যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সংযোগ সেতু বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নবনির্মিত সংযোগ সেতুর উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন তার উত্তরের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিকে যা কিছু দিয়েছে, তার জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ না পাওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ বহাল থাকবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সংযোগকারী গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুটি ততক্ষণ পর্যন্ত খুলবে না, যতক্ষণ না অটোয়া ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই ন্যায্য ও সম্মানজনক আচরণ করছে, যার দাবিদার আমরা’।”

প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুটির নির্মাণ ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করছে কানাডা সরকার, তবে এটি কানাডা ও মিশিগান উভয় পক্ষের সরকারি মালিকানাধীন হবে।

ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এই উদ্বোধন আটকে দেবেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ও অনুমোদনের পর যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্পটি দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে আনুমানিক ৬৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলার খরচ হয়েছে।

সোমবার ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, এই সম্পদের ‘অন্তত অর্ধেক মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কানাডা সেতুর উভয় পাশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা সরকার আশা করে যে, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের কেবল ‘আমেরিকার সুবিধা নেওয়ার’ অনুমতি দেব! আমি এই সেতুটি খুলতে দেব না যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে সবকিছুর জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।”

ট্রাম্প সোমবার দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কানাডা আমাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর অনেক বছর ধরে যে শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে গত মাসে কানাডার স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অটোয়ার জন্য ‘চরম বিপদ ডেকে আনবে’। তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, চীন কানাডায় প্রভাব খাটিয়ে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ‘আইস হকি’ বন্ধ করে দেবে এবং বিখ্যাত ‘স্ট্যানলি কাপ’ টুর্নামেন্ট চিরতরে মুছে ফেলবে।

গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুর পার্শ্ববর্তী অ্যাম্বাসেডর সেতুর মালিক মার্কিন মোরউন পরিবার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধ করার আবেদন করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এটি তাদের টোল আদায়ের একচেটিয়া অধিকারে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে সে সময় ট্রাম্প এবং কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অপরিহার্য অর্থনৈতিক যোগসূত্র’।

বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের বর্তমান হুমকির বিষয়ে কানাডার সেতু কর্তৃপক্ষ, অন্টারিওর প্রিমিয়ারের কার্যালয় বা ডেট্রয়েটের মেয়রের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসিসিএনএন




কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এতে নতুন করে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এরপরেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া একটি ই-মেইলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নামও উঠে এসেছে।

ই-মেইলে আইসিডিডিআরবি’কে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।

ওই ই-মেইলের বিষয় ‘আন্ত্রিক জীবাণুবিদ্যা-আইসিডিডিআরবি’ ছিল বলে প্রকাশিত নথির বরাতে জানা গেছে। ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ই-মেইলটি কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়।

ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে ৩ শতাংশ নিশ্চিত লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে ই-মেইলে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আইসিডিডিআরবি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০১(সি)(৩) কাঠামোর আওতায় এ ধরনের বিনিয়োগ করছাড়ের সুবিধাও পেতে পারে বলে ই-মেইলে বলা হয়েছে।

কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ফাইলে অন্তর্ভুক্ত আরেক ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন।

তবে ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।




ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রবিবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

খামেনি বলেন, তারা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। সূত্র: এএফপি




এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: দল থেকে ইস্তফা সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এরপরেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। খবর বিবিসির। 

খবরে বলা হয়েছে, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ইস্যুতে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন তিনি কোনোভাবেই আর লেবার পার্টিকে ‘বিব্রত’ করতে চান না বলে উল্লেখ করেছেন। গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন এপস্টেইন ফাইলে নিজের নাম থাকায় দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।

এর আগে গত বছর সাবেক এই ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্কের কারণেই তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এপস্টেইন নথিতে দাবি করা হয়েছে, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ২০০৩-২০০৪ সালে এপস্টেইন তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার পাউন্ড)  দিয়েছিলেন।

লেবার পার্টির মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে লর্ড ম্যান্ডেলসন বলেন, এই সপ্তাহান্তে এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্ট স্বাভাবিক ক্ষোভের সঙ্গে আমাকে আবারও যুক্ত করা হয়েছে। এতে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

তিনি দাবি করেছেন, ২০ বছর আগে এপস্টেইন আমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিলেন; এমন অভিযোগ মিথ্যা এবং যার কোনো নথি বা স্মৃতি আমার নেই। আমার পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমি লেবার পার্টিকে এই প্রক্রিয়ায় আর কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না। তাই আমি দলটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।




যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, ৮২ মেট্রো স্টেশনকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা ঘিরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।  এ সব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার তেহরানে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

সাধারণভাবে তেহরানের জনসংখ্যা এক থেকে এক কোটি ২০ লাখের মধ্যে ধরা হয়। তবে বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি ৫০ থেকে এক কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

মূলত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশটির ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

সূত্র: টিআরটি




ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মোহরে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।

স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টা ১১ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মাটি থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

জার্মানির ভূবিদ্যা গবেষণা কেন্দ্র ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি অনেকেই এটি অনুভব করেছেন। তবে এটির আঘাতে বড় ধরনের কোনও ভূমিকম্প হয়নি। বলা হচ্ছে, ভূমিকম্পটি যে মাত্রার ছিল এটির প্রভাবে শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, ঘরের জানালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটি ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। সূত্র: খালিজ টাইমসসিজিটিএনভলকানো ডিসকভারি




এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম, ভারতজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী এপস্টেইন এর সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এর মাধ্যমে দেশটির সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় সংখ্যায় নথি প্রকাশ করা হলো।

এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশ করা নথিপত্রগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার। এ ছাড়া এসব নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও এসেছে।

এনিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম উল্লেখ থাকার দাবি পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’। তিনি দাবি করেছেন, এর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

তবে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম থাকাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটি এই ঘটনায় আরও ব্যাখ্যা চেয়েছে।

দেশটির রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সদস্য জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা সর্বশেষ নথিগুলোয় মোদির নাম একাধিকবার এসেছে। এনিয়ে সরকারের মুখপাত্রকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে। এরপরও অনেক প্রশ্ন এখনো রয়েছে।

এ ছাড়া এই ঘটনায় সরাসরি মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি এক্সে লেখেন, বিষয়টি আমাদের জন্য “জাতীয় লজ্জা”।




১ হাজার অত্যাধুনিক ড্রোন হাতে পেয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন রণতরী মোতায়ানের পর যে কোন হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ইরান।কৌশলগত এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে এক হাজার অত্যাধুনিক ড্রোন হাতে পেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজের এজিন্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামির জারি করা আদেশের অধীনে  নতুন ড্রোনগুলো সেনাবাহিনীর চারটি শাখার অপারেশনাল ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা ড্রোনগুলি তৈরি করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিয়ত সামরিক অভিযানের হুমকি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে এই ড্রোনগুলো ইরানেই উৎপাদন করা হয়েছে। এতে কাজ করেছেন সামরিক বাহিনীর সদস্য, বিজ্ঞানী ও ‘উদ্ভাবক’।

মেজর জেনারেল হাতামি বলেছেন, ভবিষ্যতের হুমকির আলোকে কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখা এবং বৃদ্ধি করা সেনাবাহিনী আগাম পরিকল্পনা হিসেবে ড্রোনগুলো মজুদ করা হচ্ছে। এসব ড্রোন ধ্বংসাত্মক, আক্রমণাত্মক, পুনর্বিবেচনা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিভাগে ডিজাইন করা হয়েছে। যা স্থল, সমুদ্র এবং আকাশজুড়ে নির্দিষ্ট স্থির এবং মোবাইল লক্ষ্যবস্তু হামলা করার সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।




সমুদ্রের নিচে থাকা মিসাইলের সুড়ঙ্গ উন্মোচন করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সমুদ্রের নিচে থাকা নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গ উন্মোচন করেছে ইরান। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব বুধবার এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ ক্রুস মিসাইল রয়েছে। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যদি তাদের ওপর কোনো হামলা হয় তাহলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ‘নিরাপদ’ থাকবে না।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি পানির নিচের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি ওই সুড়ঙ্গের ভেতর রয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, উৎক্ষেপণের জন্য পানির নিচে থাকা এসব মিসাইল প্রস্তুত রয়েছে।

নৌ কমান্ডার আলীরেজা বলেছেন, সমুদ্রের নিচে তাদের মিসাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এগুলো উপসাগরীয় ও ওমান সাগরে থাকা মার্কিন নৌজাহাজকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ মিসাইল রয়েছে। যেগুলো ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

বিপ্লবী গার্ডের এ নৌ কমান্ডার বলেছেন, তাদের তৈরি ‘কাদের ৩৮০ এল’ মিসাইলে এমন স্মার্ট যন্ত্রাংশ রয়েছে যেটি আঘাত হানা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করতে পারে।

এদিকে ইরানে আগেরবারের চেয়ে বড় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি হামলা আটকাতে চায় তাহলে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে এবং ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। সূত্র: দ্য নিউ আরব




ভারতে বিমান বিধ্বস্ত, উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পুনের বারামাতিতে তার ব্যক্তিগত বিমানটি অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ)। 

নিহতদের মধ্যে দুইজন পাইলট এবং অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছেন। স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনের আগে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য তিনি মুম্বাই থেকে বারামাতি যাচ্ছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ভিএসআর নামক একটি কোম্পানির পরিচালিত ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের ছোট বিমানটি সকাল ৮টায় মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করেছিল। যাত্রার প্রায় ৪৫ মিনিট পর বারামাতি বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে যে, বিধ্বস্ত বিমান থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য, এই একই মডেলের একটি বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, শ্রী অজিত পাওয়ার জি ছিলেন তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন জননেতা, যিনি মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রশাসনিক বিষয়ে তার প্রজ্ঞা এবং দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের প্রতি তার নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়। তার এই অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের ভাতিজা। ২০২৩ সালে তিনি এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তবে সম্প্রতি চাচার সঙ্গে তার পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল এবং পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পৌর নির্বাচনে দুই পক্ষ মিলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। সংসদ অধিবেশনের জন্য দিল্লিতে থাকা শারদ পাওয়ার এবং সুপ্রিয়া সুলে খবর পাওয়া মাত্রই পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি