁচে যান।

রাশিয়াপন্থী সামরিক সূত্র এবং একাধিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষকের দাবি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত বেলগোরোদ অঞ্চলের আকাশসীমা থেকে একটি সু-৩৫এস যুদ্ধবিমান আর-৩৭এম (R-37M) দূরপাল্লার (এয়ার টু এয়ার) নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে। এতে ইউক্রেনের মিগ-২৯ বিমানটিকে ভূপাতিত হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বেলগোরোদের পশ্চিমাংশ থেকে পোলতাভা অঞ্চলের ভেলিকা বাহাচকা বা শিশাকি এলাকার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর সরলরৈখিক দূরত্ব প্রায় ১৮৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার, যা এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘটনা দেখায় যে রাশিয়া এখন গভীর নিরাপদ আকাশসীমায় নিজেদের যুদ্ধবিমান রেখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্থলভিত্তিক রাডার এবং সুরক্ষিত ডেটা লিংকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করছে।

তাদের মতে, আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের পুরোনো মিগ-২৯ ও সু-২৭ যুদ্ধবহরের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো ভিডিও বা ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশিত হয়নি, যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে বিমানটি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রেই ভূপাতিত হয়েছে। ফলে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপেছে কাবুল ও ইসলামাবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

আজ শনিবার রাজধানী কাবুলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন। কাবুলে কয়েকটি ভবন কেঁপে ওঠে। এক সাংবাদিক জানান, একটি ভবনের ভেতরের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এর গভীরতা ছিল ২০৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার।




ভারতে প্রবেশে মানতে হবে নতুন নির্দেশনা, জানাল নয়াদিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নতুন প্রবেশ নির্দেশনা জারি করেছে ভারত। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে ফ্লাইটে ওঠার আগে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় চালু হয়েছে স্পর্শহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এয়ার সুবিধা ২.০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে যাওয়া সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ঝামেলা এড়াতে ওয়েব চেকইনের সময়ই ফর্মটি পূরণ করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘোষণাপত্রে গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত এলাকায় সফরের তথ্য এবং জ্বর, শরীরব্যথা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ আছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর আলাদা কোনো কাগজপত্র পূরণ করতে হবে না। অনলাইনে পূরণ করা ঘোষণাপত্রই ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ মে দেওয়া সতর্কতা। সংস্থাটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। এবারের সংক্রমণ ইবোলার বিরল ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত রোগের কারণে ছড়াচ্ছে, যার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডিআরসি, উগান্ডা এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ভারতে পৌঁছে যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সংস্থাটি এবং আফ্রিকান সিডিসি আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিলও ঘোষণা করেছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্টাক্টলেস এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




যুদ্ধের নতুন কৌশল, ৫ লাখ সেনার হাতে ড্রোন তুলে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বাড়তে থাকা ড্রোনের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতোই সহজে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।

শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত করা হবে।

আন গিউ ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী কে লুকাস ড্রোনের উৎপাদনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হবে।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পাচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষাও তদারক করেছেন।

সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান




চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত খালি করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন বা কোথা থেকে আসছিল এবং ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাও এখনো জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি  ১০৯ তলা বিশিষ্ট ভবনটির উপরের দিকের একটি তলাতে আঘাত করছে। এরপর ধ্বংসাবশেষের বড় বড় টুকরো নিচের রাস্তা ও সবুজ চত্বরে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন ফুটেজে ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের এক সাংবাদিক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ভবনের প্রবেশমুখের কাছে তাদের জড়ো হতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি, পুলিশ সদস্য এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সিএনএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিমানটির মালিকের তালিকাভুক্ত যোগাযোগ নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিমানের নিবন্ধন নম্বর (রেজিস্ট্রেশন কোড) থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। বিমানটি একটি স্থানীয় জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন।




ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই দফা ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন সংখ্যা মানুষ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আশঙ্কা করছে, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিবিসি এসব তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার বিকেলে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের তথ্য এই প্রাথমিক হিসাবে আসেনি। ওই এলাকায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ার সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার চিত্র ভিডিওতে দেখা গেছে।

