ভারতে প্রবেশে মানতে হবে নতুন নির্দেশনা, জানাল নয়াদিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নতুন প্রবেশ নির্দেশনা জারি করেছে ভারত। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে ফ্লাইটে ওঠার আগে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় চালু হয়েছে স্পর্শহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এয়ার সুবিধা ২.০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে যাওয়া সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ঝামেলা এড়াতে ওয়েব চেকইনের সময়ই ফর্মটি পূরণ করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘোষণাপত্রে গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত এলাকায় সফরের তথ্য এবং জ্বর, শরীরব্যথা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ আছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর আলাদা কোনো কাগজপত্র পূরণ করতে হবে না। অনলাইনে পূরণ করা ঘোষণাপত্রই ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ মে দেওয়া সতর্কতা। সংস্থাটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। এবারের সংক্রমণ ইবোলার বিরল ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত রোগের কারণে ছড়াচ্ছে, যার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডিআরসি, উগান্ডা এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ভারতে পৌঁছে যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সংস্থাটি এবং আফ্রিকান সিডিসি আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিলও ঘোষণা করেছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্টাক্টলেস এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




যুদ্ধের নতুন কৌশল, ৫ লাখ সেনার হাতে ড্রোন তুলে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বাড়তে থাকা ড্রোনের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতোই সহজে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।

শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত করা হবে।

আন গিউ ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী কে লুকাস ড্রোনের উৎপাদনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হবে।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পাচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষাও তদারক করেছেন।

সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান




চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত খালি করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন বা কোথা থেকে আসছিল এবং ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাও এখনো জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি  ১০৯ তলা বিশিষ্ট ভবনটির উপরের দিকের একটি তলাতে আঘাত করছে। এরপর ধ্বংসাবশেষের বড় বড় টুকরো নিচের রাস্তা ও সবুজ চত্বরে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন ফুটেজে ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের এক সাংবাদিক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ভবনের প্রবেশমুখের কাছে তাদের জড়ো হতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি, পুলিশ সদস্য এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সিএনএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিমানটির মালিকের তালিকাভুক্ত যোগাযোগ নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিমানের নিবন্ধন নম্বর (রেজিস্ট্রেশন কোড) থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। বিমানটি একটি স্থানীয় জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন।




ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই দফা ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন সংখ্যা মানুষ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আশঙ্কা করছে, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিবিসি এসব তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার বিকেলে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের তথ্য এই প্রাথমিক হিসাবে আসেনি। ওই এলাকায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ার সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার চিত্র ভিডিওতে দেখা গেছে।

ভেনেজুয়েলায় সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় ভেনেজুয়েলার অনেক মানুষ ওই সময় নিজেদের বাসাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘বিরাট একটি শব্দ হলো। বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র সব পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের জগগুলোও আছড়ে পড়ল। আমি আগে কখনো এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি।’




ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, স্পেনেই চার দিনে মৃত্যু ২১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কোনো বিরতি নেই। ফ্রান্স ও স্পেনসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে চরম গরমে প্রাণহানির হিসাব শুরু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবারও(২৫ জুন) অন্তত ১০ কোটি ১০ লাখ ইউরোপীয় নাগরিককে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আফ্রিকার অনেক অঞ্চলের তুলনায়ও বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, স্পেনে জুন মাসের নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ‘মোমো’ জানিয়েছে, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

জার্মান আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও ইউরোপীয় যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের ২০২৫ সালের জনসংখ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ৩৮ কোটিরও বেশি মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়েছে। এমন আবহাওয়ার উপযোগী নয়—এমন অবকাঠামো ও নগর পরিকল্পনাও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, ‘ইউরোপের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জলবায়ু সংকটের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণের মূল্যই এখন মানবজাতিকে দিতে হচ্ছে। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানো বন্ধ না হলে চরম তাপমাত্রা আরও বাড়তেই থাকবে।’

ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় পুরো অংশেই তীব্র গরমের সতর্কতা জারি ছিল। ৬ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে।

এ ছাড়া, জার্মানিতে ৭ কোটি, ইতালিতে ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং যুক্তরাজ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন। বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

যদিও আগামীকাল শুক্রবার থেকে পশ্চিম ইউরোপে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে, পূর্ব ইউরোপে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত বছর ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেনে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৩২, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

চলতি সপ্তাহে স্পেনে জুন মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রিতে।

রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। সোমবার ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব ‘উষ্ণ রাত’ মানুষের ঘুম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিস অঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তীব্র গরমে এ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলো।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাঁ-গ্রাতিয়েন শহরে নিজ বাড়ির সামনে পার্ক করা গাড়িতে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান তার বাবা-মা।

ফ্রান্সে বুধবার ১৯৪৭ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে উষ্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেদিন জাতীয় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে, যা ১৫০ বছরে চতুর্থবারের মতো ৪০ ডিগ্রির সীমা অতিক্রম করল।

এর আগে সোমবার দক্ষিণ ফ্রান্সের কারপঁত্রা শহরে পারিবারিক গাড়ি থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্যারিসে বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বহু মানুষ ঘরের ভেতরের গরম সহ্য করতে না পেরে পার্কে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কেউ হ্যামকে, কেউ আবার ক্যাম্পিং ম্যাটে শুয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী মাইসাম দেকোস বলেন, ‘ফ্যান থাকা সত্ত্বেও আমার অ্যাপার্টমেন্টে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এখানে অনেক মানুষ আছে, পরিবেশও ভালো। ঘরের ভেতরের চেয়ে বাইরে থাকাই ভালো।’




ভেনেজুয়েলায় বড় দুই ভূমিকম্পের পর আরও দু’টি কম্পন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর আরও দু’টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বড় দু’টি কম্পনের পর উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল এলাকায় একাধিক পরাঘাত (আফটারশক) অব্যাহত রয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্য বলছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ১৯ মিনিট পর রাজধানী কারাকাসের কাছে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা পর একই এলাকার কাছাকাছি আরও একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

ভেনেজুয়েলার সিসমোলজিক্যাল সংস্থাও জানিয়েছে, এরপর থেকে দেশটিতে এক ডজনের বেশি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর এ ধরনের ছোট ছোট কম্পন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এসব পরাঘাত কতদিন চলবে তা নির্ভর করে ভূ-চ্যুতি অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি ৫ মাত্রার আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৯৪ শতাংশ। এর ফলে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে নতুন করে কম্পনের ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: সিএনএন




ভেনেজুয়েলায় পর পর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, বহু হতাহতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত বা আহতের কোনও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।

সংস্থাটি বলেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস এবং আশপাশের অঞ্চল কেঁপে ওঠার পর ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে।

এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।




যে কারণে মানচিত্র থেকে সরে গেল জাপান, কী বলছে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপান আগের অবস্থানে নেই—এমনই এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। গবেষকদের দাবি, ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় ১৫ মিনিট পর দেশটির ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে পূর্ব দিকে সরে যায়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন  ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ভূ-পদার্থবিদ সানইয়ং পার্ক। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

২০১১ সালের ১১ মার্চ স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে জাপানে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জিপিএস তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভূমিকম্পের কিছু সময় পর হোক্কাইডো থেকে কিউশু পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল প্রায় একই সময়ে পূর্ব দিকে স্থানচ্যুত হয়।

প্রথমে বিজ্ঞানীরা এটিকে তথ্যগত ত্রুটি বা যন্ত্রের ভুল বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিশ্লেষণের পর গবেষকেরা নিশ্চিত হন, ঘটনাটি বাস্তব ছিল এবং এর পেছনে কাজ করেছে এক বিরল ভূ-ভৌত প্রক্রিয়া।

গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সৃষ্ট শক্তিশালী ভূকম্পন তরঙ্গ পৃথিবীর গভীরে থাকা তরল ধাতব বহিঃকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফিরে আসা এই তরঙ্গের প্রভাবে জাপানের নিচে থাকা চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটে সামান্য নড়াচড়া সৃষ্টি হয়।

গবেষক পার্কের ভাষায়, সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল যে জাপানের প্রায় পুরো ভূখণ্ড একই সময়ে প্রায় সমানভাবে সরে যাচ্ছিল। এই নড়াচড়া মূল ভূমিকম্প বা বড় কোনো আফটারশকের সঙ্গে ঘটেনি বরং সেগুলোর আগেই এটি সংঘটিত হয়।