ভেনেজুয়েলায় সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় ভেনেজুয়েলার অনেক মানুষ ওই সময় নিজেদের বাসাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘বিরাট একটি শব্দ হলো। বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র সব পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের জগগুলোও আছড়ে পড়ল। আমি আগে কখনো এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি।’




ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, স্পেনেই চার দিনে মৃত্যু ২১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কোনো বিরতি নেই। ফ্রান্স ও স্পেনসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে চরম গরমে প্রাণহানির হিসাব শুরু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবারও(২৫ জুন) অন্তত ১০ কোটি ১০ লাখ ইউরোপীয় নাগরিককে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আফ্রিকার অনেক অঞ্চলের তুলনায়ও বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, স্পেনে জুন মাসের নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ‘মোমো’ জানিয়েছে, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

জার্মান আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও ইউরোপীয় যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের ২০২৫ সালের জনসংখ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ৩৮ কোটিরও বেশি মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। এমন আবহাওয়ার উপযোগী নয়—এমন অবকাঠামো ও নগর পরিকল্পনাও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জলবায়ু সংকটের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণের মূল্যই এখন মানবজাতিকে দিতে হচ্ছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানো বন্ধ না হলে চরম তাপমাত্রা আরও বাড়তেই থাকবে।’

ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় পুরো অংশেই তীব্র গরমের সতর্কতা জারি ছিল। ৬ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে।

এ ছাড়া, জার্মানিতে ৭ কোটি, ইতালিতে ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং যুক্তরাজ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন। বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

যদিও আগামীকাল শুক্রবার থেকে পশ্চিম ইউরোপে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে, পূর্ব ইউরোপে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত বছর ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেনে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৩২, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

চলতি সপ্তাহে স্পেনে জুন মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রিতে।

রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। সোমবার ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব ‘উষ্ণ রাত’ মানুষের ঘুম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিস অঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তীব্র গরমে এ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলো।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাঁ-গ্রাতিয়েন শহরে নিজ বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়িতে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান তার বাবা-মা।

ফ্রান্সে বুধবার ১৯৪৭ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে উষ্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেদিন জাতীয় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে, যা ১৫০ বছরে চতুর্থবারের মতো ৪০ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করল।

এর আগে সোমবার দক্ষিণ ফ্রান্সের কারপঁত্রা শহরে পারিবারিক গাড়ি থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বহু মানুষ ঘরের ভেতরের গরম সহ্য করতে না পেরে পার্কে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কেউ হ্যামকে, কেউ আবার ক্যাম্পিং ম্যাটে শুয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী মাইসাম দেকোস বলেন, ‘ফ্যান থাকা সত্ত্বেও আমার অ্যাপার্টমেন্টে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এখানে অনেক মানুষ আছে, পরিবেশও ভালো। ঘরের ভেতরের চেয়ে বাইরে থাকাই ভালো।’




ভেনেজুয়েলায় বড় দুই ভূমিকম্পের পর আরও দু’টি কম্পন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর আরও দু’টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বড় দু’টি কম্পনের পর উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল এলাকায় একাধিক পরাঘাত (আফটারশক) অব্যাহত রয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্য বলছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ১৯ মিনিট পর রাজধানী কারাকাসের কাছে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা পর একই এলাকার কাছাকাছি আরও একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

ভেনেজুয়েলার সিসমোলজিক্যাল সংস্থাও জানিয়েছে, এরপর থেকে দেশটিতে এক ডজনের বেশি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর এ ধরনের ছোট ছোট কম্পন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এসব পরাঘাত কতদিন চলবে তা নির্ভর করে ভূ-চ্যুতি অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি ৫ মাত্রার আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৯৪ শতাংশ। এর ফলে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে নতুন করে কম্পনের ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: সিএনএন




ভেনেজুয়েলায় পর পর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, বহু হতাহতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত বা আহতের কোনও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।

সংস্থাটি বলেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস এবং আশপাশের অঞ্চল কেঁপে ওঠার পর ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে।

এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।