ভূকম্পনবিদেরা আগে থেকেই জানতেন যে বড় ভূমিকম্পের তরঙ্গ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রতিফলিত হতে পারে। তবে এত গভীর থেকে ফিরে আসা কোনো তরঙ্গের ভূপৃষ্ঠে এত স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ গোরান একস্ট্রম জানান, ২০১১ সালের মূল ভূমিকম্পে জাপানের নিচের দুটি টেকটোনিক প্লেট প্রায় ১০ মিটার সরে গিয়েছিল। এর ফলেই সুনামির সৃষ্টি হয় এবং জাপানের প্রধান দ্বীপ হনশু প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পূর্ব দিকে সরে যায়। তবে নতুন গবেষণায় যে স্থানচ্যুতির কথা বলা হয়েছে, তা মূল কম্পনের পরবর্তী ঘটনা।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই দেশব্যাপী মৃদু স্থানচ্যুতির পেছনে যে শক্তি কাজ করেছে, তা প্রায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সমতুল্য। তবে শক্তিটি বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কেন্দ্র ঘুরে ফিরে আসা এই ধরনের তরঙ্গ ভূত্বকের বিভিন্ন ফল্টকে পুনরায় সক্রিয় করতে পারে এবং দূরবর্তী প্লেট-সংযোগস্থলেও নড়াচড়ার সূচনা ঘটাতে সক্ষম।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক অধ্যাপক ভেদরান লেকিচ বলেন, জাপানের অত্যাধুনিক ভূকম্পন ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকায় এত সূক্ষ্ম ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রযুক্তির অভাবে তা নজরে আসছে না।

গবেষণায় যুক্ত না থাকলেও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ভূ-পদার্থবিদ আমান্ডা থমাস এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বড় ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু মূল কম্পন বা আফটারশকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক সময় পরে ফিরে আসা গভীর ভূকম্পন তরঙ্গও ফল্ট সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর গভীরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




যুক্তরাজ্যে এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের এক হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে বা সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। তবে তা আরও বেশি মাত্রায় অনুভূত হতে পারে।

তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ডের ৮৩৭টি স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, অথবা অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের আগেভাগে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য জারি করা রেড অ্যালার্ট বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই সতর্কতা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আরও বেশি এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এটি আবহাওয়া অফিসের সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর এবং এর ফলে জীবনহানির ঝুঁকি ও পরিবহনে বিলম্ব হতে পারে।

দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডে শনিবারের জন্য নতুন অ্যাম্বার তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি হওয়ায় রেলযাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

লন্ডনের একজন নির্মাণকর্মী জনি বলেছেন, গরম ‘ভয়াবহ’ কিন্তু ‘কাজ তো করতেই হবে।’




নেতানিয়াহুকে ‘ডিভোর্স’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গাজা উপত্যকার শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক মিত্রতার ‘ডিভোর্স’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে সব ইহুদিই এখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর মারাত্মক বিরক্ত। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই নামকরা সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের যৌথভাবে লেখা একটি নতুন গ্রন্থে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এই উত্তপ্ত ফোনালাপের গোপন তথ্যটি ফাঁস করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সদ্য প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বইটির বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অংশ বিশেষ উধৃত করা হয়। বইটির বিবরণ অনুযায়ী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছিল।

তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে নিজের তৈরি করা বিশেষ শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন এবং ওই ফোনালাপের সময় মার্কিন বিশেষ শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ওই সংবেদনশীল ফোনালাপের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত। এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।’ এখানে ট্রাম্প মূলত তার পাশে থাকা কুশনার ও উইটকফের কথা বুঝাচ্ছিলেন কারণ তারা দুজনেই ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বরাতে বইটিতে আরও দাবি করা হয় যে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি।’ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে স্থায়ী ফাটল বা বিচ্ছেদ ঘটবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার প্রাথমিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নিজেদের মধ্যকার নিবিড় সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তেহরানকে পুরোপুরি বাগে আনতে ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকেই ইসরায়েলের যুদ্ধ নীতির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রমেই চরম অসন্তুষ্ট ও সমালোচনামূলক হয়ে ওঠেন।

সূত্র: আরটি অনলাইন